অধ্যায়-৭, কুমোরে -পোকার বাসাবাড়ি

উত্তর:-

বাসা নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের পর কুমোরে- পোকা সেই স্থানে ২-৩ বার ঘোরাঘুরি করে অবশেষে বাসা তৈরির জন্য কাদামাটির সন্ধানে বের হয়। তারা যতটা সম্ভব কাছাকাছির মধ্যে কাদামাটির সন্ধান করতে ২-১ দিন সময় লাগায়।

 

উত্তর:-

উপযুক্ত মাটির সন্ধানে কুমোরে-পোকারা প্রায় ৪০-৫০ গজ দূরে পাখা মেলে উড়ে যায়। তবে নিকটবর্তী স্থানে উপযুক্ত নরম মাটি না পেলে ১৫০-২০০ গজ দূরে উড়ে গিয়েও তারা কাদামাটি সংগ্রহ করে আনে।

 

উত্তর:-

কুমোরে-পোকা অনেকসময় পুকুরধারে নরম কাদামাটির খোঁজে যায়। কাদামাটি পছন্দ হলে তা সংগ্রহের সময় কাদামাটির উপর মাছির মতো একপ্রকার ছোটো ছোটো আহার সংগ্রহকারী পোকা তারা দেখতে পায়। তাদের কেউ সেসময় কাছে এলেই তারা কাজ বন্ধ রেখে ছুটে গিয়ে তাকে তাড়া করে।

 

উত্তর:-

কুমোরে-পোকার বাসার কুঠুরি তৈরি করতে কম-বেশি ২ দিন সময় লাগে। এই বাসার গাঁথুনি প্রায় সওয়া এক ইঞ্চি লম্বা হয়।

 

উত্তর:-

কুঠুরির মাটি শুকিয়ে বাসা শক্ত হয়ে গেলে কুমোরে পোকারা কুটুরির ভিতরে প্রবেশ করে, মুখ থেকে একপ্রকার লালা নিঃসৃত করে এবং তার সাহায্যে কুঠুরির ভিতরের দেয়ালে প্রলেপ মাখিয়ে দেয়। তারপর শিকারের সন্ধানে বের হয়।

 

উত্তর:-

কুমোরে-পোকা ছুটে গিয়ে মাকড়সার ঘাড়ে কামড়ে ধরে, তার শরীরে হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে দেয়। পাঁচ-সাত বার পর্যন্ত হুল ফুটিয়ে শিকার অর্থ মাকড়সাটিকে অসাড় করে দেয়।

 

উত্তর:-

যখন একটি কুঠুরি তৈরি করা সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তখন কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি তাতে উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য অর্থাৎ পোকামাকড় ভরতি করে কুমোরে-পোকারা। তখন কুমোরে-পোকা সেই কুঠুরিতে একটিমাত্র ডিম পেড়ে কুঠুরির মুখ বন্ধ করে দেয়। তখনই ওই কুঠুরির পাশে নতুন কুঠুরি তৈরি করতে শুরু করে কুমোরে-পোকারা।

 

উত্তর:-

 চেহারা ঃ মৌমাছি পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী। দেহ, মাথা বুক ও উদরে বিভক্ত। দেহে সন্ধিল উপাঙ্গ উপস্থিত।

বাসস্থান : মৌমাছি মৌচাকে বসবাস করে। অসংখ্য ছোটো ছোটো সমান আকারের কুঠুরি নিয়ে তৈরি হয় মৌচাক। মোম দিয়ে তৈরি এই কুঠুরিগুলি। এর মধ্যে মৌমাছি মধু জমিয়ে রাখে। মৌমাছি ডিম পাড়ে এই কুঠুরির মধ্যে। সাধারণত বড়ো গাছের ডালে মৌচাক দেখতে পাওয়া যায়।

 

উত্তর:-

কুমোরে-পোকারা সাধারণভাবে পুরোনো বাসার স্থানেই নতুন বাসা নির্মাণ করে। বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য পুরোনো বাসাটি ভেঙে বা সরিয়ে দিয়ে দেখেছেন— কুমোরে-পোকারা আগের বাসাটি খুঁজে না পেয়ে কোনো একটা জলাশয়ের পাড়ে উড়ে গিয়ে সেখান থেকে ভিজে মাটি সংগ্রহ করে আনে। তারপর পুরোনো বাসার স্থানেই নতুন করে বাসা তৈরি করে। যতবারই বাসা সরানো হয়, ততবারই কুমোরে-পোকারা পুকুর, ডোবা বা নালা থেকে নরম মাটি নিয়ে এসে একই স্থানে নতুন বাসা বানায়। তাদের এই আচরণের মধ্যেই বোঝা যায়ে যে, একই স্থানে বাসা বানানোর সংস্কারের জন্যই তারা এমন কাজ করে থাকে।

 

উত্তর:-

উক্তিটি করা হয়েছে কুমোরে-পোকাদের সম্পর্কে। বক্তা (লেখক) গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের মনে হয়েছে যে, কুমোরে-পোকারা ডিম পাড়ার সময় ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যতক্ষণ কুঠুরি নির্মাণ শেষ না হয়, ততক্ষণ কুমোরে-পোকাডিম পাড়ে না – এই কারণেই বক্তার মনে হয়েছে যে, কুমোরে- পোকারা ইচ্ছামতো ডিম পাড়ার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

উত্তর:-

কুমোরে-পোকারা তাড়া করে।

মাছির মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একপ্রকার পোকাদের তাড়া করে।

পুকুর বা ডোবার ধারে কাদামাটি সংগ্রহের সময় একরকমের ছোটো ছোটো পোকা যদি কুমোরে-পোকার সামনে চলে আসে, তখন কুমোরে-পোকারা মাটি তোলা বন্ধ রেখে তাদের তাড়া করে।

 

উত্তর:-

‘কুমোরে-পোকারা শিকারের সন্ধানে বের হয়। কুমোরে-পোকারা অসাড় মাকড়সাকে মুখে করে কুঠুরিতে প্রবেশ করে। কুঠুরির নিম্নদেশে মাকড়সাটিকে চিত করে রাখে, তারপর মাকড়সাটির উদরদেশের এক পাশে লম্বাটে ধরনের একটি ডিম পাড়ে।

 

 

উত্তর:-

প্রশ্নোক্ত অংশটি বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রচিত ‘কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি’ নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘সে’ বলতে কুমোরে-পোকার কথা বলা হয়েছে। ডিম ফুটে বাচ্চারা বের হয়েই যাতে উপযুক্ত পরিমাণে আহার করতে পারে, অর্থাৎ সদ্যোজাত কুমোরে-পোকারা যাতে খাবার খেতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই কুমোরে-পোকারা কুঠুরির মধ্যে খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে। ‘খালাস’ কথার অর্থ হল ‘রেহাই’, কুঠুরিতে ডিম পাড়ার পরেই কুমোরে-পোকারা অন্যত্র চলে যায়। বাচ্চা বা বাসাটির উপরে যেন তাদের আর কোনো দায়িত্বই থাকে না, যেন তারা তাদের সকল দায়িত্ব থেকে রেহাই পেয়েছে— এ কথা বোঝাতেই লেখক ‘খালাস’ কথাটি বলেছেন।