অধ্যায়-২৪, ননীদা নট আউট

উত্তর :- সি সি এইচ-এর হয়ে প্রথম ওভারে বল করেন ননীদা। তিনি ওই ওভারে ১৪ রান দিয়েছিলেন।

 

উত্তর :- সি সি এইচ-এর হয়ে প্রথম ওভার বল করেন ননীদা, আর দ্বিতীয় ওভার বল করে থাকেন অতুল মুখুজ্জে। এর পর বলতে ননীদার পরের ওভারের কথা বক্তা বলতে চেয়েছেন। সেদিন ‘এরপর’ অর্থাৎ দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসেছিল বিষ্টু।

 

উত্তর :- সি সি এইচ-এর হয়ে দ্বিতীয় ওভার শুরু করতে তৈরি হয় বিষ্টু কিন্তু সে বল করতে দৌড় শুরু করে ক্রিজের কাছাকাছি  গিয়ে আবার পিছু হটতে শুরু করে। তারপর গোল হয়ে ঘুরতে থাকে। বিষ্ণুর এমন কাণ্ডর জন্যই সারা মাঠ অবাক হয়েছিল।

 

উত্তর :- উক্তিটির বক্তা হলেন রুপোলি সংঘের একজন ব্যাটসম্যান।

সি সি এইচ-এর হয়ে বল করতে এসেও বিষ্টু কিছুতেই বল ডেলিভারি না করে এখনো ঘুরছে, লাফাচ্ছে, বোলিং মার্কে যাচ্ছে, ডাইনে যাচ্ছে, বাঁয়ে যাচ্ছে— অর্থাৎ অদ্ভুত আচরণ করে চলেছে। বোলারের এমন অদ্ভুত আচরণের কথাই বক্তা বলতে চেয়েছেন।

 

উত্তর :- বিষ্টুর হাতে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য বলটি ছিল। কিন্তু তার বল করার কোনো লক্ষণ ছিল না সে কেবল বল হাতে পাগলের মতো ঘুরছে, পাক খাচ্ছে, ঘুরছে, আবার পাক খাচ্ছে, লাফাচ্ছে, বোলিং মার্কে ফিরে যাচ্ছে, ডাইনে যাচ্ছে, বাঁয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বল করছে না। বল তার হাতেই রয়েছে। তার এই কাণ্ড দেখে আমার পাগলামি বলেই মনে হয়েছিল।

 

উত্তর :- প্রশ্নোক্ত অংশটি মতি নন্দী রচিত ‘ননীদা নট আউট’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটি করেছেন গল্পকথক তথা লেখক।

* ২৫ বছর আগে রুপোলি সংঘের সঙ্গে সি সি এইচ ক্লাবের একটি ফ্রেন্ডলি ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সি সি এইচ-এর সকলে মাত্র ১৪ রানে আউট হয়ে যায়। পরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই রুপোলি সংঘ ১৪ রান তুলে নেয়। অর্থাৎ রান তখন সমান-সমান। ম্যাচ জিতে যাচ্ছে ধরে নিয়ে রুপোলি সংঘের সকলেই যখন উত্তেজিত, সেই অবস্থায় ননীদা অভাবনীয় এক কৌশল প্রয়োগ করে ম্যাচটি ড্র করে দেন। ওই কৌশল রুপোলি সংঘ কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি, সেই রাগের কারণেই পরবর্তী ১১ বছর তারা সি সি এইচ ক্লাবের সঙ্গে খেলেনি।

 

উত্তর :- রুপোলি সংঘের ক্যাপটেনের কথায় মোনাদা অপমানিত বোধ করেছিলেন।

রুপোলি সংঘের সঙ্গে ফ্রেন্ডলি ম্যাচের আগে ব্যাট করে সি সি এইচ ক্লাবের সবাই মাত্র ১৪ রানে আউট হয়ে যায়। রুপোলির ড্রেসিংরুম থেকে নানা ধরনের ঠাট্টা-বিদ্রুপ সি সি এইচ-এর দিকে ভেসে আসতে থাকে। এমন অবস্থায় রুপোলি সংঘের ক্যাপটেনবিদ্রুপ করে মোনাদাকে বলে তারা দ্বিতীয় ইনিংস খেলে জিততে চায় । এমন কথা শুনে সি সি এইচ-এর সদস্য ননীদা বলে ওঠেন ‘নিশ্চই আমরা খেলব। তবে ফার্স্ট ইনিংস আগে শেষ হোক তো।” তখন রুপোলির ক্যাপটেন ব্যঙ্গপূর্ণভাবে বলে ‘তাই নাকি?’ একেই ১৪ রানে ইনিংস শেষ হওয়ায় মোনাদা বিষন্ন, তার উপরে রুপোলির ক্যাপটেনের বিদ্রুপ তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই মোনাদা রুপোলির ক্যাপটেনের কথায় অপমানিত বোধ করছিলেন।

 

উত্তর :- প্রশ্নোক্ত অংশটি মতি নন্দীর ‘ননীদা নট আউট’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘তিনি’ হলেন সি সি এইচ ক্লাবের ক্রিকেটার ননীদা।

* রুপোলির ব্যাটসম্যান বিষ্ণুর বলে কোনো রান করতে না পারায় ননীদা চিৎকার করে বলেন যে, ম্যাচ ড্র। তখন রুপোলির ব্যাটসম্যান প্রতিবাদ করে বলে যে, বল ডেলিভারির মাঝে যদি খেলা শেষ করা না যায়, তবে ওভারের মাঝেও খেলা শেষ করা যাবে না। এই নিয়ে শুরু হয়েছিল তর্কাতর্কি। ননীদা অনুভব করলেন বিষ্টু যদি আরো ৫টা বল করে, তবে বাই, লেগবাই, ওয়াইড- যেভাবেই হোক রুপোলি একটা রান করেই ফেলবে – তাহলে ম্যাচ বাঁচানো যাবে না। সেই সময় আলোও যথেষ্ট কমে গিয়েছিল। ননীদার বুদ্ধি খেলে গেল— ম্যাচ বাঁচানোর একটাই রাস্তা আছে আলোর অভাবের আবেদন করা এমন চিন্তা করেই ননীদা প্রশ্নোক্ত আচরণ করেছিল।

 

উত্তর :- মতি নন্দী রচিত ‘ননীদা নট আউট’ নামক গল্পের মূল চরিত্র হল ননীদা। তিনি সি সি এইচ ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। আলোচ্য গল্পে তার চরিত্রের কিছু বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাই আমরা। যেমন—

» অসম্ভব বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন ননীদা। তার বুদ্ধি ও কৌশলেই হেরে যাওয়া একটি ম্যাচকে ড্র রাখতে পেরেছিল সি সি এইচ দল।

» চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো সাহস ছিল ননীদার। তাই রুপোলি সংঘের ক্যাপটেন মোনাদাকে যখন বলেন যে তারা দ্বিতীয় ইনিংস খেলে জিততে চান, তখন মোনাদা কিছু বলার আগেই ননীদা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং মনে মনে ঠিক করেন প্রথম ইনিংসের খেলাই তিনি শেষ করতে দেবেন না, শেষপর্যন্ত কথা রেখেছিলেন তিনি।

» দলের সকলেরই আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। তাই বিষ্টু কোনোদিন বল করেনি জেনেও ননীদা যখন তাকে বল করতে ডাকলেন, তখন সবাই অবাক হলেও ননীদার সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ করেননি। এ থেকে বোঝা যায় ননীদার সিদ্ধান্তে সকলেরই আস্থা ছিল।

» ক্রিকেটের আইনকে তিনি ভালোভাবে জানতেন, তাইতো বই খুলে আম্পায়ারকে দেখাতে পেরেছেন যে, বোলার বল করার জন্য কতটা দৌড়োবে সে সম্পর্কে কিছু বলা নেই। তা ছাড়া আলোর অভাবের আবেদন করলে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করে দিতে পারে— এ কথা তিনি জানতেন।

এভাবেই আলোচ্য গল্পে ননীদার চরিত্রের বুদ্ধি-কৌশল, সাহস, সকলের আস্থা অর্জনের ক্ষমতা, ক্রিকেটের আইনি ধারণা প্রভৃতি গুণের প্রকাশ ঘটেছে।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি মতি নন্দী রচিত ‘ননীদা নট আউট' নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। রুপোলি সংঘ ব্যাট করতে নামলে সি সি এইচ-এর হয়ে প্রথম ওভার বল করতে আসেন ননীদা— এখানে সেই ওভারের কথা বলা হয়েছে।

সি সি এইচ ক্লাব ব্যাট করে মাত্র ১৪ রানে সকলে আউট হয়ে যায়। এই অবস্থায় ব্যাট করতে নামে রুপোলি সংঘের ব্যাটসম্যানেরা। সি সি এইচ-এর ননীদা প্রথম ওভার বল করতে এসে প্রথম বলটি লেগ স্ট্যাম্পের এত বাইরে করলেন যে, আম্পায়ার ওয়াইড দিলেন। দ্বিতীয় বলে ননীদার মাথার দশ হাত উপর দিয়ে ছয়, আবার তৃতীয় বল পয়েন্ট দিয়ে চার। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আশ্চর্য রকমের ফিল্ডিং-এর কারণে কোনো রান তুলতে পারল না রুপোলি সংঘ। ওভারের শেষ বলে লেগবাই হল ৩ রান। বিষ্টু লঙ্ অন থেকে ডিপ ফাইন লেগে দক্ষতার দৌড়ে এসে বল ধরে নির্ঘাত বাউন্ডারি বাঁচিয়ে উইকেট কিপারের কাছে ছুঁড়ে দিয়েছিল। রুপোলির ব্যাটসম্যানরা তিন রান নিয়ে তখন হাঁফাচ্ছে। এভাবেই প্রথম ওভার শেষে রুপোলির রান দাঁড়াল ১৪। এভাবেই দুই দলের স্কোর সমান-সমান হয়েছিল।

 

উত্তর :-  এখানে সি সি এইচ ক্লাবের ক্রিকেটার বিষ্টুর কথা বলা হয়েছে। ননীদা বিষ্টুর হাতে বল তুলে দেন দ্বিতীয় ওভারে বল করার জন্য। বিষ্ণু গুনে গুনে ছাব্বিশ কদম গিয়ে মাটিতে বুটের ডগা দিয়ে বোলিং মার্ক কাটল। বল করার জন্য বিষ্টু এভাবে তৈরি হয়েছিল।

এরপর সে বল করার জন্য উইকেটের দিকে ছুটতে শুরু করল— এবারই ঘটল অদ্ভুত ঘটনাটি। বল করার জন্য বোলিং ক্রিজের কাছাকাছি গিয়ে বিষ্টু আবার পিছু হটতে থাকল। তারপর গোল হয়ে সে ঘুরতে শুরু করল। সে ঘুরছে, লাফাচ্ছে, পাক খাচ্ছে, কখনো বোলিং মার্কে ফিরে যাচ্ছে, কখনো ডাইনে যাচ্ছে, কখনো বাঁয়ে যাচ্ছে- বল তার হাতেই রয়েছে। সারা মাঠের সকলেই অবাক, কেবল ননীদার কোনো বিকার নেই। বল করার আগে পর্যন্ত বিষ্টু পাগলের মতো এমন কাণ্ডই করেছিল।