অধ্যায়-৫, পশু-পাখির ভাষা

উত্তর:

প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা’ প্রবন্ধে বন্যপশুদের ভাষাবোধের প্রসঙ্গে কথাগুলি বলা হয়েছে। পশুপ্রেমী রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেবের বক্তব্য অনুসরণে লেখক বলতে চেয়েছেন, সিংহ খুবই হিংস্র পশু। তবে তার ভাষায় যদি তাকে কিছু বোঝানো যায় তবে সে বন্ধু হতে পারে, সিংহের ভাষা ও আদবকায়দা রপ্ত করতে পারলে তার সম্পর্কে তেমন ভয়ের কারণ থাকে না।

 

 

উত্তর:

জীবজন্তুরা মানুষের মতো কথা বলে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না। তাই নানাপ্রকার আওয়াজের মাধ্যমে অথবা ইশারা-ইঙ্গিত কিংবা অঙ্গসজ্ঞালনের দ্বারা তারা তাদের মনের ভাবপ্রকাশ করে।

 

 

উত্তর:

চল্লিশ বছর বন্যপশুর সঙ্গে কাটিয়েছেন পশুপ্রেমী রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব।

তাঁর প্রিয় দুটি বন্ধুপশুর নাম হল গরিলা ও শিম্পাঞ্জি।

 

 

উত্তর:

প্রায় চল্লিশ বছর বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে ছিলেন রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব। তাই বন্যজন্তুদের আদবকায়দা তাঁর বেশ রপ্ত ছিল। এ ছাড়াও পশুদের গলার স্বরকে তিনি অবিকল নকল করতে পারতেন। আর এইসব গুণের কারণেই অনেকবার তিনি বন্যপ্রাণীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পান।

 

 

উত্তর:

সুবিনয় রায়চৌধুরীর লেখা ‘পশু-পাখির ভাষা’ প্রবন্ধটিতে কুকুর, বিড়াল, ছাগল, ঘোড়া, বনমানুষ, হাতি, বাঘ, ভালুক, সিংহ, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাং, বানর, চিতা ইত্যাদি পশুর নাম এবং হাঁস, মুরগি ইত্যাদি পাখির নাম রয়েছে।

 

 

উত্তর:

সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া অংশে পশু ও পাখিদের ভাষা সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে। এদের কোনো নিজস্ব ভাষা আছে কি না, যদি না থাকে তবে কীভাবে তারা মনের ভাবপ্রকাশ করে, তাদের মুখনিঃসৃত শব্দগুলিকে কি তাদের ভাষা বলা যেতে পারে—এমন সব অজস্র জিজ্ঞাসার প্রতিই লেখক আসলে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। পশুপাখির ভাষা সম্পর্কে মানুষের মনে এমন অজস্র জিজ্ঞাসার জন্ম হওয়ার কারণ, একটা অজানা-অচেনা বিষয় সম্পর্কে মানুষের অসীম কৌতূহল। তা ছাড়া জ্ঞানের জগৎকে এমনসব প্রশ্নের উত্তর প্রসারিত করে।

 

 

উত্তর:

পশুপাখিরা মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। তাই মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে বিভিন্ন প্রকার আওয়াজ বা শব্দের মাধ্যমে। তাদের রাগ, আনন্দ, দুঃখ প্রকাশের জন্য তারা একেক রকম শব্দ করে থাকে। আবার গৃহপালিত পশুপাখিরা মানুষের মনকে আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে।

 

 

উত্তর:

প্রাবন্ধিক সুবিনয় রায়চৌধুরীর লেখা ‘পশু-পাখির -ভাষা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উক্ত উদ্ধৃতিটির বক্তা বিখ্যাত পশুপ্রেমী রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব তাঁর জীবনের মহামূল্যবান প্রায় চল্লিশটি বছর বন্যপশুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। অনেকবারই তাঁকে বন্যপশুদের হিংস্র আক্রমণের সামনে পড়তে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন। কারণ তিনি পশুদের ভাষা কিছু কিছু রপ্ত করেছিলেন। তাদের কণ্ঠনির্গত স্বর বা আওয়াজ তিনি অবিকল নকল করতে পারতেন। এমনকি তাদের অনেক আদবকায়দাও তাঁর জানা ছিল। সেই বিষয়গুলিকে কাজে লাগিয়েই তিনি অনেকসময় আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

 

 

উত্তর:

বিবর্তনবাদ বলে শিম্পাঞ্জি, ওরাং-ওটাং মানুষের পূর্বরূপ । ভাষা ব্যবহার করে মনের ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে এরা মানুষের থেকে পিছিয়ে থাকলেও, এরা যে স্নেহ-ভালোবাসা, সহানুভূতি প্রকাশে মানুষের মতোই সক্ষম এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। অন্যের সঙ্গে ভাব পাতাতেও এরা দক্ষ।

হিংস্র পশুদের সঙ্গে ভাব জমাতে হলে তাদের গায়ে হাত দিয়ে দেখতে হবে তাদের মেজাজ কেমন আছে। দেখতে হবে তাদের দিকে আওয়াজ ছুঁড়ে দিলে তারা সাড়া দিচ্ছে কিনা। এভাবে বাঘ-সিংহ-শ্বেত ভালুকের মতো প্রাণীদের সঙ্গে ভাব জমানো সম্ভব। তবে এই ভাব জমানোর জন্য খুব ধীর ও সন্তর্পণে এগোতে হবে। তাদের আদবকায়দা রপ্ত করতে হবে, আওয়াজ নকল করতে হবে। এতে ভাব জমানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

 

 

উত্তর:

প্রাবন্ধিক সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা’ প্রবন্ধটি একটি তথ্যবহুল রচনা। যেখানে তিনি নিজের বক্তব্যকে প্রকাশ করতে গিয়ে প্রচুর তথ্যের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। লেখক বলতে চেয়েছেন মানুষের মতো উন্নত ভাবপ্রকাশের হাতিয়ার ভাষা না থাকলেও, পশুপাখিরা ভাবপ্রকাশ করতে সক্ষম; যা দিয়ে তারা নানা অভিব্যক্তি মারফত ভাবপ্রকাশ করে অন্যের সঙ্গে ভাবের আদানপ্রদান ঘটাতে পারে। যেমন—মানুষের ভাষা বুঝে নেওয়ার একটা সহজ দক্ষতা তাদের মধ্যে লক্ষ করা যায়। মুরগি ‘তি-তি’, হাঁস ‘সোই-সোই’, ছাগল ‘অ-র্-র্’ ডাক শুনে সাড়া দেয়, মানুষের কাছে আসে। হাতি মাহুতের কথা শুনে তার নির্দেশ পালন করে। হাতিচালনার ক্ষেত্রে মাহুতের নির্দেশ ও সংকেতগুলি অনেকেই জানেন। যেমন—‘বৈঠ’ অর্থে ‘বস’, ‘তেরে’ অর্থে ‘কাত হও’, ‘ভোরি অর্থে ‘পিছিয়ে যাও’ এবং ‘মাইল’ অর্থে ‘সাবধান'। হাতি এগুলি বোঝে। একইভাবে প্রভুভক্ত কুকুরও প্রভুর কথা শুনেই তার হুকুম পালন করতে ওস্তাদ। তবে পশুপাখির এভাবে চালিত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্বাচিত শব্দের ব্যঞ্জনাই কাজ করে। এজন্য অনেক সময় প্রশিক্ষণও দিতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে অভিব্যক্তির পরিবর্তনও ঘটতে দেখা যায়। যেমন কুকুরের ‘ঘেউ’ ঝগড়া বা রাগের প্রকাশ এবং ‘কেঁউ’ ভয় বা কান্নার প্রকাশ।

 

 

উত্তর:

প্রশ্নোক্ত অংশটি সুবিনয় রায়চৌধুরীর ‘পশু-পাখির ভাষা’ নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বক্তা হলেন লেখক স্বয়ং।

আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক পশুপাখির ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে কয়েকটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন বিভিন্ন প্রাণীকে বিভিন্নভাবে ডাকলে তারা সাড়া দিয়ে কাছে আসে। যেমন—মুরগিরা ‘তি-তি’ ডাক শুনে কাছে আসে, হাঁস ‘সোই সোই’, ছাগল ‘অ-র-র’ শব্দ শুনে সামনে আসে। হাতি তো মাহুতের কথা শুনেই চলে। কুকুরেরাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ। তবে যা বলে পশুদের ডাকা হয়, সেইসব কথার অর্থ তাদের শেখাতে হয়। অর্থাৎ পশুরাও মানুষের ডাকে সাড়া দেয়, এর থেকে বোঝা যায় যে—পশুরা মানুষের ভাষা কিছু কিছু বোঝে।

পশুরা মুখে বিভিন্ন প্রকার শব্দ করে রাগ-ভয়-দুঃখ-আনন্দ প্রভৃতি মনের ভাবের প্রকাশ ঘটায়। আবার কখনো-কখনো অঙ্গের নড়াচড়ার মাধ্যমে ইশারায়ও তারা মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে।

 

 

উত্তর:

প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বক্তা হলেন রিউবেন ক্যাস্টাং।

রিউবেন ক্যাস্টাং ছিলেন একজন পশুপ্রেমী। দীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি বন্যপশুর সঙ্গে থেকেছেন। এই সময় অনেকবার ওইসব পশুর আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন যে তিনি পশুদের সঙ্গে ভাব পাতাতে গিয়ে জংলি হাতির সামনে পড়েছেন, বাঘের গরম নিশ্বাস তিনি অনুভব করেছেন, প্রকাণ্ড ভালুকের থাবা মুখের সামনে দেখেছেন, গরিলা তাকে প্রায় জড়িয়ে ধরেছে—এমনভাবে বহুবার ক্যাস্টাং সাহেব মৃত্যুর সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন।

অনেকবার মৃত্যুর সামনে পড়লেও তিনি প্রতিবারই বেঁচে গেছেন, কারণ তাঁর পশুদের ভাষা সম্পর্কে অসাধারণ জ্ঞান ছিল। পশুদের ভাষা কিছু কিছু জানার ফলে, তাদের গলার শব্দের অবিকল নকল করার ক্ষমতা থাকার জন্য এবং তাদের আদবকায়দা অনুসারে আচরণ করতে পেরেছিলেন বলে তিনি বন্য জন্তুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বা বেঁচেছেন।