অধ্যায়-১৫, আশীর্বাদ

উত্তর:-

ঘাস আর পিঁপড়ের কথোপকথন শুনেছিল বৃষ্টি।

বৃষ্টি ঘাস পাতার সাহসিকতার প্রশংসা করেছিল।

পিঁপড়ে ঘাসের পাতার নীচে আশ্রয় নেয়। তারপরেওবৃষ্টির আঘাতে পাতা যখন নুয়ে পড়ে তখন পিঁপড়ে পাতাটিকে জোরে কামড়ে ধরে। এভাবেই সে রক্ষা পেয়েছিল।

 

 

উত্তর:-

পিঁপড়ের মনে হয়েছিল জল হয়তো আর শুকোবেই না। আর সেও এইরকম বিপদ থেকে মুক্তি পাবে না। সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

 

 

উত্তর:-

‘আশীর্বাদ’ গল্পে এ কথা পাতা পিঁপড়েকে বলেছিল।

 

উত্তর:-

সূর্য বলেছিল, “আশীর্বাদ করি শরতের আশীর্বাদ তোমাদেরও উপরে ঝরুক। পৃথিবী সবারই হোক।”

 

উত্তর:-

প্রবল বৃষ্টির জন্য চারদিক জলে থইথই, এমন অবস্থায় বাঁচার জন্য একটি পিঁপড়ে ঘাসের পাতার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। বৃষ্টির আঘাতে পাতাটি জলে নুয়ে পড়লে পিঁপড়ের অর্ধেক শরীর জলে ডুবে গিয়েছিল।

পিঁপড়েটি ঘাসের পাতায় কামড় দিয়ে, তাকে আঁকড়ে ধরে থাকে। শেষপর্যন্ত পিঁপড়েটি প্রাণে বেঁচে যায় ঘাস-পাতাটির দাক্ষিণ্যে।

 

উত্তর:-

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘আশীর্বাদ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হল পিঁপড়েটি। পিঁপড়ে সাঁতার কাটতে পারে, দৌড়োতেপারে, হাঁটতে পারে; সে কর্মঠ অর্থাৎ কাজের লোক। সে সারাদিন খাটতে পারবে। কিন্তু তার চরিত্রের দুর্বলতা হল সে ভীতু এবং প্রতিকূল পরিবেশকে মানিয়ে নিতে গিয়ে ভয় পায়। বর্ষা হলেই তার ভেসে যাওয়ার ভয় হয়, কারণ মাটিতে আর থাকা যায় না। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা তার নেই। তাই সে বলে পৃথিবীটা হয়তো তার হবে না কখনোই। অর্থাৎ একটুতেই সে ভয় পেয়ে যায়। ঘাস, বৃষ্টি, জল এবং শেষে সূর্যও তাকে সাহস জোগায়, তবুও তার মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকেই যায় যে প্রকৃতি হয়তো তার হবে না। অর্থাৎ পিঁপড়ে কর্মী হলেও দুর্বল চিত্তের প্রাণী।

 

উত্তর:-

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘আশীর্বাদ’ গল্পে আমরা দেখি যে বৃষ্টি এবং জল ঘাস-পাতার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছে। বৃষ্টি বলে যে সে কখনও ঘাস-পাতাকে ভয় পেতে দেখেনি। বৃষ্টি যখন বিদেশে চলে যায়, তারপর ফিরে এসে দেখতে পায় ঘাস রোদে পুড়ে ধুলো হয়ে আছে। আর বৃষ্টির ডাকে সাড়া দিয়ে ধুলো-ঝেড়ে সারা দেশ সবুজ পাতায় ভরিয়ে দেয়। জল তখন খলখল করে হেসে ঢেউ তুলে বলে ওঠে বর্ষায় যে ঘাসকে জলে ডুবিয়ে দেয়। সেই ঘাসই আবার শরতে কাশবন হয়ে হাসাতে থাকে। অর্থাৎ বৃষ্টি ও জল ঘাসকে প্রশংসা করে সাহসিকতার জন্য এবং প্রকৃতিকে মানিয়ে নিয়ে চলতে শেখার জন্য।

ঘাস-পাতা বৃষ্টি বা খরা কোনো কিছুকেই ভয় পায় না, সে প্রকৃতির আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, ফুল ফোটায়, হাসতে পারে। তাই বৃষ্টিও জল ঘাসের প্রশংসা করে।

 

উত্তর:-

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘আশীর্বাদ’ গল্পটি কিশোর পাঠ্য গল্প রুপে উল্লেখযোগ্য। আলোচ্য গল্পে লেখক একটি পিঁপড়ের বিপদে পড়া এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন দেখিয়েছেন, তেমনই দেখাতে চেয়েছেন যে প্রকৃতির আশীর্বাদ সকলের জন্যই সমানভাবে বর্ষিত হয়, কেউ তাকে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে, কেউবা পারে না। পিঁপড়ে বর্ষায় বাসভূমি। থেকে চ্যুত হয়ে পড়ে, কারণ মাটি জলে পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাকে অন্যের সাহায্য নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। তাই বলে সে যদি ভাবে প্রকৃতির দান তার জন্য নয়, তবে ভুল হবে। আর ভয়ে পিছিয়ে গেলেও চলবে না। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে প্রকৃতির আনন্দকে অনুভব করতে শিখতে হবে। ঘাস তা পারে বলেই সে কোনো কিছুকেই ভয় করে না। সূর্যও শেষে সেই কথাই বলে যে— শরতের আশীর্বাদ সবার ওপরেই ঝরে পড়ুক। অর্থাৎ গল্পটির মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে–প্রকৃতি কারো প্রতি কার্পণ্য করে না। প্রকৃতি সবারই।

 

উত্তর:-

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘আশীর্বাদ’ নামক গল্প থেকে প্রশ্নোক্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে।

প্রবল বর্ষায় চারিদিকে যখন থইথই করছে, তখন বাঁচার তাগিদে একটি পিঁপড়ে আশ্রয় নিয়েছিল একটি ঘাস-পাতায়। বৃষ্টির আঘাতে পাতাটি নুয়ে পড়লে পিঁপড়ে পাতাকে কামড়ে ধরে রক্ষা পেয়েছিল। পিঁপড়ের মনে ভয় হয় পৃথিবী হয়তো আর শুকোবে না। তখন পিঁপড়েকে প্রবোধ দেবার জন্য ঘাস-পাতা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

ঘাস পরোপকারী। সে পিঁপড়েকে আশ্রয় দিয়ে বন্ধুর প্রকৃত কাজই করেছে। পিঁপড়ের কামড়ে তার যন্ত্রণা হবে জেনেও সে পিঁপড়েকে বলেছে— “ভাই জোরে আঁকড়ে ধরো। কামড়ে ধরো আমাকে; আমার লাগবে না।” সে চেয়েছে নিজে যন্ত্রণা সহ্য করেও বন্ধুকে বাঁচাতে। তার মহত্বের পরিচয় পাওয়া যায় এইরূপ আচরণে। পিঁপড়ের ভয় দূর করার জন্য ঘাস-পাতা বারবার তাকে সাহস জুগিয়েছে। পিঁপড়ের সদা কর্মময় জীবনযাপনের জন্য তাকে ‘কাজের লোক’ বলে পুরষ্কৃত করেছে। ঘাস-পাতা সহিষ্ণু। সে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলতে পারে। তাই সে রোদে পুড়ে এবং বর্ষায় ভিজেও নিজের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে। শরতে সে কাশবন হয়ে হাসি ঝরায়। ঘাস-পাতা বুঝতে পেরেছে যে পৃথিবী সবার জন্যই। ঘাসের কথাবার্তার মধ্য থেকে তার চরিত্রের সহিষ্ণুতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি সদ্গুণের পরিচয় পাওয়া যায়।