অধ্যায়-4, হাঙর শিকার

সুয়েজের লোকেরা অর্থাৎ সুরোজ খালের তত্ত্বাবধায়কেরা যদি জাহাজে এসে বিজলি আলোর দেয় তবে রাতেও সুয়েজ খাল পার হওয়া সম্ভব।

সুয়েজ খালের প্রাথমিক বর্ণনায় লেখক বলেছেন এটি সুন্দর প্রাকৃতিক বন্দর, প্রায় তিনদিক বালির ঢিপি ও পাহাড় আর জলও গভীর যেখানে অসংখ্য মাছ আর হাঙর ভেসে বেড়াচ্ছে।

সুয়েজ খালে ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বন্দরে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হাঙর ভাসতে দেখা যায়।

এখানে ওদের' বলতে সাথ ও হাঙরকে বোঝানো হয়েছে।।

জাহাজের স্ত্রী-পুরুষ ও ছেলে-মেয়েরা জাহাজের পিছনের ছাদ থেকে বারান্দা ধরে ঝুঁকে হাঙর দেখার চেষ্টা করছিল।

লেখক স্বামী বিবেকানন্দ ও তার অনুসঙ্গীরা হাঙর দেখার জন্য যখন হাজির হয়েছিলন তখন সেগুলি জাহাজ থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ায় তাদের মনটা ক্ষুণ্ণ হত ।

বনিটো মাছ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে লেখক বলেছেন- এ মাছ তিরের মতো ছুটতে পারে; এর মাংস ও বড়ো সুস্বাদু।

'আড়কাটী মাছ' বা পাইলট ফিস হাওরের চলার পথে সামনে এগিয়ে যায় এবং শিকার দেখিয়ে দিয়ে প্রসাদ বা আসটা পায়।

হাঙরের গায়ের ওপর লেপে থাকা হাওর-চোষক পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

উদ্ধৃত বাক্যে যে দুই প্রকার মাছের কথা বলা হয়েছে তারা হল হাঙরের আগে চলা ও তাকে শিকার দেওয়া আড়কাটা মাছ বা পাইলট ফিস এবং হাওরের গায়ের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকা চোষক মাছ।

হাঙর মনে করে পাইলট ফিস ও শোষক মাছ তার নিজের সহায়-পারিষদ, তাই সে ওদের কিছু বলে না।

এই বাক্যে সেকেন্ড ক্লাসের এক অতি উৎসাহী ফৌজি-লোকের কথা বলা হয়েছে।

হাঙর ধরার জন্য ফৌজি লোকটি একটি বড়ো বড়শি জোগাড় করে তাতে একটা মোটা কাছি ও সের খানেক মাংস দড়ি দিয়ে জোর করে জড়িয়ে বাঁধল।

জাহাজের যাত্রীদের পাহারা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত মিশরি পুলিশের নৌকায় জনৈক দুজন পুলিশ দিব্যি ঘুমুচ্ছিল।

হাওর দেখবার জন্য লেখক পায়ের ডগায় দাঁড়িয়ে বারান্দায় ঝুঁকে 'সচকিতং পশ্যতি তব পন্থানং' হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন।

প্রথম হাওরটি বড়শি ছাড়িয়ে দৌড়ে পালানোর পর মুহূর্তেই দেখা গেল পলায়মান হাওরের গা ঘেঁষে আরও একটা হাঙর টোপ লাগানো বঁড়শির দিকে আসছে, তাই হতাশ হওয়ার প্রয়োজন ছিল না।

হাঙরের সামনে চলা শিকার দেখিয়ে দেওয়া মাছকে বলে পাইলট ফিস বা আড়কাটী মাছ আর আশেপাশে থাকা মাছকে শোষক মাছ বলে।

হাঙর সাধারণত টোপ গেলার আগে সেটিকে নেড়েচেড়ে দেখে তারপর পছন্দ হলে চিৎ হয়ে টোপ গিলে। শেষে আড় (কাত) হয়ে বা পাশ ফিরে টোপ উদরস্থ করে।

টোপ উদরস্থ করার পর থ্যাবড়া হাওরের পেটে টান পড়লে সে মুখ ঝেড়ে টোপটিকে উপরে ফেলে দিতে চাইল।

উলটো উৎপত্তি' কথার অর্থ বিপরীত ঘটনা আসলে উদরস্থ করা বঁড়শি সমেত টোপটি উপরে ফেলতে চাওয়ায় তা তো হলই না বরং বড়শি বিয়ে গেল এটাই ছিল উলটো উৎপত্তি।

কাছি টেনে হাঙরটিকে ওপরে তোলার চেষ্টায় নিযুক্ত মানুষগুলো আরব পুলিশ মাঝিকে সম্বোধন করে হাওরের লেজের দিকে একটা দড়ি বেঁধে দিতে বলল, কারণ তা না হলে এত বড়ো জানোয়ারকে টেনে তোলা যাচ্ছে না।

বড়ো থ্যাবড়া মুখো হাওরের ভারে তার নিজেরই যেসব নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসছিল তার ভার বা কমানোর জন্য বক্তা কেটে দেওয়ার কথা বলল। বীভৎস কাও এইখানেই বিরাম হোক।

উদ্ধৃত অংশে বীভৎস কাও বলতে ধৃত হাওরের পেট চেরা, রক্তস্রোত বয়ে যাওয়া ও অঙ্গের আ ছিন্ন-ভিন্ন দেহের কাঁপতে থাকা, নড়াচড়া করা এবং তার পেট থেকে বেরোনো হাড়, মাংস, চামড়া, ক টুকরো ইত্যাদিকে বুঝিয়েছেন।

স্বামী বিবেকানন্দের 'পরিব্রাজক" গ্রন্থ থেকে সংকলিত সুয়েজ খালে হাঙর শিকার' শীর্ষক ভ্রমণকাহিনি যেয়ে 'হাঙর শিকার' শীর্ষক পাঠ্য প্রবন্ধে উদ্ধৃত বাক্যটি আছে। এখানে তিনি তাঁর ইউরোপ যাত্রাকালীন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। গিয়ে সুরোজ খালে যে পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল তার বর্ণনা প্রসঙ্গে উদ্ধৃত কথাটি বলেছেন।

→ এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন ১৪ জুলাই লোহিত সাগর অর্থাৎ রেড-সী পার হয়ে তাঁদের জাহাজ সুরের ম পৌঁছাল। এখানে জাহাজ থেকে মাল নামবে কিন্তু সমস্যা হল প্লেগ রোগ। রোগটি ইঁদুরবাহিত ছোঁয়াচে। প্লেগ রোগ ব্যক্তি বা ইঁদুরের সংস্পর্শে সুস্থ দেহে এই রোগ সংক্রামিত হতে পারে। এই সময় ভারতবর্ষে প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়ে এব মিশরেও একই সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সুয়েজ খাল মিশর দেশ সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে সরকারি তরফে কিছু নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। আবার ভারতেও এই রোগ ছড়িয়েছিল বলে তারা ভারতীয় জাহাজ থেকে সরাসরি কিছু নি সম্মত ছিল না। ভেবেছিল ছোঁয়াছুঁয়ির ফলে কো রোগ আরও জটিল আকার নেবে।

ফলে জাহাজ থেকে মাল নামলেও সুরেধি কুলিরা জাহাজ ছুঁতে পারবে না বলে জানানো হয়। এ কারণে জাহলে খালাসিদের সমস্যা বাড়ে— লেখকের কথায় খালাসি বেচারাদের আপদ আর কি? তাদেরকেই কুলি হয়ে মাল নামান হচ্ছে। তারা আনাড়ি, মাল নামাতে অভ্যস্ত নয়, তাই তারা অপটু হাতে কেনে মাল তুলে আলটপকা নীচেয় থাকা সুর নৌকোয় ফেলছে। আবার তারাই নীচের গিয়ে সেগুলি ভাঙায় নিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির এজেন্ট ছোটো লঞ্চে করে জাহানে কাছে এসেছে তাদের জাহাজে ওঠবার হুকুম নেই। জাহাজের কাপ্তেনের সঙ্গে নৌকার লোকদের কথাবার্তা হচ্ছে গি পরস্পরের স্পর্শ-শুভেচ্ছা জানানোর উপায় নেই।

প্রাবন্ধিক আরও বলেছেন— সুয়েজ খাল থেকেই ইউরোপের আরম্ভ হচ্ছে ফলে এখানে কারো পার পাওয়ার উপায় নেই পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজরা যেমন কোনো আইনের তোয়াক্কা করত না, এখানে সেই ক্ষমতা দেখানোর উপায় নেই আসলে ইউরোপ নামক স্বর্গে ইঁদুর-বাহন প্লেগ রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জনাই এই বিশাল প্রতিবন্ধকতা। করু প্লেগ-বিষ শরীরে ঢুকলে দশদিনের মধ্যে তা ফুটে বেরোয় ফলে অবধারিতভাবে দশদিন বন্ধ থাকতে হবে। কিন্তু ভাইয়া থাকা লোকদের দশদিন পার হয়েছে, আর অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কিন্তু মিশরি লোকদের সঙ্গে ছোঁয়াছুয়ি হলে দশদিন আটকে থাকতে হবে। ফলে নেপলস ও মাসাইতে লোক নামানো সম্ভব হবে না। তার ওপর আনাড়ি বালতি ধীরে ধীরে মাল নামাচ্ছে বলে সারাদিন লেগে যাবে। অবশ্য রাত্রিতে জাহাজ সুয়েল খাল পার হতে পারে কিন্তু মো শিকারি লোকদের দিয়ে জাহাজে আলো লাগাতে হবে সেহেতু স্পর্শদোষের কারণে তা-ও সম্ভব নয়। ভুলেই দশদিন থাকা। নিতান্ত ছোঁয়াছুয়ির ভয়ে তাই বেগতিক চব্বিশ ঘণ্টা এই সুয়েজ বন্দরেই বসে থাকতে হবে।

 

স্বামী বিবেকানন্দের পরিব্রাজক রে সুয়েজ খালে হাঙর শিকার প্রবন্ধ থেকে হাঙর শিকার' নামে সংকলিত প্রবেশের এই উক্তিটিতে প্রাবন্ধিক ও তার অন্য সীসাধীনের মন ক্ষুদ্র হওয়ার কথা বলা আছে। তিনি এ সুয়েজ বন্দরে ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বন্দরে সবচেয়ে বেশি হাওর দেখা মাজের আগেই যখন শুনলেন জাহাজের পেছনে বড়ো বড়ো হাওর ভেসে বেড়াচ্ছে তখন তাদের ইচ্ছে হল হাওর নেমার। ছাড়া ইতিপূর্বে তারা কেউ কখনও জলজ্যান্ত হারে দেখেনি। গতবারে যখন এসেছিলেন তখন এখানে জাহাজ খুব অল্প ছিল তাও আবার শহরের কাছে, তাই হার দেখার উপায় ছিল না। সুতরাং এবার আর সেই সুযোগের যথার্থ ব্যবহার নিরবে স্থির থাকতে চাইলেন না। হাওরের আসবার খবর শুনতে পেয়েই ভায়া তাড়াতাড়ি জাহাজের পিছন দিকে সেকেন্ড। র যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার স্থাদের ওপর হাজির হলেন। কিন্তু তাঁরা যখন পৌঁছোলেন তখন হার গুলো জাহাজের গ্রন্থ থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, ফলে ভালো করে দেখার কোনো উপায় ছিল না। লেখকের কথায়- তখন হাওর একটু সরে গেছেন'; তাই তাঁদের মনটা বড়ো ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।

হাঙর দেখবার বাংন্যে ছাদের বারান্দায় কাতারে কাতারে স্ত্রী-পুরুষ ছেলেমেয়ে ঝুঁকে হাঙর দেখছে। অথচ ভালো করে দেখবার খায় ছিল না। লেখকের অবশ্য তাতে খুব বেশি অসুবিধা হল না। তিনি জলের দিকে তাকিয়ে দেখলেন—গলে গা মতো একপ্রকার মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে। সেই সঙ্গে খুব ছোটো রকমের এক প্রকার মাছ জলে থিক থিক করছে। মাঝে মতে ইলিশ মাছের মধ্যে দেখতে এক একটা বড়ো মাছ ভিরের মতো এদিক-ওদিক ছুটে চলেছে। প্রাবন্ধিকের মনে হয়েছিল গুলি হাওরের বাচ্চা কিন্তু জিজ্ঞাসা করে জানলেন এগুলি বনিটো মাছ। এদের তেজ ও কো দেখে লেখক খুশি হলেন।

আধাঘন্টা খানেক এরকম বনিটো মাছের ছোটাছুটি দেখে, ছোটো ছোটো মাছের বিলবিল দেখে যখন তিতিরিক্ত তখন সম্বরে দশ বারো জন চিৎকার করে হাঙর আসার কথা জানাল। তাকিয়ে দেখা গেল দূরে প্রকান্ড কালো একটা বস্তু ভেসে। আসছে। মাথাটা থ্যাবড়া, চাল-চলনে সদাইলশাকরি ভাব। ধনিটোর মধ্যে সোঁ সোঁ নেই তবে ঘাড় ফেরালেই এক চক বাড়ি বড়ো হাঙর তার সামনে আড়কাটা মাছ বা পাইলট ফিস আর তার গায়ে লেপটে থাকা হাওর চোষক । লেখক জানিয়েছেন এই প্রকার মাছ ছাড়া হাঙর চলাফেরা করে না। আড়কাটা মাছ হাওরকে শিকার দেখিয়ে দেয়, হাতো বিনিময়ে সদরূপ কিছু পায়। আর চোষক মাছেরা হাওরের গায়ের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে। হাওরগুলো এদেরকে সহায়-পারিষদ মনে করে তাই এদের কিছু বলে না। চোষক মাছের একটা হাত সুতোয় ধরা পড়ে। এই মাছের বুকে জুতোর তলা দিয়ে একটু চেপে পা তুলতেই সেটা পায়ের সঙ্গে উঠে এলো। এরকমভাবেই হাওর চোষক মাছ হাঙরের গায়ে লেগে থাকে।

স্বামী বিবেকানন্দের লেখা 'হাওর শিকার' প্রবন্ধে আমরা আড়কাটা মাছ' তথা 'পাইলট, ফিস' ও 'হার এক -এর কথা আছে। তাদের কথা বলতে গিয়ে লেখক জানিয়েছেন— এই দুই প্রকার মাছ পরিবেচিত তা হয়ে হাতর গুরুন না। তাই সহজেই আমরা বুঝতে পারি হাঙরের গতিবিধি ও চালচলনে এই প্রকার মাজেদের যথেষ্ট ভূমিকা আছে। ব্যাপারে তিনি বলেন হাঙরের আগে আগে তাকে রাস্তা দেখিয়ে চলার কাজ হল - পাইলট ফিসের। হাওরকে সে-ই শিকার দেখায়। এই কামের ফলে তারা প্রসাদ স্বরূপ শিকারের সামান্য কিছু পেলেও পেতে পারে। কিন্তু হাঙ্করের বিকট মুখ ও তার ভঙ্গিমা। দেখে তা যে খুব সফল হয় তা মনে হয় না। হাওরের পাইলট হিসেবে যে সব মাছ কাজ করে তাদের একটি প্রজাতি হল। পর জানলেন এরা তা নয়। এই বনিটো সম্পর্কে তিনি আগেও পড়েছেন। এই মাছ মালদ্বীপ থেকে আমদানি হয়। এদের কাঁটা। এই মাছের গতি ও তেজ তীব্র। বনিটো মাছ দেখতে ইলিশের মতো। লেখক প্রথমে একে বাচ্চা হাঙর মনে করলেও লাল ও সাদ। মাছটা বেশ বড়ো হলেও তিরের মতো ছুটতে পারে। পরিষ্কার স্বচ্ছ জলে এর চলা অনাভা লেখক। আকাঙ্ক্ষা লেখক জাহাজের পিছনে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাে করেও যখন বেশ খানিকটা বিশ্ব এখন অভ্যভাতা দেখে তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য  করেছিলেন। মোট কথা হাওরের সম্পাদের মধ্যে আজকারী তথা পাইলট ফিসের গুরুত্ব অপরিসীম।

আর গ্লোবক হাওরের আশেপাশে ঘোরে। মাঝে ঘাড়ে চড়ে বসে। চোষকের বুকের কাছে প্রায় চিড়া মাঝে ইংরেজি রবারের মতো লা ল কিরকিরে দেখা ঠিক এই স্থানটি তারা হাওরের চিপসে থাকে। ফলে মনে এই মাছগুলি হান্তরের ি বেড়াচ্ছে। একজন গোলপানা স্থানটি করে। তারপর তুলতেই দেখা পায়ের সঙ্গে চিপসে এল।

হাওরের সঙ্গে থাকা পাইলট ফিস চোষক মাছ সম্পর্কে জানাতে প্রাবন্ধিক একটি অপূর্ব সুন্দর ইদু টেনেছেন। ভগীরথের আনান শঙ্খধ্বনি করে ভগীরথ আগে চালু আর তার পিছন অনুগামিনী হয়ে বয়ে চলেছে। লেখকেরা কথানা-- যান ভগ্নীর শঙ্খ বাজাই কা—শঙ্খধ্বনি তো যায় কিন্তু আগে চলেছেন পাইলট ফিস। নাড়িয়ে আসছেন থ্যাবড়া। তাঁর আশেপাশে নেতা করছেন হারে চোয়া মাছ" ।

'হাঙর শিকার' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক স্বামী বিবেকানন্দ বেশ সরস ভক্তিমায় সুয়েজ খালে হাওর শিকারের দৃশ্যটি না করেছেন। জাহাজেরই এক ফৌজির অতি আগ্রহে হাঙর ধরার বন্দোবস্ত হয়। এ কাজের জন্য তিনি জাহাজ খুঁজে কুয়োর ২৪ তোলার ঠাকুরদাদা' রূপ একটি বিশাল বড়শি আনলেন। তাতে সেরখানেক শুয়োরের মাংস কষে বেঁধে তাকে আবার মোটা তাহির সঙ্গে আটকে দেওয়া হল। ফাতনা হিসেবে বিশাল এক কড়িকাঠ বেঁধে সেটিকে বড়শি সুখ নদীতে ফেলা হল। ফাতমাটি। হাতের নীচের পাহারারত নৌকার পাশে পড়ায় জনৈক আরব মিঞাকে দিয়ে তাকে একটু সরিয়ে দেওয়া হল।

তারপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেশ বড়ো ধরনের একটা হাওর এল। জাহাজ হতে প্রায় দুশো হাত দূরে সেটিকে প্রথম ভিস্তির। শেকের মতো ভেসে উঠতে দেখে চিৎকাররত ছেলের দলকে চুপ করতে বলা হল। কারণ চিৎকারে হাঙরের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। লেখকের বর্ণনায়—চুপ চুপ ছেলের দল। হাঙর পালাবে। বলি ভহে। সাদা টুপিগুলো একবার নাবাও না, যেটা যে ভড়কে যাবে। সবাই চুপ। প্রথমে মুখ ঠেকিয়ে ঘুরে গেলেও পরক্ষণেই আবার ঘুরে টোপ মুখে পুরল। একাধিকবার তাঁর ঘুরিয়ে ছোট মুখে পুরে চিৎ হয়ে পড়তেই চল্লিশ-পঞ্চাশজন মিলে কাহি ধরে টান মারল। কিন্তু হায় ধরা পড়ল না—টোপ খুলে গেল। হাঙর গেল পালিয়ে। সবাই আফশোশ করতে লাগল। কিন্তু গতস্য শোচনা নাস্তি। অতপর আবার প্রতীক্ষা। পরক্ষণেই দেখা গেল পলায়মান হাওরের পাশ ঘেঁষে দ্বিতীর আর একটি হাঙর আসছে। এবার সবাই চুপচাপ, আর

রাতারি করা যাবে না, ভালো মতন টোপ গেলার সময় দিতে হবে। প্রথমে টোপটিকে নিয়ে সে নেড়ে চেড়ে দেখল, পরে আছে সেটিকে গিয়ে ফেলল। একটু অবসর নিয়ে যেই না ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিল তখনই পড়ল টান। বিস্মিত হাঙর মুখ বেড়ে টোপটিকে ফেলতে চাইল, আর তাতেই বিষম বিপত্তি-বড়শি বিধে গেল। তারপর ছেলে, বুড়ো জোয়ান কাছি * টানতে লাগল, প্রাণপণ টানে হাওরের আধখানা শরীর জলের ওপরে এলে আরব পুলিশ-মাঝিদের দিয়ে হাওরের কাছের দিকে দড়ি বাঁধানো হল। তারপর দুদিক দিয়ে টেনে ঝুলন্ত অবস্থাতে হাওরের পেট চিরে বেরিয়ে আসা নাড়ি-ভুড়ি কেউ জলে ফেলে বেশ খানিকটা ভার কমানো হল। যে নাড়িভুঁড়ি কাটল তার তো কাপড় জামা রক্তে ভেসে গেল কিন্তু তখন কাপড়ের মায়া করলে চলবে না। অবশেষে বড়শি বিশ্ব হাঙরটিকে জাহাজের ওপর ফেলে কড়িকাঠ দিয়ে মাথায় মেরে তাকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলা হল। সবশেষে তার পেট চিরে দেহ ছিন্নভিন্ন করার যে পরিস্থিতি হল তা অতি বীভৎস।

স্বামী বিবেকানন্দের লেখা 'হাঙর শিকার' প্রবন্ধে বড়শি বিশ্ব দুটো হাঙরের কথা আছে। প্রথম হাঙরটি উঠতে আহত হলেও রক্ষা পায় এবং তার ছুটে পালানোর মুহূর্তেই দ্বিতীয় অন্য একটি হাজার তারই গা ঘেঁষে টোপের দিকে আসে। দ্বিতীয় হাঙরটিকে টোপের দিকে আসতে দেখেও আহত প্রথম হাঙরটি কিছু বলল না বা আগত হাঙরটিও, দিত হাজারটির শুশ্রুষার ব্যাপারে কিছুই না জানানোর প্রসঙ্গেই সকৌতুকে প্রাবন্ধিক প্রশ্নোদৃত কথাটি বলেছেন। এই যেমন হতে পারত তা এরকম— পলায়মান বাঘা হাঙর নিশ্চিতভাবে আগত থ্যাবড়ামুখোকে সাবধান করে দিতে * ওসব' বলতে প্রাবন্ধিক হাঙরদুটির মধ্যে কী আলাপ-আলোচনা হতে পারত তার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সম্ভাবনাময় সেই তার ক্ষতস্থান দেখাত। আর বলত ওখানে একটা নতুন জানোয়ারের আগমন ঘটেছে, তার মাংস সুস্বাদু কিন্তু হাড় গেছে এগুলি এই হাড়ের কাছে মাথমের মতো। এ বলে অবশ্যই বাঘা তার পাত চোয়ালের অবস্থা দেখিয়ে সেখানে না উনার নির্দেশ দিত। আর আগন্তুক থ্যাবড়ামুখো ও বাঘাকে প্রাচীন বয়সসুলভ অভিজ্ঞতায় চ্যাঙ মাছের পিত্তি, কুঁজো ভেটকির এতকাল হাওরগিরি করেও এমন সুস্বাদু, সুগার মাংস জোটেনি। এযাবৎ যত রকমের হাড়গোড়, ইট, পাথর, কাঠ, সনিকের ঠাণ্ডা সুরুয়া ইত্যাদি সমুদ্রজাত মহৌষধের কোনো না কোনো ব্যবহার করার উপদেশ দিত। হাওরের ভাষা তারা দুজন যে এই কথাগুলিই বলল, তা বোঝাতেই 'এসব' কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ওসব না হওয়ার পরিণতি নবাগত হাওরটির পক্ষে অতি ভয়ানক হয়েছিল। মানুষসুলভ ধাত বা বৈশিষ্ট্য - পলায়মান বাঘা, আগন্তুক থ্যাবড়াকে আসল খবর কিছু না দিয়ে মুচকি হেসে "ভালো আছো তো হে, আমি একটি করে ভাব দেখিয়ে সরে পড়ল। তারপরেই ঘটল মহাবিপদ আগম্বুক থ্যাবড়া সামনে টোপ পেয়ে প্রথমে নেড়ে চেড়ে দে আড়ে সেটিকে গিয়ে ফেলল। একটু অবসর নিয়ে যেই না ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিল তখনই পড়ল টান। বিস্মিত ঝেড়ে টোপটিকে ফেলতে চাইল, আর তাতেই বিষম বিপত্তি—বড়শি বিধে গেল। তারপর ছেলে, বুড়ো জোয়ান কাছি ধে লাগল, প্রাণপণ টানে হাওরের আধখানা শরীর জলের ওপরে এলে আরব পুলিশ-মার্কিদের দিয়ে হাওরের লেজের দিকে বাঁধানো হল। তারপর দুদিক দিয়ে টেনে কুলস্থ অবস্থাতে হাওরের পেট চিরে বেরিয়ে আসা নাড়িভুড়ি কেটে জলে ফেলে  খানিকটা ভার কমানো হল। যে নাড়িভুঁড়ি কাটল তার তো কাপড় জামা রক্তে ভেসে গেল; কিন্তু তখন কাপড়ের মান্না শুধু চলবে না। অবশেষে বড়শি বিশ্ব হাঙরটিকে জাহাজের ওপর ফেলে কড়িকাঠ দিয়ে মাথায় মেরে তাকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলা সবশেষে তার পেট চিরে দেহ ছিন্নভিন্ন করার যে পরিস্থিতি হল তা অতি বীভৎস।

স্বামী বিবেকানন্দের লেখা 'হাঙর শিকার' প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত এই উক্তিটিতে হাওরটিকে জাহাজে তো পর সেটিকে কীভাবে কেটে ফেলা হল, সমস্ত জাহাজ জুড়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হল তাকেই বীভৎস কাণ্ড বলে উল্লেখ হয়েছে। অবশ্য কাণ্ডটির শুরু হয়েছে হাওর শিকারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ফৌজি লোকটির বড়শি জোগাতে শুয়োরের মাংস বেঁধে দেওয়া থেকে শুরু করে হাওরের পেট চেরা, তাকে ছিন্নভিন্ন করার বর্ণনায় এই বীভৎসতার স্বরূপ পায়। তবে প্রথম দিককার বর্ণনায় বীভৎসতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম দ্বিতীয় থ্যাবড়ামুখো হাঙর বড়শি সহ টোপ গিলে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিতেই টান পড়ল। তাতেই বীভৎসর প্রাবল্য প্রকট হতে থাকে। থ্যাবড়া পেটের নাড়িভুঁড়িতে টান পড়তেই টোপটিকে ওপরে ফেলে দিতে চাইল তাতে বল আরও বিধে গেল। তারপর ছেলে-বুড়ো-জোয়ান মিলে হাঙরটিকে টেনে তুলবার চেষ্টা করল। হাওরের আধখানা দেহ জনে ওপরে আসতেই দেখা গেল বড়শিটা ঠোঁট এফোঁড়-ওফোঁড় করে বিঁধে গেছে। হাওরের পেটের নীচ দিয়ে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেল। ভার কমানোর জন্য ওগুলো না কাটলে নয়। আর তা করতে গিয়েই কাপড়-জামায় রান রক্তের ফোয়ারা ছুটতে লাগল—তাতেই কাপড়-জামা ভিজে একশা। তারপর হাঙরটিকে টেনে তোলা হল জাহাজের ওপর। ধপাস করে পড়তেই সাবধানের মার নেই' এই আপ্তবাক্য করে কড়িকাঠ দিয়ে হাওরের মাথায় বাড়ি মারতে লাগল। রক্তাক্ত ফৌজি যার উৎসাহ বেশি ছিল তিনিই কড়িকাঠ উচি হাওরের মাথায় আঘাত করে তার মৃত্যুকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিলেন। মেয়েরা—'আহা কী নিষ্ঠুর, মেরো না' ইত বলে চিৎকার করতে লাগল অথচ কেউ দেখা থেকে বিরত হবে না। এখানেই মানুষের নিষ্ঠুরতার চরম প্রকাশ লক্ষ যায়। এরপর হাঙরের পেট চেরা হল, রক্তের নদী বয়ে জাহাজকে ভাসিয়ে দিল, হাওরের ছিন্ন অস্ত্র, ভিন্ন-দেহ ও ভিন্ন হয়েও বেশ খানিকক্ষণ কাঁপতে লাগল। এসবের পরেও সে মরেনি অথচ তার পেট থেকে চামড়া, হাড়, মাংস, কাঠের ফুটা বেরুল এক রাশ। সমস্ত বর্ণনাই বীভৎসভাবে স্পষ্ট করে।

বীভৎস কাণ্ডটার প্রভাবে জাহাজের সব জিনিসের মধ্যেই সেই হাত্তরের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। সে এক বিকট হা অবস্থা। তার জন্যেই প্রবন্ধিকের সেদিনকার খাওয়া-দাওয়ার দফা মাটি হয়ে যায়। তিনি গন্ধের দরুন খেতে পারেননি ।

স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের কাছে বীর সন্ন্যাসী, সুমহান ধর্ম-কর্ম-বীর হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি বার সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গদ্য রচয়িতাও বটে। তাঁর প্রবন্ধ ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি সমকালীন সংস্কাতে সংকীর্ণ-চিত্ত জাতির হৃদয়ে উদার মানবিকতার সঞ্চার করেছিলেন। তাঁর লেখার মধ্যে ধর্মসাধনা, দেশপ্রেম, ভক্তি, আগ মনন ও ভাবুকতার পরিচয় মেলে। এ ব্যাপারে তাঁর লেখা প্রবন্ধ ও চিঠিপত্র উজ্জ্বল উদাহরণ। হুতোম ওরফে কার্লা সিংহের পথ ধরেই বাংলা প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব।

বিবেকানন্দের প্রবন্ধে বিষয়বৈচিত্রা, ভাষার অসাধারণ তেজঃপুঞ্জ এবং কথ্য ভাষার বিস্ময়কর প্রয়োগ-নৈপুণ্য লক্ষ করা যায়। সাধু ও চলিত দুই রীতিতেই তিনি তাঁর বিশিষ্টতার ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর ভাষার গতি যেমন দ্রুত তেমনি পৌরুষে তা ঘনগিনা। চলিত ভাষার তারল্য কোথাও নেই। শব্দ প্রয়োগে স্বামী বিবেকানন্দ সংস্কারহীন, বক্তৃতামূলক। মাঝে মাঝে তাঁর ভাষায় আবেগের সঞ্চার করেছে কিন্তু তাতেও মেঘের গম্ভীর নাদই অনুরণিত হয়। কোনো রকম তারলা বা কোমল লালিত্য প্রশ্রয় পায় না। এ ব্যাপারে পাঠ্য প্রবন্ধ থেকে উদাহরণ দেওয়া যাক – “সেও প্রাচীন বয়স সুলভ অভিজ্ঞতা সহকারে চ্যাং মাছের পিত্তি, কুঁজো ভেটকির পিলে, ঝিনুকের ঠান্ডা সুরুয়া ইত্যাদি সমুদ্রজ মহৌষধির কোনো-না-কোনোটা ব্যবহারের উপদেশ দিত।

চলিত ভাষার প্রকৃষ্ট রূপ ও শিল্পনৈপুণ্য সম্পর্কে বিবেকানন্দ এক পর্বে লিখেছেন- “চলিত ভাষায় কি আর শিল্প-নৈপুণ্য হয় না। স্বাভাবিক ভাষা ছেড়ে একটা অস্বাভাবিক ভাষা তৈয়ার করে কি হবে? ...স্বাভাবিক যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি, যে ভাষায় ক্রোধ, দুঃখ, ভালোবাসা ইত্যাদি জানাই, তার চেয়ে উপযুক্ত ভাষা হতেই পারে না; সেইভাব, সেই ভঙ্গি, সেই সমস্ত ব্যবহার করে যেতে হবে। আর বিবেকানন্দ সেটাই করেছেন 'হাঙর শিকার' প্রবন্ধে। একারণেই তিনি ব্যবহার করেন তির্যক শ্লেষাত্মক ভঙ্গিমা। বলেন “এ তো ভারতবর্ষ নয় যে, গোরা আদমী প্লেগ আইন-ফাইন সকলের পার—এখানে। ইউরোপের আরম্ভ। স্বর্গে ইঁদুর বাহন প্লেগ পাছে ওঠে তাই এত আয়োজন।”

চলিত বাংলা নাগরিক ইডিয়ম বিবেকানন্দের রচনায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত। এরকমই কিছু শব্দ 'হাঙর শিকার' প্রবন্ধে পাওয়া যায়। যেমন—চুঁতছাড়ের ন্যাঠা, শোরের মাংস, চক্কর, পা ফেটে চৌচাকলা, নাড়িভুড়ি ইত্যাদি। বিবেকানন্দ মুখের ভাষার টান ও উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যকে সার্থক স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধু ও চলিত রীতি গ্রহণ করে তিনি বাংলাভাষার বিশিষ্ট ভঙ্গি তৈরি করেছেন। তবে একথা বলা আবশ্যক বিবেকানন্দ বিশুদ্ধ শিল্পসৃষ্টির সংকল্পে লেখা শুরু করেননি—তাঁর স্বদেশপ্রেম, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি তাঁর সমস্ত রচনার প্রেরণাস্বরূপ। বিবেকানন্দের যথার্থ সন্ন্যাসীয় প্রবল ব্যক্তিত্ব তাঁর রচনা ভঙ্গিমার উৎস। আর সেই ব্যক্তিত্ব প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ ও সহাস্য বলেই তাঁর গদ্যরীতিও প্রাণচঞল ও সরস।

জাহাজে করে ইউরোপ যাওয়ার সুয়েজ খালে হাওর শিকার করার উৎসাহে একজন বেশ তোড়জেলার করে। আগ্রহে লোকজন করে জাহাজ তোলপাড় করে তার সামগ্রিক কাজকরে নিদর্শন দেখার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাবন্ধিক বলেছেন।

ডলি টোনি সেকেন্ড হাওর অত্যুৎসাহী। আতিশয্যে লোকটি প্রথমেই একটা ভীষণাকৃতির বড়শি জোগাড় তাতে সের খানেক মাংস দিয়ে তাে এই বড়শির সঙ্গে মোটা একটা কাছি হল। বড়শির হাত চারেক বাদ ফাতনার মতো করে একটা কাঠ ধো দেওয়া হয়। পড়শি ফেলে দেওয়া কিছু জাহাজের নীচে একটি কাছে ফাতনা আটকে নৌকাটি জাহাজের যাত্রীদের নজরবন্দি রেখেছিল। নৌকার মধ্যে আবার দিব্যি ঘুমিয়ে ছিল। নেশা। কাছাকাছি কড়িকাঠরূপ সেটিকে যাতে একটু ঠেলে দেওয়া হয় জন্য জাহাজ থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়। ফলে আরব পুলিশ মুছতে মুছতে উঠে পড়েন। মারাত্মক কিছু একটা ঘটেছে ভেবে তিনি বেশ প্রস্তুত হলে পরে ব্যাপারটি খোলসা হয়।

বুঝতে পারে ঝামেলা না। হাওর ধরবার জন্য ফাতনা কড়িকাঠ ব্যবহৃত সেটিকে একটু দুই ঠেলে দেওয়া তার জন্যই চিৎকার করে জাহাজ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। বিষয়টা কাছে পরিষ্কার একটি নিশ্বাস ছেড়ে আক্ষণ-বিস্তৃত হাসি হেসে বল্লির সাহায্যে সেটিকে ফেললেন। তারপর হাঙরের উত্তীর্ণ হয় থাকার পালা। সবাই পায়ের দাঁড়িয়ে বারান্দায় ঝুঁকে তব পন্থানং উৎসাহের আতিশয্যে হাওরের আগমন প্রতীক্ষায় উৎকণ্ঠিত রইল। বড়শি হাওরকে জাহাজে তোলবার চলি পরাশ লোকও হাজির। অবশেষে ধরা না। শেষে কিছুক্ষণের হাঙর এল এব পড়ল। তাকে তোলার জন্য জাহাজ জুড়ে বিস্তর চিৎকার চেঁচামেচি। হাওর জন্য ফৌজি যে উৎসাহ তারই হাওর হল ফেলা এবং বীভৎসভাবে তাকে পরিণতিস্বরূপ সমস্ত জাহাজ জুড়ে হাঙরের গন্ধ প্রাবণিকের সেদিনকার দফারফা হল।