অধ্যায়-২১, ধরাতল

উত্তর :- ‘ক্ষণকাল' শব্দের অর্থ হল সামান্য সময়। মহাবিশ্বের কালপ্রবাহ অনন্ত সীমার বাঁধনে কালকে আটকে রাখা যায় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের বেঁচে থাকার স্থায়িত্ব সামান্য সময়, মানব জীবনের স্বল্পকালীনতাকেই কবি ‘ক্ষণকাল’ বলে বুঝিয়েছেন।

 

উত্তর :- নদীতীরের গ্রামগুলির সুখ-দুঃখ কবির মুখের দিকে ‘চায়’।

তারা করুণ নয়নে কবির দিকে চেয়ে থাকে।

 

উত্তর :-  ‘উৎসুক’ শব্দের অর্থ হল অত্যধিক আগ্রহ।

কবি উৎসুক নয়নে মহাবিশ্বের সকল কিছুকে প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেন। মনের দৃষ্টিতে বিশ্ব সংসারের মানবের সুখ-দুঃখ, ভালোমন্দ, স্নেহ-প্রেম ‘চেয়ে চেয়ে দেখেন।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ধরাতল কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কল্পনার নৌকায় যাত্রী হয়ে ভেসে চলেছেন নদীবক্ষে, তখনই তাঁর মনে জীবন ও জগতের যে চিন্তাভাবনা মনে ভেসে উঠছে, সেই প্রসঙ্গেই কবি উক্তিটি করেছেন।

কবি জানেন যে ছোটো-বড়ো কোনো ভাব বা আবেগই ফেলনা নয়— সবারই কোনো-না-কোনো মূল্য আছে। একসময় যাকে তুচ্ছ বলে মনে হয়েছিল, আজ তাকেই দামি বলে মনে হয়েছে কবির। তাই স্মৃতির দর্পণে ভেসে উঠেছে ছোটো ছোটো নানা কথা। জীবনের অতি সামান্য ঘটনা, যা জীবনের চারপাশে ভিড় করে আছে— তাই কবিচেতনায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। জীবন সামনের দিকে এগিয়ে চলে আর সেই চলমানতার পথেই নানা সাধারণ কথা বা ঘটনা মনের ক্যানভাসে ধরা দেয়।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত উক্তিটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ধরাতল’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জগৎ ও জীবনের চলমানতা প্রসঙ্গে কবি উক্তিটি করেছেন।

ধরণী চলমান, ফলে ধরণীর বুকে অবস্থিত প্রতিটি জীব ও জড়বস্তুও চলমান— এটা যেমন ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে সত্য, তেমনই সত্য মানবজীবনের দিক থেকেও, আবার এটাও ঠিক যে মহাকালের প্রেক্ষাপটে মানবজীবনের স্থায়িত্ব নগণ্য, তাই এই নগণ্য সময়টুকুকেই সঠিকভাবে জীবনের কাজে লাগানোর তাগিদে সবাই ছুটে চলেছে। কবির চোখে দৃশ্যমান শ্যামল ধরণী, মানুষজন কারোরই দাঁড়ানোর অবসর নেই। সবাই চঞ্চল, সদাব্যস্ত—কর্মের পৃথিবীতে কর্মের তাগিদে সকলেই চলে যেতে চায় একস্থান থেকে অন্যস্থানে। একমুহূর্ত নষ্ট করতে চায় না কেউ– জগৎ ও জীবনের এই সত্যটিই প্রকাশিত হয়েছে প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতাংশে।

 

উত্তর :- কবি মনে মনে ভাবেন নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে কত প্রেম বর্তমান রয়েছে।

কবি জীবন ও জগৎকে দেখেছেন নিরাসক্ত দৃষ্টিতে । নদীতীরের গ্রামগুলি যে ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়। কবির মনে হয়েছে ছায়াময় সেই গ্রামীণ সংস্কৃতি। শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে অবস্থিত গ্রামগুলি এখনো পূর্ণ হয়ে আছে স্নেহ-ভালোবাসার সুনিবিড় বন্ধনে। মানুষে মানুষে হৃদয়ের স্নেহপাশে জড়িয়ে আছে সেখানে— তাই কবির মনে হয়েছে যে ছায়াময় গ্রামগুলিকে ঘিরে আছে মানবপ্রেম।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ধরাতল’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। নদীতীরে গ্রামগুলির মানুষের সুখ-দুঃখ স্নেহ-ভালোবাসার নিবিড়তার কথা প্রসঙ্গে কবি উক্তিটি করেছেন।

সুখ-দুঃখ কখনো অবিমিশ্র নয়, সুখের পরেই যেমন দেখা দিতে পারে দুঃখের অমানিশা, তেমনই দুঃখের পরেই আসতে পারে সুখের আলো। তাই কবির মনে হয়েছে সুখ-দুঃখ দুই ভাই-বোন— এরা দৃঢ় সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ, এরা কবির মুখের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে। কল্পনার চোখে কবি দেখছেন। গ্রামগুলির দিকে, তাই কবিরও মনে হচ্ছে শান্ত-স্নিগ্ধ ছায়াময় গ্রামের দুঃখ-সুখ যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। গ্রামের ছায়াময় পরিবেশের মতোই তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতিও শীতল-স্নিগ্ধ, তাই তাদের দৃষ্টিকেও করুণ বলে মনে করেছেন কবি।

 

উত্তর :- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ধরাতল’ কবিতার অংশ।

‘আমার পরান’ বলতে এখানে কবি অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা বলা হয়েছে।

মানবপ্রাণের সঙ্গে ধরা তথা বিশ্বপ্রাণের সংযোগ সাধনেরকথা কবি এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন। কবি কল্পনার তরণী বেয়ে শ্যামল ধরণীর ছায়াময় গ্রামগুলিকে অবলোকন করেছেন। কবি দেখেছেন নিতান্ত সহজসরল সাধারণ জনজীবনকে। এই জীবনে যেমন দুঃখ আছে তেমনি দুঃখের পর সুখের আনন্দও বর্তমান। ধুলোবালি ঘেরা এই পৃথিবীর প্রাণের সঙ্গে আপন প্রাণ সংযুক্ত করতে পারলেই একমাত্র সম্ভব চির আনন্দের চাবিকাঠি খুঁজে পাওয়ার; তাই কবি ‘ধরাতল’ কবিতায় বিশ্বপ্রাণের সঙ্গে সংযোগ সাধনের কথা বলেছেন।

 

উত্তর :- ‘ধরাতল’ কবিতায় কবি কাল্পনিক নৌকাযাত্রায় যে যে  দৃশ্য দেখেছেন, এমন দুটি ছবি হল—ধরণীর শ্যামলতার চলচ্ছবি এবং নদীতীরবর্তী মনুষ্যজীবনের সুখ-দুঃখ।

আমি এক দূরের ট্রেনযাত্রা করতে গিয়ে প্রথমে কিছু পথ দেখেছি দু-ধারে ধানখেতে কখনো শিল্প-কারখানা, কখনো বা নদী-সেতুর উপর দিয়ে আমাদের ট্রেন চলে যেতে। এভাবে অনেক পথ অতিক্রম করার পর দেখেছি চারদিকে শুধু পাহাড় আবার কখনো বা পাহাড়ের গুহার ভিতর দিয়ে আমাদের ট্রেন চলে যেতে।