অধ্যায়-১৪, চিত্রগ্রীব

উত্তর:-

বাবা-পাখি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিমে ‘তা’ দেয়, তবুও সে অনুভবই করতে পারে না যে, কখন সেই ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোবে। সেই খবর জানতে পারে কেবল মা-পাখি। তারহীন অর্থাৎ অদৃশ্য ভাবেই যেন সেই খবর পৌঁছে যায় মায়ের কাছে। মা-ই অনুভব করতে পারে কখন ডিমের খোলার ভিতরের হলদে আর সাদা পদার্থ পাখির ছানায় পরিণত হবে। আমাদের অর্থাৎ মানুষের পক্ষেও সেই খবর পাওয়া সম্ভব নয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে লেখক এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

 

উত্তর:-

জন্মের মাত্র দ্বিতীয় দিন থেকেই চিত্রগ্রীব বেশ চনমনে হয়ে উঠেছিল। দেখা যেত যখনই তার বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ একজন তার খোপের মধ্যে উড়ে আসত, তখন তার ঠোঁট দুখানা আপনা-আপনি ফাঁক হয়ে যেত। আর তার সদ্য জন্ম নেওয়া লাল টুকটুকে দেহটি যেন হাপরের মতো ফুলেফেঁপে উঠত।

 

উত্তর:-

‘চিত্রগ্রীব' ছিল তার বাবা-মার খুব আদরের। ছোটো চিত্রগ্রীব যখন প্রায় এক মাস বয়সের তখন তাকে কোনোপ্রকার কঠিন বীজ খেতে দেওয়া যেত না। কারণ ওরকম খাবার হজম করার ক্ষমতা তার তখন তৈরিই হয়নি। তাই তার বাবা-মা চাইত নরম তুলতুলে খাবার তার মুখে তুলে দিতে। তাই ভুট্টার বীজ মুখে রেখে নরম করে, তা থেকে দুধ বের করে, চিত্রগ্রীবের মুখে ঢেলে দিত।

 

উত্তর:-

প্রশ্নোক্ত অংশটির বক্তা হলেন ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় রচিত ‘চিত্রগ্রীব’ গল্পের কথক, তিনি চিত্রগ্রীব নামক পায়রাটিকে ওড়ার শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।

কথক প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্য নিজের কবজির উপরে চিত্রগ্রীবকে বসাতেন। তারপর নিজের হাতখা উপর-নীচে দোলাতেন, এতে চিত্রগ্রীবের পড়ে যাওয়ার ভয় থাকত। উড়তে শেখার প্রথম শর্তই হল সঠিক সময়ে দুই ডানাকে মেলে ধরা। নিজেকে সামলানোর জন্য চিত্রগ্রীবকে ডানা খুলতে ও বন্ধ করতেই হত। এভাবেই বক্তা চিত্রগ্রীবকে ওড়ার শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।

 

উত্তর:-

চিত্রগ্রীব তখনও পর্যন্ত উড়তে শেখেনি। আমি দেখলাম ওর বাবা একদিন ছেলের কুঁড়েমি দেখে ওকে ওড়ানোর চেষ্টা শুরু করল–রোদভরা এক দুপুরে চিত্রগ্রীব ছাদের পাকা পাঁচিলের উপর বসে রোদ পোহাচ্ছিল। সে প্রচণ্ড কুঁড়ে, তাই বাবার তার উপর প্রচণ্ড রাগ। দেখলাম বাবা তার পাশে উড়ে এসে বসল এবং তারপর রাগে গরগর করতে করতে পাঁচিলের উপর এক-পাঁ এক-পা করে ঠেলতে ঠেলতে তাকে একেবারে কিনারায় নিয়ে গেল—তার উদ্দেশ্য ছিল সন্তানকে উড়তে শেখানো। দেখলাম চিত্রগ্রীবের দাঁড়ানোর মতো যখন একটুও জায়গা রইল না, তখন সে পা ফসকে নীচে পড়ে যেতে থাকল—অবশেষে দেখলাম চিত্রগ্রীব নিজেকে বাঁচানোর জন্য তার ডানাদুটি ঝাপটাতে লাগল এবং অনায়াসে ভেসে থাকতে পারল বাতাসে। তার ওড়া শেখা হয়ে গেল। ।

 

উত্তর:-

মানুষের মতো পাখিদেরও যে স্নেহ-মায়া-মমতা রয়েছে,তারাও যে সন্তানের মঙ্গলের জন্য চিন্তাভাবনা করে তাই আমরা দেখতে পাই ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় রচিত ‘চিত্রগ্রীব’ নামক ছবিতে গল্পটিতে। বাচ্চা জন্মানোর পর তাকে ভালো রাখার জন্য সঠিক খাবার খাওয়াতে হয়; বাচ্চা শক্ত খাবার খেতে পারে না, তখন তাকে নরম খাবার দেওয়া দরকার—সেই কারণে পায়রার বাবা-মা শক্ত শসাদানা নিজেদের মুখে রেখে নরম করে বাচ্চাকে খাওয়ায়। নরম খাবার বাচ্চার হজমের উপযোগী হত। দুই ডানার মধ্যে ঢেকে রেখে বাচ্চাকে আরামে রাখে। প্রয়োজনমতো বাচ্চাকে শাসনও করে। যেমন চিত্রগ্রীবের বাবা চিত্রগ্রীবের কুঁড়েমিতে বিরক্ত হয়ে তাকে শাসন করেছে। বাচ্চার শিক্ষার দায়িত্ব নিজে নিয়েছে। চিত্রগ্রীবকে উড়তে বাধ্য করেছে সে, আবার ছেলেকে সাহস যোগাতে চিত্রগ্রীবের মা সন্তানের সঙ্গে উড়েছে, তার পাশে থেকেছে।

এইসব ঘটনা থেকে আমরা এই শিক্ষা পেলাম যে, স্নেহ-মায়া-মমতা সন্তানের ভালোর জন্য চিন্তাভাবনা, তাকে শিক্ষা দেওয়া শুধু মানুষের মধ্যেই নয়, পাখিদের মধ্যেও এই সকল আচরণ দেখতে পাওয়া যায়।

 

উত্তর:-

'চিত্রগ্রীব' গল্পটিতে ‘চিত্রগ্রীব' নামক পায়রাটির স্বভাববৈশিষ্ট্যের কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন—

শিশুর স্বাভাবিক চঞ্চলতা চিত্রগ্রীবের ছিল, মা বা বাবা যখন তার খোপের কাছে আসত তখনই নিজে থেকেই তার ঠোঁট দু-খানা ফাঁক হয়ে যেত – এ থেকেই বোঝা যায় যে খাবার ও মা-বাবার আদর খাবার জন্য প্রথম থেকেই সে চঞ্চল ছিল।

সে নিজেকে রক্ষা করার ব্যাপারে সচেতন ছিল, তাই মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সে তার খোপে ঢুকতে যাওয়া একটি পিঁপড়েকে দু-টুকরো করে ফেলেছিল— অর্থাৎ সে আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল। তবে এই ঘটনার জন্য সে অনুতপ্তও ছিল। তাই পরবর্তীকালে সে আর কখনো কোনো পিঁপড়েকে মারেনি। এর থেকে বোঝা যায় তার মনে দয়া-মায়া বর্তমান ছিল।

চিত্রগ্রীবের স্বভাবের একটি খারাপ দিকও আমরা লক্ষ করেছি— তা হল সে খুব কুঁড়ে ছিল। তাই তিন মাস বয়স হলেও সে ওড়ার চেষ্টা করেনি। এই কারণে তার বাবা তাকে বকুনি দিয়ে বলেছে— ‘বলি কুঁড়ের সর্দার, বয়স তো প্রায় তিনমাস হলো, এখনো ওড়বার সাহস হয় না!' তাতেও সে ওড়ার চেষ্টা করেনি। শেষে একপ্রকার ধাক্কা খেয়ে তাল সামলাতে না পেরে পাঁচিল থেকে পড়ে গিয়ে উড়তে বাধ্য হয়েছে।

‘“চিত্রগ্রীব’ গল্পটি পাঠ করে চিত্রগ্রীবের চরিত্রের পূর্বোক্ত পরিচয় পেয়ে থাকি।

 

উত্তর:-

অন্যান্য অনেক বাচ্চা পাখির মতো সদ্য জন্ম নেওয়া চিত্রগ্রীবও নিজে নিজে খেতে পারত না, সে খাওয়ার ব্যাপারে ছিল সম্পূর্ণ মায়ের উপর নির্ভরশীল। একেবারে ছোটো অবস্থায় তার মা-বাবা মুখে করে খাবার এনে ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে তার মুখে নরম খাবার ঢেলে দিত। এসময় যখনই বাবা-মার মধ্যে একজন কেউ খোপের মধ্যে উড়ে আসত, তখন বাচ্চা চিত্রগ্রীবের ঠোঁট দুটো নিজে নিজেই ফাঁক হয়ে যেত। তখন তার বাবা-মা তার ঠোঁট ফাঁক করে মুখের মধ্যে নিজের ঠোঁটটি ঢুকিয়ে দুধ ঢেলে দিত। এই দুধের উৎস ভুট্টা বীজ। মুখের মধ্যে থেকে থেকে তা দুধে পরিণত হয়েছে। এই খাবার খুব নরম। বাচ্চার বয়স এক মাস পূর্ণ হওয়ার পর পর্যন্ত মা-পায়রা তাকে কঠিন কোনো বীজ খেতে দেয় না। বীজ সংগ্রহ করে গলার মধ্যে কিছুকাল রেখে দেওয়ার পর বীজটি যখন নরম তুলতুলে হয়ে যেত এবং বাচ্চার খেয়ে হজম করার উপযোগী হয়ে উঠত, তখনই চিত্রগ্রীবের বাবা-মা সেই খাবার তাকে খেতে দিত।

 

উত্তর:-

উদ্ধৃত অংশটি প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের ‘চিত্রগ্রীব' নামক ‘ছবিতে গল্প’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘সে’ বলতে বোঝানো হয়েছে সে হল উক্ত ছবিতে গল্পের এক শিশু পায়রা চরিত্র ‘চিত্রগ্রীব'। ** অন্যান্য পাখির বাচ্চার মতো চিত্রগ্রীবেরও তখন ওড়ার বয়স হয়নি। তাই জন্মের পর অনেকদিন তাকে বাবা-মার বয়ে আনা খাবার খেয়ে খোপের মধ্যে বসে থাকতে হত। যখন তার বয়স সবেমাত্র হপ্তা তিনেক, তখন সে সেই খোপের সামনে বসেছিল। সে খেয়াল করল একটা পিঁপড়ে তার পাশ দিয়ে খোপের মধ্যে ঢুকতে চাইছে। নিজের ঠোঁট দিয়ে চিত্রগ্রীব পিঁপড়েটিকে বেশ জোরে আঘাত করে। এতে পিঁপড়ের ছোটো শরীরটা দু-টুকরো হয়ে যায়। সে মারা পড়ে। কথকের ভাষায়—“চিত্রগ্রীব মরা পিঁপড়েটার উপরে নাক নামিয়ে আপন কীর্তি লক্ষ করে দেখতে লাগল।” স্বাভাবিকভাবেই চিত্রগ্রীবের মনে একটু পরিবর্তন হয়। অনুমান করা গিয়েছিল যে, হয়তো নিজে ীর্তি দেখে চিত্রগ্রীব নিজেই একটু লজ্জা পেয়েছিল। তাই সে জীবনে আর কোনোদিন পিঁপড়ে মারেনি।

 

উত্তর:-

শিশুসাহিত্যিক ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের কথায় ছবিতে গল্প ‘চিত্ৰগ্ৰীব’-এ দেখা যায়, গল্পের কথকের চিত্রগ্রীবের বাবা-মার প্রতি যথেষ্ট নেকনজর ছিল। একদিন চিত্রগ্রীবের বাবার দিকে তিনি ভালো করে তাকিয়ে দেখলেন, তার চোখের উপর ঘুড়ির কাগজের মতো পাতলা ফিনফিনে একটা পর্দার মতো কিছু রয়েছে। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল বয়স হলে যেমন মানুষের চোখে ছানি পড়ে।