অধ্যায়-৬, ঘাস ফড়িং

উত্তর :

প্রশ্নোক্ত অংশটির বক্তা হলেন কবি অরুণ মিত্র। * কবির সঙ্গে আত্মীয়তা তৈরি হয়েছিল একটি ঘাসফড়িং-এর। কিন্তু তাকে ছেড়ে কবিকে কর্মসূত্রে দূরে চলে যেতে হয়েছিল। তাই নতুন আত্মীয়ের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কবি নতুন আত্মীয় ঘাসফড়িংকে বলে এসেছিলেন যে, তিনি আবার ফিরে আসবেন বন্ধুর কাছে। ‘

 

উত্তর :

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি অরুণ মিত্রের কবিতা ‘ঘাসফড়িং’ থেকে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধৃত পঙ্ক্তিতে ‘আবার’ শব্দটি তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে ঝিরঝিরে বৃষ্টির প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে। একদা কবির বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল একটি ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে। সেদিনটা ছিল এক ঝিরঝিরে বৃষ্টিময় দিন। ওই ঝিরঝিরে বৃষ্টির পরে কবি যখন ঘাসের বুকে পা রেখেছেন, তখনই ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। অনেকদিন পরে সেইরকম ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হতেই কবির বন্ধুর কথা মনে পড়ে গেছে। অর্থাৎ এক ঝিরঝিরে বৃষ্টির পর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, আর-এক ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে বন্ধুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা কবির মনে ভেসে উঠেছে। তাই ‘আবার’ শব্দের মাধ্যমে অতীতের কথাকেই স্মরণ করতে চেয়েছেন। এভাবেই ‘আবার’ শব্দটি অর্থপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

উত্তর :

প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি অরুণ মিত্রের ‘ঘাসফড়িং’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

একদা এক ঝিরঝিরে বৃষ্টির দিনে ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে নতুন আত্মীয়তা তৈরি হয়েছিল কবির। এরপর বহু দূরে চলে গেছেন কবি। আবার বন্ধুর অর্থাৎ আত্মীয়ের কাছে ফিরে আসার কথা প্রসঙ্গেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। কর্ম উপলক্ষ্যে কবিকে দূরে চলে যেতে হয়েছে কিন্তু তার মনের ভিতরে রয়ে গেছে বিদায়কালে বন্ধুকে দেওয়া কথা—‘আমি আবার আসব’। সেই কথা তো তিনি কখনও ভুলে যেতে পারেন না। কারণ নতুন আত্মীয় ঘাসফড়িং যে তাঁরই জন্মভূমির বাসিন্দা। তাকে মনে পড়লে তো জন্মভূমির কথাও মনে পড়ে কবির। তাই ঝিরঝিরে বৃষ্টি দেখেই বন্ধুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভেসে ওঠে কবির মনে। আর প্রাণের আকুলতা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উচ্চারণ করেছেন কবি।

 

উত্তর :

প্রশ্নোক্ত অংশটির উৎস হল কবি অরুণ মিত্রের কবিতা ‘ঘাসফড়িং'। * কবি নিজের জন্মভূমিতে ভিজে ঘাসের বুকে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। প্রকৃতিপ্রেমিক কবি অরুণ মিত্র এক ঝিরঝিরে বৃষ্টির দিনে ভিজে ঘাসের বুকে দেখা ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে আত্মীয়তা গড়ে তুলেছিলেন। তারপর তাকে ছেড়ে এবং বাংলা প্রকৃতিকে ছেড়ে বহু দূরে চলে গেছেন। আবার এক বৃষ্টির দিনে তাঁর মনে পড়ে যায় যে তিনি নতুন বন্ধুকে কথা দিয়েছিলেন যে, ফিরে আসবেন তিনি আবার। তাই আবার তিনি আপন জন্মভূমিতে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। জন্মভূমির প্রতিটি ধূলিকণার প্রতি কবিরগভীর ভালোবাসা, সেখানকার প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ সত্তায় উজ্জ্বলভাবে বর্তমান। কবির চেতনায় প্রকৃতির রং সতত সবুজ, সতত সজীব। বিদেশ-বিভুঁইতে কর্ম উপলক্ষ্যে থাকলেও জন্মভূমির প্রকৃতি সর্বদাই তাঁকে হাতছানি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, তাই তাঁকে সেখানে ফিরে যেতেই হবে। জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে প্রশ্নোক্ত উদ্ভিটিতে।

 

উত্তর :

আধুনিক যুগের কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন খ্যাতনামা কবি হলেন অরুণ মিত্র। তাঁর কবিতায় সহজসরল ভাষায় পল্লিজীবন তথা পল্লিপ্রকৃতির ছাপ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। এমনই একটি কবিতা হল ‘ঘাসফড়িং’ কবিতাটি।

একদিন বৃষ্টিভেজা ঘাসের উপর ঘাসফড়িংকে দেখে কবি মুগ্ধ হয়ে পড়েন, কড়িংটিও কবিকে দেখে তার সবুজ মাথা তুলে দেখে।