ম্যাগমা কী? 2
→ ম্যাগমা (magma) হল ভূগর্ভস্থিত পদার্থসমূহ, যা প্রচণ্ড তাপ এবং চাপে গ্যাস ও বাষ্প-মিশ্রিত হয়ে উত্তপ্ত, সান্দ্র বা থকথকে অবস্থায় থাকে | ভূগর্ভে ম্যাগমা যেখানে সঞ্চিত থাকে সেই অঞ্চলকে ম্যাগমা চেম্বার বলে। ভূপৃষ্ঠের কোথাও চাপ হ্রাস পেলে ওই ম্যাগমা লাভারূপে বাইরে বেরিয়ে আসে।
অ্যাস্সেনোস্ফিয়ার সম্পর্কে কী জানো? 2
অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার শব্দটি গ্রিক শব্দ “অ্যাসথেনো” থেকে এসেছে, যার অর্থ দুর্বল | অর্থাৎ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার শব্দের অর্থ দুর্বল স্তর | অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হল শিলামন্ডলের ঠিক নীচে গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্বতর সান্দ্র ও নমনীয় স্তর। এই সান্দ্র অংশের ওপর ভূত্বকের পাতগুলি ভাসমান বা সচল অবস্থায় রয়েছে। মনে করা হয় 100 কিমি থেকে 250 কিমি গভীরতা পর্যন্ত অঞ্চলটি বিস্তৃত।
ভূকম্পীয় ছায়া অঞ্চল কী? 2
'P' তরঙ্গের প্রতিসরণ এবং তরল কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতর দিয়ে 'S' তরঙ্গ প্রবাহিত না হতে পারার কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় ভূকম্প তরঙ্গ সমান- ভাবে পৌঁছাতে পারে না। আবার কোনো তরল বা সান্দ্র মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় ‘P’ তরঙ্গের গতিবেগ কমে যায়। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে 104°-140° কৌণিক দূরত্বের মধ্যে 'P' এবং 'S' তরঙ্গ পৌঁছাতে পারে না বলে। ওই অঞ্চলকে ভুকম্পীয় ছায়া অঞ্চল (seismic shadow zone) বলে।
ভূঅভ্যন্তরের ম্যান্টল বা গুরুমণ্ডল সম্পর্কে কী জানো? 2
এই স্তরটি ভূত্বক ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী স্তর। উপবিভাগ: অন্তঃগুরুমণ্ডলে নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) বেশি থাকায় একে নিফেসিমা (Ni-Fe-Si-Ma) বলে। বহিঃগুরুমণ্ডলে ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) বেশি আছে বলে এর নাম ক্রোফেসিমা (Cro-Fe-Si-Ma) | গভীরতা: এই স্তরটি ভূ-ত্বকের নীচ থেকে প্রায় 2900 কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত। উন্নতা: গুরুমণ্ডলের গড় উন্নতা প্রায় 2000-3000°সে। আপেক্ষিক গুরুত্ব: এই স্তর জলের চেয়ে প্রায় 4-5 গুণ ভারী।
পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে গেলে কত গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে? 2
পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে গেলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ অর্থাৎ 6371 কিলোমিটার পর্যন্ত গর্ত খুঁড়তে হবে। যদিও বাস্তবে তা সম্ভব নয়। মানুষ এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে 12 কিলোমিটার গভীর গর্ত খুঁড়েছে। এটি হল পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত কিন্তু এই সামান্য গর্ত পৃথিবীর অভ্যন্তর জানার পক্ষে কিছুই নয়।
সিয়াল কী? 2
সিয়াল: ভূ-ত্বকের ওপরের অংশে প্রধানত সিলিকন (Silicon) এবং অ্যালুমিনিয়াগ-(Aluminium)—এই দুটি উপাদান বেশি থাকায়, ওই দুটি শব্দের প্রথম দুটি করে বর্ণ নিয়ে একে সিয়াল (Si-Al) ভূত্বক বলে।) অন্য নাম: সাধারণভাবে মহাদেশগুলি সিয়াল ভূ-ত্বকেই গঠিত হওয়ায় এর আর এক নাম মহাদেশীয় ভূত্বক (continental crust) | উপাদান: সিয়াল গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। সিয়াল ভূত্বক কোনো কোনো এলাকায় প্রায় 60 কিমি পর্যন্ত পুরু হয়, এটি আম্লিক শিলা দ্বারা গঠিত, এই স্তরের আপেক্ষিক ঘনত্ব 2.6-2.9 গ্রাম/ঘন সেমি |
সিমা কী? 2
সিমা: (ভূ-ত্বকের নীচের অপেক্ষাকৃত ভারী অংশ প্রধানত সিলিকন (Sili- con) এবং ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) এই দুই উপাদান দ্বারা গঠিত বলে, একে সিমা (Si-Ma) ভূত্বক বলে অন্য নাম: সমুদ্রের তলদেশের ওপরের সামান্য পলিস্তর বাদ দিয়ে বাকি এলাকা এই সিমা ভূত্বক দ্বারা গঠিত হওয়ায় এর আর-এক নাম সামুদ্রিক ভূত্বক (oceanic crust ) | উপাদান: এই স্তর ভারী এবং প্রধানত ব্যাসল্ট-জাতীয় ক্ষারকীয় শিলা দ্বারা গঠিত। এই স্তর মাত্র 5-10 কিমি পুরু। যার আপেক্ষিক ঘনত্ব 2.9-3.3 গ্রাম/ঘন সেমি।
ভূত্বক কাকে বলে? 2
গুরুমণ্ডলের ওপরে গড়ে প্রায় 30 কিমি গুরু যে কঠিন, হালকা ও পাতলা শিলাস্তরটি পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে ভূত্বক (crust) বলে। শিলার ঘনত্বের ভিত্তিতে ভূত্বক দুই ভাগে বিভক্ত – সিয়াল ও সিমা।
শিলামণ্ডল কাকে বলে? 2
সমগ্র ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের উপরিভাগের অর্ধ-তরল নমনীয় পদার্থ নিয়ে গড়ে উঠেছে শিলামণ্ডল, যার গভীরতা প্রায় 100 কিমির কাছাকাছি। শিলামণ্ডলেই যাবতীয় পাহাড়, পর্বত ও মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তর সম্পর্কে কীভাবে জানা গেছে? 2
→ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে জানার জন্য, ভূকম্পন তরঙ্গের প্রকৃতি ও গতিবিধি এবং অগ্ন্যুদ্গমজনিত বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও উদ্ভূত পদার্থের বিশ্লেষণ করেছেন। এর থেকেই তাঁরা ভূত্বক, গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডলের অবস্থান এবং তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
ভূঅভ্যন্তরীণ উত্তাপ সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? 2
উত্তপ্ত গ্যাসীয় অবস্থা থেকে পৃথিবী জন্মলাভ করার ফলে সেই সময় পৃথিবীর সমগ্র অংশের উত্তাপ ছিল প্রচণ্ড বেশি। বায়ুমণ্ডলীয় কারণে পৃথিবীর বহিরাবরণ শীতল ও কঠিন হলেও ভূঅভ্যন্তর আজও উত্তপ্ত। জানা গেছে প্রতি 1 কিমি গভীরতায় 30 °সে হারে উন্নতা বৃদ্ধি পায় এবং এই সূত্রেই পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় 5000 °সে হয়।
ভূঅভ্যন্তরের বিভিন্ন বিযুক্তিগুলি কী কী? 2
ভূঅভ্যন্তরে সাধারণত তিন ধরনের বিযুক্তির উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যেমন—
গুটেনবার্গ বিযুক্তি: কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডলের বিচ্ছেদতলে অবস্থিত।
মোহোরোভিসিক বিযুক্তি: গুরুমণ্ডল ও ভূত্বকের মিলনস্থলে অবস্থিত।
কনরাড বিযুক্তি: ভূ-ত্বকের সিয়াল ও সিমা স্তরের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
এ ছাড়াও ভূঅভ্যন্তরে আরও দুটি বিযুক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যথা—
4) রেপিত্তি বিযুক্তি: গুরুমণ্ডলের ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমা স্তরের মাঝে অবস্থিত।
5 লেহম্যান বিযুক্তি: কেন্দ্রমণ্ডলের অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত।
পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল সম্পর্কে কী জানো? 2
কেন্দ্রমণ্ডল; পৃথিবীর প্রচণ্ড অভিকর্ষজ শক্তির জন্য ভূকেন্দ্রের চারদিকে নিকেল, লোহা প্রভৃতি অত্যন্ত ভারী ও ঘন পদার্থগুলি সঞ্চিত হয়ে পৃথিবীর কেন্দ্র গঠন করেছে বলে এই স্তরটিকে কেন্দ্রমণ্ডল (Core of the Earth) বলে । এই স্তরটি প্রধানত নিকেল এবং লোহা দ্বারা গঠিত বলে কেন্দ্রমণ্ডলকে সংক্ষেপে 'নিফে’ (Ni-Fe) বলে । উপরিভাগ: এই স্তরটি দুটি ভাগে বিভক্ত, যথা— অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল। গভীরতা: কেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা পৃথিবীর ভূঅভ্যন্তরে 2900 কিমি থেকে 6371 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। উন্নতা: এর মধ্যে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের উন্নতা প্রায় 4000 °সে এবং অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের উন্নতা থাকে প্রায় 5150°সে। আপেক্ষিক গুরুত্ব: এটি জলের চেয়ে প্রায় 10-12 গুণ ভারী।
কেন আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য পাই না? 2
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের তাপমাত্রা এত বেশি থাকে যে সেখানে পৌঁছে অভ্যন্তর সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবিধি লক্ষ করে পৃথিবীর ভিতরের মাত্র কয়েক কিমি পর্যন্ত তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। পৃথিবীর ভিতর সম্পর্কে আমরা তেমনভাবে জানতে পারিনি কারণ— পৃথিবীর বাইরের অংশটি ঠান্ডায় কঠিন হলেও ভিতরে এখনও অত্যন্ত তাপ এবং চাপে সবকিছু তরল ও সান্দ্র অবস্থায় আছে। ? পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে গেলে আমাদের প্রায় 6400 কিমি গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে, যা একপ্রকার অসম্ভব।3 ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে যাওয়া যাবে তাপমাত্রা ততই বাড়বে। ওই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কারও পক্ষে বেঁচে থাকা কার্যত সম্ভব নয়। 4 ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে গেলে অক্সিজেনের পরিমাণ ক্রমশ কমে যায়। পৃথিবীর উপরিভাগের তুলনায় কেন্দ্রের দিকে চাপ অনেক বেশি হয়।
পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কে যা জানো লেখো। 2
ভূঅভ্যন্তরের গঠন: ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূকেন্দ্র পর্যন্ত 6371 কিমি গড় সমদ্র ব্যাসার্ধযুক্ত অঞ্চলকে ভূঅভ্যন্তর বলে। ভূঅভ্যন্তরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, এগুলি হল (1) কেন্দ্রমণ্ডল, 2 ম্যান্টল বা গুরুমণ্ডল এবং 3 ভূত্বক। ভূকম্পীয় তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে উদ্ভূত পদার্থের ভৌত-রাসায়নিক ধর্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও এর ভৌত-রাসায়নিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
ভূঅভ্যন্তরে অ্যাথেনোস্ফিয়ারের অবস্থান কোথায়? 2
অ্যাস্টেনোস্ফিয়ার হল শিলামণ্ডলের ঠিক নীচে গুরুমণ্ডলের ওপরের অংশে সান্দ্র ও নমনীয় স্তর। প্রচণ্ড চাপে এবং তাপে এখানকার শিলা অর্ধ-তরল অবস্থায় আছে। ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এটি 100 কিমি থেকে 250 কিমি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।
শিলামণ্ডলীয় ‘পাত’ বলতে কী বোঝ? 2
ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের উত্থাংশ নিয়ে গঠিত অংশটির নাম শিলামন্ডল বা অন্বমণ্ডল| ‘পাত’ বা সিয়াল বা সিমাসহ পৃথিবীর অশ্বমণ্ডলীয় স্তর গঠিত, যা ছোটো বড়ো পাতলা, অনমনীয় ও কঠিন। এগুলি গুরুমণ্ডলের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। ভূঅভ্যন্তরের পরিচলন স্রোত পাতগুলির নীচে ধাক্কা মারে তার ফলে পাতগুলি সচল হয়।
আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে গলিত উত্তপ্ত অর্ধ-তরল লাভা বের হয় কেন? 2
ভূ-ত্বকের নীচে বহিঃপুরুমণ্ডলে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা 1300 - 1350°সে। এর সঙ্গে চাপও অত্যন্ত বেশি। এই কারণে কিছু পরিমাণ শিলা ও খনিজ পদার্থ আংশিকভাবে গলে গিয়ে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং অত্যধিক চাপে স্থিতিস্থাপকভাবে ভূগর্ভেই অবস্থান করে। এরপর কোনো কারণে চাপ হ্রাস পেলে সেই উত্তপ্ত অর্ধ-গলিত পদার্থ লাভা রূপে ভূপৃষ্ঠে আসে।
পৃথিবীর বাইরের অংশ ঠান্ডা হলেও ভিতরের অংশ গরম কেন? 2
আজ থেকে প্রায় 460 কোটি বছর আগে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় পৃথিবী ছিল উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড | তারপর সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী ক্রমাগত ঠান্ডা হয়ে চলেছে। এই কারণে উত্তপ্ত পৃথিবীর বাইরের দিকটি ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে শিলামণ্ডল তৈরি হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর ভিতরের অংশ তাপ বিকিরণ করতে না পারায় এখনও গরম রয়েছে।
গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল প্রায় একইরকম পুরু । কিন্তু পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৪4 শতাংশ দখল করে আছে গুরুমণ্ডল—এটা কীভাবে বা কেন হয় বলতে পারো? 2
- শিলামণ্ডলের নীচে প্রায় 2900 কিমি পর্যন্ত পুরু স্তর হল গুরুমন্ডল | আবার গুরুমণ্ডলের নাঁচে প্রায় 3500 কিমি পর্যন্ত ব্যাসার্ধযুক্ত অঞ্চল হল কেন্দ্রমণ্ডল | অথচ পৃথিবীর প্রায় 84 শতাংশ স্থান দখল করে আছে গুরুমণ্ডল। কারণ— কেন্দ্রমণ্ডলে পৃথিবীর সবথেকে ভারী পদার্থ, যেমন–লোহা, নিকেল, পারদ অবস্থান করছে। এগুলির ঘনত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় কম স্থান দখল করে আছে। অন্যদিকে গুরুমণ্ডলের হালকা পদার্থগুলির ঘনত্ব কম হওয়ায় এগুলি বেশি স্থান জুড়ে অবস্থান করছে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে মানুষ যতটুকু জেনেছে, তা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? 2
পৃ থিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। 1 প্রত্যক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে: [i] ভূপৃষ্ঠে এবং সমুদ্রগর্ভে গর্ত খনন করে সেখান থেকে প্রাপ্ত শিলার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে, [ii] ভূগর্ভ থেকে যে
লাভা নির্গত হয় সেই লাভার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে, [iii] উন্ন প্রস্রবণের জলের খনিজের প্রকৃতি, উন্নতা, রাসায়নিক গ্রুপ বিচার করে, [iv] ভূঅভ্যন্তর থেকে খনিজ দ্রব্য আহরণ করে।
2 পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে: [i] ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে. [ii] এ ছাড়া, নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র থেকে প্রমাণিত যে, যতই পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে যাওয়া যাবে ততই ভারী এবং অধিক ঘনত্বযুক্ত বস্তু সেখানে অবস্থান করবে।
লাট্টুর আবর্তনের সাথে পৃথিবীর আবর্তনের মিল পাওয়া যায়।তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনের সাথে মিল আছে এমন দুটি জিনিসের নাম বলো। 2
সরবতি লেবুর সাথে পৃথিবীর গঠনের মিল আছে কারণ- সরবতি লেবুর বহিরের খোসার সাথে আমরা পৃথিবীর ভূ-ত্বকের মিল খুঁজে পাই । পৃথিবীর ভূত্বক যেমন পৃথিবীর তুলনায় পাতলা, সরবতি লেবুর খোসাও লেবুর সাপেক্ষে পাতলা।
2 লেবুর খোসার নীচের অংশে যেখানে রস সঞ্চিত থাকে, সেই অংশকে শাঁস বলে। ওই অংশের সাথে পৃথিবীর গুরুমণ্ডলের তুলনা করা যেতে পারে। পৃথিবীর ভূ-ত্বকের নীচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডলের আগে পর্যন্ত অংশ গুরুমণ্ডল হিসেবে পরিচিত।
3 সরবতি লেবুর একেবারে মধ্যের বা কেন্দ্রের সাদা রঙের অক্ষের মতো অংশটি বা ফাঁকা স্থানটি পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের সাথে তুলনীয়। ডিমের সাথেও পৃথিবীর গঠনের মিল আছে: [i] ডিমের বাইরের কঠিন খোলকটিকে ভূত্বকের সাথে, [ii] ডিমের ভিতরের সাদা অংশকে বাইরের কঠিন গুরুমণ্ডলের সাথে, এবং [iii] ডিমের কুসুমকে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে তুলনা করা যায়।
অ্যাস্সেনোস্ফিয়ারকে বিক্ষুব্ধমণ্ডল বলে কেন? 2
অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। এই স্তরেই ভূঅভ্যন্তরের পদার্থসমূহ তাপ এবং চাপের হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত কারণে তরল হয়ে ম্যাগমার সৃষ্টি
করে। ওই ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের দুর্বল কাটল পথে বাইরে বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ভূমিরূপেরও পরিবর্তন হয়, তাই এই স্তরটিকে বিক্ষুদ্ধমণ্ডল বলে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় কেন? 2
ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব 2.6-3.3 গ্রাম/ঘন সেমি। গুরুমণ্ডলের গড় ঘনত্ব 3.4-5.5 গ্রাম/ঘন সেমি এবং কেন্দ্রমণ্ডলের গড় ঘনত্ব 10-13.6 গ্রাম/ঘন সেমি। ঘনত্বের এরকম পার্থক্যের মূল কারণ হল পৃথিবীর আবর্তনের জন্য ভারী পদার্থগুলি পৃথিবীর কেন্দ্রে জমা হয় এবং হালকা পদার্থগুলি বাইরের দিকে অবস্থান করে। 2 পৃথিবী ক্রমাগত ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত ভারী পদার্থগুলি ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে থিতিয়ে পড়ছে।
সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে তুমি অ্যাস্সেনোস্ফিয়ারের পরিচলন স্রোত | বুঝিয়ে দাও। 5
গুরুমন্ডলের অ্যাস্পেনোস্ফিয়ারে বিভিন্ন পদার্থগুলি সান্দ্র বা চটচটে অবস্থায় আছে। এগুলি নীচ থেকে ওপরে এবং ওপর থেকে নীচের দিকে পরিচলন প্রক্রিয়ায় বাহিত হয়। অ্যাস্থেনোম্বিয়ারের ওপর অবস্থিত পাতগুলি এই পরিচলন স্রোতের কারণে ভেসে থাকে, যা সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। একটি কাচের চওড়া বাটিতে জল নিয়ে তার ওপর দুটি কাঠের ব্লক বা টুকরো ভাসিয়ে দিতে হবে। এরপর বাটির নীচে তাপ দিলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে নীচের জল ওপরে উঠছে। ওই জল কাঠের টুকরোর নীচে আঘাত করার ফলে টুকরোগুলি সরে যাচ্ছে, আবার যে স্রোত ওপরে উঠল তা বাটির ধার বরাবর নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে । এভাবেই অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে পরিচলন স্রোত নীচ থেকে ওপর এবং ওপর থেকে নীচে নামার ফলে তার ওপর ভাসমান পাতগুলি সঞ্চালিত হয়।
শিলামন্ডল বা অশ্মমন্ডল-এর বিবরণ দাও। 2
সমগ্র ভূত্বক এবং পুরুমন্ডলের সবচেয়ে ওপরের অপেক্ষাকৃত নমনীয়, অর্ধ- তরল, হালকা পদার্থ দ্বারা গঠিত অংশ হল অন্মমন্ডল বা শিলামণ্ডল (Litho- sphere)। এই ভরটি অ্যাস্সেনোগিয়ারের ওপর ভাসমান অবস্থায় আছে। গভীরতা: মহাসাগরীয় ভূত্বক, মহাদেশীয় ভূত্বক এবং গুরুমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ নিয়ে অন্মমন্ডল গঠিত বলে এর গড় গভীরতা প্রায় 100 কিমি।
উপাদান: অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম প্রভৃতি।
নামকরণ; যেহেতু ‘অশ্ম’ কথাটির অর্থ শিলা, তাই অশ্মমণ্ডলের আর-এক নাম শিলামণ্ডল।
উন্নতা: সাধারণত এর বাইরের অংশে উন্নতা কম এবং ভিতরের অংশে বেশি | গড়ে প্রতি 1 কিমি গভীরতায় 30°সে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটে।
আপেক্ষিক গুরুত্ব; এই স্তর জল অপেক্ষা 2-3 গুণ ভারী।
গতিশীলতা: এই স্তরটি গতিশীল। প্রচণ্ড উত্তাপের জন্য অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে যে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয় তার প্রভাবে ওপরের ভাসমান শিলামণ্ডলের পাতগুলি বিভিন্ন দিকে চলাচল করে।
2 ভূত্বক সম্পর্কে আলোচনা করো।
গুরুমণ্ডলকে ঘিরে শামুকের খোলার মতো যে হালকা ও শক্ত শিলাস্তর রয়েছে, তাকেই ভূত্বক (crust) বলে | এই স্তরেই সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি হালকা পদার্থ বেশি পরিমাণে অবস্থিত; তাপ ও চাপের অসমতা এরূপ শক্ত বহিরাবরণ সৃষ্টি করেছে। উপাদান: ভূত্বক প্রধানত গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট-জাতীয় কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত। এবং ভূত্বকের গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিলার ঘনত্বও বৃদ্ধি পেতেথাকে।