পঞ্চম অধ্যায় ⇒ পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ

জৈব ভূ - রাসায়নিক চক্রকে পরিপোষক চজৈব ভূ-রাসাক্র বলার কারণ : যেসব মৌলিক উপদানগুলি উদ্ভিদ ও প্রাণীদের দেহ গঠনে প্রয়োজনীয়, তাদের পরিপোষক (Nutrient) বলে। যেমন—C, H,O, N, Mg, Fe, S, P, Na, Ca ইত্যাদি। জীব এইসব মৌলগুলি পরিবেশ থেকে গ্রহণ করে। পরিপোষক চক্রের অন্তর্গত বিভিন্ন মৌল বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার বায়োজেনেটিক উপাদানসমূহের আদান প্রদান করে, যার ফলে পরিপোষকের ক্রমাগত ব্যবহার প্রক্রিয়া চলে, জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমেই ওই সকল বায়োজেনেটিক পরিপোষকের, বায়োস্ফিয়ারের অন্তর্গত জীবজ ও অজীবজ উপাদানের মধ্যে আদান প্রদান ঘটে। তাই জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্রকে পরিপোষক চক্রও বলা হয়।

→ নাইট্রোজেন চক্রের গুরুত্ব :(i)  এই চক্রের মাধ্যমে পরিবেশে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে।(ii)  এই চক্র জীবদেহে নাইট্রোজেনের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখে, ফলে জীবজগৎ বেঁচে থাকে।

নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ : যে প্রক্রিয়ায় বায়ুর গ্যাসীয় নাইট্রেজেন (N2) মাটিতে নাইট্রেট (NO3) লবণে পরিণত হয়ে মাটিতে নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও মাটিকে উর্বর করে তোলে, তাকে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা নাইট্রোজেন ফিক্সেশন বলে।→ নাইট্রোজেন ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা : শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের অর্বুদে বসবাসকারী মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া রাইজোবিয়াম বায়ু থেকে সরাসরি নাইট্রোজেনকে শোষণ করে কিছুটা পোষক উদ্ভিদকে দেয় এবং কিছুটার সাহায্যে নিজদেহে নাইট্রোজেন যৌন গঠন করে। গাছগুলির মৃত্যুর পর নাইট্রোজেন যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়।

→ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার নাম ও কাজ : সিউডোমোনাস একটি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া মাটির নাইট্রোজেন যৌগকে বিশ্লিষ্ট করে পুনরায় নাইট্রোজেনে পরিণত করে।

রাইজোবিয়াম নামক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়ার দেহস্থ যে সকল জিন নাইট্রোজিনেজ উৎসেচক সংশ্লেষণে ও সক্রিয়করণের মাধ্যমে নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে, তাদের নিফ্‌জিনস বলে।

নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ : যে প্রক্রিয়ায় বায়ুর গ্যাসীয় নাইট্রেজেন (N2) মাটিতে নাইট্রেট (NO3) লবণে পরিণত হয়ে মাটিতে নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও মাটিকে উর্বর করে তোলে, তাকে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা নাইট্রোজেন ফিক্সেশন বলে।

নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ প্রক্রিয়া : নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ প্রক্রিয়া প্রধানত দুটি উপায়ে ঘটে। যথা—

(i) ভৌত নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ : বিদ্যুৎক্ষরণ দ্বারা ঘটে।(ii)  জীবজ নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ প্রোক্যারিওটিক জীব দ্বারা ঘটে।

জীবজ নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ আবার দুই প্রকার—

(i) নীলাভ সবুজ শৈবাল দ্বারা : অ্যানাবিনা, নস্টক ও অসিলেটোরিয়া দ্বারা ঘটে।

(ii) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা : স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া (অ্যাজোটোব্যাকটর) ও মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (রাইজোবিয়াম) দ্বারা ঘটে।

জনন : যে জৈবিক পদ্ধতিতে জীব তার নিজের সত্তা ও আকৃতিবিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টি করে প্রজাতির স্থায়িত্ব বজায় রাখে এবং জীবজগতের ভারসাম্য বজায় রাখে, তাকে জনন বলে।

→ বৃদ্ধি ও জননের সম্পর্ক :(i)  বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবদেহের অঙ্গজ বৃদ্ধি ও জননগত বৃদ্ধি ঘটে। ফলে জীবদেহ পরিণতি প্রাপ্ত হয়ে জননে সক্ষম হয়।(ii)  উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অঙ্গজ জননের সময় বৃদ্ধির ফলেই মুকুল, বুলবিল ইত্যাদি উৎপন্ন হয় এবং এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটায়। (iii) যৌন জননে নিষেকের মাধ্যমে উৎপন্ন ডিপ্লয়েড জাইগোট কোশ বিভাজন ও বৃদ্ধির দ্বারা পূর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হয়ে বংশবিস্তার ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, বৃদ্ধি ও জনন পরস্পর নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ এবং একে অপরের পরিপূরক।

 

 জননের প্রকারভেদ :   জনন প্রধানত দু-প্রকারের। যথা-অযৌন জনন ও যৌন জনন। কিন্তু উদ্ভিদদেহে অঙ্গজ জনন নামক একপ্রকার জনন দেখা যায়। এ ছাড়া কিছুকিছু প্রাণী ও উদ্ভিদদেহে অপুংজনি নামক বিশেষ একপ্রকার জনন ঘটে। → জননের গুরুত্ব : পুষ্টি শ্বসন বা রেচনের মতো জনন অত্যাবশ্যকীয় জৈবনিক প্রক্রিয়া না হলেও, এটি জীবের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জৈবনিক প্রক্রিয়া। জননের প্রধান গুরুত্বগুলি হল : (i) বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্ব রক্ষা : জননের মাধ্যমে জনিতৃ জীব অপত্য জীব সৃষ্টি করে বংশবৃদ্ধি করে ও প্রজাতির  অস্তিত্ব ও অবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখে। (ii) বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা : মৃত্যুর ফলে জীবের সংখ্যা কমে ও জননের মাধ্যমে ওই সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে কোনো বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষিত হয়। (iii) প্রকরণ সৃষ্টি : যৌন জননের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, যারা প্রকরণ সৃষ্টিতে ও অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে (iv) বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : অপত্য জীব জনিত্ব জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে, ফলে বংশের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

জ জনন নামক একপ্রকার জনন দেখা যায়। এ ছাড়া কিছুকিছু প্রাণী ও উদ্ভিদদেহে অপুংজনি নামক বিশেষ একপ্রকার জনন ঘটে।

জননের গুরুত্ব : পুষ্টি শ্বসন বা রেচনের মতো জনন অত্যাবশ্যকীয় জৈবনিক প্রক্রিয়া না হলেও, এটি জীবের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জৈবনিক প্রক্রিয়া। জননের প্রধান গুরুত্বগুলি হল : (i) বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্ব রক্ষা : জননের মাধ্যমে জনিতৃ জীব অপত্য জীব সৃষ্টি করে বংশবৃদ্ধি করে ও প্রজাতির  অস্তিত্ব ও অবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখে। (ii) বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা : মৃত্যুর ফলে জীবের সংখ্যা কমে ও জননের মাধ্যমে ওই সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে কোনো বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষিত হয়। (iii) প্রকরণ সৃষ্টি : যৌন জননের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, যারা প্রকরণ সৃষ্টিতে ও অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে, (iv) বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : অপত্য জীব জনিত্ব জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে, ফলে বংশের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

যৌন জনন : যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি অসম আকৃতির পুং ও স্ত্রী-গ্যামেটের মিলনের ফলে অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে।

→ যৌন জননের গুরুত্ব : যৌন জননের গুরুত্ব হল- (i) জননের নিশ্চয়তা : দুটি জনিত্ব জীবের প্রয়োজন হওয়ায় জননের নিশ্চয়তা তুলনামূলকভাবে কম। (ii)  অপত্য   উৎপাদন :  অধিক সময় সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম অপত্য উৎপন্ন হয়। (iii) অপত্যের প্রকৃতি : উৎপন্ন অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হওয়ায়, অপত্য জীব জনিত্ব জীবের থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। (iv) প্রকরণ সৃষ্টি : এই ধরনের জননের মাধ্যমে প্রকরণ সৃষ্টি হয় যা জীবের অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে।

অযৌন জনন : যে জনন প্রক্রিয়ায় মিয়োসিস, গ্যামেট উৎপাদন ও নিষেক ছাড়াই রেণুর সাহায্যে বা সরাসরি দেহে কোশ বিভাজিত হয়ে অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।

অযৌন জনন পদ্ধতি: এককোশী জীব (প্রোটিস্টা ও মনেরার অন্তর্গত) উদ্ভিদ ও বিভিন্ন নিম্নশ্রেণির প্রাণী বিভাজন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে থাকে। যেমন- অ্যামিবা দ্বি-বিভাজন বা বহুবিভাজন পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন করে থাকে। দ্বি-বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যামিবার পদগুলি  অবলুপ্ত হয় , ফলে প্রাণীটি গোলাকার ধারণ করে। এরপর নিউক্লিয়াসসহ প্রাণীটি ডাম্বেল আকৃতির হয় এবং একই সঙ্গে খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে  নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি ক্ষুদ্র অপত্য অ্যামিবার সৃষ্টি করে। অপত্য অ্যামিবা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে ক্ষণপদবিশিষ্ট পরিণত অ্যামিবায় রূপান্তরিত হয়।

→ মাইক্রোপ্রোপাগেশন : যে পদ্ধতিতে কোশ, কলা, অঙ্গ প্রভৃতির ক্ষুদ্রতম অংশ কৃত্রিম পালন মাধ্যমে পালন করে একাধিক উদ্ভিদ প্রজাতির দ্রুত বংশবিস্তার ঘটানো সম্ভব, তাকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।

→ মাইক্রোপ্রোপাগেশনের গুরুত্ব : (i)  মাইক্রো প্রোপাগেশন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তারে কোনো বিশেষ ঋতুর উপর নির্ভর করতে হয় না। (ii) এই পদ্ধতিতে অল্প সময়ে প্রচুর সংখ্যক চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়। (iii)  এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন চারাগুলির কোনো জিনগত ভিন্নতা থাকে না। (iv)  একসঙ্গে অনেক রোগমুক্ত উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়।

অঙ্গজ জনন : যে প্রকার জননে উদ্ভিদদেহের কোনো অঙ্গ বা অঙ্গাংশ মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোশ বিভাজন ও বৃদ্ধির দ্বারা নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন পদ্ধতি :  যে অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে সরাসরি মাতৃ উদ্ভিদদেহ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো অঙ্গ বা অঙ্গাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে কোশ বিভাজন ও বৃদ্ধির দ্বারা নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলে।

 (i) মূলের দ্বারা :   উদ্ভিদের প্রধান মূল এবং অস্থানিক মূলের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়। রাঙা আলু, শাকআলু প্রভৃতি লতানো (ব্রততী) উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে কতকগুলি অস্থানিক মূল উৎপন্ন হয়। এদের কন্দাল মূল বলে। এগুলি খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত ও রসালো হয় এবং এদের গায়ে অস্থানিক মুকুল উৎপন্ন হয়। এই অস্থানিক মুকুলসহ কন্দাল মূল মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে নতুন অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি  হয় ।

(ii) লতানো কাণ্ডের দ্বারা : কচুরিপানা  (Eichhornia crassipes) নামক জলজ উদ্ভিদের এই ধরনের কান্ডের সাহায্যে অঙ্গজ জনন ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে কান্ডের পর্বমধ্যগুলি খুব ক্ষুদ্র স্থুল হয় এবং পূর্ব ন অস্থানিক মূল উৎপন্ন হয়। মই এই অস্থানিক মূলসহ পর্ব (খবধাবক) মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি করে ।(iii) পাতার সাহায্যে : পাথরকুচি (Bryophyllum), বিগোনিয়া (Begonia) প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতার কিনারায় একপ্রকার মুকুল জন্মায়। এই মুকুলগুলিকে পত্রাশ্রয়ী মুকুল বলে। অনুকূল পরিবেশে এই মুকুলগুলি থেকে অপত্য উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়।

প্লাজমোডিয়াম-এর বহুবিভাজন পদ্ধতি : প্লাজমোডিয়াম-এর ক্রিপ্টোমেরোজয়েট লার্ভা দশা RBC-এর মধ্যে প্রবেশ প্রথমে অ্যামিবয়েড চলনে সক্ষম ট্রফোজয়েট দশা ও পরে গোলাকার সাইজন্ট-এ পরিণত হয়। সাইজন্টের নিউক্লিয়াস 6-8 বার বিভাজিত হয়ে অনেকগুলি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে, যেগুলি অল্প পরিমাণ সাইটোপ্লাজম বেষ্টিত হয়ে মেরোজয়েট গঠন করে। সাইজন্ট থেকে বহু বিভাজন পদ্ধতিতে মেরোজয়েট গঠন হল সাইজোগনি।

→ হাইড্র-র কোরকদগম পদ্ধতি : হাইড্রার দেহেরন কোনো একটি স্থানে একটি উপবৃদ্ধি দেখা যায়। এটি হল কোরক বা মুকুল। কোরকটি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে জনিতৃ দেহের অনুরূপ আকৃতি ধারণ করে। এরপর কোরকটি জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে নতুন অপত্য হাইড্রা-র সৃষ্টি হয়।

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন : যে পদ্ধতিতে মানুষের দ্বারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে উদ্ভিদদেহ
থেকে কোনো অঙ্গ বা অঙ্গাংশ বিচ্ছিন্ন করে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়, তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। যেমন—জবা, গোলাপ প্রভৃতি গাছের শাখা কলমের সাহায্যে বংশবৃদ্ধি।
→ কৃত্রিম অঙ্গজ জননের সুবিধা যেসব উদ্ভিদের বীজ সৃষ্টি হয় না, তারা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার
করে। এইপ্রকার জননে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদে মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য হুবহু বজায় থাকে। এইপ্রকার জননে
উদ্ভিদের দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে। এইপ্রকার জননে
→ কৃত্রিম অঙ্গজ জননের সুবিধা :
উৎপন্ন উদ্ভিদেরা সহজে জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) দ্বারা আক্রান্ত হয়। অঙ্গজ জননে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদে কোনো ভ্যারিয়েশন বা প্রজাতি বৈচিত্র্য দেখা যায় না। এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা কম হওয়ায় কোনো  বিবর্তন ঘটে না।