জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। 2
জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে দুটি পার্থক্য হল -1. জাতি হল একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ যারা একটি রাষ্ট্র গঠন করে, অপরদিকে রাষ্ট্র হল একটি ভূখণ্ডে বসবাসকারী সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন জনসমষ্টি। 2. জাতি গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হল ঐক্য ও মানসিক অনুভূতি আর রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হল আইনের নির্দেশনামা।
জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ? কোন্ সময়কালে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? 2
যে আদর্শের দ্বারা কোনো দেশের মানুষ বা জাতি স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করে, স্বদেশের গৌরব বা অগৌরবকে কেন্দ্র করে তাদের মন আবেগে আপ্লুত হয়, এমনকি তারা স্বদেশের মঙ্গলের জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকে তাকে জাতীয়তাবাদ বলে। ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ।
জাতি-রাষ্ট্র' বলতে কী বোঝ ? 2
যখন কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী ভাষা, ধর্ম ও অন্যান্য সাধারণ কিছু ঐক্যের বিষয়ে গড়ে ওঠা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তখন তাকে জাতি-রাষ্ট্র বলে।
মেটারনিখ কে ছিলেন ? 2
মেটারনিখ ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী (১৮০৯-১৮৪৮ খ্রি.) ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮২৫ খ্রি.) সভাপতি। তিনি ছিলেন রাজতন্ত্র, 'অভিজাততন্ত্র ও সাম্নত তন্ত্রের গোঁড়া সমর্থক ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতি মূলত তাঁরই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
ভিয়েনা সমেম্লনের প্রধান ব্যক্তিত্ব কারা ছিলেন। 2
ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন-1. অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিখ, 2. রুশ জার প্রথম আলেকজান্ডার, 3. ব্রিটিশ পররাস্থমন্ত্রি ক্যাসলরি এবং ও ফ্রান্সের প্রতিনিধি তালির। মেটারনিখ ছিলেন ভিয়েনা সম্মেলনের সভাপতি ।
ভিয়েনা সম্মেলনের দুটি উদ্দেশ্য কী ছিল? 2
ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল- 1. ইউরোপের রাজনৈতিক কাঠামোর পুনর্গঠন 2. নেপোলিয়ন কর্তৃক বিতাড়িত রাজবংশগুলির পুনঃপ্রতিষ্ঠা 3. ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা দূর করা, 4. নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা, 5. ইউরোপে শক্তিসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।
ভিয়েনা সম্মেলনের মূল তিনটি নীতি কী? 2
ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান নীতি ছিল তিনটি। - (1) ন্যায্য অধিকার নীতি (2) ক্ষতিপূরণ নীতি এবং (3)শক্তি সাম্য নীতি ।
ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতির দ্বারা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ? 2
ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতির যারা ফরাসি বিপ্লবের আগেকার বিভিন্ন রাজা বা রাজবংশের নিজ নিজ দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। এই নীতির দ্বা্রা 1. ফ্রান্সের সিংহাসনে বুরবোঁ বংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফ্রান্সকে প্রাক বিপ্লবী যুগের রাজ্যসীমা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। 2. বুরবো বংশের অপর শাখা স্পেন, সিসিলি ও নেপলসের সিংহাসন ফি্রে পায় । 3. হল্যান্ডে অরেঞ্জ বংশ ক্ষমতা লাভ করে।5. স্যাভয় , জেনোয়া পিডমন্ট ওসাডিনিয়ার স্যাভয় বংশ ক্ষমতা লাভ করে। 5. উত্ত র ইতালিতে পোপের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। 6জা র্মানিতে অস্ট্রিয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভিয়েনা সম্মেলনের ক্ষতিপূরণ নীতির দ্বারা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। 2
নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেসব দেশ ক্ষতি হয়েছিল সম্মেলনের ক্ষতিপূরণ নীতির দ্বারা সেসব দেশের ভৌমিক ও আধিক ক্ষতিপূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই নীতির দ্বারা - (1) অস্ট্রিয়া উত্তর ইতালি লম্বারডি ও ভিনিসা , পোল্যান্ডের কিছু অংশ্ টাইরল ও ইলিরিয়া প্রদেশ লাভ করে। অস্ট্রিয়ার হ্যাপ সবারগ বংশ মধ্য ইটালির পা্মা, মডেনা টাস্কানির ক্ষমতা লাভ করে। অস্ট্রিয়া নবগঠিত জার্মান রাস্থ -সমবায়ের দায়িত্ব লাভ করে। 2. প্রাশিয়া লাভ করে স্যাক্সনির উত্তরাংশ, পোজেন , থর্ন, ডানজিল, রাইন অঞ্ছল পশ্চিম পারেনি ) রাশিয়া লাভ করে ফিনল্যান্ড,তুরস্কের বেসারেবিয়া বিয়া ও পোল্যান্ডের বৃহদংশ। 4. ইংল্যান্ডে ভূমধ্যসাগরের মাল্টা ও আয়ানীয় দ্বীপপুঞ্জ, হেলিগোল্যান্ড, কেপ ত্রিনিদাদ, মরিশাস ও সিংহল লাভ করে।
ভিয়েনা সম্মেলনের শক্তিসাম্য নীতির দ্বারা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ? 2
ফ্রান্স ভবিষ্যতে যাতে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে সেজন্য ভিয়েনা সম্মেলনে শক্তিসাম্য নিতি গ্রহন করা হয়।এই নীতির দ্বারা-১/ ফ্রান্সকে বিপ্লবের পূর্ববর্তী সীমানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২/ ফ্রান্সের সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়ে সেখানে মিত্রপখের সেনা মোতায়েন করা হয়। ৩/ ফ্রান্সের কাছ থেকে ৭০ কোটি ফ্রাঙ্ক ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। ৪/ চতুদিকে বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্র দিয়ে ফ্রান্সকে ঘিরে ফেলা হয়।
ভিয়েনা সম্মেলনের শক্তিসাম্য নীতির দ্বারা ফ্রান্সের চতুর্দিকে কোন্ কোন্ রাষ্ট্রের দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়। 2
ভিয়েনা সম্মেলনের শক্তিসাম্য নীতির দ্বারা ফ্রান্সের- 1. উত্তর-পূর্ব সীমান্তে লাক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামকে হল্যান্ডের সঙ্গে, 2. পূর্ব সীমান্তে রাইন জেলাগুলিকে প্রাশিয়ার সঙ্গে, 3. দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কয়েকটি জেলাকে সুইটজারল্যান্ডের সঙ্গে, 4. দক্ষিণ সীমান্তে স্যাভয় ও জেনোয়াকে পিডমন্টের সঙ্গে জুড়ে ফ্রান্সকে শক্তিশালী রাষ্ট্র দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।
ভিয়েনা সম্মেলনের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করে।। অথবা, ভিয়েনা সম্মেলনের সপক্ষে দুটি যুক্তি দাও। 2
ভিয়েনা সম্মেলনের দুটি প্রধান গুরুত্ব ছিল।1. এই ব্যবস্থা ইউট্রেক্টের সন্ধি (১৭১৩ খ্রি.) বা ভাসাই সন্ধি (১৯১৯ খ্রি.)-র তুলনায় নমনীয় ছিল। 2. এই ব্যবস্থা ইউরোপে অন্তত ৪০ বছরের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।
'মেটারনিখ ব্যবস্থা' কী? 2
অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিখ বিপ্লব প্রসূত আধুনিক ভাবধারাগুলি ধ্বংস করে ইউরোপে প্রাক্-বিপ্লবী যুগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তীব্র দমনমূলক নীতি গ্রহণ করেন। এই নীতি সাধারণভাবে মেটার নিখ ব্যবস্থা বা মেটারনিখতন্ত্র নামে পরিচিত।
মেটারনিখের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রধান নীতিগুলি কী ছিল? 2
মেটারনিখের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রধান নীতিগুলি ছিল - (1) ইউরোপে ফরাসি বিপ্লবের আগেকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, (2) বিপ্লব-প্রসূত উদারতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ প্রভৃতি আধুনিক ভাবধারাকে স্তব্ধ করা এবং (3) ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা ।
জার্মানিতে মেটারনিখের দমননীতির দুটি উদাহরণ দাও। 2
মেটারনিখ 'কার্লসবাড ডিক্রি' (১৮১৯ খ্রি.) জারি করে - 1) জার্মানিে রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করেন, 2) উদারপন্থী অধ্যাপকদের বিতাড়িত করেন।
. ইউরোপীয় শক্তি সমবায় কী? " 2
ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫ খ্রি.) পরবর্তীকালে- 1. ইউরোপে শান্তি বজায় রাখা, 2. ভিয়েনা সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলিকে কার্যকর করা, 3. ফ্রান্সের শক্তিবৃদ্ধি রোধ করা প্রভৃতি উদ্দেশ্যে ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এটি ‘ইউরোপীয় শক্তি সমবায় নামে পরিচিত।
ইউরোপীয় শক্তি সমবায়ের উদ্দেশ্য কী ছিল ? 2
ইউরোপীয় শক্তি সমবায়ের উদ্দেশ্য ছিল—1.ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব দূর করা, 2. ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, 3. ভিয়েনা সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত করা, 4. শক্তি সমবায়ের সদস্য-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
শক্তি সমবায়ের মোট কটি অধিবেশন বসে ও কী কী ? 2
শক্তি সমবায়ের মোট ৫টি অধিবেশন বসে । যথা – 1/ আই-লা-সাপেল এর অধিবেশন (১৮১৮ খ্রি.), 2/ ট্রপোর অধিবেশন (১৮২০ খ্রি.),
3/ লাই বাখ-এর অধিবেশন (১৮২১ খ্রি.) 4/ ভেরোনার অধিবেশন। (১৮২২ খ্রি.) এবং 5/ সেন্ট পিটার্সবার্গ-এর অধিবেশন (১৮২৫ খ্রি.)।
ট্রপোর ঘোষণাপত্র ( ১৮২০ খ্রি.) অনুসারে কোন্ কোন্ পদক্ষেপ নেওয়া হয়? 2
ট্রপোর ঘোষণাপত্র অনুসারে শক্তি সমবায় -1. ইটালির নেপল্স সিসিলির বিদ্রোহ দমন করে। 2. স্পেনের উদারনৈতিক আন্দোলন দমন করে। 3. জুলাই বিপ্লবের (১৮৩০ খ্রি.) সময় ইটালির পার্মা, মডেনা ও পোপের রাজ্যের বিদ্রোহ দমন করে।
মেটারনিখতন্ত্রের বিপক্ষে দুটি যুক্তি দাও । 2
মেটারনিখতন্ত্রের বিপক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি হল - 1. মেটারনিখতন্ত্র ছিল সংকীর্ণ ও প্রগতি বিরোধী ভাবধারা। 2. মেটারনিখতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি।
. মেটারনিখের/ মেটারনিখতন্ত্রের ব্যর্থতার দুটি কারণ উল্লেখ করো। 2
মেটারনিখের / মেটারনিখতন্ত্রের ব্যর্থতার দুটি প্রধান কারণ হল - (1) মেটারনিখের আমলে পুরাতনতন্ত্র অচল হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা জোর করে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। (2 )মেটারনিখযুগ ধর্মকে অস্বীকার করে উদারতন্ত্র, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করে।
অস্ট্রিয়ায় মেটারনিখের দমননীতির দুটি উদাহরণ দাও ।2
অস্ট্রিয়ায় মেটারনিখ- 1. বিশ্ববিদ্যালয়ের উদারপন্থী ছাত্র ও শিক্ষকদের কারারুদ্ধ করেন, 2. ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের পঠনপাঠন নিষিদ্ধ করেন।
মেটারনিখতন্ত্রের সপক্ষে দুটি যুক্তি দাও। 2
মেটারনিখতন্ত্রের সপক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি হল- 1/ মেটারনিখতন্ত্র বিপ্লব- বিধবস্ত ইউরোপে অন্তত চল্লিশ বছরের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।2/ নিজ রাষ্ট্র অস্ট্রিয়ার ঐক্য ও সংহতি রক্ষার জন্য মেটারনিখের রক্ষণশীল নীতির বিশেষ প্রয়োজন ছিল।
ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব লেখো। 2
বিভিন্ন ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও ভিয়েনা সম্মেলনের বেশকিছু গুরুত্ব ছিল, যেমন - 1. ডেভিড টসমন বলেছেন যে ভিয়েনা সম্মেলন ইউরোপে অন্তত চল্লিশ বছরের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এর ফলে ইউরোপে শিল্প সাহিত্য-বিজ্ঞানে অগ্রগতি ঘটে। 2. এই সম্মেলন আন্তর্জাতিকতাবাদের সূচনা করে। 3. এর ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় ।
মেটারনিখ যুগ বলতে কি বোঝ? 2
১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ। এই সময়কালে ইউরোপের অধিকাংশ শাসক মেটারনিখের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ নিজ শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এই সময়কাল 'মেটারনিখের যুগ' নামে পরিচিত।
কোন্ সময়কালকে ইউরোপের ইতিহাসে 'মেটারনিখ যুগ' বলা হয় এবং কেন ? 2
- ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ইউরোপের ইতিহাসে 'মেটারনিখ যুগ' বলা হয়। 2. ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ ছিলেন ইউরোপের প্রধান ভাগ্যনিয়ন্তা। এই সময় ইউরোপের অধিকাংশ শাসক মেটারনিখের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ নিজ শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এজন্য এই সময়কালকে 'মেটারনিখের যুগ' বলা হয়।
মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কী ছিল ? 2
মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল লক্ষ ছিল -1/ ইউরোপে গণতন্ত্র , জাতীয়তাবাদ ও উদারবাদের অগ্রগতি রোধ করা, 2/ বৈপ্লবিক ভাবধারা আক্রমন থেকে নিজ রাষ্ট্র অস্ট্রিয়াকে রক্ষা করা।
, কার্লসবাড ডিক্রিতে কী বলা হয়েছিল? 2
মেটারনিখ কেন 'কার্লসবাড ডিক্রি জারি করেন? 2
মেটারনিযখ জার্মানির উদারপন্থী ছাত্র ও শিক্ষকদের দমন, রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধকরণ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ইউরোপে তথা নিজ রাষ্ট্রে পুরাতনতন্ত্র বজায় রাখতে 'কার্লসবাড ডিক্রি' জারি করেন।
ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ধারণার বিকাশের পরিচয় দাও । 4
ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯ মি.) আগে ইউরোপের মানুষ রাজতন্ত্রের প্রতি সীমাহীন আনুগত্য প্রকাশ করত। বিভিন্ন জাতিকে পদানত করে সাম্রাজ্যের প্রসার ঘটানোই ছিল সে যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ধারণার বিকাশ ;
বিপ্লবের পরবর্তীকালে ইউরোপে পরিস্থিতি পালটে যায় এবং রাজতন্ত্র বিরোধী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। 1। ফ্রান্সে জাতীয়তাবাদ: ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী রাজা ও রাজতন্ত্রের পরিবর্তে দেশ ও জাতির প্রতি আনুগত্য জানাতে শুরু করে। এভাবে তাদের মনে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের জন্ম হয়। ফ্রান্সের 'জাতীয় সভা' ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে 'পিতৃভূমি বিপন্ন' বলে ঘোষণা করলে ফরাসিদের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবোধের প্রসার ঘটে। দেশে একই ধরনের আইনকানুন চালু হলে দেশবাসীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ আরও তীব্র হয়।
2। ফ্রান্সের বাইরে জাতীয়তাবাদ: ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তাঁর সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা বিপ্লবের ভাবধারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেন। ফলে ফরাসি জাতির জাতীয়তাবাদী চেতনা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রসারিত হয়। এর ফলে ফ্রান্সের বাইরে ইটালি, জার্মানি, পোল্যান্ড, পোর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, বেলজিয়াম, বলকান প্রভৃতি অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয় ।
3। নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ: ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তীকালে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে ইউরোপের বিভিন্ন জাতিকে পদানত করে ফরাসি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু তাঁর রাজত্বের শেষদিকে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে স্পেন, পোর্তুগাল, জার্মানি প্রভৃতি দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
*উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ইউরোপে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাতের পরিচয় দাও। 4
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ইউরোপে একদিকে বংশানুক্রমিক স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র তাদের নিজ নিজ স্বৈরাতান্ত্রিক শাসন, অভিজাততন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, দৈব অধিকার প্রভৃতি বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে আধুনিক জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রসার ঘটতে থাকে।
রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত ;
ইউরোপের প্রাচীন বংশানুক্রমিক স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রগুলি নবজাত জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ধ্বংস করার সক্রিয় চেষ্টা চালায়। ফলে উভয় শক্তির মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়।
(১) রাজতন্ত্রের শক্তি প্রদর্শন: ফরাসি বিপ্লব রাজ্যকে আঘাত করার পরও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজত্য নিজ শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালায়।
(২) ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯ খ্রি.) মাধ্যমে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটলেও নেপোলিয়ন ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে 'সম্রাট' উপাধি গ্রহণ করে রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
(৩) ভিয়েনা বন্দোবস্ত ; ভিয়েনা বন্দোবস্তের (১৮১৫ খ্রি.) ন্যায্য অধিকার নীতির দ্বারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ধ্বংস করে স্বৈরাচারী রাজবংশগুলিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়।
(৪) অভিজাতদের তৎপরতা বৃদ্ধি: ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্স তা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বহু অভিজাত দেশত্যাগ করলেও বিপ্লবের আগুন নিভে যাওয়ার পর তারা দেশে ফিরে আসতে থাকেন এবং রাজতন্ত্রের সহায়তায় হৃত ক্ষমতা ফিরে পেতে তৎপর হয়ে ওঠেন।
*ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫ খ্রি.)পট ভূমি কি ছিল ? 4
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন লাইপজিগের যুদ্ধে (১৮১৩ খ্রি.) চতুর্থ শক্তিজোটের কাছে পরাজিত হয়ে ভূমধ্যসাগরের এলনা দ্বীপে নির্বাসিত (১৮১৪ খ্রি.) হন। এরপর বিজয়ী শক্তিবর্গ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিলিত হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
ভিরেনা সম্মেলনের পটভূমি/ প্রেক্ষাপট ;
১/ জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা: নেপোলিয়ন-বিজয়ী ইউরোপীয় রাজতান্ত্রিক শক্তিগুলি নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা শুরু করে। তারা জাতীয়তাবাদের অগ্রগতি রোধ করে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রয়াস চালায়।
২/ ভূখণ্ডের পুনরুদ্ধার: ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তীব্র সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে ইউরোপের বিভিন্ন ভূখণ্ড দখল করে ফরাসি সাম্রাজ্যের সীমা বহুদূর বিস্তৃত করেন। তাঁর পতনের (১৮১৪ খ্রি.) পর সেসব বিজিত স্থান পুনর্দখল করে তা ন্যায্য প্রাপকদের ফিরিয়ে দিয়ে বিজয়ী শক্তিবর্গ নতুন করে ইউরোপের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
৩/ ন্যায্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠা: নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন বৈধ শাসককে সিংহাসনচ্যুত করেছিলেন। এখন নেপোলিয়ন-বিজয়ী শক্তিবর্গ সেসব দেশের সিংহাসনে ন্যায্য রাজবংশগুলিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা উদ্যোগ নেয়।
ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫ খ্রি.) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো। 4
নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপে নির্বাসিত (১৮১৪ খ্রি.) হওয়ার পর বিজয়ী শক্তি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বসে (১ নভেম্বর ১৮১৪ খ্রি.)।
ভিয়েনা সম্মেলনের বৈশিষ্ট্য ;
ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল—
1. উদ্দেশ্য ; ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল— [i] ইউরোপ
রাজ্যগুলি পুনর্গঠন করা, [ii] বিভিন্ন দেশের সীমানার পুনর্বিন্যাস করা, [iii] নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যবাদের ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা প্রভৃতি।
2. সম্মেলনে ছেদ ; ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও নেপোলিয়ন হঠাৎ ফ্রান্সে ফিরে এলে (১ মার্চ, ১৮১৫ খ্রি.) বিজয়ী শক্তিবর্গ সম্মেলনের কাজকর্ম বন্ধ রেখে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। ওয়াটারলু-র যুদ্ধে (১৮ জুন, ১৮১৫ খ্রি.) নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর তাঁরা সম্মেলনের কাজকর্ম আবার শুরু করেন।
3. বৃহৎ সম্মেলন ; ভিয়েনা সম্মেলন ছিল বিশ্বের প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। রোমের পোপ এবং তুরস্কের সুলতান ছাড়া ইউরোপের সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ এই সম্মেলনে অংশ নেন।
4. চার প্রধান ; ভিয়েনা সম্মেলনে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকলেও অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রাশিয়া ও ইংল্যান্ড—এই চারটি দেশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই চারটি দেশ 'চার প্রধান' বা 'Big Four' নামে পরিচিত।
ভিয়েনা সম্মেলনের নীতিগুলি কী ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ। বজায় রাখতে পেরেছিল? 4
ভিয়েনা সম্মেলণের নীতি ও ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ;
লাইপজিগের যুদ্ধে (১৮১৩ খ্রি.) ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের পতনের পর বিজয়ী ইউরোপীয় শক্তিগুলি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সম্মেলনই ভিয়েনা সম্মেলন নামে পরিচিত। সম্মেলনটি শেষ হয় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে। ইউরোপ পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে এই সম্মেলনে প্রধানত তিনটি নীতি প্রয়োগ করা হয়, যা ফরাসি বিপ্লবের জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। এই তিনটি নীতি হল—
(i) 'ন্যায্য অধিকার নীতি' প্রয়োগের দ্বারা ; ভিয়েনা সম্মেলনের কর্তারা "ন্যায্য অধিকার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজবংশগুলিকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। ফলস্বরূপ ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে যে প্রজাতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ভিয়েনা সম্মেলনে তা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায় এবং দেশে স্বৈরাচারী বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
(ii) ক্ষতিপূরণ নীতি' প্রয়োগের দ্বারা ; নেপোলিয়নের সঙ্গে সংগ্রামের ফলে অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, সুইডেন প্রভৃতি দেশের প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত ক্ষতিপূরণ নীতির দ্বারা এই সমস্ত দেশ তাদের ভূখণ্ড পুনরায় দখল করে নেয়।
(iii) শক্তিসাম্য নীতি' প্রয়োগের দ্বারা ; ফ্রান্স ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে যাতে ইউরোপীয় দেশগুলির শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে, সেই কারণে ভিয়েনা সম্মেলনে 'শক্তি নীতি' গ্রহণ করা হয়। এই নীতিকে কার্যকর করতে গিয়ে সম্মেলনের আয়োজকরা ফরাসি বিপ্লবের আদর্শকে সম্পূর্ণরূপে বিসর্জন দেয়।
মূল্যায়ন ; ভূমিদাস উচ্ছেদ আইন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না। কিন্তু এ কথাও স্বীকার করতে হয় যে, জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের নিরলস প্রয়াসের মাধ্যমেই রাশিয়ার দীর্ঘদিনের এই ভূমিদাস প্রথার অবসান সম্ভব হয়েছিল।
'ক্ষতিপূরণ নীতি' প্রয়োগের দ্বারা নেপোলিয়নের সঙ্গে সংগ্রামের ফলে অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, সুইডেন প্রভৃতি দেশের র