উত্তরের পাহাড়টি কেমন? সেখানে কে দাঁড়িয়ে ? 2
উত্তর:
উত্তরের পাহাড়টি ন্যাড়া ধরনের এবং বরফে ঢাকা আর তাই সবুজহীন।
সেখানে আকাশে নয়ন তুলে, হ্রফের রুপোলি কাপড় পরে পাইন গাছ দাঁড়িয়ে।
উত্তরে বুনো নগ্ন পাহাড়, পরে, — 'বুনো' ও 'নগ্ন' শব্দ দুটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে? বিশেষণ দুটি পরস্পরবিরোধী, তবু কবি ব্যবহার করেছেন কেন? 2
উত্তর:
উদ্ধৃতাংশের ‘বুনো” শব্দটি দিয়ে জংলি বা জঙ্গুলে এবং ‘নগ্ন’ শব্দটি দিয়ে ন্যাড়া বা গাছপালাহীন বোঝানো হয়েছে।
বিশেষণ দুটি পরস্পরবিরোধী, তবু কবি এগুলি ব্যবহার করে বোঝাতে চেয়েছেন উত্তরের পাহাড়টিতে পাইন ছাড়া বড়ো গাছের অস্তিত্ব নেই, জংলি গাছ বা গুল্ম রয়েছে। এমন গাছ পাহাড়ের নগ্নতা ঢাকতে পারেনি।
'সেই দেশে যেথা প্রভাতে সূর্য ওঠে,'—'সেই দেশে' বলতে কোন্ দেশকে বোঝানো হয়েছে? প্রভাতে সূর্য ওঠে কী করে? 2
উত্তর:
এখানে ‘সেই দেশে’ বলতে দূরে অবস্থিত তপ্ত বালির দেশ মরুভূমিকে বোঝানো হয়েছে।
প্রভাতে সূর্য উঠে মরুভূমির বালুকাতটে প্রথম কিরণ দান
‘তপ্ত পাহাড়ে বেদনায় বুক ভ'রে'—কার বুক বেদনায় ভরা? তার আবাসস্থল কোথায়? 2
উত্তর:
‘পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি’ কবিতায় একা দুঃখী পাম গাছের বুক বেদনায় ভরা।
তার আবাসস্থল ধু-ধু তপ্ত বালিয়াড়ির দেশ মরুভূমিতে।
হাইনরিখ হাইনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। 3
উত্তর:
হাইনরিখ হাইনে একজন বিশিষ্ট জার্মান কবি ও গদ্যকার। উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জার্মান কবিরূপে তাঁর উত্থান ঘটলেও তিনি সাংবাদিক-প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচকও ছিলেন। তবে মূলত তিনি গীতিকবি। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তাঁর বিশিষ্ট কয়েকটি কাব্য-'হাস যাত্রা', উত্তর সাগরগীতিকা’, ‘নতুন কবিতা', 'জার্মানি : এক শীতের রূপকথা' ইত্যাদি। বিশিষ্ট কয়েকটি গদ্যগ্রন্থ হল- ফরাসি পরিস্থিতি’, ‘রোমান্টিক কাব্যধারা’, ‘ধর্মের ইতিহাস ইত্যাদি। বিশ্ববন্দিত এই সুসাহিত্যিক অনুবাদের মাধ্যমে বাঙালি পাঠককূলের
“যেন বরফের রূপালি কাপড় পরে”-উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য লেখো। 3
উত্তর:
প্রশ্নোত্ত উদ্ধৃতাংশটি হাইনরিখ হাইনে-রপাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। একটি পাইন গাছ জন্ম নিয়েছে উত্তরের পাহাড়ে। সেই পাহাড় নগ্ন অর্থাৎ গাছপালাহীন। উত্তরে অর্থাৎ উত্তর মেরু প্রদেশের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পাইন গাছটি। যে পাহাড় সর্বদাই আবৃত থাকে। বরফের চাদরে। যেখানে সর্বদাই বরফবৃষ্টি হয়। আর সেই বরফ পাইনের সারা দেহ ঢেকে রাখে। মনে হয় যেন বরফের রুপোলি কাপড়ে আবৃত হয়ে আছে সেই পাইন গাছটি।
'পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি’ কবিতা অবলম্বনে পাইন ও পাম গাছের পরিচয় দাও। 3
উত্তর:
বিশ্ববন্দিত জার্মান কবি হাইনরিখ হাইনের ‘পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি’ কবিতায় স্পষ্টত দুটি ভিন্ন মেরুর গাছ পাইন ও পামের কথা এসেছে। উত্তরের বুনো কিন্তু ন্যাড়া পাহাড়ের উপর একা পাইন গাছ আকাশের দিকে চোখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। শীতার্ত পরিস্থিতিতে তার পরিধেয় হয়ে থাকে বরফের রুপোলি কাপড়। পাহাড়ি বাতাস তাকে ক্ষণে ক্ষণে দুলিয়ে দিয়ে যায় বলে দিনরাত সে দুলে দুলে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে মরুভূমির তটে দাঁড়িয়ে থাকা বেদনার্ত পাম গাছের।
বহুযোজন বিস্তৃত ধু-ধু তপ্ত বালুরাশির তটে নিঃসঙ্গতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পাম গাছ। উপর থেকে ঝরে-পড়া খররোদ ছাড়া তার কোনো সঙ্গী নেই। তাই তার বুক বেদনায় ভরা।
“তপ্ত পাহাড়ে বেদনায় বুক ভ'রে”—কার কথা বলা হয়েছে? তার এমন অবস্থার কারণ লেখো। 3
উত্তর:
প্রশ্নোক্ত অংশটি হাইনরিখ হাইনে-র ‘পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত হয়েছে মরুভূমির বুকে পাম নিঃসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে প্রাণের স্পন্দন বেশি শোনা যায় না। সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে মরুর বুকে পাম। তাই তার বুকে জমে উঠেছে একরাশ বেদনা। প্রশ্নোক্ত অংশের মাধ্যমে কবি সে-কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।