অধ্যায়-১৩, ফাঁকি

উত্তর :-

প্রথম অবস্থায় আমের চারাটি এক হাত সমান উঁচু ছিল। লেখক বলেছেন, সবশুদ্ধ গণ্ডা আষ্টেক পাতা ছিল অর্থাৎ এক গণ্ডা যদি চারটি পাতা হয়, তবে আট গণ্ডা মানে বত্রিশটি পাতা ছিল।

 

উত্তর :-

গোপালবাবুর প্রতিবেশী বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কারো বাড়িতে যখন পুজো বা বিবাহ ইত্যাদির অনুষ্ঠান হয়, তখন গোপাল বাবুর কাছে অনুরোধ আসে।

গোপালবাবুর কাছে আম গাছের ডাল, পাতা ইত্যাদি চেয়ে অনুরোধ আসে।

 

উত্তর :-

গাছে প্রথম আম ধরেছে। তা টক না হলেও মিষ্টি নয়। সকলেই এক ফালি করে আম খাচ্ছে আর তারিফ করছে। লেখক বলছেন, বাড়িতে যদি কোনো হাঁদাভোঁদা বা গোবেচারা গোছের ছেলে থাকে, তাকে যেমন সবাই আদর করে গায়ে হাত বোলায়, ঠিক তেমনই যেন সকলে এক ফালি আম খেয়ে তারিফ করছে।

 

উত্তর :-

ট্রেঞ্চ তেন কথার অর্থ হল ‘পরিখা’।

যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষ উড়োজাহাজ থেকে বোমা নিক্ষেপ করত, ওই বোমার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই ট্রেঞ্চ খোঁড়া হয়েছিল। ট্রেঞ্চের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকা কিছুটা নিরাপদ হত বলেই ট্রেঞ্চ খোঁড়া হত।

উত্তর :-

বক্তা অর্থাৎ গোপালবাবু তাদের বাড়ির আম গাছের ডাল কাটার কথা ভেবেছে। গাছটা রাস্তার উপরে বড্ড ঝুঁকে পড়েছিল, যাতায়াতের সময় লোকের মাথায় লাগত, বৃষ্টির সময় পাতার জলে গা ভিজে যেত— এই কারণেই গোপাল আম গাছের ডাল কাটার কথা ভেবেছিল।

 

উত্তর :-

গোপালবাবুর বাড়ির আমগাছটি দেখে। গোপালবাবু বুড়ো হতে চলেছে, তার বাবা, মা, ভাই-বোন, ভাগনে, ভাইপো সকলেরই বয়স হচ্ছে কিন্তু গাছটি যেন বাড়ে না। গাছটি যেমন ছিল তেমনভাবেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর সে দেখছে যে চোখের সামনে সবাই ছোটো থেকে বড়ো হচ্ছে, বুড়ো হচ্ছে।

 

উত্তর :-

গোপাল ঘুরে ঘুরে দেখল যে আমগাছটির এক দিকের অর্ধেকটাই উইয়ে খেয়ে ফেলে ফোঁপরা করে দিয়েছে। আর অর্ধেক ভেঙে গেছে।

 

উত্তর :-

গোপাল ওষুধ দিয়ে গাছের পিঁপড়ে মেরেছিল। গাছে পিঁপড়ে যদি থাকত, তবে আর উই ধরতে পারত না। কাঁচা গাছটাকে উই পোকা খেয়ে রুগ্ণ করে দিয়েছিল।

এর ফলে আমগাছের গুঁড়ি দুর্বল হয়ে যায়। ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ে।

 

উত্তর :-

আম একটি সুস্বাদু ফল। আমের অজস্র প্রজাতি। এর মধ্যে উন্নত প্রজাতির কয়েকটি আম হল আলফানসো, বেগমপসন্দ, রানিপসন্দ ইত্যাদি। তবে আমরা আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে সাধারণত যে আমগুলি পেয়ে থাকি সেগুলি হল হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোলাপখাস, বোম্বাই, ফজলি, চৌসা ইত্যাদি। আম ভারতের জাতীয় ফল।

 

উত্তর :-

আমগাছের পাতা আমাশয়, বমি ভাব, পোড়া ঘা-তে কাজে লাগে। এর আঠা ফাটা পায়ে, নখকুনিতে এবং পাঁচড়ায় কাজে লাগে। রক্ত আমাশয় বা পেট খারাপ হলে আমগাছের ছাল খুবই উপকারী। এ ছাড়া আম আঁটির ভেঁপু তো আছেই।

 

উত্তর :-

কয়েকটি ওড়িয়া শব্দ এবং তার অর্থ নীচে দেওয়া হল— গুণ্ঠ – কাঠা, খুন্টুনি – আঁকশি, লগি, পাবে পাবে – গিঁটে গিঁটে।

 

উত্তর :-

লেখক রাজকিশোর পট্টনায়কের ‘ফাঁকি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোপালবাবুর বাড়ির কথা এখানে বলা হয়েছে।

‘ফাঁকি’ গল্পের আমগাছটিকে কেন্দ্র করে গোপালবাবুর পরিবার  এবং পাড়ার লোকেদের মধ্যে এমন এক নিবিড় একাত্মতা তৈরি হয়েছিল যে, গাছটি যেন অনায়াসেই এক বলিষ্ঠ নিশানা হয়ে উঠেছিল। তা ছাড়া গোপালবাবুও সকলকে তার বাড়ির ঠিকানা বলতে গিয়ে আমগাছটাকেই মূল নিশানা করে বলেন—কাঠজোড়ি নদীর ধার বরাবর পুরীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিমে যেখানে পাঁচিলের মধ্যে আমগাছ দেখা যাবে, সেটাই তার বাড়ি। অতএব এইভাবেই গাছটি বাড়ির নিশানা হয়েছিল।

 

উত্তর :-

প্রশ্নোক্ত অংশটি রাজকিশোর পট্টনায়কের ‘ফাঁকি’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে, উক্তিটি গোপালবাবুর মনের কথা। গোপালবাবুর বাবা যে কলমি আমগাছটি লাগিয়েছিলেন। সেই গাছটির পাতা বিলোনো প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে। আমগাছটি যখন ডালপালা বিস্তার করে বৃক্ষে পরিণত হয়েছিল। তখন তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পাড়া- প্রতিবেশী বা চেনা-জানা সকলে পুজোর জন্য গোপালবাবুর কাছে আসতেন আমগাছের ডাল, পাতা চাইতে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গোপালবাবু লোকদের ইচ্ছা পূরণ করতেন খুব সতর্কতার সঙ্গে- যেন গাছটির কোনো ক্ষতি না হয়। কারণ ডালপালা অতিরিক্ত কেটে নিলে গাছটির খুব ক্ষতি হবে, গাছটি দুর্বল হয়ে পড়বে এবংতাতে ফলন হবে না বলে গোপালবাবু আশঙ্কা করেছিলেন। তাই তিনি মনে মনে ভেবেছিলেন যে, সেই বছরে কেউ পাতা চাইতে এলে, তাকে পাতা দেওয়া হবে না।

 

উত্তর :-

‘ফাঁকি’ গল্পে যে আমগাছের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, সেই আমগাছটি ক্রমে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং উইয়ে খেয়েছিল। তার উপর আবার আষাঢ়ের ঝড় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই আমগাছটার উপর। দুর্বল, উইয়ে খাওয়া আমগাছটি সেই ঝড়ের দাপট সহ্য করতে না পেরে অসহায়ভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ আমগাছটির প্রাণ গিয়েছিল। আলোচ্য উক্তিটিতে লেখক ‘সে বাড়ির সেই মানুষদের একটি বন্ধু ফাঁকি দিয়ে চলে গেল’ বলতে এই আমগাছটির ভেঙে পড়াকে বুঝিয়েছেন।

 

উত্তর :-

গোপালবাবুদের পোষ্য আমগাছের আমের কথা বলা হয়েছে।

যখন আমগাছটিতে বোল ধরেছিল তখন থেকেই পরিবারের সকলের মধ্যে তাকে কেন্দ্র করে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। এরপর যখন একটু একটু করে আম বড়ো হতে থাকে, তখন তাকে পাড়ার ছেলেদের হাত থেকে রক্ষা করা, পিঁপড়ে, কাঠবিড়ালি ও বাদুড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চিন্তিত হতে দেখা যায় বাড়ির লোকদের। সম্পদকে মানুষ যেখানে রক্ষা করে বা তাকে রক্ষা করার জন্য সবসময় চিন্তা করে, বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে- গোপালবাবুরা তাদের আমগুলিকে নিয়ে তেমনই চিন্তিত ও ব্যস্ত ছিলেন। তাই আমগুলিকে সম্পদ বলা হয়েছে।

ছেলেদের হাত থেকে আমগুলিকে রক্ষা করার জন্য দুপুরে নজর রাখা হয়। পাকলেও আমের উপরদিকটা ছিল সবুজ আর ভিতরের দিক গেরিমাটির রং, টক না হলেও মিষ্টিও নয়— তাও সবাই একফালি আম খেয়েই আমের তারিফ করে। পাড়তে গিয়ে যাতে মাটিতে পড়ে, থেঁতলে না যায়, তার জন্য খুন্টুনি দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির সকলে মিলে আম পাড়ে। যত্ন করে যে-কটি আম পাড়া হয়, তার মধ্যে কয়েকটি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বিলোনো হয়।

এইভাবে নিজেদের গাছের আম নিয়ে বাড়ির মানুষদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।

 

উত্তর :-

আমের চারাটি লাগানোকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে। গোপাল ও তার মায়ের আপত্তি থাকলে, চারাটি যতই বড়ো হতে লাগল ততই তার প্রতি বাড়ির সকলে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছিল। এরপর যখন গাছে আম ধরে, তখন তো বাড়ির সকলের উৎসাহ-আনন্দের অন্ত থাকে না। কীভাবে পাড়ার ছেলেদের অত্যাচারের হাত থেকে গাছের আমকে রক্ষা করা যায়, কীভাবে সযত্নে আমকে গাছ থেকে পাড়া যায়, তা নিয়ে মেতে ওঠে সকলে। আম পাড়া হলে সবাই একফালি করে খেয়ে আমের প্রশংসা করে। নানা সতর্কতা সত্ত্বেও যে বাদুড়, কাঠবিড়ালি বা পিঁপড়ের হাত থেকে গাছের আম রক্ষা করা যাচ্ছে না, তাও সকলে বুঝতে পারে। গোনাগুনতি দু-চারটি আম আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে তৃপ্তি পায় গোপালবাবুর পরিবার। আমগাছটি ধীরে ধীরে ওই পরিবারে অনাস্বাদিত এক আস্বাদ এনে দিয়েছিল, গোপালবাবুর পরিবারের যেন মধ্যমণি হয়ে উঠেছিল আমগাছটি।

 

উত্তর :-

রাজকিশোর পট্টনায়ক রচিত ‘ফাঁকি’ গল্পে উল্লিখিত গোপালবাবুদের পোষ্য আমগাছটির কথা এখানে বলা হয়েছে। আষাঢ় এক প্রবল ঝড়ের দাপটে সেই গাছটির পতন ঘটেছে— তাই বলা হয়েছে সেই গাছ আর নেই। ** আমগাছটি ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে তা গভীর বেদনা নিয়ে আসে। ভেঙে পড়া গাছটির চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখে গোপালবাবু বুঝতে পারেন উইপোকায় গাছের অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে আর এই ঘটনার জন্য গোপালবাবুর মা গোপালবাবুকে তিরস্কারও করেন। নদীতে স্নান করতে যারা যান তারা দুঃখপ্রকাশ করে বলেন— “এত বড়ো ফলন্ত গাছটা উপড়ে পড়ল! আহা! আহা!” অনেকেই গাছটির প্রশংসা করে তাকে হৃদয়বান, বুদ্ধিমান বলেছিলেন। পরের দিন কটকের একটি খবরের কাগজেও গাছটির মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। গাছটির কথা গোপালবাবু ভুলতে পারেননি, তাই দুই দিন পরে নিজের বাড়ির নিশানা বলতে গিয়ে ভুল করে আমগাছটির কথা বলে ফেলেন তিনি। পরেই বলেন— ‘না না ভুল বললাম, সে আমগাছটি পড়ে গেছে এই ঝড়ে।' এভাবেই গাছটির ভেঙে পড়া সকলের মনেই গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল।