অষ্টম পাঠ

উঃ-‘ভারততীর্থ’ কবিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষকে ‘মহামানবের সাগরতীরে' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নানান নদীর ধারা এসে যেমন সাগরে মিলিত হয়, তেমনি ভারতবর্ষের পুণ্যভূমিতে যুগযুগান্ত ধরে নানা জাতি, বর্ণ, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এসে একত্রে মিলিত হয়েছে। ভারতমাতা দু-বাহু বাড়িয়ে তাদের আপন করে নিয়েছেন। তাদের পাদস্পর্শে ভারতভূমি আরও পবিত্র হয়ে উঠেছে। এইভাবেই এদেশে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উঃ-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ভারততীর্থ’ কবিতায় ভারতবর্ষের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে এই পঙ্ক্তিটিতে—

‘ধ্যানগম্ভীর এই যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর।'

উঃ-ভারতবর্ষকে পদানত করতে শক, হুন, পাঠান, মোগল, ইংরেজ প্রভৃতি বিদেশি শক্তি অতীতে এদেশে এসেছিল।

ভারতবর্ষে এসে এদেশের সর্বসংস্কৃতির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এইসব বিদেশি জাতি তাদের স্বাতন্ত্র্য হারিয়েছে। তারা হিংসা ভুলে ‘এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’ একদেহে লীন হয়ে গিয়েছে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ভারততীর্থ’ কবিতা থেকে গৃহীত। শিল্পবিপ্লবের ফলস্বরূপ পশ্চিমি দেশগুলি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বাণিজ্য ও যুক্তিবাদ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। নতুন নতুন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে সভ্যতার পটপরিবর্তন করে সারা বিশ্বকে তারা অবাক করে। সভ্যতার এই নবরুপের পরিস্থিতির কথাই এখানে বলা হয়েছে।

কবির মতে, ভারতবর্ষের উচিত তার মানবতাবাদ, ব্রহ্মদর্শন, অধ্যাত্মচেতনা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পাশ্চাত্যের সামনে তুলে ধরা। যাতে দানপ্রতিদানের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মিলিত হয়ে মানবসভ্যতার রূপকে উন্নততর করে গড়ে তুলতে পারে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ভারততীর্থ’ কবিতা থেকে গৃহীত। 'রুদ্রবীণা' হল দেবাদিদেব মহাদেবের বীণা।

কবি রবীন্দ্রনাথের দৃঢ় বিশ্বাস, রুদ্রবীণা বেজে উঠলে মানবজীবনে পরিবর্তন সাধিত হবে। রুদ্রবীণার সুরে অশুভ শক্তির বিনাশ হয়ে শুভ শক্তির জয় ঘোষিত হবে। সমস্তরকম বিদ্বেষ ভুলে মানুষ একাত্ম হয়ে উঠবে। তাই এই আশা নিয়েই কবি রুদ্রবীণায় বেজে ওঠার জন্য প্রত্যাশী।

উঃ-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ‘ভারততীর্থ’ নামক কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে। ভারতবর্ষ এমন এক মহান দেশ, যে দেশে ঘটেছে সর্বজাতির মহামিলন। অথচ এই মহান দেশ ইংরেজদের দ্বারা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল। এই দেশের শান্ত-নিরীহ মানুষকে ভোগ করতে হয়েছিল দুঃসহ অত্যাচার-নিপীড়নের যন্ত্রণা। কত তাজা প্রাণ অকালে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছিল। পবিত্র হোমানলে তাই এখনও জ্বলতে দেখা যায়। ‘দুখের রক্তশিখা।' এই দুঃখযন্ত্রণার মুহূর্তগুলিই আমাদের সহ্য করে যেতে হবে, এটাই আমাদের ভাগ্যে লেখা আছে।

ভাগ্যের নিদারুণ লিখন পাঠ করে কবি লজ্জা, ভয়, মান-অপমান দূরে সরিয়ে, দুঃসহ ব্যথার অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ হতে সকল ভারতবাসীকে আহ্বান করলেন।

উঃ-‘গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'ভারততীর্থ’ কবিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃঢ় প্রত্যয় এই যে, প্রজ্বলিত হোমানলে দুঃখের সব রক্তশিখা জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যাবে। দুঃখের অন্ধকার রাত শেষ হয়ে মুক্তির নবোদিত সূর্যালোকে সূচনা হবে নতুন দিনের। সেই আলোয় মসৃণ হবে জীবনের পথ। বহু প্রাণের বিনিময়ে জন্ম নেবে এক ‘বিশাল প্রাণ’ । মহামানবের তীর্থসম এই 'বিপুল নীড়’ ভারতবর্ষ পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'ভারততীর্থ’ কবিতা থেকে সংগৃহীত। এখানে কবি ভারতবর্ষের মূল সংস্কৃতি যেসব সংস্কৃতির মিলনে গড়ে উঠেছে, সেই ‘বিচিত্র সুর’-এর কথাই বলেছেন।

সুদূর অতীত থেকে ভারতবর্ষের বুকে নানা জাতি, নানা ধর্ম ও নানা সম্প্রদায়ের মানুষ নানা সময়ে নানা বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে। এদেশে এসে এদেশের ঐক্যের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ভারতসত্তায় তারা একত্রে মিলিত হয়ে আত্মার আত্মীয় হয়ে গিয়েছে। তাই ‘বিচিত্র’ বলা হয়েছে।

গিরিপর্বত-মরুপথ পেরিয়ে যুদ্ধের উন্মত্ততা নিয়ে রণদামামা বাজিয়ে বহু বিদেশি জাতি এদেশ আক্রমণ করেছিল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও লোভের বশবর্তী হয়ে। কিন্তু এদেশের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তারা একদিন এদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে এদেশেরই একজন হয়ে গিয়েছে। তাই কবি তাদের মধ্যে তাঁর আত্মার আত্মীয়কে খুঁজে পান। আর সেই কারণেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুর কবির রক্তে ধ্বনিত হয়।

উঃ-‘গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ভারততীর্থ' কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকল মানব- সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মার অভিষেকে আর্য- অনার্য-হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান, ইংরেজ, পতিত, ব্রাহ্মণ সকলকেই সব বিভেদ ভুলে এগিয়ে আসতে বলেছেন।

এখানে দেশমাতা অর্থাৎ ভারতমাতার কথা বলা হয়েছে। ।

কবির দেশমাতা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে, নতুন জীবনের আলোয় দেশমাতাকে আলোকিত করে স্বাধীনতার সিংহাসনে অভিষিক্ত করার কথা কবি বলেছেন।

জাতিবর্ণধর্মনির্বিশেষে সকল মানুষের মহামিলনের মাধ্যমে ভারতের বুকে ‘মঙ্গলঘট’ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমস্ত বৈচিত্র্য ও বিভেদ ভুলে সকলের স্পর্শে ‘ভারতের তীর্থনীর’কে পবিত্র করার মাধ্যমেই দেশমাতৃকার অভিষেক সম্পন্ন ও সার্থক হবে।

উঃ-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ভারততীর্থ’ কবিতায় ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাস প্রকাশ পেয়েছে।

সুদূর অতীত থেকে ভারতবর্ষের সম্পদে লুব্ধ হয়ে এদেশে বহু বিদেশি জাতির আগমন ঘটেছে। এদেশে সাম্রাজ্য বিস্তার ও লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে এসেছে আর্য, শক, হুন, দ্রাবিড়, পাঠান, মোগল, ইংরেজ প্রভৃতি দুর্ধর্ষ জাতি। তারা তাদের তীক্ষ্ণ তরবারি ও রক্তচক্ষু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিরীহ ভারতবাসীর উপর; রক্তে রঞ্জিত করেছে ভারতবর্ষের পুণ্যমাটি। কখনও তারা শাসক হিসেবে এদেশ শাসন করেছে, কখনও বা লুণ্ঠনকারীর ভূমিকা নিয়েছে। তারা এদেশে এসেছিল হিংসায় উন্মত্ত হয়ে। কিন্তু এদেশে থাকতে থাকতে এদেশের শান্তি-মৈত্রীর বাণীতে দীক্ষিত হয়ে তারা একদিন এদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে এদেশেরই একজন হয়ে উঠেছে। জাতিধর্মবর্ণসম্প্রদায় সব কিছু ভুলে তারা ‘এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’ একসুত্রে বাঁধা পড়েছে। ভারতবর্ষ হয়ে উঠেছে মহামানবের মিলনক্ষেত্র। এইভাবেই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভারততীর্থ’ কবিতায় ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন।

উঃ-ওংকার ধ্বনি : ‘ওঁ’ শব্দটি সংস্কৃত ‘অব্’ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার উনিশটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। 'ওংকার ধ্বনি’ হল ঈশ্বরবাচক ধ্বনি, ব্রহ্মের শব্দপ্রতীক। এটি সব মন্ত্রের বীজমন্ত্র। বেদ, উপনিষদ, গীতা ও অন্যান্য হিন্দুশাস্ত্রের সর্বত্রই এই ধ্বনির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতবর্ষ একসময় সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্যের বেদমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিল। আর এই প্রসঙ্গেই আলোচ্য শব্দটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে।

শক : শক হল একটি প্রাচীন জাতিবিশেষ, যাদের আদি বাসস্থান ছিল মধ্য এশিয়ার সিরদরিয়া নদীর উত্তর অঞ্চলে। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে বাসভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করে দুর্বল গ্রিক রাজ্যগুলিকে পরাজিত করে শক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। শকদের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন রুদ্রদামন। গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ভারতের বুক থেকে শকদের নিশ্চিহ্ন করেন। ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসের আলোচনাপ্রসঙ্গে কবি শক জাতির উল্লেখ করেছেন।

হুন : হুন হল এক অসভ্য জাতিবিশেষ। মধ্য এশিয়ার মোঙ্গলদের একটি শাখা হল এই হুন জাতি। পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যভাগে এরা ভারত আক্রমণ করে। মালবের রাজা যশোবর্মন এই দুর্ধর্ষ হুনদের প্রতিহত করেন। ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে কবি এই হুন জাতির প্রসঙ্গ এনেছেন।

মোগল : মঙ্গোলিয়ার অধিবাসী তাতার জাতির শাখা-বিশেষ হল মোগলরা। মোগল নেতা তৈমুরলঙ্ ভারত আক্রমণ করে দিল্লি দখল ও লুণ্ঠন করেন। তাঁর বংশধর বাবর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা হয়। ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসকে তুলে ধরতে গিয়ে কবি মোগলদের কথা উল্লেখ করেছেন।

দ্রাবিড় : দ্রাবিড় হল ভারতবর্ষের প্রাচীনতম এক জাতি। আর্যরা এদেশে আসার অনেক আগে থেকেই এই জাতির অধিবাসীরা এদেশে বসবাস করত। ভারতবর্ষের দক্ষিণ অংশে এদের বাস। তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, টুডু প্রভৃতি হল দ্রাবিড় ভাষাবংশের ভাষা। দ্রাবিড়দের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি আজও ভারতবর্ষের বুকে গৌরবজনক ভূমিকায় আসীন। ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসের কথা তুলে ধরতে গিয়ে কবি দ্রাবিড় প্রসঙ্গটি এনেছেন।

ইংরেজ : ইংল্যান্ডের অধিবাসীরা ইংরেজ নামে খ্যাত। প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী ছিল এই ইংরেজ জাতি। এদেশে বাণিজ্য করতে এসে এদেশের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা এদেশে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রায় ২০০ বছর ভারতবর্ষের বুকে তারা রাজত্ব করে। বহু মুক্তিকামী স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রাণের বিনিময়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষের বুক থেকে ইংরেজ-বিতাড়ন সম্ভব হয়। ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসের আলোচনাপ্রসঙ্গে কবি ইংরেজদের কথা আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরেছেন।

উঃ-উদ্ধৃত অংশে ‘হেথায়’ বলতে ভারতভূমিকে বোঝানো হয়েছে।

‘নরদেবতা’ হলেন মানুষের দেবতা, যিনি প্রতিটি মানুষের মধ্যেই নিহিত আছেন।

উঃ-উদ্ধৃত অংশে ‘সেথা’ বলতে পশ্চিমি দেশগুলির কথা বলা হয়েছে।

পশ্চিমি দেশগুলি আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যায় উন্নত। সেখান থেকে সেই প্রযুক্তিবিদ্যার ধারা নিয়ে আসাকে কবি উপহার নিয়ে আসা বলেছেন।

উঃ-কবি রবীন্দ্রনাথকে সমসাময়িককালে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়েরা গোঁড়া বর্ণবিদ্বেষী ছিল। তারা সমাজের শ্রেষ্ঠ বর্ণ বলে বিবেচিত হত। তাই কবি তাদের মনের এই বর্ণবিদ্বেষী ভাবনা দূর করে মনকে শুচি বা পবিত্র করে সকলের সুরে একসঙ্গে সুর মেলাতে বলেছেন।

উঃ-উৎস : উদ্ধৃতাংশটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ভারততীর্থ’ নামক কবিতা থেকে গৃহীত।

প্রসঙ্গ : পশ্চিমি দেশগুলির উন্নত বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ সভ্যতার অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। আর এই প্রসঙ্গেই আলোচ্য উদ্ধৃতাংশের অবতারণা।

তাৎপর্য : শিল্পবিপ্লবের ফলশ্রুতিস্বরূপ পশ্চিমি দেশগুলির উন্নততর জীবনাদর্শ সারা বিশ্বকে অবাক করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কাছ থেকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে উন্নততর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যুক্তিবাদকে। তেমনি ভারতবর্ষেরও উচিত তার দর্শন, অধ্যাত্মবাদ, সংস্কৃতি পাশ্চাত্যের সামনে তুলে ধরা, যাতে দানপ্রতিদানের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মিলে এক উন্নততর মানবসভ্যতা গড়ে তুলতে পারে।

উঃ-কবি রবীন্দ্রনাথ আলোচ্য উক্তিটির মধ্য দিয়ে বলতে চেয়েছেন যে, ভারতবর্ষের বুকে মহা-ওংকারধ্বনির মন্ত্রে মানুষের মনের তারে বেজে উঠেছিল একাত্ম হবার বাসনা। এই বাসনা পরস্পরের মধ্যে এক মিলন সংকেতের সূচনা করে। এই মিলন সংকেতই হল ভারতবর্ষের মূলমন্ত্র।

উঃ-সাগর অগাধ জলরাশির ভাণ্ডার। সেই জলরাশিতে কত না নদী এসে মিলিত হয়। ভারতবর্ষও সেই অগাধ জলরাশিরূপ সাগরের মতো। এখানে নানা সময়ে নানা সাম্রাজ্যলোভীর দল এসে মিলিত হয়েছে নানা উদ্দেশ্যসাধনের জন্য। এরা আবার বিলীনও হয়ে গিয়েছে নিজেদের ক্ষমতার দম্ভে। কবি বলেছেন ভারতের পবিত্র করা তীর্থনীরে সবাই স্নান করেছে। ভারতবর্ষ নানা জাতির নানা ধর্মের সমন্বয়ে গড়া। এখানে একের মনে অন্যের জন্য টান অনুভূত হয়, যা অন্য কোনো দেশে বিরল। তাই কবি ‘সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থনীরে’এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে সকলকে একত্র হতে বলেছেন।

উঃ-বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের ‘মসার’ (পিস্তল)-এর খোঁজ নেওয়ার জন্য বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে তার ইনটারভিউ নিয়ে পিস্তলের খোঁজ নিয়ে এসেছিলেন।

উঃ-বেআইনি ‘মসার’ পিস্তল রাখার অপরাধে পুলিশ দুকড়িবালা দেবীকে গ্রেফতার করেন।

স্পেশাল ট্রাইবুনালের বিচারে দুকড়িবালা দেবীর দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

উঃ-চন্দননগরের বিভিন্ন বাড়িতে যখন ইংরেজের পুলিশ আচমকা তল্লাশি করতে শুরু করে তখন চন্দননগরে লুকিয়ে থাকাটা ননীবালা দেবী নিরাপদ বলে মনে করেন না। তাই বাধ্য হয়ে তিনি চন্দননগর থেকে পালিয়ে যান।

তিনি পালিয়ে পেশোয়ায় গিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি কলেরায় আক্রান্ত হন।

উঃ-কাশীর ডেপুটি পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জি ধৃত ননীবালা দেবীকে জেরা করে কোন্ কোন্ বিপ্লবী নেতাকে তিনি চেনেন এবং তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তাঁর কতটা ধারণা আছে তা জানতে চাইতেন। ননীবালা দেবী সব অস্বীকার করে বলতেন তিনি কাউকেও চেনেন না এবং কিছু জানেন না।

তার ফলশ্রুতিতে তাঁকে মাটির নীচে অবস্থিত আলোবাতাসহীন দমবন্ধ করা ঘরে তালাবন্দি অবস্থায় তিনদিন প্রায় আধঘণ্টা করে আটকে রাখা হত। আধঘণ্টা পরে তার অর্ধমৃত অবস্থা হলেও, পুলিশ তাঁর মুখ দিয়ে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারত না।

উঃ-কাশীর জেলের ‘পানিশমেন্ট সেল'টিতে একটামাত্র দরজা ছিল, কিন্তু আলোবাতাস প্রবেশ করার মতো কোনো জানালা বা দরজা ছিল না। জায়গাটি ছিল একেবারে কবরের মতো।

হুলিয়া জারি হওয়া বিপ্লবীদের সম্পর্কে তথ্য বার করার জন্য ননীবালা দেবীকে তিনদিন প্রায় আধঘণ্টা ধরে আলোবাতাসহীন অন্ধকার সেলে আটকে রাখা হত। তৃতীয় দিনে আটকে রাখার সময় ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট। সেদিন তালা খুলে দেখা গিয়েছিল তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন। এইভাবে তাঁর স্নায়ুশক্তিকে চূর্ণ করে দেওয়ার জন্য তাঁর উপর নানাভাবে অত্যাচার করা হত।

উঃ-ননীবালা দেবী আই. বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি সাহেবকে দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন।

দরখাস্তটিতে ননীবালা দেবী বাগবাজারে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদামণি দেবীর কাছে তাঁকে রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন।

বিপ্লবী ননীবালা দেবী গোল্ডি সাহেবের হাতে দরখাস্তখানি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহেব সেটি ছিঁড়ে তাঁরই সন্মুখে ছেঁড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিয়েছিলেন।

উঃ-স্বাধীনতা সংগ্রামী কমলা দাশগুপ্ত রচিত পাঠ্য 'স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ নামক গদ্যাংশে দুকড়িবালা দেবী বোনপো নিবারণ ঘটককে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

দুকড়িবালা দেবী দেশের হয়ে কিছু করার জন্য, দেশের হয়ে প্রাণ দেওয়ার জন্য, দেশকে ইংরেজ সরকারের অধীনতা থেকে মুক্ত করার জন্য স্বদেশিদের দলে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন।

উঃ-‘হুলিয়া’ শব্দটির অর্থ হল পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করার জন্য তার চেহারার বর্ণনা-সহ বিজ্ঞাপন।

এঁরা হলেন বিপ্লবী নেতা যদুগোপাল মুখার্জি, অমর চ্যাটার্জি, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জি, নলিনীকান্ত কর, বিনয়- ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী।

এঁদের আশ্রয়দাত্রী ছিলেন ননীবালা দেবী।

‘হুলিয়া’ থাকার জন্য এরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটাতেন আর নিশাচরের মতো শুধু রাতে সুবিধামতো বেরিয়ে পড়তেন। নিষ্ঠুর শিকারির মতো পুলিশ পড়লেই এই পলাতকেরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন, আর পুলিশ এদের ধরার জন্য হয়রান হয়ে ফিরত।

উঃ-স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী অনেক খ্যাতনামা বিপ্লবীদের কথা আমরা জানি। কিন্তু কমলা দাশগুপ্ত তাঁর ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ রচনায় যে দুজন বীরাঙ্গনার কথা বলেছেন, খ্যাতনামা বিপ্লবীদের তুলনায় তাঁদের অবদান কম নয়।

ভ্রাতুষ্পুত্র অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ননীবালা দেবী পলাতক অমর চ্যাটার্জি ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে রিষড়ায় নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। এরপর অমর চ্যাটার্জি পলাতক হন। কিন্তু ‘মসার’ পিস্তলের সন্ধান না দিয়েই গ্রেফতার হন রামচন্দ্র মজুমদার। ননীবালা দেবী রামবাবুর স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের গুপ্ত খবর নিয়ে আসেন। এরপর চন্দননগরে বিপ্লবীদের গৃহকর্ত্রী সেজে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখান থেকে বাল্যবন্ধুর দাদার সঙ্গে পেশোয়ারে গিয়ে কলেরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় ধরা পড়েন। তাঁকে জেলের ‘পানিশমেন্ট সেল’-এ তিনদিন প্রায় আধঘণ্টা আলোবাতাসহীন অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। অর্ধমৃত অবস্থায়ও তিনি মুখ খোলেন না। প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে আসা হলে খাওয়াদাওয়া  বন্ধ করে দেন। এমনকি তাঁর দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলায় পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডির গালে চড় মারতেও তিনি পিছপা হন না।

অপরদিকে বোনপো নিবারণ ঘটকের কাছে বিপ্লবের দীক্ষা নিয়ে দুকড়িবালা দেবী রডা কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা সাতটা মসার পিস্তল নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। পুলিশের তল্লাশিতে ধরা পড়ে গেলেও পিস্তলের গোপন কথা তিনি স্বীকার করেননি। সামান্য গৃহবধূ হয়ে কোলের শিশুকে ফেলে তিনি চলে যান পুলিশের সঙ্গে। বিচারে তার দু-বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। এইভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী স্বনামধন্য খ্যাতনামা বিপ্লবীদের তুলনায় ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর অবদান সামান্য নয়, তা স্বীকার করতেই হবে।

উঃ-ননীবালা দেবী এবং দুকড়িবালা দেবী ছাড়াও আমি বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কথা জানি।

মাতঙ্গিনী হাজরা : ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিপ্লবী মাতঙ্গিনী হাজরা এক উল্লেখযোগ্য নাম। ‘গান্ধি বুড়ি' নামে পরিচিত এই নারী মাত্র আঠারো বছর বয়সে বিধবা হন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর স্থানীয় কর্মীরা শোভাযাত্রা বের করলে তিনি সেই শোভাযাত্রায় যোগ দেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে তমলুকে মহকুমা কংগ্রেস সম্মেলন এবং ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস মহিলা সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। কলেরা বা বসন্ত রোগে আক্রান্ত মানুষকে তিনি নিঃস্বার্থ সেবা দান করতেন। ৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন'-এর কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি এক বিরাট দল গঠন করে থানা দখল করেন। ইংরেজের নির্বিচার গুলিতে এই দল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু তিনি নির্ভয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি পতাকা ছেড়ে দেননি। জাতীয় পতাকা বুকে চেপে 'বন্দেমাতরম' ধ্বনি দিতে দিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার : ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা বিপ্লবী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বোর্ডের আই এ পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম হন। এরপর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যায় থেকে বিএ পাস করে তিনি চট্টগ্রামের নন্দনকানন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদে নিযুক্ত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ঢাকার বৈপ্লবিক সংগঠনের কর্মী ছিলেন, চট্টগ্রামের বিপ্লবী দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবী দলের সঙ্গে ইংরেজ মিলিটারির প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে তিনি সূর্যসেনের সহযোগী ছিলেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়িতলা অঞ্চলে ইংরেজদের ক্লাব তিনি আক্রমণ করেন। ক্লাব ঘরের কাছেই ছিল সেনাশিবির। পিস্তলের গুলি আর ইংরেজদের চিৎকার শুনে তারা ছুটে আসে। তখন প্রীতিলতা সঙ্গীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মাত্র একুশ বছর বয়সে প্রীতিলতার মৃত্যু হয়।

উঃ-বিপ্লবী ননীবালা দেবী খবর এনেছিলেন।

বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের কাছ থেকে তিনি পিস্তলের খবর জেনে এনেছিলেন।

উঃ-পুলিশ জানতে পেরেছিল যে, যে ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে জেলে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে তাঁর স্ত্রী নন।

পুলিশ জানতে পারেনি যে, রিষড়াতে বিপ্লবীদের আশ্রয়দাত্রী ছিলেন এই ননীবালা দেবী।

উঃ-চন্দননগরের ওই বাড়িতে বিপ্লবী যদুগোপাল মুখার্জি,  অমর চ্যাটার্জি, অতুলকৃষ্ণ ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জি, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত এবং বিজয় চক্রবর্তী আত্মগোপন করেছিলেন।

উঃ-কাশীর ডেপুটি পুলিশ-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জি ননীবালা দেবীকে মাটির তলার জানালাহীন অন্ধকার শাস্তি-কুঠুরিতে তৃতীয় দিনে প্রায় ৪৫ মিনিট বন্দী করে রেখেছিলেন। এই ছিল স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা।

উঃ-দুকড়িবালা দেবীর বোনপো নিবারণ তাঁর কাছে যে সাতটা মসার পিস্তল লুকিয়ে রাখতে দিয়েছিলেন, সেগুলিই ছিল রডা কোম্পানির চুরি যাওয়া জিনিস।

উঃ-দেশের জন্য আত্মনিবেদিত হয়েও দুকড়িবালা দেবী তাঁর মাতৃসত্তা হারিয়ে ফেলেননি। জেলে থাকা সত্ত্বেও শিশুরা যেন তাঁর অভাববোধ না করে, তাই তিনি চিঠিতে এ কথা লিখেছিলেন।

উঃ-উদ্ধৃতিটিতে বিপ্লবী ননীবালা দেবীর কথা বলা হয়েছে।

ননীবালা দেবী বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন। তাঁকে গ্রেফতার করতে পারলে জেরা করে একে একে অনেক রাজবিদ্রোহীকে ধরা যাবে। সে-কারণে তাঁকে গ্রেফতার করতে ব্রিটিশ পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছিল।

উঃ-ননীবালা দেবীকে কাশীর জেল থেকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে আনার পর তিনি অনশন শুরু করেন। তখন স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেট গোল্ডি সাহেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন কি করলে তিনি অনশন তুলবেন। উত্তরে ননীবালা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রীর কাছে যেতে চাইলে গোল্ডি তাঁকে দরখাস্ত লিখতে বলেন। কিন্তু লেখা হলে গোল্ডি দরখাস্তটি ছিঁড়ে ফেলে দিলে ননীবালা যেভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন, তার বর্ণনা দিতে গিয়েই এই উপমা দেওয়া হয়েছে।

উঃ-বিপ্লবী দুকড়িবালা দেবী তাঁর বোনপো বিপ্লবী নিবারণ ঘটককে এ কথা বলেছিল। তাঁর মধ্যে স্বদেশি চেতনা পূর্ণমাত্রায় বহমান ছিল। তিনি অন্তরে সর্বদা ইংরেজদের হাত থেকে দেশ মুক্তির স্বপ্ন লালন করতেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনে জীবন বলিদান করতেও যে তিনি পিছপা নন, তা উক্তিটির মধ্য দিয়ে সুপ্রকাশিত হয়েছে।

উঃ-১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট তারিখে জার্মানি থেকে জাহাজে রডা কোম্পানির ২০১টি অস্ত্রপূর্ণ বাক্স এসে পৌঁছেছিল।  বিপ্লবী হরিদাস দত্ত গাড়োয়ানের ছদ্মবেশে একটি গোরুর গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন, যাতে ছিল ৯টি বাক্সভরা কার্তুজ এবং ৫০টি মসার পিস্তলভরা একটি বাক্স।

এইভাবে গাড়োয়ানের ছদ্মবেশ ধারণ করে সকলকে বোকা বানিয়ে ইতিপূর্বে কোনো বিপ্লবী পিস্তল চুরি করে দলের কাজে লাগায়নি। তাই এই কৌশলটিকে অভিনব বলে বর্ণনা করা হয়েছে।