অধ্যায়-২৫, হ য ব র ল (সহায়ক পাঠ)

উত্তর :- বেড়ালের মতে তিব্বত খুব একটা বেশি দূরবর্তী স্থান নয়। কলকাতা, ডায়মন্ড হারবার, রানাঘাটের পরেই তিব্বত। তিব্বত যাওয়ার এই রাস্তা একেবারে সিধে। বড়োজোর সওয়া ঘণ্টার পথ। অনায়াসেই সেখানে যাওয়া যেতে পারে।

 

উত্তর :- রুমাল থেকে বদলে যাওয়া বেড়ালের উদ্দেশে উক্তিটি করেছেন গল্পকথক।

* বাতলে দেওয়া রাস্তার স্থানটি 'তিব্বত'।

তিব্বতে যাওয়ার রাস্তা যথার্থ বাতলে দিতে পারে গেছোদাদা।

 

উত্তর :- গেছোদাদার সঙ্গে দেখা করতে গেলে আগে হিসাব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় নেই। তারপর হিসাব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় আছে। তারপর দেখতে হবে যে, হিসাবমতো ওই স্থানে পৌঁছোনোর পর, তখন দাদা কোথায় থাকবে। অর্থাৎ বেড়ালের উত্তরটি যথেষ্ট গোলমেলে। 2

 

উত্তর :- উধো বুড়ো দেড় হাত লম্বা একজন মানুষ। তার পা | পর্যন্ত সবুজ দাড়ি, তার হাতে একটা হুঁকো। যদিও এই হুঁকোটিতে লকে-টলকে কিছু নেই। বুড়োর মাথাভরতি টাকও আছে। সেই টাকের উপর খড়ি দিয়ে কে যেন কীসব লিখেছে।

 

উত্তর :- বুড়োর কাছে আদ্দিকালের একটা ফিতে ছিল। সেটা দিয়েই সে কথকের ছাতি, গলা, খাড়াই, হাত, আস্তিনের মাপ নিয়েছিল। ফিতেতে নিয়মমাফিক অজস্র সংখ্যা পরপর থাকে। কিন্তু ওই ফিতের ২৬ ছাড়া সব সংখ্যাই উঠে গিয়েছিল। তাই বুড়ো যা কিছু মাপে, সবই শেষপর্যন্ত ২৬ ইঞ্চি হয়ে যায়।

 

উত্তর :- নিজের ওজনের এই মাপ অর্থাৎ ‘আড়াই সের’-এর কথা শুনে গল্পকথক বলেছিলেন তাঁর এমন ওজন কিছুতেই হওয়া সম্ভব নয়। কেন-না তার চেয়ে দেড় বছরের ছোটো পটলার ওজনই একুশ সের।

 

উত্তর :- উধো বুড়ো তার বয়স বেড়ে চল্লিশ হলেই বয়স ঘুরিয়ে দেয়। বয়স তখন উনচল্লিশ, আটত্রিশ, সাঁইত্রিশ করে নীচের দিকে নামতে থাকে এভাবে দশ পর্যন্ত বয়স নেমে গেল, বয়সকে আবার উপরের দিকে বাড়াতে দেয়।

 

উত্তর :- বুড়ো উধো কাকের কাছে হিসাব চেয়েছিল। কাক তাকে স্লেটে লেখা হিসাব দেখাতে গিয়ে গাছের উপর থেকে স্লেটখানা বুড়োর মাথার বিস্তৃত টাকের উপর ঠকাস করে ফেলে দেয়। তখনই টাকে হাত বোলাতে বোলাতে এই কথাগুলি বলে বুড়ো কাঁদতে থাকে।

 

উত্তর :-  উদ্ধৃত উক্তিটি ছাগল শ্রীব্যাকরণ শিং খাদ্যবিশারদের।

* শ্রীব্যাকরণ শিং একটি বক্তৃতা দিয়েছিল, যার বিষয়—'ছাগলে কি না খায়।' বক্তৃতার শুরুতেই এই উক্তিটি করেছিল।

 

উত্তর :-  আলোচ্য উক্তিটি শ্রীব্যাকরণ শিং-এর।

* ব্যাকরণ শিং সত্যিই টিকটিকি খায় না। তবে সে অনেকরকম টিকটিকি চেটে দেখেছে এবং বুঝেছে ওতে খাবার মতো কিছু নেই।

 

উত্তর :-  সুকুমার রায়ের 'হ য ব র ল' গল্পের কথক হলেন প্রশ্নোত্ত উক্তিটির বক্তা।

* কোনো একটি গরমের দিনে কথক গাছতলার ছায়ায় শুয়ে ছিলেন, তার রুমালটি রেখেছিলেন ঘাসের উপরে। গরমে অস্থির হয়ে ঘাসের উপর থেকে রুমালটি নিতে গিয়ে শুনতে পেলেন রমালটি ‘ম্যাও’ বলে ডাকছে। তিনি ভাবলেন রুমাল কেন ‘ম্যাও’ বলে! বিস্ময়ের সঙ্গে সেদিকে তাকিয়ে দেখেন যে সেখানে কোনো রুমাল নেই। দিব্যি মোটাসোটা লাল টকটকে একটা বিড়াল গোঁফ ফুলিয়ে প্যাটপ্যাট করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অবাক হয়ে কথকের মুখ দিয়ে ‘কী মুশকিল’ উচ্চারিত হলে বিড়াল বলে এতে মুশকিলের কিছুই নেই কিন্তু কথক ভাবলেন বিড়াল তো আসলে বিড়াল ছিল না— ছিল একটি রুমাল, এখন রুমাল হয়েছে বিড়াল। তাই সে (কথক) সংশয় প্রকাশ করেছে বিড়ালকে ডাকা নিয়ে।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বক্তা হল ‘হযবরল' গ্রন্থের বিড়ালটি। গেছোদাদার সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রসঙ্গে সে কথককে উদ্দেশ করে উক্তিটি করেছে।

** কথক জানতে চেয়েছিল যে, গেছোদাদার সঙ্গে কীভাবে দেখা করা যায়। তখন বিড়াল তাকে বলে যে সেটি খুব কঠিন কাজ। কারণ— যদি গেছোদাদার সঙ্গে উলুবেড়েতে দেখা করতে যাওয়া হয়, তখন দাদা হয়তো থাকবেন মতিহারিতে। যদি মতিহারিতে দেখা করতে যাওয়া হয়, তখন দাদা হয়তো রামকিষ্টপুরে আছেন। আবার সেখানে গেলে শোনা যাবে। গেছোদাদা আছেন কাশিমবাজারে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যায় দাদা অতি ব্যস্ত মানুষ(প্রাণী), কখন, কোথায় থাকে তিনি তার নিশ্চয়তা নেই। তাই কথককে বিড়াল প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

 

উত্তর :-  বক্তা হলেন সুকুমার রায় রচিত হ য ব র ল'গ্রন্থের কথক।

* কোনো এক গরমের দিনে কথক গাছের নীচে একটি পাথরে বসেছিলেন। তখন কাকেশ্বর কুচকুচে নামক একটি দাঁড়কাক সাত দু-গুণে কত হয় জিজ্ঞাসা করে। কথক সাধারণভাবেই উত্তর দেন যে সাত-দুগুণে চৌদ্দ হয়। কাকেশ্বর কুচকুচে জানায় যে, কথকের উত্তর ভুল হয়েছে। কাকের একথায় কথক অবাক হয়ে যান এবং সঠিক জবাবকে ভুল বলার কারণেই কাকেশ্বরের উপর ভীষণ রাগ হয়েছে কথকের।

 

উত্তর :-  আপত্তি করেছিলেন গল্পকথক।

উধো বুড়ো কথককে দেখেই হুঁকোটাকে দূরবিনের মতো চোখের সামনে ধরে অনেকক্ষণ কথকের দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর পকেট থেকে কয়েকটি রঙিন কাঁচ বের করে তা দিয়ে কথককে বারবার দেখতে থাকে। এরপর কোথা থেকে একটা পুরোনো দরজির ফিতে এনে সে কথকের দেহের নানা স্থানের (খাড়াই, হাত, আস্তিন, ছাতি, গলা ইত্যাদি) মাপ নিতে থাকে। আশ্চর্য এই যে, সব স্থানের মাপই ২৬ ইঞ্চি দেখা যায়। এই অবাস্তব ও অদ্ভুত মাপ সম্পর্কেই কথক আপত্তি করেছিলেন। কারণ সব স্থানের পরিমাপ একই রকম কখনোই হতে পারে না।

 

উত্তর :-  সুকুমার রায় রচিত 'হযবরল’ গল্পের কথকের হাসি পেল।

*  বয়স কমা-বাড়া প্রসঙ্গে উধো বুড়োর কথা শুনে কথকের হাসি পেয়েছিল। উধো বুড়ো মনে করে তার বয়স যদি ষাট, সত্তর, আশি পার হয়ে যায় তবে তো সে মরে যাবে। তাই ৪০ বছর বয়স হলেই সে বয়সকে উলটোমুখে ঘুরিয়ে দেয়। ৪০-এর পরে ৪১ না হয়ে ৩৯, ৩৮, ৩৭ – এমন হতে হতে যখন ১০ বছরে নামে, তখন আবার বয়স বাড়তে দেওয়া হয়। এভাবে বয়স ওঠা-নামা করতে করতে এখন বুড়োর বয়স হয়েছে ১৩ বছর। বয়স সম্পর্কে এই অদ্ভুত হিসাব শুনে কথক হেসেছিলেন।

 

উত্তর :- বাংলা সাহিত্যে সুকুমার রায়ের পরিচিতি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। ননসেন্স হাস্যরসের উপাদান তাঁর গল্পে সবসময়ই মজুত থাকে। হ য ব র ল’ গল্পটিও তার ব্যতিক্রম নয়। পুরো গল্পটিই | গল্পকথকের স্বপ্নদৃশ্য, যেখানে প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলে উদ্ভট, অবাস্তব ঘটনা।

গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, গল্পকথকের রুমাল বিড়ালে পরিণত হওয়ার ঘটনা। সেই বিড়ালের থেকে জানা যায় গেছোদাদার পরিচয়, তাকে খুঁজে পাওয়াটাই সব থেকে সমস্যা। এরপর গল্পকথকের স্বপ্নে দেখা দেয় কাক্কেশ্বর, যার কাছে সময় অতি মূল্যবান। সেই সূত্রেই আসে উধো-বুধোর কীর্তিকলাপ। উধোর বয়সকে বাড়তে না দিয়ে তাকে কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা সত্যিই হাস্যরসের সৃষ্টি করে। হিজি বিজ্ বিজ্ তার কাল্পনিক চিন্তাধারার মাধ্যমে নিজে নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রামছাগল বর্ণনা দিয়েছে সে কী কী জিনিসকে খাদ্য বলে মনে করে এবং কী কী জিনিসকে তার কাছে অখাদ্য। এরপর ন্যাড়ার গানই মূল জটিলতা সৃষ্টি করে। তার গানের জেরে শুরু হয় মামলা-মোকদ্দমা। মানহানির মোকদ্দমায় বিচারক, সাক্ষী সবাই তাদের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে হাসির তুফান ছোটায়। শেষ অবধি বিচারের ফলাফল বেরোয় এবং ন্যাড়ার তাতে তিনমাসের জেল ও সাতদিনের ফাঁসি হয়। এই ফলাফলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই কথকের স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। এইভাবেই ব্যাকরণ পড়তে গিয়ে গল্পকথক ঘুমিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে চলে যায় এবং এইসব উদ্ভট বিষয়গুলি স্বপ্নে দেখতে থাকে।

 

উত্তর :-  সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক এবং ভারতীয় সাহিত্যে ননসেন্স রাইমের প্রবর্তক। তাঁর রচনায় হাস্যরসের বিচিত্র উপাদান ভরপুর থাকে, যা শিশুমনে সৃষ্টি করে অনাবিল আনন্দ। আলোচ্য গল্পটিতেও সেই একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

গল্পের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রতিটি স্তরেই হাসির খোরাক মজুত করা রয়েছে। গল্পটি আসলে গল্পকথকের স্বপ্নদৃশ্যের বর্ণনা; যাত্রা শুরু হয় রুমালের বেড়ালে পরিণত হওয়ার ঘটনা দিয়ে। বেড়ালের মুখেই শোনা যায় গেছোদাদার কথা, যার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। কাক্কেশ্বরের সাত দু-গুণে চোদ্দো হওয়ার হিসাবটিও ভারী মজার। সময় না হওয়া পর্যন্ত পুরো চোদ্দো হওয়ার জো নেই। উধো বুড়ো যার দাড়ি হল সবুজ রঙের আর বয়স হল মাত্র তেরো। কারণ সে তার বয়স কখনোই চল্লিশের উপরে উঠতে দেয় না। চল্লিশে পৌঁছোলেই সে বয়স ঘুরিয়ে দেয়। হিজি বিজ্ বিজ্ এমনই এক প্রাণী সে মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত তা বোঝাই দায়। তার কাজই হল অস্বাভাবিক জিনিস চিন্তা করে হেসে গড়িয়ে পড়া। এমন সব অদ্ভুত জিনিস সে কল্পনা করে যা বাস্তবে সত্যিই ঘটা অসম্ভব। ন্যাড়া চরিত্রটি যাবতীয় হাস্যরস সৃষ্টি করে তার গানে আজব আজব কথা ব্যবহারের মাধ্যমে। এই গানই মামলা-মোকদ্দমার কারণ হয়, যে মোকদ্দমায় বিচারও হয় হাসির তুফান ছুটিয়ে। পুরো অর্থহীন এই বিচারের প্রক্রিয়ায় ন্যাড়াকে সাজাও দেওয়া হয়। যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গল্পকথকের স্বপ্ন ভেঙেচুরে যায়। শেষ হয় হাসির দমক।

 

উত্তর :-  প্রশ্নোক্ত অংশটি সুকুমার রায় রচিত ‘হ য ব র ল’ নামক গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বক্তা হল উধো বুড়ো।

* উধো কথাগুলি বলেছে গল্পকথককে উদ্দেশ করে।

* উধো একটি মজার গল্প বানিয়ে বলে সে ঠ্যাং ঝুলিয়ে কথকের পাশে বসে, হুঁকো দিয়ে টেকো মাথা চুলকোতে চুলকোতে চোখ বুজে কিছু ভাবতে লাগল। তারপর হঠাৎ করে গল্প বলতে থাকল— বড়ো মন্ত্রী তারপর রাজকন্যার গুলিসুতো খেয়ে ফেলেছে, কেউ কিছুই জানে না। এমন সময় ঘুমোতে ঘুমোতে রাক্ষসটা হাঁউ-মাঁউ-কাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ বলে হুড়মুড় করে খাট থেকে পড়ে গেল। অমনি ঢাক-ঢোল-সানাই-কাঁসি লোকলশকর সেপাই পল্টন হইহই রইরই মার-মার কাট-কাট চলছে। এমন সময় হঠাৎ রাজা বলে ওঠেন— পক্ষীরাজ হলে তার ন্যাজ কেন নেই? রাজার কথা শুনে পাত্রমিত্র, ডাক্তার-মোক্তার, আক্কেল মক্কেল সবাই বলতে থাকে— ন্যাজ কী হল? এর জবাব দিতে না পেরে সবাই সুড়সুড় করে পালাতে লাগল। এই গল্প উধো বুড়ো কথককে বলেছেন।

 

উত্তর :-  সে হল সুকুমার রায় রচিত ‘হ য ব র ল’ গল্পের একটি চরিত্র— মস্ত দাড়িওয়ালা ছাগল, যার নাম ব্যাকরণ শিং।

* ছাগলটি উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ করে তার বক্তব্য বলে যেতে থাকে। প্রথমে সে তার গলায় ঝুলোনো সার্টিফিকেটের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে তার নাম ব্যাকরণ শিং এবং কেন তার এরূপ নাম তাও বলে। সে বলে B.A.-এর অর্থ হল ‘ব্যা’, সে একজন খাদ্যবিশারদ কারণ নানা শ্রেণির খাদ্য সে চেটে দেখেছে। সে বলে রামছাগলরা টিকটিকি খায় না কারণ তাতে খাবার মতো কিছুই সে পায়নি। মানুষ অনেক সময় বলে ‘ছাগলে কি না খায়'—এই মত সে মানে না। সে জানায় ছাগল খাবারের ঠোঙা, নারকেলের ছোবড়া, সন্দেশের মতো ভালো মাসিক পত্রিকাও খায়; তাই বলে সব কিছু তারা খায় না। যেমন, চেয়ার-টেবিল, খাটপালঙ্ক তারা খায় না। পেনসিল, রবারের ছিপি, শুকনো জুতো তারা অনেক সময় খায়— তাই বলে শিশি-বোতল তারা কখনো খায় না। কোনো কোনো ছাগল অবশ্য সাবান খেতে ভালোবাসে, তবে তা নেহাত ছোটোখাটো সাবান। এই প্রসঙ্গে সে বলে তার ভাই ‘বার সোপ’ খেয়ে ফেলেছিল, তাতেই তার মৃত্যু হয়– এই বলে সে কেঁদে ফেলে। ছাগলটি তার বক্তৃতায় এসব কথাই বলেছিল।