Chapter-12, অলৌকিক

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বক্তা বলী কাধারী ‘কাফের' বলতে গুরু নানককে আর 'কাফেরের শিষ্য' বলতে নানকের শিষ্য মানাকে বুঝিয়েছেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক ঘুরতে ঘুরতে হাসান আন্দালের জঙ্গলে এসে পৌঁছেছিলেন।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক যখন হাসান আন্দালের জঙ্গলে এসে পৌঁছেছিলেন তখন ভয়ানক গরম পড়েছিল আর গনগনে রোদে চারদিক শুনসান ছিল।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক যখন হাসান আন্দালের জঙ্গলে পৌঁছেছিলেন তখন সেখানে একটাও জনমানুষ ছিল না।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক হাসান আন্দালের জঙ্গলে এসে পৌঁছোনোর সময়ে গনগনে রোদ আর ভয়ানক গরম থাকায় সেখানে একটাও জনমানুষ ছিল না।

কর্তার সিং দুগালের ‘অলৌকিক' গল্পের প্রশ্নোদ্ধৃত অংশের বক্তা গুরু নানক।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক তাঁর শিষ্য তৃয়ার্ত মর্দানাকে সবুর করতে বলেছিলেন কারণ তিনি জানতেন পরের গ্রামে গেলেই জল পাওয়া যাবে।

গুরু নানক তৃয়াত মানার কাকুতিমিনতি শুনে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন, কারণ জল না পেয়ে যদি মর্দানা পথ চলতে না পারেন তাহলে সকলকেই অসুবিধায় পড়তে হবে।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পের প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে '' বলতে তুয়ার্ড মদীনাকে বোঝানো হয়েছে।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে উপর্যুক্ত উক্তিটির বক্তা হলেন পুর নানক। তাঁর শিষ্য মর্দানাকে কোথাও জল না থাকার পরিস্থিতিকে 'ভগবানের অভিপ্রায়' বলে মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেছিলেন।।

তুয়াত মর্দানা যখন গুরু নানকের উপদেশ শুনেও চলতে রাজি হলেন না তখনই সমস্যামুক্তির জন্য নানক ধ্যানে বসেছিলেন।

গুরু নানক ধ্যান শেষ করার পরে দেখলেন মদানা তেষ্টার চোটে জল ছাড়া মাছের মতো ছটফট করছে।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে 'সদ্‌গুরু' হলেন গুরু নানক।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে ধ্যান শেষে গুরু নানক যখন মর্দানাকে তেষ্টায় ছটফট করতে দেখে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে তাঁকে তুয়া নিবারণের উপায় বলেছিলেন, এখানে সেই সময়ের কথা বলা হয়েছে।

 

সদগুরু ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলেছিলেন যে, পাহাড়ের চুড়োয় বলী কাঙ্খারী নামে এক দরবেশের কুটিরের কুয়োতেই একমাত্র জল পাওয়া যেতে পারে।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে সারুর কথা শুনে শ্রোতা মানা বলী কাঙ্খারীর কুটিরের উদ্দেশ্যে ছুটে গেলেন।

কর্তার সিং দুগগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে দরবেশ বলী কাথারী পাহাড়ের চূড়ায় কুটির বেঁধে থাকতেন।

কর্তার সিং দুগগালের 'অলৌকিক' গল্পে উল্লিখিত দরবেশের নাম বলী কাঙ্খারী।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে নানক-শিষ্য মর্দানা হাঁপাতে হাঁপাতে পাহাড়ের চুড়োয় বলী কাঙ্খারীর কুটিরে উঠতে পারল।

'অলৌকিক' গল্পে মর্দানা তেষ্টায় অত্যন্ত কাতর ছিল। তাই অত্যধিক গরমে পাহাড়ের চুড়োয় বলী কাথারীর কুটিরে পৌঁছোতে তাঁর অনেক ক হয়।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পের প্রশ্নোধৃত অংশে সবলতে গুরু নানকের শিষা মর্দানার কথা বলা হয়েছে।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে মর্দানা কুয়োর দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বলী কাঙ্খারীর মনে প্রশ্ন জাগল ।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাঙ্খারীর মনে যে প্রশ্নটি জেগেছিল সেটি হল, মর্দানা কোথা থেকে এসেছে।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাধারীর প্রশ্নের উত্তরে • দানা জানিয়েছিল যে, সে পির নানকের সঙ্গী, ঘুরতে ঘুরতে সেখানে এসে পড়েছে।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে প্রশ্নোধৃত অংশে "বলী' হলেন পাহাড়চুড়োয় কুটির বেঁধে থাকা দরবেশ বলী কাঙ্খারী।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে মর্দানা নানকের শিষা হওয়ায় বলী কাথারী রেগে গিয়েছিলেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাথারী রেগে গিয়ে মর্দানাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে পাহাড়চূড়ো থেকে নেমে এসে মর্দানা গুরু নানকের কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন।

মানা নালিশ জানালে নানক তাকে আবার বলী কাথারীর কাছে গিয়ে নিজেকে নানক দরবেশের অনুচর হিসেবে পরিচয় দিতে বলেছিলেন।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে ক্ষোভে দুঃখে বিড়বিড় করতে করতে মর্দানা আবার পাহাড়ের চূড়ায় বলী কাথারীর কুটিরে গিয়েছিলেন।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে মদীনা প্রবল মাঠ থাকা সত্ত্বেও এবং বলা কাম্বারী বারবার তাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে যাআহিছি মর্দানার ক্ষোভ ও দুঃখের কারণ।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পের প্রশ্নোদ্ধৃত অংশের বক্তা হলেন দরবেশ বলী কাঙ্খারী।

কর্তার সিং দুগালের ‘অলৌকিক' গল্পে শিষ্য মর্দানা পুরু নানকের আদেশ অমান্য করতে পারলেন না।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের কারণেই মর্দানা তাঁর আদেশ অমান্য করতে পারলেন না।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের আদেশ অমান্য করতে না পেরে মর্দানা পাহাড়চূড়োয় বলী কাধারীর কুটিরের উদ্দেশ্যে পুনরায় রওনা দিয়েছিলেন।

: দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে নানকের আদেশ অমান্য করতে না পেরে মর্দানা পাহাড়চূড়োয় বলী কাথারীর কুটিরে অতি কষ্টে পৌঁছে তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লেন।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পের প্রশ্নোধৃত অংশটির বক্তা দরবেশ বলী কাম্বারী।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাঙ্খারীর মতে, গুরু নানক নিজেকে পির বলে জাহির করেন।

'অথচ' শব্দটির দ্বারা বলী কাথারী বোঝাতে চেয়েছেন যে, নানক নিজেকে পির বলে জাহির করলেও শিষ্যের জন্য সামান্য জলও জোগাড় করার ক্ষমতা তাঁর নেই।

নানকের কথায় মর্দানা পাথর সরানোয় চারিদিক যখন জলে থইথই করছে ঠিক সেই সময়ে বলী কাঙ্খারীর জলের দরকার হয়েছে।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে জলের প্রয়োজনের সময়ে বলী কাঙ্খারী দেখলেন তাঁর কুয়োয় একটুও জল নেই।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে পাহাড়ের চুড়োর বলী কাথারী তাঁর কুয়োতে একটুও জল না দেখে হতভম্ব হয়েছিলেন।

: দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে হতভয় বলী কাথারী দেখলেন তাঁর কুয়োতে একটুও জল নেই অথচ নীচে জলস্রোত বয়ে যাচ্ছে, আর বাবলাতলায় নানক তাঁর অনুচর-সহ বসে আছেন।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে হতভম্ব বলী কাথারী ক্ষিপ্ত হয়ে পাথরের একটা চাঙড় নীচে নানকের দিকে গড়িয়ে দিলেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বিরাট পাথরের চাড় পাহাড়ের ওপর থেকে তাঁদের দিকে নেমে আসতে দেখে মানা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানক হাত দিয়ে বলী কাঙ্খারীর গড়িয়ে দেওয়া পাথর থামিয়ে দেন।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের কথামতো মর্দানা পাথরটা তোলার পরে তার তলা থেকে জলের ঝরনা বেরিয়ে এসেছিল।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে লেখকের মা লেখককে গুরু নানকের গল্প বলতে বলতে একটু থামলে বাকি অংশটুকু শোনার জন্য। লেখক কৌতূহলী হয়ে ওঠেন।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাম্বারীর কাছে জল পাওয়া যেতে পারে বলে নানক মন্তব্য করেছিলেন। → মর্দানা তৃস্নার্ত হয়ে পড়ায় জলের প্রয়োজন হয়েছিল।

যখন হাসান আব্দালের জাল দিয়ে অনুচরবর্গ-সহ গুরু নানক হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন মর্দানার জলতেষ্টা পেয়েছিল।

প্রশ্নে হাসান আদানের জল এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে

জন্মসূত্রে মুসলমান ধর্মসাধক বলী কাথারী জন্মসূত্রে হিন্দু ধর্মসাধক মানবের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে 'কাফের' অর্থাৎ 'ইসলামবিরোধী' আখ্যা দিয়েছিলেন।

নিজের কুয়োয় জল না পেয়ে এবং নীচে অনুচর-সহ নানকের পাশে 'জলস্রোত দেখতে পেয়ে বলী ঈর্ষান্বিত হয়ে নানককে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি চাওড় নীচে গড়িয়ে দেন।

নানকবিরোধী বলী পাথরের একটি চাঙড় পাহাড়চূড়া থেকে নীচে ফেলছেন দেখে মানা ভয়ে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন।

বলী কাঙ্খারী পাথরের একটা চাওড় নীচে নানক-মদানাকে লক্ষ করে গড়িয়ে দিলে ভয়ে মর্দানা চেঁচিয়ে উঠতেই নানক এমনটা বললেন।

নানকের নাম কানে যেতেই বলী কাঙ্খারী রেগে গিয়ে মর্দানাকে সঙ্গে সঙ্গে তাড়িয়ে দিলেন।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পের অন্তর্গত প্রশ্নোধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন গুরু নানক।

গুরু নানক হেসে শিষ্য মর্দানাকে বলেছিলেন যে, সে যেন পুনরায় দরবেশ বলী কাঙ্খারীর কাছে যায় এবং নম্রভাবে তাঁকে বলে যে, মানা নানক দরবেশের অনুচর।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলা কাবারীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হুদানা নানকের কথায় সামনের পরর্তী রাতেই পাথরের তলা

থেকে ঝরনার জল বেরিয়ে এসেছিল।

কর্তার সিং দুগালের লেখা ‘অলৌকিক' গল্পের উল্লেখ অনুযায়ী ‘সাকা’ হলে বাড়িতে অরুন্ধন ঘটত।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে চলত ট্রেন থামিয়ে যারা বন্দি ভারতীয়দের রুটি, জল পৌঁছে দিয়েছিল তাঁদের জন্য চোখের জল পড়েছিল।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে বলী কাথারীর গড়িয়ে দেওয়া পাথর নানক হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়েছিলেন, এখানে তার সম্ভাব্যতার কথাই বলা হয়েছে।

দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে এখানে পাহাড়জুড়ো থেকে বলা কান্ধারীর গড়িয়ে দেওয়া পাথরকে নানকের হাত দিয়ে থামানোর গল্পের। কথা বলা হয়েছে।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে নানকের হাত দিয়ে পাথর থামানোর গল্পে যুক্তি ও বাস্তবতার অভাব থাকায় লেখকের হাসি পেত

প্রশ্নোদ্ধৃত অংশের বক্তা 'অলৌকিক' গল্পের লেখক কর্তার সিং দুগালের স্কুলের মাস্টারমশাই।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের হাত দিয়ে পাথর ঠেকানোর কথাটিই বলা হয়েছে।

কার রে লেখা 'অলৌকিক' পরে উন্নতি পাঞ্জাসাহেবের পূর্ব নাম ছিল হাসান আন্দালের জঙ্গল।

দুগ্‌গালের লেখা 'অলৌকিক' গল্পে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর বন্দি ভারতীয়দের ট্রেনে করে অন্য শহরের জেলে পাঠানোর সময়ে কোথাও ট্রেন না ঘামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এখানে এই খবরের কথাই বলা হয়েছে।

নানক হাত দিয়ে পাহাড়চূড়া থেকে গড়িয়ে আসা পাথর-চাড়কে থামিয়ে দিয়েছেন—এই আজগুবি ব্যাপারটা লেখকের মেজাজ বিগড়ে দিয়েছিল।

মায়ের বলা নানাকের গল্পে নানক যে গড়িয়ে-পড়া চাঙড় হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়েছিলেন, সে-কথা লেখক বিশ্বাস করেননি। তাঁর মুখ দেখে তা বুঝতে পেরেই মা চুপ করে গিয়েছিলেন।

নানক যে হাত দিয়ে পাথরের চাঙড় থামিয়েছিলেন—সেই ব্যাপারটাতে লেখক সবসময় মাথা বাঁকিয়েছিলেন।

যারা পারে, তাদের পক্ষে মোটেই অসম্ভব নয়—এমন কথা বলে মাস্টারমশাই কিশোর বয়সের লেখককে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন।

'সাকা' হওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই গল্পকথকের মা পাঞ্জাসাহেবের দিকে রওনা দিয়েছিলেন।

 

: ভারতীয় কয়েদি ভরতি ট্রেনটি পিছোনোর ফলে ইতিপূর্বে কাটাপড়া লাশগুলি কেটে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল।

পাঞ্জাসাহেবের পার্শ্ববর্তী রেললাইনের পাশে খালপাড়ের সেতুর দিকে রক্তের স্রোত বয়ে যেতে স্বচক্ষে দেখেন গল্পকথকের মায়ের বান্ধবী।

খিদে-তেষ্টায় কাতর রাজনৈতিক বন্দিতে বোঝাই ট্রেনটি থামানোর জন্যে সাধারণ মানুষের আত্মবলিদানের কথা শুনে গল্পকথক সারাদিন এক ফোঁটা জলও মুখে দিতে পারেননি।

কোনো ন্যায়সংগত অধিকারের জন্য বা কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে মৃত্যুবরণের ঘটনাকে পাঞ্জাবি ভাষায় বলা হত 'সাকা'।

পাঞ্জাসাহেবের মানুষেরা নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে বন্দি ভারতীয়দের রুটি ও জল পৌঁছে দিয়েছিল বলেই তাঁদের জন্য চোখের জল পড়েছিল কমকের।

প্রশ্নোদ্ধৃত সাকা হলে বাড়িতে অরুখন পালন করতে হত এবং রাত্রে মেঝেতে শুতে হত।

মায়ের বলা নানকের গল্পে নানকের পাহাড়চূড়া থেকে গড়িয়ে আসা চাঙড়কে হাত দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে গল্পকথক তর্ক করেছিলেন।

অলৌকিক' গল্পে লেখক কর্তার সিং দুগাল পাঞ্জাসাহেবে গিয়ে মায়ের বান্ধবীর কাছে নিম্নলিখিত গল্পটি শুনেছিলেন। দূরের শহরে ফিরিঙ্গিরা একবার নিরস্ত্র ভারতীয়দের ওপরে গুলি চালানোয় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। বাকিদের ট্রেনে করে অন্য শহরের জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েদিরা খিদে-তেষ্টায় মৃতপ্রায় ছিল, তা সত্ত্বেও ট্রেন কোথাও না থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই খবর পাঞ্জাসাহেবে পৌঁছোলে উত্তেজিত জনতা সিদ্ধান্ত নেয় যে, খিদে-তেষ্টায় কাতর কয়েদিদের নিয়ে ট্রেনটিকে যেতে দেওয়া হবে না। এরপর ট্রেন আটকানোর জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে বাড়ির মেয়ে, বাচ্চা-সহ পুরুষেরা রেললাইনে শুয়ে পড়ে। তাঁর হুইসেল দিয়ে ট্রেন এসে গতি কমালেও তার চাকা চলে যায় অনেকের বুকের ওপর দিয়ে, যার মধ্যে কথক মহিলার স্বামীও ছিলেন। ট্রেনের চাকায় লাশগুলি কেটে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। খালপারের সেতুর দিকে বয়ে গিয়েছিল রক্তের স্রোত। লেখকের মায়ের বান্ধবী শুধু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীই ছিলেন না, তিনি অবরোধে অংশগ্রহণও করেছিলেন।

গল্পটি শুনে লেখক প্রাথমিকভাবে অবাক এবং বিহবল হয়ে যান। পরে তিনি উপলব্ধি করেন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। পুরু নানকের হাত দিয়ে পাথরের চাই থামানোর ঘটনায় তাঁর মনে যে অবিশ্বাস জন্মেছিল তা এই গল্পের মাধ্যমে বিশ্বাসে পরিণত হয়।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে লেখক তাঁর বোনকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্যটি করেছেন। মা-র কাছে নানকের হাত দিয়ে পাথরের চাঙড় আটকানোর গল্প শুনে লেখকের বোন তা অবিশ্বাস করলে লেখক তাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্যটি করেন।

আলোচা গল্পটিতে কুয়োতে জল না থাকার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বলী কাঙ্খারী দেখেন, পাহাড়ের নীচে জলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে, আর তার কাছেই বসে আছেন শিষ্য-সহ গুরু নানক। বলী কাঙ্খারী এই দৃশ্য সহা করতে না পেরে নানকের ওপর রেগে পাহাড়ের ওপর থেকে পাঘরের চাওড় গড়িয়ে দেন নীচের দিকে। কিন্তু নানক তা হাতের পাঞ্জা দিয়ে আটকে দেন। মায়ের কাছে গল্পটি শুনে লেখকের বোনের তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। কিন্তু লেখকের অভিজ্ঞতায় তখন রয়েছে তাঁর মায়ের বাধবীর কাছে শোনা জীবন দিয়ে ট্রেন থামানোর কাহিনি। লেখকের মনে হয়েছে, বন্দি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য ট্রেন থামিয়ে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষেরাই যেখানে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিল, সেখানে গুরু নানকের হাত দিয়ে পাথরের চাঁই ঠেকানো অবাস্তব হতে পারে না। এইভাবেই দেশচেতনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঞ্জাসাহেবের 'অলৌকিক' ঘটনার মধ্যে যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছেন লেখক।

কর্তার সিং দুগাল-এর 'অলৌকিক' গল্প থেকে নেওয়া প্রশ্নোধৃত অংশে যে ট্রেনটি দূরের শহর থেকে বন্দি ভারতীয়দের নিয়ে অন্য শহরের জেলের উদ্দেশে যাচ্ছিল সেই ট্রেনটির কথা বলা হয়েছে। এই ট্রেনটির ওপরে নির্দেশ ছিল যে বন্দিরা ক্ষুধা-তৃয়ায় কাতর হলেও ট্রেনটি যেন কোথাও না থামে। > পাঞ্জাসাহেবের লোকেরা ট্রেন না থামানোর সরকারি নির্দেশ মানতে

পারেনি। যে শহরে গুরু নানক শিষ্য মর্দানার তেষ্টা মিটিয়েছিলেন সেখান দিয়ে ক্ষুধার্ত-তৃয়ার্ত বন্দিদের নিয়ে ট্রেন চলে যাবে এটা পাঞ্জাসাহেবের মানুষদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। প্রথমে তাঁরা স্টেশনমাস্টারের কাছে আবেদন জানান। কিন্তু টেলিফোন, টেলিগ্রাম পেয়েও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তখন পাঞ্জাসাহেবের লোকেরা স্টেশনে রুটি, পায়েস, লুচি, ডাল ইত্যাদি নানা খাদ্যদ্রব্য মজুত করেন। তারপরে ট্রেন থামাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে স্ত্রী এবং সন্তান-সহ পাজাসাহেবের পুরুষ মানুষেরা রেললাইনে শুয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তাঁর হুইসেল দিয়ে ট্রেন এসে গতি কমালেও তার চাকা চলে যায়। অনেকের বুকের ওপর দিয়ে। ট্রেন পিছোতে গেলে লাশগুলি কেটে দুমড়ে মুচড়ে যায়। খালপারের সেতুর দিকে বয়ে যায় রক্তের স্রোত। এভাবে অজস্র প্রাণের বিনিময়ে সেদিন ট্রেন থামাতে সমর্থ হয়েছিল পাঞ্জাসাহেবের মানুষেরা।

অলৌকিক' গল্পে লেখক কর্তার সিং দুগাল পাঞ্জাসাহেবে গিয়ে মায়ের বান্ধবীর কাছে নিম্নলিখিত গল্পটি শুনেছিলেন। দূরের শহরে ফিরিঙ্গিরা একবার নিরস্ত্র ভারতীয়দের ওপরে গুলি চালানোয় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। বাকিদের ট্রেনে করে অন্য শহরের জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েদিরা খিদে-তেষ্টায় মৃতপ্রায় ছিল, তা সত্ত্বেও ট্রেন কোথাও না থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই খবর পাঞ্জাসাহেবে পৌঁছোলে উত্তেজিত জনতা সিদ্ধান্ত নেয় যে, খিদে-তেষ্টায় কাতর কয়েদিদের নিয়ে ট্রেনটিকে যেতে দেওয়া হবে না। এরপর ট্রেন আটকানোর জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে বাড়ির মেয়ে, বাচ্চা-সহ পুরুষেরা রেললাইনে শুয়ে পড়ে। তাঁর হুইসেল দিয়ে ট্রেন এসে গতি কমালেও তার চাকা চলে যায় অনেকের বুকের ওপর দিয়ে, যার মধ্যে কথক মহিলার স্বামীও ছিলেন। ট্রেনের চাকায় লাশগুলি কেটে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। খালপারের সেতুর দিকে বয়ে গিয়েছিল রক্তের স্রোত। লেখকের মায়ের বান্ধবী শুধু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীই ছিলেন না, তিনি অবরোধে অংশগ্রহণও করেছিলেন।

গল্পটি শুনে লেখক প্রাথমিকভাবে অবাক এবং বিহবল হয়ে যান। পরে তিনি উপলব্ধি করেন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। পুরু নানকের হাত দিয়ে পাথরের চাই থামানোর ঘটনায় তাঁর মনে যে অবিশ্বাস জন্মেছিল তা এই গল্পের মাধ্যমে বিশ্বাসে পরিণত হয়।

কর্তার সিং দুগাল-এর 'অলৌকিক' গল্প থেকে সংকলিত উদ্ধৃতিটিতে যে ট্রেন থামানোর কথা বলা হয়েছে, সেটি ছিল মুধা-তৃয়া-কাতর বন্দিদের নিয়ে

[6:32 am, 28/09/2022] Anju: কর্তার সিং দুগাল-এর 'অলৌকিক' গল্প থেকে সংকলিত উদ্ধৃতিটিতে যে ট্রেন থামানোর কথা বলা হয়েছে, সেটি ছিল মুধা-তৃয়া-কাতর বন্দিদের নিয়ে পাঞ্জাসাহেবের ওপর দিয়ে অন্য শহরের কারাগারের উদ্দেশে যাও ট্রেন। যে শহরে গুরু নানক শিক্ষা মর্দানার তৃন্না মিটিয়েছিলেন, সেখান দিয়ে বন্দিরা যাতে ক্ষুধাত তৃস্নাত অবস্থায় না যেতে পারেন, সেজন্যই সেই সে ঘামানোর দরকার হয়ে পড়েছিল। → ইংরেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল ট্রেনটিকে পথের কোথাও ঘামানো চলবে না। স্বভাবতই পান্তাসাহেবের মানুষ এ নির্দেশ মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তাঁরা পাাসাহেব স্টেশনের স্টেশনমাস্টারের কাছে আবেন * জানান। স্টেশনমাস্টার টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ পাঠিয়ে আবেদন জানান। কিন্তু তাঁর আবেদন কর্তৃপক্ষ নামঞ্জুর করেন। এদিকে ট্রেনে স্বাধীনতা সংগ্রামী বন্দিরা খিদে-তেষ্টায় কাতর হয়ে ওঠে। তাই পাঞ্জাসাহেবের মানুষ স্টেশনে রুটি, পায়েস, লুটি, ডাল—ইত্যাদি খাবার মজুত করেন। তারপর ট্রেন থামাতে বদ্ধপরিকর হয়ে পাঞ্জাসাহেবের পুরুষ মানুষেরা স্ত্রী ও সন্তা সহ রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তীব্র হুইসেল দিতে দিতে ট্রেন এসে পড়ে। আগে থেকেই ট্রেনটি গতি কমাতে শুরু করলেও বেশ কিছু মানুষের ওপর দিয়ে গিয়ে ট্রেনটি থামে। ট্রেনটি এরপর পিছোতে শুরু করলে মৃতদেহগুলি কেটে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খালপাড়ের সেতুর দিকে বয়ে যায় রক্তের স্রোতী এভাবেই অজস্র মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ট্রেনটিকে থামানো হয়েছিল।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্প থেকে প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটির বরা হলেন গল্পকথক। পাঞ্জাসাহেবের মানুষ, যাঁরা কোনো কিছু পরোয়া না করে, জীবন তুচ্ছ করে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে খিদে-তেষ্টায় কাতর, বন্দি দেশবাসীকে খাদ্য ও জল পৌঁছে দিয়েছিলেন, কথক তাদের উদ্দেশ্যেই তাঁর চোখের জল উৎসর্গ করেছেন।

→ কোনো এক শহরের নিরস্ত্র ভারতীয়দের উপর গুলিবর্ষণ করার পর ফিরিঙ্গি সৈনিকরা জীবিতদের ট্রেনে করে অন্য শহরের জেলে নিয়ে যাচ্ছিল। নিরীহ কয়েদিরা খিদে-তেষ্টায় কাতর হলেও পথের মধ্যে কোথাও ট্রেন থামানোর নির্দেশ ছিল না। পাঞ্জাসাহেবের মানুষ এ ঘটনায় ক্ষুখ হয়েছিলেন। যে শহরে গুরু নানক শিষ্য মর্দানার তেষ্টা মিটিয়েছিলেন, সেখান দিয়ে ক্ষুধার্ত তৃস্নার্ত ভারতীয় বন্দিদের নিয়ে ট্রেন চলে যাবে—এটা তাঁদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। স্টেশনমাস্টারের কাছে আবেদন জানানো হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টেলিফোন, টেলিগ্রাফ পেয়েও সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তখন পাঞ্জাসাহেবের মানুষ স্টেশন-প্ল্যাটফর্মে রুটি, লুচি, ডাল, পায়েস প্রভৃতি খাবার মজুত করেন। তারপর ট্রেন থামাতে বদ্ধপরিকর হয়ে স্ত্রী-সন্তান-সহ পুরুষ-মানুষরা রেললাইনে শুয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তীক্ষ্ম হুইসেল দিয়ে ট্রেন এসে গতি কমালেও তার চাকা চলে যায় অনেকের বুকের ওপর দিয়ে। ট্রেন পিছোতে গেলে মৃতদেহগুলো কেটে, দুমড়ে মুচড়ে যায়। খালপাড়ের সেতুর দিকে বয়ে যায় রক্তের স্রোত। এভাবেই ক্ষুধা তৃয়ায় কাতর, বন্দি স্বাধীনতাসংগ্রামীদের খাবার ও জেল পৌঁছে দেওয়ার জন্য অজস্র প্রাণের বিনিময়ে চলন্ত ট্রেন থামিয়েছিলেন পাঞ্জাসাহেববাসী।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' পক্ষে লেখক অলৌকিক ঘটনার মধ্যে যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছেন। প্রিয় পিন  বাদক তাঁকে পাহাড়ের চূড়ায় দরবেশ বলী কাম্পানীর কাছে পাঠান। কিন্তু নানকের নাম শুনেই কাঙ্খারী মদীনাকে তাড়িয়ে দেন। তিন বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়া না নানকের পরামর্শেই পদ্মরের তলা থেকে জলের ঝরনা খুঁজে পান। এই অবস্থায় নিজের কুয়োতে তার না থাকায় বলী কাঙ্খারী রুদ্ধ হয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে নানকের দিকে পাথরের চাওড় গড়িয়ে দেন। কিন্তু সেই পাথর হাত দিয়ে থামিয়ে দেন নানক। আপাতভাবে, লেখকের কাছে এই ঘটনা অসম্ভব মনে হয়। পরে মায়ের বান্ধবীর কাছে কিছু মানুষের নিজেদের জীবনের বিনিময়ে ছুটন্ত ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার কাহিনি শুনে বিশ্বাসযোগ খুঁজে পান লেখক। পাঞ্জাসাহেবের মানুষেরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়া ট্রেন থামিয়ে দিয়েছিল তাদের খাবার ও জল দেওয়ার জন্য। তখনই লেখকের মনে হয়েছিল, একদিন মার মুখে শোনা যে গল্পকে তিনি অবিশ্বাস্য ভেবেছিলেন সেটিও সম্ভব হতে পারে। মানুষের ইচ্ছাশক্তি, সাহস আর সংকাই যে কোনো অলৌকিক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে, লেখক সে কথাই গল্পের মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন।

কর্তার সিং দুগগালের 'অলৌকিক' গল্পটি ছোটোগল্প হিসেবে নানাদিক দিয়েই বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। গল্পের সূচনাই হয়েছে এক আকস্মিকতা গিয়ে— "তারপর গুরু নানক ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছোলেন হাসান আগালের জঙ্গলে।” কিন্তু লক্ষণীয় যে, এটা মূল গ নয়, গল্পের ভিতরের পর। অসাধারণ দক্ষতায় এরকম দুটি গল্পকে জুড়ে দিয়েছেন লেখক। "অতীত ইতিহাসের, অন্যটি বর্তমানের প্রথমটি দুরাচারী বলী কাথারীর। ফেলে দেওয়া পাথর পুরু নানকের হাত দিয়ে ঘামানোর কাহিনি। হাসা আন্দালের জঙ্গল যেভাবে পাঞ্জাসাহেব হয়েছিল সেই ইতিহাস এই গল্পে লুকিয়ে আছে। আপাতভাবে অবিশ্বাস্য সেই কাহিনিকে বাস্তার ভিত্তি দিতেই দ্বিতীয় কাহিনিটির অবতারণা হয়। ইংরেজের হাতে বন্দি স্বাধীনতা। সংগ্রামীদের নিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রমাত বন্দিদের খাবার দেওয়ার জ রেললাইনে শুয়ে মানুষেরা ট্রেন থামায়। মারা যায় না মানুষ। বারও পক্ষে কেন্দ্র সেই পাঞ্জাসাহেব। এই দৃষ্টি কাহিনিকে অদ্ভুত কৌশলে এগুতোয় গেঁথে দিয়েছেন লেখক। ঝড়ের বেগে ছুটে আসা চেন ঘামানো গেল, পাঘরের চাঁই থামানো যাবে না কেন?” বর্তমান ভাবেই অতী বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। গল্পে চরিত্রপ্রধানা নেই, তবে দৃষ্টি কাহিনিতেই মষ্টিকীয়তার উপাদান আছে, আর আছে বলিষ্ঠ জীবন যা ি মাটোগল্প হিসেবে সার্থক করে তুলেছে।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে দেখা যায়, গুরু নানক তৃয়ার্ত শিষ্য মর্দানাকে তাঁর সামনের পাথর সরাতে বলার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে জলের ঝরনা বেরিয়ে আসে। এদিকে ওই এলাকায় একমাত্র জলের কুয়োর অধিকারী বলী কাথারী তাঁর কুয়োতে জল না থাকার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাহাড়ের নীচে জলের স্রোত এবং তার কাছেই শিষ্য-সহ গুর নানককে বসে থাকতে দেখেন। নানকের ওপর রুদ্ধ হয়ে কাম্বারী পাথরের চাঙর নীচের দিকে ফেলে দেন। কিন্তু নানক তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে সেই পাথরের চাঙড়কে হাত দিয়ে থামিয়ে দেন। আলোচ্য অংশে গুরু নানকের এই অবিশ্বাস্য গল্পের কথাই বলা হয়েছে।

পরবর্তীকালে পাঞ্জাসাহেবে পৌঁছে লেখক তাঁর মায়ের বান্ধবীর কাছে শুনেছিলেন এক আশ্চর্য ঘটনা। শহরের নিরীহ ভারতীয়দের অনেককে হত্যা করে বাকিদের ট্রেনে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিল ফিরিঙ্গিরা। খিদে-তেষ্টায় তারা কাতর হলেও ট্রেন থামানোর কোনো নির্দেশ ছিল না। এই ঘটনায় উত্তেজিত পাঞ্জাসাহেবের লোকেরা যেভাবেই হোক ট্রেন থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। চলন্ত ট্রেনের সামনে নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও তারা ট্রেন থামায়। জীবন দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার এই কাহিনি শোনার পরেই বক্তার মনে হয়েছিল প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে চলন্ত ট্রেনকে থামানো সম্ভব হলে পাথরের চাই থামানোও মোটেই অসম্ভব নয়। এভাবেই গল্পকথকের নানকের গল্পের প্রতি অবিশ্বাস পরিবর্তিত হয়ে বিশ্বাসের জন্ম দেয়।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে দেখা যায়, গুরু নানকের সঙ্গী তৃষ্ণার্ত মর্দানা নানকের নির্দেশমতো জলের জন্য মোট তিনবার পাহাড়চূড়োয় দরবেশ বলী কান্ধারীর কাছে যান। কিন্তু বলী কাধারী নানকের নাম শুনেই তাকে তাড়িয়ে দেন। তিন বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে মর্দানা যখন প্রায় মূর্ছিত, সেই সময় নানক তার পিঠে হাত বুলিয়ে, সাহস জুগিয়ে মর্দানাকে সামনের পাথরটা তুলতে বলেন। আর পাথরটা তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তার তলা থেকে জলের ঝরনা বেরিয়ে আসে | এদিকে বলী কাধারী দেখেন যে, তাঁর কুয়োয় একটুও জল অবশিষ্ট নেই, অথচ নীচে বয়ে চলেছে জলের স্রোত। একইসঙ্গে গুরু নানককে বাবলাতলায় অনুচর-সহ বসে থাকতেও দেখেন তিনি। ক্ষিপ্ত বলী। কাঙ্খারী তখন পাথরের একটা চাঙড় নীচের দিকে গড়িয়ে দেন। এই দৃশ্য দেখে মর্দানা আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেও 'জয় নিরঙ্কার' ধ্বনি দিয়ে গুরু নানক শান্ত স্বরে হাত দিয়ে পাথরটা থামিয়ে দেন। এটাই হল প্রশ্নোদ্ধৃত গল্পটা। > স্কুলে গল্পটা শুনে বিশ্বাস-না-করা লেখক মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। মাস্টারমশাইয়ের কথাতেও তার বিশ্বাস জন্মায় না। তাই তাঁর এরপর থেকে রাগে মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা করত।

কর্তার সিং দুগালের লেখা 'অলৌকিক' পক্ষে পুরু নানক যখন ঘুরতে ঘুরে হাসান আন্দালের জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছেছিলেন সেই সময়ে অসহ্য গরমে শিক্ষা মর্দানার জল তেষ্টা পায়। নানক তাকে ধৈর্য ধরতে বলেন এবान য পরের গ্রামে পেলেই জল পাওয়া যাবে। কিন্তু মর্দানার কাকুতিমিনতিতে পুর নানক দুশ্চিন্তায় পড়েন। কারণ মানা না যেতে চাইলে তাদের মাটি হবে। তখনই পুরু নানক মর্দানাকে বোঝাতে গিয়ে বা  গুরু নানকের এই মন্তব্যে বিশেষ কোনো কাজ হয়নি, কারণ মর্দানা সেখান থেকে নড়তে রাজি হননি, বরং তিনি সেখানেই বসে পড়েছিলেন।

→ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গুরু নানক ধ্যানে বসেন। ধ্যানের শেষে চোখ খুলে দেখেন মর্দানা তৃস্নায় প্রচণ্ড অশান্ত হয়ে পড়েছেন সদ্গুরু নানক তখন মৃদু হাসি হেসে তাকে বলেন যে, পাহাড়চূড়োয় বলী কান্ধারী নামে এক দরবেশ কুটির বেঁধে থাকেন। তার কাছেই একমাত্র জল পাওয়া যেতে পারে। এইভাবে গুরু নানক তৃস্নার্ত মর্দানার উদ্দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সদ্‌গুরুর ভূমিকা নিয়েছিলেন।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে দেখা যায়, গুরু নানকের সঙ্গী তৃয়ার্ত মর্দানা নানকের নির্দেশমতো জলের জন্য মোট তিন বার পাহাড়চূড়োয়। দরবেশ বলী কাম্বারীর কাছে যান। কিন্তু বলী কাঙ্খারী নানকের নাম শুনেই তাঁকে তাড়িয়ে দেন। তিন বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে মর্দানা যখন প্রায় মূর্ছিত, সেই সময় নানক তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে, সাহস জুগিয়ে মর্দানাকে সামনের পাথরটা তুলতে বলেন। আর পাথরটা তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তার তলা থেকে জলের ঝরনা বেরিয়ে আসে। চারিদিক যখন জলে থইথই, ঠিক সেই সময়েই বলী কাঙ্খারীর জনের দরকার পড়ে। তখন তিনি দেখেন যে, তাঁর কুয়োগ ন একটুও জল নেই, অথচ নীচে বয়ে চলেছে জলের স্রোত। একইসঙ্গে গুরু নানককে বাবলাতলায় নিজের অনুচরকে সঙ্গে নিয়ে বসে থাকতেও দেখেন  তিনি। ক্ষিপ্ত বলী কাথারী তখন পাথরের একটা চাঙড় নীচের দিকে গড়িয়ে দেন। এই দৃশ্য দেখে মর্দানা ভয়ে চিৎকার করে উঠলেও 'জয় নির কারা ধ্বনি দিয়ে গুরু নানক শান্ত স্বরে হাত দিয়ে পাথরটা থামিয়ে নে। ে পাথরে নানকের হাতের ছাপ সৃষ্টি হয়, যা আজও লেগে রয়েছে। তখন থেকেই হাসান আন্দালের নাম হয় 'পাঞ্জাসাহেব'।

কর্তার সিং দুগানের 'অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের কথামতো এক প্রবল গরমের দিনে তৃয়ার্ত মর্দানা জলের জন্য তিন বার দরবেশ বলী কাঙ্খারীর কুটিরে যান। পাহাড়চূড়ায় আশ্রমে অনেক কষ্টে পৌঁছোনোর পরে প্রত্যেকবারই তাঁর প্রাপ্তি ছিল শুধু প্রত্যাখ্যান আর উপেক্ষা। প্রথমবার বলী কাঙ্খারী কুয়োর দিকে ইঙ্গিত করলেও মর্দানা পির নানকের সঙ্গী শুনে তিনি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে তাড়িয়ে দেন। ক্ষোভে, দুঃখে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করা সত্ত্বেও মর্দানা নানকের কথা মেনে আবার বলী কাঙ্ক্ষারীর কাছে যান। কিন্তু এবারও মর্দানাকে 'কাফেরের শিষ্যা বলে বলী কাথারী তাড়িয়ে দেন। অত্যন্ত করুণ অবস্থায় নানকের কাছে ফিরে আসার পর মৃতপ্রায় মর্দানাকে "জয় নিরঙ্কার' বলে আবারও বলী কাথারীর কাছে যেতে বলেন নানক। গুরুর আদেশকে মেনে নিয়ে মর্দানা আবারও দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে বলী কাঙ্খারীর কাছে যান। কিন্তু পির হওয়া সত্ত্বেও নানক তাঁর শিষ্যের জন্য জন জোগাড় করতে পারছেন না, এই কটাক্ষ করে মর্দানাকে ফের ফিরিয়ে দেন। বলী কাথারী। ফিরে এসে মর্দানা তুমার্ত গুরু নানকের পায়ের কাছে মূর্ছিত হয়ে পড়েন। এইভাবে বলী কাঙ্খারীর সঙ্গে প্রতিবার সাক্ষাতেই অত্যন্ত তিন্তু। অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন মর্দনা।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে দেখা যায়, গুরু নানক একবার ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছেছিলেন হাসান আন্দালের জঙ্গলে। চারপাশে তখন প্রবল রোদ এবং ভয়ানক গরম ছিল। জনশূন্য পথঘাটের চারদিকে শুধু পাথরের চাই, ধু ধু বালি আর ঝলসে যাওয়া শুকনো গাছপালার দেখা পাওয়া যাচ্ছিল। এরকম পরিস্থিতিতেও পর নানক যখন আত্মমগ্ন হয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁর সঙ্গী শিষ্য মর্দানার তীব্র জল তেষ্টা পায়। না তাঁকে অপেক্ষা করতে বললেও মর্দানার জলের জন্য কাতরতা বাড়তেই থাকে। পুরু নানক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই জলের অভাব আসলে ঈশ্বরেরই অভিপ্রায়। কিন্তু তৃস্নার্ত মর্দানা আর এগোতে রাজি না হওয়ায় নানক গভীর সমস্যায় পড়ে যান। মর্দানার এই একগুঁয়েমি একইসঙ্গে তাঁর হাসি আর বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। এরপর মর্দানার তুয়া আরও বেড়ে যেতে দেখে নানক তাঁকে বলেন যে, পাহাড়ের চুড়োয় বলী কাঙ্খারী: নামে এক দরবেশ কুটির বেঁধে থাকেন এবং তার কুয়ো ছাড়া সেখানে আর কোথাও জল নেই। নানকের এই কথা শুনেই মর্দানা সেদিকে ছুটে যায়। শেষপর্যন্ত তৃয়ার্ত মর্দানা মাথায় গনগনে রোদ নিয়ে হাপাতে হাপাতে পাহাড়ে বলী কাথারীর কাছে পৌঁছোয়।

র্তার সিং দুগাল-এর ‘অলৌকিক' গল্পে গুরু নানকের হাতের ছাপ হাসান আব্দালের জঙ্গলে পাথরের গায়ে আজও লেগে আছে।

কর্তার সিং দুগালের 'অলৌকিক' গল্পে দেখা যায়, গুরু নানকের সঙ্গী তৃয়ার্ত মর্দানা নানকের নির্দেশমতো জলের জন্য মোট তিন বার পাহাড়চূড়োয়। দরবেশ বলী কাম্বারীর কাছে যান। কিন্তু বলী কাঙ্খারী নানকের নাম শুনেই তাঁকে তাড়িয়ে দেন। তিন বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে মর্দানা যখন প্রায় মূর্ছিত, সেই সময় নানক তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে, সাহস জুগিয়ে মর্দানাকে সামনের পাথরটা তুলতে বলেন। আর পাথরটা তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তার তলা থেকে জলের ঝরনা বেরিয়ে আসে। চারিদিক যখন জলে থইথই, ঠিক সেই সময়েই বলী কাঙ্খারীর জনের দরকার পড়ে। তখন তিনি দেখেন যে, তাঁর কুয়োগ ন একটুও জল নেই, অথচ নীচে বয়ে চলেছে জলের স্রোত। একইসঙ্গে গুরু নানককে বাবলাতলায় নিজের অনুচরকে সঙ্গে নিয়ে বসে থাকতেও দেখেন  তিনি। ক্ষিপ্ত বলী কাথারী তখন পাথরের একটা চাঙড় নীচের দিকে গড়িয়ে দেন। এই দৃশ্য দেখে মর্দানা ভয়ে চিৎকার করে উঠলেও 'জয় নির কারা ধ্বনি দিয়ে গুরু নানক শান্ত স্বরে হাত দিয়ে পাথরটা থামিয়ে নে।  পাথরে নানকের হাতের ছাপ সৃষ্টি হয়, যা আজও লেগে রয়েছে। তখন থেকেই হাসান আন্দালের নাম হয় 'পাঞ্জাসাহেব'।