অধ্যায়-১৮, বঙ্গ আমার! জননী আমার!

উত্তর :- আমরা' হলাম আগামর বাঙালি, যারা বঙ্গদেশের ধূলিকশায় লালিতপালিত এবং যারা এদেশের গৌরবের কা আনন্দিত হয়।

 

উত্তর :- পরাধীনা দেশজননীর অনেক দুঃখ, দৈন্য, ক্লেশ রয়েছে। কিন্তু যখন তাঁর ত্রিশ কোটি সন্তান সমবেতভাবে উচ্চকণ্ঠে ‘আমার দেশ’ বলে ডেকে ওঠে তখন সেই আনন্দের অনুভবে মা-এর দুঃখ, দৈন্য, ক্লেশ থাকা উচিত নয় বলে কবি মনে করেছেন।

 

উত্তর :-  ‘আমার দেশ’ উচ্চারণ করা মাত্রই আমার মনের মধ্যে স্বদেশচেতনার ভাব ফুটে ওঠে। এই স্বদেশচেতনার মধ্যে ধরা দেয় নিজের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, যা আমার মনকে এক অন্য অনুভূতি দান করে।

 

উত্তর :-  কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ‘মা’ বলতে দেশজননীকে বুঝিয়েছেন। কবি পরাধীন দেশের নাগরিক, তিনি জানেন পরাধীনতার বেদনা কত গভীর। সেই গভীর বেদনায় ব্যথিতা দেশমাতাও। সন্তানের কষ্টের কথা ভেবে মায়ের চোখ আজ শুষ্ক। পরাধীনতার আঁধার ঘিরে আছে তাঁকে তাই তাঁর বেশবাস আজ মলিন।

 

উত্তর :-   ‘যাঁর’ বলতে পরম পূজনীয় ভগবান বুদ্ধদেবের কথা বলা হয়েছে।

ভগবান বুদ্ধ মানুষের মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, তিনি দরিদ্র, ধনী, সকল মানুষের মনেই সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। মানুষ কীভাবে লোভ, হিংসা দূর করে সকলের জন্য নিজেকেউৎসর্গ করতে পারে, সে-কথা তিনি শিখিয়েছেন। তাঁর উদার ও মানবতাবাদী আচরণ সাধারণ মানুষের মনে শান্তি এনেছিল। তাই তাঁর চরণে জগতের মানুষ শ্রদ্ধা-ভক্তিতে মাথা নত করে।

 

উত্তর :-   প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বঙ্গ আমার! | জননী আমার!’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ দেশমাতা। স্বাধীনতা আজ ভুলুণ্ঠিত। বিদেশি শাসনে বঙ্গদেশ শোষিতা, নির্যাতিতা। বঙ্গ সন্তানগণ আপন কীর্তিতে মায়ের যন্ত্রণা দুঃখ আবার দূর করবেই। অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে আলোর দীপশিখা তারা তুলে ধরবেনই। তাই দেশমাতার এই দুঃখ, ক্লেশ, লজ্জা চিরকাল থাকবে না বলেই কবির বিশ্বাস। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বঙ্গ আমার ! জননী আমার!' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গজননী পরাধীনতার শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত। তাই মায়ের আজ দুঃখ-দৈন্য-লজ্জার শেষ নেই। সেই প্রসঙ্গেই উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।

একদা বাংলার মায়ের গর্বের অন্ত ছিল না, তাঁর সন্তানদের কীর্তির কারণে। কিন্তু বর্তমানে পরাধীনতার নাগপাশে বদ্ধ দেশবাসী, তাই মায়ের দুঃখের শেষ নেই। কিন্তু বঙ্গবাসী। নয়, তারাও বীর্ববত্তার অধিকারী। মেঘের মতো সকল অত্যাচার মেনে নেবে না তারা চিরকাল। কারণ পূর্বপুরুষের বীর-রক্ত তাদের চেতনায় জাগরিত। প্রাধীনতার অবসান তারা ঘটাবেই। প্রশ্নের অংশে কবির এই প্রত্যয়ের কথাই ধ্বনিত হয়েছে।

 

উত্তর :-   কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর ‘বঙ্গ আমার! জননী আমার!’ কবিতাটিতে খুবই আবেগের সঙ্গে দেশের বর্তমান অবস্থার কথা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কবিও জানতেন— দুঃখপ্রকাশ করে দেশোদ্ধার সম্ভব নয়। ‘মেবার পতন’ নাটকে ‘'মানসী'-র কণ্ঠে তিনি বলিয়েছিলেন—“গিয়াছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ।” এখানেও তেমনই তাঁর কবি-বক্তব্যটি অস্পষ্ট নয়। মানুষ অনেকসময় গভীর দুঃখে হতোদ্যম হয়ে পড়ে। পরাধীন হয়ে থাকতে থাকতে তাদের অন্তঃশক্তি যে কমে আসছে, এও তাঁর অজানা ছিল না। তাই তিনি এ কবিতায় ভারতের গণজাগরণ কল্পনা করেছেন। ভারতবাসীদের তিনি মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন ভারতবর্ষের হারিয়ে যাওয়া গৌরব। একদিন এ দেশ ছিল স্বাধীন,জনগণ ছিল স্বাধীনচেতা। তাঁর বক্তব্য— যে দেশমাতার বীর ও কৃতী সন্তানরা সারা বিশ্বে আশার আলো ফেলেছিলেন, সেই দেশ আজ অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। তিনি দেশবাসীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন—দেশমাতার যে উজ্জ্বল মূর্তি হারিয়ে গেছে, তাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি পরম হতাশার সঙ্গে স্মরণ করেছেন অতীত ভারতের গৌরবময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে। কারণ তিনি জানেন, রত্নগর্ভা ভারতমাতা ক্রমে জন্ম দিয়েছিলেন—গৌতম বুদ্ধ, সম্রাট অশোক, কবি চণ্ডীদাস, রঘুমণির মতো কৃতী সন্তানদের। শ্রীচৈতন্য এ দেশেই তাঁর মানবতাবাদের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। সুতরাং আজকের ভারতবাসীই বা কেন পারবে না তাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে। এ যদি তারা পারে, তবেই “ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।”—এই কবির বাসনা।