প্রথম পাঠ ➤ জ্ঞানচক্ষু

নতুন মেসো তপনের লেখা গল্প নিয়ে যাওয়ার পর তার উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পায়। এই উৎসাহের আতিশয্যে তপন হোমটাস্কের খাতায় আর-একটি গল্প লিখে ফেলে | একান্ত নির্জনে একাসনে বসে লেখা গল্পটি পড়ে সে নিজেই বিস্মিত হয়। নিজের প্রতি বিশ্বাস জন্মায় তার | তাহলে সত্যিই সে একজনাবজ লেখক হতে চলেছে- এই ভাবনাই তাকে উত্তেজিত করে।

। তার লেখক ছোটোমেসোমশাই-এর থেকে বাহবা লাভের পর তপন গল্প লেখার বাড়তি অনুপ্রেরণা পায় এবং গল্প লেখার ব্যাপারে  আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। তার লেখা প্রথম গল্পটি সে বিশ্বাস করে  ছোটোমাসিকে পড়তে দিলেও তপনের কাঁচা হাতে লেখা গল্পটি এভাবে সকলের কানে পৌঁছোয় এবং তাঁরা খানিক মশকরা ও ঠাট্টা মিশিয়েই তপনের নামের সঙ্গে ‘কবি’, ‘সাহিত্যিক’, ‘কথাশিল্পী  অভিধাগুলি জুড়ে দেন।

আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন, লেখকদের নিয়ে নিজের মনের মধ্যে এক অদ্ভুদ ধ্যানধারণা পােষণ করত। সে ভাবত বোধহয় লেখকদের আচার-আচরণ সবকিছুই সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। তপনের ছােটোমেসােমশাই একজন লেখক ছিলেন। কলেজে ছুটি উপলক্ষ্যে তিনি তপনদের বাড়িতে এসে কিছুদিন ছিলেন। তপন দেখল নিছক সাধারণ মানুষের মতােই তাঁর সমস্ত আচার-আচরণ। ছোটোমেসােকে দেখে লেখকরা যে আসলে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষ তা সে জানতে পারল আর সেটা জানার পর তার যেন জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন একটা গল্প লিখে তার ছােটোমাসিকে শােনায়। ছােটোমাসি লেখাটি হাতে পাওয়ামাত্র তার স্বামীকে পড়ে দেখতে বলে। তপনের ছােটোমেসাে বই লিখতেন। জহুরি যেমন কোনটা আসল রত্ন আর কোনটা নয় তা বলতে পারেন, তেমনই কজন লেখক, বলতে পারেন কোন্ লেখা ভালাে আর কোন লেখাটা খারাপ। তাই তপন ভেবেছিল এই লেখার আসল মূল্য যদি কেউ বোঝেন, তাহলে তিনি তার মেসোমশাই।

তপন একটা গল্প লিখেছিল। তার ছােটোমাসি সেই গল্পটা দেখে তপনকে উৎসাহিত করার জন্য হইচই শুরু করে দেন। এরপর গল্পটা তিনি তপনের নতুন মেসাের হাতে দেন| নতুন মেসাে কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক। তিনি অবশ্যই তপনের গল্পটার ভালােমন্দ বিচার করতে পারবেন। নতুন মেসাের দৃষ্টিগােচর হওয়াতে তপন রােমাঞ্চে পুলকিত হয়ে ওঠে।

মেসোর হাতে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা দেখে তপনের এরূপ অবস্থা হয়েছিল। তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসো ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন বলে নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তপন সেই অপেক্ষায় বসেছিল। তারপর একসময় সে ভুলেই গিয়েছিল  গল্পটির কথা। একদন আকস্মিকভাবেই তার ছোটোমাসি আর মেসো তাদের বাড়ি বেড়াতে এলেন। তপন মেসোর হাতে  ‘সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকা দেখতে পেল। তার গল্প ছাপা হয়েছে- এই প্রত্যাশাতেই তার বুকের রক্ত যেন চলকে উঠল।

  • ‘সন্ধ্যাতারা’ নামক পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হয়েছিল। বই বলতে এখানে ওই পত্রিকাকেই বোঝানো হয়েছে।তীব্র উত্তেজনা আর কৌতূহল নিয়ে তপন পত্রিকাটির পাতা ওলটায় | নিজের গল্প পড়তে গিয়ে সে চমকে ওঠে। প্রত্যেকটি লাইন তার কাছে আনকোরা নতুন মনে হয়। তার লেখার সঙ্গে ছাপার অক্ষরের কোনো মিল নেই | নিজের লেখা গল্পের মধ্যে সে আর নিজেকে খুঁজে পায় না।

ভরতি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে তপন একটা গল্প লিখেছিল। গল্পের নাম ছিল ‘প্রথম দিন'। তপনের মেসোমশাই ছিলেন লেখক। তিনি তপনের গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা ‘পত্রিকায় ছাপান | পত্রিকাটি হাতে পেয়ে তার মা তাকে লেখাটি পড়ে শোনাতে বললে প্রাথমিক লজ্জা ও জড়তাটুকু কাটিয়ে তপন পড়তে শুরু করে। পড়তে গিয়ে সে দেখে তার লেখাটা আগাগোড়াই ছোটোমেসো সংশোধন করেছেন | তপনের কাঁচা হাতের লেখা গল্প পুরোটাই বদলে তিনি নিজের পাকা হাতে সেটি লিখে দিয়েছেন।

→ ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হওয়া তপনের গল্পটি শুনতে চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

  • তপনের নতুন মেসো সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় গল্পটি ছাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেটি নিয়ে তিনি তপনদের বাড়িতে এলে সবার মধ্যে একটা হইচই পড়ে যায়। তপনের মা তাকে গল্পটা পড়ে শোনাতে বলেন | কিন্তু গল্পটি পড়ে তপন হতবাক হয়ে যায় | গল্পটা এমনভাবে কারেকশান করা হয়েছে, যার মধ্যে তপন নিজেকে খুঁজেই পায়নি | সম্পূর্ণ নতুন একটা গল্প বলেই তার মনে হয়েছে | গভীর হতাশা আর দুঃখ তপনকে যেন বাক্রুদ্ধ করেছিল | তাই সে গল্পটা পড়তে চায়নি |

» তপনের কাছে লেখকরা ছিল স্বপ্নজগতের মানুষ। তার লেখক ছোটোমেসোকে সে দেখে এবং তাঁর আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে তপন বুঝল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতোই। সেই মুহূর্তে f তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল। যদিও জ্ঞানচক্ষুর প্রকৃত উন্মীলন হল, আরও পরে।

তপনের সারা দুপুর বসে লেখা গল্পটা তার ছোটোমাসি একরকম জোর করেই তার মেসোকে দেখায়, ছোটোমেসো সেই লেখার প্রশংসাও করেন। কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও বলেন যে গল্পটার একটু সংশোধনের দরকার। ছোটোমেসো সেই লেখা ছাপানোর ব্যবস্থাও করে দেবেন বলে কথা দেন । তপন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখবে বলে।

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় সত্যিই তার লেখা প্রকাশিত হয়। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে তপন এক অদ্ভুত আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু লেখাটা পড়তে গিয়ে সে ছাপার অক্ষরে লেখার সঙ্গে নিজের লেখাটির কোনো মিল দেখতে পায় না। পুরো লেখাটা আগাগোড়াই তার মেসোমশাইয়ের সংশোধন করা। দুঃখে, লজ্জায়, অপমানে তপন ভেঙে পড়ে। এবার যেন প্রকৃতই তার অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ হয়। তপন সংকল্প করে নিজের লেখা ছাপতে হলে সে নিজে গিয়েই তা ছাপতে দেবে, অন্যের দাক্ষিণ্য গ্রহণ করবে না।

। ছোটোমেসোমশাইয়ের উদ্যোগে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের লেখা গল্প ছেপে বেরোলে, সে তার মাকে গল্পটি পড়ে শোনাতে যায় | সে দেখে ছোটোমেসোমসাই  সংশোধনের নামে সেই লেখার আগাগোড়াই  বদলে দিয়েছেন। সে যে লেখাটা ছাপতে দিয়েছিল তার সঙ্গে ছেপে আসা লেখার কোনো মিল নেই | লজ্জায়, অপমানে তপন ভেঙে পড়ে। সে বুঝতে পারে তার লেখা কাঁচা হাতের, তবুও যদি সেই লেখাই ছাপা হত তাহলে তার মনে আনন্দ জন্মাত | আর ছাপা না হলেও এতটা দুঃখ তার হত না।

★ ছোটোমেসোর দৌলতে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হলেও সে নিজের লেখা পড়তে গিয়ে দেখে যে গল্প তপন ছাপতে দিয়েছিল এটা আসলে সেই লেখাটা নয় | মেসোমশাই আগাগোড়াই লেখাটা সংশোধন করে নিজের পাকা হাতে গল্পটি লিখে দিয়েছেন। অপমানে, লজ্জায় তপন সংকল্প করে যদি আর কোনোদিন লেখা ছাপানোর হয়, সে নিজে গিয়ে তা ছাপতে দেবে । না ছাপলেও ক্ষতি নেই, অন্তত নিজের নামে অন্য কারও লেখা তাকে পড়তে হবে না।

» তপন ছোটোবেলা থেকে অনেক বই পড়েছে। ফলে গল্প কীরকম হয় সেই সম্পর্কে তার মোটোমুটি একটা ধারণা হয়েছে। একদিন দুপুরে তপন তার ভরতির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে। গল্পটার নাম দেয় ‘প্রথম দিন'। একটা গোটা গল্প নিজে লিখে ফেলেছে একথা ভেবে সে নিজেই অবাক হয়ে যায়,তাই তপনের বিশ্বাস ছিল, তাকেও এখন লেখক বলা যেতে পারে।

→ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের মনের সুপ্ত ইচ্ছেই ছিল লেখককে সামনে থেকে দেখার | সে ভাবত লেখকরা হয়তো অন্য কোনো জীব, তাঁরা সাধারণ মানুষ নন। তপনের নতুন মেসোমশাই কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক | তিনি অনেক বই লিখেছেন আর সেইসব বই ছেপেও বেরিয়েছে | মেসোমশাই যেহেতু লেখালেখি করেন তাই তিনি যে-কোনো গল্প বা যে-কোনো লেখার মূল্য অন্য সকলের থেকে বেশি বুঝবেন বলেই তপনের ধারণা ছিল।

তপন এক দুপুরবেলায় বসে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে আস্ত একটা গল্প লিখে প্রথমে সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু সে-ই গোটা গল্পটা লিখেছে দেখে তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। গল্পটা সে প্রথমে শোনায় ছোটামাসিকে, কারণ তপনের ছোটোমাসি ছিল তার বন্ধুর মতো। ছোটোমাসি তার লেখাটা দেখে সেটা ছোটোমেসোকে দেখায়, মুখে কিছুটা লজ্জাবশত অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও মনে মনে তপন এটাই চেয়েছিল, কারণ হয়তো সবাই লেখাটা পড়বে, কিন্তু লেখার গুণগত মান বা লেখার প্রকৃত মূল্য, তপনের মতে, একমাত্র তার ছোটোমেসোমশাই বুঝবেন। কারণ তিনি নিজে একজন লেখক | আর একজন লেখকই আর একজন লেখকের লেখার মূল্য বুঝতে পারে।

  • আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন এক নিথর দুপুরবেলায় তার হোমটাস্কের খাতায় একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে | গল্প লেখার পর আনন্দে আর রোমাঞ্চে তার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। সে তার লেখা গল্প প্রথম শোনায় তার ছোটোমাসিকে | ছোটোমাসি তার গল্পটা পড়ে একপ্রকার জোর করেই ছোটোমেসোর হাতে সেটি দিয়ে দেয় এবং গল্পপ্রকাশের অনুরোধও করে। ছোটোমেসো গল্পটা পড়ে কিছু সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি এটাও বলেন যে তার বয়সি ছেলেরা হয় রূপকথা, না হয় অ্যাকসিডেন্ট নিয়ে গল্প লেখে | তাই ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তপনের লেখা গল্প প্রশংসার যোগ্য | তারপর তিনি তপনকে কথা দেন যে তার লেখা গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থাও করে দেবেন।

মেসোমশাই তাঁর কথা রাখেন | তিনি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় লেখা ছাপান এবং সেটা তপনকে দেখানোর জন্য নিয়ে আসেন | কিন্তু তপন সেই লেখা মা-কে পড়ে শোনাতে গিয়ে দেখে তার হাতে লেখা গল্পের সঙ্গে ছাপার অক্ষরে লেখার কোনো মিল নেই, তা পুরোপুরি মেসোমশাইয়ের পাকা হাতের লেখা। নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে গিয়ে লজ্জায়, অপমানে সে ভেঙে পড়ে এবং সংকল্প করে যদি কখনও নিজের লেখা ছাপতেই হয় তাহলে নিজে গিয়ে সেটা ছাপতে দেবে। কারও ভরসায় সে আর থাকবে না।

  • তপনের ছোটোমেসো তার প্রথম লেখা গল্পটি নিয়ে গিয়েছিলেন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই থেকে তপনের গল্প উৎসাহ বেড়ে যায়। এই উৎসাহে সে তিনতলার ঘরে একাসনে বসে ভারও গল্প লিখে ফেলে। এখানে এই গল্পটির কথাই বলা হয়েছে।

নতুন মেসোকে দেখে তপনের গল্প লেখার উৎসাহ বেড়ে গিয়েছিল। আগে সে ধারণা করত, লেখকরা তাদের মতো সাধারণ মানুষ নন, অন্য কোনো অলৌকিক জগতের মানুষ।  নতুন মেসোকে দেখে তার ধারণা পরিবর্তিত হয়। তখন লেখক হতে তার কোনো বাধা থাকে না। সেই প্রেরণায় হোমটাকের খাতা নিয়ে সে তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যায়। তারপর একান্তে বসে লিখে ফেলে গোটা একটি গল্প | মা যেমন সন্তানকে দেখে খুশি হয়, তপনও তেমনি তার সৃষ্টিতে উল্লসিত হয়েছিল। যখন সে সেটি আগাগোড়া পড়ে ফেলল তখন তার শরীরে একটা শিহরন খেলে যায় । তপন ভাবতেই পারেনি এত সুন্দর পল্প সে লিখতে পারবে। নিজস্ব ভাব ও ভাবনার বাণীমূর্তি দেখে তার গায়ে তখন কাঁটা দিয়ে ওঠে।

  • আশাপূর্ণা দেবীর গল্পে তপনের লেখা গল্পটি পড়েন তার লেখক ছোট।মেশমসাই। সবার সামনে তিনি তপনের লেখার প্রশংসা করেন। সবশেষে তিনি লেখাটি ছাপানোর আশ্বাস দিয়ে সেটি নিয়ে চলে গেলে তপনের আহ্লাদের অন্ত থাকে না। মেসোর ক্ষমতার প্রতি অগাধ আস্থাবান তপন পত্রিকায় নিজের লেখা দেখবার প্রতীক্ষায় অধীর হয়ে দিন গুনতে থাকে।

একসময় তপনের প্রতীক্ষার অবসান হয়।সে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকাটি হাতে পায়। লেখক্সুচিতে নিজের নাম এবং গল্পের শিরোনাম দেখে তপন শিহরিত হয়। কিন্তু মা-কে গল্পটি পড়ে শোনাতে গিয়ে সে দেখতে পায় ,তার মেশমসাই পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লেখার ঠিক করতে গিয়ে আদ্য প্রান্ত লেখার খোলনলচে বদলে ফেলছেন । গোটা গল্পের  একটি বাক্যও সে চিনতে পারেনা এবং ক্রমশ উপলব্ধি করে মেশমসাই শুধু গল্পটি প্রকাশের বাবস্থএই করেননি ,আদতে গতা গল্পটিই তাঁর লেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কৃতিত্বে র  কোন অংশই তপনের নিজের প্রাপ্য নয়। গভীর দুঃখে ভেঙে পড়লেও তপন সেই মুহূর্তেই প্রতিজ্ঞা করে যে, এরপর লেখা ছাপতে দিলে সে নিজেই কাঁচা হাতে সেতা লিখবে এবং নিজে গিয়ে প্রকাশকের দপ্তএ লেখাটি দিয়ে আসবে।