অধ্যায়-৪, শিল্পবিপ্লব,উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ

শিল্পবিপ্লবের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল-(1)ধীরগতিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে শিল্পের ধারাবাহিক প্রসার, (2) শিল্প বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, (3) বিপুল পরিমাণ মূলধনের বিনিয়োগ, (4) কাঁচামাল সংগ্রহ ও পণ্য বিক্রির জন্য ঔপনিবেশিক বাজার দখ্ল , (5) প্রথমে ইংল্যান্ডে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য দেশে শিল্পবিপ্লবের প্রসার, 6) নগরকেন্দ্রিক শিল্প সভ্যতার প্রসার প্রভৃতি ।

ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লব হওয়ার কারণগুলি হল সেদেশে — (1) অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, (2) সুলভ শ্রমিক ও মূলধনের জোগান, (3) শিল্পোৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাচামালের জোগান, (4) উৎপাদিত পণ্য বিক্রির বিশাল ঔপনিবেশিক বাজার, (5) বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার প্রভৃতি।

অষ্টাদশ শতকে বিশ্বে প্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনা ও প্রসার ঘটে। তখন থেকেই সেদেশে প্রচুর শিল্পকারখানা স্থাপিত হয় এবং ক্ষুর শিল্পসামগ্রী উৎপাদিত হতে থাকে যেগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে বিক্রির জন্য যায়। শিল্পোৎপাদনে ইংল্যান্ড হয়ে ওঠে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ। এজন্য ইংল্যান্ডকে  'বিশ্বের কারখানা' বলা হয়।

ফ্রান্সে শিল্পবিচার দেরিতে হওয়ার কারণগুলি ছিল -- (1) দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শিল্পের প্রসারের সহায়ক ছিল না । (2 ) ফ্রান্সের অভিজাতরা শিল্প বাণিজ্য অমর্যাদাকর কাজ বলে মনে করত। ( 3)  বিপ্লবের সময় কৃষকরা জমির মালিকানা পাওয়ায় তারা কৃষিতে আগ্রহী হয়ে পড়েছিল। (4) ফ্রান্সে উন্নত মানের কয়লা ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাব ছিল।

রাশিয়ায় শিল্পায়ন দেরিতে শুরু হওয়ার দুটি প্রধান কারণ ছিল -1. রুশ সামন্তপ্রভুরা শিল্প নয়, কৃষিকাজেই বেশি আকৃষ্ট ছিল। 2. শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় মূলধনের জোগান ছিল না।

ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সহায়ক প্রাকৃতিক পরিবেশগত সুবিধা ছিল 1. ইংল্যান্ডের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, 2. খরস্রোতা নদী, 3. বায়ুশক্তির উপস্থিতি, 4. কয়লা ও লৌহখনির অবস্থান, 5. জলপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতি।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইংল্যান্ডের কাছে মহাদেশীয় শিল্পপণ্যগুলি পিছিয়ে পড়ার কয়েকটি কারণ হল- 1. ইংল্যান্ডের পণ্যসামগ্রীর উন্নত মান, 2. ইংল্যান্ডের সুবিশাল ঔপনিবেশিক বাজার, 3. ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌবহর প্রভৃতি ।

মহাদেশীয় ভূখণ্ডের ফ্রান্স, জার্মানি, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ইংল্যান্ডের পরে শিল্পায়ন শুরু হয়। কারণ- 1. শিল্পবাণিজ্যের কাজকে অসম্মানজনক মনে করে এসব দেশের অভিজাতরা শিল্পকারখানা আপনে এগিয়ে আসেননি। 2. ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি প্রভৃতি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শিল্পায়নের পথে বাধার সৃষ্টি করেছিল।

জার্মানিতে শিল্পবিপ্লব দেরিতে হওয়ার কারণগুলি ছিল - 1. জার্মানির রাজনৈতিক অনৈক্য, 2. বিভিন্ন রাজ্যে পৃথক পৃথক শুল্ক আদায়ের নীতি ,  3. কেন্দ্রীয় মুদ্রাব্যবস্থার অভাব ও সামন্তপ্রভুদের শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগের অনীহা, 5. সুলভ শ্রমিকের অভাব প্রভৃতি।

অষ্টাদশ শতকের প্রথম ভাগে ইউরোপীয় অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর।  এই শতকের দ্বিতীয় ভাগে শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রশক্তির ব্যবহারের ফলে  শিল্পোৎপাদন  যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়।

শিল্পবিপ্লব ;

“শিল্পবিপ্লব' বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

১। 'শিল্পবিপ্লব'-এর ধারণা:  সাধারণভাবে বলা হয় যে, অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির আবিষ্কার ও শিল্পক্ষেত্রে তা ব্যবহারের ফলে শিল্পোৎপাদনের পরিমাণগত ও গুণগত যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে তা ‘শিল্পবিপ্লব' নামে পরিচিত।

2. ফিশার-এর অভিমত:  ঐতিহাসিক ফিশারের মতে, দৈহিক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পসামগ্রীর উৎপাদন এবং এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির ঘটনা হল 'শিল্পবিপ্লব ।

3. ফিনিস ডিন-এর অভিমত:  অধ্যাপক ফিলিস ডিন মনে করেন যে, শিল্পক্ষেত্রে—[i] বিপুল পুঁজির বিনিয়োগ, [ii] পুঁজি সরবরাহের জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, [iii] যন্ত্রচালিত কারখানা প্রতিষ্ঠা, [iv] উৎপাদনকার্যে মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ, [v] পণ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন, [vi] পণ্য পরিবহনের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার প্রভৃতি ঘটলে তাকে শিল্পবিপ্লব বলা যায়।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে ইউরোপের শিল্পক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে শিল্পোৎপাদনের পরিমাণগত ও গুণগত যে অগ্রগতি ঘটে তা 'শিল্পবিপ্লব' নামে পরিচিত।

'শিল্পবিপ্লব' কথাটির উৎপত্তি;

ইংরেজি 'Industrial Revolution' কথাটির বাংলা প্রতিশব্দ হল "শিল্পবিপ্লব'। ফরাসি দার্শনিক অগাস্ত রঙ্কি ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম 'শিল্পবিপ্লব' কথাটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে ইংরেজ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর অক্সফোর্ড বক্তৃতামালায় 'শিল্পবিপ্লব' কথাটি ব্যবহার করে এটি জনপ্রিয় করে তোলেন।

'শিল্পবিপ্লব' প্রথম কোথায় সংঘটিত হয়;

সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীকালে ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, সুইটজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে শিল্পবিপ্লবের প্রসার ঘটে।

শিল্পবিপ্লব এর সূচনাকাল;

শিল্পবিপ্লবের সূচনাকালকে সাধারণভাবে শিল্পে ‘উড়ান' বা 'টেক অফ' (Take off) বলা হয়। ইংল্যান্ডে কবে সর্বপ্রথম 'টেক অফ' অর্থাৎ শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয় তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। 1। আর্নল্ড টয়েনবি মনে করেন যে, ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়। 2। কেউ কেউ এর সূচনাকাল হিসেবে ১৭৮০-র দশককে নির্দিষ্ট করে থাকেন। অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন যে, অষ্টাদশ শতকের ষাট ও আশির দশকের মধ্যবর্তীকালে অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে ইউরোপ মহাদেশে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিল্পব শুরু হয়।

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হওয়ার কারণ;

ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হওয়ার বিভিন্ন কারণ ছিল। যেমন -

1) প্রাকৃতিক পরিবেশ: ইংল্যান্ডের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, খরস্রোতা নদীতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা, বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুযোগ,  কয়লা , লোহা প্রভৃতি খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য প্রভৃতি সেদেশে শিল্পায়নে সুবিধা করেছিল।

2) শ্রমিকের জোগান: ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চল থেকে বহু বেকার মানুষ শহরে চলে এসে কলকারখানাগুলিতে সুলভ শ্রমিক হিসেবে কাজে নিযুক্ত হলে শিল্পায়নের সুবিধা হয়।

3) কাঁচামালের জোগান ; অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে কৃষিবিপ্লবের ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় প্রচুর কাঁচামাল উৎপাদিত হতে থাকে। তাছাড়া ইংল্যান্ড তার সুবিশাল ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য থেকে সস্তায়  শিল্পের প্রয়োজনীয়  কাঁচামাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

4) মূলধনের জোগান;  ইংল্যান্ডে ব্যাংক ব্যবস্থার প্রসার, ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলি থেকে অর্থসম্পদ শোষণ করে স্বদেশে আমদানি প্রভৃতির ফলে ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের কোনো অভাব হয়নি।

5) বাজার: এসময় ইংল্যান্ডের কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেলে তাদের শিল্পপণ্য কেনার ক্ষমতা বাড়ে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড তার সুবিশাল ঔপনিবেশিক দেশগুলিতে পণ্য বিক্রির সুযোগ পায়। ফলে ইংল্যান্ডের শিল্পসামগ্রী বিক্রির সুবিশাল বাজার গড়ে ওঠে।

6) যোগাযোগ ব্যবস্থা: ইংল্যান্ডের সুবিস্তৃত সমুদ্র উপকূল, উন্নত নৌশক্তি ও বন্দর প্রভৃতির ফলে দূরদূরান্তের সঙ্গে ইংল্যান্ডের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। দেশের অভ্যন্তরেও যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়।

7) বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার: অষ্টাদশ শতকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার,যেমন— ফ্লাইং শাটল, স্পিনিং জেনি, ওয়াটার ফ্রেম, মিউল প্রভৃতি | ই ইংল্যান্ডের শিল্পায়নের অগ্রগতিতে খুবই সহায়তা করে।

আধুনিক যুগে বিশ্বে যে শিল্পবিপ্লব ঘটে তা অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শুরু হয় এবং পরে তা ইউরোপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার;

বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটাতে সহায়তা করেছিল। যেমন-

বস্ত্র শিল্পের আবিষ্কএর;

অষ্টাদশ শতকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বস্ত্র শিল্পের উন্নতিতে খুবই সহায়তা করে। এই আবিষ্কারগুলি হল- [i] জন কে-র ফ্লাইং শাল (উড়ন্ত মাকু), [ii] হারগ্রিভসের স্পিনিং জেনি, [iii] আর্করাইটের সার্টার ফ্রেম, [iv] ক্রম্প টন এর মিউল [v] কার্টরাইটের পাওয়ার সুম প্রভৃতি।

2) বাষ্পীয় ইঞ্জিন ; জেনস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করলে শিক্ষের প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলি চালানোর কাজে খুবই সুবিধা হয়।

3) লৌহশিল্পের প্রযুক্তি; [i] আব্রাহাম ডারবি আবিষ্কৃত লোহা গলাবার পদ্ধতি, [1] জন শিষ্টন আবিষ্কৃত ব্লাস্ট ফার্নেস' (লোহা গলানোর চুল্লি), [iii] হেনরি বেসিমার আবিষ্কৃত ইস্পাত তৈরির কৌশল প্রভৃতি ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে সহায়তা করে।

4) নিরাপত্তা বাতি;  মাটির নীচে থেকে নিরাপদে কয়লা-সহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে হামফ্রে ডেভি আবিষ্কৃত সেফটি ল্যাম্প (নিরাপত্তা বাতি) খুবই সহায়তা করে।

5) পরিবহন ;  [i] টেলফোর্ড ও ম্যাকাডাম আবিষ্কৃত পিচের রাস্তা, [6] জর্জ স্টিফেনসন আবিষ্কৃত বাষ্পচালিত রেলইঞ্জিন [i] আবিষ্কৃত বাষ্পীয় স্টিমার, [iv] টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন প্রভৃতি ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে খুবই সহায়তা করে।

ইংল্যান্ডের শিল্পায়নের বেশ কিছুদিন পরে ফ্রান্সে শিল্পায়ন ঘটে। ঐতিহাসিক  রস্টো মনে করেন যে, ১৮৩০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ফ্রান্সে শিল্পের বিকাশ ঘটে।

ফ্রান্সে শিল্পায়নের অগ্রগতি ;

বিভিন্ন ফরাসি সম্রাটের উদ্যোগের ফলে ফ্রান্সে শিল্পায়নের প্রসার ঘটে।

1. ষোড়শ লুই-এর আমল : ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই-এর অর্থমন্ত্রী ক্যালোন ফ্রান্সে শিল্পের প্রসারের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ এনে ফ্রান্সে কলকারখানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

2. নেপোলিয়নের আমল: সম্রাট নেপোলিয়ন (১৭৯৯-১৮১৪ খ্রি.) ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা, শিল্পক্ষেত্রে স্বল্পসুদে ঋণদান, যন্ত্রপাতি আবিষ্কারে উৎসাহ দান প্রভৃতি উদ্যোগ নিয়ে ফ্রান্সে শিল্পায়নের চেষ্টা করেন।

3. লুই ফিলিপের আমল : লুই ফিলিপ (১৮৩০-১৮৪৮ খ্রি.) ব্যাংক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেন এবং সড়ক ও নদীপথে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটান। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে রেলপথ নির্মিত হওয়ার ফলে বোর্দো তুলোঁ, আলসাস প্রভৃতি স্থানে কয়লা, লোহা, সুতিবস্ত্র প্রভৃতি শিল্প গড়ে ওঠে।

4. তৃতীয় নেপোলিয়নের আমল : সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন (১৮৪৮- ১৮৭০ খ্রি.) 'ক্রেদি মবিলিয়ে' ও 'ক্রেদি ফঁসিয়ে' নামক শিল্পব্যাংক গঠন করেন এবং শ্রমিক ও মালিকদের বিরোধের মীমাংসার জন্য ‘কনসিলিয়েশন বোর্ড' গঠন করে শিল্পায়নে গতি আনেন।

5. বিভিন্ন শিল্প : ফ্রান্সে বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রেলপথের যথেষ্ট সম্প্রসারণ ঘটে, লৌহ-ইস্পাত, কয়লা প্রভৃতি শিল্পের যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটে । এ ছাড়া বস্ত্র, কাগজ, চিনি, রেশম, রাসায়নিক প্রভৃতি শিল্পেরও অগ্রগতি ঘটে।

ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে শিল্পায়ন ঘটার পরবর্তীকালে ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যে শিল্পায়ন শুরু হয়।

জার্মানিতে শিল্পায়নের অগ্রগতি;

শিল্পায়নের প্রসারে জার্মান রাজ্যগুলির মধ্যে সর্বপ্রথম সক্রিয় উদ্যোগ নেয় প্রাশিয়া।

  1. শ্রমিকের জোগান: প্রাশিয়ায় ভূমিদাস প্রথার অবসান (১৮১৫ খ্রি.) ঘটলে মুক্ত ভূমিদাসরা শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে শহরের কলকারখানাগুলিতে চলে আসে।
  2.  জোলভেরাইন: ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মান রাজ্যগুলি 'জোলভেরাইন' নামক শুল্কসংঘ প্রতিষ্ঠা করলে বিভিন্ন জার্মান রাজ্যে পৃথক শুল্ক প্রদানের সমস্যা দূর হয় এবং শিল্পায়নে গতি আসে।
  3. রেলপথের প্রতিষ্ঠা : জার্মানিতে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে রেলপথের প্রতিষ্ঠা হয় এবং কয়েক দশকের মধ্যে তার যথেষ্ট প্রসার ঘটে। ফলে পণ্য চলাচলে সুবিধা হয়।
  4. আলসাস-লোরেইন লাভ: জার্মানি ফ্রান্সের কাছ থেকে কয়লা ও লৌহখনি সমৃদ্ধ আলসাস ও লোরেইন লাভ (১৮৭০ খ্রি.) করে। ফলে জার্মান শিল্পে কয়লা ও লোহার জোগান বৃদ্ধি পায় ।
  5.  অর্থের জোগান: জার্মানি ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রচুর আর্থিক ক্ষতিপূরণ লাভ করে। চ্যান্সেলর বিসমার্ক জার্মান ব্যাংক ব্যবস্থার পুনর্গঠন করায় শিল্পে অর্থের জোগান বৃদ্ধি পায় ।
  6.  বিভিন্ন শিল্প : জার্মানি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর সেদেশে প্রচুর শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। জার্মানিতে লৌহ-ইস্পাত, কয়লা, অস্ত্র নির্মাণ, রেলপথ, জাহাজ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নির্মাণ প্রভৃতি শিল্পের প্রসার ঘটে।

শিল্পবিপ্লবের রাজনৈতিক ফলাফলগুলি ছিল -1. শিল্প মালিক ও শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভব, 2. ভূস্বামী ও অভিজাতদের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান, 3. শিল্প মালিকদের রাজনৈতিক আধিপত্য বৃদ্ধি, 4. শ্রমিক আন্দোলনের সূচনা, 5.  কাঁচামাল সংগ্রহ ও পণ্য বিক্রির জন্য উপনিবেশ দখলের লড়াই, 6. শ্রমিকশ্রেণির মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার প্রসার প্রভৃতি।

শিল্পবিপ্লবের সামাজিক ফলাফলগুলি ছিল - 1.ইংল্যান্ডে ম্যাঙ্কেস্টার, লিভারপুল, ব্রিস্টল, বার্মিংহাম প্রভৃতি নতুন শিল্পনগরীর উদ্ভব, 2. গ্রাম ছেড়ে শহরের শিল্পাঞ্চলগুলিতে মানুষের আগমন, 3.  গ্রামের জনসংখ্যা হ্রাস ও দুর্দশা বৃদ্ধি, 4. শিল্প মালিক ও শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভব, 5.  শিল্প-বাণিজ্যভিত্তিক নতুন সমাজের আবির্ভাব প্রভৃতি ।

শিল্পবিপ্লবের অর্থনৈতিক ফলাফলগুলি ছিল –1. গ্রামীণ কুটির শিল্পের ধ্বংস, 2. বৃহৎ শিল্পকারখানাভিত্তিক 'ফ্যাক্টরি প্রথা'র উদ্ভব, 3. শ্রমবিভাজন নীতি'র উদ্ভব, 4. শিল্প-অর্থনীতির প্রসার প্রভৃতি ।

শিল্পবিপ্লবের ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কুফল ছিল- (i) গ্রামের বহু দরিদ্র কৃষক শিল্পকারখানাগুলিতে কাজের খোঁজে চলে এলে গ্রামের  জনসংখ্যা হ্রাস পায় ও গ্রামীণ জীবনে ভাঙন দেখা দেয়। (ii) কারখানায় অল্প মজুরিতে দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করতে বাধ্য হলে শ্রমিকদের জীবনে নানা দুর্দশা নেমে আসে।

শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৃহৎ শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এসব কলকারখানায় যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পোৎপাদনের গুণগত ও পরিমাণগত ব্যাপক উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়। বৃহৎ  কারখানাভিত্তিক এই ব্যবস্থা 'ফ্যাক্টরি প্রথা নামে পরিচিত।

ঘেটো হল শহরের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিছু মানুষ বসবাস করে। ভেনিস শহরে ইহুদিদের বসবাসের এলাকা নির্দিষ্ট করতে ঘেটো শব্দটি ব্যবহার করা হয়। পরে বহিরাগত মানুষদের বসবাসের নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ঘেটো নামে চিহ্নিত করা হয়।

ইউরোপে শিল্পবিপ্লব ঘটার পর শিল্পকারখানাগুলির উৎপাদন কার্যে এক একজন শ্রমিক কোনো কাজের এক-একটি অংশ তৈরিতে নিযুক্ত থাকত। এটি শ্রমবিভাজন  নীতি' নামে পরিচিত।

ইংল্যান্ডের শ্রমিকরা কারখানার মেশিনগুলিকে তাদের আসল শত্রু মনে করতে থাকে। কারণ, এই কারখানাগুলিতে কাজ করেই তাদের জীবনে সীমাহীন দুর্দশা নেমে আসে। এজন্য নেড লুড নামে এক শ্রমিকের নেতৃত্বে তারা মেশিনগুলি ভেঙে দুর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। ইংল্যান্ডে ১৮১১- ১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা এই মেশিন ভাঙার আন্দোলন 'লডাইট দাঙ্গা' নামে পরিচিত।

হেবিয়াস করপাস' (১৬৭৯ খ্রি.) রাজা দ্বিতীয় চার্লসের আমলে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রবর্তিত শ্রমিক বিরোধী এক আইন যার দ্বারা শ্রমিকদের ওপর দমননীতি চালানো হত ।

ব্রিটিশ সরকার 'হেবিয়াস করপাস' আইনের দ্বারা শ্রমিকদের সভাসমিতি নিষিদ্ধ করলে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এই আইনের প্রতিবাদে ম্যাঞ্চেস্টারের সেন্ট পিটারের ময়দানে এক সমাবেশে মিলিত হয়। এই সমাবেশে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী গুলি চালালে ১৯ জন শ্রমিক নিহত ও কয়েকশো শ্রমিক আহত হয়। এই ঘটনা 'পিষ্টারলু-র হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত।

বর্তমান ইউরোপ তথা বিশ্ব সভ্যতায় শিল্পবিপ্লবের ফলাফল বা তাৎপর্যগুলি এতটাই গভীর যে বর্তমান সভ্যতাকে অনেকে 'শিল্পাশ্রয়ী সভ্যতা' বলে চিহ্নিত করে থাকেন।

শিল্পবিপ্লবের ফলাফল ;

ইউরোপ তথা বিশ্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল লক্ষ করা যায়। যেমন——-

1. সামাজিক ক্ষেত্রে: শিল্পবিপ্লবের ফলে—[i] নতুন নতুন শিল্পনগরী গড়ে ওঠে। [ii] নগর-সভ্যতার দ্রুত প্রসার ঘটে। [iii] শোষক মালিকশ্রেণি এবং শোষিত শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভব ঘটে। [iv] কৃষিনির্ভরতা হ্রাস পেয়ে শিল্প-বাণিজ্যভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে।

2. রাজনৈতিক ক্ষেত্রে;  শিল্পবিপ্লবের ফলে— [i] শোষিত শ্রমিকশ্রেণির শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রমিক আন্দোলন শুরু করে। [ii] রাজনীতিতে পুঁজিপতি মালিকশ্রেণির আধিপত্য বাড়ে এবং ভূস্বামী ও অভিজাত শ্রেণির রাজনৈতিক আধিপত্য ধ্বংস হয়। [iii] শ্রমিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

3.  অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে: শিল্পবিপ্লবের ফলে — [i] কুটিরশিল্প ধ্বংস হয় । [ii] ‘ফ্যাক্টরি প্রথা' অর্থাৎ বৃহৎ শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। [iii] মালিক ও শ্রমিকশ্রেণির অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্রতর হয়। [iv] বাণিজ্য-মূলধন শিল্প-মূলধনে পরিণত হয়। [v] শিল্পোন্নত দেশগুলির মধ্যে উপনিবেশ দখলের লড়াই শুরু হয়।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব শুরু হয়। পরবর্তী  এক শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিল্পায়নের প্রসার ঘটে।

শিল্পবিপ্লবের রাজনৈতিক ফলাফল;

ইউরোপ তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের গভীর ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেমন -

১।  নতুন শ্রেণির প্রতিপত্তি ;  শিল্পবিপ্লবের ফলে নতুন পুঁজিপতি  মালিকশ্রেণির ও শ্রমিকশ্রেণির রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে আগেকার ভূস্বামী ও অভিজাতশ্রেণির রাজনৈতিক প্রতিপত্তি হ্রাস পায়।

২।শ্রমিক আন্দোলন: বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের দাবিতে দেশে-দেশে শ্রমিক আন্দোলন শুরু করে।

৩। ভোটাধিকার দাবি: শিল্পবিপ্লবের পর বিভিন্ন দেশে নতুন আবির্ভূত শ্রমিকশ্রেণি ভোটাধিকারের দাবি জানায়। ভোটাধিকারের দাবিতে ইংল্যান্ডে চার্টিস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে সেদেশে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ভোটাধিকারের সম্প্রসারণ ঘটে।

৪। উপনিবেশের প্রসার : শিল্পায়নের ফলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ইউরোপের দেশগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাজার দখল করতে গিয়ে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে থাকে।

৫। সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা : শিল্পবিপ্লবের পর পুঁজিপতি মালিকশ্রেণি বিপুল অর্থসম্পদের অধিকারী হলেও শ্রমিকরা তা থেকে বঞ্চিত হয়।এই অবস্থায় অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রমিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের ফলে সেখানকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হয় ।

শিল্পবিপ্লবের অর্থনৈতিক ফলাফল ;

ইউরোপ তথা বিশ্বের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের গভীর ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেমন -

  1. বাণিজ্যের প্রসার : শিল্পবিপ্লবের ফলে আধুনিক কলকারখানায় অল্প সময়ে প্রচুর শিল্পজাত পণ্য উৎপাদিত হতে থাকে। ফলে নিজের দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত পণ্য বিদেশের বাজারে পাঠানো শুরু হয়।
  2.  ঔপনিবেশিক বিরোধ: শিল্পজাত পণ্যসামগ্রী বিক্রির বাজার দখল করতে গিয়ে ইউরোপের শিল্পোন্নত বিভিন্ন দেশ উপনিবেশ দখলের প্রতিযোগিতায় নামে ফলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় ।
  3.  ফ্যাক্টরি প্রথার উদ্ভব : শিল্পবিপ্লবের ফলে 'ফ্যাক্টরি প্রথার উদ্ভব ঘটে অর্থাৎ কুটিরশিল্পের পরিবর্তে বৃহৎ ফ্যাক্টরি বা শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে থাকে।
  4.  শ্রম-বিভাজন: শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পকারখানায় ‘শ্রম-বিভাজন নীতি'র উদ্ভব ঘটে। এই প্রথা অনুসারে বিভিন্ন শ্রমিক কলকারখানায় সমগ্র পণ্যের পৃথক পৃথক অংশের কাজে নিযুক্ত থাকত।
  5.  শিল্প মূলধন : শিল্পবিপ্লবের পর পুঁজিপতি বণিকরা বাণিজ্য থেকে তাদের মূলধন সরিয়ে শিল্পোৎপাদনের কাজে বিনিয়োগ করতে থাকে। ফলে ‘বাণিজ্যিক মূলধন' ক্রমে ‘শিল্প-মূলধন'-এ পরিণত হতে থাকে।
  6.  শোষণ: শিল্পবিপ্লবের ফলে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে দিনে ১৭-১৮ ঘণ্টা কাজ করানোর ফলে শ্রমিকদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটে এবং পরবর্তী এক শতকের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।

শিল্পবিপ্লবের সামাজিক ফলাফল ;

ইউরোপ তথা বিশ্বের সামাজিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের গভীর ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা প্রভাব লক্ষ করা যায়।

১/ পুঁজিপতি শ্রেণির উদ্ভব: শিল্পায়নের ফলে ইউরোপের পূর্ব সামন্তশ্রেণির অবলুপ্তি ঘটে এবং নতুন পুঁজিপতি বা শিল্পপতিশ্রেণির উদ্ভব ঘটে। এই পুঁজিপতিরা শিল্পে বিপুল মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়ে প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠে।

২/ শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভব ; শিল্পের প্রসারের ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কারখানার উৎপাদন কার্যে নিযুক্ত শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

৩/  গ্রামীণ জীবনের অবক্ষয় ;  শহরের শিল্পকারখানাগুলিতে কাজের উদ্দেশ্যে অগণিত কৃষক গ্রাম ছেড়ে শহরগুলিতে চলে আসায় গ্রামগুলি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

৪/ শ্রমিকদের জীবন ; শ্রমিকরা সামান্য মজুরির বিনিময়ে দিনে ১৭-১৮ ঘণ্টা কাজে বাধ্য হয়ে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে, অনাহারে-অশিক্ষায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

৫/  শ্রমিক আন্দোলন;  শ্রমিকরা শোষণ থেকে মুক্তি এবং নিজেদের নাগরিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে আন্দোলনে শামিল হয়। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।