অধ্যায়-২০, মোরা দুই সহোদর ভাই

উত্তর :- কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ কবিতায় দেখা যায় মড়ক এলে দুই জাতি হিন্দু-মুসলিম সমানমরে এবং বন্যা এলে এই দুই ভাইয়ের কুটির সমান ভেসে যায়।

এ থেকে বোঝা যায়—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও হিন্দু-মুসলিমের উপর একইভাবে প্রভাব পড়ে।

 

উত্তর :-  পরমপিতা জীবনদেবতা যেহেতু সকলেরই স্রষ্টা। তাই তাঁর কাছে হিন্দুও যেরকম, মুসলিমও তাই। তাই তিনি সকল সন্তানের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ দুজনেরই মাঠের উপর সমান বৃষ্টি ঝরান। সব জাতিকে তাঁর মহান দানের ক্ষেত্রে তাই কোনো পার্থক্য ঘটে না। যেমন চাঁদ ও সূর্যের আলোও তাঁরই দানের মণিমাণিক্য হয়ে সকলের উপর সমানভাবে বর্ষিত হয়।

 

উত্তর :-  যে-সমস্ত কবিরা সমাজ নিয়ে ভাবেন, কবি নজরুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বারবার দেখেছেন এই ভারতবর্ষের মাটিতে হিন্দু-মুসলিম পরস্পর বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। অত্যাচারী বিদেশি শাসকদল, এদেশে নিজেদের শাসন-শোষণ টিকিয়ে রাখতে, হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ ঘটাতে তৎপর। তাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিকভাবে ভাই-ভাই দুই জাতিকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভিতকে শক্ত করা। কবি তাই তাঁর লেখনী দিয়ে সকলকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন হিন্দু-মুসলিম দুই সহোদর ভাই। তারা এক বৃত্তে ফোটা দুটি ফুল। তাদের বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ নামক কবিতাটি থেকে নেওয়া হয়েছে। সব মানুষই বিধাতার সন্তান। মুসলমান যে বিধাতার সৃষ্টি, সেই বিধাতারই সৃষ্টি হলেন হিন্দু। তাদের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। ৩ ‘মোরা বিবাদ করে খোদার উপর করি যে খোদকারি।' —উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। উত্তর প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটি নেওয়া হয়েছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ নামক কবিতা থেকে। হিন্দু ও মুসলমান মূলত অভিন্ন। সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের সঙ্গে বিভেদ করলে অপমান হয় পরম ঈশ্বরেরই। এ কথাই কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটির মধ্যে বোঝাতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। পরমপিতার অপার দান সকলেরই প্রতি সমানভাবে বর্ধিত হয়—সেই প্রসঙ্গেই কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

এই পৃথিবীর সকল জীবই বিশ্বপিতার দান সমানভাবে উপভোগ করেন। এখানে দুই ভাই বলতে হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের কথা বোঝানো হয়েছে। তারা একই আকাশের নীচে, একই দেশমাতার কোলে লালিতপালিত হন—তাই তারা সহোদর ভাই। দেশে যখন বিপদ দেখা দেয় তখন উভয়েই সেই বিপদে সমানভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। যেমন, প্লাবন যখন ধেয়ে আসে। তখন হিন্দুর কুটির যেমন ভেসে যায়, মুসলমানের কুটিরও সে প্লাবনে ধ্বংস হয়। অর্থাৎ পরমপিতার আশীর্বাদ যেমন দুইয়ের উপর ঝরে পড়ে, তেমনই অভিশাপেও উভয়েই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়— স্রষ্টার সৃষ্টিতে কোথাও ভেদাভেদ নেই। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘দুই জনারই' বলতে ভারতমাতার দুই সন্তান হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের কথাই কবি বলেছেন।

বিশ্বস্রষ্টা পরমপিতার অপরূপ সৃষ্টি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল জিনিস। জীব ও জড়জগতের সব কিছুতেই তার পবিত্র হাতের স্পর্শ অঙ্কিত রয়েছে। কারো প্রতিই তিনি পক্ষপাতিত্ব করেন না, তার করুণাধারায় সমানভাবে ধৌত হয় হিন্দু ও মুসলমানের কৃষিক্ষেত্র তথা জমি। স্রষ্টা পরম মমতায় গড়ে তোলেন সৃষ্টিকে, তাই স্রষ্টার স্নেহসুধা সমানভাবে ঝরে পড়ে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিই— কোনো ভেদাভেদ এখানে তিনি করেন না, কে হিন্দু কে মুসলিম তা তিনি দেখেন না— তার কাছে জাতি একটাই তা হল মানুষ জাতি। এই কারণেই কবি বলেছেন, হিন্দু-মুসলমান দুই জনের মাঠেই সমান বৃষ্টি ঝরে।

 

উত্তর :-  প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্ক্তিটিতে হিন্দু ও মুসলমান দুই জাতির কথা বলা হয়েছে

হিন্দু ও মুসলমান আসলে একই ঈশ্বরের সন্তান। তাদের মধ্যে বাহ্যিক দিক থেকে জাতিগত প্রভেদ থাকলেও অন্তরের দিক থেকে কোনো ভেদাভেদ নেই। তাদের ধমনিতে বয়ে চলেছে একই লাল রক্ত।

 

উত্তর :-   হিন্দু এবং মুসলমান দুইজনেই সহোদর ভাই। এক বৃন্তে ফুটে থাকা দুটি ফুলের মতো এই দুই সহোদর ভাইও একই ভারতবর্ষের মাটিতে স্থান পেয়েছে। মুসলিমকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, হিন্দুও তাঁরই সৃষ্টি। তাই নিজেদের মধ্যে বিবাদ করতে পরম ঈশ্বরকেই অপমান করা হয়। সেই বিবাদের শাস্তিস্বরূপ আজকে তাদের হীনদশা। দেশে মড়ক লাগলে দুই জাতির মানুষই মারা যায়, আবার বন্যা হলেও দুই ভাইয়ের কুটিরই সমানভাবে জলে ভেসে যায়। হিন্দু-মুসলিম উভয়েরই মাঠের উপর সমান বৃষ্টি ঝরে, সব জাতির সকল মানুষের প্রতিই চাঁদ-সূর্যের আলো সমানভাবে পড়ে। উভয়ের প্রভেদ রয়েছে শুধু বাইরের জগতে, গায়ের রঙের পৃথকত্বে। তবে অন্তরে কোনোই ভেদাভেদ নেই।

 

উত্তর :-   প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মোরা দুই সহোদর ভাই’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ভারতমাতার দুই সন্তান – হিন্দু ও মুসলমান, বর্ণে বর্ণে অর্থাৎ ধর্মীয় আচার, রীতিনীতির ক্ষেত্রে তাদের ভেদাভেদ থাকলেও তাদের অন্তরে যে একই ভাবতরঙ্গ ধ্বনিত হয়, সেই প্রসঙ্গেই কবি উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করেছেন। কবি বলেছেন, একই পৃথিবীর সৃষ্টি হিন্দু ও মুসলমান, একই সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্মদাতা — তাকে কেউ বলেন ঈশ্বর আবার কেউ বলেন খোদা, একই দেশমাতার কোলে তারা লালিতপালিত হন, এক আকাশের নীচে তারা বসবাস করেন, চন্দ্র-সূর্যের আলো তাদের উপর সমানভাবে বর্ষিত হয়, তাদের উভয়ের জমিতেই সমান বৃষ্টিধারা ঝরে পড়ে। কবি বলেছেন, হিন্দু বা মুসলমানের মধ্যে যে তফাত তা তো ধর্মগত বা আচরণগত— মনের দিক থেকে তাদের কোনো তফাত নেই; কারণ তারা তো ‘দুই সহোদর ভাই’। একে অন্যের আনন্দে আনন্দ পায় এবং একজন আর-একজনের বেদনায় সমব্যথী হয়। দেশের বুকে যখন বিপদ ঘনিয়ে আসে, তাতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষই কষ্ট পায়, আবার সুখের ঝরনাধারায় স্নাত হয় উভয়েই। অর্থাৎ ধর্ম-জাতিগত বিভেদ শুধু বাইরের ভেদ, হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করলে আমরা বুঝতে পারি যে হিন্দু ও মুসলমানের ‘ভিতরে ভেদ নাই’। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।