Chapter -1⇒পৃথিবীর পরিক্রমণ

উঃ-বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত – এই চারটি ঋতু পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে ও চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে, একে ঋতুচক্র বলে।

1)বসন্তকাল : 21 মার্চ পৃথিবী তার কক্ষপথের এমন অবস্থানে আসে যে, পৃথিবীর উভয় গোলার্ধ সূর্য থেকে সমদূরত্বে অবস্থান করে এবং সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে পতিত হয়। এই দিন উভয় গোলার্ধের সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল হয়।

2)গ্রীষ্মকাল: 21 মার্চের পর থেকে পৃথিবী ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় আসে যে সূর্যরশ্মি ক্রমশ উত্তর গোলার্ধে লম্বভাবে পড়তে থাকে এবং উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিন বড়ো ও রাত্রি ছোটো হতে থাকে। এরপর 21 জুন সূর্যকিরণ কর্কটক্রান্তি রেখার (উত্তরায়ণের শেষ সীমা) ওপর লম্বভাবে পড়ে বলে উত্তর গোলার্ধে 14 ঘণ্টা দিন ও 10 ঘণ্টা রাত্রি সংঘটিত হয়। একে বলা হয় সূর্যের উত্তর অয়নান্ত দিবস বা কর্কটসংক্রান্তি। দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক এর বিপরীত অবস্থা ঘটে, এই সময়টাতে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল অনুভূত হয়।

3)শরৎকাল: 21 জুনের পর থেকে সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয়  এবং পৃথিবী নিজস্ব কক্ষপথে এগিয়ে যাওয়ার ফলে উত্তর গোলার্ধ  ক্রমশ সূর্যের দূরবর্তী ও দক্ষিণ গোলার্ধ ক্রমশ সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে। এইভাবে 23 সেপ্টেম্বর পৃথিবীর উভয় গোলার্ধ আবার সূর্য থেকে সমান দূরত্বে অবস্থান করে এবং সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে পতিত হয়। এই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল দেখা যায়।

4)শীতকাল : 23 সেপ্টেম্বরের পর থেকে পৃথিবী ধীরে ধীরে কক্ষপথের এমন অবস্থায় আসে যখন সূর্যরশ্মি ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে পড়তে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ক্রমশ দিন বড়ো ও রাত্রি ছোটো হতে থাকে। এভাবে চলতে চলতে 22 ডিসেম্বর সূর্যকিরণ মকরক্রান্তি রেখার (দক্ষিণায়নের শেষসীমা) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোটো হয়ে থাকে (14 ঘণ্টা দিন ও 10 ঘণ্টা রাত্রি)। তাই 22 ডিসেম্বরকে বলা হয় দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বা মকরসংক্রান্তি। উত্তর গোলার্ধের অবস্থা হয় ঠিক এর বিপরীত। এই সময়টাতে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল অনুভূত হয়। তারপর থেকেই আবার পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের নিকটবর্তী হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। 21 মার্চ আবার পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়ে যায়। এভাবে একটি ঋতুচক্র সম্পন্ন হয় ।

উঃ-পৃথিবীর পরিক্রমণ পথটি উপবৃত্তাকার। ফলে সূর্যকে নাভিতে রেখে পৃথিবী তার কক্ষপথে পরিক্রমণ করে। এর ফলে কখনও পৃথিবী সূর্যের কাছে আসে আবার কখনও পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব খুব বেড়ে যায়। এ ছাড়া পৃথিবীর কক্ষতলের ওপর তার মেরুরেখার 66%° কোণে সর্বদা একই দিকে অবস্থানের কারণে দিন ও রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। ফলে শীত ও গ্রীষ্মের তারতম্য দেখা যায়। ফলে পৃথিবীতে ঋতুচক্রের সৃষ্টি হয়।

1)21 জুনের ঋতু বৈশিষ্ট্য : 21 জুন পৃথিবী নিজের কক্ষপথের এমন অবস্থানে থাকে যে – (i) উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে, (ii) সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে, (ii) উত্তর গোলার্ধের মেরু অঞ্চল 24 ঘণ্টাই সূর্যের আলো পায়, (iv) দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু অঞ্চল সূর্যের আলো একেবারেই পায় না। ফলে (a) উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন এবং সবচেয়ে ছোটো রাত্রি এবং দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোটো দিন ও সবচেয়ে বড়ো রাত্রি হয়। উত্তর গোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত্রি ছোটো হওয়ায় দিনেরবেলা আগত তাপের পুরোটা ছোটো রাতে বিকীর্ণ হতে না পেরে উন্নতা সজ্জিত হয়ে গ্রীষ্ম ঋতুর সূচনা করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়। (b) উত্তর গোলার্ধের মেরু অঞ্চলে 24 ঘণ্টা দিন ও দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু অঞ্চলে 24 ঘণ্টা রাত্রি হয়। (c) 21 জুনের 45 দিন আগে থেকে 45 দিন পর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধেশীতকাল বিরাজ করে। 21 জুনকে কর্কটসংক্রান্তি বা উত্তর অয়নান্ত দিবস বলে।

2)22 ডিসেম্বরের ঋতু বৈশিষ্ট্য : 22 ডিসেম্বর পৃথিবী নিজের কক্ষপথের এমন এক স্থানে আসে যে – (i) দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, (ii) সূর্যরশ্মি মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে, (ii) দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু অঞ্চল 24 ঘণ্টাই সূর্যের আলো পায়, (iv) উত্তর গোলার্ধের মেরু অঞ্চল সূর্যের আলো  একেবারেই পায় না। এর ফলে (a) দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন ও সবচেয়ে ছোটো রাত হয় এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোটো দিন ও সবচেয়ে বড়ো রাত হয়। উত্তর গোলার্ধে দিন ছোটো ও রাত্রি বড়ো হওয়ায় দিনেরবেলা আগত তাপের পুরোটাই বড়ো রাতে বিকীর্ণ হয়ে বায়ুমণ্ডলকে শীতল করে তোলে ও শীত ঋতুর সূচনা করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়। (b) দক্ষিণ ও উত্তর গোলার্ধের উভয় মেরু অঞ্চলে যথাক্রমে 24 ঘণ্টা দিন  এবং 24 ঘণ্টা  রাত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু অঞ্চলে 24 ঘণ্টা  রাত হয়। (c) 22 ডিসেম্বরের 45 দিন আগে থেকে 45 দিন পর পর্যন্ত  উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। 22 ডিসেম্বরকে মকরসংক্রান্তি বা দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বলে।

উঃ-পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে অবস্থান করে।  পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণের ফলে ভূপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মি বিভিন্ন  অক্ষরেখার ওপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোণে (লম্ব বা তির্যকভাবে)।  পতিত হয়। ফলে, ভূপৃষ্ঠে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে পর্যায়ক্রমে ও  বিপরীতক্রমে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে। ভূপৃষ্ঠে  দিন ও রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির চারটি অবস্থা লক্ষণীয়।

1) 21 মার্চ ও 23 সেপ্টেম্বর পৃথিবীর দুই মেরু সূর্যের থেকে  সমান দূরে অবস্থান করে। ফলে, ওই দুদিন সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার  ওপর লম্বভাবে পতিত হয়। এই দুদিন উভয় গোলার্ধও সূর্য থেকে  সমান দূরে থাকে। এজন্য ওই দুদিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান  হয়। দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় দিনের বেলা আগত তাপের  পুরোটা রাতে বিকীর্ণ হয়ে বায়ুমণ্ডলে উত্তাপের সমতা বজায় থাকে।  21 মার্চ দিনটিকে মহাবিষুব এবং 23 সেপ্টেম্বর দিনটিকে জলবিষুব  বলে। 21 মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।  হয় এবং 23 সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল হয়।

2)21 জুন পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। তাই  উত্তর গোলার্ধে আলোকিত ছায়াবৃত্তের পরিমাণ অন্ধকার ছায়াবৃত্তের  পরিমাণের থেকে বেশি হয়। আলোকিত অংশের মধ্যে উত্তর  গোলার্ধের অংশ বেশিক্ষণ থাকে বলে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হয় এবং  রাতের দৈর্ঘ্য কম হয়। তাই সূর্যতাপের পুরোটা ছোটো রাতে বিকীর্ণ  হতে না পেরে বায়ুমণ্ডলে সঞ্চিত হয়ে গ্রীষ্মকালের সূচনা হয়। এই  সময় দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক এর বিপরীত অবস্থা থাকে বলে শীতকালের  সূচনা হয়। 21 জুন-কে কর্কটসংক্রান্তি বলে

3) 22 ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক 21 জুনের বিপরীত অবস্থা  হয়, অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, ফলে দক্ষিণ  গোলার্ধে আলোকিত ছায়াবৃত্তের পরিমাণ বেশি হয়। আলোকিত  অংশের মধ্যে দক্ষিণ গোলার্ধের অংশ বেশিক্ষণ থাকে বলে দিনের  দৈর্ঘ্য বেশি হয় এবং রাতের দৈর্ঘ্য কম হয়। তাই সূর্যতাপের পুরোটা  ছোটো রাতে বিকীর্ণ হতে না পেরে বায়ুমণ্ডলে সঞ্চিত হয়ে গ্রীষ্মকালের  সূচনা হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা থাকে বলে  শীতকালের সূচনা হয়। 22 ডিসেম্বর দিনটিকে মকরসংক্রান্তি বলে  21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর উত্তর মেরুতে একটানা ছয় মাস  ছোটো রাতে বিকীর্ণ হতে না পেরে বায়ুমণ্ডলে সঞ্চিত হয়ে গ্রীষ্মকালের  সূচনা হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা থাকে বলে  শীতকালের সূচনা হয়। 22 ডিসেম্বর দিনটিকে মকরসংক্রান্তি বলে

4)21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর  : উত্তর মেরুতে একটানা ছয় মাস দিন ও দক্ষিণ মেরুতে ছয় মাস রাত্রি থাকে। 23 সেপ্টেম্বর  থেকে 21 মার্চ অবধি উত্তর মেরুতে একটানা ছয় মাস রাত্রি ও দক্ষিণ মেরুতে ছয় মাস দিন থাকে।

উঃ-পৃথিবীর অভিগত গোলীয় আকৃতি, পরিক্রমণ গতি, পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর অক্ষ নিজ কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে হেলে অবস্থান প্রভৃতি কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য নিরক্ষরেখা (0°), কর্কটক্রান্তি রেখা (23° উত্তর) এবং মকরক্রান্তি রেখার (23½° দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। অর্থাৎ, 0° থেকে 231/2° উত্তর বা দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যেই সূর্যের লম্বরশ্মি পতিত হয়। বাকি অক্ষরেখাগুলিতে নিরক্ষরেখা থেকে ক্রমশ উত্তরে বা দক্ষিণে সারা বছরই তির্যক থেকে অতি তির্যকভাবে সূর্যরশ্মি পতিত হয়। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মির তুলনায় তির্যকভাবে পতিত সূর্যরশ্মিতে ভূপৃষ্ঠ কম উত্তপ্ত হয়। তাই নিরক্ষরেখা ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে উন্নতা সর্বাধিক হয়। এবং নিরক্ষরেখা থেকে যত উত্তরে বা দক্ষিণে অর্থাৎ, মেরুর দিকে যাওয়া যায় উন্নতা তত কমতে থাকে।

 উঃ-ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে যে বছরে ফেব্রুয়ারি   মাসে 28 দিনের সঙ্গে 1 দিন যোগ করে বছরটিকে 366 দিনের করা   হয়, সেই বছরটিকে অধিবর্ষ (Leap year) বলা হয়। মিশরীয়রা প্রথম   এই অধিবর্ষের হিসাব আবিষ্কার করে।   নির্ণয়ের পদ্ধতি : উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে একবার   প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46   সেকেন্ড। কিন্তু আমরা হিসাবের সুবিধার জন্য 365 দিনে একবছর   ধরি। এর ফলে, প্রতি বছর 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড বা 6 ঘণ্টা   সময় অতিরিক্ত থেকে যায়। তাই প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে   1 দিন বাড়িয়ে (4 বছর × 6 ঘণ্টা = 24 ঘণ্টা বা 1 দিন) বাড়তি   সময়ের সমতা বজায় রাখা হয় এবং বছরটিকে 366 দিনের করা হয়।   তবে 4 বছর অন্তর 1 দিন বাড়িয়েও সমস্যার সমাধান করা যায়নি,   কারণ 4 বছরে 44 মিনিট 56 সেকেন্ড (11 মিনিট 14 সেকেন্ড × 4 )   অতিরিক্ত সময় ধরা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শতাব্দীর   বছরগুলির মধ্যে 400 দ্বারা বিভাজ্য বছরগুলিকে অধিবর্ষ ধরা হয়।   যেমন - 1600, 2000 প্রভৃতি খ্রিস্টাব্দে অধিবর্ষ ছিল, কিন্তু 1800,   1900 খ্রিস্টাব্দে অধিবর্ষ ছিল না।

উঃ-29 ফেব্রুয়ারি তারিখটা প্রতিবছর ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় না।   কারণ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর   সময় লাগে 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড। কিন্তু আমরা   হিসেবের সুবিধার জন্য 365 দিনে একবছর ধরি। এর ফলে প্রতি বছর   5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড বা প্রায় 6 ঘণ্টা সময় অতিরিক্ত থেকে   যায়। তাই প্রতি 4 বছর অন্তর (4 বছর × 6 ঘণ্টা = 24 ঘণ্টা বা 1 দিন)   ফেব্রুয়ারি মাসে 1 দিন বাড়িয়ে (28 দিন + 1 দিন) = 29 দিনে মাস ধরা   হয় এবং (365+1) = 366 দিনে বছর ধরা হয়। এই বছরকে অধিবর্ষ   বা লিপ ইয়ার বলা হয়। অর্থাৎ প্রতি 4 বছর অন্তর লিপ ইয়ার বা   অধিবর্ষের ক্যালেন্ডারেই 29 ফেব্রুয়ারি তারিখটা পাওয়া যায়। সুতরাং   29 ফেব্রুয়ারি কারোর জন্মদিন হলে তার জন্মদিনটি 4 বছর অন্তর   অন্তর পালন করতে হবে।

উঃ-পৃথিবী তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে 66½° কোণে হেলে

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় সূর্যরশ্মি কখনও নিরক্ষরেখায়, কখনও

কর্কটক্রান্তি রেখায় বা কখনও মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে

কিরণ দেয়। সূর্যের উত্তরায়ণের সময় 21 জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার

ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং 23 সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখায়

লম্বভাবে কিরণ দিয়ে পুনরায় দক্ষিণায়নের ফলে 22 ডিসেম্বর

মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এরপর আবার 21 মার্চ

নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। অর্থাৎ, উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি

রেখা (231/2 উত্তর) থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তি রেখার

(231/2° দক্ষিণ) মধ্যে সূর্যের একটি আপাত সঞ্ঝরণ গতি পাওয়া যায়,

একেই সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি বলে। একে রবিমার্গ বা বার্ষিক

রবি সারণ বলে। 'রবি' কথার অর্থ 'সূর্য' এবং 'মার্গ' কথার অর্থ

‘পথ'। সূর্যের এই আপাত গতিপথকেই রবিমার্গ (Ecliptic) বলে।

উঃ-তাপের তারতম্যের ওপর রবিমার্গের প্রভাবঃ  

1) রবিমার্গ বা সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি পৃথিবীর তাপের   তারতম্যের ওপর প্রভাব ফেলে। সূর্যের উত্তরায়ণের সময় সূর্য   পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের দিকে বেশি ঝুঁকে অবস্থান করে বলে সূর্য   ওই অংশে লম্বভাবে কিরণ দেয়। যার ফলে উত্তর গোলার্ধে   গ্রীষ্মকালের সূচনা ঘটে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত   অবস্থা অর্থাৎ শীতকালের সূচনা হয়। সূর্যের উত্তরায়ণ 21 জুন   তারিখে কর্কটক্রান্তি রেখায় শেষ হয়। ওইদিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার   ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন   (14 ঘণ্টা) ও সবচেয়ে ছোটো রাত (10 ঘণ্টা) সূচিত হয় এবং উত্তর   গোলার্ধের মেরু অঞ্চলে 24 ঘণ্টা দিন বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে   এর বিপরীত অবস্থা সূচিত হয়।

2) এরপর সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ দিকে সরতে থাকে এবং 23   সেপ্টেম্বর তারিখে নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে পৃথিবীর   সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান (12 ঘণ্টা) হয় এবং সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায়   সমভাবাপন্ন উদ্বৃতা দেখা যায়। ওই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল   এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

3) এরপর সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে   গ্রীষ্মকাল ও উত্তর গোলার্ধে শীতকালের সূচনা হয়। 22 ডিসেম্বর   সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ওইদিন দক্ষিণ   গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন (14 ঘণ্টা) ও সবচেয়ে ছোটো রাত   (10 ঘণ্টা) এবং ওইদিন দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু অঞ্চলে 24 ঘণ্টা   দিন সূচিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি হয়।

4) এরপর সূর্য ক্রমশ উত্তর দিকে সরতে থাকে এবং 21 মার্চ   তারিখে পুনরায় নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয় ও সারা পৃথিবীতে   দিন-রাত্রি সমান হয়। ওই সময় দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল এবং উত্তর   গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে বলে বায়ুর উন্নতা সমভাবাপন্ন থাকে।

উঃ-‘অয়ন’ শব্দের অর্থ ‘গমন'। অয়নান্ত দিবস বলতে বোঝায় পথ বা গমনের শেষ দিন। 23 ডিসেম্বর থেকে 21 জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গমনকে উত্তরায়ণ বলে। 21 জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (23½° উত্তর অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই উত্তরমুখী আপাত গতির সমাপ্তি ঘটে। তাই 21 জুনকে উত্তর অয়নান্ত দিবস বলে।

অপরদিকে 22 জুন থেকে 22 ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের এই দক্ষিণমুখী আপাত গমনকে দক্ষিণায়ন বলে। 22 ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (23½° দক্ষিণ অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই দক্ষিণমুখী আপাত গতির সমাপ্তি ঘটে। তাই 22 ডিসেম্বরকে দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বলে।

উঃ-মহাকর্ষ সূত্রানুসারে প্রকৃতির যে-কোনো বড়ো বস্তু ছোটো বস্তুকে আকর্ষণ করে। এই দিক থেকে পৃথিবীর অভিকর্ষ বল পৃথিবীর নিকটস্থ প্রতিটি বস্তুর উপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক।

তা সত্ত্বেও রকেট ও কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মহাকর্ষের টানে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরে আসে না।

1)কারণ : আমরা জানি, পৃথিবীর কোনো বস্তুকে যদি প্রতি সেকেন্ডে 11.2 কিমি মুক্তিবেগে মহাশূন্যে পাঠানো যায় তাহলে সেটি অভিকর্ষ শক্তিকে কাটিয়ে মহাশূন্যে নিজেকে প্রতিস্থাপিত করবে। যেহেতু রকেট ও কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মুক্তিবেগের নিয়মানুযায়ী মহাশূন্যে প্রতিস্থাপিত হয় তাই তারা পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রত্যাবর্তন করে না।

2)গুরুত্ব : রকেট ও কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মহাকর্ষের টানে বাসথান, পোশাক-পরিছদ ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ঘটে। আবার, গ্রীষ্মমণ্ডলে বসবাসকারীদের তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্ছলের অধিবাসীরা বেশি কর্মঠ হন ।

3)কৃষিজ ফসল উদপাদনে বৈচিত্র্য : ঋতুভেদে কৃষিজ ফসল উদপাদনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয় ।

উঃ- পৃথিবী সূর্যকে উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করায় এবং সূর্য এই পথের একটি নাভিতে অবস্থান করার জন্য সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। সূর্য থেকে পৃথিবীর রৈখিক দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় 3 জানুয়ারি (14 কোটি 70 লক্ষ কিমি)। ওই সময় উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। অর্থাৎ এই সময় পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে আসে ও পৃথিবীর আবর্তন বেগ সামান্য বেড়ে যায়। জানুয়ারি মাসে সূর্যের নিকটবর্তী অবস্থানের জন্যই আমরা সূর্যকে একটু বড়ো দেখি।

উঃ-নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ে। সূর্য উত্তর গোলার্ধে অথবা দক্ষিণ গোলার্ধে যেখানেই লম্বভাবে কিরণ দিক না কেন পৃথিবীর ছায়াবৃত্ত সর্বদাই নিরক্ষরেখাতে সমর্থিখন্ডিত করে। ফলে বছরে, প্রতিটি দিনেই নিরক্ষরেখার ওপর 12 ঘণ্টা দিন এবং 12 ঘণ্টা রাত্রি সংঘটিত হয়। সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এই অঞ্চল অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়। এছাড়া এই অঞ্চলে জলভাগ বেশি থাকায় বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিদিন অপরাহ্নে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর উষ্ণ-আর্দ্র ঋতু পরিলক্ষিত হয়।

তাছাড়া, এই অঞ্চলে জলভাগের পরিমাণও বেশি থাকে ফলে লদ সূর্যরশ্মির ফলে বাষ্পীভূত জল পরিচলন প্রক্রিয়ায় সোজা উপরে উঠে যায় এবং সারাবছর উঁচু-আর্দ্র ঋতুর সৃষ্টি করে।

উঃ- ডিসেম্বর মাসে বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকায় যান, তার কারণগুলি হল -

1)আন্টার্কটিকা ও অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর দক্ষিণায়নের ফলে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে অবস্থান করায় 22 ডিসেম্বর সূর্যকিরণ মকরক্রান্তি রেখার ওপর (23½° দক্ষিণ) লম্বভাবে পতিত হয়। এই দিন দক্ষিণ সোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত্রি ছোটো (14 ঘণ্টা দিন ও 10 ঘণ্টা রাত) হয়। দিন বড়ো হওয়ার দরুন এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধের ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুস্তর তুলনামূলকভাবে উত্তপ্ত হয়ে আন্টার্কটিকা ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে গ্রীষ্মকালের সূচনা করে। এই কারণে 25 ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করায় আন্টার্কটিকা বা অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীরা গ্রীষ্মকালে বড়োদিন উৎসব পালন করেন।

2)দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময় একটানা তিনমাস (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) দিনের আলো থাকায় নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপের সুবিধা হয়।

3)সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে এই সময় উত্তর গোলার্ধে শীত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলে, এই জন্য সমুদ্রোপকূলবর্তী অঞ্চলে হিমাঙ্কের ওপর উন্নতা উঠে যায়, ফলে শীতের তীব্রতা কম (গড়ে 20°C) থাকে।

4)গ্রীষ্মের সময় সুর্যালোকের প্রভাবে বরফ গলে গিয়ে মহাদেশটির ক্ষেত্রমান হ্রাস পায়। ফলে বিজ্ঞানীরা এই সময়ে মহাদেশের অভ্যন্তরে অনেকটা প্রবেশ করতে পারেন।

5)গ্রীষ্মকালে প্রবল গতিবেগ সম্পন্ন তুষারঝড় 'ব্লিজার্ড ' সাধারণত প্রবাহিত হয় না। ফলে বিজ্ঞানীরা অনেক নিশ্চিন্তে এবং নির্বিঘ্নে তাঁদের গবেষণামূলক কাজ চালনা ও পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারেন।

উঃ- সূর্য পরিক্রমার সময় পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে হেলে অবস্থান করায় 21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুমেরু অঞ্চলে ছয়মাস ক্রমাগত দিন ও কুমেরু অঞ্চলে রাত্রি থাকে। আবার 23 সেপ্টেম্বর থেকে 21 মার্চ পর্যন্ত সুমেরু অঞ্চলে ছয়মাস রাত্রি ও কুমেরু অঞ্চলে ছয়মাস দিন থাকে। মেরু অঞ্চলে 6 মাস দিন থাকাকালীন সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পতিত হয়, ফলে মেরু অঞ্চলে খুব অল্প উন্নতা দেখা যায়। যদিও গ্রীষ্মকালে তুলনামূলকভাবে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমে যায়। মেরু অঞ্চলে তাই সবসময়েই শীত, কখনও একটু কম, কখনও খুব বেশি থাকে। তাই এই অঞ্চলে ঋতুপরিবর্তন বিশেষ উল্লেখযোগ্য নয়।

উঃ-আমরা জানি, পৃথিবীর মেরুরেখাটি তার কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার জন্য পৃথিবীর দুই গোলাষে সর্বদা বিপরীত ঋতু বিরাজ করে। আমরা উত্তর গোলার্ধে বাস করি, এখানে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়ে। কিন্তু এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধের মানুষ গরমে হাঁসফাস করে।

কারণ : দক্ষিণায়নের জন্য 23 সেপ্টেম্বরের পর পৃথিবীর উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্য থেকে দুরে সরে যাওয়ায় 1)উত্তর গোলার্ধে তির্যকভাবে সূর্যালোক পড়ে। 2)তাপের ঘাটতির ফলে উত্তর গোলার্ধ ক্রমশ শীতল হয়ে শীতঋতুর সূচনা হয় এবং শীতে আমরা কাঁপতে থাকি।  আবার এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধে 3) লম্বভাবে সূর্যালোক পড়ে,  4)উদ্বৃত্ত তাপের জন্য দক্ষিণ গোলার্ধ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে গ্রীষ্মঋতুর সূচনা করে এবং ওই সময় গরমে দক্ষিণ গোলার্ধের মানুষরা হাঁসফাঁস করে।

উঃ- পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে আমরা বসবাস করি। 23 সেপ্টেম্বরের পর থেকে সূর্যের দক্ষিণায়ন ঘটে। এই সময় উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় এখানে দিন ক্রমশ ছোটো ও রাত ক্রমশ বড়ো হতে থাকে। ফলে উষ্ণতা  ক্রমশ হ্রাস পায় এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকালের সূচনা হয়। দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ যে পরিমাণ তাপ গ্রহণ করে দীর্ঘ রাতে তার সবটাই বিকিরিত হয়ে যায় এবং ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ শীতল হতে থাকে বলে 23 সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমরা শীতলতা অনুভব করি।

উঃ- সুমেরু এবং কুমেরুতে একটানা 6 মাস দিন ও6 মাস রাত থাকার প্রধান কারণ পৃথিবী তার কক্ষতলের সঙ্গে 662° কোণে হেলে থাকে। এর ফলে সূর্যরশ্মির পতনকোণের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

1)21 মার্চের পর থেকে 23 সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত পৃথিবী তার কক্ষপথের এমন স্থানে আসে যে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে সুমেরুবৃত্ত থেকে সুমেরু বিন্দু পর্যন্ত সর্বদা (24 ঘণ্টা) সূর্যের আলো পায়। অর্থাৎ, একটানা 6 মাস দিন থাকে। অন্যদিকে, ওই সময়ে কুমেরু অঞ্চল থেকে একেবারেই সূর্যকে দেখা যায় না বলে 6 মাস রাত্রি বিরাজ করে।

2)আবার, 23 সেপ্টেম্বরের পর থেকে 21 মার্চের আগে পর্যন্ত পৃথিবী তার কক্ষপথের এমন স্থানে আসে যে, দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। এই সময় কুমেরু অঞ্চল 24 ঘণ্টা আলোকিত হয়, অর্থাৎ, এখানে একটানা 6 মাস দিন হয় এবং সুমেরু অঞ্চলে একটানা 6 মাস রাত্রি হয়।

উঃ-পৃথিবীর গোলীয় আকৃতি ও পরিক্রমণ গতির জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে তাপ ও আলোর তারতম্য ঘটায় বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহে তারতম্য ঘটে। এর ফলে বার্ষিক গতি জীবজগতের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে, যেমন—

 1)উদ্ভিদের অবস্থানগত বৈচিত্র্য : উয়তার তারতম্য অনুযায়ী পৃথিবীতে তিন ধরনের তাপমণ্ডলের সৃষ্টি হয়েছে, যেমন- (i) উয়ুমণ্ডল, (ii) নাতিশীতোষু মণ্ডল ও (iii) হিমমণ্ডল। তাপমণ্ডলের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন উদ্ভিদগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। যেমন- উয়ুমণ্ডলে চিরহরিৎ অরণ্য, নাতিশীতোয় মণ্ডলে পর্ণমোচী অরণ্য ও হিমমণ্ডলে শৈবাল প্রভৃতি।

 2)মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন : ঋতুভেদে মানুষের বাসস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটে। আবার, গ্রীষ্মমণ্ডলে বসবাসকারীদের তুলনায় নাতিশীতোয় অস্থলের অধিবাসীরা বেশি কর্মঠ হন।

 3)কৃষিজ ফসল উৎপাদনে বৈচিত্র্য:  ঋতুভেদে  কৃষিজ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

উঃ- মেরুপ্রভী বা মেরুজ্যোতি (Aurora) : পৃথিবীর উভয় মেরু যে অঞ্চলে ছয়মাস রাত্রি চলাকালীন সেখানকার বায়ুমণ্ডলে বর্ণময় আলোকছটার সৃষ্টি হয়, তাকে মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি (Aurora) বলে।

সৃষ্টি : বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান (অক্সিজেন, নাইট্রোজেন) অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে আয়নিত হয়ে (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক) লাল, সবুজ, বেগুনি মেরুজ্যোতির সৃষ্টি করে।

 শ্রেণিবিভাগ : উভয় মেরু অঞ্চলে নিম্নোক্ত দু-ধরনের মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয়।

1) সুমেরুপ্রভা (Aurora Borealis): 23 সেপ্টেম্বর থেকে 21 মাৰ্চ পর্যন্ত উত্তর মেরুতে যে মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয়, তাকে সুমেরুপ্রভা বলে।

2) কুমেরুপ্রভা (Aurora Australis): 21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ মেরুতে যে মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয়, তাকে কুমেরুপ্রভা বলে।

উঃ- পৃথিবী যে নির্দিষ্ট পথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে চলেছে, তাকে  পৃথিবীর কক্ষপথ (Orbit of the Earth) বলে।

পৃথিবীর কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য :1) পৃথিবীর কক্ষপথটি  উপবৃত্তাকার2) কক্ষপথের দেঘ্য প্রায় 96 কোটি কিমি 3)কক্ষপথের নাভিতে (focus) সূর্য অবস্থান করছে।4)কক্ষপথে  পৃথিবীর সূর্য পরিক্রমণের বেগ প্রায় 30 কিমি/সেকেন্ড 5) পৃথিবীর  কক্ষপথটি যে সমতলে অবস্থান করে, তাকে  কক্ষতল  বলে। পৃথিবীর  কেন্দ্র ও সূর্যের কেন্দ্র একই তলে  অবস্থিত। 6)পৃথিবীর মেরুরেখা  কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে হেলে অবস্থান করে। 7)পৃথিবীর  নিরক্ষীয় তল কক্ষতলের সঙ্গে 23½° কোণে হেলে অবস্থান করে।  8)পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (anti clock-  wise) ঘুরতে ঘুরতে 365 দিন 6 ঘণ্টায় সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে।

উঃ-  1) সময় পরিমাপ করার প্রাকৃতিক উপায়সমূহ :   বার্ষিক গতির সাহায্যে  পৃথিবী সূর্যকে 365 দিনে একবার  প্রদক্ষিণ করে, একে একবছর ধরা হয়। এভাবে বছর গণনা করা হয়।

2) আবর্তন গতির সাহায্যে : পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের  চারদিকে 24 ঘণ্টায় একবার পাক খায়, একে একদিন ধরা হয়।  একদিনকে 24 ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতি ভাগকে এক ঘণ্টা ধরা হয়।  প্রতি ঘণ্টাকে আবার 60 মিনিট এবং প্রতি মিনিটকে 60 সেকেন্ড ধরে  সময় গণনা করা হয়। এ ছাড়া 24 ঘণ্টা বা একদিনকে দিন ও রাতের  পর্যায়ক্রমে ভাগ করা হয়।

3)চান্দ্রমাসের সাহায্যে  :  পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ প্রায়  28 দিনে (27 দিন 8 ঘণ্টা) পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, একে এক  চান্দ্রমাস বলে। সাধারণত 30 দিনে একমাস ধরা হলেও কখনো কখনো  31 দিনে বা 28 দিনেও একমাস গণনা করা হয়।  মাস দিন ও দক্ষিণ মেরুতে ছয় মাস রাত্রি থাকে।23 সেপ্টেম্বার থেকে 21 মার্চ অবধি উত্তর মেরুতে একটানা ছয় মাস রাত্রি ও দক্ষিণ মেরুতে ছয় মাস দিন থাকে।

উঃ- পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে দিন ও  রাত সংঘটিত হয়। যখন কোনো স্থানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী  রাতের বেলাও সূর্যকে দেখা যায় তখন সেই সূর্যকে 'নিশীথ সূর্য’ (Mid-  night Sun) বলে।

21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর মেরু অঞ্চলে সূর্য  অস্ত যায় না, অর্থাৎ এই সময় একটানা ছমাস দিন। ফলে নরওয়ের  হ্যামারফেস্ট বন্দরে সাধারণত মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত গভীর  রাতেও সূর্যকে দেখা যায়। এজন্য একে নিশীথ সূর্য এবং নরওয়ের  হ্যামারফেস্ট বন্দরতার আশপাশের অঞ্চলকে নিশীথ সূর্যের  দেশ' (Land of Midnight Sun) বা 'মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ’ বলে।