Chapter-1.2⇒আলো

উঃ-স্বপ্নভ বস্তু : যেসব বস্তুর নিজস্ব আলো আছে, তাদের স্বপ্রভ বস্তু বলে। যেমন— সূর্য, নক্ষত্র, জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা ইত্যাদি।

অপ্রভ বস্তু : যেসব বস্তুর নিজস্ব আলো নেই, স্বপ্রভ বস্তুর দ্বারা আলোকিত হয়, তাদের নিস্প্রভ বা অপ্রভ বস্তু বলে। যেমন— চাঁদ গ্রহ, ইট, কাঠ প্রভৃতি।

উঃ-আলো সরলরেখায় চলে। তাই আলোর গতিপথে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে সেটির পিছনে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সৃষ্টি হয়। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে ছায়া বলে।

♦ বিস্তৃত আলোক উৎসের সামনে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়ার সৃষ্টি হয় তার মাঝখানের যে গাঢ় অন্ধকারময় অংশটি থেকে আলোক উৎসের কোনো অংশকেই দেখা যায় না, তাকে প্রচ্ছায়া বলে।

♦ প্রচ্ছায়ার চারপাশে অপেক্ষাকৃত কম অন্ধকারাচ্ছন্ন যে অংশটিতে উৎসকে আংশিক দেখা যায়, তাকে উপচ্ছায়া বলে।

উঃ-ক্যামেরায় বস্তুর প্রতিকৃতি উলটো হবার কারণ— আলোকের সরলরেখায় গমন। বস্তুর উপরের অংশ থেকে নির্গত আলোকরশ্মি সূচিছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় যায় এবং ঘষা কাচের নীচের অংশে পড়ে। আবার বস্তুর নীচের অংশ থেকে নির্গত আলোকরশ্মি সূচিছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় গিয়ে ঘষা কাচের উপরের অংশে পড়ে। তাই বস্তুর উলটো প্রতিকৃতি দেখা যায়।

উঃ-প্রতিফলনের সূত্র দুটি হল—

(i) আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।

(ii) আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান সর্বদা সমান হয়। দ্বিতীয় সূত্রটি গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমির দ্বারা আবিষ্কৃত হওয়ায় একে টলেমির সূত্রও বলা হয়।

উঃ-প্রতিফলন দ্বারা আমরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পেতে পারি—

(1) সমতল দর্পণ বা যে-কোনো মসৃণ প্রতিফলকে আলোর প্রতিফলন ঘটার ফলে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ, ক্যালাইডোস্কোপ ইত্যাদি যন্ত্রগুলিকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।

(2) সমতল দর্পণে নিয়মিত প্রতিফলনের দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠিত হওয়ায় আমরা আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

(3) যে-কোনো অমসৃণ ও অস্বচ্ছ বস্তু থেকে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটায় সেগুলি আমরা দেখতে পাই।

উঃ-কোনো বিন্দু উৎস থেকে আসা আলোকরশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যদি অন্য কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা অন্য কোনো বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়, তবে দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দু উৎসের প্রতিবিম্ব বলে।

♦এটি দু-প্রকার, যথা— সদ্‌বিম্ব ও অসবিম্ব।

উঃ-পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপর দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর আছে। এই ওজোন গ্যাসের স্তর অতিবেগুনি রশ্মিকে (সূর্য থেকে আসা) শোষণ করে ও পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয়। কিন্তু বিভিন্ন  শিল্পে (যেমন—রেফ্রিজারেটর, এসি মেশিন, ওষুধ তৈরি, পলিমার প্রভৃতি) ব্যবহৃত CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাস বাতাসে মিশে ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। ফলে, ওজোন স্তরে ছিদ্র সৃষ্টি হয়। একেই ওজোন হোল বা ওজোন স্তরের ক্ষয় বলে।

♦ ওজোন স্তর ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে পৃথিবীতে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

উঃ-দৃশ্যমান আলোর থেকে প্রায় হাজারগুণ ছোটো তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একরকমের আলোকরশ্মি আছে, যার অদৃশ্য বিকিরণ আছে, ভেদন ক্ষমতাও অনেক বেশি, (আলোর সমধর্মী হলেও), তাকে এক্স-রশ্মি বলে।

♦এক্স-রশ্মি দেহের চামড়া, মাংস ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় ভেদ করতে পারে না। তাই হাড়ের কোন্ জায়গাটি ভেঙেছে তার ছবি আমরা পাই। এক্স-রশ্মি জীবন্ত কোশকে ধ্বংস করতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে ক্যানসার হবার সম্ভাবনা থাকে।

উঃ-“আলো একপ্রকার শক্তি” — এই নক্সাব্যর সমর্থন যুক্তিগুলি নিম্নরূপ—

(i) অন্যান্য শক্তির মতো আলোও অদৃশ্য, ভরহীন, আয়তনহীন কিন্তু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।

(ii) অন্যান্য শক্তিকে আলোতে এবং আলোকে অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, যেমন— বৈদ্যুতিক বাতিতে তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রুপান্তরিত হয়। আবার, সৌরকোশে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে পরিবর্তিত হয়। হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন গ্যাস মিশিয়ে আলোর মধ্যে রাখলে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

উঃ-জানালার ছোটো ফুটো দিয়ে সূর্যের আলো অন্ধকার ঘরের মধ্যে ঢুকলে ঘরের বাতাসে ভাসতে থাকা ধুলোর কণাগুলি আলোকিত হয়ে আলোর গতিপথ আমাদের দেখিয়ে দেয়। আমরা লক্ষ করে বুঝতে পারি, আলো সরলরেখায় চলে।

উঃ-ছায়া গঠনের মূল উপাদানগুলি হল তিনটি 1) আলোক উৎস, 2) অস্বচ্ছ বস্তু (প্রতিবন্ধক), 3) পর্দা।

উঃ-কোনো সমসত্ত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে আলোকরশ্মি অন্য কোনো মাধ্যমে আপতিত হলে, ওই আলোকরশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। একে আলোর প্রতিফলন বলে ।

উঃ-আলোকরশ্মি সমসত্ত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে দ্বিতীয় কোনো মাধ্যমে আপতিত হলে দুটি মাধ্যমের যে তল থেকে আলোর কিছু অংশ পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, সেই তলকে প্রতিফলক বলে।

 

উঃ-নিয়মিত প্রতিফলন হয়— চকচকে স্টিলের থালা, পুকুরের স্থির জল ইত্যাদি থেকে।

বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়— সিনেমার পর্দা, ঘষা কাচ ইত্যাদি থেকে।

উঃ-পর্দা অমসৃণ হলে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। ফলে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সিনেমা হলের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি দর্শকের চোখে পৌঁছোয়। তাই দর্শক হলের যে-কোনো জায়গা থেকেই ছবি সমান উজ্জ্বল দেখে।

সাদা পর্দা আলোর সমস্ত অংশই প্রতিফলিত করে, কোনো অংশই শোষণ করে না। ফলে ছবির রঙেরও কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তাই পর্দার ওপর ছবিটি খুবই উজ্জ্বল দেখায়।

 

উঃ-আলো লঘু থেকে ঘন বা ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে যাবার সময় প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

উঃ-যে বর্ণালিতে প্রত্যেকটি বর্ণ আলাদা আলাদাভাবে স্পষ্ট দেখা যায় এবং এক বর্ণের আলো অন্য বর্ণের আলোর ওপর পড়ে না, তাকে বিশুদ্ধ বা শুদ্ধ বর্ণালি বলে।

উদাহরণ : আলোকীয় গ্রেটিং, কম্প্যাক্ট ডিস্ক দ্বারা গঠিত বর্ণালি।

যে বর্ণালিতে আলোর বর্ণগুলির একটির ওপর আর-একটি এসে পড়ে এবং বর্ণালির সাতটি রং পরিষ্কারভাবে দেখা যায় না, তাকে অশুদ্ধ বর্ণালি বলে।

উদাহরণ : রংধনু, প্রিজ্জ্ম দ্বারা গঠিত বর্ণালি।

 

উঃ-সূর্য বিস্তৃত আলোকপ্রভব এবং পাখি বা এরোপ্লেন তার থেকে অনেক ছোটো অস্বচ্ছ বস্তু মাটির সূর্য থেকে আসা আলো এরোপ্লেন বা পাখির শরীরে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ফলে ছায়া গঠিত হয়, মাটি এই প্রক্রিয়ায় পর্দার ভূমিকা পালন করে। পাখি বা এরোপ্লেন আকৃতিতে বড়ো হলেও সূর্য অনেকদূরে থাকার জন্য গঠিত প্রচ্ছায়ার আকার ছোটো হয়। মাটি থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থান করলে এই প্রচ্ছায়া শঙ্কু মাটিতে পৌঁছোনোর বহু আগেই বিন্দুতে মিলিত হয়ে বিপরীত অপসারী শঙ্কু সৃষ্টি হয় এবং তা ভূপৃষ্ঠেও পড়ে। এক্ষেত্রে গঠিত উপচ্ছায়া ভূপৃষ্ঠে এসে পড়লেও এই অঞ্চলে অন্ধকারের গাঢ়ত্ব কমে যায়। তাই মাটিতে পাখি বা এরোপ্লেনের ছায়া পড়ে না।