বিষাক্ত বর্জ্য কী? 2
জীবজগতের ওপর যেসব বর্জ্য খারাপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, তাকে বিষাক্ত বর্জ্য বলে। বিষাক্ত বর্জ্য ও জীব অবিশ্লেষ্য বর্জ্য। ডিডিটি, প্লাস্টিক, কীটনাশক প্রভৃতি হল বিষাক্ত বর্জ্য।
অবিষাক্ত বর্জ্য কী? 2
যেসব বর্জ্য জীবজগতের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না, তাকে অবিষাক্ত বর্জ্য বলে। এসব বর্জ্য মূলতঃ জীব বিশ্লেষ্য পদার্থ। খাবারের অবশিষ্ট অংশ, বা বাড়িতে উৎপাদিত জৈব বর্জ্য, কৃষিতে সৃষ্ট বর্জ্য এই ধরনের বর্জ্য।
বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার বলতে কী বোঝ? 2
বাড়ির ছেঁড়া কাপড়, কাগজ, বাতিল পদার্থকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলাই হল বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার। বর্তমানে এই বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
লিচেট কাকে বলে? 2
বৃষ্টির জল ল্যান্ডফিলের বর্জ্য পদার্থ ধুয়ে জলাশয়ে বা ভৌমজলে মেশে। এইসব ময়লা ধোয়া বা বর্জ্য ধোয়া জলকে লিচেট (leachate) বলে। লিচেট জল ভৌমজলকে দূষিত করে, নদী, পুকুরের জলকেও দূষিত করে দেয়।
পুনঃচক্রীকরণ কী? 2
পুনঃচক্রীকরণ হল কোনো বর্জ্যকে একেবারে পরিত্যাগ না করে তা থেকে নতুন দ্রব্য নির্মাণ করা। ভাঙা কাচ, ছেঁড়া কাপড়, টায়ার, প্লাস্টিক দ্রব্যকে একেবারে বাতিল না করে সেগুলি থেকে আবার নতুন দ্রব্য বানানো যায়। যেমন— ভাঙা কাচ থেকে নতুন কাচের দ্রব্য, ছেঁড়া কাপড় থেকে কাগজ তৈরি প্রভৃতি।
আখের ছিবড়ে বা ব্যাগাসে কী? 2
চিনিকলগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণ আখের ছিবড়ে উৎপন্ন হয়। ওইসব বর্জ্য থেকে কাগজের মণ্ড (paper pulp) বানানো যায়। যা দিয়ে কাগজ তৈরি হয়। গাছের তন্তুর বদলে আখের ছিবড়ে ব্যবহারের ফলে অকারণে বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ করা গেছে।
বর্জ্য দূষণকে ‘তৃতীয় দূষণ’ বলা হয় কেন? 2
বর্তমান সময়ে পরিবেশদূষণের অন্যতম মাধ্যম বা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল বর্জ্যদূষণ। অনেকে একে তৃতীয় দূষণও বলেন। জলদূষণ এবং বায়ুদূষণের পর এই দূষণের তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় একে ‘তৃতীয় দূষণ’ বলে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য পদার্থ সম্পর্কে কী জান? 3
◉ হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থেকে বিপুল পরিমাণে যে বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তাকে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য বলে। এইসব বর্জ্যগুলি ঠিকমতো বা নিয়মানুযায়ী অপসারিত না হলে এর থেকে নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্যকে দুভাগে ভাগ করা যায় – ➀ সংক্রামক বর্জ্য ➁ অসংক্রামক বর্জ্য।
➀ সংক্রামক বর্জ্য: মোট চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্যের প্রায় 10-12 শতাংশ বর্জ্য হল সংক্রামক বর্জ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—[i] ব্যবহৃত সূচ, সিরিঞ্জ, ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, ক্যাথিটার, প্রভৃতি, [ii] প্যাথোলজিক্যাল বা অপারেশন-সংক্রান্ত আবর্জনা, [iii] রং, তুলো, গজ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়, ব্যান্ডেজ, মানব অঙ্গের ব্যবচ্ছিন্ন অংশ, [iv] চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ প্রভৃতি।
➁ অসংক্রামক বর্জ্য: চিকিৎসা-সংক্রান্ত আবর্জনার প্রায় 90 শতাংশই এই জাতীয় বর্জ্য। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য—[i] প্লাস্টিক, খাবারের প্লাস্টিক থালা, ওষুধের মোড়ক, [ii] রোগীদের না খাওয়া খাবার, [iii] অফিসের আবর্জনা, কাগজ, শুকনো ফুল ইত্যাদি।
পরিবেশের কঠিন বর্জ্যের ধারণা দাও। 3
◉ যেসব বর্জ্য বা আবর্জনা পরিবেশে কঠিন অবস্থায় রয়েছে। তাদের বলা হয় কঠিন বর্জ্য। আমাদের বাড়ি, অফিস কলকারখানা, স্কুল, সর্বত্র থেকে কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়ে চলেছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
➀ গৃহস্থালির কঠিন বর্জ্য: রান্নাঘরে সবজির খোসা, খাবারের বাতিল অংশ, প্লাস্টিকের প্যাকেট, বাতিল হওয়া লেপ-কাঁথার অংশ, বাসি ফুল, ছেঁড়া কাপড়, পুরোনো ক্যালেন্ডার, ভাঙা কাপ-প্লেট, কাচের টুকরো, পুরোনো জুতো, খবরের কাগজ, ব্যবহৃত চা পাতা প্রভৃতি গৃহস্থালির কঠিন বর্জ্যের অন্তর্গত।
➁ কলকারখানার কঠিন বর্জ্য: কারখানার বাতিল যন্ত্রপাতি, ধাতুর টুকরো, ব্যবহার করা প্লাস্টিক, শ্রমিকের খাবারের বাতিল অংশ, টায়ার, টিউব, ফ্লাই অ্যাশ, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি কলকারখানার কঠিন বর্জ্যের মধ্যে পড়ে।
➂ কৃষিক্ষেত্রের কঠিন বর্জ্য: ধানের খোসা, আখের ছিবড়ে, খড়, কাঠের গুঁড়ো, পাটকাঠি, প্রাণীজ বর্জ্য, গোবর ইত্যাদি কৃষিক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত বর্জ্য।
➃ প্যাথোলজিক্যাল বর্জ্য: সূচ, সিরিঞ্জ, কাঁচি, ছুরি, কাপড়, ব্যান্ডেজ, গজ, তুলো ইত্যাদি এর অন্তর্গত।
পরিবেশে তরল বর্জ্যের উৎসের ধারণা দাও।
◉ যেসব বর্জ্য পদার্থ তরল আকারে রয়েছে তারা হল তরল বর্জ্য। এগুলোর প্রতিটি অংশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়—
➀ গৃহস্থালির তরল বর্জ্য: রান্নাঘরে থালা বাসন ধোয়া জল, ঘর মোছার পর নোংরা জল, শৌচাগারের জল, স্নানের ব্যবহার করা জল এবং কাপড় জামা কাচার পর সৃষ্ট জল তরল বর্জ্য হিসেবে পরিগণিত হয়।
➁ কারখানার তরল বর্জ্য: কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা পরম জল, অর্ধ তরল জল, তৈলাক্ত জল ইত্যাদি হল। কারখানার তরল বর্জ্যের উদাহরণ। এ ছাড়া সোনার গহনা নির্মাণ কারখানা থেকে নির্গত জলও তরল বর্জ্য হিসেবে গণ্য হয়।
➂ কৃষিক্ষেত্রের তরল বর্জ্য: কৃষিতে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক, বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে এসে নদীতে পড়ে, এগুলিও কৃষিজাত তরল বর্জ্য।
পরিবেশে গ্যাসীয় বর্জ্যের ধারণা দাও। 3
সাধারণত কলকারখানা, যানবাহন, বিভিন্ন গবেষণাগার ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন গ্যাস যা পরিবেশের ক্ষতি করে তাকে গ্যাসীয় বর্জ্য বলে। গ্যাসীয় বর্জ্য বর্তমানে পরিবেশের তথা জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য দায়ী। এইসব গ্যাসীয় বর্জ্যের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফারের বিভিন্ন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন কলকারখানা, যানবাহন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত দূষিত পদার্থগুলি বায়ুতে মিশছে। আর বায়ুর বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এইসব গ্যাসীয় বর্জ্যগুলির প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গ্রিনহাউস এফেক্ট নামে পরিচিত।
পৌরসভার বর্জ্য সম্পর্কে ধারণা দাও। 3
পৃথিবীর প্রতিটি শহরেই বর্জ্য উৎপাদিত হয়ে চলেছে। ছোটো ছোটো শহরগুলির তুলনায় বড়ো বড়ো শহরগুলি বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পরিবেশে নির্গমন করে। এর মধ্যে কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই শহরগুলি গড়ে দৈনিক 3000-5000 মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদন করে। এইসকল বর্জ্যের মধ্যে গাছের পাতা, খড়, শাকসবজির অবশিষ্টাংশ, আধপোড়া কয়লা, ভাঙা মাটির ও কাচের পাত্র, ছেঁড়া কাগজ, ডাবের খোলা, পাথর, চামড়া, ধাতু, প্লাস্টিকের বিভিন্ন সব জিনিস, হাড়জাতীয় পদার্থ, ছাই, থার্মোকলের দ্রব্য, বালব, নানারকমের ইলেকট্রনিকস দ্রব্য বর্জ্য হিসেবে জমা হয়।
জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলতে কী বোঝ? 3
জৈব ভঙ্গুর হল এমন এক ধরনের বর্জ্য যা যে-কোনো জীব দ্বারা (মুলত আণুবীক্ষণিক) বিশ্লেষিত হয় এবং অতি সহজেই মাটিতে মিশে যায়। শাকসবজির খোসা, পাতা, শুকনো ফুল, বাড়ির বাগানের লতা-পাতা, ডাল, ডাবের খোলা, পুরোনো কাগজ, বইখাতা প্রভৃতি হল জৈব ভঙ্গুর। এইসব বর্জ্যকে অর্থাৎ জটিল জৈব পদার্থকে সরল যৌগে পরিণত করার জন্য হাজার হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অমেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে। এই সকল প্রাণীরা এই জৈব ভঙ্গুর পদার্থগুলিকে বিশ্লেষিত করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় ৷
জীবের স্বাস্থ্যের ওপর বর্জ্য কী প্রভাব ফেলে? 3
◉ হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও সমস্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে নির্গত বর্জ্য নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে— [1] কৃমি, [2] ফুসফুসের রোগ, [3] টিটেনাস, [4] হেপাটাইটিস-বি, [5] পেপটিক, [6] নানা ধরনের চামড়ার রোগ, [7] নানা ধরনের পেটের রোগ, [8] জন্ডিস, [9] চোখের অসুখ, [10] টাইফয়েড ও আরও অন্যান্য সংক্রামিত রোগ ছড়াতে পারে। এইসব বর্জ্য স্তূপাকারে রাস্তার ধারে জমে থাকলে তা দৃশ্যদূষণ ঘটায়। উপযুক্ত সময়ে বর্জ্য সরিয়ে না নিলে ইঁদুর, ছুঁচো ও অন্যান্য রোগজীবাণু বাহকদের সংখ্যা বেড়ে যায় ও রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ল্যান্ডফিল বা ভরাটকরণ পদ্ধতিতে কী কী সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে? 3
◉ ল্যান্ডফিল বা ভরাটকরণ পদ্ধতিতে সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে
সুবিধা: [1] মাটির মধ্যে ঢাকা দেওয়া থাকে বলে বর্জ্য থেকে কোনো রোগ জীবাণু বায়ুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে না।
[2] বর্জ্য ঢাকা দেওয়া থাকে বলে বায়ুদূষণ হয় না, তাই পরিবেশ দুর্গন্ধহীন থাকে।
[3] বর্জ্যে আগুন লাগার সম্ভাবনাও থাকে না।
[4] ঢাকা দেওয়া জৈব বর্জ্য পদার্থের পচন ঘটলে নানা ধরনের গ্যাস উৎপন্ন হয়। ওই গ্যাস আলাদা করে সংগ্রহ করা যায়। যা নানা কাজে লাগে এবং ওই গ্যাস সংগ্রহ করলে বায়ুতে দূষিত গ্যাসের সংমিশ্রণ ঘটেনা।
অসুবিধা: অনেকসময় চাপা দেওয়া বর্জ্য পদার্থের মধ্যে দিয়ে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে মাটির নীচের চলে যায় এবং মাটির স্তরকে ভয়ংকর দূষিত করে। এই বর্জ্য ধোয়া জলকে লিচেট জল বলে।
পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাব কতখানি? 5
◉ পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাবগুলি হল নিম্নরূপ —
➀ দৃশ্যদূষণ: যেখানে সেখানে বর্জ্য জমে থাকলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয়। পরিবেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয় ও ময়লা ও আবর্জনা দৃশ্যদূষণ ঘটায়।
➁ বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাব: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য জল, মাটি ও বায়ুকে দূষিত করে। ওইসব পদার্থ পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট করে দেয়। বিভিন্ন শারীরিক রোগের সৃষ্টি হয়, মানুষসহ অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ পরিবেশ দূষণের ফলে আক্রান্ত হয়।
➂ জমির উর্বরতা হ্রাস: কৃষি, গৃহস্থালি, শিল্পকেন্দ্রের আবর্জনা কৃষিজমিতে পড়লে ওই জমি অনুর্বর হয়ে যায়। জমির চারিত্রিক পরিবর্তন হয়।
➃ জলের ওপর প্রভাব: বর্জ্য পদার্থ নদী, জলাশয়, সাগরে পড়লে ওই জল দূষিত হয়ে যায় এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি হয়। মাছেদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়। জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মৃত্যু হয়।
➄ বায়ুতে প্রভাব: বায়ুতে দুষিত বর্জ্য মিশলে বায়ুর দূষণ ঘটে। এমনকি বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়।
➅ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: দূষিত, বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাবে জলাভূমি, বনভূমির জীববৈচিত্র্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
➆ মানুষের ওপর প্রভাব: কঠিন বর্জ্য থেকে টাইফয়েড, জন্ডিস, আন্ত্রিক, চামড়ার রোগ, ফুসফুসের রোগ ও অন্যান্য রোগের আক্রমণ হয়।
বর্জ্য পদার্থকে কীভাবে সম্পদে পরিণত করা যায়? 4
◉ মানুষের উন্নত চিন্তা, ভাবনা, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা যায়, যেমন—
➀ পুনর্ব্যবহার: বাড়ির পুরোনো কাগজ, ছেঁড়া কাপড়, বাতিল পদার্থ দিয়ে নতুন নতুন ঘর সাজানোর বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা যায়।
➁ পুনঃচক্রীকরণ: ভাঙা কাচ, পুরোনো কাগজ, টায়ার, প্লাস্টিক প্রভৃতি দ্রব্য থেকে যথাক্রমে নতুন কাচ, নতুন কাগজ, পিচবোর্ড, কাগজের মণ্ড, নতুন টায়ার, প্লাস্টিক প্রভৃতি তৈরি করা যায়।
➂ সার উৎপাদন: জীব বিশ্লেষক পৌর আবর্জনা থেকে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল বা সম্ভাব্য পদ্ধতি প্রয়োগ করে দুচার মাসের মধ্যে জৈব সার উৎপাদন করা যায়। যা কৃষিক্ষেত্রে খুব কাজে লাগে।
➃ নীচু জমি ভরাট করা: কোনো নীচু জলাজমিকে ভরাট করতে বর্জ্যের প্রয়োজন হয়। এতে খরচও কমে আবার বর্জ্যও সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়।
➄ রাস্তা তৈরি: বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এবং জীব অবিশ্লেষ্য পদার্থ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমছে তেমনি বর্জ্যের ব্যবহার বাড়ছে।
➅ জ্বালানি: পয়ঃপ্রণালীর মলমূত্র, গোবর, পৌর আবর্জনা, শুকনো পাতা, প্রভৃতি থেকে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস উৎপাদন সম্ভব, যা জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্জ্য জলকে কীভাবে শোধন করা যায়? 3
◉ বাড়ির নোংরা জল, কারখানার বর্জ্য জলকে কতকগুলি পদ্ধতির মাধ্যমে শোধন করা যেতে পারে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
➀ প্রাথমিক শেখিন: প্রথমে বর্জ্য জলের ভাসমান আবর্জনাকে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে নেওয়া হয়। এরপর ওই বর্জ্য জলকে বড়ো কক্ষে প্রবেশ করিয়ে সেখানে নুড়ি পাথর, বালি প্রভৃতিকে অধঃক্ষিপ্ত করানো হয়।
➁ দ্বিতীয় পর্যায় বা মাধ্যমিক বা জৈব শোধন: প্রথম স্তরের শোধিত জলকে দ্বিতীয় স্তরে পাঠানো হয়। এই পর্যায়ে জলের BOD কমানো হয়। এইস্তরে জলের ওপরের স্তরে প্রচুর গাদ উৎপাদন হয়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় জলের ওপর থেকে গাদকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
➂ তৃতীয় বা অন্তিম পর্যায়: জৈব শোধনের পর জলকে বৃহৎ কোনো জলাশয়ে প্রবেশ করানো হয়। এই জলাধারে জল বেশ কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। কারণ এই সময় জলে দ্রবীভূত নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও বিষাক্ত যৌগগুলি দূরীভূত হয়ে যায়।
বর্জ্য পদার্থ থেকে কীভাবে শক্তি উৎপাদন করা যায়? 4
◉ পৃথিবীর নানা দেশে বর্জ্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে যেমন শক্তির সংরক্ষণ হয় তেমনি বর্জ্যের কারণে পরিবেশের দূষণ কম হয়-
➀ জৈব পদার্থের দহনে উৎপন্ন শক্তি: [i] ধানের ছিবড়ে, গমের মণ্ড, আখের ছিবড়ে, জঙ্গলের কাঠকুটো এবং অন্যান্য জৈব বর্জ্য জ্বালিয়ে দিলে তাপ উৎপাদন করা যায়। ওই তাপ থেকে উন্নত চুল্লির সাহায্যে শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব।
[ii] কঠিন বর্জ্য পদার্থকে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে ভস্মভূত করে শক্তি সংগ্রহ করা হয়।
➁ পাইরোলিসিস প্রক্রিয়ায় জ্বালানি উৎপাদন: অক্সিজেন বিহীন দহনকে পাইরোলিসিস প্রক্রিয়া বলে। এই পদ্ধতিতে কঠিন বর্জ্য পদার্থের অক্সিজেনবিহীন দহনের ফলে তাপীয় বিয়োজন ঘটে। এতে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ, জলে অদ্রাব্য তেল, মিথানল এবং অন্যান্য পদার্থ উৎপন্ন হয় এবং বর্জ্যের কঠিন অবশেষ পড়ে থাকে। এইসব কঠিন অবশেষকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
➂ জৈব বর্জ্য থেকে দাহ্য গ্যাস উৎপাদন: [i] জৈব বর্জ্য থেকে গ্যাসিফায়ার যন্ত্রের মাধ্যমে পৌর বর্জ্য, কৃষিজ বর্জ্য, গাছের ডাল-পাতা পোড়ানো হয়। ওইসব পদার্থ পোড়ানোর জন্য যে গ্যাস উৎপন্ন হয় তা দিয়ে দাহ্য গ্যাস পাওয়া যায়।
[ii] জৈব রাসায়নিক পদ্ধতিতে জৈব বর্জ্য থেকে দাহ্য গ্যাস উৎপাদন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জৈব-রাসায়নিক পদ্ধতিতে কঠিন জৈব বর্জ্য পদার্থ থেকে দাহ্য গ্যাস উৎপাদন করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জৈব বর্জ্য পদার্থের প্রক্রিয়ায় পচন ঘটিয়ে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করা হয়। বর্তমানে ল্যান্ডফিল এবং বায়োগ্যাস প্রকল্পের মাধ্যমেও দাহ্য গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে।