Chapter-11, পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন

বইয়ে রাজার নাম না লিখে সাত দরজাওয়ালা থিসের জন্য পাথর বয়ে এনেছিল যেসব শ্রমিক তাদের নাম লেখা দরকার বলে কবি বলেছেন।

ব্রেষ্টের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় এই প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, থিবসের নির্মাণকাজে রাজাদের কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেই।

ব্রেখটের “পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় ‘এতবার’ শব্দটির দ্বারা ব্যাবিলনের বহুবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের কাহিনিকে তুলে ধরা হয়েছে।

বের্টোল্ট ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় শ্রমিকেরাই বারবার ব্যাবিলন গড়ে তুলেছে।

“পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় যারা সোনা ঝকঝকে লিমা বানিয়েছিল সেইসব শ্রমজীবী মানুষদের কথা বলা হয়েছে।

বের্টোল্ট ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় বলা হয়েছে, ইতিহাস শ্রমিকদের অবদানকে অস্বীকার করায় তারা কোন বাসায় থাকত তার উত্তর মেলে না।

বের্টোল্ট ব্রেখটের "পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত 'লিমা' হল পেরুর রাজধানী।

ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় লিমার বিত্তবৈভবের কারণে তাকে 'সোনা ঝকঝকো বলা হয়েছে।

‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় চিনের প্রাচীর যখন শেষ হল তারপর নির্মাতা রাজমিস্ত্রিরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেল।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় চিনের প্রাচীর তৈরি করা রাজমিস্ত্রিরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছিল।

বের্টোল্ট ব্রেখটের "পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন করিতে রোমের সাম্রাজ্যজয়ের ইতিহাসকে বোঝাতে রোমকে জয়তোরণে বলা হয়েছে।

সিজার অর্থাৎ জুলিয়াস সিজার (১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন প্রজাতন্ত্রী রোমের একজন ক্ষমতাবান সেনেটর বা প্রতিনিধি ।

বের্টোল্ট ব্রেখটের পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতা উল্লিখিত অংশে বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী বাইজেনটিয়ামের কথা  বলা হয়েছে।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিি প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র নগরী বাইজেনটিয়ামকে কেন্দ্র করে একটি সমৃদ্ধ সময় গড়ে উঠেছিল।

ব্রেষ্টের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতা থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে উপকথার দ্বীপ আটলান্টিসের কথা উল্লেখ করে যা হয়েছে যে, তাকে সমুদ্র খেল ।

রেটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় সমুদ্র যখন আটলান্টিসকে খেয়েছিল তখন সেই উপকথার দ্বীপের সম্পন্ন অধিবাসীর চিৎকার করে উঠেছিল ক্রীতদাসের জন্য ।

“পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় উপকথার দ্বীপ আটলান্টিসকে যে রাতে সমুদ্র গ্রাস করেছিল, সেই রাতের কথা বলা হয়েছে।

বের্টোল্ট ব্রেখটের পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন" কবিলে উপকথার দ্বীপ আটলান্টিসের সম্পন্ন অধিবাসীরা ডুবতে ডুবতে করেছিল ক্রীতদাসের জন্য।

মিশরে নীলনদের তীরে অবস্থিত থিবস্ শহর। এই শহরের বৈশিষ্ট্য হল এর সাতটি প্রবেশপথ ছিল।

উপকথার স্বীপরাষ্ট্র আটলান্টিস যখন ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রগর্তে ডুবে যাচ্ছিল, তখন সেখানকার রাজা এবং পাত্র-মিত্র-অমাত্যরা প্রাণে বাজে ক্রীতদাসদের উদ্দেশে চিৎকার করে উঠেছিল।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় রাঁধুনির উল্লেখের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, গলদের নিপাতের সময় সিজার একা ছিলেন না।

বের্টোল্ট ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় গলদের পরাজিত করার সময়ে সিজারের সঙ্গে রাঁধুনি থাকার কথা বলা হয়েছে।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় আর্মাড়া যখন ডুবেছিল তখন স্পেনের দ্বিতীয় ফিলিপ খুব কেঁদেছিলেন।

ব্রেখটের "পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত আর্মাড়া হল স্পেনের রণতরির বছর।

রেটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত আর্মাডা ডুবেছিল ইংল্যান্ডের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে।

বের্টোল্ট ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত ফিলিপ ছিলেন ষোড়শ শতকে স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ (১৫২৭-১৫৯৮)।

বের্টোল্ট ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় স্পেনের ফিলিপ কেঁদেছিলেন তাঁর আর্মাডা ডুবে যাওয়ার জন্য।

বের্টোল্ট ব্রেখটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় সাত বছরের যুদ্ধে জিতেছিল প্রাশিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডারিক

রেটের 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় 'পাতায় পাতায় জয়' কথাটির দ্বারা ইতিহাসে ঘটা অসংখ্য যুদ্ধজয়ের কাহিনিকে বোঝানো হয়েছে।

রেটের “পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় 'কত সব খবর' বলতে ইতিহাসের ব্যক্তিপ্রাধান্য এবং শ্রমজীবীদের প্রতি অবজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

ব্রেটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় একজন শ্রমজীবী মানুষের জবানিতে কবি স্বয়ং প্রশ্নগুলো করেছেন।

ব্রেট তাঁর ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় ইতিহাসের নায়ক হিসেবে শ্রমজীবী মানুষদের চিহ্নিত করেছেন

বের্টোল্ট ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় আলেকজান্ডারের বিশ্বস্ত সেনাবাহিনীর সাহায্যে ভারতজয়ের কথা বলা হয়েছে।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডার তাঁর বিশ্বস্ত সেনাবাহিনীর সাহায্যেই ভারত জয় করেছিলেন।

ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় গলদের নিপাত বলতে জুলিয়াস সিজারের হাতে ফ্রান্সের প্রাচীন গর্ জাতির পরাজয়ের কাহিনি বোঝানো হয়েছে।

বের্টোল্ট ব্রেখটের "পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় রাজাদের বিজয়োৎসবের ভোজের তথা রাজকীয় জীবনযাত্রার খরচের কথা বলা হয়েছে।

বের্টোল্ট ব্রেশ্ট তাঁর 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় পরিচিত এবং প্রথাগত ইতিহাসের সীমাবদ্ধতাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। সেই প্রসঙ্গেই আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের বিষয়টির উল্লেখ করেছেন কবি। ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের ভারত বিজয়ের সূচনা হয়। ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিদাম্পিসের যুদ্ধে পুরুর সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য হন আলেকজান্ডার। তাঁর এই জয়ের জন্য যে সাহসী সৈনিকরা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, ইতিহাসে তাঁদের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ তাদের আত্মত্যাগ ছাড়া আলেকজান্ডারের ভারতজয়ের স্বপ্ন কিছুতেই সফল হতে পারত না।। আলোচ্য অংশে রেট বলতে চেয়েছেন যে, প্রচলিত ইতিহাসের লক্ষণই হল। প্রভুত্বকামী শক্তির জয় ঘোষণা করা। কিন্তু যাঁরা তাঁকে ইতিহাসের নায়ক করে, জয়ের নেপথ্যে থেকে কার্যসিদ্ধি ঘটায়—ইতিহাসের সেই প্রকৃত কারিগরদের কথা কেউ মনে রাখে না। শ্রমজীবীই হোক বা সাধারণ মানুষ ক্ষমতাবানদের আলোয় তারা চির-উপেক্ষিতই থেকে যায়। সাত দরজাওয়ালা। মিস্‌ই হোক বা ঝকঝকে লিমা – নেপথ্যের কারিগরদের কথা কেউ মনে রাখে না, থেকে যায় শুধু রাজার নাম। আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের উল্লেখে একইভাবে উপেক্ষিত থেকে যায় তাঁর সেনাবাহিনীও। প্রথাগত ইতিহাসের অসম্পূর্ণতাকে এভাবেই স্পষ্ট করেছেন ব্রেশ্ট তাঁর কবিতায়।

বের্টোল্ট ব্রেখ্‌ তাঁর ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্না কবিতায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের সঙ্গে জুলিয়াস সিজারের দ্বারা গর্ জাতির পরাজয়ের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন | পশ্চিম ইউরোপের ফ্রান্স খ্রিস্টপূর্ব প্রথম এবং দ্বিতীয় শতকে রোমান শাসনাধীনে ছিল। ৫৮ থেকে ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এই প্রাচীন ভূখণ্ডে পরিপূর্ণভাবে অধিকার কায়েম করেন জুলিয়াস সিজার | পরবর্তী প্রায় পাঁচশো বছর গলের উপরে রোমান আধিপত্য বজায় ছিল।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত দিয়ে ব্রেখট বলতে চেয়েছেন যে, গর্ বিজয়ে সিজারের নাম ইতিহাসে যতই বিখ্যাত হয়ে থাকুক, সেই যুদ্ধজয় সিজারের একার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব ছিল না। “নিদেন একটা রাঁধুনি তো ছিল'— কথাটির মমার্থ হল যে যুদ্ধজয়ে সিজার আসলে একা ছিলেন না। তাঁর সেনাবাহিনীর অবদানের কথা ছেড়ে দিলেও সেনাবাহিনীর বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদ জোগানের দায়িত্বে থাকা রাজার বাবুটির কথাও কিছুতেই বিস্তৃত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রথাগত ইতিহাসে সাধারণ সৈনিকদের সাধারণ মানুষদের এই অবদানকে স্বীকার করা হয় না। রাজারাজড়া বা ক্ষমতাবানদের শ্রেষ্ঠত্বকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। আর চিরকালই উপেক্ষার অন্ধকারে থেকে যায় তাদের এই শ্রেষ্ঠত্বের নেপথ্য থাকা নায়করা। সেই উপেক্ষা আর বঞ্ছনার প্রতিবাদই যেন শোনা যায় প্রশ্নোধৃত পঙ্ক্তিতে | বা “বিরাট আর্মাডা যখন ডুবল, স্পেনের ফিলিপ কেঁদেছিল খুব।

স্পেনের রাজা ফিলিপের রণতরির বহরের নাম ছিল 'দি আর্মাডা'। ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি ১৩০টি যুদ্ধজাহাজসমৃদ্ধ এই আর্মাডা পাঠান । কিন্তু প্রথম এলিজাবেথের শাসনাধীন ইংল্যান্ড শোচনীয়ভাবে তাদের পরাজিত করে। কোনোমতে মাত্র ৬৭টি জাহাজ ফেরত আসে প্রোটেস্টান্ট ইংল্যান্ডের কাছে ক্যাথোলিক স্পেনের এই পরাজয় ফিলিপকে হতোদ্যম করে দেয় । অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে রেখ তাঁর 'পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় বলেছেন যে, ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধে আর্মাডার বিপর্যয় নিঃসন্দেহে সম্রাট ফিলিপের বেদনার কারণ হয়েছিল । কিন্তু সেই কান্নার চেয়ে স্পেনীয় জনগণের কান্নাও কম শোকপূর্ণ ছিল না। তাদের জাত্যভিমানে যে আঘাত লেগেছিল, সেই শোকের কথা প্রচলিত ইতিহাসে লেখা হয়নি। ঠিক যেভাবে চিনের প্রাচীর তৈরির নেপথ্যে থাকা রাজমিস্ত্রিদের কথা বা বাইজেনটিয়াম প্রাসাদের বাইরে থাকা মানুষদের কথা কোনো ইতিহাস বই এ লেখা থাকে না, সেভাবেই রাজা ফিলিপ ছাড়াও যে অসংখ্য স্পেনীয় অধিবাসী। সেদিনের ওই বিপর্যয়ে আঘাত পেয়েছিল, তাদের কথাও কোথাও লেখা নেই। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষদের কথা উপেক্ষা করা প্রচলিত ইতিহাসের এই সীমাবদ্ধতাকে এভাবেই ব্রেস্ট তাঁর কবিতায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।

বের্টোল্ট ব্রেখটের ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় উল্লিখিত দ্বিতীয় ফ্রেডারিক ছিলেন প্রাশিয়ার রাজা (১৭৪০-১৭৮৬)। ১৭৫৬ থেকে ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ সময়সীমায় সংঘটিত এই যুদ্ধে প্রাশিয়া এবং ইংল্যান্ড ছিল। একদিকে আবার, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, রাশিয়া সুইডেন প্রভৃতি দেশ ছিল অন্যদিকে। এই যুদ্ধ জিতে ইংল্যান্ড ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের নেতৃত্বে প্রাশিয়াও মধ্য ইউরোপে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

→ দ্বিতীয় ফ্রেডারিককে তাঁর সাম্রাজ্যবিস্তারের জন্য সাত বছরের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। জনসমর্থনে জয় হয়েছিল ফ্রেডারিকেরই। ব্রেষ্ট। চেয়েছিলেন মানব ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে উদ্ঘাটন করতে। আর তা করতে গিয়েই কবির মনে হয়েছে, ইতিহাসে সিজার কিংবা দ্বিতীয় ফ্রেডারিক—যে-কোনো রাজশক্তির সাফল্য বর্ণনা করা হলেও তাদের বিজয়ের নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ, সাধারণ সৈনিকরা। চিনের প্রাচীর গড়ে তুলতে রাজমিস্ত্রিদের ভূমিকাই যেমন আসল, সাত দরজাওয়ালা  আন্তর্জাতিক কবিতা পড়তে জানে এমন এক মজুরের প যেমন শ্রমিকদের শ্রম ছাড়া নির্মিত হত না—ঠিক সেভাবেই দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের জয়ের নেপথ্যেও কারিগর ছিল সাধারণ সৈনিকেরা। একা ফ্রেডারিকের পক্ষে কখনোই যুদ্ধ জেতা সম্ভব হত না। এই ঐতিহাসিক সত্যকে উল্লেখ করতে গিয়েই কবি দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের যুদ্ধজয়ের কাহিনির অবতারণা করেছেন।

বের্টোল্ট ব্রেশ্ট তাঁর “পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্না কবিতায় 'জয়োৎসবের ভোজ' কথাটির দ্বারা সাম্রাজ্যবাদী রাজশক্তিদের যুদ্ধজয়ের যে উদযাপন হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। আলোচ্য কবিতাটিতে কবি বলেছেন, সাত দরজাওয়ালা ধি, ব্যাবিলনের প্রাসাদ কিংবা লিমা নগরী গড়ে তোলা, সিজারের বিজয়গাথা কিংবা আলেকজান্ডারের ভারতজয়, দীর্ঘযুদ্ধে দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের জয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিহাস আসলে রাজারাজড়াদেরই স্তুতি করেছে। তাদের বিজয়ের এই উল্লাস এবং উদযাপনকেই কবি ‘পাতায় পাতায় জয়' এবং 'জয়োৎসবের ভোজা কথাটির দ্বারা বুঝিয়েছেন।

" যারা জয়োৎসব করত কবির সহানুভূতি এবং সমর্থন তাদের জন্য নয়, যারা সেই জয়োৎসবের ভোজ' বানাত তাদের জন্য। অর্থাৎ সাধারণ  শ্রমজীবী মানুষই কবির চেতনায় ইতিহাসের নায়ক। যে শ্রমিক থিবস্‌ নির্মালে পামর ঘাড়ে করে এনেছিল, কিংবা গুঁড়ো হয়ে যাওয়া ব্যাবিলনকে কিংবা লিমাকে গড়ে তুলেছিল তাদের অবদানকে এই কবিতাটিতে স্বীকৃতি দিতে চেয়েছেন কবি। চিনের প্রাচীর নির্মাণ করেছিল যে রাজমিত্রিরা, কবি তাদের কুর্নিশ করেছেন। আলেকজান্ডারের সঙ্গে থাকা সৈনিকেরা, স্পেনের আর্মাডা ডুবে যাওয়ায় কাতর দেশের সাধারণ মানুষেরা, দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের দীর্ঘ যুদ্ধের ছায়াসঙ্গীরা তাদেরকেই ইতিহাসের নায়ক ভেবেছেন কবি। তাই রাজ্যজয় নয়, সেই জয়ের 'ভোজ এর আয়োজন করত যে সাধারণ মানুষ ইতিহাসে তাদের উপেক্ষিত অবস্থান দেখে কবির মনে প্রতিবাদের সুর জেগে উঠেছে।

বের্টোল্ট ব্রেখট তাঁর ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতায় সমাজ এবং সভ্যতার কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। আলোচ্য কবিতাটিতে কবি বলেছেন যে, প্রথাগত ইতিহাসে যাবতীয় কীর্তি এবং বিজয়ের নায়ক হিসেবে দেখানো হয় রাজা কিংবা শাসকশক্তিকে। অথচ তার আড়ালে থাকে যে শ্রমজীবী মানুষের অবদান, তারা চিরকাল উপেক্ষিতই থেকে যায় | ইতিহাসের এই ভ্রান্তি কিংবা মিথ্যাচার কবির আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। সাত দরজাওয়ালা ঘি তৈরি, ব্যাবিলনের পুনর্নির্মাণ, লিমা নগরীর নির্মাণ, চিনের প্রাচীর নির্মাণ কিংবা জয়তোরণে উজ্জ্বল রোম নগরীকে গড়ে তোলা—সবই সম্ভব হয়েছে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই। আলেকজান্ডার কিংবা সিজারের জয়ও এসেছিল অসংখ্য সাধারণ সৈনিকের সংঘবদ্ধ প্রয়াসে। কবির মতে, আর্মাড়া যখন সমুদ্রে ডুবেছিল তখন স্পেনের রাজা ফিলিপই শুধু কাঁদেনি, কেঁদেছিল স্পেনের সাধারণ মানুষও। দ্বিতীয় ফ্রেডারিক যে সাত বছরের যুদ্ধে জিতেছিল, সেই যুদ্ধজয়ের নেপথ্যেও ছিল। সাধারণ সৈনিকেরা। বিজয়ের যে ইতিহাস লেখা থাকে বইয়ের পাতায়। সেখানে সাধারণ মানুষের এই অবদানকে স্বীকার করা হয় না। তাই আলোচ্য কবিতার মধ্য দিয়ে একজন শ্রমজীবী মানুষের জবানিতে কবি প্রশ্নের আকারে নিজের প্রতিবাদকে তুলে ধরেছেন।

সাত দরজাওয়ালা থিবস্‌ তৈরির জন্য ইতিহাসে রাজাদের নামই লেখা আছে। কিন্তু যাদের কঠোর শ্রমে এর নির্মাণ সম্ভব হল, তারা চির-উপেক্ষিতই থেকে গেছে বারবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েও ব্যাবিলনের যে পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, সে তো আসলে শ্রমজীবী মানুষদেরই অবদান। অথচ ইতিহাস এদের অবদানের কোনো মূল্যই দেয় না । সমৃদ্ধ লিমাকে যারা তৈরি করেছিল বা যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি হয়েছিল চিনের প্রাচীরের মতো বিস্ময়, সেইসব শ্রমিকের সন্ধান কেউ রাখে না । প্রথাগত ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে এরকমই অজস্র বঞ্চনার কাহিনি। রোমকে গড়ে তুলেছিল কারা, কিংবা সিজার কাদের জয় করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়েছেন— সেসব কথা ইতিহাসে লেখা থাকে না। বাইজেনটিয়াম সভ্যতার সমৃদ্ধির কথাই সবাই বলেছে, কিন্তু প্রাসাদের বাইরে যে মানুষেরা থাকত তাদের কথা কেউ বলেনি | উপকথার আটলান্টিস ক্রীতদাসদের ছাড়া সম্পূর্ণ ছিল না। আলেকজান্ডারের ভারত বিজয়ও সম্ভব হত না তার সৈন্যরা না থাকলে। সিজারের একার পক্ষে গলদের পরাজিত করা সম্ভব ছিল না। আর্মাডা ডুবে যাওয়ার সময়ে শুধু স্পেনের রাজা ফিলিপই নয়, সেখানকার সাধারণ মানুষও কেঁদেছিল। রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের দীর্ঘ সাত বছরের যুদ্ধ জয়ও তার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব হত না। এভাবেই ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনায়, বিজয়োৎসবের ভোজের আয়োজনে কিংবা মহামানবের প্রতিষ্ঠায় সমাজের সাধারণ মানুষের গুরুত্বকেই কবি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন । প্রথাগত ইতিহাসের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষের যে অবদান সভ্যতাকে সচল রাখে তারই ইঙ্গিত রয়েছে এ কবিতায়।

ব্রেষ্ট তাঁর কবিতায় শ্রমিক তথা কর্মী মানুষের দাবির ভিত্তিতে সরাসরি কবিতাটির নাম দিয়েছিলেন 'Questions from a Worker Who Reads | কবিতাটির ভাষান্তরের ক্ষেত্রে কবি শঙ্খ ঘোষ এর নামকরণ করেছেন ‘পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন" | প্রাচীন কাল থেকে শ্রমজীবী মানুষদের কথা বলার অধিকার দেওয়া হত না। মার্কসীয় ভাবনায় উজ্জীবিত কবি এই শ্রেণির শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম  কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কবিতাটির নামকরণের ক্ষেত্রে কবি তাঁর বক্তব্যের বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়েছেন | কোনোরকম ইঙ্গিত বা ব্যঞ্জনা দিয়ে তিনি বক্তব্যের বিষয়কে আড়াল করতে চাননি। অল্প শিক্ষিত একজন মজুর প্রশ্ন রেখেছে, তাদের আড়ালে রেখেই তাদের গ্রমের কৃতিত্ব নিয়েছে বিভিন্ন রাজা, সম্রাটরা। সাত দরজাওয়ালা থিবস্‌ কিংবা ব্যাবিলনের পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের জন্যই, কিন্তু প্রচলিত ইতিহাসে এদের কোনো স্থান নেই | রোমকে গড়ে তোলা কিংবা সিজারের জয়ের পিছনে হাজার হাজার কর্মী মানুষের অবদানকে ইতিহাসের পাতায় কেউ লিখে রাখে না। শ্রমজীবী মানুষকে অবদমিত করে রাখা হত বলেই এতদিন তাদের কেউ এই প্রশ্ন  তোলেনি। অথচ পড়তে জানা একটি মজুর আজ নিশ্চিতরূপে জেনেছে। ডুবে আটলান্টিসে ক্রীতদাসদের পরিণতি | আলেকজান্ডারের ভারত বিজয় সৈন্যরা ছাড়া তাঁর একার পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না। আর্মাডা যাওয়ায় স্পেনের সাধারণ মানুষও দুঃখ পেয়েছিল। দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের সাত বছরের অবিরাম সংগ্রাম এবং শেষে জয়লাভ সাধারণ মানুষের জন্যই সম্ভব হয়েছে | এরকম কত কৃতিত্ব সারা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে এবং সেইসব কৃতিত্বস্থাপনের পিছনে আছে শ্রমজীবী মানুষেরা। এই প্রশ্ন অবশ্য সেই মজুরই করতে পারে যে শিক্ষা লাভ করেছে। তাই কবিতাটির নামকরণ সরাসরি বক্তব্যের বিষয়কে প্রতিফলিত করায় যথাযথ হয়েছে।

জুন এবং অন্যান্য বিদেশি শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কিন সাম্রাজ্যের সময় শুরু হয়ে হান, সুই এবং মিং রাজত্বকাল অবধি তৈরি হওয়া প্রাচীরই হল চিনের প্রাচীর।

প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে উল্লিখিত রাজমিস্ত্রিরা চিনের প্রাচীর নির্মাণ করেছিল। * পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় কবি প্রথাগত ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের কাহিনি তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে। সাত দরজাওয়ালা থিসের জন্য জগৎজোড়া খ্যাতি পেয়েছে তার নির্মাতা রাজা। কিন্তু চোখের আড়ালে থেকে গেছে সেই নির্মাণকার্যের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা। ঠিক সেভাবেই চিনের প্রাচীর তৈরির যাবতীয় কৃতিত্ব যে রাজমিস্ত্রিদের, তারাও ইতিহাসে কোনো স্থান পায়নি। কিন সাম্রাজ্যের আমলে বিদেশি শত্রুর, বিশেষত হুনদের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে চিনের প্রাচীর তৈরি শুরু হয় এবং পরে হান, সুই কিংবা মিং সাম্রাজ্য যে প্রাচীরকে গড়ে তোলে, তার নির্মাণে অজস্র শ্রমিকের মৃত্যুর সাক্ষ্য ইতিহাসেই পাওয়া যায়। কিন্তু এই ঘটনাও শ্রমজীবী মানুষদের নায়কত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি | এই ইতিহাস শুধুই বাইরের উজ্জ্বলতাকে মহিমা দেয়, রাজা অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির জয়ধ্বনি করে। তার আড়ালেই থাকে সাধারণ মানুষের রক্ত-ঘাম কান্না আর শ্রমের আর এক ইতিহাস। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজ সে ইতিহাসকে কখনও স্বীকার করে না। সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে সেই অচেনা ইতিহাসের সত্যতাকে প্রশ্নের আকারে তুলে ধরতে চেয়েছেন কবি ব্রেষ্ট।

বের্টোল্ট ব্রেখট তার “পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন কবিতায় পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বই যে সবচেয়ে বেশি, সেই সত্য প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়েছেন। আমাদের প্রচলিত ইতিহাসে রাজারাজড়া এবং সাম্রাজ্যবাদী শাসকের জয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাজের বিত্তবান শ্রেণি বা উঁচুতলার মানুষরাই প্রধানত সেই ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচ্য কবিতাটিতে কবি বলেছেন যে, ইতিহাসের প্রকৃত কারিগর সাধারণ শ্রমজীবী মানুষেরাই | বাইজেনটিয়াম সভ্যতার ঐশ্বর্য ইতিহাসখ্যাত। ৬৫৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই সভ্যতা ছিল বাণিজ্যসমৃদ্ধ। পরবর্তীকালে সেটিমিয়াস সেভেরাসের আমলে এই সভ্যতা আরও সমৃদ্ধি লাভ করে। প্রথম কনস্টানটাইনের আমলে বাইজেনটিয়াম রাজার আবাস হয়ে ওঠে। কিন্তু বাইজেনটিয়ামের এই সমৃদ্ধির আড়ালে সেখানকার সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট মিথ্যা হয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বৈভবের আড়ালে থাকা সেই দুঃখ যন্ত্রণার জীবনকে অস্বীকার করে প্রথাগত ইতিহাস। বৈষম্যেত্তরা সমাজ বিত্তবান এবং ক্ষমতাবানদের গুরুত্ব দিয়ে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের কাজকে যুগ যুগ ধরে উপক্ষো করে এসেছে। এই উপেক্ষা আর বর্ণনার বিরুদ্ধে কবির তীব্র শ্লেষ উচ্চারিত হয়েছে প্রশ্নোকৃত অংশে।

বের্টোল্ট ব্রেষ্টের “পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন' কবিতা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে। প্রাচীন কাল থেকে রোম ছিল খ্যাতি ও বৈভবের কেন্দ্র। প্রথম এবং দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোম হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য। পরবর্তী প্রায় বারো শতক জুড়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রোমের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 'জয়তোরণে ঠাসা সহনীয় রোমা বলতে রোমের এই কীর্তিকাহিনির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। * মানবসভ্যতায় যারা ক্ষমতাবান কেবল তাঁরাই খ্যাতির আলোকে আলোকিত হন। বহুযুগ ধরে ক্ষমতাশালী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়েই প্রথাগত ইতিহাস লেখা হয়ে আসছে। কিন্তু প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতাদের আর-এক ইতিহাস থাকে। যেমন, সাত দরজাওয়ালা বিসের নির্মাতা হিসেবে রাজার নাম থাকলেও শ্রমিকদের শ্রম ছাড়া তা নির্মাণ করা সম্ভব হত না। ঠিক সেভাবেই রোমের যে বিজয়কেতন উড়েছিল তা সাধারণ সৈনিকদের লড়াইয়েরই ফলশ্রুতি। এমনকি সিজার যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তার পিছনেও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষের হাতেই যে ইতিহাসের প্রকৃত চাবিকাঠি রয়েছে তা বোঝাতেই কবি প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।

শঙ্খ ঘোষ-কৃত বের্টোল্ট রেষ্টের কবিতা পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্না থেকে প্রশ্নোধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। প্রাচীন মিশরের নগররাষ্ট্র নিরসের নির্মাণকারীর নাম উল্লেখ করতে গিয়ে কবি এই উদ্ধৃতিটির অবতারণা করেছেন। থিবস্ নগররাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য সে-রাজ্যের মজুরদেরই পামর ঘাড়ে করে আনতে হয়েছিল।

পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা যে সবচেয়ে বেশি সেই সত্য। প্রতিষ্ঠা করতেই রে কবিতাটি লিখেছেন । প্রচলিত ইতিহাসে রাজারাজড়া এবং সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের যাবতীয় কীর্তি এবং বিজয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাজের বিত্তবান শ্রেণি এবং উঁচুতলার মানুষরাই সেই ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করেন। অথচ তার আড়ালে থাকা শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা চিরকাল উপেক্ষিতই থেকে যায়। কবি এই কবিতায় সোচ্চারে জানিয়েছেন, শ্রমিক শ্রেণিই হল ইতিহাসের প্রকৃত কারিগর। প্রাচীন মিশরে সাত-তোরণবিশিষ্ট একটি নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন গ্রিসের ‘থেবাহ’ শহরের অনুকরণে তার নামকরণ হয়েছিল "থি'। এর গড়ে ওঠা সম্ভব  হয়েছিল শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই। আক্ষরিক অর্থেই, থি নগরী নির্মাণ করেছিলেন সে-যুগের শ্রমিকরাই, রাজা নন কখনোই । শুধু তা-ই নয়, ব্যাবিলনের পুনর্নির্মাণ, লিমা নগরী নির্মাণ, চিনের প্রাচীর নির্মাণ  কিংবা জয়তোরণে উজ্জ্বল রোম নগরীকে গড়ে তোলা—সবই সম্ভব হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। রাজাদের কখনোই এগুলির নির্মাতা বলা চলে না।