ষষ্ঠ পাঠ

উঃ-‘মূঢ়' কথার অর্থ অজ্ঞ বা বোকা। অহংকারী, ধনী বা সাম্রাজ্যলোভীরা মনে করেছিল তাদের তৈরি সৌধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু কালস্রোতে ভেসে যাওয়া জীবন যৌবন ধনমানের মতো তাদের নির্মিত সৌধও একদিন ভেঙে পড়বে, তাদের কথা তখন কেউ মনে রাখবে না। তাই তাদের কবি ‘মূঢ়’ বলেছেন।

উঃ-প্রাচীনকালে নির্মিত স্মৃতিসৌধ রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে সমস্ত কিছুই ধ্বংস হয়। যতই চেষ্টা করা হোক তা একদিন কালের নিয়মে বিনষ্ট হবেই। তাই রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

উঃ-যারা ধনী নয়, দরিদ্র হয়েও মানুষের মনে চিরকালীন আসন পেয়েছেন কবি তাদের কথা বলেছেন।

মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন যে-সমস্ত মানুষেরা, তাদের কল্যাণময় কর্মের জন্যই তারা সমস্ত মানুষের মনে সদা বিরাজিত, যা পরম্পরায় বয়ে চলতেই থাকবে। তাই তাদের রাজত্ব অক্ষুণ্ন রয়েছে।

উঃ-কালস্রোতে অহংকারী সাম্রাজ্যবাদীদের নাম ধুয়ে যায়। যারা ইট-কাঠ-পাথরের সৌধ তৈরি করে নিজেদের নাম অক্ষয় করতে চেয়েছিল।

কালের স্রোত, মানবকল্যাণে নিবেদিত সেই সমস্ত মানুষগুলির স্মৃতি গ্রাস করতে পারে না, যারা মানুষের হৃদয় সিংহাসন অধিকার করে আছে।

উঃ-মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে একমাত্র মহান মানবতা। যারা মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে, যারা মানুষের মধ্যে মিশে থাকে তারাই তাদের মহান কাজের দ্বারা মানবহৃদয়-ভূমি অধিকার করে।

উঃ-যারা দরিদ্র, সহায়সম্বলহীন হওয়া সত্ত্বেও মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা মানুষের মনের মণিকোঠায় চিরবিরাজিত; কবি তাদের কথা বলেছেন। কারণ তাদের কীর্তি কোনো প্রস্তরনির্মিত সৌধ নয় যে জীর্ণ হবে। বরং মানুষের মন-সিংহাসনে তারা চিরবিরাজিত থাকবেন।

উঃ-কর্মই শ্রেষ্ঠত্বের আসল মাপকাঠি। তাই আমার দৃষ্টিতে মানুষের স্মরণীয় হয়ে থাকার শ্রেষ্ঠ পন্থাটি হল কর্ম। মানুষের মধ্যে মিশে যদি তাদের দুঃখ দূর করা যায় ও তাদের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তবে তাকেই লোকে স্মরণীয় করে রাখে।

উঃ-‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতায় তাদের স্মৃতি লুপ্ত হয়ে যায়, যারা ক্ষমতালোভী সাম্রাজ্যবাদী, যারা ভেবেছিল বিশাল বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করে মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।

ক্ষমতালোভী সাম্রাজ্যবাদী ‘মূঢ়’ বা বোকার দল বিশাল স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে নিজেদের নাম অক্ষয় করে রাখতে চায় কিন্তু সেইসব স্মৃতিসৌধ কালের নিয়মে একদিন জীর্ণ হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এভাবেই স্মৃতি লুপ্ত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে।

উঃ-আলোচ্য উদ্ধৃতিটি কবি কামিনী রায় রচিত ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সাম্রাজ্যের ক্ষমতালোভী শাসকের দল কেবলই নিজেদের ক্ষমতার দন্তে বিশাল বিশাল প্রাসাদ বা অট্টালিকা নির্মাণ করেছে, তাতে মানুষের কোনোই উপকার হয়নি। তাই মানুষের মনে তাদের কোনোই জায়গা হয়নি। একসময় কালের নিয়মে সেই প্রাসাদ বা অট্টালিকাগুলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাদের নাম কালের স্রোতে ভেসে গিয়েছে।

উঃ-আলোচ্য উদ্ধৃতিটি কামিনী রায় রচিত ‘স্মৃতিচিহ্ন’ কবিতার অংশ। আলোচ্য উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি বলতে চেয়েছেন, সাম্রাজ্যলোভী শাসকদের মতো এই দরিদ্র মানুষেরা হয়তো প্রাসাদ বা অট্টালিকা নির্মাণ করতে পারেনি। কিন্তু তারা মনের দিক থেকে অনেকটাই স্বচ্ছ এবং উদার। তারা মানুষের জন্য কিছু হলেও ভালো কাজ করেছে। তাই তারা মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান পেয়েছে।

উঃ-‘চিরদিনের’ কবিতায় কিশোর কবি সুকান্ত তাঁর হৃদয়ে পল্লিবাংলার প্রকৃতির স্পর্শ অনুভব করেছেন। তাঁর উপলব্ধিতে স্বভাবতই উঠে এসেছে বাংলার চিরনতুন, চিরসবুজ গ্রাম্য প্রকৃতির দৃশ্য। এই গ্রামগুলি বৃষ্টিমুখরিত। তারা শহুরে মানুষের মতো ব্যস্ততা দেখায় না, এখানে হাঁটার নির্দিষ্ট কোনো পথ হয় না, যেখান দিয়ে হাঁটা সম্ভব সেটাই পথ। বাঁশঝাড়, জোড়াদিঘি, তালের সারি গ্রামগুলিকে অলংকারের মতো সাজিয়ে রাখে। এখানে মজা নদী বর্ষার জলে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে, গ্রামগুলি যেন সবুজ ঘাগরা পরে সেজে থাকে সবসময়। বুড়ো বটতলা যেন মানুষকে ডাকে তার ছত্রছায়ায়। বাংলার এই গ্রামগুলির সকাল ঘোষিত হয় পাখির গানে। চাষির কানে ভেসে আসে বিচিত্র সুর। কৃষক-বধূ ঘোমটা খুলে দেখে নেয় সবুজ ফসলের ধুম। তারা অবাক হয়ে নতুন ফসলের সুবর্ণ যুগের স্বপ্ন দেখে।

উঃ-জীবনীশক্তি হল ব্যর্থতার হতাশা দূরে ঠেলে জীবনকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার শক্তি। কিছু মানুষ আছে যারা কোনো কাজে ব্যর্থ হলে তা পুনরায় চেষ্টা করে না। তারা জীবনসংগ্রামে পরাজিত হয়। কিন্তু বাংলার সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ জীবনীশক্তিতে বলীয়ান। তারা কোনো বাধাকে বাধা মনে করে না। কারণ তারা মনে করে থেমে গেলে জীবনও থেমে যাবে।

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষ এক চূড়ান্ত অভিশাপ হিসেবে নেমে আসে বাংলার জনজীবনে। এ দুর্ভিক্ষ ছিল অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্টি। কিছু মুনাফালোভী মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ফসল, খাদ্যসামগ্রী তাদের নিজেদের দখলে রাখে ফলে খাদ্যসামগ্রীর অভাব সৃষ্টি হয়, অর্থের বিনিময়েও খাদ্যবস্তু মেলা দুষ্কর হয়ে ওঠে। এই দুর্ভিক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলার শ্রমজীবী-সাধারণ মানুষ। প্রচুর মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও তারা থেমে থাকেনি, পুনরায় জীবনীশক্তিতে বলীয়ান হয়ে উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত হয়েছে।

বাংলার শ্রমজীবী মানুষের অধিকাংশই কৃষক, কামার, কুমোর, তাঁতি সম্প্রদায়ের মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিয়োজিত থাকে কৃষিকাজে। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষে বাংলার কৃষিব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরকম অবস্থায় বাংলার চাষিরা আবার জলে ভিজে, রোদে পুড়ে সবুজ ফসল ফলাতে শুরু করে। বাংলার কৃষিতে ‘সুবর্ণ যুগ’ সুচিত হয়। এভাবে  কৃষকের সঙ্গে অন্যান্য জীবিকার সব মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হয়।

উঃ-কবি সুকান্ত মূলত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কবিতাকে তার মাধ্যম করেছেন। মানুষকে তিনি উপেক্ষিত, অত্যাচারিত হতে দেখেছেন। রুঢ় বাস্তবের মাটিতে প্রকৃতি তার কাছে সৌন্দর্যময়ী নয়। এই কারণে তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেছেন—“ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”।

এরকম স্বভাবের একজন কবি তাঁর ‘চিরদিনের’ কবিতায় বাংলার অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। তার সঙ্গে আবহমান কালের শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামের কথা বলেছেন। বাংলার প্রকৃতি ও মানুষ যেন একসূত্রে গাঁথা। এখানে কৃষকেরা ফসল ফলায়, কৃষক-বধূ তাদের সাহায্য করে। তার সঙ্গে আছে সন্তানসন্ততি প্রতিপালনের দায়িত্ব। শুধু কৃষকরা নয় গ্রামের অন্য পেশার মানুষরাও সহজসরল জীবনযাপন করে। শতকষ্টেও বাংলার সাধারণ মানুষ নিজেদের সজীব রাখে। ব্যর্থতা, হতাশা, তাদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তারা থেমে থাকে না, প্রবহমান জীবনছন্দে তাদের দিনগুলি অতিবাহিত হয়। সাধারণ মানুষের এই চলমানতা কবিহৃদয়কে তাড়িত করেছে। তা ছাড়া বঙ্গমাতার অপরূপ রূপসৌন্দর্যে কবি অভিভূত। চারদিকে সবুজের সমারোহ; পাখির কলতান, নদী-পুকুর-খাল-বিলে পরিপূর্ণ বাংলার চিরন্তন শোভা কবিহৃদয়ে চিরদিনের মতো স্মৃতিচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

বাংলার আবহমান কালের মানুষের জীবনধারা, অপরুপ প্রকৃতি কবি চিরদিন হৃদয়ে বহন করে নিয়ে চলেন। তাই কবিতার নামকরণ ‘চিরদিনের’ সুন্দর ও সার্থক হয়েছে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘চিরদিনের কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা : আলোচ্য অংশটিতে কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে তুলে ধরেছেন। বর্ষাকালে পল্লিবাংলার গ্রামকে দেখে মনে হয় লজ্জায় যেন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। এখানে কোনো ব্যস্ততা নেই। গ্রামের মানুষেরা শহুরে লোকের মতো ঘড়ি ধরে কাজ করে না। তাদের অফুরন্ত সময় প্রবহমান কর্মচাঞ্চল্যে নিয়োজিত থাকে। তাই ঘড়ির কাঁটা এখানে যেন থমকে যায়।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের চিরদিনের কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা : বর্ষায় বাংলাদেশের রূপবর্ণনা প্রসঙ্গে আলোচ্য অংশটি উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্ষা আসে বীরের মতো, মজে যাওয়া নদীনালা-খালবিল-বর্ষার জলে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে। তখন নদীর জল পাড় উপচে গ্রামকে ভাসিয়ে দেবে মনে হয়। নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। অর্থাৎ সে যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আলোচ্য অংশে বঙ্গপ্রকৃতির রূপের একটি বিশেষ দিক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অফুরন্ত প্রাণশক্তিতে ভরপুর গ্রামের মানুষদের জীবনী শক্তি আর শ্রমকে সম্মান জানানো হয়েছে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘চিরদিনের' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা : শস্যশ্যামলা এই বাংলা ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। গ্রামের কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ দুর্ভিক্ষের কারণে দিশেহারা হয়ে খাদ্যের সন্ধানে ছুটে যায়। কিন্তু কথায় আছে, অন্ধকারের পাশে যেমন আলো থাকে, তেমনি দুর্ভিক্ষের অবসানে তার দুঃখযন্ত্রণাকে আঁচলের মতো শরীরে জড়িয়ে নিয়ে আবার সেই গ্রামের মানুষগুলি নিয়ত কাজের আনন্দে ডুবে যায়। তাই আলোচ্য অংশে গ্রামবাংলার মানুষের দুঃসময়ের ছবি যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি তা থেকে বেরিয়ে আসার পথে পাড়ি দিয়ে সংগ্রামী মানুষের জয়গানও গীত হয়েছে।

উঃ-উদ্ধৃত অংশটি ছবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘চিরদিনের’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা : বাংলার চাষিরা এই বঙ্গমাতার সন্তান। তারা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে বাংলার প্রকৃতির ডাক, যেখানে পাখির গান, বিচিত্র পশুর ডাক, দূরে কোথাও কৃষকের হাঁকডাক; আরও নানা শব্দ সবসময় চলতে থাকে। এই বিচিত্র ধ্বনি আসলে কর্মমুখরতার প্রতীক। মেহনতী মানুষ তাদের কর্মের মধ্য দিয়েই বিগত সময়ের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতাকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। আলোচ্য অংশে প্রাণশক্তিতে ভরপুর কর্মচঞ্চলতার বিচিত্র ধ্বনি যেন সারাটা দুপুর শোনা যায় পল্লিবাংলাতে।

উঃ-‘চিরদিনের’ কবিতায় সন্ধ্যাকে স্বাগত জানানো হয় শাঁখের আওয়াজে এবং ঘরে ঘরে দীপ জ্বেলে, বুড়ো বটতলায় গ্রাম্য মানুষেরা সান্ধ্য আড্ডায় জমায়েত হয়। তারপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের আগমন ঘটে। রাত্রি এলেই দাওয়ায় বসে অন্ধকারে ঠাকুমা গল্প শোনায় তার নাতনিকে।

উঃ-‘চিরদিনের’ কবিতায় উল্লিখিত উক্তিটিতে ঠাকুমা তার নাতনিকে বিগত বছরের দুর্ভিক্ষের সময় কেমন করে মানুষ দিশাহারা হয়ে খাদ্যের সন্ধানে গ্রামছাড়া হয়েছিল সে-কথা শোনান। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিতে এই গল্পের কথা বলা হয়েছে।

এরপরের যে দৃশ্যটি কবিতায় মুখে বর্ণিত হয়েছে তা হল— গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া সেই দিশাহারা মানুষগুলো পুনরায় গ্রামে ফিরে এসে নিজেদের কষ্টমুখরতার ছন্দে মেতে ওঠে। সকল পেশায় নিযুক্ত গ্রামবাসীরা তাদের নিজ নিজ কাজে মন দেয়। কৃষকেরা খেত ভরা ফসল ফলায়। কৃষক-বধূ তার ঘোমটার আড়াল থেকে দেখে নেয় চারদিকের সবুজ ফসল, যেন ‘সুবর্ণ যুগ’-এর আগমনবার্তা ঘোষণা করছে। অর্থাৎ আকালের বীভৎস সময়কে কাটিয়ে গ্রামের মানুষদের পুনরায় জেগে ওঠার দৃশ্য কবি এই কবিতায় তুলে ধরেছেন।