ভূত! ভূত ছাড়া কিছু না!”—বক্তা কে? তাঁর এমন মনে হওয়ার কারণ লেখো। 3
উত্তর :-বক্তা হলেন ‘এক ভূতুড়ে কাণ্ড’ গল্পের লেখক শিবরাম চক্রবর্তী।
* লেখক একটি বেবি অস্টিন গাড়িতে উঠে বসেন। তারপর চালকের আসনে লক্ষ করে যখন গন্তব্যস্থানের কথা বলতে যাবেন, দেখলেন চালকের আসন শূন্য। তিনি হা হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখ দুটি ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। শার্টের কলারটা যেন গলায় চেপে বসেছে। আঙুলগুলি অবশ হয়ে গেছে। শীতের রাতেও গা দিয়ে ঘাম ঝরতে লাগল। ইঞ্জিনও বন্ধ রয়েছে। তবুও গাড়ি চলেছে সঠিক পথেই। তখনই লেখক অর্থাৎ বক্তা বুঝতে পারলেন যে ভূতের কাণ্ড ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।
ভূতুড়ে গাড়িতে চেপেছেন বুঝেও লেখক সেখানেই বসেছিলেন কেন? 3
উত্তর :-লেখক শিবরাম চক্রবর্তী মরিয়া হয়ে একটি চলন্ত মোটর অর্থাৎ বেবি অস্টিনে উঠে বসেছিলেন। চালককে গন্তব্যস্থানের কথা বলতে গিয়েই তিনি বুঝতে পারলেন যে, তিনি ভুতুড়ে গাড়িতে সওয়ার হয়েছেন। প্রথমটায় তিনি খুব ভয় পেয়ে গেলেন, কিন্তু দেখলেন গাড়িটি তো সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। আবার প্রকৃতিগত দিক থেকে লেখক ছিলেন আলস্যপ্রিয়। তাই তার মনে হল হেঁটে যাবার পরিশ্রমের তুলনায় ভূতুড়ে গাড়িতে আরামে যাওয়া অনেক ভালো। লেখকের কথায়— আলস্যকে তিনি কোনোদিনই জয় করতে পারেননি, আর কায়ক্লেশে তা জয় করেই বা লাভ কীসের। তার থেকে আরাম করে সাত মাইল পথ যাওয়া তো যাচ্ছে। একথা মনে করেই লেখক ভূতুড়ে গাড়িতেই বসেছিলেন।
এক্ষুনি নেমে পড়া দরকার।—লেখক কেন গাড়ি থেকে নেমে পড়তে চেয়েছিলেন? গাড়ি থেকে নামার পর লেখকের কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল? 5
উত্তর :-শিবরাম চক্রবর্তী যে অস্টিন গাড়িটিতে সওয়ার য়ছিলেন, সে-গাড়িটি লেবেল ক্রসিংয়ে পৌঁছেও থামতে ইছিল না, চালকহীন অবস্থাতেও সে গাড়িটি সঠিক পথেই গিয়ে চলেছিল—এই ভূতুড়ে গাড়িটিকেই লেখক যমালয়ের বলেছেন। কারণ লেখকের মনে হয়েছিল উক্ত গাড়িটি তাঁকে মর বাড়ি অর্থাৎ মৃত্যুলোকে পৌঁছে দিতে চাইছে।
কোনোক্রমে দরজা খুলে সেই গাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে লেখকের এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। লেখক দেখলেন তিনি। ঠিক আছেন, আর মোটরটিও অক্ষত অবস্থায় চুপচাপ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। খানিক পরেই মোটরের পিছন থেকে একজন চশমাপরা লোক এসে লেখককে অনুরোধ করেন উক্ত মোটরটি একটু ঠেলে দিতে। লোকটি নাকি আট মাইল পথ মোটরটিকে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে এসেছেন এবং পথে কাউকেই দেখেননি যে মোটরটি ঠেলে তাকে সাহায্য করতে পারেন। রেললাইনের ওপারেই লোকটির বাড়ি, এক মিনিটের পথ। এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা লেখকের কাছে ছিল না। এমনই এক ভূতুড়ে কাণ্ডের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন লেখক।