Chapter-14, ধ্বনিতত্ত্ব

যেসব ধ্বনিকে মুখের কথার ধ্বনিপ্রবাহ থেকে কৃত্রিমভাবে হলেও খণ্ড খণ্ড করে বিভাজন করা যায়, তাদের বলে বিভাজ্যধবনি । যেমন— স্বরধনি, ব্যঞ্জনধ্বনি ।

ভাষাবিজ্ঞানের যে শাখায় বাধ্বনির উচ্চারণগত, শ্রুতিগত এবং ধ্বনিতরঙ্গগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ধ্বনিবিজ্ঞান বলে।

একটি ধ্বনিমূল যে যে অবস্থানে উচ্চারিত হয়, তাকেই বলা হয় ধ্বনিমূলের অবস্থান। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় 'ই' ধ্বনিমূল শব্দের আদি, মধ্য ও অন্ত অবস্থানে উচ্চারিত হয় বলে এই তিনটিই হল 'ই' ধ্বনিমূলের অবস্থান।

বাংলা ওষ্ঠ্যধ্ববনিগুলি হল প . . ফ..ব..ভ..ম.

বাংলা হল দন্তমূলীয় ধ্বনিগুলি - স্ . .ন্..র্..ল্...

বাংলা দন্তগুলি হল- খ. ধ

বাংলা মূর্ধন্যধবনিগুলি ট্..ঠ্..ড্..ঢ্....ড়্...ঢ়্..

'অ্যা' ধ্বনিটি শব্দের সব অবস্থানেই বসতে পারে। অন্তে বসলে তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন দ্বৈত উচ্চারিত হয় (যেমন—বন্যা = বোন্না)। শব্দের শেষে 'অ্যা'-এর পূর্ণাঙ্গ উচ্চারণও (যেমন—জ্যা) হয়।

বাংলা ভাষায় শব্দের আদিতে 'চু', ‘ঙ্' এবং 'ভূ' ধ্বনি পাওয়া যায় না।

বাংলা তালক ধননিগুলি হল— . . . .চ্...ছ্...জ্...ঝ্...শ্

বাংলা কণ্ঠ্যধ্বনিগুলি হল- ক্...খ্...গ্...ঘ্...ঙ্৷

বাংলা অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনিগুলি কী কী? উত্তর: বাংলা অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনিগুলি হল—প্, ত্, ই. চ, ক্

বাংলা অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনিগুলি হল—ফু, ঘু. ঠ. ছ. ঘূ।

বাংলা ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনিগুলি হল—ব্, দু, ড. জু. প্

কথা বলার সময় যেসব ধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি, সেই ধ্বনিকেই 'ভাষাবিজ্ঞানের ধ্বনি' বা 'বাধ্বনি' বলা হয়

ধবনি কথ্যভাষার একক বলে তা শ্রুতিগ্রাহ্য, আর বর্ণ লেখা একক বলে তা দৃষ্টিগ্রাহ্য।

খধ্বনির অপর নাম বিভাজ্যধ্বনি |

ভাষা-নিরপেক্ষ বাধ্বনির উচ্চারণগত, শ্রুতিগত ধ্বনিতরঙ্গগত বিচারবিশ্লেষণ করাই ধ্বনিবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

কথ্যভাষার অর্থহীন ও ক্ষুদ্রতম একককেই বলা হয় বাগ্‌ধনি।

ধ্বনিবিজ্ঞান এবং ধ্বনিতত্ত্ব— এই দুটি শাখায় বাগধবনি আলোচনা করে ভাষাবিজ্ঞান।

বাধ্বনি বিভাজ্যধ্বনি ও অবিভাজ্যধবনি—এই দুই ধরনের হয়।

বিভাজ্যধ্বনির দুটি মূল ভাগ হল — স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মান্য বাংলা ভাষায় ৭টি মৌলিক স্বরধ্বনি এবং ৩০টি ব্যঞ্জন ধ্বনি  রয়েছে।

বাংলা ভাষায় ই, উ, এ (য়) এবং ও—এই চারটি অর্ধস্বরধ্বনি আছে।

বাংলা ভাষায় অ, আ, ই, উ, এ, ও অ্যা—এই সাতটি মৌলিক স্বরেরই। অনুনাসিক উচ্চারণ হয়।

অর্ধস্বরগুলির জন্য বাংলায় নির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন নেই।

কোনো ভাষার প্রতিটি ধ্বনিকেই বলা হয় ধ্বনিমূল। প্রতিষ্ঠি ফানিমূলেরই প্রতিবেশ অনুযায়ী উচ্চারণ বৈচিত্র্য দেখা যায়।

কোনো ধানমূল পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে (অর্থাত্ প্রতিবেশগত কারণে) যে একাধিক রূপে উচ্চারিত হয় সেগুলির প্রত্যেকটি হল সহধ্বনি। যেমন, 'ল' ধ্বনিমূলের তিনটি সহধ্বনি আছে।

উচ্চারণগতভাবে সদৃশ ধ্বনিগুলি পরস্পর পরস্পরের উচ্চারণস্থানে উচ্চারিত না হয়ে স্ব স্ব প্রতিবেশে উচ্চারিত হলে তাদের অবস্থানকে পরিপূরক অবস্থান বলে।

শব্দের কোনো একটি ধ্বনি অভ্যাস বা সামর্থ্যগত কারণে সদৃশ অন্য ধ্বনিতে উচ্চারিত হয়ে শব্দটির একই অর্থ বজায় রাখলে সেই উচ্চারণ ডোকে বলে ধবনির 'মুক্ত বৈচিত্র্য'। গাড় > গাছ।

মৌলিক স্বরধ্বনির সঙ্গে অর্ধস্বরের সমাবেশে তৈরি হয় দ্বিস্বরধ্বনি।

ব্যঞ্জন-ব্যঞ্জন সমাবেশে গুচ্ছধরনি এবং যুক্তধবনি—এই দুই প্রকার যুগ্মধ্বনি তৈরি হয়।

শব্দমধ্যে স্বরধ্বনি না-থাকা একাধিক ব্যঞ্জন একাধিক দল (Syllable)-এর অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেই যুগ্মব্যঞ্জনকে গুচ্ছধ্বনি বলে।

শব্দের 'ভ' (ত্+ত্) হল গুচ্ছধবনি।

শব্দের আদিতে বা শেষে স্বরধনি না-থাকা একাধিক ব্যঞ্জন একই দল (Syllable)-এর অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেই যুগ্মধ্বনিকে বলে যুক্তধ্বনি। যেমন, 'প্রাণ'-এর প্র ও 'ট্যাক্স'-এর বক্স।

বাংলা ভাষায় দুই ব্যঞ্জনের গুচ্ছধ্বনির সংখ্যা ২০০-রও বেশি।

চার ব্যঞ্জনের গুচ্ছধবনি দিয়ে তৈরি একটি শব্দ হল “সংস্কৃত।

তিন ব্যঞ্জনে তৈরি বাংলা গুচ্ছধ্বনির সংখ্যা ৮ এবং এক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যঞ্জনটি সর্বদা 'র' হয়। যেমন- অম্ল।

বাংলা ভাষায় শব্দের শুরুতে (২৮+১৮+১)টি অর্থাৎ ৪৭টি।

যুক্তধবনি ব্যবহৃত হতে পারে।

উচ্চারিত হয় না বাংলা 'অ' স্বরধ্বনি।

শব্দের অন্ত্য-অবস্থানে উচ্চারিত হয় না 'ড়' ও 'ঢ়' ব্যঞ্জনদ্বয়।

ফুসফুস নিশ্বাসবায়ুর সাহায্যে আমরা কথা বলি বলে ফুসফুসকে বাগ্যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

[6:53 am, 29/09/2022] Anju: একটি ধ্বনিমূল সাধারণভাবে অন্য ধ্বনিমূলের বিরোধী। তবে এক ধ্বনিমূলের সঙ্গে অন্য ধ্বনিমূলের তফাত থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু মিলও থাকে যদি দেখা যায়, দুটি ধ্বনিমূলের মধ্যে উচ্চারণ স্থান বা উচ্চারণ প্রকৃতির দিক থেকে মিল থাকলেও একটি বিষয়ে অমিল আছে, তাহলে সেই অমিলটিকেই বলা হবে তাদের স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য।

আ+ ন্ + আ আ+ ন্+ আ

অমিল 'অতার 'তালা' ও 'খালা' শব্দের মধ্যে যেসব ধ্বনি আছে তার মধ্যে 'মূল পরস্পরের থেকে পৃথক। " একটি অঘোষ দত্ত্য  অন্যদিকে '' হল একটি দন্ত্য মহাপ্রাণধ্বনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, এই দুটি রনির মধ্যে পার্থক্য কেবল অল্পপ্রাণতা ও মহাপ্রাণতায়। আর হল '' ও '' ধ্বনিমূলয়ের স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য।

একটা ইংরেজি দৃষ্টান্ত দিলেও বিষয়টা স্পষ্ট হবে। ধরা যাক, sip আর zip এটি শব্দ। এদের ধ্বনিগুলি হল যথাক্রমে /s, I, p/ এবং /zi, p/ এখানে দেখা যাচ্ছে যে, আর 2 মি দুটির জন্য দুটি শব্দ আলাদা হয়ে গেছে। এখন এদের ধনিচরিত্র দেখা যাক।'' একটি অঘোষ, দন্তমুলীয়, উচ্চধবনি অন্যদিকে হল একটি ঘোষ, দন্তমুলীয়, উষ্ম ধ্বনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অন্য সব দিবে মিল থাকলেও 's' ও '2'-এর মধ্যে মূল অমিল হল এদের একজন ঘোষা এবং অন্যজন অঘোষধবনি । এই পার্থক্যটিই হল 's' আর 'z' ধানমূলে স্বাতন্ত্যসূচক বৈশিষ্ট্য।

সেই পার্থক্যের কারণে শব্দ দুটির অর্থও যদি আলাদা হয়, তবে সেই দুটিকে ন্যূনতম শব্দজোড় বলা হয়।

দুটি ইংরেজি শব্দ rail, mail উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হল। প্রথম ও দি শব্দের মধ্যে rও m—এই দুটি ধ্বনিমূলের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া কোনো পার্থক্য নেই | আর শব্দ দুটির অর্থও আলাদা। তাই এরা Minima বা ন্যূনতম শব্দজোড়।

বাংলায় কাল-খাল, শোল-খোল, মান- পান প্রভৃতি শব্দ জোড়াকে অনুর ন্যূনতম শব্দজোড় বলা যাবে। এমন হতে পারে যে, দুটি শব্দের একটি অল্পপ্রাণ (যেমন, 'ক্'), অন্যটির ধ্বনি মহাপ্রাণ (যেমন, 'খৃ)। অনুনাসিক ধ্বনি নিয়েও ন্যূনতম শব্দজোড় হতে পারে। যেমন—

আঁশ আল, পাক-পাঁক, বাস-বাপ

এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, ন্যূনতম শব্দজোড়ের অনুশীলন দিয়ে শিক্ষার্থীকে বা অন্য কোনো ভাষাভাষী মানুষকে সহজে ভাষা শেখাে অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ ধ্বনি দিয়ে তাদের ন্যূনতম শব্দজোড়ের অনুশীল যায়। যেমন—

চাল-ছাল, দান-ধান, চা-ছা।

আবার ঘোষ-অঘোষ ধ্বনির ন্যূনতম শব্দজোড়ও হতে পারে। যেমন খান-ধান, খাই-ঘাই। উদাহরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটিমাত্র ধ্বনি বা স্বনিমের জন্য শব্দ গেল; অর্থও বদলে গেল।

প্রতিটি ভাষারই কিছু মূলধবনি থাকে এবং তাদের মধ্যে কোনো একাধিক উচ্চারণবৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। এই মূলবনির উচ্চার হয় । প্রতিটি পরিবার নিগুলি সেই পরিবারের সদস্য অর্থ সংরনির

মানমূলের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক যেমন বিরোধের, তেমনই পারস্পরিক সম্পর্কও বিরোধের সংনির পারস্পরিক সম্পর্ককে ভাষাবিজ্ঞানে বলা হয় পরিপুরক অবস্থান (Complementary distribution)। সহধ্বনির প্রত্যেকের অবস্থান পরস্পরের থেকে আ কোনো মুচি সংনির কখনও একইরকম পারিপার্শ্বিক অবস্থার উচ্চারিত হয়না। যেমন- ইংরেজি - দুটি প্রধান (Ph ( প্রশ্নের গোড়ায় ও স্বাধ্বনির আগে, কিংবা দুটো স্বরধ্বনির মানুস্থানে যে বসে, তার উচ্চারণ 'Ph'. যেমন - put pen। আর শব্দের শেষে, S-এর পরে, কিংবা ব্যঞ্জনের আগে যে 'P'বসে, তার উচ্চারণ হয় "P-র মতো, যেমন cup spoon, plug ইত্যাদি।

একইরকমভাবে বাংলায় “আলতা' ও 'উল্টো' শব্দের 'জ' থলি দুটির ডিজ ভিন্ন উচ্চারণ হয়। কারণ, বাংলায় "" ইত্যাদি দন্ত্যধ্বনির আগে যে 'প্র' বসে, তার উচ্চারণ হয় দন্ত্য 'লু। যেমন- আলতা, পলতা, সলতে ইত্যাদি। কিন্তু " ইত্যাদি মূর্ধন্যফরনির আগে যে 'ব্লু' বসে তার উচ্চারণ হয় মূর্ধন্য "ল"। যেমন—উলটো পালটা ইত্যাদি। আর অন্যত্র দেখা যায়, দলীয় চরণ। যেমন- ল, নীল ইত্যাদি।

আমাদের বাপ্রবাহকে বিশ্লেষণ করলে তার অপরূপ যেসব ধ্বনিগত উপাদান পাই, সেগুলি দুরকমের। এর কতকগুলিকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা আলাদা এককে ভাগ করা যায়। যাদের বলা হয় বিভ (Segmental Sound)। যেমন-- রাম যায়?উপরের বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে আমরা পাব— + আম্ স্ + আ + ?

এই যে ছোটো ছোটো ধবনিগত উপাদান গুলির প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথক করে স্পষ্টভাবে স্বতন্ত্র এককরূপে ভাগ করা সম্ভব হল। আর ব আ. . . . এদের প্রত্যেকের ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য আছে বলে, ভরা প্রত্যেকেই এক একটি বিভাজ্য ধ্বনি। বিভাজন ধবনি ঘর ও বাঞ্ছন দুই ভাগে বিভক্ত।

কিন্তু আমাদের বাপ্রবাহে এমন ধবনিও শোনা যায় যাকে এরকম সুস্পষ্ট আলাদা আলাদা এককে পৃথক করা যায় না, সেগুলিই হল অবিভাজ্য ধ্বনি (Supra-segmental sound)। যেমন—রাম যায়?

বাক্যটিতে র. আ. ম্ ইত্যাদি বিভাজ্য ধ্বনিমূল ছাড়াও আর-একটা ধ্বনি আছে, সেটা হল সূক্ষ্ম সুরের প্রবাহ। বিষয়টা বর্ণযোগে বোঝা না গেলেও উচ্চারণের সময় বোঝা যায় যে, সেই সুরের প্রবাহ এই বাক্যের গোড়ায় ক্ষীণ কিন্তু বাকোর শেষের দিকে তীব্র হয়েছে। অর্থাৎ বাক্যের শেষের দিকটা সুর তার হল বলে বা উপরে উঠে গেল বলেই বাকাশি প্রশ্নসূচক অর্থ বহন করছে। কিন্তু শেষের দিকে সুরটা নীচে নেে গেলে বাক্যটা সাধারণ বিবৃতিমূলক ইতিবাচক বাক্য হয়ে যেত। যেমন— রাম যায়।

এই যে সুর, একে আমরা বিভাজ্য ধ্বনির মতো ছোটো ছোটো খণ্ডে ভাগ করতে পারি না, তাই এরা অবিভাজ্য ধ্বনি। সুর ছাড়াও শ্বাসাঘাত, দৈর্ঘ্য, যতি প্রভৃতিও অবিভাজ্য ধ্বনি।

কোনো শব্দে ধ্বনিমূল তথা ধ্বনির অবস্থান তিন জায়গায় হতে পারে— শব্দের শুরুতে, মাঝে কিংবা শেষে। এই শুরু (Initial), মাঝ (Medial) ও শেষ (Final)—তিনরকম অবস্থানের সবগুলিতেই সব ভাষার সব ধ্বনি বসে না। এক্ষেত্রে সব ভাষারই কোনো-কোনো ধ্বনি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নিয়মবিধি আছে। আবার এই নিয়ম প্রত্যেক ভাষায় খানিকটা আলাদা।

বাংলায় প্রায় সব ধ্বনি আদি-মধ্য-অন্ত—এই তিন অবস্থানে বসতে পারে।

কেবল দু-একটি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ লক্ষ করা যায়। যেমন

বাংলায় 'ঙ'/'' ধ্বনিটি শব্দের মাঝে ও শেষে বসলেও (যেমন—রঙিন, রংচঙে) কখনও শব্দের প্রথমে বসে না। 'ঙ' ধ্বনির অবস্থানের এই বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ ভাষায় লক্ষ করা যায়। যেমন ইংরেজিতে '' ধ্বনিটি শব্দের মাঝে এবং শেষে (bank, bang) বসলেও শব্দের প্রথমে এর ব্যবহার নেই। নীচে কিছু ব্যঞ্জনধ্বনির বিভিন্ন ভাষায় তুলনামূলক অবস্থান দেখানো হল—

হ/h: ধবনিটিকে বাংলায় শব্দের শুরুতে ও মাঝে পাওয়া যায় (যেমন হোম, মহান)। কিন্তু শব্দের শেষে 'হ' ধ্বনির ব্যবহার খুবই কম। ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় 'h' ধ্বনি শব্দের শুরুতে থাকলে উচ্চারিত হয় (ইংরেজি— house, জার্মান—haus)। কিন্তু স্বরধ্বনির পরে 'h' ধ্বনি থাকলে তা উচ্চারিত হয় না। যেমন, ইংরেজি-aha, জার্মান nehmen nemen ইত্যাদি |

ড/d: বাংলায় এই ধ্বনিটি শব্দের শুরুতে বসে (যেমন—ডাব), মাঝখানে যুক্তব্যঞ্জন হিসেবে পাওয়া যায় (যেমন— মণ্ডল, বড্ড)। কিন্তু শেষে 'ড'-এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে।

b/rh: ধ্বনিটি শব্দের প্রথমে কখনও বসে না, তবে মাঝে ও শেষে বসলেও (যেমন—রাড়ি, আষাঢ়)-এর উচ্চারণ বাংলায় প্রায় নেই।

এইভাবে শব্দে ব্যঞ্জনধ্বনির অবস্থান ও উচ্চারণের ব্যাপারে কিছু বিশেষ নিয়ম থাকলেও স্বরধ্বনির অবস্থানের বিষয়ে বাংলায় বিধিনিষেধ খুবই কম। কারণ বাংলায় সব স্বরধ্বনি শব্দের সব অবস্থানে বসে। কেবল

বাংলায় 'অ' ধ্বনিটি জার্মান ও ফরাসি ভাষার মতো শব্দের প্রথমে ও মাঝে বসে (যেমন—অল্প, সৎ) কিন্তু শব্দের শেষে বসে না । এই আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, ধ্বনির অবস্থানের ব্যাপারে প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব নিয়ম আছে এবং এটা প্রত্যেক ভাষার স্বাতন্ত্র্যের চিহ্ন।

ভাষার ধ্বনিমূল এবং সহধ্বনি শনাক্তকরণের প্রধান তিনটি পদ্ধতি হল ১. ন্যূনতম শব্দজোড়: দুটি পৃথক শব্দের উচ্চারণগত ন্যূনতম পার্থক্য থাকলে সেই শব্দদ্বয়কে বলে ন্যূনতম শব্দজোড়। যেমন— তালা-খালা।
ন্যূনতম শব্দজোড়ের পৃথক ধ্বনি দুটিকে দুটি পৃথক ধ্বনিমূল হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তালা (ত্+আ+ন্+আ) ও থানা (প্+আ+ন্+আ) শব্দদ্বয়ের পৃথক ধ্বনিমূল দুটি হল 'ত্' ও 'খ্'। এক্ষেত্রে একটি ধবনির পার্থক্যের জন্য শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে। এক্ষেত্রে পৃথক ধ্বনিমূল দুটির অবস্থানকে বলা হয় পার্থক্যমূলক অবস্থান।

পরিপূরক অবস্থান কোনো ধ্বনি যখন একাধিক শব্দে ভিন্নরকমভাবে উচ্চারিত হয় প্রতিবেশগত কারণে এবং তাদের একটির স্থানে অন্যটিকে উচ্চারণ করা যায় না, তবে সেই ধ্বনির সেই অবস্থানগুলিকে বলা হয় পরিপূরক অবস্থান। যেমন—লংকা আলতা-উলটো—এই শব্দ তিনটির প্রথমটির 'ল' দন্তমূলীয়, দ্বিতীয়টির 'ল' দন্ত্য, তৃতীয় 'ল' মূর্ধন্য। এক্ষেত্রে 'ল' মূলধবনির তিনটি পরিপূরক অবস্থান রয়েছে। অর্থাৎ 'ল' মূলধ্বনির ওই তিনটিই সহধ্বনি।

৩. মুক্তবৈচিত্র্য: কোনো শব্দ যখন দুইভাবে উচ্চারিত হয় এবং তাদের উচ্চারণ-পার্থক্য তৈরি হয় একটিমাত্র ধ্বনির প্রভেদে, তখন শব্দটির উচ্চারণভেদকে বলে যুক্তবৈচিত্র্য। বক্তার অভ্যাস বা সামর্থ্য বা ইচ্ছা অনুযায়ী এই উচ্চারণভেদ ঘটে। যেমন—'ছাত' ও 'ছাদ'। এক্ষেত্রে 'ত্' ও 'ঘ' ধবনি দুটি (মুক্তবৈচিত্র্য সম্পন্ন) ভাষায় সহযবনি হিসেবে গণ্য।

ধ্বনিমূল এবং সহধবনির সম্পর্ক একটি পরিবার আর তার সদস্যদের মতো। ধ্বনিমূল হচ্ছে ধ্বনির কাল্পনিক চেহারা, আর সহধ্বনি তার বাস্তব প্রকাশ। যেমন ধরা যাক 'প' একটি ধ্বনিমূল। এই 'প' ধ্বনিকে দুটি আলাদা শব্দে ব্যবহার করা হল পা, গোল, আর আলাপ লক্ষ করলে দেখা যাবে, 'পাগল' এর [প] উচ্চারণের সময়ে মুখবিবর এবং ওঠ যতটা ফাঁক হচ্ছে 'আলাপ' উচ্চারণের সময় [প] ধ্বনি উচ্চারণ করতে গিয়ে তা হচ্ছে না। বরং মুখবিবর সম্পূর্ণ কধ হয়ে যাচ্ছে। জিহবার প্রসারিত অবস্থানও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিবেশ অনুসারে একটি মূলধনি এই যে আলাদা আলাদা ভাবে উচ্চারিত হল এরা প্রত্যেকেই এক একটি সহধ্বনি। অর্থাৎ সহধ্বনি হল উচ্চারণভেদ নির্ভর। প্রতিটি উচ্চারণভেদই তৈরি হয় প্রতিবেশ অর্থাৎ কোন্ অবস্থানে ধ্বনিটি আছে তার উপরে নির্ভর করে। বাংলায় যে সাতটি মৌলিক স্বরধ্বনি এবং ৩০টি ব্যঞ্জনধ্বনি আছে তারা সকলেই এক-একটি ধ্বনিমূল। ধ্বনিমূল এবং সহধ্বনির সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হল—তাদের উচ্চারণ মূলগতভাবে এক হবে। দ্বিতীয়ত, ধ্বনিমূল ভাষায় অর্থের তফাত করতে সমর্থ, কিন্তু সহধ্বনির পক্ষে সে কাজ করা সম্ভব নয়। আসলে ধ্বনিমূল একটি কল্পনা, যার বাস্তব উপলব্ধি হল সহধ্বনি।

শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির সমাবেশ ঘটলে তাকেই ব্যঞ্জন-সমাবেশ বলা হয়। বাগুন-সমাবেশ দু-প্রকারের—গুচ্ছধ্বনি এবং যুক্তধবনি লক্ষণীয় যে গুচ্ছধ্বনিভুক্ত ব্যঞ্জনগুলি সবসময়েই আলাদা দলভুক্ত হয়। প্রথমটি পূর্ববর্তী দলে এবং শেষেরটি পরবর্তী দলে যায়। যেমন, অবস্থা  এখানে গ্রাহধ্বনির 'স' পূর্ববর্তী 'ব' এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গেছে, আর 'q' পরবর্তী স্বরধ্বনি 'আ' এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য একটি দ তৈরি করেছে। প্রায় দুশোটিরও বেশি গুচ্ছধ্বনি বাংলা ভাষায় আছেন এরকমই গাধবনির উদাহরণ— শব্দ, আশ্চর্য ইত্যাদি। তিন বাঙনের পুচ্ছধ্বনির উদাহরণ হল 'আম্র', 'যা' ইত্যাদি। চার ব্যঞ্জনের উদাহরণ 'সংস্কৃত' শব্দ।

অন্যদিকে, ব্যঞ্জনধ্বনির সমাবেশ যদি শব্দের শুরুতে হয় তাকে বলে চার সঙ্গে হানির প্র ব্যঞ্জনগুলি কখনোই আলাদা দলে বিভাজিত হয় না। প্র, ব্রু, স্ত, দ্র ২৮টি যুক্তধবনি বাংলায় আছে। ইংরেজি থেকে আগত বেশ কিছু যুক্তধ্বনিও বাংলায় পাওয়া যায়। যেমন ফ্র (ফ্রাই), ট্র (ট্রাম), ক্স (ট্যাক্স)। তিনি ব্যঞ্জনের যুক্তধ্বনি হল "স্ত্রী", "স্পৃহা' শব্দ।

প্রতিটি ভাষায় কিছু ধ্বনি-উপাদান থাকে, যেগুলিকে স্বাভাবিক বা কৃত্রিম কোনোভাবেই বিভক্ত বা খণ্ডিত করা যায় না এবং সেগুলি একাধিক ধ্বনিখন্ড জুড়ে অবস্থান করে। এরাই অবিভাজ্য ধ্বনি |

* অবিভাজ্য ধ্বনি মূলত চারপ্রকার—
শ্বাসাঘাত: একাধিক দল (Syllable)-যুক্ত শব্দের কোনো একটি দলকে যদি
অপেক্ষাকৃত বেশি জোর দিয়ে উচ্চারণ করা যায়, তবে তাকে বলা হয়।
শ্বাসাঘাত। শ্বাসাঘাত পুরো দল জুড়েই হয় বলে তা অবিভাজ্য ধ্বনি।
যেমন—‘মাখন', 'শব্দ' লন্দের 'মা' এবং লব্ দলে শ্বাসাঘাত পড়েছে। স্বরদৈর্ঘ্য: দলের অন্তর্গত স্বরধ্বনির উচ্চারণগত দৈর্ঘ্যের রেশ কম ঘটে। এটাই স্বরদৈর্ঘ্য। যেমন, বাংলায় বহুদল শব্দের প্রতিটি দলের অন্তর্গত স্বরধ্বনির তুলনায় একদল শব্দের স্বরের দৈর্ঘ্য বেশি। ফলে একদল শব্দের দৈর্ঘ্যও বেশি। যেমন 'আমার' শব্দের [আ]-এর চেয়ে 'আখ' শব্দের [আ] বেশি দীর্ঘ।
যতি : কথা বলার সময় শব্দমধ্যে দলশেষে বা শব্দশেষে এবং বাক্যমধ্যে বা বাক্যশেষে যে বিরতি নেওয়া হয়, তাই-ই হল যতি। যেমন—'রহিম একা দশজনকে চ্যালেঞ্জ করছে' এবং 'রহিম একাদশজনকে চ্যালেঞ্জ করছে'— দুইয়ের প্রথম বাক্যে 'একা' এরপর আমরা যতি ব্যবহার করি কিন্তু 'একাদশজনকে"-এর পরে নয়।
ল- 'রাম যায়?
এই দুই বাক্যের সুরের ওঠাপড়া হল— রাম যায়।— বিবৃতিবাক্য
রাম যায়? — প্রশ্নবোধক বাক্য

প্রতিটি ভাষায় কিছু ধ্বনি-উপাদান থাকে, যেগুলিকে স্বাভাবিক বা কৃত্রিম কোনোভাবেই বিভক্ত বা খণ্ডিত করা যায় না এবং সেগুলি একাধিক ধ্বনিখন্ড জুড়ে অবস্থান করে। এরাই অবিভাজ্য ধ্বনি |

* অবিভাজ্য ধ্বনি মূলত চারপ্রকার—
শ্বাসাঘাত: একাধিক দল (Syllable)-যুক্ত শব্দের কোনো একটি দলকে যদি
অপেক্ষাকৃত বেশি জোর দিয়ে উচ্চারণ করা যায়, তবে তাকে বলা হয়।
শ্বাসাঘাত। শ্বাসাঘাত পুরো দল জুড়েই হয় বলে তা অবিভাজ্য ধ্বনি।
যেমন—‘মাখন', 'শব্দ' লন্দের 'মা' এবং লব্ দলে শ্বাসাঘাত পড়েছে। স্বরদৈর্ঘ্য: দলের অন্তর্গত স্বরধ্বনির উচ্চারণগত দৈর্ঘ্যের রেশ কম ঘটে। এটাই স্বরদৈর্ঘ্য। যেমন, বাংলায় বহুদল শব্দের প্রতিটি দলের অন্তর্গত স্বরধ্বনির তুলনায় একদল শব্দের স্বরের দৈর্ঘ্য বেশি। ফলে একদল শব্দের দৈর্ঘ্যও বেশি। যেমন 'আমার' শব্দের [আ]-এর চেয়ে 'আখ' শব্দের [আ] বেশি দীর্ঘ।
যতি : কথা বলার সময় শব্দমধ্যে দলশেষে বা শব্দশেষে এবং বাক্যমধ্যে বা বাক্যশেষে যে বিরতি নেওয়া হয়, তাই-ই হল যতি। যেমন—'রহিম একা দশজনকে চ্যালেঞ্জ করছে' এবং 'রহিম একাদশজনকে চ্যালেঞ্জ করছে'— দুইয়ের প্রথম বাক্যে 'একা' এরপর আমরা যতি ব্যবহার করি কিন্তু 'একাদশজনকে"-এর পরে নয়।
যেমন- 'রাম যায়?
এই দুই বাক্যের সুরের ওঠাপড়া হল— রাম যায়।— বিবৃতিবাক্য
যেমন  রাম যায়? — প্রশ্নবোধক বাক্য

শব্দের মধ্যে বা শেষে পাশাপাশি উচ্চারিত দুই ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে যদি স্বরধ্বনি না থাকে এবং ব্যঞ্জন দুটির প্রথমটি যদি পূর্ববর্তী দল (Syllable)-এর শেষ ধান এবং দ্বিতীয়টি যদি পরবর্তী দল-এর প্রথম ধ্বনি হয়। তবে সেই ব্যঞ্জনদ্বয়ের সমাবেশকে বলা হয় গুচ্ছধনি। গুচ্ছধ্বনির সমাবেশ স্বভাবতই দৃঢ় নয়, কেন না তারা একই দল-এর অন্তর্গত নয়। যেমন – রোদ্দুর' শব্দটিতে শব্দের মাঝামাঝি দুটি দু ধবনি উচ্চারিত হয়ে একটি গুচ্ছধ্বনি তৈরি করেছে এবং স্বভাবতই প্রথম 'দ্' প্রথম দল (রোদ্)-এর শেষ ধ্বনি এবং দ্বিতীয় ‘দ' শেষ দল (দূর্)-এর প্রথম ধবনি। ‘আস্ত' শব্দটিতে শব্দের শেষে ‘স্’ ও ‘ত্’ ধ্বনিদ্বয় উচ্চারিত হয়ে একটি গুচ্ছধ্বনি তৈরি করেছে এবং ‘স্' ধ্বনি প্রথম দল

(আস্)-এর শেষ ধ্বনি এবং ‘ত্’ ধ্বনি দ্বিতীয় দল (ত)-এর প্রথম ধ্বনি। বাংলা ভাষায় দ্বিগুচ্ছধবনির অর্থাৎ দুই ব্যঞ্জনের গুচ্ছধ্বনির সংখ্যা ২০০টির বেশি | ত্রিপুচ্ছধ্বনি বাংলা ভাষায় অন্তত ৮টি| যেমন ‘অস্ত্র' শব্দের ‘স্ + ত্ + র্'| এক্ষেত্রে সর্বদাই শেষ ব্যঞ্জন হয় ‘র্’। চার ব্যঞ্জনের গুচ্ছধ্বনির উদাহরণ হল 'সংস্কৃত' শব্দের ‘ ং+ স্ + ক্ + র্'।

শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থানে থাকা একাধিক ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে যদি স্বরধ্বনি না থাকে, তবে তাকে বলা হয় ব্যঞ্জন-সমাবেশ। শব্দের শুরুতে বা শেষে থাকা ব্যঞ্জন-সমাবেশে কোনো দলসীমা যদি না থাকে, তবে তাকে বলা হয় যুক্তধ্বনি | " দুই ব্যঞ্জনের শব্দ শুরুর যুক্ত ধ্বনিতে প্রথম ব্যঞ্জনটি ‘স্' হবে, নয়তো

দ্বিতীয় ব্যঞ্জনটি 'র' বা 'ল' হবে। যেমন প্র (প্রাণ), ঐ (প্রাণ), তৃ (তৃণ), ধ্র (ধ্রুব),

স্প (স্পন্দন), ক্ষ (ক্ষীত) ইত্যাদি। শব্দের শুরুতে এইরকম মোট ২৮টি যুক্তধবনি পাওয়া যায় বাংলা ভাষায় | বাংলা কৃতঋণ বা আগন্তুক (মূলত ইংরেজি) শব্দে আরও বেশ কয়েকটি যুক্তধ্বনি পাওয়া যায়। যেমন— (ফ্রাই), ফ্ল (ফ্ল্যাট), ঐ (ট্রাম্) ইত্যাদি বাংলায় তিন ব্যঞ্জনের ২টি যুক্তধ্বনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেমন— (স্ত্রী), স্পৃ (স্পৃহা) আগন্তুক বেশ কিছু শব্দের শেষেও যুক্তধ্বনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেমন—ক্স (ট্যাক্স), ংক (ব্যাংক) ইত্যাদি। যুক্তধ্বনি এমনই এক ব্যঞ্জন-সমাবেশ যেখানে ব্যঞ্জনগুলিকে বর্গে লিখে দেখানো যায় ।

উচ্চারণ স্থান এবং চারপ্রকার উচ্চারণরীতি অনুযায়ী ৭টি বাংলা মৌলিক

[হিন্দু স্কুল]

• উত্তর

স্বরধ্বনি (অ, আ, অ্যা, ই, উ, এ, ও)-র উদাহরণ বৈশিষ্ট্যগুলি শব্দগত উদাহরণ সহযোগে নিম্নে বর্ণিত হচ্ছে—

ই –উচ্চ, সম্মুখ, প্রসৃত, সংবৃত, তালব্য: ইচ্ছা, নিয়তি, ইমন

উ –উচ্চ, পশ্চাৎ, বর্তুল, সংবৃত, কণ্ঠা: উচ্চ, বুদ্ধ, ভীমরুল ।

এ –উচ্চমধ্য, সম্মুখ, প্রসৃত, অর্ধসংবৃত, তালব্য: এমনি, যে, কনে।

ও —উচ্চমধ্য, পশ্চাৎ, বর্তুল, অর্ধসংবৃত, কণ্ঠ্য: অতি, তরু, বন ।

অ্যা –নিম্নমধ্য, সম্মুখ, প্রসৃত, অর্ধবিবৃত, তালব্য: অ্যাসিড, ব্যবহার, এখন ।

অ –নিম্নমধ্য, পশ্চাৎ, বর্তুল, অর্ধবিবৃত, তালব্য: অনৈক্য, কত, অল্প।

আ – নিম্ন, কেন্দ্রীয়, মধ্যস্থ, বিবৃত, কণ্ঠ: আমি, বাঘ, দেনা।

৭টি বাংলা স্বরধনির মধ্যে কেবলমাত্র 'অ' ধ্বনি শব্দের অস্তে কখনোই উচ্চারিত হয় না। বাকি ৬টি স্বরধ্বনি শব্দের আদ্য, মধ্য ও অন্ত অবস্থানে উচ্চারিত হয়।