দ্বাদশ পাঠ ➤ অদল বদল

একটি ছেলে অমৃতকে ইসাবের সঙ্গে কুষ্টি লড়তে বলেছিল। অমৃত তখন জোর দিয়ে বলেছিল যে লড়বে না।

বাড়ি থেকে বেরোবার সময় অমৃতের মা তাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন, সে যেন তার গায়ের নতুন জামাটি ময়লা করে বা ছিঁড়ে না আনে। কারণ জামা পরার জন্য অমৃত তার বাবা মাকে খুব জ্বালিয়েছিল। জামায় ময়লা লাগলে বা সেটা ছিঁড়লে মায়ের প্রহার নিশ্চিত ছিল বলে অমৃত কুষ্টি লড়তে রাজি হয়নি।

* ইসার ও অমৃত দুজনে খুব ভালো বন্ধু ছিল। একে অন্যের বিপদে সবসময় এগিয়ে যেত। একদিন কালিয়া নামের একটি ছেলে অমৃতকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে আর তাকে ছুঁড়ে ফেলেও দেয়। এই দৃশ্য দেখে ইসাব রেখে গিয়েছিল।

→ ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়াকে অর্থাত্ যে ছেলেটি অমৃতকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করেছিল, তাকে আবার কুস্তি লড়তে আহবান জানায় আর কালিয়াকে সে হারিয়েও দেয়।

> কালিয়া নামে একটি ছেলে অমৃতকে কুস্তি লড়ার জন্য খোলা মাঠে নিয়ে গিয়েছিল। লেখক কৌতুক করে এই মাঠটাকে 'রণভূমি' বলেছেন।

অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি হয়নি। কিন্তু ইসার যখন দেখল কালিয়া তাকে সত্যি সত্যিই পরাজিত করেছে তখন সে আর স্থির থাকতে পারল না। সে নিজেই নেমে পড়ল কুচিতে। কালিয়াকে পরাজিতও করল। কিন্তু কালিয়ার বাবা এ উপস্থিত ছেলেদের পিটাতে পারে এই ভয়ে তারা সবাই পালিয়ে গেল। সবাই চলে যাবার পর অমৃত আর ইসারও মাঠ ত্যাগ করে চলে গেল।

ইসাবের বাবা সুদখোরের থেকে টাকা ধার নিয়ে তাকে জান তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর অমৃত বাড়িতে জেদ করে নতুন জামা আদায় করেছিল। কিন্তু কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের সেই নতুন জামা ছিঁড়ে গেছিল। ইসাব আর অমৃত তাই জানা অদলবদল করেছিল আর সেই জামা অদলবদলের দৃশ্য এক ছেলে দেখেছিল। যদি তাদের বাবা-মা এই ব্যাপারটা জেনে যায় সেই ভয়ে তারা দুজনেই বাড়ির দিকে ছুটেছিল।

→ বন্ধুর অপমান সহ্য করতে না পেরে ইসাব কালিয়ার সঙ্গে কুষ্টি লড়েছিল। সেই কুম্ভিতে কালিয়া পরাজিত হলেও ইসাবের নতুন জামাটা ছিঁড়ে যায়। অমৃতই প্রথম লক্ষ করেছিল জামার পকেট এবং ছ'ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেছে। জামাটা কতটা ছিঁড়েছে তা পরীক্ষা করার সময় ওরা শুনতে পেল ইসাবের বাবা ইসাবকে ডাকছেন। জামা ছেঁড়ার জন্য ইসাবের বাবা ওর চামড়া তুলে নেবেন এই চিন্তা করে তখন ওদের বুকের ধুকপুকুনি কধ হবার জোগাড় হল।

→ অমৃতকে কালিয়া জোর করে কুস্তি লড়িয়ে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ায় ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়াকে সে তার সঙ্গে লড়াইয়ের আহবান জানায় এবং তাকে হারিয়ে দেয়। এরফলে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাব তখন খুব ভয় পেয়ে যায়, কারণ সে জানত বাবার মারের হাত থেকে সে নিস্তার পাবে না। ইসাবকে ভয় পেতে দেখে অমৃতর মাথার একটা বুদ্ধি খেলেছিল। সে বুদ্ধি দিয়েছিল তার নিজের সঙ্গে ইসাবের জামা অদলবদল করে। নেওয়ার।

* পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে ওরা দুজন হল অমৃত আর ইসাব।

» কুম্ভিতে ইসাবের ছিঁড়ে যাওয়া জামাটা অমৃত পরেছিল, আর ভালো জামাটা ইসাবকে দিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরে ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতের মা কী বলবেন সেটাই ছিল ওদের ভয়ের কারণ। সেদিন ছিল হোলির দিন। এদিন একটু ধস্তাধস্তি টানা হ্যাঁচড়া চলে। তাই অমৃতের মা ভুরু কোঁচকালেন বটে, তবে মাফ করে দিলেন। তিনি একটা সুচসুতো নিয়ে ছেঁড়া জামাটা রিফু করে দিলেন। এতে দুজনেরই ভয় কেটে গেল।

> পান্নালাল প্যালে রচিত নিতে অদ্ভুত আর ইসার বেশিরভাগ সময় একইসঙ্গে থাকত। তাদের বাড়িও ছিল মুখোমুখি। ইসাবের নতুন জামা হলে অমৃতের পরকার দেখা দিত, নতুন জামা জন্য  বায়না শুরু করত। আমরা দেখি অমৃতর অনিচ্ছা সত্ত্বেও যখন কালিয়া তাকে বৃষ্টি লড়তে বাধা করে এবং তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তখন ইসাব  রেগে গিয়ে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি ল্থড়াই থেকে হারিয়েও দেয়। কারণ কালিয়া অনুকে আঘাত করায় ইসার সেটা সহা করতে পারেনি। এরপর আবার যখন কুস্তি পড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জানা ছিঁড়ে গেছে আর সে ভয় পেয়েছে এই ভেবে যে বাবার কাছে তাকে যার যেতে হবে। তখন অমৃত ইসাবকে জান অদলবদলের বুদ্ধি দিয়েছে। ইসার আপত্তি জানালে অন্তত তাকে বলেছে, সে মার খেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য না আছে। কিন্তু ইসাবের শুধু বাবা আছেন তাই সে মার খেলেও তাকে কেউ বাঁচাতে আসবে না। সব ঘটনা থেকেই বোঝা যায় তারা মুজনেই দুজনকে ভালবাসত ।

"অদল বদল করে কৃষিতে যখন কালিয়া অনুতকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও হারিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তখন ইসার প্রতিবাদ করার জন্য কালিয়ার সঙ্গে আবার কৃষ্টি গড়ে তাকে হারিয়ে দেয়। আর এই কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। বাবার মারের হাত থেকে ইসারকে বাঁচাতে অমৃত জানা অদলবদলের বুদ্ধি দেয়। সে নিজের জামা ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ভাষা নিজে পরে নেয় আর তাদের এই জানা অদলবদলের দৃশ্য একটি ছেলে ছাড়াও ইসাবের বাবাও দেখেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি অমৃতের উদারতা দুইবন্ধুর পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হন। তিনি অমৃতের বাড়ি এসে ওই কাহিনি অমৃতর থাকে বলেন এবং পাড়াপড়শিরাও সেই কাহিনি শুনে দুধ হয়। এমনকি এরপর চারিদিকে সব ছেলেরা তাদের 'অদল বদল' বলেই ডাকতে শুরু করে। এই অদলবদলের কাহিনি যখন গ্রামপ্রধানের কানে পৌঁছোয় এবং তাদের জানা অদলবদলের কাহিনি গ্রামপ্রধানের পছন্দ হয়। তিনি ঘোষণা করেন, অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে। ডাকার কথা। আর এরপর থেকে সারা গ্রামে তাদের এই বদল' নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।