Chapter-10 ➤ পরিবেশ ও আকাশ

উঃ-পৃথিবী সূর্যকে ও চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে যদি সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ওপর চাঁদের ছায়া পড়ে এবং সেই অংশে তখন সূর্যগ্রহণ হয়।

উঃ-সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর যে-অংশে চাঁদের ছায়া পড়ায় সূর্যকে একেবারেই দেখা যায় না, সেই অংশে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। পৃথিবীর এই অংশটি কিছুক্ষণের জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

উঃ-পৃথিবীর ওপর যেখানে চাঁদের প্রচ্ছায়া পড়ে, সেখান থেকে সূর্যকে আংশিক দেখা যায়। একে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।

উঃ-যে-সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যের ঠিক মাঝখানে এসে পড়ে এবং সূর্যকে অনেকটা জ্বলন্ত আংটির মতো মনে হয়, একে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে ।

উঃ-পৃথিবীর ও চাঁদের কক্ষতল এক নয়। তাই প্রত্যেক অমাবস্যায় সূর্য, চাঁদ, পৃথিবী এক সরলরেখায় আসে না, তাই সব অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণও হয় না।

উঃ-খালিচোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে সূর্য থেকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি চোখে এসে পড়বে, এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই সূর্যগ্রহণ দেখতে এক বিশেষ ধরনের চশমা বা এক্স-রে প্লেট ব্যবহার করা হয়।

উঃ-উপাদান : একটি ফুটবল, একটি টেনিস বল, একটি টর্চ ও একটি ছোটো বাটি।

পদ্ধতি : একটি বড়ো টেবিলের মাঝখানে বাটি রেখে তার ওপর ফুটবলটি বসানো হল। আর-এক দিকে টর্চ রাখতে হবে। টেনিস বলটি সুতো দিয়ে বেঁধে নেওয়া হল। একবার ফুটবলের সামনে এবং একবার ফুটবলের পিছনে রাখা হল।

পর্যবেক্ষণ : টেনিস বলটি টর্চ আর ফুটবলের মাঝে থাকলে ফুটবলের একটি অংশে টেনিস বলের ছায়া পড়বে।

সিদ্ধান্ত : টর্চকে সূর্য, ফুটবলকে পৃথিবী আর টেনিস বলকে চাঁদ ধরে, যখন টেনিস বলের ছায়া পৃথিবীতে পড়ে তখন সূর্যগ্রহণ হয়।

উঃ-পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে এলে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ায়, পৃথিবী থেকে কিছুক্ষণের জন্য চাঁদকে দেখা যায় না, একে চন্দ্রগ্রহণ বলে।

চন্দ্রগ্রহণ দু-প্রকার। যথা— 1) পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, 2) খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

উঃ-চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়ায় পুরো চাঁদ ঢেকে গেলে, কিছুক্ষণের জন্য চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়, একে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বলে ।

উঃ-চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের আংশিক ঢাকা পড়লে তাকে খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বলে।

উঃ-না, চাঁদ ও পৃথিবীর কক্ষতল ভিন্ন হওয়ায় প্রত্যেক পূর্ণিমায় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এক সরলরেখায় আসে না, তাই সব পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না।

উঃ-নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী উপবৃত্তাকার পথে সূর্যের চারদিকেও প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বলে। বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হয়।

উঃ-পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড সময় নেয়। পরিক্রমণের এই সময়কালকে সৌরবছর বলে।

উঃ-নিজ অক্ষের চারদিকে একপাক ঘুরতে পৃথিবী প্রায় 24 ঘণ্টা সময় নেয়, পৃথিবীর এই ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বলে। আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে দিনরাত্রি হয়।

উঃ-পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে সময় নেয় 365 দিন বা একবছর। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে সাড়ে ঊনত্রিশ দিনে। সুতরাং, চাঁদ একপাক ঘুরলে পৃথিবী ঘুরবে প্রায় বারো ভাগের এক ভাগ। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণরত অবস্থায় নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরতে থাকে। নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরতে পৃথিবী সময় নেয় 24 ঘণ্টা বা একদিন। অতএব, পৃথিবী ততক্ষণে নিজের অক্ষের ঊনত্রিশটি পাক খাবে।

উঃ-সমুদ্র ও নদীর জলরাশি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে, কিছুক্ষণ পর তা আবার নেমে যায়। জলরাশির এরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

উঃ-সমগ্র পৃথিবীর তিনভাগ জল ও একভাগ স্থল। এই বিশাল জলারশির ওপর চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের ফলে জোয়ারভাটা হয়। এ ছাড়া পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ফলেও জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়।

উঃ-আবর্তনকালে পৃথিবীর যে-অংশ চাঁদের সামনে আসে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণে যে-জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বলে।

উঃ-পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত অংশে পৃথিবীর আবর্তন গতি দ্বারা সৃষ্ট বল চাঁদের আকর্ষণ বলের তুলনায় বেশি কার্যকারী হয়, ফলে ওইস্থানেও জোয়ার-এর সৃষ্টি হয়, একে বলে গৌণ জোয়ার। গৌণ জোয়ারে জল খুব অল্প বাড়ে।

উঃ- 1) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন : জোয়ারভাটার সময় প্রবল জলপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

2) জাহাজ চলাচল : জোয়ারের সময় নদীর মোহানায় বেশি জল প্রবেশ করায় বড়ো বড়ো জাহাজ সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশ করে।

উঃ-1) কৃষিকাজের ক্ষতি : জোয়ারের জল জমিতে প্রবেশ করলে জমির লবণতা বৃদ্ধি পেয়ে জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

2) জীবনহানির আশঙ্কা : যারা নদীতে বা সমুদ্র উপকূলে মাছ ধরতে যান তাদের নৌকা বা জাহাজ ডুবি হয়ে বা উপকূল প্লাবিত হলে নদীর দুই পাড়ে জনবসতির মানুষের জীবনহানি ঘটে।

উঃ-মূলত চাঁদের আকর্ষণেই পৃথিবীতে জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের যে-অংশ চাঁদের সামনে থাকে সেখানে মুখ্য জোয়ার হয়। পৃথিবী 24 ঘণ্টায় নিজ অক্ষের চারদিকে একপাক খায়। সুতরাং 12 ঘণ্টায় যখন পৃথিবী আধ পাক খাবে তখন পৃথিবীর পিছনের অংশ চাঁদের সামনে আসবে। কিন্তু পৃথিবী ও চাঁদ একইদিকে ঘোরে বলে এই সময় চাঁদ কিছুটা এগিয়ে যায়। ফলে চাঁদের সামনে যেতে পৃথিবীর আরও প্রায় 26 মিনিট সময় লাগে। তাই প্রথম জোয়ারের পর পরের জোয়ার হতে প্রায় সাড়ে বারো ঘণ্টা সময় লাগে।

উঃ-অমাবস্যায় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে থাকে চাঁদ। ফলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয়  আবার পূর্ণিমাতে চাঁদ ও সূর্যের মাঝে থাকে পৃথিবী, ফলে একদিকে চাঁদ ও একদিকে সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীর জল- রাশি দুদিকে ফুলে ওঠে ও জোয়ারের সৃষ্টি হয়।

উঃ-জোয়ারের জল নদীতে প্রবেশ করলে যে-বান আসে, তার ফলে কখনো-কখনো নদীর জল 7-8 মিটার উঁচুতে উঠে যায়। এরূপ ভয়াবহ বানকে পশ্চিমবঙ্গে ষাঁড়াষাঁড়ি বান বলে । হুগলি নদীতে মাঝে মাঝে এই বান দেখা যায়।

উঃ-অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চলে আসে। তাই চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্রের জল খুব বেশি ফুলে ওঠে-এর ফলে যে-জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে অমাবস্যার ভরা কোটাল বলে।

উঃ-পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাঝে অবস্থান করে। তখন পৃথিবীর জলরাশিকে একদিকে চাঁদ ও অন্যদিকে সূর্য আকর্ষণ করে। এর ফলে উভয়দিকে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে পূর্ণিমার ভরা কোটাল বলে।

উঃ-অষ্টমী তিথিতে সূর্য, চাঁদ, পৃথিবী পরপর সমকোণে অবস্থান করে। এর ফলে চাঁদের আকর্ষণে যে-অংশে জোয়ারের সৃষ্টি হয়, সূর্যের আকর্ষণে সেই অংশে ভাটার সৃষ্টি হয়। এই পরস্পরবিরোধী ক্রিয়ায় জোয়ারের বেগ কোনো অংশেই বেশি হতে পারে না, একে মরা কোটাল বলে।

উঃ-পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে যে অংশটি চাঁদের সামনে আসে, সেই অংশের বিরাট জলরাশিকে চাঁদ নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এর ফলে জোয়ারের সৃষ্টি হয়। এর থেকেই বোঝা যায় চাঁদের শক্তি আছে। তবে চাঁদের কোনো নিজস্ব শক্তি নেই সূর্যের শক্তিতেই চাঁদ শক্তিশালী ।

উঃ-সূর্যশক্তির প্রভাবে গাছ খাদ্য তৈরি করে, বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ও বীজ থেকে চারাগাছ তৈরি হয়। উদ্ভিদকে আবার খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আমরা শক্তি পাচ্ছি। সূর্যশক্তির ফলে জোয়ারভাটা হচ্ছে, কয়লা-পেট্রোলিয়াম তৈরি হচ্ছে—যা থেকে জলবিদ্যুৎ, তাপবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয়। সূর্যশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা আলো জ্বালাচ্ছি, গাড়ি চালাচ্ছি, আবার সূর্যশক্তিকে বিভিন্ন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। অতএব সূর্য হল সমস্ত শক্তির উৎস

উঃ-বহু বছর আগে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে উদ্ভিদ মাটিতে চাপা পড়ে যায়। ওপরের চাপ ও নীচের তাপের ফলে উদ্ভিদগুলি কয়লায় পরিণত হয়। ওই কয়লাখনি থেকে কয়লা তুলে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। কয়লা পুড়িয়ে তাপবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। ওই তাপকে কাজে লাগিয়ে আলো জ্বালানো হয়, কলকারখানা চলে।

উঃ-জীবজগৎ বিপন্ন হওয়ার কারণগুলি হল

1) নগরায়ণের ফলে বনজঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে, বন্যপ্রাণীরা হারাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান।

2) অনুন্নত দেশে বেঁচে থাকার তাগিদে কিছু অধিবাসী বন্যপ্রাণী শিকারকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেয়, এর ফলে প্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।

3) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও যানবাহনের ধোঁয়া বাতাসে মিশছে, কলকারখানার বর্জ্যপদার্থ জলকে দূষিত করে তুলছে। তা ছাড়া বিষাক্ত কীটনাশক, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির মাধ্যমে প্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।

4) বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং তাদের প্রতি যত্নবান না-হওয়ার জন্য জীবজগৎ বিপন্ন হচ্ছে।

5) পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণীদের বিপন্নতার কারণ বনাঞ্চল লাগোয়া বসতি। এরা বেঁচে থাকার তাগিদে বন্যপ্রাণীদের হত্যা করে।

6) এ ছাড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়, খাদ্যসংকট প্রভৃতির ফলে বন্যপ্রাণী বিপন্ন হচ্ছে।

উঃ-প্রায় 22.5 থেকে 6.5 কোটি বছর আগে ডাইনোসররা দাপিয়ে বেড়াত পৃথিবীতে। এই প্রাণীরা আকারে ছিল হাতিদের থেকেও বড়ো। এদের বেশিরভাগ স্থলচর, কেউ কেউ উড়ে বেড়াত আকাশে, কেউ তোলপাড় করত সাগরের জল।

দু-ধরনের ডাইনোসর ছিল, যথা— (1) শাকাশী ডাইনোসর, (2) মাংসাশী ডাইনোসর।

উঃ-মহাজাগতিক বস্তু যেমন— ধূমকেতু, গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড ডাইনোসরদের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। 6.5 কোটি বছর আগে ডাইনোসরদের বিনাশ ঘটে এক ভয়ংকর ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে। আকাশে হঠাৎ ধুলোমেঘের আবির্ভাবে পৃথিবীর আবহাওয়া দ্রুত বদলে যায় এবং উদ্ভিদরা ধ্বংস হয়। ফলে ডাইনোসরদের জন্মহার হ্রাস পায় । পরিণত প্রাণীরা খাদ্যের অভাবে এবং অতিরিক্ত শীতে মারা যায়।

উঃ-সূর্যের মতোই সব তারার মৃত্যু আছে। আকাশে তারার সংখ্যা অসংখ্য । প্রতিদিন এরূপ অনেক তারার জন্ম- মৃত্যু হয়। কিন্তু এর ফলে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হয় না, বা পৃথিবীতে এর কোনো প্রভাব পড়ে না।

উঃ-1994 খ্রিস্টাব্দে বৃহস্পতি গ্রহের ওপর একটি ধূমকেতুর কিছু অংশ এসে আছড়ে পড়েছিল। এর ফলে বৃহস্পতির গায়ে অনেক বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়।

উঃ-উল্কা পৃথিবীতে আসার আগেই বায়ুর ঘর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ফলে উল্কার আকার ছোটো হয়ে যায়। তাই পৃথিবীতে এসে পড়লে খুব একটা ক্ষতি হয় না।