পঞ্চম পাঠ

উঃ-কবিগুরু তাঁর সংগীতের আলোচ্য অংশে 'ভারতভাগ্যবিধাতা'র জয় ঘোষণা করেছেন। আর সেই প্রসঙ্গেই ভারতভাগ্য-বিধাতাকে ‘জনগণমন অধিনায়ক’ ও ‘জনগণমঙ্গলদায়ক’ প্রভৃতি অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে।

উঃ-ভারতবাসী তথা সমগ্র জাতির ভাগ্যনির্মাতা, সেই সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বরের শুভ নামে ভারতভূমির পঞ্জাব-সিন্ধু-গুজরাট-মারাঠা- দ্রাবিড়-উৎকল-বঙ্গবাসী, এক অর্থে আসমুদ্রহিমাচলের জনগণ জেগে ওঠে।

উঃ-গঙ্গা ও যমুনা প্রধানত এই দুই স্রোতস্বিনীর তরঙ্গোচ্ছ্বাসে ভারতভূমি স্নিগ্ধ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উঃ-গানটি ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে রবীন্দ্রনাথের বিরোধীগণ প্রচার করেন, গানটি সম্রাট পঞ্চম জর্জের ভারতে আগমনকে উপলক্ষ্য করে রচিত।

উঃ-‘ভাগ্য’ অর্থাৎ অদৃষ্ট বা নিয়তি আর ‘বিধাতা’ হলেন জগতের স্রষ্টা। তাই ভারতভাগ্য-বিধাতা হলেন ভারতভূমির নিয়তি নির্ধারণকারী সেই পরম স্রষ্টা, এক অর্থে পরমেশ্বর। সেই পরম পিতাই হলেন জনগণের অন্তরের পরিচালনা শক্তি। আবার তিনিই আপামর জনগণের মঙ্গলসাধনকারী। তাঁরই জয়বন্দনা করা হয়েছে আলোচ্য কবিতায়।

উঃ-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচ্য ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে' গানে ‘তব’ অর্থাৎ সেই জগৎস্রষ্টা পরমেশ্বরকে অভিহিত করা হয়েছে।

তিনি সকল চিন্তা ও কর্মের নিয়ন্তা হয়ে আপামর জনগণের অন্তরে রাজরাজেশ্বরের আসনে অধিষ্ঠিত। সেই চিরসাথী ভারতভাগ্য-বিধাতা হয়ে ভারতভূমির আসমুদ্রহিমাচল  ‘উচ্ছলজলধিতরঙ্গে' ভরিয়ে তোলে। আর সকল ভারতবাসী তাঁরই শুভ নামে জেগে, শুভ আশিস প্রার্থনা করে জয়গান গায়।

উঃ-‘জয়গাথা' কথাটির অর্থ জয়গান করা অর্থাৎ গুণকীর্তন করা। যিনি সমগ্র জাতির দুঃখতাপহারী, জনগণের অন্তর্যামী হয়ে সুপথে পরিচালিত করেন, সেই মঙ্গলময় জগদীশ্বরের বন্দনা করার মধ্য দিয়ে তাই তাঁরই শুভ নামে জেগে ওঠা সমগ্র ভারতবাসী তাঁরই জয়গান গেয়েছে।

উঃ-কবিগুরু রচিত 'জনগণমন অধিনায়ক জয় হে' গান থেকে গৃহীত প্রশ্নোক্ত অংশটিতে কবি ভারতভাগ্য-বিধাতার জয় ঘোষণা করেছেন। যিনি জনগণের দুঃখযন্ত্রণায়, হতাশায়, বিপদে ত্রাতারূপে অবতীর্ণ হয়ে তাদের উদ্ধার করেন, তিনি জগদীশ্বর পরমপিতা। তিনি সকলের মঙ্গল করে থাকেন। সেই ভারতভাগ্য-বিধাতারূপী মঙ্গলময় পরমেশ্বরের জয়ঘোষণা কবির একার নয়, সকল ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসীর।

উঃ-জাতীয় সংগীত হল সেই প্রশস্তিসূচক সংগীত, যার মধ্য দিয়ে কোনো জাতির ইতিহাস-সংস্কৃতি-গৌরবগাথা-মনন-চিন্তন প্রভৃতি প্রকাশ পায়। আর ভারতবর্ষ যেহেতু দর্শন ও অধ্যাত্মবাদের পীঠস্থান, সেহেতু তার অন্তরাত্মায় যে পরমেশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভাস্বর থাকবে তা প্রাসঙ্গিক। এই গানের মধ্য দিয়ে সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যসাধনকারী ভারতভাগ্য-বিধাতারূপী পরমেশ্বরের জয়ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে তিনি জনগণের মনের রাজরাজেশ্বর ও ‘মঙ্গলদায়ক’ রূপে অবতীর্ণ। তাই কবিগুরুর এই গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে সম্পূর্ণ সার্থক, এ কথা বলা যায়।

উঃ-কবিগুরুর এই ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে' গানে ভারতবর্ষের ভূপ্রাকৃতিক গঠনের পরিচয় পাওয়া যায়। তার একদিকে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা ও তার পাদদেশে দীর্ঘ বিস্তৃত হিমাচল প্রদেশ। অন্যদিকে গঙ্গা-যমুনা বিধৌত উর্বরা উপত্যকাভূমি। আবার পঞ্চনদের দেশ পাঞ্জাব ও সিন্ধু-উপত্যকা ভূমি যেমন ভারতভূমির সজীবতা ও প্রাণচঞ্চলতার পরিচয় দেয়, তেমন মারাঠা-দ্রাবিড় তাদের কঠোরতার রূপে প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে বিন্ধ্যাচল, গুজরাট অন্যদিকে বাংলা, বিহার, ওড়িশা- কঠিনে-কোমলে মিশ্রিত ভারতাত্মার এক প্রাণ ও এক সুরে ধ্বনিত হয় সেই পরমাত্মারই জয়গান।

উঃ-কোনো কারণে বাংলা মা দুঃখিত হলে বা তাঁর মুখ মলিন হলে সন্তান হিসেবে কবি নয়নজলে ভাসেন।

উঃ-বাংলার আকাশ ও বাতাস কবির প্রাণে বাঁশি বাজায়। তা চিরদিন ধরে।

উঃ-সরলা দেবী তাঁর ‘জীবনের’ ‘ঝরাপাতা’য় লিখেছেন, তিনি মাঝিদের কাছ থেকে যেসব গান শুনতেন, তা তাঁর রবিমামাকে শোনাতেন। তাঁর রবিমামা সেই গানের সুর ভেঙে, কখনো-কখনো তার কথাগুলিরও কাছাকাছি দিয়ে গিয়ে এক-একখানি নিজের গান রচনা করতেন। ‘কোন আলোকে প্রাণের প্রদীপ...’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে...’, ‘আমার সোনার বাংলা...' প্রভৃতি অনেক গান সেই মাঝিদের কাছ থেকে আহরিত সরলাদেবীর সুরে বসান।

উঃ-প্রশান্তকুমার পাল অনুমান করেছেন, বঙ্গভঙ্গের নির্দিষ্ট তারিখটি জানতে পারার তাৎক্ষণিক আবেগে গানটি রচিত হয় ও ভক্তদের মাধ্যমে গানটি সমগ্র কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ে।

উঃ-‘সোনা' অর্থে মূল্যবান বস্তু। মহার্ঘ্য সোনার চেয়েও বঙ্গদেশ কবির কাছে মূল্যবান। বাংলাকে কবি মাতৃসম্বোধনে সম্মানিত করেছেন। এই মায়ের প্রতি কবির মমত্ববোধ অপরিসীম। মায়ের সেই অপরূপ সৌন্দর্যরাশি গাছপালা, আকাশ-বাতাস, নদনদী-সহ শ্যামলিমার ছবি কবিমনকে সোহাগে ভরিয়ে তুলেছে। কবি মুগ্ধ, অভিভূত, তাই ‘সোনার বাংলা’ বলেছেন।

উঃ-বহুগুণে গুণান্বিত মাকে সন্তান হিসেবে কবি ভালোবাসেন। তা ছাড়া এমন উদার আকাশ-বাতাস, নিবিড় স্নেহময় ছায়াশীতল বটবৃক্ষ তো মায়ের কোলের সমান। সেই মায়ের আনন্দে কবি আনন্দিত হন, আর তাঁর বেদনায় চোখের জলে কবি ভেসে যান। তাই কবি তাঁকে এমন আন্তরিকভাবে ভালোবাসেন।

উঃ-‘মাতৃরূপেন জন্মভূমি’র প্রতি কবির গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ পেয়েছে। দেশমাতৃকার প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসা গানটির ভাবরসকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা যে সোনার দেশ, চিত্ররূপময় ও স্নিগ্ধ-সরস আন্তরিকতায় ভরপুর, তা কবিতার মূল ভাবটিকে ধরতে সাহায্য করেছে। মায়ের আনন্দে কবি আনন্দিত, আর দুঃখে সমব্যথী হয়ে চোখের জলে ভাসেন কবি।

উঃ-‘মধুর আমার মায়ের হাসি সুধার মতো লাগে’—মায়ের মুখের বাণী সুধার মতো কানে বাজে। মাতৃভাষা অমৃতসম এ ভাষার সঙ্গে অন্তরের যোগ। তাই কবি বলেছেন, বাংলা মায়ের মুখের বাণী কবির অন্তরে সুধার সঞ্চার করে। পাখির কাকলি বা পত্রের মর্মর শব্দ যেন সুধামাখা বাণী।

উঃ-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটির মধ্য দিয়ে তিলোত্তমা বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। কবি অন্তর দিয়ে এই উন্মুক্ত নীলাকাশ ও প্রাণদাত্রী বাতাসকে ভালোবেসেছেন। তারই মধুর আবেশে কবির অন্তরে  যেন মধুর বাঁশি বাজে। ফাল্গুনে আমের বনের গন্ধে, ভরা অঘ্রানে খেতের ফসলের সুবাসে কবি বিমুগ্ধ। নদীর কূলে, বটের মূলে শ্যামলী বাংলার যে শোভা, তা যেন মায়ের স্নেহাঞল বিছানো। পাখপাখালির কূজন বা পত্রের মর্মরধ্বনির শব্দ যেন সুধামাখা বাণী। এইভাবে প্রকৃতির শোভা, স্নেহচ্ছায়া ও মায়ামমতায় জড়িয়ে আছে সোনার বাংলার অপরূপ দৃশ্য।

উঃ-ভিড় জমাচ্ছিল সাধারণ মানুষ।

সেদিন হেদোর কাছে এক স্বদেশি মিটিং-এ নেতাজির বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। নেতাজিকে চোখের সামনে দ্যাখা এবং তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য সকলে ভিড় জমাচ্ছিল।

উঃ-ছোটোবেলায় একদিন লেখক হেদোর কাছে এক স্বদেশি মিটিং-এ নেতাজি সুভাষচন্দ্র ও নজরুল ইসলামকে একইসঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। একসঙ্গে এই দুই মহামানবকে চোখের সামনে দ্যাখার কথাই লেখক উল্লেখ করেছেন।

উঃ-গায়ক কাজী নজরুল ইসলাম যেভাবে গান গাইছেন তা হল—তাঁর মুখভরতি পান আর গলায় বাঁধা হারমোনিয়াম।

উঃ-বিদ্যালয় জীবনে লেখক একবার দেখেছিলেন যে, কাজী নজরুল ইসলাম মুখে পান ভরে আর গলায় হারমোনিয়াম বেঁধে স্বদেশি গান গাইছেন। পরবর্তী জীবনে এমন ছবি লেখক অনেকবার দেখেছেন। এই ছবির কথাই প্রশ্নোক্ত অংশে বলা হয়েছে।

উঃ-মঞ্চে নজরুল ইসলাম গান গাইবার পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ছোটো বয়সে শোনা সেই বক্তৃতার বিষয়বস্তু কী ছিল, তা এখন আর লেখকের মনে নেই বলে লেখক মন্তব্য করেছেন।

উঃ-কথাটি শুনেছিলেন লেখক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সময়টা ছিল পরাধীন ভারতের স্বদেশি আন্দোলনের যুগ। হেদোর কাছে এক স্বদেশি মিটিং-এ মঞ্জু আলো করে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সেইসময় মঞ্চে আবির্ভূত হন। আর-একজন প্রণম্য ব্যক্তি। স্বয়ং নেতাজি হাত তুলে তাঁকে প্রণাম  জানান। তখনই লেখক শুনেছিলেন যে, মঞ্চে যাঁর আবির্ভাব ঘটেছে, তিনি হলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

উঃ-‘কাজী নজরুলের গান’ গদ্যাংশের লেখক রামকুমার চট্টোপাধ্যায় দেখেছিলেন।

একদিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় হেদোর কাছে জনগণের ভিড় দেখে, লেখক জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আসবেন বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। লেখকও সেখানে দাঁড়িয়ে পড়েন অন্যদের মতো। অনেকক্ষণ পরে তিনি দেখতে পান যে, এক দেবদূত মঞ্চ আলো করে দাঁড়িয়ে আছেন। গৌরবর্ণ, উন্নত ললাটের অধিকারী সেই সুপুরুষই নেতাজি কি না জানার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। সেই ব্যক্তিকে দর্শন করে লেখকের মন এতটাই আলোড়িত হয়েছিল যে, তাঁকে দেবদূত বলেই তাঁর মনে হয়েছিল।

উঃ-লেখক রামকুমার চট্টোপাধ্যায় একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে হেদোর কাছে পার্কে এক স্বদেশি সভায় একইসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং কাজী নজরুল ইসলামকে উপস্থিত থাকতে দেখেছিলেন। সেই সভার কথাই বলা হয়েছে।

তখনকার দিনের রীতি অনুসারে নেতাজির বক্তৃতার আগে নজরুলের গানের ব্যবস্থা থাকাটা বাঞ্ছনীয় ছিল। সেই অনুসারে নজরুল শুরু করেন স্বদেশি গান। উপস্থিত সকলেই সেই গানের যাদুতে এতটাই আপ্লুত হয়ে পড়েন যে, সামান্যতম শব্দও কেউ করেননি। বলা যায় সকলেই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন, তাই সভা নিস্তব্ধ হয়ে যায়।

উঃ-তবলার বোলে ডুবে গিয়েছিলেন ‘কাজী নজরুলের গান’ রচনার লেখক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়।

বিদ্যালয়ে পাঠকালীন লেখক একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে হেদোর কাছে পার্কে স্বদেশি মিটিং-এ কাজী নজরুল ইসলামের কণ্ঠে স্বদেশি গান শুনেছিলেন। মুখ ভরতি পান, আর গলায় হারমোনিয়াম বেঁধে সেদিন নজরুল যে গান গেয়েছিলেন, তা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে লেখক শুনেছিলেন। ছোটো বয়সের সেই গান লেখকের রক্তে আলোড়ন তুলেছিল। লেখক প্রচণ্ড উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছিলেন। সেই উত্তেজনাকে নিজের বশে আনার জন্যই লেখক বাড়ি ফিরে তাঁর প্রিয়সঙ্গী তবলাকে কাছে টেনে নিয়ে তবলার বোলে ডুবে গিয়েছিলেন।

উঃ-প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘কাজী নজরুলের গান’ গদ্যাংশে নেতাজি ও নজরুলকে কাছ থেকে দ্যাখার অভিজ্ঞতা সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন। লেখক ছেলেবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় হেদো পার্কের কাছে বেশ ভিড় দেখে পথচলতি ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানতে পারেন নেতাজি সেখানে আসবেন বক্তৃতা দিতে। জায়গাটা ছিল বিডন স্ট্রিটের কাছে অবস্থিত সরকার বাগান। নেতাজি আসবেন শুনে লেখক রামকুমার চট্টোপ্যাধ্যায় সেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যান। তারপর তিনি শোনেন একই মঞ্চে নজরুলও আসবেন কারণ, নেতাজির বক্তৃতার আগে নজরুলের গানই ছিল তৎকালীন স্বদেশি মিটিং-এর রীতি। কিছু সময় পরে মঞ্চে উপস্থিত হন গৌরবর্ণ, উন্নত ললাট, অতীব সুপুরুষ দেবদূতসম নেতাজি। তারপরই উপস্থিত হন কাজী নজরুল। দুই প্রিয় মানুষকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে আনন্দে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। মুখ ভরতি পান এবং গলায় বাঁধা হারমোনিয়াম নিয়ে নজরুল যে গান গাইলেন, তাতে সভা স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রথম জীবনে দ্যাখা সেই ছবি লেখক ভবিষ্যতেও ভুলতে পারেননি। ওই বয়সে নজরুল ও নেতাজিকে দেখে লেখক আবেগতাড়িত হয়ে উঠেছিলেন। তারপর তিনি বাড়ি ফিরে তবলাকে সঙ্গী করে তার বোলে ডুব দেন উত্তেজনা কমাতে। এইভাবেই লেখক সেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা সহজ ভাষায় সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন।