দ্বিতীয় অধ্যায়⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ

উত্তর :-  নানা কারণে জঙ্গলে গাছপালা কমে যায়। ফলে খাবারের সন্ধানে এপদের পক্ষে গাছে গাছে ঘুরে বেড়ানো কঠিন হয়ে যায়। আগের মতো সহজে ফলমূল না মেলায় এপদের একদল গভীর জঙ্গলের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিল।

 

উত্তর :-  এপ থেকে মানুষ রূপে আত্মপ্রকাশ করা মানবপ্রজাতিকে অস্ট্রালোপিথেকাস বলা হয়। আনুমানিক ৪০ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনো রকমে দাঁড়াতে পারত।

 

উত্তর :-  হোমো স্যাপিয়েন্স গোষ্ঠীর মানুষের দুটি বৈশিষ্ট্য হল—

★এরা দল বেঁধে পশু শিকার করত ও নানা কাজে আগুন ব্যবহার করত।

★এরা ছোটো, তীক্ষ্ণ ও ধারালো পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শিখেছিল।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষ প্রথমে একা থাকায় তার নিরাপত্তা ও খাদ্যের অভাব ছিল। তাই নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য তারা জোটবদ্ধ হয়েছিল।

 

উত্তর :-   আদিম মানুষের জীবনযাত্রার বৈশিষ্ট্যসমূহ—আজ থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে আদিম মানুষ-এর আবির্ভাব ঘটে।

বাসস্থান: আদিম মানুষ পাহাড়ের অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে গুহায়, জঙ্গলে ও জলাশয়ের কাছে বাস করত।

কথা ও ভাব প্রকাশ : আদিম মানুষ আজকের মানুষের মতো কথা বলতে পারত না। শুধু বিভিন্ন শব্দ করে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।

 হাতিয়ার: আত্মরক্ষা ও খাদ্যসংগ্রহের তাগিদে আদিম মানুষ পাথর, কাঠ ও পশুর হাড় দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করতে শিখেছিল।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষ কীভাবে সর্বপ্রথম আগুন জ্বালাতে শিখেছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে অনুমান করা হয় যে, বনজঙ্গলে লাগা দাবানলের আগুন বা অন্য কোনোভাবে জ্বলে ওঠা আগুন দেখে আদিম মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।

দাবানলের আগুন দেখে: আদিম মানুষ প্রথমদিকে, বনজঙ্গলে কাঠের সঙ্গে কাঠের ঘষা লেগে যে আগুন অর্থাৎ দাবানল জ্বলে উঠত তা দেখেছিল। তা দেখেই হয়তো কাঠের সঙ্গে কাঠ ঘষে আদিম মানুষ সর্বপ্রথম আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।

পাথরের ঠোকাঠুকিতে জ্বলে ওঠা আগুন দেখে: আদিম মানুষ পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে গিয়ে দেখে চকি জাতীয় পাথরের ঠোকাঠুকিতে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। তা দেখে পাথরে পাথর ঠুকে আদিম মানুষ হয়তো আগুন জ্বালাতে শেখে।

 

উত্তর :-  আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের বেশকিছু সুবিধা হয়। পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রারও কিছু পরিবর্তন হয়।

 নিরাপত্তার সুবিধা : গুহামুখে আগুন জ্বালিয়ে রেখে আদিম মানুষ হিংস্র জন্তুর আক্রমণ থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছিল ।

খাদ্যের সুবিধা : আদিম মানুষ শিকার করা কাঁচা মাংস আগুনে পুড়িয়ে বা ঝলসে খেতে শিখেছিল আগুনে ঝলসানোর ফলে মাংস নরম হত এবং খেতে সুবিধা হত।

 শীতের হাত থেকে রক্ষা: আগুন জ্বালিয়ে আদিম মানুষ শীতের তীব্রতা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পেরেছিল।

★★জেনে রাখো পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ নিজেরা আগুন জ্বালাতে শেখে। তারা অস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে পাথর ভাঙার মধ্য দিয়ে প্রথম কৃত্রিমভাবে আগুন জ্বলে ওঠা লক্ষ করে। এরপর তারা পাথরে পাথর ঠুকে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত করে।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষ দেখেছিল অন্য সব প্রাণী আগুনকে ভয় পায়। তাই রাতে তারা গুহার মুখে আগুন জ্বালিয়ে রাখত। আদিম মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীতের তীব্রতা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পেরেছিল | আগুনের ব্যবহার শেখার পর মানুষ শিকার করা কাঁচা মাংসও আগুনে ঝলসে খেতে শিখেছিল। তাই আমার মনে হয়, মানব-অস্তিত্ব রক্ষা ও সভ্যতার অগ্রগতির জন্যই আগুনের ব্যবহার শেখা জরুরি ছিল।

 

উত্তর :-  আগুনের আবিষ্কার আদিম মানুষের জীবনে নানা স্তরে বদল আনে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বদল ছিল তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ কাঁচা খাবার খাওয়ার বদলে খাবার আগুনে ঝলসে খেতে শেখে। ঝলসানো নরম মাংস খেতে তাদের চোয়াল ও দাঁতের জোর কম লাগত। তাই ধীরে ধীরে আদিম মানুষের চোয়াল সরু এবং সামনের ধারালো উঁচু দাঁত ছোটো হয়ে যায়।

 

উত্তর :-  পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ পাথরকে হাতিয়ার তৈরির কাজে লাগাত| এই পাথরের হাতিয়ারগুলি বেশিরভাগই ছিল হাতকুঠার ও চপার- জাতীয়। হাতিয়ারগুলির অধিকাংশই নুড়িপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পুরোনো পাথরের যুগের মাঝের পর্বে পাথরের তৈরি ছুরি ছিল প্রধান হাতিয়ার।

 

উত্তর :-  পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষ নিজেদের খাবার নিজেরা বানাতে পারত না। শিকার করে ও ফলমূল জোগাড় করে তারা নিজেদের পেট ভরাত। গুহায় আশ্রয় না পেলে খোলা আকাশের নীচেই তাদের দিন কাটত। তাই বলা চলে পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন ছিল বেশ কঠিন ও কষ্টের।

 

উত্তর :-   আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ায় হাদার নামে একটি জায়গা রয়েছে। এই হাদারে অস্ট্রালোপিথেকাস মানব প্রজাতিভুক্ত কঙ্কালের কিছু অংশ মিলেছে (১৯৭৪ খ্রি.) । কঙ্কালটি আসলে প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগেকার একটি ছোটো মেয়ের| এই কঙ্কালটির নাম দেওয়া হয়েছিল লুসি। লুসির মস্তিষ্কটি অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক বড়ো।

 

উত্তর :-  কর্ণাটকের গুলবর্গা জেলার উত্তর-পশ্চিমে হৃন্সগি উপত্যকা অবস্থিত। এখানকার ইসামপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কাঘটা হাল্লা খাল। ১৯৮৩ সালে মাটি খুঁড়ে সেখানে পুরোনো পাথরের যুগের হাতিয়ার মিলেছে। এই গুলি আজ থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ বছর আগেকার। হাতিয়ারগুলি বেশিরভাগই হাতকুড়ুল, ছোরা, চাছনি-জাতীয় |

 

উত্তর :-   ইউরোপের স্পেন দেশে পাহাড়ি এলাকা আলতামিরায় কয়েকটি প্রাচীন গুহার খোঁজ মেলে। এক প্রত্নতাত্ত্বিক তার ছোটো মেয়েকে নিয়ে গুহাগুলি দেখতে যান। গুহার এক দেয়ালে তারা আলো ফেললে এক ষাঁড়ের ছবি দেখা যায়। গুহার ছাদে বিশাল বড়ো এই ষাঁড়ের ছবিটি দেখে মেয়েটি চিৎকার করে ট্যরো-ট্যরো অর্থাৎ ষাঁড়-ষাঁড় বলে ওঠে। এই ছবিটি প্রায় ৫০ থেকে ৩০ হাজার বছর আগের গুহাবাসী মানুষের আঁকা।

উত্তর :- সূচনা: মস্তিষ্কের আকার অনুযায়ী আদিম মানুষকে নানা ভাগে বিভক্ত করা হয়।

আদিম মানুষের প্রকারভেদ

 অস্ট্রালোপিথেকাস : এরা ছিল আনুমানিক ৪০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগেকার মানবপ্রজাতি। এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনোরকমে দাঁড়াতে শিখেছিল।

 হোমো হাবিলিস : এরা ছিল আনুমানিক ২৬ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ বছর আগেকার মানবপ্রজাতি। এরা দলবদ্ধভাবে বাস করত। এদের খাদ্য ছিল বনের ফলমূল ও কাঁচা মাংস।

 হোমো ইরেকটাস: এরা ছিল আনুমানিক ২০ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আগেকার মানবপ্রজাতি। এরাও দলবদ্ধভাবে বাস করত। এরাই প্রথম সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও আগুনের ব্যবহার শিখেছিল।

হোমো স্যাপিয়েন্স : আনুমানিক ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে এই মানবপ্রজাতির অস্তিত্ব ছিল। এরাই ছিল প্রথম বুদ্ধিমান মানুষ। হোমো স্যাপিয়েন্সরা মাংস পুড়িয়ে খেতে এবং পশুর চামড়া পোশাকরূপে পরতে শিখেছিল।

 

উত্তর :-  সূচনা: মস্তিষ্কের আকার অনুযায়ী আদিম মানুষের নানারকম ভাগ। এরকমই দুটি ভাগ, অস্ট্রালোপিথেকাস অর্থাৎ এপ থেকে মানুষ এবং হোমো হাবিলিস অর্থাৎ দক্ষ মানুষ |

অস্ট্রালোপিথেকাস: এপ থেকে মানুষ হওয়া আদিম মানব উপজাতির নাম অস্ট্রালোপিথেকাস। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল—–(i) আনুমানিক ৪০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। (ii) এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনো রকমে দাঁড়াতে পারত। (iii) শক্ত ও সুগঠিত চোয়ালের সাহায্যে এরা শক্ত বাদাম, শুকনো ফল চিবিয়ে খেত। (iv) আত্মরক্ষার জন্য এরা গাছে ডাল দিয়ে ধাক্কা মারত, পাথর ছুঁড়তে চেষ্টা করত

হোমো হাবিলিস: এরা দক্ষ মানুষ নামে পরিচিত ছিল। (i) আনুমানিক ২৬ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। (ii) এরা দল বেঁধে থাকত ও হাঁটতে পারত। (iii) খাবার হিসেবে ফলমূল ও কাঁচা মাংস খেত। (iv) এরা প্রথম পাথরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এরা একটি পাথর দিয়ে অন্য পাথরকে আঘাত করে পাথরের অম্ল বানাতে শেখে।

 

 উত্তর :-  সূচনা: মস্তিষ্কের আকার অনুযায়ী আদিম মানুষের নানারকম ভাগের অন্যতম দুটি হল হোমো ইরেকটাস অর্থাৎ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ এবং হোমো স্যাপিয়েন্স অর্থাৎ বুদ্ধিমান মানুষ |

হোমো ইরেকটাস: এরাই ছিল প্রথম সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ। (i) আনুমানিক ২০ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। (ii) এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত। (iii) এরা দলবদ্ধভাবে গুহায় থাকত ও শিকার করত। (iv) হোমো ইরেকটাসরা প্রথম আগুনের ব্যবহার শিখেছিল । (v) এরা প্রথমে স্তরকাটা নুড়িপাথরের হাতিয়ার এবং শেষে হাতকুঠার বানাতে শিখেছিল।

হোমো স্যাপিয়েন্স: এরাই ছিল প্রথম বুদ্ধিমান মানুষ। (i) আনুমানিক ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। (ii) এরা দল বেঁধে একসঙ্গে বড়ো পশু শিকার করত। (iii) এরা নানা কাজে আগুনের ব্যবহার শুরু করে। (iv) এরা পশুর মাংস পুড়িয়ে খেতে ও পশুর চামড়া পরতে শেখে। (v) এরা ছোটো, তীক্ষ্ণ, ধারালো পাথরের অস্ত্র (বর্শা জাতীয়) বানাতে শেখে।

 

উত্তর :-  সূচনা: আগুনের ব্যবহার শেখা মানুষের ইতিহাসে এক জরুরি বিষয় বলা চলে।

 আগুনের ব্যবহার শেখার পর আদিম মানুষের পরিবর্তন

জীবনযাপনগত: আগুনের ব্যবহার শেখার পর আদিম মানুষের পরিবর্তন—(i) শীতের হাত থেকে রক্ষা: আদিম মানুষকে প্রথমদিকে প্রচন্ড শীতের মধ্যে কষ্ট পেতে হত। পরে আগুনের ব্যবহার শুরু হলে মানুষ আগুন জ্বেলে প্রচন্ড শীতের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে শিখেছিল। (ii) আত্মরক্ষা: আদিম মানুষ বন্যজন্তুর হঠাৎ আক্রমণে মারা যেত। তারা দেখেছিল আগুনকে বন্যজন্তুরা ভয় পায় | তাই রাত্রে গুহার মুখে তারা আগুন জ্বালিয়ে রাখত। এভাবে বন্যজন্তুর হঠাৎ আক্রমণ থেকে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে শিখেছিল। (iii) খাবার অভ্যাস: আগুনের ব্যবহার শুরু হলে আদিম মানুষের খাবার অভ্যাসও বদলে যায়। কাঁচা খাওয়ার বদলে তারা খাবার আগুনে ঝলসে খেতে শুরু করে।

দৈহিক : ঝলসানো, নরম মাংস খেতে আদিম মানুষের চোয়াল ও দাঁতের জোর কম লাগত। তাই তাদের চোয়াল সরু ও ধারালো, উঁচু দাঁত ছোটো হয়ে গেল।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষের জোট বাঁধার কারণ

আত্মরক্ষার অভাব: আদিম মানুষ প্রথমদিকে একা থাকত। এই সময়ে সে বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারত না। তাই আত্মরক্ষার তাগিদে আদিম মানুষ জোট বেঁধেছিল।

খাবার জোগাড়ের সুবিধা: আদিম মানুষ প্রথমে একা একা শিকার করে ও ফলমূল জোগাড় করে নিজের খাবার অভাব মেটানোর চেষ্টা করত। পরবর্তী সময়ে সকলে মিলে খাবার জোগাড় ও তা ভাগ করে নেওয়ার সুবিধা কারণে আদিম মানুষ জোট বাঁধে।

জোট বাঁধার সুফলসমূহ—

আত্মরক্ষার সুবিধা: জোট বাঁধার ফলে আদিম মানুষ একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। ফলে তারা সহজেই বন্যজন্তুর হঠাৎ আক্রমণের মোকাবিলা করতে পারে।

খাদ্যের নিশ্চয়তা: জোট বাঁধার পর আদিম মানুষ একসঙ্গে শিকার করতে ও ফলমূল সংগ্রহে বের হয় | সংগৃহীত খাদ্য তারা মিলেমিশে ভাগ করে খেতে শেখে। ফলে খাদ্যের নিশ্চয়তা আগের থেকে অনেক বাড়ে।

 

উত্তর :-  সূচনা: সম্ভবত আফ্রিকা থেকে আদিম মানুষ একসময় ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল।

আদিম মানুষের জীবনযাপনের নানাদিক

খাদ্যসংগ্রহ: ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগে মানুষকে খাদ্যসংগ্রহ করতে হত | অনেক সময়ে তারা খাবার সংগ্রহের জন্য নদীর মাছ ও দলবেঁধে বনের পশু শিকার করত এবং সেগুলি তারা মিলেমিশে ভাগ করে খেত।

বসতি: ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষকে খাবারের সন্ধানে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেত হত এবং তাই তাদের কোনো স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি। কিছুটা সময়ের জন্য তারা নতুন নতুন অঞ্চলের গুহাগুলিতে বাস করত। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের সাংঘাও, কর্ণাটকের কুর্নুল, মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকা প্রভৃতি অঞ্চলে এই ধরনের গুহাবসতির সন্ধান মিলেছে |

পোশাক: ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য পশুর চামড়া ও গাছের ছাল গায়ে জড়িয়ে রাখত। তারা তখনও পোশাক তৈরি করতে জানত না।

হাতিয়ার: ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ হালকা ও ধারালো ছুরিজাতীয় হাতিয়ারের ব্যবহার শেখে। তবে এই সময়ের হাতিয়ারগুলির বেশিরভাগ ছিল ভারী নুড়িপাথরের তৈরি | সোয়ান উপত্যকা, পটোয়ার মালভূমি এবং শিবালিক পার্বত্য অঞ্চলে এই ধরনের হাতিয়ারের সন্ধান মিলেছে।

 

উত্তর :-   সূচনা: মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে কিছুটা দূরে, বিন্ধ্য পর্বতের গা ঘেঁষে নির্জন জঙ্গলে ভীমবেটকা অবস্থিত।

ভীমবেটকা

গুহার খোঁজ: ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এখানে বেশকিছু গুহার খোঁজ মেলে।

বৈশিষ্ট্য : (i) ভীমবেটকার গুহাগুলিতে পুরোনো পাথরের যুগ থেকে আদিম মানুষেরা বসবাস করত। (ii) (a) গুহার দেয়ালে আদিম মানুষের আঁকা ছবি পাওয়া গেছে। ছবিগুলির প্রায় সবই শিকারের দৃশ্য। (b) পাশাপাশি দেয়ালগুলিতে নানারকম বন্যপশুর ছবি, পাখি, মাছ, কাঠবিড়ালীর মতো প্রাণীর ছবিও দেখা যায়। (c) এ ছাড়াও হাতেপায়ে গয়না এবং মুখোশ পড়া মানুষের একা বা দলবেঁধে শিকারের ছবিও দেখা যায় | (d) অনেকক্ষেত্রে, মানুষের সঙ্গে কুকুরের ছবিও দেখা যায় । (e) ভীমবেটকা গুহার দেয়ালে আঁকা ছবিগুলিতে সাদা এবং লাল রঙের ব্যবহার বেশি হলেও সবুজ ও হলুদ রঙের ব্যবহারও করা হয় ।

 

উত্তর :-  উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে | এদের মধ্যে দুই দিকে ধারওয়ালা ছুরি, হাড়ের তৈরি তিরের ফলা এবং জাতার মতো দেখতে এক ধরনের যন্ত্র উল্লেখযোগ্য | অনুমান করা হয়, শস্যদানা গুঁড়ো করার কাজে এই জাঁতা ব্যবহার করা হত। তারা খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে জানত না। এ ছাড়াও সরাই নহর রাইতে মিলেছে আদিম মানুষের সমাধি ও কঙ্কাল।

 

উত্তর :-  মধ্যপ্রদেশের আদমগড় অঞ্চলটি নর্মদা নদীর উপত্যকায় অবস্থিত। এই আদমগড় অঞ্চলে মাঝের পাথরের যুগের হাতিয়ার পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও এখানে পাওয়া গেছে ৮ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো বন্যপশুর হাড়, গবাদিপশু ও কুকুরের হাড় | গবাদিপশু ও কুকুরের হাড়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন লক্ষ করা যায়নি | এই দেখে অনুমান করা হয় যে এদেরকে হত্যা করা হয়নি, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। আদমগড়ের মানুষ পশুপালন এবং শিকার করে খাবার সংগ্রহ করত।

 

উত্তর :-   রাজস্থানের বাগোড়ে আদিম মানুষের বসতির চিহ্ন মিলেছে | বাগোড়ের বাসিন্দারা শিকার ও পশুপালন করে খাবার জোটাভ। এখানে অনেকগুলি পশুর হাড় পাওয়া গেছে। এই হাড়গুলি থেকে অনুমান করা হয় যে এখানে পরের দিকে পশুপালন বাড়ে এবং শিকার করা কমে।

 

উত্তর :-   ভারতীয় উপমহাদেশে উত্তরপ্রদেশের মহাদহা, মধ্যপ্রদেশের আদমগড় প্রভৃতি অঞ্চলে মাঝের পাথরের যুগের মানুষের হাতিয়ার মিলেছে। উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে দু-দিকে ধারওয়ালা ছুরি মিলেছে। তা ছাড়া এখানে হাড়ের তৈরি তীরের ফলাও পাওয়া গেছে। মাঝের পাথরের যুগের এইসব ছোটো হাতিয়ারগুলি গাছের ডালের সঙ্গে জুড়ে বা গেঁথে নেওয়া হত।

 

উত্তর :-   মাঝের পাথরের যুগে মানুষেরা উন্নত হাতিয়ার বানাতে শুরু করে। এই সময়ে তৈরি ছুরিগুলি আগের থেকে অনেক বেশি ধারালো ছিল। পাশাপাশি এই সময়ে তৈরি হাতিয়ারগুলির আয়তন আগের তুলনায় ছোটো ছিল। ফলে হাতিয়ারগুলি ব্যবহারের সুবিধা বেড়ে ছিল। এ ছাড়া হাতিয়ারগুলি গাছের ডালের সঙ্গে জুড়ে বা গেঁধে নেওয়ার ফলে সেগুলি ধরতে সুবিধা হত।

 

উত্তর :-   জোট বাঁধার কারণ : আদিম মানুষ প্রথমে একা থাকায় তার নিরাপত্তা ও খাদ্যের অভাব ছিল | তাই নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য তারা জোটবদ্ধ হয়েছিল।

 জোট বাঁধার ফল: জোটবদ্ধ হওয়ায় আদিম মানুষ সহজেই বন্যজন্তুর আক্রমণ রোধ করতে শিখেছিল। তা ছাড়া দলবদ্ধভাবে শিকার করা সহজ বলে খাদ্যের অভাব কমে এসেছিল। অনেকে মানুষের এই জোট বেঁধে থাকাকে আদিম সমাজ বলে মনে করেছেন।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষ শিকার ও পশুপালন করে নিজের খাদ্যসংগ্রহ করত | পরে কৃষিকাজ খাদ্যসংস্থান নিশ্চিত করার ফলে মানুষ ধীরে ধীরে যাযাবর জীবন ছেড়ে কৃষিকাজের মাধ্যমে স্থায়ী বসতি স্থাপনের দিকে যেতে থাকে। কৃষি জমিকে ঘিরে তারা তাদের বসতি তৈরি করে। এইভাবে কৃষিকাজ আদিম মানুষের জীবন পালটে দেয়।

উত্তর :-  নতুন পাথরের যুগে মেয়েরা ফলমূল জোগাড় করত । এইভাবেই একসময় মেয়েরা গাছপালা দেখে বুঝেছিল কীভাবে বীজ থেকে চারাগাছ হয়। তারা দেখেছিল চারাগাছ ধীরে ধীরে বড়ো গাছে পরিণত হয়। এভাবেই তারা কৃষিকাজ শিখেছিল।

 

উত্তর :-  আদিম মানুষ প্রথমদিকে শিকার ও পশুপালন করে খাদ্যের অভাব মেটাত | শিকার ও পশুপালনের জন্য মানুষকে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হত। কিন্তু কৃষিকাজ শেখার পর সেই ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়ে যায় কেননা কৃষিকাজ খাদ্য উৎপাদনকে নিশ্চিত করে। কৃষিকাজ শিকার করার মতো অনিশ্চিত ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই কৃষিকাজ শেখার পর মানুষের শিকার ও পশুপালন অনেক কমে যায়।

 

উত্তর :-  নতুন পাথরের যুগের কৃষিসমাজ অনেক বেশি জটিল ছিল। সেই সমাজে জমি ও ফসলের সমান ভাগাভাগি ছিল না। পাশাপাশি কৃষিতে বাড়তি ফসল ফলানো যেত। তাই সবাইকে নিজেদের পেট ভরানোর জন্য চাষ করতে হত না। তাই অনেকে কৃষির বদলে কারিগর বা অন্যান্য কাজ করতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে আদিম মানুষের সমাজ জটিল ও উন্নত হয়ে ওঠে।

 

উত্তর :-  নতুন পাথরের যুগে আদিম মানুষ প্রথম কৃষিকাজ শেখে। নানান রকম পাথরের হাতিয়ার তৈরি করে। চাষের জমিকে কেন্দ্র করে স্থায়ী বসতি বানিয়ে তারা থাকতে শুরু করে। এই যুক্তিগুলির নিরিখে বলা চলে, যে আদিম মানুষের ইতিহাসে নতুন পাথরের যুগ অনেক দিক থেকেই নতুন ছিল।

 

উত্তর :-    অন্যান্য প্রাণীদের থেকে মানুষের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করেছে মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি | সংস্কৃতি বলতে এমনিতে নাচ-গান, পোশাক, শিল্প-সাহিত্যকে বোঝায়। খাওয়া, ঘুম মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজন হয়। এসবের পাশাপাশি মানুষ নানান কাজকর্ম করে থাকে। এইসব কাজকর্মও মানুষের সংস্কৃতির অংশ, যেমন—আদিম মানুষের পাথরের ভোঁতা হাতিয়ার বানানোও ছিল তাদের সংস্কৃতি |

 

উত্তর :-    সূচনা: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৮ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কাল মাঝের পাথরের যুগ নামে পরিচিত। এই সময়ে উপমহাদেশের আবহাওয়া গরম হয়ে উঠলে মানুষের থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে।

মাঝের পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবনযাপনের ধারা

১. জীবিকা: আগের মতোই এই যুগেও উপমহাদেশের মানুষ খাদ্যসংগ্রহ ও শিকার করে জীবনযাপন করত। তবে এইসময় থেকে তারা ফলমূল, শামুক-ঝিনুক, মধু প্রভৃতি সংগ্রহের ওপর বেশি জোর দেয়।

২. হাতিয়ার: এইসময় হাতিয়ারগুলি আকারে আরও ছোটো হয় এবং উন্নত রূপ পায় | প্রধান অস্ত্র হিসেবে তিরধনুকের ব্যবহার শুরু হয়। হাতিয়ারগুলি গাছের ডালের সঙ্গে জুড়ে বা গেঁথে নেওয়া হত। উত্তরপ্রদেশের মহাদহা, মধ্যপ্রদেশের আদমগড় প্রভৃতি অঞ্চলে গাছের ডালযুক্ত হাতিয়ার মিলেছে | উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে দুই দিকে ধারওয়ালা ছুরির সন্ধান মিলেছে।

৩.পশুপালন: উপমহাদেশে মাঝের পাথরের যুগে পশুপালনের প্রচলন ছিল। উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে বিভিন্ন রকমের বন্যপশুর হাড় মিলেছে। নর্মদা উপত্যকার আদমগড় অঞ্চলে ৮ হাজার বছরের পুরোনো বন্যপশুর হাড় পাওয়া গেছে। এই পশুগুলির মধ্যে গবাদিপশু ও কুকুরের হাড়ও পাওয়া গেছে | এই পশুর হাড়গুলি দেখে অনুমান করা হয় যে ভারতীয় উপমহাদেশে মাঝের পাথরের যুগের মানুষ পশুপালন করতে শিখেছিল।

৪. মাটির পাত্র নির্মাণ: রাজস্থানের বাগোড়ে আদিম মানুষের বসতির সন্ধান পাওয়া গেছে। জানা গেছে আদিম মানুষ পশুপালন করত। তাই দুধ ও অন্যান্য খাবার পাওয়ার সুবিধা ছিল। এগুলি রাখার জন্য তাদের দরকার পড়ে পাত্রের। তারা ঝুড়ির মতো জিনিসে মাটি ঢেলে হাত দিয়ে লেপে মাটির পাত্রগুলি তৈরি করত।

 

 উত্তর :-সূচনা: পাথরের যুগের শেষ পর্যায় নতুন পাথর বা নব্য প্রস্তর যুগ (Neolithic Age) নামে পরিচিত।

নতুন পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবনযাপনের ধারা

১. জীবিকা: ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন পাথরের যুগে কুকুর, ভেড়া, গোরু, গাধা প্রভৃতি পশুকে মানুষ পোষ মানাতে শেখে। খাদ্যের জোগান ছাড়াও গৃহপালিত পশুকে তারা যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। নতুন পাথরের যুগের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি |

২. কৃষির সূচনা: নতুন পাথরের যুগে বসতিস্থলের পাশে বীজ বা গাছের শিকড় পোঁতা শুরু হয়, এইভাবেই কৃষির সূচনা ঘটে। কৃষিকাজ শুরু হওয়ায় নতুন পাথরের যুগে মানুষ নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতে শুরু করে। কৃষিকাজ খাদ্যের জোগানকে সুনিশ্চিত করে এবং মানুষ স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। তাই সবাইকে খাদ্যসংস্থানের জন্য নিজেদের চাষ করতে হত না।

৩. হাতিয়ার: নতুন পাথরের যুগের মানুষ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হাতিয়ার ব্যবহার করতে শুরু করে। এইসময়ে পাথরের নানা ধরনের হাতিয়ার তৈরি শুরু হয়।

৪.চাকার আবিষ্কার: চাকার আবিষ্কার মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ঢাকাকে ব্যবহার করে মাটির পাত্র তৈরি শুরু হয় | চাকাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ যানবাহন তৈরির চেষ্টাও শুরু করে। এই যুগে সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চলে চাকাযুক্ত গাড়ির প্রচলন ঘটে।

 

উত্তর :- সূচনা: পাথরের যুগ থেকে আদিম মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালী ধীরে ধীরে উন্নত হয়ে ওঠে।

আদিম মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতি

নতুন পাথরের যুগে এসে আদিম মানুষ উন্নত হাতিয়ার, পশুপালন ও কৃষিকাজ, স্থায়ী বসতি প্রভৃতি বানাতে শেখে। এইভাবেই আদিম মানুষ সভ্যতার সূচনা ঘটায় | সভ্যতার সঙ্গেই গড়ে ওঠে আদিম মানুষের সংস্কৃতি। নতুন পাথরের যুগে যাযাবর জীবন ছেড়ে মানুষ কৃষিকাজে অভ্যস্থ হয়। চাষের জমিকে কেন্দ্র করে স্থায়ী বসতি স্থাপিত হয়। জীবনধারণের পাশাপাশি মানুষ যে সমস্ত কাজকর্ম করতে শেখে সেগুলি হয়ে ওঠে তার সংস্কৃতির অংশ। প্রকৃতি ও পরিবেশ মতো করে মানুষ ব্যবহার করতে শেখে। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য আদিম মানুষ গাছের ছাল বা মরা পশুর চামড়া পরতে শেখে। এইভাবে আদিম মানুষ ঠান্ডা থেকে বাঁচার যে উপায় বের করে তা ক্রমে তার সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

 

উত্তর :- সূচনা: মানুষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী প্রাণীরা একসময় পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে, যেমন ডাইনোসোর। কিন্তু মানুষ আদিম যুগ থেকে আজও টিকে আছে।

মানুষের টিকে থাকা ও সংস্কৃতি

১.মানুষ অন্য প্রাণীদের থেকে উন্নত: মানুষ অন্য প্রাণীদের থেকে অনেক উন্নত ছিল। মানুষের এই উন্নতি অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তার সংস্কৃতির জন্য।

২. মানুষের সংস্কৃতি: ঘুম, খাওয়া বা নিজের দরকারের বাইরে মানুষ যে কাজকর্ম করে থাকে তাকে মানুষের সংস্কৃতি বলে । পাথরের ভোঁতা হাতিয়ার বানানো আদিম মানুষের সংস্কৃতির মধ্যেই পড়ে।

৩.পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া: সংস্কৃতির জন্যই যে-কোনো পরিবেশ মানুষ মানিয়ে নিতে পেরেছে। শীত, বর্ষা ও গ্রীষ্ম—সব অবস্থাতেই টিকে থাকতে শিখেছে মানুষ। তারা প্রকৃতি ও পরিবেশকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে শিখেছে। সেই ব্যবহার করার পদ্ধতিগুলোও মানুষের সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে। মানবসমাজ সবসময়ই কোনো না কোনো সংস্কৃতি দ্বারা চালিত ছিল।

 

উত্তর :- সূচনা: আদিম মানুষ প্রথমে খাদ্যসংগ্রহ করে বেঁচে থাকলেও পরে সে খাদ্যউৎপাদকে পরিণত হয়।

আদিম মানুষ: খাদ্যসংগ্রাহক থেকে খাদ্য উৎপাদকে রূপান্তর

১. শিকার: গোড়ার দিকে আদিম মানুষ একা একা শিকার করে পেট ভরাত। পরে তারা জোট বেঁধে জোগাড় করা খাবার ভাগ করে খেতে শেখে।

২. ফলমূল জোগাড় : আদিম মানুষ শিকার ছাড়াও ফলমূল জোগাড় করে পেট ভরাত। নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে তারা ফলমূল জোগাড় করত।

৩.পশুপালন: শিকার ও ফলমূল জোগাড় করেও মানুষ খাদ্যের জোগানকে সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। তাই সে পশুপালন শুরু করে। এতে অসময়ে খাবারের জোগান অনেকটাই সুনিশ্চিত হয়।

৪. কৃষিকাজ: কৃষিকাজ শেখার পর আদিম মানুষের খাবার জোগাড়ে নিশ্চয়তা আসে। আদিম মানুষ নিজেরাই নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে শুরু করে।

 

উত্তর :- সূচনা: উন্নতির সাথে সাথে আদিম মানুষের জীবন ও সমাজ ক্রমণ জটিল হয়ে ওঠে।

উন্নতির সাথে আদিম মানুষের সমাজে পরিবর্তন

পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ শিকার করে খাদ্যসংগ্রহ করত। ধীরে ধীরে তারা পশুপালনও করতে শেখে। শিকার ও পশুপালন করে যা জোগাড় হত, তা গোষ্ঠীর সকলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হত। তাই সেই সময় সমাজে বিশেষ ভেদাভেদ ছিল না। পরে নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শুরু হলে খাদ্যসংস্থান নিশ্চিত হয়। কিন্তু এর ফলে জটিল কৃষিসমাজের সৃষ্টি হয়। কৃষিসমাজে জমি ও ফসলের সমান ভাগাভাগি হত না। কৃষিজমিতে অনেকসময় বাড়তি ফসল ফলত তাই সবাইকে নিজেদের খাদ্যসংস্থানের জন্য কাজ করতে হত না। তাই কৃষির বদলে অনেকেই কারিগরি বা অন্যান্য কাজে যুক্ত হত। ফলস্বরূপ মানবসমাজ ধীরে ধীরে জটিল হয়ে ওঠে।