নবম পাঠ

উঃ-যখন বৃষ্টি নামল, তখন সেলো ব্যাট করছিল সে মনে মনে আক্ষেপ করল যে, যখনই সে ব্যাট করে তখনই বৃষ্টি হয়।

উঃ-বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর গোটা বর্ষাকাল সেলোর আর ক্রিকেট খেলা হয়নি। যখন বৃষ্টি হত না আর চড়া রোদ উঠত তখন সেলো রাস্তায় বেরিয়ে নিজের মনে শিস দিত, আশা করত যে তার শিসের শব্দ শুনে ভার্ন আর অ্যামি বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ওরা আসত না। সেলোর মনে হত ওরা সেলোকে আর কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গদ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে।

গদ্যাংশটির লেখক মাইকেল অ্যানটনি।

বর্ষাকালে মেয়ারোর আকাশ সবসময় মেঘে ঢাকা থাকত, সমুদ্রের উপর জলভরা কালো মেঘ নীচু হয়ে ঝুলত, বাতাস এলে নারকেল বনে ঝাপটা মারত। বৃষ্টির ফলাগুলি ঝাঁপিয়ে পড়ত।

উঃ-উদ্ধৃত মন্তব্যটি প্রখ্যাত ক্যারাবিয়ান সাহিত্যিক মাইকেল অ্যানটনির লেখা ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা' গল্পটি থেকে গৃহীত হয়েছে।

'তিনি' বলতে আলোচ্য গল্পের প্রধান চরিত্র সেলোর দুই বন্ধু অ্যামি আর ভার্নের মাকে বোঝানো হয়েছে।

তিনি তার দুই দস্যি ছেলে অ্যামি আর ভার্নের চিৎকার করে একটি ছড়া পাঠ (নেবুর পাতায় করমচা/হে বৃষ্টি, স্পেনে যা।') শুনেছিলেন।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি বলেছিল ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গদ্যাংশের কথক চরিত্র সেলো।

সেলো তার বন্ধু অ্যামি আর ভার্নের সঙ্গে রাস্তায় ক্রিকেট খেলছিল। সে যখন ব্যাট করতে নামে তখনই বৃষ্টি আসে, খেলা পণ্ড হয়ে যায়। সেলোর মন খারাপ হয় আর সে মনে মনে বলে ‘নিকুচি’।

উঃ-মাইকেল অ্যানটনির ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পের কথক সেলো তার নিজের চিৎকার করে ওঠার কথা বলেছে।

সেলো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে খুব ভয় পেত। ঝড়, অতিবৃষ্টি, রাস্তায় ক্রিকেট খেলা বজ্র-বিদ্যুৎ, উপকূলে আছড়ানো সমুদ্র, ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সব কিছু নিস্তব্ধ থাকা—এ সবই তার কাছে ভীতিপ্রদ ছিল। উদ্ধৃতিটির পূর্বেই ভয়ংকর বজ্রপাতের শব্দে আকাশ কেঁপে ওঠে, তাই সে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে।

উঃ-উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা মাইকেল অ্যানটনির লেখা 'রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পের কথক সেলোর বন্ধু ভার্ন।

ঝড়ঝঞ্ঝা ও বজ্র-বিদ্যুৎসহ একচোট বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর যখন রোদ উঠেছে তখন ভার্ন সেলোকে খেলতে ডেকে এই কথা বলেছে।

সেলো ঝড়ঝঞ্ঝা ও বজ্রবিদ্যুতের দাপটে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে খাটের তলায় আশ্রয় নিয়েছিল। বাইরের প্রকৃতির পরিবর্তনের আভাস সে পায়নি। ভার্ন যখন তাকে ডাকে তখনও সে ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

উঃ-উদ্ধৃতিটি মাইকেল অ্যানটনি রচিত ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্প থেকে নেওয়া। এখানে অ্যামির মাথায় মতলবটি এসেছিল। কে প্রথমে ব্যাট করবে তাই নিয়ে তিন বন্ধুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে অ্যামির মাথায় টস করার মতলব আসে।

সেলো টসে রাজি হয়, কিন্তু টসে হেরে গিয়ে খেলা থেকে বিরত থাকে। শুধু তাই নয় সে রাগে বল ও ব্যাট দূরে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। ফলে তিন বন্ধুর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

উঃ-‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পটি বিখ্যাত ক্যারাবিয়ান সাহিত্যিক মাইকেল অ্যানটনির ‘ক্রিকেট ইন দ্য রোড এন্ড আদার স্টোরিজ’ ছোটোগল্প গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। গল্পটি তরজমা করেছেন তীর্থঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। গল্পে উল্লিখিত মেয়ারো ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি বিখ্যাত শহর। গল্পের শুরুতে সেই মেয়ারো শহরের বর্ষাকালের রূপচিত্রের কথা বলা হয়েছে। আলোচ্য গল্পে যে তিনটি চরিত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাও বিদেশি যথা—সেলো, অ্যামি ও ভার্ন। এ ছাড়াও টস করার কথা ওঠে তখন ‘পেনি’ দিয়ে টস করা হয়। এই পেনি হল বিদেশি মুদ্রা, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রচলিত। এইসব অনুষঙ্গে গল্পটি বিদেশি গল্প বলে মনে হয়।

উঃ-ক্যারাবিয়ান সাগর ও আটলান্টিক সাগরের মধ্যবর্তী ত্রিনিদাদ দ্বীপের মেয়ারোর আবহাওয়ায় বর্ষার প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। বর্ষাকালে সেখানকার আকাশ সর্বদাই ঘন মেঘে ঢাকা  থাকত। দূর থেকে দেখলে মনে হত আকাশ কালো, গোমড়া মুখ নিয়ে সমুদ্রের উপর ঝুঁকে আছে। মাঝে মাঝে বাতাস সমুদ্রের উপর থেকে তীব্র বেগে ছুটে এসে উপকূলের নারকেল বনে ঝাপটা মারত, সঙ্গে সমুদ্র সবেগে হুংকার দিয়ে উপকুলের সীমা লঙ্ঘন করত। সুতীব্র বাতাসের সহায়তা পেয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলি বর্শার ফলার মতো মানুষের উপর এসে পড়ত। সঙ্গে চলত ঘনঘন বিদ্যুতের চমক আর বজ্রের হুংকার। বৃষ্টি থামার পর মেয়ারোর সব কিছু কেমন যেন মড়ার মতো নিঃসাড় হয়ে থাকত। সারা বর্ষাকাল ধরে বজ্রবিদ্যুতে, উপসাগরের ঢেউয়ে আর মাতাল বাতাসে ভয় ধরানো ভাব জেগে থাকত।

উঃ-মাইকেল অ্যানটনি রচিত ‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পের কথক চরিত্র সেলো এক কিশোর। সদ্য বাল্য-উত্তীর্ণ কৈশোরের রাগ, ক্ষোভ, ভয়, লজ্জা, আশা, হতাশা সব নিয়ে এই চরিত্রটি ছোটোগল্পের স্বল্প পরিসরে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সেলো গল্পের শুরুতেই বর্ষাকালের প্রতি তার বিরাগ ব্যক্ত করেছে। এই বিরাগ কেবল বারবার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি হয়নি বরং এর পিছনে আছে তার কিশোরসুলভ ভয়—প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়। অন্যদিকে বর্ষাকালের প্রকৃতির কালো গোমড়া মুখ, বৃষ্টি থামার পর সব কিছুর মড়ার মতো নিঃসাড় হয়ে থাকা ইত্যাদির প্রতিও তার গভীর অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। এতে তার চরিত্রে ভীতিবোধের সঙ্গে সঙ্গে ভাবুক মনের উপস্থিতিও টের পাওয়া যায়। সেলো রাস্তায় ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসে, আর সকলের মতো ব্যাট করতেই তার বেশি ভালো লাগে। তাই তার ব্যাটিং-এর দান অন্য কেউ দাবি করলে তার রাগ হয়। কিশোরসুলভ হঠকারিতায় সে রাগের চোটে ব্যাট-বল ফেলে দেয়। অন্যদিকে বন্ধুবিচ্ছেদও তাকে পীড়া দেয়, আবার যেচে ভাব করতে যেতেও তার দ্বিধা হয়, তাই সে শিস দিয়ে দেখে বন্ধুরা সাড়া দেয় কি না। অবশেষে বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের মুহূর্তে তার মনে হয় বন্ধুরা যেন অনেক দূরে চলে গিয়েছিল আর ফিরতে পারছিল না। এইসব রাগ-অভিমান, ভয়-ভাবুকতা নিয়ে সেলোর চরিত্রটি সর্বদেশে সর্বকালের কিশোর চরিত্রের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে।

উঃ-সেলো অর্থাৎ 'রাস্তায় ক্রিকেট খেলা গল্পের কথক এবং তার প্রতিবেশী দুই কিশোর ভার্ন আর অ্যামির সঙ্গে রাস্তার শুরু হয় বৃষ্টি, ফলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির দাপট কাটার প ক্রিকেট খেলছিল। সেলো যখন ব্যাট করছিল ঠিক সেই সময়ে । ভার্নের আহ্বানে সেলো বাইরে আসে। ভার্ন প্রথম আহ্বানে তার । ব্যাট করার কথা বলেছিল। কিন্তু ঝড়ঝঞ্ঝা ও বজ্রবিদ্যুতের ভয়ে ভীত সেলোর তখনও ঘোর কাটেনি, তাই সে নিজের ব্যাট করার। কথাতেও নির্বিকার থাকে। তার নির্বিকার ভাব দেখে ভান এবার। প্রশ্ন করে যে, দুনম্বর ব্যাট কে? প্রশ্নের উত্তরে সেলো নিজের নাম বললেও ক্রমে ক্রমে অ্যামি ও ভার্ন ব্যাট করার দাবি করে। এখানে সমস্যা শুরু হয়। তর্কবিতর্কে সমস্যা না মেটায় অ্যামির পরামর্শে টস হয় এবং সেলো হেরে যায়। সেলো রেগে গিয়ে নিজে খেলবে না বলে, পরে রাগ সামলাতে না পেরে ব্যাট আর বল বের করে বাড়ির পিছনে গিয়ে দূরে ঝোপের মধ্যে ছুঁড়ে দেয়। এই ঘটনাতেই তিন বন্ধুর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়।

উঃ-‘রাস্তায় ক্রিকেট খেলা’ গল্পের তিন বন্ধুর বিচ্ছেদ যেমন হয়েছিল ক্রিকেট খেলাকে ঘিরে, তেমনি তাদের পুনর্মিলনও হয় ক্রিকেটের অনুষঙ্গে। মনোমালিন্য হওয়ার পর ওই বর্ষাকালে আর ক্রিকেট খেলা হয়নি। যেসব দিন বৃষ্টি হত না, চড়া রোদ উঠত সেসব দিন সেলো শুনতে পেত যে, ভার্ন ও অ্যামি নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। সেলো সেই সময় বাড়ি থেকে রাস্ত বেরিয়ে শিস দিত, আশা করত তার শিস শুনে ভার্ন আর অ্যামি বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সে সবসময় নিরাশ হত। পরের বছরের শুরুর দিকে একদিন রাস্তায় বেরিয়ে সেলো দেখতে পায় যে, ভার্ন আর অ্যামি ক্রিকেট খেলার তোড়জোড় করছে। নিজেদের অজান্তেই সেলো তাদের দিকে এগিয়ে যায়। অ্যামি প্রথমে সেলোকে দেখে আর ভার্নকে ডেকে দেখায়। ভার্ন প্রথমে অবাক চোখে সেলোর দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থাকে, সেলোও লজ্জিত হয়ে মাটির দিকে তাকায়। পরে ভানের মুখে খুশির হাসি জেগে ওঠে। সে সেলোকে বন্ধুর পুনর্মিলন ঘটে। খেলতে ডাকে তাকে প্রথমে ব্যাট করতে দিয়ে। এভাবেই তিন বন্ধুর পুনর্মিলন ঘতে।

উঃ-উদ্ধৃতাংশটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘দিন ফুরোলে’কবিতা থেকে গৃহীত।

প্রকৃতির লীলাখেলা ঈশ্বরের অধীনে। দিনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে গোধূলি আসে, আকাশ নানা রঙে ভরে যায়। ক্রমে অন্ধকার নেমে আসে, আকাশ ভরে ওঠে অসংখ্য নক্ষত্রে। প্রকৃতির এই পটপরিবর্তনকেই কবি লক্ষ রঙের দৃশ্য বলেছেন।

দিনের শেষে কথকদের অর্থাৎ ছোটো ছেলেমেয়েদের ঘরে ফেরার পালা। তাই তারা কল্পনা করে, সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ বর্ণময় করে ঈশ্বর লক্ষ রঙের দৃশ্যে চমকে দেবেন।

উঃ-কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় কবি কথকদের ঘরে ফেরাকে পাখিদের বাসায় ফেরার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

দিনের শেষে পাখিরা যেমন বাসায় ফেরে, কথকদেরও খেলার মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরতে হয়। এই কারণে তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। পাখিরা উদার আকাশে উড়তে ভালোবাসে, তেমনি কথকরাও প্রকৃতির খোলা মাঠে খেলতে ভালোবাসে। মাঠ ছেড়ে তাদের ঘরে ফিরতে মন চায় না। কিন্তু সন্ধেবেলায় তাদের ঘরে ফিরতেই হবে। পাখিরা সারি সারি যেমন ধানের গুচ্ছে আঁধার ফেলে ঘরের দিকে উড়ে যায়, তেমনি কথকরাও নিজের নিজের ‘মন খারাপের গর্তে’ ফিরে আসে।

উঃ-কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় কথকদের ফেরার কথা বলা হয়েছে।

এখানে কথকরা হল ছোটো বাচ্চারা। তারা মাঠে খেলায় মত্ত। এমন সময় সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার নেমে আসে। বড়োদের তৈরি নিয়ম মেনে তাদের খেলা ফেলে ঘরে ফিরতে হবে, তাই তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। এজন্য কবি তাদের ঘরে ফেরাকে নিজের নিজের ‘মন খারাপের গর্তে’ ফেরা বলেছেন।

উঃ-কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা 'দিন ফুরোলে' কবিতাটিতে গোধুলির মনোরম দৃশ্য বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে শিশুমনের অনাবিল সুখ-দুঃখের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শিশুরা খেলতে ভালোবাসে, তাই তারা কিছুতেই মাঠ ছেড়ে আসতে চায় না। সূর্য অস্ত যাওয়ায় তারা বিরক্তি প্রকাশ করে ‘দুচ্ছাই’ করে। কবি তাদের ঘরে ফেরাকে পাখিদের নীড়ে ফেরার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাখিরা যেমন ধানের গুচ্ছের উপর দিয়ে উড়ে যায়, ছেলের দলও তেমনি নিজের নিজের ‘মন খারাপের গর্তে’ ফিরে যায়। বাবার শাসনের কথাও তাদের মনে পড়ে। শিশুরা ভীত হয় এই ভেবে যে, মা-বাবা বকবে। সন্ধ্যার আগে হাত-পা ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় মন দিতে হবে। আলোচ্য কবিতায় কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন খেলাধুলার পর পড়তে বসা শিশুদের কর্তব্য। তবেই তাদের দেহ-মনের বিকাশ হবে। কবি নিজে শিশু হয়ে শিশুমনের খেয়ালি কল্পনার কথা শুনিয়েছেন। এইভাবে কবি দিন ফুরোনোর পূর্বাভাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

উঃ-কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘দিন ফুরোলে’ কবিতায় প্রকৃতির গোধূলি সময়ের এক বর্ণনা দিয়েছেন। এইসময় ধরা পড়েছে। আকাশ জুড়ে রঙের খেলা। আলোচ্য পঙ্‌ক্তিতে রাতের আকাশের এই বর্ণময় দৃশ্য ছোটো ছেলেমেয়েদের দেখতে না পাওয়ার বেদনা ধরা পড়েছে।

সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেই রাতের অন্ধকার নেমে আসায় আকাশ জুড়ে শুরু হয় রঙের খেলা। এই রঙের খেলায় কোথাও আগুন রঙের ছোঁয়া, কোথাও লাল কিংবা কোথাও হলুদের আভা দেখা যায়। দেখে মনে হয়, ঈশ্বর যেন রঙের বাক্স আকাশে উজাড় করে দিয়েছেন। এই উজাড় করা বর্ণময়তা আমি তথা সকল ছোটো ছেলেমেয়েদের মনকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। এই বর্ণময় আকর্ষণ এতটাই জোরালো যে, আমার মনের গভীরেও এক রেখাপাত করে যায়।

উঃ-আলোচ্য উক্তিটির বক্তা ছোটো শিশুদের বাবা।

কথকদের অর্থাৎ ছোটো শিশুদের উদ্দেশে এ কথা বলা হয়েছে।

ছোটো শিশুদের কাছে খেলা একটি অতি প্রিয় বিষয়। খেলা পেলে আর কিছুই তারা চায় না। খেলতে খেলতে সময় চলে যায়। দিনের শেষে, চারদিক অন্ধকার করে নেমে আসে সন্ধ্যা। তখন সকলের ঘরে ফেরাই নিয়ম। কিন্তু খেলায় মত্ত শিশুদের ঘরে ফিরতে মন চায় না। সন্ধ্যার পরে মাঠে থাকলে ভাঙা হয় নিয়ম, দেখানো হয় স্পর্ধা। তাই শাসন করে বাবা এ কথা বলেন।

উঃ-টাউন স্কুলের ছেলেদের অন্ধবিশ্বাস ছিল যে, মাঠে নামার আগে গাধার কান মলতে পারলে তবেই তারা জিতবে।

উঃ-টাউন স্কুলের খেলোয়াড় সমরেশ খেলার আগে গাধা খুঁজতে বেরিয়েছিল। তাদের চিরাচরিত বিশ্বাস খেলার মাঠে নামার আগে গাধার কান মলে খেলতে নামলে তারা জয়লাভ  করে। সেজন্য সমরেশ ঘাটে, মাঠে, ধোবার বাড়িতে সর্বত্র গাধা খুঁজে বেড়িয়েছিল।

উঃ-টাউন স্কুলের ছেলেরা সবাই জানত যে, দিব্যেন্দুবাবু জিলিপি  খেতে বড়ো ভালোবাসেন; আর ম্যাচের আগে যে পক্ষ তাঁকে জিলিপি খাওয়ায়, তিনি সেই পক্ষকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

উঃ-গাধার কান না মলে খেলতে নামার জন্য এমনিতেই টাউন স্কুলের খেলোয়াড়দের মন খারাপ ছিল, তারপর মাঠে দিব্যেন্দুবাবুকে রেফারি হিসেবে দেখে তারা আরও মুষড়ে গেল। কারণ তাদের স্থির বিশ্বাস, মিশন স্কুলের ছেলেরা নিশ্চয় তাঁকে পেট ভরে জিলিপি খাইয়ে ম্যাচের আগেই নিজেদের পক্ষে টেনে নিয়েছে।

উঃ-ব্যাক গিরীন, হাফ-ব্যাক সমরেশ আর রাইট-ইন টুনুর উপরেই টাউন স্কুলের দলের ভরসা ছিল।

উঃ-প্রতিদ্বন্দ্বী মিশন স্কুলের একটা গোলের পর টাউন স্কুল হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, টাউন স্কুলের টুনু পায়ে প্রচণ্ড চোট পায়। কিন্তু এই দলের ক্যাপটেন গিরীন নবীন খেলোয়ার টুনুকে উৎসাহিত করার জন্য নিজের ‘কথবেলে'র মতো চোট পেয়ে ফুলে যাওয়া পা-টা দেখিয়ে তার মনের জোর-কে বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং তার গলা জড়িয়ে ধরে বলে টুনুই তাদের ভরসা। মিশন স্কুল একটা গোল দিয়েছে কিন্তু টুনু চেষ্টা করলে তিনটে গোল দিয়ে তাদের দলের হেরে যাওয়া আটকাতে পারে।

উঃ-মিশন স্কুলের ছেলেরা হারবার উপক্রম হলেই মারামারি করে খেলতে আরম্ভ করে।

উঃ-খেলা যখন শেষ হল, তখন টাউন স্কুল দিয়েছে চার গোল, আর মিশন স্কুল মোটে এক গোল। সুতরাং টাউন স্কুল তিন গোলে জয়লাভ করে।

উঃ-টাউন স্কুলের জয়লাভে টুনুর অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল। কারণ টুনু একাই তিনটি গোল দিয়েছিল।

উঃ-টাউন স্কুলের ছেলেদের অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার ছিল যে, খেলা শুরুর আগে গাধার কান মলে দিলে তবেই তারা খেলায় জেতে। কিন্তু সংস্কারহীন মনের টুনু দারুণ খেলে নিজের দলকে জিতিয়ে প্রমাণ করে দেয় সংস্কার নয় খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দলগত ঐক্যই খেলায় জেতায়। তাই টাউন স্কুলের খেলোয়াড়দের মন সংস্কারমুক্ত হয় এবং তারা এ কথা বলে।

উঃ-এখানে বক্তা হল টাউন স্কুলের নবীন খেলোয়াড় টুনু।

টাউন স্কুলের অন্য এক খেলোয়াড় প্রণব যখন টুনুকে জানায় যে, তাদের দলের বিশ্বাস হল—খেলার আগে গাধার কান না মললে তারা হেরে যেতে পারে—এই কথা যে কেউ ভাবতে পারে, তা টুনুর বিশ্বাসই হয়নি বরং ঠাট্টা বলে মনে হয়েছে।

উঃ-খেলার প্রথমার্ধে যখন দুই দলই গোল করার জন্য মরিয়া তখন টাউন স্কুলের প্রধান ভরসা টুনু এ কাজ করেছে।

কারণ খেলতে গিয়ে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে এমন লেগেছিল যে, সে বেজায় ব্যথায় কাবু হয়ে গিয়েছিল এবং বল নিয়ে গোল দেওয়ার জন্য দৌড়োতে পারছিল না।