তৃতীয় অধ্যায় ➤ পদার্থঃ গঠন ও ধর্ম

চাপের মাত্রীয় সংকেত
=  বলের মাত্রীয় সংকেত /  ক্ষেত্রফলের মাত্রীয় সংকেত

= MLT-2 / L2 = ML-1 T-2
চাপের মাত্রা হল ভরে 1, দৈর্ঘ্যে –1 ও সময়ে –2।

CGS পদ্ধতি ও SI-তে চাপের একক হল যথাক্রমে dyn/cm2 ও N/m2 বা পাঙ্কাল (Pa)।
1 N/m2 = 105 dyn / 104cm2 =10dyn/cm2

একটি পাত্র নেওয়া হল ।  পাত্রের গায়ে একটি ছিদ্র করে ছিদ্রটিকে ছিপি দিয়ে আটকানো হল । পাত্রটিকে জলপূর্ণ করে ছিপি খুলে দিলে দেখা যাবে, ছিদ্রপথে জল সবেগে বেরিয়ে আসছে । এবার হাত দিয়ে ছিদ্রটিকে চেপে ধরা হল, দেখা গেল ছিদ্র দিয়ে জল আর বেরোতে পারছে না । কিন্তু এর জন্য যথেষ্ট বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে । এর কারণ, জল পাত্রের দেয়ালে একটি বল প্রয়োগ করছে ।  তাই জল যাতে বেরিয়ে না আসে তাই হাত দিয়ে সমপরিমাণ ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে। দেয়ালের একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে জল যে বল প্রয়োগ করছে তাই হল জলের চাপ। এই পরীক্ষা থেকে বোঝা গেল, তরল চাপ প্রয়োগ করে।

তরলের মধ্যে কোনো বিন্দুর চারিদিকে একক ক্ষেত্রফলযুক্ত কোনো তলের ওপর তরল লম্বভাবে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে ওই বিন্দুতে তরলের চাপ বলা হয় ।
তরল-সংলগ্ন কোনো তলের ওপর তরল লম্বভাবে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে তরলের ঘাত বলা হয়।
মনে করি, তরলের মধ্যে কোনো বিন্দুর চারিদিকে A ক্ষেত্রফলের ওপর তরল লম্বভাবে F বল প্রয়োগ করে।
সুতরাং, ওই বিন্দুতে তরলের চাপ, P = F/A    বা , F =PA
অর্থাৎ, তরলের ঘাত = চাপ X ক্ষেত্রফল |

তরলের চাপের বৈশিষ্ট্য—

(1)তরলের মধ্যে কোনো বিন্দুতে তরলের চাপ গভীরতার ওপর নির্ভরশীল,পাত্রের আকারের ওপর নয়। (2) স্থির তরলের অভ্যন্তরে যে-কোনো বিন্দুতে তরল সবদিকে একই পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে।
(3) স্থির তরলের অভ্যন্তরে যে কোনো অনুভূমিক তলের প্রতিটি বিন্দুতে তরলের চাপ সমান ।

কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো বিন্দুর চারিদিকে একক ক্ষেত্রফলের ওপর  বায়ুমণ্ডল তার ওজনের জন্য লম্বভাবে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে  ওই স্থানের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বলা হয়।

কোন্ উম্নতায় পাঠ নেওয়া হল, এটা জানার জন্য ব্যারোমিটারস্নতা পাশে একটি থার্মোমিটার যুক্ত থাকে। কারণ উষ্ণতার পরিবর্তনে পারদের ঘনত্ব ও স্কেলের পাঠের পরিবর্তন হয়। নির্ণীত পাঠের প্রয়োজনীয় সংশোধন করলে প্রকৃত পাঠ পাওয়া যায় ।

কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে বস্তুটির উপাদানের ঘনত্ব বলা হয়।
কোনো বস্তুর m ভরের আয়তন V হলে ঘনত্ব, d =m/V ।

কোনো বস্তুকে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করা হলে, বস্তুর ওপর তরল বা গ্যাস যে ঊর্ধ্বমুখী ঘাত প্ৰয়োগ করে, তাকে প্লবতা বলা হয়।

কোনো বস্তুকে কোনো তরল বা গ্যাসীয় পদার্থে আংশিক বা পূর্ণ নিমজ্জিত করলে তরলের বা গ্যাসের প্লবতা, Fb = Vdg

প্লবতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই বিষয়গুলি হল—–বস্তুর নিমজ্জিত অংশের আয়তন (V), বস্তু যে মাধ্যমে নিমজ্জিত (তরল বা গ্যাস) তার ঘনত্ব (d) ও ওই স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)।