তৃতীয় পাঠ ⇒ ইলিয়াস

লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে ইলিয়াসের অবস্থার উন্নতির কথা বোঝানো হয়েছে। ইলিয়াসের বাবা যখন মারা যান, তখন তিনি সম্পত্তি বলতে সাতটা ঘোটকী, দুটি গোরু এবং কুড়িটা ভেড়া রেখে গেছিলেন। কিন্তু ইলিয়াসের সুব্যবস্থাপনায় সেই সম্পত্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে। ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করত। এর ফলেই প্রতিবছর তাদের অবস্থার ক্রমোন্নতি হতে থাকে।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস’ গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশে  "তাকে" বলতে কাহিনির প্রধান চরিত্র বাসকির জনগোষ্ঠীভুক ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে । পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির মালিকে পরিণত হয়। দু-শো ঘোড়া, দেড়-শো গোরু- মোষ, বারো-শো ভেড়া ও ভাড়াটে মজুরদের মনিব হয়ে ওঠে ইলিয়াস। তার এই সমৃদ্ধি এবং ধনসম্পত্তির আধিক্য দেখেই প্রতিবেশীরা সকলে তাকে ঈর্ষা করতে শুরু করে।

লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে ‘রোলবোলাও’ শব্দের অর্থ হল নামডাক বা খ্যাতি। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং সুব্যবস্থাপনায় ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। দু-শো ঘোড়া, দেড়-শো গোরু-মোষ এবং বারো-শো ভেড়াসহ ভাড়াটে মজুর- মজুরানির মনিবে পরিণত হয় ইলিয়াস। ক্রমশ তার খ্যাতি এবং পরিচিতি দুর দুরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আশপাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করতে থাকে।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে দূরদূরান্ত থেকে খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ইলিয়াসের সঙ্গে দেখা করতে আসত। অতিথিপরায়ণ ইলিয়াস অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে সকলকেই অত্যন্ত সমাদর করত। তার বাড়িতে আগত অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী একাধিক ভেড়া কিংবা ঘোটকী মারা হত। কুমিস, চা, শরবত, মাংস ইত্যাদি উৎকৃষ্ট খাদ্য আর পানীয় দিয়ে ইলিয়াস অতিথিদের সেবা করত।

লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস' গল্পে ইলিয়াস তার ছোটো ছেলে এবং বউমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। ইলিয়াসের ছোটো ছেলের স্ত্রী ছিল অত্যন্ত ঝগড়াটে। তাই বিয়ের পর থেকেই তারা ইলিয়াসের আদেশ অমান্য করতে শুরু করেছিল। সেই কারণেই ক্ষুদ্ধ ইলিয়াস তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছিল। তবে ধর্মপরায়ণ ইলিয়াস তাদের নিজের সম্পত্তি থেকে একেবারে বঞ্চিত করেনি। সে একটা বাড়ি এবং কিছু গোরু-ঘোড়া তাদের দিয়েছিল।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে নিজের বিতাড়িত পুত্রকে একটা বাড়ি কিছু গোরু-ঘোড়া দেওয়ায় ইলিয়াসের সম্পত্তিতে কিছুটা টান পড়ে। এর পরপরই ভেড়ার পালে মড়ক লেগে অনেকগুলি ভেড়া মারা যায়। তার পরের বছর দুর্ভিক্ষে খড়ের অভাবে শীতকালে অনেক গোরু-মোষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। এর উপর আবার কিরবিজরা ইলিয়াসের ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিলে ইলিয়াসের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে 'সে' বলতে ইলিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।  একদা বিপুল সম্পত্তির মালিক ইলিয়াস তার অবাধ্য এবং বিতাড়িত ছোটো ছেলেকে একটা বাড়ি এবং কিছু সংখ্যক গোরু-
ঘোড়া দিয়ে দেওয়ার ফলে তার সম্পত্তিতে টান পড়ে। এরপরে মড়ক এবং দুর্ভিক্ষের কারণে তার অনেকগুলি ভেড়া এবং গোরু- মোষ মারা গেলে, কিরবিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিলে তার দুর্দশা চরমে ওঠে। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস তার পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাঁবু এবং সবশেষে গৃহপালিত পশুগুলি বিক্রি করে সর্বহারা হয়ে পড়ে।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে বৃদ্ধ দম্পতি বলতে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম- শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে। একদা বিপুল সম্পত্তির মালিক ইলিয়াস যখন মরক, দুর্ভিক্ষ, চুরি ইত্যাদির ফলে সর্বহারা হয়ে পড়ে তখন তার বিতাড়িত ছোটো পুত্ৰও অনেক দূরদেশে বসবাস করত। তখন একমাত্র মেয়েটিও মারা গিয়েছিল। ফলে বৃদ্ধ ইলিয়াস তার স্ত্রীর চরম দুর্দশায় তাদের সাহায্য করার মতো নিজের কেউ  ছিল না।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মহম্মদ শা-র খুব দুঃখ হল। ইলিয়াসের অতিথিপরায়ণতার কথা স্মরণ করে মহম্মদ শা বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে তার গৃহে থাকার প্রস্তাব দিল  । সে ইলিয়াসকে সাধ্যানুযায়ী গ্রীষ্মকালে তার তরমুজের খেতে কাজ করতে এবং শীতকালে গোরু-ঘোড়াগুলি দেখাশোনা করতে, আর তার স্ত্রীকে দুধ দোয়া এবং কুমিস তৈরির কাজ করার প্রস্তাব দেয়। এর বিনিময়ে তাদের থাকা ও খাওয়ার বন্দবস্ত করা হবে ।এরপরেও অতিরিক্ত কিছু লাগলে মহম্মদ শা তাও দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ।

যে-কোনো সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামের মধ্যে দিয়েই সাহিত্যের অন্তর্নিহিত অর্থ এবং রচয়িতার মূল অভিপ্রায়টি পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়। যে-কোনো সাহিত্যকর্মেই সাধারণত ঘটনা বা চরিত্র অনুযায়ী কিংবা ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণ হয়ে থাকে। লিও তলস্তয় রচিত গল্পটির ‘ইলিয়াস’ নামটি স্পষ্টতই চরিত্রকেন্দ্রিক। গল্পের নাম-চরিত্রই এখানে গল্পের মুখ্য চরিত্র যাকে কেন্দ্র করে কাহিনি বিস্তারলাভ করেছে। একজন সাধারণ বাকির ইলিয়াস কঠোর পরিশ্রমে এবং সুব্যবস্থাপনায় ক্রমশ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়। পঁয়ত্রিশ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় অর্জিত সুনামের কারণে দূরদূরান্তে ইলিয়াসের প্রতিপত্তির কথা ছড়িয়ে পড়ে। ইলিয়াস ছিল অতিথিপরায়ণ মানুষ। তার বাড়িতে আগত অতিথিদের সে আন্তরিকতার সঙ্গে আতিথেয়তা করত। কিন্তু ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে পরপর বেশ কিছু ঘটনায় সর্বহারা হয়ে ইলিয়াস দম্পতি মহম্মদ শা নামক এক প্রতিবেশীর
বাড়িতে কাজের বিনিময়ে আশ্রয় ও খাবার পায়। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ধনী বিলাসবহুল জীবন কাটিয়েও যে সুখ ইলিয়াস ও তার স্ত্রী পায়নি, ভাড়াটে মজুরের জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে তারা সেই সুখের সন্ধান পায়। নিজের জীবনের এই আকস্মিক পট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই ইলিয়াস প্রকৃত সত্যের সম্মুখীন
হয়। তাই সে অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার স্ত্রী সম্পত্তির মোহে অন্ধ ছিল বলেই সম্পত্তি হারিয়ে কেঁদেছিল। কিন্তু ভাড়াটে মজুরের জীবনেই ঈশ্বর তাদের কাছে জীবনের প্রকৃত সত্যকে উন্মুক্ত করেছেন। নিজের জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা বা জীবনদর্শনের সম্মান ইলিয়াস সমস্ত অতিথিদের দান
করেছে এবং পাঠকের কাছেও তা মহৎ দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ইলিয়াসের জীবনসংগ্রামেই গল্পের শুরু আবার শেষে ইলিয়াসের জীবনসংগ্রাম থেকে পাওয়া জীবনদর্শনেই
গল্পের পরিণতি। তাই সবদিক বিচার করে গল্পের চরিত্রকেন্দ্রিক এই নামকরণটি যে সার্থক , তা বলাই যায়।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্প থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উফা প্রদেশে বসবাসকারী বাকির জনগোষ্ঠীভুক্ত ইলিয়াসের সঙ্গে অতিথিদের দেখা করতে আসার কথা বলা হয়েছে। ইলিয়াস তার অতি সাধারণ অবস্থা থেকে কঠোর পরিশ্রম এবং সুব্যবস্থাপনার দ্বারা বিত্তশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়। পঁয়ত্রিশ বছরের পরিশ্রমে দু-শো ঘোড়া, দেড়-শো গোরু- মোষ, বারো-শো ভেড়া এবং অসংখ্য মজুরের মনিবে পরিণত হয় ইলিয়াস। তার প্রতিপত্তি প্রতিবেশীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে ওঠে।  ক্রমে তার এই পরিচিতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসতে থাকে।  ইলিয়াস ছিল অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ মানুষ। ফলে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে তাদের ভোজ্য-পানীয় দিয়ে সেবা করত। অতিথিদের জন্য কুমিস, চা, শরবত, মাংস সর্বদাই প্রস্তুত থাকত। অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী ভেড়া এবং ঘোটকী মারা হত। বাড়িতে আগত অতিথিদের যথাযথ আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি রাখত না ইলিয়াস।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পে ‘বৃদ্ধ দম্পতি’ বলতে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে বোঝানো হয়েছে। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুব্যবস্থাপনার গুণে ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়ে ওঠে। দু-শো ঘোড়া, দেড়-শো গোরু-মোষ, বারো-শো ভেড়া এবং অসংখ্য মজুরের মনিব ইলিয়াসের সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার বাড়িতে ক্রমে দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা আসতে শুরু করেন। এরপর হঠাৎই ইলিয়াসের বড়ো ছেলে একটি মারামারির ঘটনায় মারা যায়। ছোটো ছেলে এবং তার ঝগড়াটে স্ত্রী ইলিয়াসকে অমান্য করতে শুরু করলে সে তাদের একটা বাড়ি ও কিছু গোরু- ঘোড়া দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই ইলিয়াসের সৌভাগ্যের পতন শুরু হয়। মড়কে ইলিয়াসের অনেকগুলি ভেড়া মারা যায়। দুর্ভিক্ষের ফলে খড়ের অভাবে শীতকালে অনেক গোরু-মোষও না খেতে পেয়ে মরে যায়। কিরবিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে যায়। ইলিয়াসের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস বাধ্য হয়ে তার পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাঁবু এবং অবশিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলি বিক্রি করে দেয়। দুর্দশার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে ইলিয়াস সর্বহারা হয়ে পড়ে। বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বস্ব হারিয়ে একাকী ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের বিতাড়িত পুত্র সেই সময় দূরদেশে ছিল এবং একমাত্র মেয়েটিও মারা গিয়েছিল। সর্বহারা ও চরম অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করার নিজের বলতে কেউ ছিল না।

লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্প থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে ‘সে’ বলতে বৃদ্ধ ইলিয়াসের কথা বলা হয়েছে।  দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে ইলিয়াস বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছিল। তার সৌভাগ্য ও প্রতিপত্তির কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সুখসমৃদ্ধির মাঝেই ইলিয়াস তার ছোটো পুত্রের মুখরা স্ত্রীর ব্যবহারে ও পুত্রের অবাধ্যতায় তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে। কিন্তু পুত্রকে একটি বাড়ি ও কিছু পশু দিয়ে দেওয়ায় তার সম্পত্তিতে টান পড়ে। এরপরেই মড়কের ফলে তার অনেকগুলি ভেড়া মারা যায়। এর উপর আবার দুর্ভিক্ষের ফলে খাদ্যের অভাবে অনেক গোরু-মোষও মারা যায়। কিরবিজরা তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করার ফলে ইলিয়াসের অবস্থার পতন ঘটে। সত্তর বছরের বৃদ্ধ ইলিয়াস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাঁবু এবং অবশিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলি বিক্রি করে। দুর্দশার চরমে পৌঁছে যায়। ঘটনার পরিণাম এবং প্রকৃত অবস্থা বোঝার আগেই সে সর্বহারা হয়ে পড়ে। বৃদ্ধ বয়সে শেষ অবলম্বন লোমের তৈরি কোট, টুপি,
জুতো আর বুট সম্বল করে বৃদ্ধা স্ত্রী শাম-শেমাগিকে নিয়ে অচেনা এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করে ইলিয়াস দিন গুজরান করতে থাকে। ছোটো ছেলে দূরদেশে বাস করায় এবং একমাত্র  মেয়ে মারা যাওয়ায় অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্যের কেউ ছিল না। এই সময় তাদের এক সহৃদয় প্রতিবেশী মহম্মদ শা কাজের বিনিময়ে ইলিয়াস দম্পতিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় ও খাবার দেয়। গ্রীষ্মে তার তরমুজের খেতে কাজ করে এবং শীতে গোরু-ঘোড়ার দেখাশোনা করতে হত ইলিয়াসকে। তার বৃদ্ধা স্ত্রী
শাম-শেমাগি ঘোটকীর দুধ দুইত এবং কুমিস বানানোর কাজ করত। এভাবেই একদা বিত্তশালী ইলিয়াস সম্পত্তি হারিয়ে ভাড়াটে মজুরের কাজ করে দিন চালাতে থাকে।