অধ্যায়-১২, পিঁপড়ে

উত্তর :-

পিঁপড়ে কবিতায় পিঁপড়েদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। যেমন—

পিঁপড়েরা নীরবে থেকেই অনেক কিছু বলে চলে।

ভোরের বাতাসে গাছের তলায় তারা মাটিতে আশ্রয় নেয়।

 

উত্তর :-

পিঁপড়েদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি হল বোলতা এবং মৌমাছি।

 

উত্তর :-

পিঁপড়েরা উপনিবেশ তৈরি করে বসবাস করে। এই উপনিবেশ প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া কয়েক ডজন শিকারি পিঁপড়ে থেকে শুরু করে বিশাল এলাকা জুড়ে বাস করা লক্ষ লক্ষ পিঁপড়ের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।

 

উত্তর :-

কেন-না এরা সবাই মিলে, একইসঙ্গে একটি প্রাণীর মতো আচরণ করে এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে।

 

উত্তর :-

 

আন্টার্কটিকা এবং এই ধরনের কিছু ঠান্ডা এলাকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব স্থানে পিঁপড়ে দেখতে পাওয়া যায়।

 

উত্তর :-

কবি অমিয় চক্রবর্তী তাঁর ‘ঘরে ফেরার দিন' কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘আকাদেমি’ পুরস্কার পান।

 

উত্তর :-

ধুলোর রেণু ছাড়া আছে পুষ্পরেণু বা পরাগ এবং পদরেণু বা পদধুলি। এ ছাড়া আছে স্বর্ণরেণু।

 

উত্তর :-

পিঁপড়েদের নিয়ে গবেষণার নাম হল—'Myrmecology', যা Entromology- রই একটি শাখা। ‘Myrmex’ গ্রিক শব্দের ইংরেজি অর্থ হল Ant (পিঁপড়ে), আর ‘logos’ শব্দের ইংরেজি অর্থ হল study (পড়াশোনা)। এই যুগ্ম শব্দের সম্মিলিত রূপ ‘Myrmecology'।

 

উত্তর :-

কবি অমিয় চক্রবর্তীর পিঁপড়ে’ কবিতাটির ছোটো পিঁপড়ের চলাফেরার মধ্যে সবসময় যেন এক ব্যস্ততা লেগেই রয়েছে। আবার কবি বলেছেন, ব্যস্ত হলেও তা মিষ্টি মধুর। অন্যদিকে, ‘বলা’ অর্থাৎ ছোট্ট খুদে পিঁপড়েদের মুখে কোনো কথাই নেই। একেবারেই স্তব্ধ অথচ তার চলনের মধ্যেই যেন তার অব্যক্ত কথা লুকিয়ে রয়েছে। তার দ্রুত চলাফেরার মধ্যেই যেন সে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে কী বলতে চাইছে।

 

উত্তর :-

ছোটো ছোটো পিঁপড়েগুলির প্রতি অতিরিক্ত মায়ার জন্য কবির সর্বদা ভয় করে; পাছে ওরা ব্যথা পায়, কষ্ট পায়, বা মরে যায়। তাদের ছোট্ট নরম প্রাণটা যে এক পলকেই ফুরিয়ে যেতেপারে, পৃথিবী থেকে সরে যেতে পারে। কিন্তু তাদের সরিয়ে দিতে কবি কখনও চান না। তাই কবির ভয় করে একটু সরিয়ে দিলেই যে ওরা দুঃখ পাবে। তাই তিনি বলেছেন, ‘ওকে চাইনে দুঃখ নিতে।

 

উত্তর :-

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি অমিয় চক্রবর্তীর ‘পিঁপড়ে’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই ধরণীর ছোটো-বড়ো সকল জীবই ধরণী মাতার কোলে শেষ আশ্রয় খুঁজে পায়— সেই প্রসঙ্গেই উক্তিটি করেছেন কবি। আলোচ্য কবিতায় কবি বলেছেন, পিঁপড়েরা তাদের আশ্রয় খুঁজে নেয় মাটির বুকে। ধরণীমাতা পরম মমতায় মাটির সকল জীবকেই আপন কোলে স্থান দেন। সবার প্রতি তিনি সমান। মমতাময় সহানুভূতি প্রদর্শন করেন। সবাইকে তিনি আদর করে। কাছে টেনে নেন। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :-

কবি অমিয় চক্রবর্তী তাঁর পিঁপড়ে কবিতায় বারবার ছোট্ট পিঁপড়েদের প্রতি তাঁর অন্তরের ভালোবাসা ও সমবেদন কথা ব্যক্ত করেছেন। পিঁপড়েদের অতি কোমলভাবে সম্বোধন করে তিনি বলেছেন—আহারে! ওরা কত ছোটো ছোটো প্রাম: ওরা মাটির বুকে ঘুরে ফিরে, দেখেশুনে আনন্দ করে থাকুক। ধুলোর রেণু গায়ে মেখে বেড়াক। ওদের কবি একটুও দুঃখ দিতে চান না।কিন্তু ওরা কোথা থেকে এল, কিংবা ওদের পরিচিতিই বা এ জগতে কীভাবে হল—তা নিয়ে কবির ভাবনা। সবচেয়ে বড়ো কথা হল— পৃথিবীর বুকে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ প্রাণ— সকলকেই কবি একাত্ম করে মিলিয়ে দিয়েছেন। ছোটো ছোটো সামান্য পিঁপড়ের ভালোবাসাকে সর্বজনীন ভালোবাসায় রূপান্তর ঘটিয়েছেন।

 

উত্তর :-

কবি অমিয় চক্রবর্তী তাঁর ‘পিঁপড়ে’ কবিতায় দেখিয়েছেন, এই বিশাল বিশ্বপ্রকৃতির আঙিনায় সবার বসবাস একসঙ্গে। সেখানে কেউ কারো থেকে ছোটোও নয়, বড়োও নয়। সুতরাং মাটির বুকে সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ একত্র অবস্থান করে রয়েছে কেবল দু-দিনের খেলাঘরে। এই পৃথিবীবাস অস্থায়ী। যার খেলা যখন সাঙ্গ হয়ে যাবে, তখনই তাকে এই অস্থায়ী খেলাঘর ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। সুতরাং এই দু-দিনের ক্ষণভঙ্গুর জীবনে সকলকে নিয়ে ভালোবাসায় ভরে থাকাটাই উচিত।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই ভালোবাসা ও আদর দিয়ে সকলকে ভরিয়ে রেখেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে সকলেই সমান। কেন-না তিনিই সকলকে সৃষ্টি করেছেন। মাটির বুক আঁকড়ে থাকা ক্ষুদ্র পিঁপড়ে তাই যেমন তাঁর কৃপাবঞ্চিত হয় না, তেমন তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষও তাঁর কৃপাধন্য। সকলের প্রতি সমতা বজায় রেখে তিনি সকলকেই কাছে টেনে নিয়েছেন, যাতে সকলের প্রতিই তাঁর করুণাধারা সমানভাবে বর্ষিত হতে পারে।