দ্বিতীয় অধ্যায় ➤ বায়ুমণ্ডল

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমা ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় 10000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে অত উঁচু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকলেও বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের শতকরা প্রায় 97 ভাগ ভূপৃষ্ঠ থেকে 29 কিমি-র মধ্যে থাকে। কারণ এই অংশে মাধ্যাকর্ষণের টান বেশি এবং ঊর্ধ্বাকাশের বায়ুমণ্ডলের চাপ এসে পড়ে। ফলে এই অংশে বায়ুর ঘনত্ব বেড়ে যায়।

বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাসীয় উপাদান নাইট্রোজেন (78.08%)। তাই এর গুরুত্বও যথেষ্ট।

➀ প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহগঠন: প্রাণীজগৎ সরাসরি এই গ্যাস ব্যবহার না করলেও কতকগুলি শুঁটিজাতীয় উদ্ভিদের মূলে বসবাসকারী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া (যেমন— রাইজোবিয়াম) বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। এই জাতীয় উদ্ভিদগুলিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে প্রাণীরা নিজের দেহের নাইট্রোজেনের চাহিদা মেটায়।

➁ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: শুঁটিজাতীয় উদ্ভিদের মূলে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন সংগ্রহের মাধ্যমে মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে। মানুষ শস্যাবর্তন পদ্ধতির মাধ্যমে শুঁটিজাতীয় উদ্ভিদের চাষ করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

➂ সার উৎপাদন: বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে সার উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ (20.94%) খুব বেশি না হলেও জীবজগতের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

➀ প্রাণের প্রধান উপকরণ: অক্সিজেন ছাড়া শ্বাসকার্য সম্ভব নয় বলে জীবনধারণের জন্য সকল প্রাণীই অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল। তাই অক্সিজেন ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব অসম্ভব।

➁ বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা: বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে বা বেড়ে গেলে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।

➂ আবহবিকারে সাহায্য করা: অক্সিজেন বিভিন্ন শিলাগঠনকারী খনিজের সঙ্গে সহজে মিলিত হয়ে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিলার আবহবিকারে বা বিচূর্ণীভবনে সাহায্য করে। এইরূপ রাসায়নিক আবহবিকারের (জারণ) ফলেই লোহায় মরিচা ধরে।

➃ আগুন জ্বালাতে সাহায্য করা: অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া কখনোই আগুন জ্বালানো সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, অক্সিজেন ছাড়া সমগ্র বিশ্বই প্রায় অচল।

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রাকৃতিক উপায়ে ওজোন গ্যাস যেমন উৎপন্ন হয়, তেমনটি আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ওজোনস্তরের বিনাশও ঘটে। এই ওজোনস্তর বিভিন্ন মনুষ্যসৃষ্ট কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে এর ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। এই কারণগুলি হল—

➀ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন যৌগের প্রভাব: রেফ্রিজারেটর, বডি স্প্রে, এয়ার কন্ডিশনার, প্রসাধনী দ্রব্য, হেয়ার স্প্রে, কীটনাশকের স্প্রে-তে প্রচুর CFC ব্যবহার করা হয়। এই গ্যাসই ওজোন ধ্বংসের মূল উৎস। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC গ্যাসের যৌগ ভেঙে দিয়ে ক্লোরিন পরমাণু তৈরি করে। সেগুলি ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন গ্যাসকে ধ্বংস করে। ফলে ওজোনস্তরের ক্ষতি হয়।
O3 + Cl → ClO + O2

➁ হ্যালোন যৌগের প্রভাব: আগুন নেভানোর কাজে হ্যালোন ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হ্যালোন -1211 এবং হ্যালোন-1301-কে ভেঙে ফেলে ব্রোমিন পরমাণুকে মুক্ত করে। এজন্য ওজোনস্তর ধ্বংস হয়।

➂ সালফেট যৌগের প্রভাব: কারখানার চিমনি থেকে যেসব কালো ধোঁয়া বের হয় তার মধ্যে প্রচুর সালফার ডাইঅক্সাইড আছে। এরা সূর্যরশ্মির প্রভাবে সালফেট যৌগ তৈরি করে ও ওজোনস্তরের ক্ষয় ঘটায়।

➃ বিমান চলাচলের জন্য: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে দিয়ে যেসব জেট বিমান চলে তাদের ধোঁয়ায় নাইট্রোজেন অক্সাইড থাকে। এরা ওজোনস্তরকে ক্ষয় করে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের প্রভাব: বায়ুমণ্ডলের প্রায় প্রতিটি উপাদানই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন—

➀ নাইট্রোজেন (78.08%): [i] শুঁটিজাতীয় উদ্ভিদের মূলে বসবাসকারী কতকগুলি ব্যাকটেরিয়া (যেমন- রাইজোবিয়াম) বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটির উর্বরাশক্তি বাড়িয়ে দেয়। [ii] বর্তমানে বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে সার উৎপাদনের কাজেও প্রশ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। [iii] বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন পরোক্ষভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর শরীরে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে।

➁ অক্সিজেন (20.94%): [i] অক্সিজেন ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্বই অসম্ভব। কারণ, অক্সিজেন ছাড়া শ্বাসকার্য সম্ভব নয় বলে জীবনধারণের জন্য সকল প্রাণীই অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল। [ii] অক্সিজেন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিলার আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবন (জারণ) ঘটায়। [iii] কেবল অক্সিজেনের উপস্থিতিতেই আগুন জ্বালানো সম্ভব। [iv] জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে অক্সিজেন মরিচা সৃষ্টির মাধ্যমে লোহার ক্ষয়সাধন করে।

➂ কার্বন ডাইঅক্সাইড (0.03%): [i] কার্বন ডাইঅক্সাইড ছাড়া উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করতে পারে না (উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাহায্যে খাদ্য প্রস্তুত করে)। আর প্রাণীজগৎ খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। [ii] বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এই গ্যাসটির বিশেষ ভূমিকা আছে। [iii] কার্বন ডাইঅক্সাইড শিলার রাসায়নিক আবহবিকার (কার্বোনেশান) ঘটায়। [iv] কার্বন ডাইঅক্সাইড চুনজাতীয় শিলায় রাসায়নিক আবহবিকার ঘটিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ (স্ট্যালাকটাইট, স্ট্যালাগমাইট প্রভৃতি) গঠন করে। [v] অঙ্গারময় খনিজ এবং চুনজাতীয় খনিজ গঠনে কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

➃ ওজোন: ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে 24-40 কিমি-র মধ্যে যে ওজোন গ্যাসের স্তর পৃথিবীকে বেষ্টন করে রয়েছে, তার জন্যেই সূর্য থেকে ছুটে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোতে পারে না। ফলে পৃথিবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

➄ জলীয়বাষ্প: [i] বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প আছে বলেই মেঘ সৃষ্টি হয় এবং ওই মেঘ থেকেই বৃষ্টি হয়। [ii] জলের প্রধান উৎস বৃষ্টিপাত। জলের অপর নাম জীবন। জলীয়বাষ্প না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। [iii] জলীয়বাষ্পের জন্যই পৃথিবীতে শিশির, কুয়াশা, তুহিন ও তুষার সৃষ্টি হয়।

➅ ধূলিকণা: [1] বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করেই জলীয়বাষ্প জলবিন্দুতে পরিণত হয় বা মেঘ ও কুয়াশা সৃষ্টি হয়। [ii] বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণাসমূহ সূর্যরশ্মিতে সরাসরি উত্তপ্ত হয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে এবং পৃথিবীতে সৌরতাপ বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করে। [iii] ধূলিকণার দ্বারা সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হয়ে দিনেরবেলা পৃথিবীকে আলোকিত করে। রাখে। [iv] বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার উপস্থিতির জন্য ঊষা ও গোধূলির সৃষ্টি হয়।

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে উষ্ণতার প্রসর বলে। কোনো দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে দৈনিক উষ্ণতার প্রসর বলে। একইভাবে মাসিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে মাসিক উষ্ণতার প্রসর এবং কোনো বছরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর বলে

সূর্য থেকে আগত শতকরা 34 ভাগ সৌরবিকিরণ বৃহৎ তরঙ্গরূপে মহাশূন্যে ফিরে যায় এবং এর দ্বারা বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হতে পারে না, একে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।

সূর্যতাপের শতকরা 34 ভাগ পৃথিবীতে এসে আবার মহাশূন্যে ফেরত যায়। বাকি 66 ভাগের 19 ভাগ বায়ুমণ্ডল প্রত্যক্ষভাবে শোষণ করে, বাকি 47 ভাগ ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছলে ভূপৃষ্ঠ-সংলগ্ন বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। একেই কার্যকরী সৌরবিকিরণ বলে।

আকাশে মেঘের আবরণ না থাকলে দিনেরবেলা সূর্যরশ্মি বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে এসে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে তোলে। রাতেরবেলা আবার ভুপৃষ্ঠ থেকে এই তাপ দীর্ঘতরঙ্গ রশ্মিরূপে মহাশূন্যে ফিরে যায়। অর্থাৎ দিনেরবেলা বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বাড়ে এবং রাতেরবেলা উত্তাপ কমে। যেমন—–উষ্ণ মরু অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল দিনেরবেলা প্রচণ্ড উষ্ণ হয় এবং রাতের বেলা খুব কম উত্তাপ থাকে।

এর কারণ – [1] আকাশে মেঘ না থাকার জন্য দিবাভাগে সূর্যরশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে চলে আসে। ফলে মরুভূমির বালি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যে তাপ বিকিরণ করে তাতে বায়ুমণ্ডল প্রচণ্ড উন্ন হয়ে যায়। [2] সূর্যাস্তের পর মরুভূমির শিথিল বালি দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয় এবং আকাশে মেঘ না থাকার জন্য ওই বিকীর্ণ তাপ সরাসরি মহাশূন্যে চলে যায়। ফলে রাতে উত্তাপ খুবই কম থাকে এবং ঠান্ডা অনুভূত হয়।

আকাশে মেঘের আবরণ দিনেরবেলা সূর্যরশ্মিকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোতে বাধা দেয় এবং রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে মহাশূন্যে অর্থাৎ পৃথিবীর আবহমণ্ডলের বাইরে পৌঁছোতে দেয় না। ফলে, আকাশে মেঘের আবরণ থাকলে দিনেরবেলা উত্তাপ কমে এবং রাতে উত্তাপ বাড়ে। কিন্তু রাতে আকাশ যদি মেঘমুক্ত হয় তাহলে দিনেরবেলা আগত তাপের পুরোটা ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে অর্থাৎ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে যেতে পারে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠ-সংলগ্ন বায়ুস্তরও শীতল হয়। এই কারণে মেঘাচ্ছন্ন রাত্রির তুলনায় মেঘমুক্ত রাত্রি শীতল হয়।

সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল নিম্নলিখিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-

[1] সূর্যরশ্মির পতনকোণ: পৃথিবীর নিম্ন অক্ষাংশে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে সেখানে তাপীয় ফল বেশি, কিন্তু উচ্চ অক্ষাংশগুলিতে সূর্যালোক হেলে পড়ে বলে সেখানে তাপীয় ফল কম।

[2] পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব: কখনো কখনো পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের হ্রাসবৃদ্ধির জন্য সূর্যের তাপীয় ফলের হ্রাসবৃদ্ধি হয়।

[3] সূর্যালোকের স্থিতিকাল: পৃথিবীর যে সমস্ত জায়গায় বেশিক্ষণ ধরে সূর্যালোক পড়ে সেখানকার তাপীয় ফল বেশি আর যেখানে সূর্যালোক পাওয়া যায় না সেখানে তাপীয় ফল কম।

◉ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রকৃতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সেগুলি হল—

[1] মেরু অঞ্চলে বরফের গলন ও পার্বত্য হিমবাহের গলন: উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার জন্য গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী হিমবাহ ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব উন্নায়নের ফলে গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর, দক্ষিণমেরুর হিমবাহও গলে যাচ্ছে।

[2] সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি: মেরু অঞ্চল এবং পার্বত্য হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার জন্য সমুদ্রের জলতল বেড়ে যাচ্ছে। বিগত শতাব্দীতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 1°সে বৃদ্ধির জন্য সমুদ্রজলের উচ্চতা প্রায় 10-12 সেমি বেড়ে গেছে। এর জন্য সমুদ্র উপকূলের নীচু অংশগুলি পড়েছে। সমুদ্রস্রোতের পরিবর্তন, জলমগ্ন হয়ে ভৌমজলে লবণতার পরিমাণ বেড়ে গেছে।

[3] অধঃক্ষেপণের প্রকৃতি পরিবর্তন: বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাষ্পীভবন বেশি হবে ও বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বেড়ে যাবে। বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, তুষারপাত ইত্যাদির তীব্রতা বাড়বে। অধঃক্ষেপণের অসম বণ্টন সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ কোথাও বন্যা বা কোথাও খরা দেখা যাবে।

[4] শস্য উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি: কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন 10 থেকে 70 শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। ধান, ওট, তামাক, তুলো, পাটের উৎপাদন কমে গেলেও আখ, জোয়ার, বাজরার উৎপাদন বাড়তে পারে। দেখা গেছে হিমাচলের কুলু উপত্যকায় আপেল চাষের সাথে পেয়াজ রসুনের উৎপাদন চলছে।

[5] কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়ন কৃষিপদ্ধতির পরিবর্তন ঘটাবে। এখনকার সেচসেবিত কৃষি অঞ্চলগুলি চারণভূমিতে পরিণত হবে। ধান, পাট, তুলো ক্রান্তীয় অঞ্চলের পরিবর্তে নাতিশীতোয় অঞ্চলে চাষ হবে। অন্যদিকে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলিতে কৃষিপদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হবে।

[6] এল নিনো ও পৃথিবীব্যাপী তার প্রভাব: দক্ষিণ আমেরিকার পেরু উপকূল বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরে হঠাৎ করে দক্ষিণমুখী একধরনের উষ্ণস্রোত সৃষ্টি হয়। এই সমুদ্রস্রোতের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ঘটনাকে এল নিনো বলে। এই স্রোতের প্রভাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উষ্ণতা 1.5 - 2.5 °সে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে পেরু, ইকুয়েডরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ভারতে খরার জন্য এল নিনো দায়ী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি থাকে বলে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় বেশি বাধা পায়। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি থাকে বলে এই বায়ু প্রবল বেগে এগিয়ে যায়। তাই দক্ষিণ গোলার্ধের পশ্চিমা বায়ুকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।

দক্ষিণ গোলার্ধে 40° অক্ষাংশের পর স্থলভাগ বিশেষ না থাকায় পশ্চিমা বায়ুর গতির ওপর ঘর্ষণজনিত বাধা কম পড়ে। এজন্য দক্ষিণ গোলার্ধে 40° থেকে 50° অক্ষাংশের মধ্যে বিস্তৃত জলরাশির ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু সারাবছরই, সশব্দে প্রবলবেগে এবং অপ্রতিহতভাবে চলাচল করে। প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় বলে এই অক্ষাংশের দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

সারাবছর নির্দিষ্ট দিকে, নির্দিষ্ট গতিতে, নিয়মিতভাবে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে। পৃথিবীতে স্থায়ী বায়ুচাপ বলয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়তবায়ু তৈরি হয়েছে। নিয়ত বায়ু তিন ধরনের।

যথা— [1] আয়ন বায়ু, [2] পশ্চিমা বায়ু, [3] মেরু বায়ু।

পশ্চিমা বায়ু সাধারণত 35°-60° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু পশ্চিমদিক থেকে আসে বলে মহাদেশের পশ্চিমদিকে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

শীতকালে সমুদ্রের উপরিস্থিত জলভাগ স্থলভাগ থেকে বেশি উষ্ণ থাকে। উষ্ণ সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসার সময় এই বায়ুর উষ্ণতা বেড়ে যায়। এই জলীয়বাষ্পপূর্ণ পশ্চিমা বায়ু দুই মেরু প্রদেশীয় অঞ্চলে ঠান্ডা মেরু বায়ুর সংস্পর্শে দ্রুত ঘনীভূত হয় এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বায়ু মহাদেশের পশ্চিমদিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে এই বায়ুর প্রভাবে মহাদেশের পশ্চিমদিকে বৃষ্টিপাত বেশি হয়ে থাকে।

নানা কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়ে থাকে—

[1] বায়ুচাপের পার্থক্য: বায়ুচাপের তারতম্যের কারণেই মূলত বায়ু প্রবাহিত হয়। বায়ু সবসময় উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।

[2]  উষ্ণতার পার্থক্য: বায়ু উষ্ণ হলে হালকা ও প্রসারিত হয়ে ওপরে ওঠে, ফলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ঠান্ডা বায়ু সেদিকে ছুটে গিয়ে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে।

[3] জলীয়বাষ্পের পরিমাণ: বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকলে সেই বায়ুর চাপ কম হয় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। তাই সেখানে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু ছুটে আসে।

[4] পৃথিবীর আবর্তন: পৃথিবীর আবর্তনের যে, কোরিওলিস বলের সৃষ্টি হয় তার প্রভাবে বায়ু সোজা প্রবাহিত হতে না পেরে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

বায়ুচাপের তারতম্যের কারণ: বায়ুর চাপের তারতম্য যে কারণগুলির জন্য ঘটে, সেগুলি হল—

[1] উষ্ণতার প্রভাব: [i] বায়ু উষ্ণ হলে প্রসারিত হয়। ফলে তার ঘনত্ব কমে যায় অর্থাৎ চাপ হ্রাস পায়। এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম হয়। [ii] উষ্ণতা কমলে বায়ু সংকুচিত হয়, ফলে তার ঘনত্ব বাড়ে। সুতরাং, চাপও বৃদ্ধি পায়। উভয় মেরু অঞ্চলে অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য বায়ুর চাপ বেশি হয়।

[2] বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ: জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা হয় বলে এর চাপও কম হয়। এজন্য যেসব অঞ্চলের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে সেখানে বায়ুর চাপ কম হয়।

[3] উচ্চতার প্রভাব: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরের দিকে ওঠা যায়, বায়ুস্তরের গভীরতা বা বায়ুমণ্ডলীয় ভর ক্রমশ কমে যায় এবং এর ফলে বায়ুর চাপও হ্রাস পায়। এজন্য দুটি স্থানের মধ্যে যেটির উচ্চতা বেশি সেখানে বায়ুর চাপও অপেক্ষাকৃত কম হয়। যেমন—কলকাতা ও দার্জিলিং প্রায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও বেশি উচ্চতার জন্য দার্জিলিং-এ বায়ুর চাপ কলকাতার তুলনায় অনেক কম থাকে।

[4] পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাব: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যও বায়ুচাপের তারতম্য হয়। যেমন—পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ দুই মেরুর তুলনায় মেরুবৃত্ত প্রদেশে বেশি বলে মেরুবৃত্ত প্রদেশের বায়ু বেশি পরিমাণে বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে গিয়ে মেরুবৃত্ত প্রদেশে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে।

[5] স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন: স্থলভাগ ও জলভাগের বিপরীতধর্মী চরিত্রের প্রভাবেও বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। দিনেরবেলা জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় ও নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। তেমনি রাতেরবেলায় স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে পড়ে এবং উচ্চচাপ ক্ষেত্র তৈরি করে। এইভাবে স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টনের জন্য চাপের তারতম্য ঘটে।

বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা উষ্ণতার ওপর নির্ভরশীল যখন কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কোনো স্থানের বায়ুতে তার ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কম জলীয়বাষ্প থাকে, তখন তাকে অপরিপক্ত বা অসম্পৃক্ত বায়ু বলা হয়। পরিপৃক্ত বা সম্পৃক্ত বায়ুর উন্নতা হঠাৎ বেড়ে গেলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতাও বেড়ে যায়, ফলে ওই বায়ু তখন অপরিপৃক্ত বা অসম্পৃক্ত হয়ে যায়।

ঊর্ধ্বাকাশে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় যদি বায়ুর উষ্ণতা হিমাঙ্কের (0°সে) নীচে নেমে যায়, তাহলে জলকণাসমূহ তুষারে পরিণত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তুষার নীচে পড়ার সময় উষ্ণ বায়ুর সংস্পর্শে আসে বলে গলে যায় এবং বৃষ্টি হিসেবেই মাটিতে পড়ে। তবে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বা শীতপ্রধান অঞ্চলের বায়ু খুব শীতল বলে ওপরের তুষার পেঁজা তুলোর মতো ঝিরঝির করে পড়ে। একে তুষারপাত বলা হয়।

বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পরিপৃক্ত হলে মেঘ সৃষ্টি হয়, কারণ—যেকোনো বায়ুরই জলীয়বাষ্প ধারণ করার একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা আছে। উষ্ণ বায়ু অধিক জলীয়বাষ্প ধারণ করে এবং উষ্ণতা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতাও কমে যায়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু নির্দিষ্ট পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। যখন কোনো জায়গার বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ওই নির্দিষ্ট পরিমাপের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছোয়, তখন তাকে বায়ুর পরিপৃক্ত অবস্থা বলা হয়। পরিপৃক্ত বায়ুর উষ্ণতা শিশিরাঙ্কের নীচে নেমে গেলে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা, লবণের কণা প্রভৃতিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়ে মেঘ হিসেবে ভেসে বেড়ায়।

ভূপৃষ্ঠ অত্যধিক উষ্ণ হলে পরিচলন পদ্ধতিতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবল বেগে ওপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলা হয়।

যে সমস্ত স্থানে জলের ভাগ বেশি সেখানে দিনের বেলায় প্রখর সূর্য কিরণে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু হালকা ও প্রসারিত হয়ে দ্রুত অনেক ওপরে উঠে যায়। সেখানে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে মেঘ ও পরে জলকণায় পরিণত হয়। এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগ বেশি বলে বায়ুতে জলীয়বাষ্পও বেশি থাকে। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু সাধারণ বায়ু অপেক্ষা উষ্ণ ও হালকা। তাই দিনের বেলা উষ্ণ ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে সোজা ওপরে উঠে শীতল হয়। এ ছাড়া, ওপরে বায়ুর চাপ কম বলে ওই আর্দ্র বায়ু দ্রুত প্রসারিত হয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয় এবং বৃষ্টিরূপে ওই স্থানেই নেমে আসে। এ কারণেই নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রত্যহ বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

পদ্ধতি:— উষ্ণ, জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং ছোটো ছোটো জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়। অনেকগুলি জলকণা বা তুষারকণা যখন পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়তনে বাড়ে ও ভারী হয় এবং মাধ্য কর্ষণ শক্তির টানে নীচের দিকে নেমে আসে তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। অধঃক্ষেপণ দুইভাবে হয়—➀ তরলরূপে এবং ➁ কঠিনরূপে

➀ তরলরূপেঃ— উষ্ণ, জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং মেঘের সৃষ্টি করে। মেঘের মধ্যে ওই জলকণাগুলি যখন পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও ভারী হয় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে তখন তাকে বৃষ্টিপাত বলে। বৃষ্টিপাত তিন প্রকার—[i] পরিচলন বৃষ্টিপাত, [ii] শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, [iii] ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত।

➁ কঠিনরূপেঃ—

[i] তুষারপাতঃ শীতপ্রধান দেশে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস হিমাঙ্কের থেকে কম উষ্ণতায় ঘনীভূত হলে সেগুলি তুষারকণায় পরিণত হয় ও ময়দার গুঁড়োর মতো ঝরে পড়ে। একে তুষারপাত বলে।

[ii] শিলাবৃষ্টিঃ ঊর্ধ্বমুখী প্রবল ঝড় জলকণাপূর্ণ বায়ুকে অনেক ওপরে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রবল ঠাণ্ডায় জলকণা জমে বরফখণ্ডে পরিণত হয়। ওই সব বরফখণ্ডের আয়তন বাড়লে ভারী হয়ে নীচে নামতে থাকে। পরবর্তী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর ধাক্কায় বরফখণ্ডগুলি আবার ওপরে উঠে যায় এবং আরও জলকণা সংগ্রহ করে আরও ভারী হয়। এবং বৃষ্টির সঙ্গে বরফখণ্ডরূপে নেমে আসে। একেই শিলাবৃষ্টি বলে।

[ii] স্লিষ্টঃ নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে বৃষ্টির ফোঁটা প্রথমে শীতল বায়ুস্তরের মধ্যে দিয়ে নামবার সময় বায়ুস্তরে জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তুষারকণায় পরিণত হয় এবং ওই সব তুষারকণাগুলির অধঃক্ষেপণকে স্লিট বলে।