অধ্যায়-১১, মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র

উত্তর :-

মূলত জ্যামিতিক আকার-আশ্রিত বর্ণসমাবেশে রচিত হয় সাঁওতালি দেয়ালচিত্র। এই দেয়ালচিত্রে চওড়া রঙিন ফিতের মতো সমান্তরাল রেখা, চতুষ্কোণ, ত্রিভুজ ইত্যাদি দেখা যায়।

 

উত্তর :-

সাঁওতাল ছাড়া অন্য আদিবাসীদের মধ্যে ভূমিজ, কুর্মি বাঅন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষেরা যে দেয়ালচিত্রণ করে থাকে, তার সাধারণ লক্ষণ হল পদ্ম।

* এই দেয়ালচিত্রে দেখা যায়, একটা বৃত্তের পরিধিতে যে-কোনো বিন্দুকে কেন্দ্র করে অন্য একটি বিন্দু টানলে পরিধির উপর যে ছেদবিন্দু পাওয়া যায়, তার উপর পুনরায় কেন্দ্র করে ক্রমাগত বৃত্ত টানতে থাকলে ক্রমে একটি পদ্মের রেখাচিত্র পাওয়া যায়— যে পদ্মের পাপড়িগুলি বিভিন্ন রঙে ভরিয়ে দেওয়া।

 

উত্তর :-

মানভূমি দেয়ালচিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মোরগঝুঁটি। মোরগঝুঁটিকে চালচিত্রের মধ্যে স্থাপন করে অন্যান্য মোটিফ সংযুক্ত করে জড়োয়া সাজ করা হলে, তখন তাকে বলা হয় মোরগঝুঁটির ঝাড় বা মুরগাঝাড়।

 

উত্তর :-

পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলায় বিশেষত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, মানভূমের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের মাটির ঘরের দেয়ালে নানা ধরনের চিত্র অঙ্কন করেন আদিবাসী মেয়েরা। দেয়ালে অঙ্কিত ওই চিত্রগুলিকেই বলা হয় দেয়ালচিত্র।

দেয়ালচিত্র অঙ্কনের মূল উদ্দেশ্য হল গৃহসজ্জা। অর্থাৎ দেয়ালগুলিকে নানা জ্যামিতিক আকারে বা নানা ধরনের ছবির মাধ্যমে চিত্রিত করলে গৃহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। গৃহসজ্জা অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তা ছাড়া আদিবাসী সমাজের নানা রীতিনীতি ও সংস্কার জড়িয়ে আছে দেয়ালচিত্র আঁকার মধ্যে। গৃহের মঙ্গলকামনায়ও গৃহের দেয়ালে নানারূপ অঙ্কন বা আলপনা করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ গৃহের সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই আদিবাসী নারীরা গৃহের দেয়ালচিত্র অঙ্কণ করে থাকেন।

 

উত্তর :-

মানভূমি দেয়ালচিত্রের প্রতীক হল পদ্ম। সাঁওতাল ছাড়া অন্যান্য আদিবাসী সমাজ যেমন ভূমিজ, কুর্মি প্রমুখদের দেয়ালচিত্রের সাধারণ লক্ষণ হল পদ্ম। একটি বৃত্তের পরিধিতে যে-কোনো বিন্দুকে কেন্দ্র করে অন্য একটি বৃত্ত আঁকলে, পরিধির উপর যে ছেদ বিন্দুদ্বয় পাওয়া যায়, তাকে কেন্দ্র করে আবার বৃত্ত টানতে থাকলে ক্রমে একটি পদ্মের রেখাচিত্র পাওয়া যায়। পদ্মের পাপড়িগুলিকে বিচিত্র বর্ণে ভরে দেওয়া হয়। কখনো কখনো দেখা যায় একটি টব বা কলস থেকে ফুলের গাছটি উঠে আসছে এবং দু-পাশে শাখা ছড়িয়ে শাখার আগায় ফুল ফোটাচ্ছে। এভাবেই মানভূমি দেয়ালচিত্রের প্রতীক পদ্মফুলটি আঁকা হয়।

 

উত্তর :-

মূলত আদিবাসী সমাজেই দেয়ালচিত্র আঁকার প্রচলন আছে। দেয়ালচিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

★ দেয়ালচিত্র আঁকেন গ্রামের মেয়েরা।

★ দেয়ালচিত্রের বিষয় নির্বাচন ও উপকরণ সংগ্রহ করেন। মেয়েরাই।

★দেয়ালচিত্র আঁকার ক্ষেত্রে সাঁওতালরা এগিয়ে থাকলেও ভূমিজ বা খেড়িয়াদের চিত্রণও বেশ ভালো।

★ মাটির ঘরের দেয়ালচিত্রগুলি অস্থায়ী।

★সাধারণ আশ্বিনের দুর্গাপুজো ও কার্তিকের অমাবস্যাকে উপলক্ষ করে দেয়ালচিত্র আঁকা হয়।

★ লালচে গিরিমাটি, কোথাও কোথাও দুধেমাটিও দেয়ালচিত্রের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

★অঙ্কনের ক্ষেত্রে লাল, নীল, সাদা, গেরুয়া ইত্যাদি বর্ণের বিচিত্র শোভা লক্ষ করা যায়।

★ফুল, পাখি, লতা-পাতা দেয়ালচিত্রে স্থান পায়।

★ দেয়ালচিত্রগুলিকে গোপন করা হয় না। দেয়ালচিত্রের এমন বহু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।

 

উত্তর :-

মূলত মানভূম জেলাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে মানভূমি দেয়ালচিত্র । ভূমিজ, কুর্মি প্রভৃতি আদিবাসী সমাজের মেয়েরা এই দেয়ালচিত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এই দেয়ালচিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল—

★ মানভূমি দেয়ালচিত্রের প্রতীক হল পদ্ম।

★ পদ্মের পাপড়িগুলিকে নানা বর্ণে ভরিয়ে তোলা হয়।

★মনে হয় টব বা কলস থেকে ফুলের গাছটি উঠে দু-পাশে শাখা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং শাখার আগায় থাকে বিকশিত ফুলটি।

★মোরগঝুঁটিকেও মানভূমি দেয়ালচিত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

★ মোরগঝুঁটিকে চালচিত্রে এনে তাতে অন্যান্য মোটিফ যুক্ত করে মুরগাঝাড় গড়ে তোলা হয়।

★ চালচিত্রের ধারে ধারে উদীয়মান সূর্য ও তার মাঝে মাঝে আধফোটা পদ্ম থাকে।

★ মসৃণ দেয়ালে দুধেমাটির গোলা ব্যবহার করা হয়।

★ কদমঝাড় বা শালুকলতাও স্থান পায় চিত্রণে।

★বাইরে থেকে দৃশ্যমান করার জন্য বাসগৃহ ছাড়া প্রাচীরগাত্র বা যে-কোনো রকম ঘরের দেয়ালও চিত্রণের জন্য বেছে নেওয়া হয়।