Chapter-10, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশের সংকট ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ

উঃ-বনের গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস টেনে নেয় এবং পরিবর্তে অক্সিজেন গ্যাস ছাড়ে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষিত হয় | এককথায় বায়ুমণ্ডলের বায়ু শোধিত হয়| বিশ্ব উন্নায়নের মতো জটিল সমস্যার মাত্রা কমে।

উঃ-বনের গাছপালা বৃষ্টির সময় জলের ফোঁটাকে সরাসরি মাটিতে পড়তে দেয় না। ফলে জলের ফোঁটার আঘাতে মাটির উপরিভাগে ক্ষয় হ্রাস পায় | তাছাড়া গাছের মূল বা শিকড় মাটির কণাকে শক্তভাবে ধরে রাখে ফলে মাটি আলগা হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৃষ্টির জল বা বরফ গলা জল গাছের মূল বা শিকড়ে বাধা পেতে পেতে নিচের দিকে প্রভাবিত হয় | ফলে জলের গতিবেগ অনেক কমে যায় । এইভাবে বন মাটির ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করে।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিকে জোয়ারভাটা প্লাবিত অঞ্চলে শ্বাসমূলযুক্ত যে বিশেষ উদ্ভিদ সমষ্টি লক্ষ্য করা যায়, তাদের দ্বারা সৃষ্ট বনকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বা বাদাবন বলে।

উঃ-ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের নীচের অংশ জোয়ারের সময় দিনে দু-বার লবণাক্ত জলে ডুবে যায়। সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ত, জলমগ্ন মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণও কম থাকে | ফলে ওই অঞ্চলের উদ্ভিদের (যেমন—সুন্দরী, কেওড়া, গরান) পক্ষে শ্বাসকার্য চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এইসব উদ্ভিদের থেকে মাটির ওপরে মুলোর মতো অসংখ্য মূল বেরোয় | এইসব বায়বমূলকে শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর বলে।

উঃ-ম্যানগ্রোভজাতীয় উদ্ভিদে প্রধানমূল ছাড়াও কাণ্ডের নীচের দিক থেকে অস্থানিক উৎপন্ন হয়ে নরম মাটিতে ঢুকে যায়, যা গাছকে খাড়াভাবে মূল দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে জোয়ারভাটার স্রোতের টানে গাছ যাতে উপড়ে না যায়, তার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এই মূলকে ঠেসমূল বলে | কেয়া, গর্জন গাছে এইজাতীয় মূল দেখা যায়।

উঃ-ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের অনবরত লবণজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল সরাসরি খাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। 1000 গ্রাম সমুদ্রের জলে প্রায় 33-38 গ্রাম লবণ থাকে। যা স্থলভাগের উদ্ভিদরা সহ্য করতে পারে না। অতিরিক্ত লবণ উদ্ভিদের দেহকলায় বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদরা আংশিকভাবে মূল বা পাতার লবণগ্রন্থির সাহায্যে লবণ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ছাড়া পত্রমোচনের দ্বারাও তারা লবণ ত্যাগ করে।

উঃ-বনের ওপর মানুষ বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। 1) বন থেকে ফল, ফুল, মধু প্রভৃতি পাওয়া যায় | এগুলি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 2) বন, বায়ুশোধনের মাধ্যমে পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখে। 3) বন থেকে কাঠশিল্পের বিভিন্ন উপাদান ও জ্বালানি কাঠ পাওয়া যায়। 4) বন থেকে রবার, আঠা, রজন, ধুনা, তার্পিন প্রভৃতি শিল্পের কাঁচামাল পাওয়া যায়।5) বন বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। 6) বনের সৌন্দর্য মানুষের চিত্ত বিনোদন করে।

উঃ-বনে যেসব উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়, তাদের নিম্নলিখিতভাবে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়

1) বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ: অর্জুন, অশ্বত্থ, আম, আমলকী, কদম, আকাশমনি, কাঠবাদাম, কাঁঠাল, গামারি, গুলমোহর, নিম, ছাতিম, জারুল, জিওল, জাম, তেঁতুল, তাল, দেবদারু, পেয়ারা, পলাশ, বট, বাঁশ, বুয়রা, বাবলা, বেল, মহুয়া, মহানিস, মেহগনি, যজ্ঞডুমুর, লিচু, শাল, শিমুল, শিরীষ, শিশু, সজনে, হরিতকী, নারকেল ইত্যাদি |

2) গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ: অড়হর, আকন্দ, আতা, কুল, কাঁঠালিচাঁপা, জবা, ধুতুরা, পাতিলেবু, বৈঁচি, শিয়াকুল ইত্যাদি |

3) বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদ: আমরুল, কালকাসুন্দা, কেশুত, কুদালিয়া, কানশিরে, ছোটো ঝাঁঝি, দূর্বাঘাস, নীল শালুক, পুগর্নবা, পানিফল, পানিমরিচ, পদ্ম, বনতুলসী, বেথোশাক, বনতামাক, বনচাড়াল, বেড়েলা, বনপালং, বাঘনখ, মুথাঘাস, মুক্তাঝুরি, শালুক, শেয়ালকাঁটা।

4) লতাজাতীয় উদ্ভিদ: কুঁচ, খামআলু, গাঁদাল পাতা, তেলাকুঁচ, বনচিচিঙ্গা, মাকাল ইত্যাদি।

উঃ-চিরসবুজ গাছের বনে যে সকল উদ্ভিদ জন্মায়, সেগুলি হল—জাম, বট, মেহগনি, রোজউড, আম, ডুমুর ইত্যাদি।

♦ চিরসবুজ গাছের বনে যে সকল প্রাণী থাকে বা থাকতে পারে সেগুলি হল— বাঘ, হরিণ, ময়ূর, চিতা, শ্লথ, বানর, লেমুর, জাগুয়ার, বাদুড়, বিভিন্ন ধরনের পাখি ইত্যাদি।

উঃ-কাঁটাওয়ালা ঝোপঝাড়-এ যে সকল উদ্ভিদ থাকে বা থাকতে পারে, সেগুলি হল—বাবুল, ক্যাকটাস, ফণীমনসা ইত্যাদি।

♦ কাঁটাওয়ালা ঝোপঝাড়-এ যে সকল প্রাণী থাকে বা থাকতে পারে, সেগুলি হল–ব্ল্যাকবাক বা কৃষ্ণসার হরিণ, চিংকারা, শেয়াল, অ্যান্টিলোপ, হায়না ইত্যাদি।

উঃ-বৃক্ষজাতীয় গাছে বনে গেলে দেখা যায় যে, সব গাছের বৃদ্ধি একরকম নয় বা সব গাছের দৈর্ঘ্যও সমান নয় | ফলে বনের মধ্যে নানা স্তর লক্ষ করা যায়। বনের বিভিন্ন স্তরকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়— 1) প্রথম স্তর বা ছাদ: এটি বনের একেবারে ওপরের স্তর। একে ক্যানোপি বা ছাদ বলে। বড়ো গাছের ছড়াগুলি এক হয়ে এই ছাদ গঠন করে। যা সূর্যালোককে বনের মধ্যে সহজে ঢুকতে দেয় না। বর্ষাবনে এই স্তরটি ভূমি থেকে প্রায় 30 মিটার উঁচুতে তৈরি হয়। আবার কখনো কখনো 90 মিটার উচ্চতায় পৌঁছোয় | সূর্যালোক এই স্তরের ওপরে সরাসরি পড়ে বলে এই স্তরের উদ্ভিদের সবচেয়ে বেশি খাদ্য তৈরি করে।

2) দ্বিতীয় স্তর বা ছাদের নীচের স্তর: এই স্তরটি ছাদের ঠিক নীচে অবস্থিত। এই স্তরে গাছগুলি লম্বা হয়ে ক্রমশ ক্যানোপি স্পর্শ করার চেষ্টা করে। ফলে গাছগুলি লম্বায় অপেক্ষকৃত ছোটো হয়। এই স্তরে বাতাসের বেগ ও আলো তুলনামূলকভাবে কম। এই স্তরে নরম কাণ্ডের বৃক্ষ এবং কম উচ্চতার বৃক্ষ, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বেশি দেখা যায়। বেশি বয়স্ক গাছ বা চারাগাছের গুল্ম এই স্তরে বেশি থাকে।

3) তৃতীয় স্তর বা মাঝের স্তর: বনের এই স্তরে পরিণত গুল্ম, বিভিন্ন ধরনের ঝোপঝাড় এবং নতুন জন্মানো গাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায় | বনে বসবাসকারী ছোটো ছোটো প্রাণীদের খাদ্য, বাসস্থান ও আত্মরক্ষার জন্য এই স্তর খুবই প্রয়োজনীয়।

4) চতুর্থ স্তর বা বনের মেঝের ওপরের স্তর: বনের মেঝের ঠিক ওপরের স্তরে বিভিন্ন ধরনের বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, ছোটো ছোটো চারাগাছ, ফার্ন, ঘাস ও আগাছা লক্ষ করা যায়। এই স্তরের উদ্ভিদরা বনের মেঝেকে প্রায় ঢেকে রাখে। এই স্তরে পোকামাকড়, ইঁদুর, সাপ, ব্যাং প্রভৃতি থাকে। হরিণরা তাদের বাচ্চাদের আর শিকারি প্রাণীরা শিকার ধরার জন্য নিজেদের এই স্তরে লুকিয়ে রাখে। এই স্তরে সবসময়ই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে চলে।

5) পঞ্চম স্তর বা বনের মেঝে: এটি বনের গঠনের শেষস্তর। এই স্তরে ঝরে পড়া পাতা, ফুল, পচা ফল, গাছের ছোটো ডাল, প্রাণীর মল, পচাগলা বা মরে যাওয়া জীবের দেহাবশেষ লক্ষ করা যায়। এই সবপদাৰ্থ হিউমাস ৰা বোদ মাটি গঠন করে। এই ধরনের পদার্থ থেকে বনের গাছের বৃদ্ধি সহায়ক নানা খনিজ মৌল, অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই স্তরে কেঁচো, কাঁকড়াবিছে, তেঁতুলবিছে, শামুকসহ বিভিন্ন প্রকার অণুজীব এখানে বসবাস করে।

উঃ-বর্ষাবন থেকেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ অক্সিজেনের উৎপত্তি ঘটে। বাতাসে যে জলীয় বাষ্প মুক্ত করে তাই আবার বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসে | আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে বর্ষাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্ষাবন হল স্পঞ্জের মতো। জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়তে থাকে। ফলে নদীতে জলপ্রবাহ কখনোই এমন হয় না যাতে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এইভাবে বর্ষাবন আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

উঃ-বনে বিভিন্ন কারণে আগুন লাগে। এখানে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হল— (1)অগ্ন্যুৎপাতের সময় বনের গাছের শুকনো ডালপালা জলন্ত লাভার সংস্পর্শে এলে বনে আগুন লাগে। (2) বনের মধ্যে বজ্রপাত হলেও অনেকসময় বনে আগুন লাগে। (3) ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহ তীব্র হলে, দুলতে থাকা বাঁশগাছে ঘষা লেগেও অগ্নিসংযোগ ঘটে। (4) গড়িয়ে পড়া পাথরের ঘর্ষণেও অনেকসময় আগুন সৃষ্টি হয়। ওই আগুন শুকনো ডালপালা বা বনের নীচে পড়ে থাকা শুকনো পাতা, ডাল ইত্যাদি সংস্পর্শে এলে বনে আগুন লাগে। (5) অনেকসময় বনের মধ্যে মানুষের বিভিন্ন ধরনের কাজ যেমন– ধূমপান, রান্না করা ইত্যাদির ফলেও আগুন লাগে।

উঃ-বন ধ্বংস করা হলে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয় সেগুলি হল—

(1) মরুভূমি সৃষ্টি: বন ধ্বংস করা হলে মাটির যে কণাগুলি গাছের মূল আঁকড়ে ধরে থাকে তারা আলাদা হয়ে যায়। তারপর জল শুকিয়ে গেলে মাটি ঝুরঝুরে হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় খুব সহজে মাটির কণা জলের সঙ্গে ধুয়ে চলে যায়। আর নীচের পাথরগুলি বেরিয়ে যায়| এইভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সেখানে আর উদ্ভিদ জন্মায় না। বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললে সেখানে ধীরে ধীরে মরুভূমির উদ্ভব ঘটে।

(2) জলের স্তর কমে: বন ধ্বংস হলে বৃষ্টির সময় জল মাটির গভীরে প্রবেশ না করে গড়িয়ে যায়। ফলে মাটির ভিতর জলের স্তর কমতে থাকে।

(3) তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বন ধ্বংস হলে বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গাছপালার দ্বারা শোষিত না হয়ে, পরিবেশে এর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। ফলে পরিবেশ গরম হয়ে যায় এবং বিশ্ব উন্নায়নের (global warm- ing) সম্ভাবনা বাড়ে।

(4) জলচক্র ব্যাহত হয়: বন ধ্বংস হওয়ার ফলে জলচক্র (জল মেঘ → বৃষ্টি → জল) ব্যাহত হয় | ফলে অনাবৃষ্টি (খরা) এবং অতিবৃষ্টির → (বন্যা) সম্ভাবনা দেখা দেয়।

(5) জীববৈচিত্র্য হ্রাস: বন কেটে ফেললে বহু বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান হারায়। ফলে তাদের প্রজনন ক্রিয়া ব্যাহত হয়। নতুন প্রাণী জন্মাতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে প্রজাতির বিলুপ্তি সম্ভাবনা বাড়ে এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।

উঃ-বাদাবনের কয়েকটি উদ্ভিদ হল— বাইন, পশুর, কেওড়া, গরান ইত্যাদি |

♦ এইসব উদ্ভিদের নীচের অংশ জোয়ারের সময় দিনে দু-বার জলে ঢেকে যায়। মাটির সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো কাদায় ঢাকা পড়ায় গাছগুলির মূলের পক্ষে শ্বাসকার্য চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই কারণে এইসব উদ্ভিদের মূল থেকে মাটির ওপরে মুলোর মতো অসংখ্য শ্বাসমূল সৃষ্টি হয়।

উঃ-যে পদ্ধতিতে সবুজ উদ্ভিদ তার ক্লোরোফিলযুক্ত কোশে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পরিবেশ থেকে গৃহীত জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাধ্যমে খাবার তৈরি করে, তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে।

উঃ-সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী কিছু জীব নিজেদের দেহে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আলো উৎপন্ন করে। ওই আলোর কোনো উত্তাপ থাকে না, ওই আলোকে বায়োলুমিনিসেন্স বলে।

উঃ-কেল্প এক ধরনের সামুদ্রিক শ্যাওলা। এরা সমুদ্রের অগভীর অংশে জন্মায় এবং সেখানে বৃদ্ধি পেয়ে একটা অরণ্য তৈরি করে ফেলে। এদের অধিকাংশ প্রজাতির দেহ চ্যাপটা পাতার মতো হয়। এরা জলের নীচে কোনো কিছুর সঙ্গে মূলের মতো একটা অংশের দ্বারা আটকে থাকে এরা দ্রুত বেড়ে ওঠে।

উঃ-জুপ্ল্যাংকটন হল আণুবিক্ষণিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী। তবে সব জুপ্ল্যাংকট আণুবিক্ষণিক | এরা শত্রুর চোখ এড়াতে বা সহজে খাবার সংগ্রহের উদ্দেশে সমুদ্রের ওপরের তলে ভেসে বেড়ায়।

উদাহরণ: ডাফনিয়া, ক্রাস্টেশিয়ান লাভা।

উঃ-গভীর সমুদ্রে বসবসকারী, ক্যালশিয়াম নির্মিত অন্তঃকঙ্কালযুক্ত এক ধরনের জলজ প্রাণী হল কাটল ফিশ।

♦ কাটল ফিশের দেহ পঁচে গেলে সেখানে থেকে ক্যালশিয়াম-ঘটিত এক বিশেষ প্রকার জিনিস পাওয়া যায়, যা সমুদ্র ফেনা নামে পরিচিত। কাটল ফিশের অন্তঃকঙ্কাল গয়না শিল্পে ও টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-হাঙরের চামড়ায় ছোটো ছোটো আঁশ থাকে | আঁশগুলি পিছনের দিকে ঢালু। হাঙরের মুখ থেকে ল্যাজের দিকে হাত বোলালে নরম লাগে। কিন্তু ল্যাজের থেকে মুখের দিকে হাত বোলালে শিরীষ কাগজের মত খসখসে লাগে।

উঃ-হ্যামার হেডেড শার্ক দেখতে খুবই ভয়ংকর প্রকৃতির হয়। এদের মাথাটা একটা বড়ো হাতুড়ির মতো দেখতে | ওই মাথার দু-প্রান্তে দুটো চোখ থাকে। এই হাঙর মানুষখেকোও হতে পারে।

উঃ-জুপ্ল্যাংকটনের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1)এরা সাধারণত আণুবীক্ষণিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী | (2) এদের সকল প্রজাতিই পরভোজী। (3) এরা সমুদ্রের জলের উপরিতলে শত্রুর চোখ এড়াতে বা সহজে খাবার সংগ্রহের জন্য ভেসে বেড়ায় | তবে কোনো কোনো জুপ্ল্যাংকটন সাঁতার কাটতেও পারে।

উঃ-সাগরকুসুম একটি সামুদ্রিক প্রাণী।

এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—(1) এরা অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং এদের দেহটি ফাঁপা। (2) দেহটি নরম বৃত্তের মতো, যার ওপরে ফুলের পাপড়ির মতো উপাঙ্গ থাকে | এগুলিকে কর্ষিকা বলে। এগুলি সামনে পিছনে আন্দোলিত হয়। (3) পাপড়ির মতো উপাঙ্গগুলির ঠিক মাঝখানে মুখ থাকে। (4) কর্ষিকাগুলিতে অসংখ্য দংশক কোশ থাকে। ওই দংশক কোশগুলি ছোটো মাছ ও অন্যান্য প্রাণী শিকারে সাহায্য করে।

উঃ-অক্টোপাস হল একপ্রকার সামুদ্রিক প্রাণী |

এদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল— (1) অক্টোপাসের দেহে আটটি করে বাহু থাকে। এইজন্য এর এমন নাম হয়েছে | বাহুগুলি লম্বা লম্বা শুঁড়ের মতো—ওপরের দিকটা মোটা আর নীচের দিকটা ক্রমশ সরু। বাহুগুলিতে অনেকগুলি করে শোষক যন্ত্র থাকে। অক্টোপাসের বাহুগুলির কেন্দ্রে থাকে এর মুখ। (2) এদের শরীর গোলাকার, দেহের বাইরে কোনো খোলক নেই | (3) অক্টোপাসের দেহে দুটি বড়ো বড়ো চোখ থাকে | (4) অক্টোপাসেরা নিরীহ ও ভীরু প্রাণী | শত্রুর আক্রমণ ঘটলে এরা নিজের দেহ থেকে একপ্রকার কালি ছিটিয়ে জল ঘোলা করে পালিয়ে যায়।

উঃ-বর্ষাকালে বৃষ্টির জলের সঙ্গে কীটনাশক, রাসায়নিক সার এবং অন্যান্য সময়ে জৈব বর্জ্যযুক্ত ময়লা জল নদীর মাধ্যমে সবশেষে সমুদ্রে এসে পড়ে। ওই জলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকায় সমুদ্রের জলে ফাইটোপ্ল্যাংকটনের সংখ্যা ভীষণভাবে যায়। একে অ্যালগাল ব্লুম বলে। ফাইটোপ্ল্যাংকটনদের মধ্যে ডিনোফ্ল্যাজেলেটরা একধরনের অধিবিষ সমুদ্রের জলে ত্যাগ করে, যার বিষক্রিয়ায় বহু সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। ডিনোফ্ল্যাজেলেটরা সংখ্যায় বেড়ে গেলে জলের রং লাল হয়ে যায়। এ ছাড়া অ্যালগাল ব্লুম, সূর্যের আলো সমুদ্রের জলের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না। ফলে জলের স্বচ্ছতা কমে যায়, জলের ভিতরে থাকা অন্যান্য উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ক্রিয়া ব্যাহত হয়। এই বিপুল পরিমাণ শ্যাওলাজাতীয় জীবরা শ্বাসকার্য চালানোর ফলে জলে দ্রবীভূত O2 কমে যায় | এর ফলে জলের মধ্যে থাকা প্রাণীরা উপযুক্ত পরিমাণ অক্সিজেনও পায় না। তাই ওইসব প্রাণীদের জীবনহানি ঘটে।

উঃ-ডিনোফ্ল্যাজেলেটরা সংখ্যায় বেড়ে গিয়ে অ্যালগাল ব্লুম সৃষ্টি করলে, এদের দেহ থেকে বেরোনো এক প্রকার অধিবিষ বা টক্সিন জাতীয় পদার্থের কারণে অন্যান্য সামুদ্রিক জীবদের মৃত্যু ঘটতে পারে। এ ছাড়া অ্যালগাল ব্লুম সৃষ্টি হলে সূর্যের আলো জলের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সালোকসংশ্লেষ বাধা পায়। অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ শ্যাওলারা শ্বাসকার্য চালানোর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। সামুদ্রিক প্রাণীরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যায় |

উঃ-তৈলবাহী জাহাজে বা সমুদ্রের নীচের তৈলখনিতে দুর্ঘটনা ঘটলে খনিজ তেল সমুদ্রে মিশে যায় | সামুদ্রিক জীবদের পক্ষে তেল বিষের মতোই | কারণ অপরিশোধিত তেলে নানান ধরনের বিষাক্ত পদার্থ থাকে| সমুদ্রের জলের ওপরে ভাসতে থাকা তেলের স্তর জলে অক্সিজেন ঢুকতে বাধা দেয়। জলের জীবরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এ ছাড়া তেল সামুদ্রিক প্রাণীদের চামড়ায় ঘা এবং চোখ, মুখ ও নাকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। সমুদ্রের জলে তেল মিশলে সামুদ্রিক প্রাণীদের তাপ নিরোধক ও জল নিরোধক ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়। তারা সমুদ্রের ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে এলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও তেলে ভেজা পাখিরা ঠোঁট দিয়ে নিজেদের তেলে ভেজা পালকে বোলালে, ওই তেল তাদের শরীরের ভিতরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ অঙ্গেরও ক্ষতি করতে পারে।

উঃ-বাষ্পমোচন কমানোর জন্য মরুভূমির গাছের দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1) গাছের সারা শরীর কিউটিকল নামক আবরণে ঢাকা থাকে। 2) গাছের পাতাগুলোতে পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কম হয়।

উঃ-মরুভূমির প্রাণীদের তাপসহন ক্ষমতার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1) কিছু প্রাণীর ত্বক অপেক্ষাকৃত পুরু হয়। 2) কোনো কোনো প্রাণীর পা খুব লম্বা হয়। যাতে দ্রুত দৌড়োতে এবং অনেকটা উঁচু পর্যন্ত লাফাতে সুবিধা হয়। এতে তপ্ত বালির সরাসরি সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কমে। 3) তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে কোনো কোনো প্রাণী এস্টিভেশন বা গরম ঘুম অবস্থায় চলে যায়। এই সময় তাদের শ্বাসকার্য ও হৃদ্স্পন্দনের হার কমে যায়।

উঃ-মরুভূমিতে তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে কোনো কোনো প্রাণী গরম থেকে বাঁচার জন্য বালির নীচে গর্তে ঘুমিয়ে থাকে । এইসময় তাদের শ্বাসকার্য এবং হৃৎস্পন্দনের হার অনেক কমে যায়। একে এস্টিভেশন বা গরম ঘুম বলে।

উঃ-মরুভূমিতে যে বালির স্তর দেখা যায়, তার অনেক গভীরে থাকে শিলাস্তর। শিলাস্তরেই জল জমা হয় | মরুভূমিতে যে অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত ঘটে, তার বেশিরভাগ অংশই বালির নীচে গভীরে শিলাস্তরে চলে যায় | মরুভূমির কোনো কোনো অংশের শিলাস্তরে ফাটল ধরলে সেই জল বাইরে বেরিয়ে জলাশয় সৃষ্টি করে। আর সেই জলাশয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রজাতির জীব সেখানে জড়ো হয়। কিছু কিছু গাছপালা জন্মায়। আর প্রাণীরা বসবাস শুরু করে। এভাবে মরুভূমিতে মরূদ্যান সৃষ্টি হয়।

উঃ-যশুয়া গাছের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 1) এরা মরুভূমি অঞ্চলের গাছ।2) এরা 15 থেকে 40 ফুট লম্বা হয় | 3) এই গাছ প্রায় 200 বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। 4) এদের দেহে দুই ধরনের মূল সৃষ্টি হয়। একধরনের মূল জলের সন্ধানে মাটির অনেক গভীরে পৌঁছোয় | অন্য ধরনের মূল জল সঞ্চয় করে স্ফীত হয়ে কন্দের আকার ধারণ করে। 5) এই গাছের পাতাগুলি কাঁটার আকৃতি ধারণ করে। 6) এই গাছের ফুল হলদে-সবুজ রঙের ঘণ্টার মতো দেখতে | ফলগুলি সবুজ আর খয়েরি রং-এর হয়।

উঃ-সাগুয়ারো হল দৈত্যাকার ক্যাকটাসজাতীয় উদ্ভিদ |

এই উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য হল—1) এরা প্রায় 50 ফুট দীর্ঘ হয়। 2) এরা প্রায় 200 বছর বাঁচে। 3) এদের দেহে পাতার পরিবর্তে কাঁটা থাকে।4) এরা নিজের দেহে প্রায় 6 থেকে ৪ টন জল সঞ্চয় করতে পারে।5) রাতের দিকে এই গাছে হলদে রঙের ফুল ফোটে|  বাদুড় এবং পাখি এদের পরাগমিলন ঘটায় । 6) এই গাছের তরমুজের মত ফল থেকে জ্যাম তৈরি হয় | 7) মরু অভিযাত্রীরা তেষ্টা মেটানোর জন্য এই গাছের কাণ্ড কেটে জল বার করে খায়।

উঃ-যে সকল প্রাণীরা মরুভূমিতে থাকে, তারা বিভিন্ন উপায়ে তাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করে। এখানে কয়েকটি উপায় উল্লেখ করা হল।

(1) কোনো কোনো প্রাণী তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দিনেরবেলায় বাইরে বের হয় না। কেবলমাত্র সূর্যাস্তের পর অর্থাৎ রাতেরবেলায় খাদ্যের অনুসন্ধানে বের হয়। কোনো কোনো প্রাণী খুব ভোরে বা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য সক্রিয় হয়।

(2) কোনো কোনো প্রাণী গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গরমকালে শুষ্ক জায়গা থেকে উঁচু ঠান্ডা স্থানে চলে যায়। আবার শীতকাল শুরু হলেই আগের জায়গায় ফিরে আসে।

(3) উন্নতা খুব বেশি হলে কোনো কোনো প্রাণী গরম ঘুম বা এস্টিভেশন অবস্থায় চলে যায়। এইসময় তাদের শ্বাসক্রিয়া ও হৃৎস্পন্দনের হার কমে যায়।

(4) কোনো কোনো প্রাণীর চামড়া পুরু হয়, ফলে দেহ থেকে ঘাম হিসেবে জল বের হয়ে যায় না।

(5) কোনো কোনো প্রাণীর পা খুব লম্বা হয়, যাতে দৌড়াতে বা লাফাতে সুবিধা হয়। গরম বালির প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কমে।

উঃ-মরুভূমির জীবনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য উটের দৈহিক গঠনে, শারীর বৃত্তীয় ক্রিয়ায় ও আচরণে নানান ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। নীচে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল।

1) উটের পিঠে কুঁজ সৃষ্টি হয়েছে যার মধ্যে চর্বি সঞ্চিত থাকে | মরুভূমিতে খাদ্যের অভাব দেখা দিলে উট সঞ্চিত চর্বি থেকে শক্তি জোগাড় করে। দেখা গেছে উট প্রায় সাত দিন পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে পারে।

2) উটের হাঁটুর কাছে আর পেটের নীচে মোটা চামড়ার আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে। এটি উটকে বালিতে বসতে সাহায্য করে। বালিতে হাঁটার সুবিধার্থে উটের পা বেশ চওড়া আর পায়ের পাতা বেশ পুরু।

3) উটের ঠোঁট এবং জিভ খুব শক্ত পেশি দিয়ে তৈরি, যাতে এরা সহজে মরুভূমির কাঁটাজাতীয় ঝোপ খেতে পারে।

4) মরুঝড়ের সময় চারদিক বালিতে বালিতে অন্ধকার হয়ে আসে। ওই সময় উট তার নাকের ফুটো প্রয়োজনমতো বন্ধ করতে এবং খুলতে পারে। এর চোখের পাতাও স্বচ্ছ।

5) মরুভূমিতে জলের অভাব, প্রয়োজনমতো জলপানের সুযোগ নেই। তাই উট একসঙ্গে প্রায় পঁচিশ গ্যালনের মতো জল পান করতে পারে। এই জল দিয়েই বেশ কয়েকদিন কাটিয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া উটের শরীরে ঘর্মগ্রন্থি কম থাকায় দেহ থেকে সহজে জল বেরিয়ে যেতে পারে না। এদের মূত্র তাই ঘন হয়।

উঃ-যেসব প্রাণীদের দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, সেইসব প্রাণীরা শীতকালে ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য গর্তের মধ্যে ঢুকে থাকে। ওই সময় এরা চলাফেরা করে না। এদের হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসক্রিয়ার হারও কমে যায়। শীতকালে গর্তের মধ্যে নিশ্চল অবস্থায় থাকাকে ওইসব প্রাণীদের শীতঘুম বলে। সাপ, শামুক, ব্যাং প্রভৃতিদের শীতঘুম অবস্থা দেখা যায়।

উঃ-ম্যাপ বা কম্পাসের সাহায্য ছাড়াই নানা প্রাকৃতিক চিহ্ন (পর্বত, নদী, তটরেখা, উদ্ভিদ, বায়ুর গতিপ্রকৃতি ইত্যাদি) দেখে সুমেরুর বহু পাখি, বলগা হরিণ খাদ্যের সন্ধানে বা বাচ্চা দেওয়ার জন্য ঠান্ডা জায়গা ছেড়ে গরম জায়গায় পাড়ি দেয় | প্রাণীদের এক বাসস্থান ছেড়ে অন্য বাসস্থানে যাওয়াই হল পরিযান | আর্কটিক টার্নরা প্রায় 11,000 মাইল পাড়ি দিয়ে সুমেরু থেকে কুমেরুতে পৌঁছোয় |

উঃ-বরফের ওপর দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে, এমন এক ধরনের গাড়িই হল স্লেজ গাড়ি। একে বরফের ওপর দিয়ে মেরু কুকুর টেনে নিয়ে যায় |

♦ এস্কিমোরা এই গাড়ি চড়েই উত্তর মেরুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শিকারের খোঁজ করে।

উঃ-পেঙ্গুইনের তেল এর অর্থনৈতিক ব্যবহার হল— 1) এটি সাবান ও জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।2) এটি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় |

পেঙ্গুইনের পালকের অর্থনৈতিক ব্যবহার হল— 1) এটি জামাকাপড় ও টুপি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।2) এটি জুতো ও ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-ওজোন ছিদ্রের মাধ্যমে আগত অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে ক্যানসার, চোখে ছানি পড়া ও জলে বসবাসকারী নানা আণুবীক্ষণিক প্রাণীদের সংখ্যা কমার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে।

উঃ-মেরু অঞ্চলে বেঁচে থাকা বা বসবাস করার জন্য মেরু ভালুকের যে সব অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, সেগুলি হল— 1) সুমেরু অঞ্চল সাদা বরফে আবৃত থাকে। মেরু ভালুকদের গায়ের সাদা লোম বরফ ও তুষারের রং-এর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় সহজে এদের চলমান অবস্থায় চেনা যায় না। এর ফলে শিকারের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে সুবিধা হয়।

2) এদের দেহের বাইরের সাদা লোমের তন্তুগুলি স্বচ্ছ হওয়ায় দেহে সূর্যের আলো শোষণ করে তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে । ফলে এদের শরীর গরম থাকে | প্রবল ঠান্ডা আটকানোর জন্য এদের চামড়ার ওপর দুটির লোমের আস্তরণ থাকে। আর শরীরের একদম নীচের চামড়া কালো রং এর হওয়ায় সূর্যের তাপ যথাসম্ভব ধরে রাখা সম্ভব হয়।

3) এদের দেহের চামড়ার নীচে প্রায় 10 সেমি পুরু চর্বির স্তর থাকে। সেজন্য এরা খুব সহজেই জলে ভেসে থাকতে পারে।

4) এদের ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রবল | এরা প্রায় 32 কিমি দূর থেকেই সিলের গন্ধ শুঁকতে পারে । এ ছাড়া এদের চোখও জলের অনেক নীচের জিনিস দেখতে ও চিনতে সাহায্য করে।

5) মেরু ভালুকের পা বরফের জুতোর মতো। পায়ের তালুতে থাকা বিশেষ লোম বরফ ও তুষারের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় হড়কে যাওয়ার থেকে আটকায় | জলে সাঁতার কাটার জন্য মেরু ভালুকের সামনের পায়ের থাবাগুলি আংশিক জোড়া থাকে। বড়ো ও ভারী পা দিয়ে এরা সহজেই সাঁতার কাটে। তা ছাড়া মেরু ভালুকের কোনো প্রাকৃতিক শত্রু নেই |

এইসব কারণে মেরু ভালুকেরা সুমেরুতে বেঁচে থাকে।

উঃ-আর্কটিক মেরু অঞ্চলে যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তারা হল এস্কিমো। এক্সিমোদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টসাধ্য। এদের প্রধান খাদ্য হল উত্তর মহাসাগরের ঠান্ডা জলের সিল, স্যামন, কড়মাছ। এ ছাড়া এরা হাঁস, খরগোশ, মেরু শেয়াল, মেরু ভালুক এবং তিমি শিকার করে মাংস খায়।

এস্কিমোরা কুকুরে টানা স্লেজগাড়িতে চড়ে সুমেরুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শিকারের খোঁজে বেড়ান। এরা শিকার চিহ্নিত করতে কুকুরদের, ঘ্রাণশক্তিকে ব্যবহার করেন।

এস্কিমোরা মাত্র একঘণ্টার মধ্যে বরফ দিয়ে তাঁদের বিশ্রাম আবাস ‘বরফবাড়ি’ বা ‘ইগলু’ তৈরি করতে পারেন।

উঃ-রেড ডাটা বুক: IUCN দ্বারা প্রকাশিত যে বইতে পৃথিবীর বিলুপ্ত বা বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ বা প্রাণীদের সম্পর্কে তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে, সেই বইকে রেড ডাটা বুক বলা হয়। রেড ডাটা বুক-এ বিভিন্ন প্রজাতিকে নানা স্তরে বা ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

এই ভাগগুলি হল— 1) বিলুপ্ত, 2) বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত, 3) অতি সংকটাপন্নভাবে বিপন্ন, 4) বিপন্ন, 5) বিপদগ্রস্ত, 6) কম বিপদগ্রস্ত, 7) তথ্য অনুপস্থিত, 8) সমীক্ষা হয়নি ইত্যাদি।

উঃ-ভারতবর্ষের চারটি বিশেষ বিপন্ন প্রাণী হল —– রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লায়ন-টেইলড ম্যাকাক, এশিয়াটিক লায়ন এবং রেড পান্ডা।

উঃ-প্রাকৃতিক বাসস্থান বা পরিবেশের মধ্যে রেখে যখন জীবের সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে ইন সিটু (In Situ) সংরক্ষণ বলে।

♦ এটির বিভিন্ন প্রকারগুলি হল অভয়ারণ্য, ন্যাশালাল পার্ক, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ও ভূ-প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উঃ-যেসব প্রাণী কোনোভাবেই তার স্বাভাবিক বাসস্থানে বাঁচিয়ে রাখা যায় না, তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান থেকে দূরে অন্য কোনো স্থানে রেখে বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এধরনের সংরক্ষণকে এক্স সিটু (Ex Situ) সংরক্ষণ বলা হয়।

♦ চিড়িয়াখানা হল এক্স সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ।

উঃ-ভাগাড়ে বা অন্য কোথাও মরা পশুর দেহ পেলে শকুনরা ওই পশুর ওপর বসে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করত, শহরের যাবতীয় আবর্জনা স্তূপ থেকে মৃত প্রাণীর শব খেয়ে সাফাই করত। এই কারণে শকুনকে ‘সাফাই কর্মী’ বলা হয়।

উঃ-শুশুক নিজের নাসাগহবরে থাকা ডরসাল বার্সা নামক এক যন্ত্রের সাহায্যে একধরনের শব্দ সৃষ্টি করে| সেই শব্দ সামনে কোনো কিছুতে বাধা পেয়ে ফিরে এলে, শুশুক সেই প্রতিধ্বনি শুনে বুঝতে পারে কত দূরে কোন্ ধরনের জিনিস আছে। এই পদ্ধতিকে ইকোলোকেশন বলে। শুশুক ছাড়া চামচিকা, বাদুড় প্রভৃতি প্রাণীও এই পদ্ধতিতেই চলাফেরা করেও শিকার ধরে।

উঃ-গন্ডারের খড়গ কেরাটিন নামক একপ্রকার প্রোটিন দিয়ে তৈরি |

গন্ডারের খড়গের দুটি কাজ হল 1) খড়গের সাহায্যে গন্ডার মাটি খুড়ে গাছের মূল বের করে খায়। 2) প্রজনন ঋতুতে অন্য পুরুষ গন্ডারের সঙ্গে মারামারির সময়ও গন্ডার তার খড়গ ব্যবহার করে।

উঃ-একশৃঙ্গ গন্ডারের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার কারণগুলি হল— 1) জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বন কেটে বসতিস্থাপন, কৃষিভূমি সম্প্রসারণ এবং বনজ সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। 2) ‘গন্ডারের খড়গ-এর একটা উত্তেজক গুণ আছে' এমন ভ্রান্ত ধারণার জন্য গন্ডার চোরাশিকারীদের লোভের শিকার হয়। চোরাশিকারিদের নির্বিচারে গন্ডার হত্যা করার ফলে এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। 3) একদিকে গন্ডারের বংশবৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম, অন্যদিকে এদের নিধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।