অধ্যায়-১০, হাট

উত্তর :-

হাটের দিন সারাবেলা কেনা-বেচা চলতে থাকে। অজস্র মানুষের উপস্থিতিতে হাট কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিকালবেলায় বেচাকেনা সেরে যে যার ঘরে ফিরে যায়। পুবের মাঠ ছেড়ে দিনের আলো বকের পাখায় ভর করে যেন অন্তর্হিত হয়। দূরের গ্রামগুলিতে দীপ জ্বলে ওঠে। হাট অন্ধকারে ডুবে যায়।

 

উত্তর :-

শ্রেণিহারা ক্লান্ত কাকের পাখায় চেপে রাত্রি নেমে আসে হাটে। পাশের পাকুড় গাছের ডালে নদীর বাতাস প্রশ্বাস ছাড়ে। হাটের দোচালাগুলি চোখ বুজে ঘুমোতে যায়। জীর্ণ বাঁশের ফাঁকে বাতাস ঢুকে বিদ্রুপের সুরে বাঁশির মতো বেজে ওঠে।

 

উত্তর :-

‘কানাকড়ি’ বলতে অচল মুদ্রা বা অচল পয়সাকে বোঝানো হয়।

হাটের বুকে ‘কানাকড়ি’ নিয়ে খুব টানাটানি হয়।

 

উত্তর :-

সকালের শিশির ভেজা ফল সারাদিন ধরে হাটে বিক্রয়ের অপেক্ষায় থেকে শেষবেলায় হেলায় পড়ে থাকে।

 

উত্তর :-

সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাট বসে। জিনিসপত্র কেনা-বেচার জন্য সেখানে বহু মানুষের সমাগম হয়। বহু অস্থায়ী দোকানপাটই সেখানে বেশি। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলতে থাকে তুমুল ব্যস্ততা। বিকেল হলেই যে যার কাজ সমাপ্ত করে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। হাটে কেউই বসবাস করে না। ফলে সন্ধে নামার সঙ্গে সঙ্গে হাটে চরম নীরবতা নেমে আসে। সেখানে কেউ সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালায় না দোকানগুলি বন্ধ হয়ে যায় বলে। এ কারণেই কবি বলেছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে উঠলেও ‘আঁধারেতে থাকে হাট’।

 

উত্তর :-

কোনোদিনের ভাঙা হাটের বুকেই আবার বসে নতুন হাট।তাই হাটের ভাঙা ও গড়া নিত্যনতুন হাট। তাই হাটের ভাঙা ও গড়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এরই আড়ালে কবি বলতে চেয়েছেন। মানবজীবনও তাই। মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে কিছু বছর কাটিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। বিপরীতে তার স্থানে আসে। নবমানব শিশু। অর্থাৎ মানবজীবনেও হাটের মতোই নিত্য নাটের খেলা’ অবিরত চলতেই থাকে।

 

উত্তর :-

হাটে বহু মানুষের সমাগম হয় পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য। অধিক লাভের আশা নিয়ে সকলে হাটে এলেও প্রত্যেকের ভাগ্যেই তো আর তা ঘটে না। যারা সারাদিন পর বিকেলবেলায় প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হয় তারা কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ফেরে। বিপরীতে বিকেলবেলায় কেনা-বেচার শেষে যারা প্রচুর লাভের মুখ দেখে তারা গাঁটে কড়ি বাঁধে।

 

উত্তর :-

প্রশ্নোক্ত অংশটির উৎস হল কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘হাট’ কবিতা।

প্রভাতের নির্মল ফল বা ফসলের সেগুলি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে, সেগুলিই অবহেলার সঙ্গে বিকালে বিক্রি হয়ে যায়।

আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে কবি হেলায় বিক্রিত ফলের বেদনার সঙ্গে মানবজীবনের দুঃখ-বেদনাকে এক করে দিয়েছেন। বিক্রেতারা সকালে সজীব ফল নিয়ে হাটে উপস্থিত হন। সারাদিন বহু মানুষের পরীক্ষানিরীক্ষার পরে কিছু ফল অবিক্রিতই থেকে যায়। তখন তাদের অবহেলায় কম দামে বিক্রি করে দেন। বিক্রেতাগণ। অর্থাৎ ওই ফলগুলি তাদের সঠিক মূল্য পায় না। জীবনের হাটেও এমন ঘটনা ঘটে থাকে। অনেক মানুষ আছেন।যারা জীবনে সফল হতে পারেন না, শেষ বয়সে তাদের ভাগ্যে লাঞ্ছনা-অপমান জুটতে থাকে। তারা তখন সেই ব্যর্থতার গ্লানি হৃদয়ে নিয়েই ইহলোক ত্যাগ করেন। হেলায় বিক্রিত ফলের মতোই তাদের সহ্য করতে হয় নীরব বেদনা।

আলোচ্য অংশটির মাধ্যমে কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :-

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘হাট’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি গ্রামের হাটের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বা ভবের হাটের কথাও তুলে ধরেছেন।

হাট প্রতিবার নতুন করে বসে, আবার ভেঙেও যায় প্রতিদিন; এই ভবসংসারেও প্রতিদিন নতুন নতুন মানবশিশুর জন্ম হয়, আবারসাহিত্য বিচিত্রা : ষষ্ঠ শ্রে হু মানুষ ভবের হাট থেকে বিদায় নেন প্রতিদিন। মঞ্চে নাটক শেষ লে যবনিকা পড়ে; তেমনই দিনান্তে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে _াটের অঙ্গনের যবনিকা নেমে আসে, আবার মানুষের জীবনের বনিকাপতন মানে হল পৃথিবী থেকেই চিরবিদায় নেওয়া। অর্থাৎ এই সমস্ত ঘটনাগুলিই নাটকের সঙ্গে তুলনীয়। প্রতিবার নতুন তুন ভাবে নাটক শুরু হয়, আবার প্রতিক্ষেত্রেই যবনিকাপতনের মাধ্যমে গ্রামের হাট বা ভবের হাটের সমাপ্তি ঘটে। প্রতিবার নতুন নতুন যাত্রীর আগমনে এই জীবন-নাটক সংঘটিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে জীবন ও জগতের এই সত্যকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন কবি।

 

উত্তর :-

‘উদার আকাশ’ বলতে সীমাহীন আকাশ, আর নীচে অবস্থিত মুক্ত পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘হাট’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য অংশে গ্রামের হাটের কথা বলতে গিয়ে কবি জীবনের হাটের প্রসঙ্গকে তুলে ধরেছেন। গ্রামের হাট সারাদিন ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মুখরিত হয়ে থাকে। দিনের শেষে কেউ লাভের মুখ দেখে, কেউবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিষন্ন হৃদয়ে বাড়ি ফিরে যায়। জীবনের হাটেও আমরা একই খেলা দেখতে পাই কারো জীবন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে ওঠে, তারা মৃত্যুকালে আনন্দের সঙ্গে ইহধাম ত্যাগ করেন। আবার কারো জীবন দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ থাকে অর্থাৎ মৃত্যুকালে তাদের লাভের ঝুলিটা শূন্যই থাকে। পৃথিবীতে চিরকালই এমন ঘটনা ঘটে আসছে, এই নিয়মকে লঙ্ঘন করা কোনো মানুষের সাধ্য নয়। অনন্ত আকাশের নীচে সৃষ্ট ভবের হাটে মানুষের জীবন হয় দুঃখ-সুখে পূর্ণ। বিধাতার বিধানে অনন্তকাল থেকেই এমন ঘটনা এভাবেই ঘটে চলেছে। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে এই খেলার কথাই কবি বলতে চেয়েছেন।