Chapter-1.3⇒চুম্বক

উঃ-যে ধর্মের জন্য চুম্বক চৌম্বক পদার্থকে আকর্ষণ করে, তাকে চুম্বকত্ব বলে। চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌতধর্ম।

উঃ-চুম্বকের দু-প্রান্তের যে দুই অঞ্চলে চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, সেই দুই অঞ্চলকেই চুম্বক মেরু বলা হয়।

উঃ-চুম্বকের ঠিক মাঝখানে যে অঞ্চলে চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা প্রায় একেবারেই থাকে না, সেই স্থানটিকে চুম্বকের উদাসীন অঞ্চল বলা হয়।

 

উঃ-চুম্বকের মেরু দুটির মাঝের সরলরৈখিক দূরত্বকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বা চৌম্বক দূরত্ব বলে। এই দৈর্ঘ্য চুম্বকের জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য থেকে কিছুটা কম হয়।

চৌম্বক দৈর্ঘ্য = চুম্বকটির জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য × 0.86

উঃ-চুম্বকের মেরুদুটিকে একটি সরলরেখা দ্বারা যোগ করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

 

উঃ-আবেশের ফলে চৌম্বক পদার্থে উৎপন্ন অস্থায়ী চৌম্বক ধর্মকে বলে আবিষ্ট চুম্বকত্ব

♦ চৌম্বক আবেশের ফলে উৎপন্ন আবিষ্ট চুম্বকের অস্থায়ী মেরু দুটিকে বলে আবিষ্ট মেরু

উঃ-আবিষ্ট চুম্বকত্বের পরিমাণ নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ওপর নির্ভর করে :

(1) আবেশকারী চুম্বকের মেরুশক্তির ওপর।

(2) আবেশকারী চুম্বক থেকে চৌম্বক পদার্থের দূরত্বের ওপর।

(3) চৌম্বক পদার্থের প্রকৃতির ওপর।

(4) আবেশকারী চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যবর্তী মাধ্যমের ওপর।

 

উঃ-বিভিন্ন কারণে একটি চুম্বাকর চুম্বকত্ব সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে নষ্ট হতে পারে। যেমন— 1) চুম্বককে বারবার আঘাত করলে বা আছাড় দিলে চুম্বকত্ব নষ্ট হয়।

2) চুম্বককে উত্তপ্ত করলে তার চুম্বকত্ব নষ্ট হয়।

3) চুম্বককে বারবার চুম্বকন-বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, ফলে, চুম্বকত্ব নষ্ট হয়।

4) একটি চুম্বককে অনেকদিন মাটিতে পুঁতে রাখলে ভূচুম্বক আবেশের দরুন তার চুম্বকত্ব নষ্ট হয়।

5) চুম্বকের দুই মেরু একে অপরের বিপরীত মেরু আবিষ্ট করতে চেষ্টা করে। ফলে, চুম্বকটির চুম্বকত্ব কমতে থাকে।

উঃ-একটি কাঁচা লোহার তৈরি বলয়ের গায়ে তামার তার জড়িয়ে ওই তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ পাঠালে দেখা যায়। ওই বলয়টি লোহার টুকরোকে আকর্ষণ করছে। অর্থাৎ, বলয়টি চুম্বকে পরিণত হয়েছে। এরকম চুম্বকের কোনো মেরু থাকে না একে মেরুৰিহীন চুম্বক বলে। বলয়টির যে-কোনো একটি জায়গা কেটে দিলে খোলা দুটি প্রান্তে তড়িৎপ্রবাহের দিক অনুসারে উত্তর ও দক্ষিণমেরুর সৃষ্টি হয়।

উঃ-তড়িৎচুম্বকের মূলত দুটি অংশ। যথা— (i) সলিনয়েড, (ii) মজ্জা।

(i) সলিনয়েড : অন্তরিত তামার তার দ্বারা নির্মিত তড়িৎবাহী তারের কুণ্ডলীকে সলিনয়েড বলা হয়।

(ii) মজ্জা : সলিনয়েডের অভ্যন্তরে রাখা উচ্চরৈখিক ভেদ্যতা সম্পন্ন পদার্থটিকে তড়িৎচুম্বকের মজ্জা বলে অভিহিত করা হয়।