Chapter-11, আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদ জগৎ

উঃ-বাঁশের গোড়া থেকে বের হওয়া নরম কচি কাণ্ডকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় | বাঁশের কচি কাণ্ডের রস বা নির্যাস থেকে তরল পানীয় প্রস্তুত করা হয়।

উঃ-Bambusa arundinacea-নামক বাশ থেকে তবাশির নামক ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

♦ ওই ওষুধ হাঁপানি, সর্দিকাশি ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

উঃ-তবাশির হল Bambusa arundinacea নামক বাঁশের পর্বমধ্য থেকে পাওয়া সিলিকন ডাইঅক্সাইড ও সিলিসিক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ এক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ বা উপাদান ৷ এটি হাঁপানি, সর্দিকাশি ও বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

উঃ-কচুরিপানার ভারী ধাতুর শোধন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় নোংরা দূষিত জল থেকে কচুরিপানা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু যেমন ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, লেড, মার্কারি ইত্যাদিকে শোধন করতে পারে। ফলে জল দূষণমুক্ত ও ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কচুরিপানা জল থেকে সায়ানাইড ও আর্সেনিককে অপসারিত করে।

উঃ-শালগাছের দুটি ব্যবহার হল— 1) শালকাঠ আসবাবপত্র, খুঁটি, জানালা-দরজার কাঠের ফ্রেম, পাটাতন, নৌকা, জাহাজের জেটি, সেতু প্রভৃতি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। 2) শালগাছের গুঁড়ি থেকে প্রাপ্ত রজন স্পিরিট ও বার্নিশ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-শালগাছের আঠার দুটি ব্যবহার হল— 1) শালগাছের আঠা থেকে সুগন্ধযুক্ত লাল ধুনো পাওয়া যায় যা ধূপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

2) শালগাছের আঠা কাঠের জোড়ের স্থানে প্রলেপ দেওয়ার কাজে ও জুতো পালিশের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-শালকাঠ খুব শক্ত ও টেকসই | এই কাঠ দিয়ে বাড়ির কড়িবরগা, দরজা ও জানালার কাঠের ফ্রেম প্রভৃতি তৈরি করা হয়। এ ছাড়া খুঁটি, পাটাতন, নৌকা, জাহাজের জেটি, সেতু প্রভৃতি নির্মাণ কাজেও শালকাঠ ব্যবহৃত হয়।

উঃ-সুন্দরী গাছের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য হল— 1) বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে যাতে বেঁচে থাকতে পারে, তার জন্য সুন্দরী উদ্ভিদে শ্বাসমূল সৃষ্টি হয়েছে।

2) নরম মাটিতে আটকে থাকার জন্য কাণ্ডের নীচ থেকে বাঁকাভাবে কিছু অস্থানিক মূল বা ঠেসমূল বেরিয়ে মাটিতে প্রবেশ করে।

উঃ-পরিবেশগত প্রভাবে বাঁশগাছে যখন বিপদঘণ্টা বাজতে থাকে, তখন বাঁশগাছ তার অঙ্গজ বৃদ্ধি বন্ধ করে জননগত বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে। এইসময় বাঁশগাছ তার দেহের সমস্ত শক্তিকে ফুল ফোটানোর কাজে ব্যবহার করে। ফুল ফোটার পরই বাঁশগাছ মারা যায়। কোনো অঞ্চলের প্রচুর সংখ্যক বাঁশগাছে একসাথে ফুল ফোটার ঘটনাকে মাস ফ্লাওয়ারিং বলে।

উঃ-পরিবেশের ওপর কচুরিপানার ক্ষতিকর প্রভাবগুলি হল—

1) কচুরিপানা পুকুর ও হ্রদের জলকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঢেকে দেয়। এর ফলে জলের প্রবাহ কমে যায়।

2) এ ছাড়া অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের সূর্যের আলো পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে এবং জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে জলে বসবাসকারী মাছ ও কচ্ছপদের মৃত্যু ঘটে।

3) কচুরিপানার জঙ্গল সৃষ্টি হলে, এডিস মশারা ওই স্থানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ফলে মশার কামড় থেকে সৃষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

4) কচুরিপানার জঙ্গলে একধরনের শামুক বসবাস করে যারা মানুষের দেহে এক মারাত্মক কৃমিঘটিত রোগ ছড়ায়।

উঃ-কচুরিপানার কয়েকটি ব্যবহার— 1) ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে কচুরিপানার কাণ্ডকে এমব্রয়ডারির কাজে ব্যবহার করা হয় এবং বস্ত্রশিল্পের তন্তুর উৎসরূপে ব্যবহার করা হয় | শুকনো কাণ্ডকে ঝুড়ি ও নানা ফার্নিচার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া কচুরিপানার তন্তুকে কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

2) কচুরিপানায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটিকে বায়োগ্যাসের উৎসরূপে ব্যবহার করা হয়।

3) কচুরিপানা দূষিত জল থেকে ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট নিকেল, লেড ও মার্কারির মতো ক্ষতিকারক ধাতুকে শোধন করতে পারে।

4) কচুরিপানায় নাইট্রোজেন তথা প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

উঃ-শালগাছের বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল প্রদীপ জ্বালাতে, রান্নার কাজে এবং চকোলেট প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

♦ শালগাছের আঠা থেকে সুগন্ধযুক্ত লাল ধুনো পাওয়া যায় যা ধূপ তৈরিতে, কাঠের জোড়ের স্থানে প্রলেপ দেওয়ার কাজে, জুতো পালিশ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-আদার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হল— 1) রান্নার মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয় | 2) পাউরুটি তৈরিতে আর বেকারি শিল্পে এবং সস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

উঃ-মশলার চারটি গুরুত্ব হল—

(1) মশলা জোলো খাবারে স্বাদ আনতে সাহায্য করে।

(2) আচার, চাটনি প্রভৃতি খাবারে মশলা যোগ করলে, তা যে কেবল স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় তা নয়, বরং সংরক্ষকরূপে কাজ করে।

(3) মশলা লালারসের ক্ষরণ বাড়িয়ে খাবারকে সহজে হজম হতে সাহায্য করে।

(4) মশলা মুখগহবরকে ক্ষতিকারক জীবাণু থেকে মুক্ত রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

উঃ-হলুদের অন্যান্য ব্যবহারগুলি হল—

1) কারকিউমিন নামক যৌগের উপস্থিতির জন্য হলুদ জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারকিউমিন ক্যানসার, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, অ্যালার্জি, আলজাইমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসাতে কার্যকরী।

2) হলুদ যকৃতকে সুস্থ রাখতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

3) শরীরের কোনো অংশে আঘাত লাগলে বা মচকে গেলে চুন-হলুদ লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

উঃ-রান্নার কাজ ছাড়া আর যেসব কাজে এলাচ ব্যবহার করা হয় তা হল—

1) গ্যাস বা পাকস্থলী-সংক্রান্ত সমস্যায় এলাচ ব্যবহার করা হয়।

2) খাওয়ার পরে মুখশুদ্ধি হিসেবে বা পানের মধ্যে দিয়েও এলাচ খাওয়া হয়।

3) বড়ো এলাচের দানা চিবোলে বমি-বমি ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

4) বড়ো এলাচ দাঁতের মাড়ি শক্ত করে।

উঃ-অ্যালিসিন-এর উৎস হল রসুন |

♦ অ্যালিসিন জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এটি পাকস্থলীকে উদ্দীপিত করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর সমস্যাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি গ্যাস দূরীকরণে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিসেপটিক বা পচননিবারক ভূমিকাও আছে।

উঃ-নিমতেলের ব্যবহারগুলি হল—– 1) নিমতেল মূলত চুলের স্বাস্থ্য বজায় । রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 2) এটি যকৃতের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তকে পরিষ্কার রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। 3) কানের ব্যথায়, দাঁত ও মাড়ির ব্যথায় নিমতেল ভালো কাজ করে।

উঃ-বেলের দুটি ওষধিগুণ হল — 1) বেলের মধ্যে মিউসিলেজ ও পেকটিন থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারণে সাহায্য করে। 2) বেলের শরবত আমাশয় রোগীদের অন্ত্রের যত্ন নেয়। এ ছাড়া বেল দীর্ঘস্থায়ী পেটের গোলমাল সারাতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়।

উঃ-ত্রিফলা হল একধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ | এটিতে সমপরিমাণে আমলকী, হরীতকী আর বহেড়া (বীজ ছাড়া) থাকে।

♦ ত্রিফলাতে খুব বেশি পরিমাণে ভিটামিন C থাকে |

উঃ-নয়নতারায় উপস্থিত দুইটি উপক্ষার হল—– 1) ভিনক্রিস্টিন, 2) রৌবেসিন।

 

উঃ-নিমের চারটি ওষধি গুণ হল — 1) নিম গাছের মূল বা কাণ্ডের ছাল আর পাতা থেকে তেতো স্বাদের যে ওষুধ তৈরি হয়, সেটি ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 2) কানের ব্যথায়, দাঁত ও মাড়ির ব্যথায় নিমতেল ব্যবহার করা হয়। 3) বহুমূত্র রোগের চিকিৎসায় নিমপাতার রস ব্যবহৃত হয় | 4) নিমের তেল চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে, যকৃতের কাজ করার ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তকে পরিষ্কার রাখতে ব্যবহার করা হয়।

উঃ-উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলিতে বেলের ভূমিকা নীচে আলোচনা করা হল।

(1) কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারক: বেলের মধ্যে মিউসিলেজ এবং পেকটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারণে সাহায্য করে।

(2)  হজম ক্ষমতা বৰ্ধক: কাঁচা বা আধকাঁচা বেল সিদ্ধ করে খাওয়ালে যে-কোনো ব্যক্তির হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে খিদে হয় |

(3) জীবাণু প্রতিরো ধক: বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষায় দেখা গেছে, বেলপাতা, ফল এবং মূল জীবাণু প্রতিরোধক গুণসম্পন্ন।

উঃ-আমলকীর ঔষধি গুণগুলি হল— 1) পেটের গোলমাল, রক্তক্ষরণ এবং আমাশয় রোগের চিকিৎসায় শুকনো আমলকী ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।2) দাঁতের মাড়ি ফোলার চিকিৎসায় আমলকী ফল খুব কাজে আসে। 3) বমিভাব আর কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসাতেও আমলকী ভালো কাজ করে। 4) হাঁপানি, পিত্তরোগ আর ফুসফুসের প্রদাহে আমলকী ফলের বীজ খুবই উপকারী। 5) অ্যানিমিয়া, বার্ধক্য ও ক্যানসার প্রতিরোধে আমলকী ফল কার্যকরী হয়।

উঃ-নয়নতারা উদ্ভিদের ওষধি গুণগুলি হল— 1) নয়নতারা উদ্ভিদের পাতা বহুমূত্র রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে। 2) এটি আমাশয় এবং রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 3) নয়নতারার মূলে উপস্থিত রৌবেসিন নামক উপক্ষারটি মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। 4) টিউমার প্রশমনে এবং ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসায় নয়নতারা উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত উপক্ষার ভিনক্রিস্টিন এবং ভিনব্লাস্টিন বিশেষভাবে সাহায্য করে।

উঃ-নয়নতারা উদ্ভিদের প্রধান উপক্ষারগুলির নাম হল — 1)  রৌবেসিন, 2) ভিনক্রিস্টিন এবং  3)  ভিনরাস্টিন।

উপক্ষারগুলির কাজ:  1) রৌবেসিন-এর কাজ— মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনে কোনোরকম বাধার সৃষ্টি হলে, এই উপক্ষার প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়।

2) ভিনক্রিস্টিন ও ভিনক্লাস্টিন-এর কাজ— ব্লাড ক্যানসার আর অন্যান্য কয়েক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই উপক্ষারগুলি ব্যবহার করা হয় | টিউমার প্রশমনেও এই দুটি উপক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উঃ-পুদিনার ঔষধি গুণগুলি হল—

1) পুদিনার শরবত যে-কোনো ধরনের পেটের গোলযোগে বিশেষ ফল দেয় এবং বমি বমি ভাব দূর করতে এবং মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

2) এটি শিশুদের পেট ফাঁপা, বদহজম এবং পাতলা পায়খানা আর মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

3) এটি অরুচি নিবারণে, পাকস্থলীর প্রদাহে এবং কাশি প্রশমনে সাহায্য করে।

4) পুদিনার প্রলেপ বাতের ব্যথা উপশমে এবং মাথার যন্ত্রণা নিবারণে সাহায্য করে।

উঃ-ঘৃতকুমারী নির্যাসের ওষধি গুণগুলি হল— 1) ঘৃতকুমারী নির্যাসে অ্যান্টিপাইরেটিক উপাদান থাকায় জ্বর হলে তাপমাত্রা কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়। 2) অ্যাসিডের আধিক্য, রক্তের ঘন হয়ে যাওয়ার প্রবণতা, দূষণজনিত চাপ ও অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমাতে ঘৃতকুমারী পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয় । 3) গ্যাস্ট্রিক ক্ষত, কোষ্ঠকাঠিন্য, তেজস্ক্রীয় বিকিরণজনিত চামড়ার ক্ষতে ঘৃতকুমারী পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয়।