অধ্যায়-১, ভরদুপুরে

উত্তর:- রাখাল গাছের তলায় শুয়ে দেখছে মেঘগুলো কেমন আকাশটাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

তার গোরুবাছুরগুলো দূরে চরছে।

উত্তর:  নদীর ধারে কাদের একটা বড়ো নৌকো বাঁধা রয়েছে। সেই নৌকোর খোলের মধ্যে বোঝাই করা রয়েছে শুকনো খড়ের আঁটি।

উত্তর: লোকগুলো ভরদুপুরে যে যার নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছে। এমন ঘুমের কারণ, ভরদুপুরে পরিবেশ শান্ত-সমাহিত। এমন সময়ে মনে এসে ভর করে আলস্য, তাই এমন ঘুম।

 উত্তর: মানুষ ছাড়া ‘বিশ্বভুবন’-এর ঘুমোনোর কথা ‘ভরদুপুরে’ কবিতায় আছে।

গ্রাম্য প্রকৃতির নিস্তব্ধ ভরদুপুরে ‘বিশ্বভুবন’ গ্রামের বুকে আঁচল পেতে ঘুমোচ্ছে।

উত্তর: ‘ভরদুপুরে’ কবিতার সঙ্গে মিল আছে, আমার দেখা এমন একটি অলস দুপুর হল- শীতের দুপুরে বারে নীচে নে পথিক বসে আছে আর দূরে মাঠে আর চরে বেড়াচ্ছে, বা হাদি জানালার ধারে বসে দেখছিলাম।

উত্তর: প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর অপুর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে 'ও' তে একটি গাছের কথা বলা হয়েছে।

গ্রামের মাঝে যে অশ্বথ গাছটি রয়েছে, সেটি ভরদুপুরে তারা বিস্তার করে রেখেছে। অশ্বত্থ গাছ ভালপালা ছড়িয়ে দিয়ে বোনকে আটকে রাখে, ফলে গাছের তলদেশটি শীতল ছারা পায়, আর এই ছায়াময় অঞ্চলে পথিকজন বিশ্রাম করে শান্তি খুঁজে পায়। চাতা যেমন রোদের তাপ থেকে মাথাকে বাঁচার, তেমনই অশ্বত্থ গাছটি রোদের প্রকোপ থেকে পথিককে রক্ষা করে। পথিকের মাথার বেন ছাতা মেলে ধরে গাছটি।

উত্তর: প্রশ্নোত্ত উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ভরদুপুরো কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি গ্রামের এক নিস্তব্ধ দুপুরের ছবি আঁকতে গিয়েই প্রশ্নোক্ত কথাগুলি বলেছেন। গ্রামের রাখাল গাছের তলায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে আর তার চোখে পড়ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। নির্জন দুপুরে আকাশের দিকে। দৃষ্টি যেতেই রাখাল দেখতে পায় নীলাকাশের বুকে ভেসে। চলেছে মেঘপুঞ্জ। তারা দল বেঁধে এমনভাবে চলেছে যেন মনে হচ্ছে আকাশটাকে ছোঁয়াই তাদের লক্ষ্য। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির দ্বারা কবি এক মধ্যাহ্নের নৈসর্গিক ছবিই প্রকাশ করেছেন।

উত্তর: ‘ভরদুপুরে’ কবিতাটির কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি আলোচ্য কবিতাটিতে এক নির্জন দুপুরের গ্রামীণ প্রকৃতির ছবি আঁকতে চেয়েছেন যথার্থভাবে। স্বাভাবিকভাবেই কবিতার বর্ণনায় এসেছে একটি নদীর প্রসঙ্গ। সেই নদীর ধারে কারা যেন একটি বড়ো নৌকো বেঁধে রেখেছে। নৌকোটিতে যে পণ্য পরিবহণ হয় তা দেখলেই বেশ বোঝা যায়। কেন-না দেখা যাচ্ছে তার খোল বোঝাই করে রাখা হয়েছে শুকনো খড়ের আঁটি। দুপুরবেলাকার শান্ত ও সমাহিত, নির্জন ও নিস্তব্ধ প্রকৃতিতে নৌকোটি যেন নিঃসঙ্গ এবং একা।

উত্তর: প্রখ্যাত আধুনিক কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘ভরদুপুরে’ বতায় এক মধ্য দুপুরের যে অপূর্ব চিত্র আঁকা হয়েছে সেখানে গোরুবাছুরের বিচরণ ও রাখালের গাছতলায় আশ্রয় নেওয়ার কথা আছে। দুপুরবেলার এই প্রকৃতিতে আর জনমানুষের কোনো চিহ্নই নেই। শুধু বাতাস এসে মিহি সাদা ধুলো ওড়াচ্ছে। কবি মনে করেছেন এই ভরদুপুরে মানুষগুলো যে যার ঘরে ঘুমোচ্ছে। কবির আরও মনে হয়েছে; শুধু মানুষজন নয়, এখানে এই গ্রাম্য দুপুরে নির্জনতা ও নিস্তব্ধতার অতলতায় বুঝি বিশ্বভুবনও আঁচল পেতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তবে সকলের পক্ষে তা অনুভব করা সম্ভব নয়। ‘যে জানে, সে-ই জানে’ কীভাবে তা ঘটছে।

উত্তর: প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশটি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘ভরদুপুরে’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি আলোচ্য কবিতার শেষ অংশে বলেছেন যে, বিশ্বভুবন আঁচল পেতে এই গ্রামের বুকেঘুমিয়ে আছে। এই কথাটিই যে বোঝে সে জানে।

নগরজীবনের কোলাহল কর্মমুখরতা থেকে গ্রামীণ জীবন অনেক দূরে অবস্থান করে। এমনই একটি গ্রামের মধ্যাহ্নকালীন প্রকৃতির ছবি আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ করেছেন কবি। ভরদুপুরে বাতাস মাঠের ধুলো ওড়ায়, রাখাল বিশ্রাম নেয় গাছের ছায়ায়, নদীর ঘাটে বাঁধা পড়ে থাকে খড় বোঝাই নৌকো, আর গৃহস্থ ঘুমিয়েসাহিত্য বিচিত্রা ষষ্ঠ ে থাকে যে যার ঘরে। চারদিকেই একটা শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করে। তবে শুধু কি মানুষই ঘুমিয়ে আছে, না তা নয়—কবির মতে সমগ্র বিশ্বই আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে এই গ্রামের বুকে এবং বিশ্ব এখানে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। তবে এটাও ঠিক যে বিশ্ব যে এখানে নিদ্রিত অবস্থায় আছে, তা সকলের পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। গভীর অনুভূতির, বোধের জাগরণ ঘটলে তবেই প্রকৃতির লীলা বোঝা সম্ভব হয়। গ্রামীণ জীবন তার চিরাচরিত পদ্ধতিতেই চলতে থাকে, এখানে নাগরিক জীবনের কোলাহল প্রবেশ করতে পারেনি। এখানে বিশ্বের সকল শান্তি বিরাজমান। গভীর প্রত্যয় যার আছে, সে-ই কেবল এই চেতনার অধিকারী হতে পারবে। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশের মাধ্যমে কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন।

উত্তর: কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ‘ভরদুপুরে’ কবিতায় একটি নির্জন দুপুরের চিত্র অঙ্কন করেছেন সুনিপুণভাবে। গ্রামের বুকে অশ্বত্থ গাছটি ছাতার মতো পথিককে রোদের তাপ থেকে রক্ষা করে। গাছের তলায় শুয়ে শুয়ে রাখাল বালক মেঘেদের আনাগোনা দেখতে পায়। দূরে গোরুবাছুর চরে বেড়ায়, উদাস মধ্যাহ্নে মাঠের ধুলো ওড়ায় বাতাস। নদীর ঘাটে বাঁধা পড়ে থাকে খড় বোঝাই বড়ো নৌকা। গৃহস্থেরা যে যার ঘরে ঘুমিয়ে বিশ্রাম নেয়। তবে শুধু মানুষই নয়, প্রকৃতিও এখানে যেন ঘুমিয়ে আছে। আসলে শহুরে জীবনের যেমন কর্মকোলাহল, তা থেকে গ্রামীণ জীবন দূরে থাকে। এখানে ঘরে ঘরে বিরাজ করে পরম শান্তি। তাই কবির মনে হয়েছে বিশ্বভুবন যেন আঁচল পেতে এখানে ঘুমিয়ে পড়েছে।