অধ্যায়-1, আকাশ ভরা সূর্য তারা

উত্তর :-মহাকাশে দীপ্যমান অসংখ্য ক্ষুদ্র, বৃহৎ আলোকবিন্দু যা নির্মল মেঘমুক্ত আকাশে খালি চোখে বা শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় তাই জ্যোতিষ্ক। যেমন—গ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু প্রভৃতি সবই জ্যোতিষ্কের উদাহরণ।

 

উত্তর :- মহাকাশের স্থানে স্থানে একপ্রকার উজ্জ্বল মেঘের মতো বৃহদাকার তেজময় পদার্থ দেখা যায় তাকে নীহারিকা বলে। উদাহরণ—ক্যাট্স আই একরকম নীহারিকা।

 

উত্তর :- মহাকাশের যেসব উজ্জ্বল বিশালাকার জ্যোতিকের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বা তারা বলে। যেমন——–সূর্য, প্রক্সিমা সেনটাউরি ইত্যাদি |

 

উত্তর :-মহাকাশে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র নিয়ে গঠিত উজ্জ্বল আলোকবলয়কে ছায়াপথ বলে। এগুলি ডিম্বাকার বা প্যাচানো আকৃতির হয়। উদাহরণ—আকাশগঙ্গা একপ্রকার ছায়াপথ।

 

উত্তর :- দিনেরবেলাতেও জ্যোতিষ্করা আকাশে উপস্থিত থাকে। তবে এদের থেকে সূর্য পৃথিবীর অনেক কাছে থাকায় এর আলোই প্রাধান্য পায়। এই তীব্র সূর্যালোকের জন্য অন্যান্য সকল জ্যোতিকের আলো চাপা পড়ে যায়।

 

উত্তর :- মহাকাশে অনেকগুলো উজ্জল বা স্নান নক্ষত্র দল বেঁধে একসঙ্গে অবস্থান করলে তাকে বলে নক্ষত্রমণ্ডল। যেমন— সপ্তর্ষিমণ্ডল, ক্যাসিওপিয়া, কালপুরুষ ইত্যাদি।

 

উত্তর :- তারামণ্ডল হল গম্বুজাকৃতি প্রেক্ষাগৃহ, যেখানে কৃত্রিমভাবে আকাশ তৈরি করে বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু প্রদর্শনের সুবিধা থাকে। এখানে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা প্রদর্শিত হয়।

 

উত্তর :-সন্ধেবেলা খোলা আকাশের দিকে তাকালে আমি দেখতে পাব, আকাশ ভরা ঝিকমিকে

 

উত্তর :- আমাদের সৌরজগৎ যে ছায়াপথে অবস্থান করছে সেই ছায়াপথের নাম আকাশগঙ্গা (milky way)। প্রায় 10 হাজার কোটি নক্ষত্র, বিভিন্ন গ্যাস, ধূলিকণা নিয়ে আকাশগঙ্গা নির্মিত হয়েছে। রাতের আকাশে আমরা যেসব নক্ষত্রদের দেখি তারা সবাই এই আকাশগঙ্গা ছায়াপথেরই অংশবিশেষ।

 

উত্তর :- তারাদের ছোটো দেখালেও তারা ছোটো নয়। তারাদের ছোটো দেখার কারণ প্রধানত দূরত্ব | এরা পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে ছোটো দেখায় |

 

উত্তর :- দিনের বেলা সূর্যের আলোর তীব্রতা এতটাই বেশি থাকে যে, সেই আলোতে বহুদূর থেকে আসা তারাগুলির ক্ষীণ আলো বিলীন হয়ে যায়। তাই তারাগুলি আর আমাদের চোখে পড়ে না। তাই দিনেরবেলা আমরা তারাদের দেখতে পাই না। কিন্তু রাতে যখন সূর্যের আলো থাকে না তখন তারাদের দেখতে পাওয়া যায়।

 

উত্তর :- তারারা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাই অনেক বেশি পথ পেরিয়ে তাদের আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। এই আলো আসার সময় অনেক বায়ুর স্তর অতিক্রম করে আসে বলে আলো দপদপ করে। অন্যদিকে পৃথিবীর বাইরে থেকে তারাদের আলো স্থির বলেই মনে হয়।

 

উত্তর :- মহাকাশে অগগিত গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি দেখার জন্য বিশালাকৃতি কাঁচ লাগানো নল ব্যবহার করা হয়, তাকে টেলিস্কোপ (telescope) বলে । বর্তমানে টেলিস্কোপের দর্শনক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দিয়ে বর্তমানে 200 কোটি আলোকবর্ষ দূরের তারাও দেখা যাচ্ছে |

 

উত্তর :- মানমন্দির হল বিশেষভাবে নির্মিত গম্বুজাকৃতি একটি মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র | এই গম্বুজে বিরাট মাপের টেলিস্কোপ বা দূরবিন যন্ত্র লাগানো থাকে। যেখানে চোখ রাখলে মহাকাশের গ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, জ্যোতিষ্ককে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

 

উত্তর :- রাতেরবেলা মাথার ওপর আকাশ ভরা তারা দেখা যায়। ধ্রুবতারা সবসময় উত্তর আকাশেই দেখা যায়। প্রাচীনকালের মানুষেরা ধ্রুবতারা দেখে রাতে দিক্‌নির্ণয় করতেন, আমিও ধ্রুবতারা দেখেই দিক্‌নির্ণয় করব। এ ছাড়াও সন্ধেবেলা পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলা পূর্ব আকাশে শুকতারা দেখেও দিক্‌নির্ণয় করতে পারব।

 

উত্তর :- আমরা সৌরজগৎ সঠিকভাবে আঁকতে পারি না। কারণ সূর্য পৃথিবীর থেকে 13 লক্ষ গুণ বড়ো। আবার বৃহস্পতির আকার এত বড়ো যে তার মধ্যে 1300 টি পৃথিবী ঢুকে যেতে পারে। তাই এই আকার ও আকৃতি বজায় রেখে সৌরজগতের সঠিক ছবি আঁকা সম্ভব নয়। যা আঁকা হয় সেটি হল সৌরজগতের একটি ধারণা মাত্র।

 

উত্তর :-

প্রায় 460 কোটি বছর আগে মহাশূন্যে ভাসমান ধূলিকণা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম গ্যাস প্রভৃতি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয় এবং জমাট বেঁধে তৈরি হয় সূর্য।

এই সদ্য জন্মানো নক্ষত্রের মধ্যে মহাকর্ষের কারণে পরমাণু পরমাণুতে ধাক্কা লেগে প্রচণ্ড তাপ এবং শক্তি তৈরি হয়। এর ফলে জ্বলন্ত আগুনের গোলার মতো সূর্য থেকে তাপ ও আলো, ছড়িয়ে পড়ে।

অবশিষ্ট ধুলো, গ্যাস, সূর্যের আকর্ষণে সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এইসব ধুলোর মেঘ থেকেই তৈরি হয় পৃথিবী ও অন্য গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি | এগুলি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সৌরজগৎ।

 

উত্তর :- সূর্য থেকে যে তীব্র আলোকরশ্মি নির্গত হয়, তার মধ্যে অনেক ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় রশ্মিও থাকে। খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে তাঁর আলোকরশ্মি ও ওইসব ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে চোখের রেটিনার ক্ষতি হতে পারে, এমনকিপুড়ে যেতেও পারে | তাই খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকাতে নেই |

 

উত্তর :- কোনো গ্রহের সূর্যের চারিদিকে একবার প্রদক্ষিপ করতে যে সময় লাগে তা হল ওই গ্রহের একবছর| বুধের কক্ষপথের পরিধি কম হওয়ার জন্য সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে কম সময় লাগে। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ডে একবার প্রদক্ষিণ করে। অন্যদিকে, বুধ মাত্র ৪৪ দিনে একবার সূর্যের চারিদিকে পরিক্রমণ করে, অর্থাৎ বুধের একবছর পৃথিবীর একবছরের থেকে কম।

 

উত্তর :- যে গ্রহগুলি আয়তনে বিশাল এবং বায়বীয় পদার্থে পরিপূর্ণ তাকে অতিকায় গ্যাসীয় গ্রহ বলে। বৃহস্পতি, শনি, নেপচুন এবং ইউরেনাস এই জাতীয় গ্রহ |

 

উত্তর :- সূর্যের বাইরের অংশ (করোনা বা আলোকমণ্ডল) এ ছোটো ছোটো বিস্ফোরণ হলে প্রচুর পরিমাণে আয়নিত কণা, গ্যাস, রশ্মি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একে সৌরঝড় বলে। এই ঝড় 20-25 দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রতি 11 বছর অন্তর এই সৌরঝড় জোরালো হয়।

 

উত্তর :-শুক্র গ্রহের একদিন পৃথিবীর এক বছরের থেকে বড়ো।

 

উত্তর :-শুক্র সৌরজগতের উন্নতম গ্রহ | এর বাইরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা 465°সে। শুক গ্রহের ভিতরের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে যা সূর্যালোককে অধিক শোষণ করে শুক্রের বায়ুমণ্ডলকে বেশি উত্তপ্ত করে। এই কারণে এই গ্রহের উন্নতা সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় বেশি।

 

উত্তর :-পৃথিবী হল সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যেখানে বর্তমানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে এবং সেখানেই আমরা বসবাস করি।

 

উত্তর :-মঙ্গলের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লোহা মিশে থাকায় মঙ্গলের মাটির রং লাল দেখায়।

সৌরজগতে সবকটি গ্রহের মধ্যে (পৃথিবী ছাড়া) কেবল মঙ্গল গ্রহেই কেন প্রাণের খোঁজ চলছে?

সৌরজগতের সবকটি গ্রহের মধ্যে কেবল মঙ্গলের তাপমাত্রা অনেকটা পৃথিবীর মতো। তাই পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বলে মঙ্গলেও প্রাণের খোঁজ চলছে।

 

উত্তর :-মিথেন ও হিলিয়াম গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় নেপচুন গ্রহের রং নীল।

 

উত্তর :- সৌরজগতে এমন কিছু জ্যোতিষ্ক রয়েছে যারা অন্যান্য গ্রহের মতো দেখতে হলেও আয়তনে অন্যান্য গ্রহের তুলনায় খুবই ছোটো । এরা এদের কক্ষপথের ওপর এসে পড়া কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দিতে পারে না। Inter- national Astronomical Union (IAU) এই সকল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গ্রহগুলিকে বামন গ্রহ বলে আখ্যা দিয়েছে।

 

উত্তর :- মহাকাশে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা নিকটতম প্রতিবেশী এবং পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হল চাঁদ।

পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব 3 লক্ষ 84 হাজার কিমি।

পৃথিবী আয়তনের চারভাগের একভাগ আয়তন হল চাঁদের |

চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর 1/6 ভাগ । তাই চাঁদে পৃথিবীর থেকে 6 গুগ বেশি উঁচুতে লাফানো যায় ।

 

উত্তর :- চাঁদের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবীর সঙ্গে কোনো ছোটো জ্যোতিষ্কের ধাক্কা লেগে চাঁদের জন্ম হয়েছে।

 

উত্তর :- স্পেস স্যুট হল মহাকাশে যাবার এমন একটি পোশাক যার ভিতরে হাওয়া ভরা থাকে। বাইরে থেকে আসা কোনো ক্ষতিকারক রশ্মি থেকেও এই পোশাক মানুষকে রক্ষা করে। এ ছাড়া মহাশূন্যে যে সকল পদার্থ ভেসে বেড়ায় সেগুলোর আঘাতজনিত ক্ষয় থেকেও এই পোশাক মানুষকে রক্ষা করে।

 

উত্তর :- স্পেস শাটল হল মহাকাশ থেকে নিরাপদে নেমে আসার বিমান | রকেট যেমন ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশে উড়ে যাবার যন্ত্র, তেমনি স্পেস শাটল মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোবার পরিবহণ যান | উদাহরণ নাসার একটি স্পেস শাটল হল কলম্বিয়া।

 

উত্তর :-  চাঁদে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অনেক ডাকাডাকি করলেও কেউ তা শুনতে পায় না। কারণ চাঁদে কোনো বাতাস নেই | বাতাস না থাকায় শব্দকে কেউ বহন করে নিয়ে যেতে পারে না।

 

উত্তর :-  চাঁদে জীবন না থাকার কারণগুলি হল—

চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকার কারণে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে।

জল ছাড়া জীবজগৎ সৃষ্টি হতে পারে না। চাঁদে জলের কোনো অস্তিত্ব নেই।

চাঁদের অভিকর্ষজ বল পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের 1/6 ভাগ, যা জীবনধারণের অনুপযোগী।

চাঁদের আবর্তন অত্যন্ত ধীর গতিতে হয় বলে একটানা দিন ও রাত হয়। প্রায় দু-সপ্তাহ ধরে বিরাজ করে। ফলে চাঁদের যে অংশটা সূর্যের দিকে থাকে সেই অংশটি উত্তপ্ত হয় এবং বিপরীত দিকটি অন্ধকার ও হিমশীতল থাকে যা প্রাণের সঞ্চার ঘটানোর পক্ষে অনুকূল নয় |

 

উত্তর :- চাঁদের পৃষ্ঠদেশ উদ্ভিদশূন্য, রুক্ষ, অসমান, ছোটো বড়ো গর্তযুক্ত টিলাময় জলবিহীন সমুদ্রযুক্ত | আগ্নেয় লাভার জলোচ্ছ্বাস ও উল্কাপাতের ফলে চাঁদের গায়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।