Chapter-2⇒প্রাকৃতিক ভূগোলের নীতিসমূহ

ল্যাপলাসের নীহারিকা মতবাদ অনুসারে নীহারিকার কেন্দ্রীয় অংশ সূর্যে পরিণত হয়।

ল্যাপলাসের নীহারিকা মতানুসারে নীহারিকার নিরক্ষীয় তলের প্রান্তসীমা থেকে গ্যাসীয় পিণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

নীহারিকা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল নেবুলা (nebula)।

ভূ-অভ্যন্তরে প্রতি কিমি গভীরতায় 30 °সে. হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে সর্বত্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার এক নয়।

এক প্রকাণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিশালাকার মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে—এই মতবাদ মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

ইম্যানুয়েল কান্টের গ্যাসীয় তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে চেম্বারলিন ও মুলটনের গ্রহাণু মতবাদ গড়ে উঠেছে।

জিনস ও জেফ্রিসের তত্বে পৃথিবীর উৎপত্তির ক্ষেত্রে জোয়ারি শক্তির কথা বলা হয়েছে।

বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও নিম্নগুরুমগুলের বিচ্ছেদ ভলকে এর আবিষ্কর্তা বেনো গুটেনবার্গ-এর নামানুসারে উইশার্ট গুটেনবার্গ বিযুক্তিতল বলে।

অভারের প্রায় 2,900 কিমি গভীরে গুটেনবার্গ বিযুক্তি অবস্থিত।

বহিঃগুরুমণ্ডল বা অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের মধ্যে 100 কিমি " SING থেকে 250 কিমি গভীরতায় 'P' ও 'S' তরঙ্গের গতিবেগ কম থাকে বলে একে লো ভেলোসিটি জোন বা ভূমিকম্পের কম গতিবেশ অঞ্চল বলে।

ওয়েগনারের মহীসরণ মতবাদ সম্পর্কিত জার্মান ভাষায় প্রকাশিত বইটি হল— 'Die Entstehung der Kontinente and Ozeane'l

মোহো বিযুক্তিতল মহাদেশের নীচে প্রায় ৪ কিমি ও মহাসাগরের নীচে প্রায় 35 কিমি গভীরতায় লক্ষণীয়।

প্র্যাটের সমস্থিতি তত্ত্বের মূল ভিত্তি হল ভুত্বকীয় খণ্ডগুলির ঘনত্বের পার্থক্য।

রেডিওমেট্রিক বয়স নির্ধারণ (Radiomatric age dating) পদ্ধতিতে শিলার বয়স নির্ণয় করা হয়।

" আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের রকি ও আন্দিজ পর্বত কর্ডিলেরা নামে পরিচিত।

" আফ্রিকা ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে আল্পস পর্বতশ্রেণির উৎপত্তি হয়েছে।

পৃথিবীর উৎপত্তি-সংক্রান্ত স্মিট ও কুপারের তত্ত্বটি ‘সঞ্চয় তত্ত্ব' (Accretion Theory) নামে পরিচিত।

ভূ-অভ্যন্তরের কেন্দ্রমণ্ডলে S তরঙ্গ দেখা যায় না।

প্রাটের সমস্থিতি তত্ত্বের মূল ভিত্তি হল—বিভিন্ন ঘনত্বের পদার্থ প্রতিবিধানের সূত্র অনুযায়ী বিভিন্ন উচ্চতায় ভাসতে থাকে।

মহীখাত হল এক সংকীর্ণ, অগভীর ও দীর্ঘাকার জলভাগ যেখানে পললের সঞ্চয় ঘটে ও ফলস্বরূপ অবনমন ঘটে থাকে।

সিয়াল ও সিমাসহ পৃথিবীর মহাদেশ ও মহাসাগরীয় তলে কতকগুলি অনমনীয় এবং কঠিন খণ্ড আপেক্ষিকভাবে নিজেদের মধ্যে সঞ্চালনশীল থাকে, এই খণ্ডগুলিকে পাত বলে। পাতগুলি সাধারণত পরিচলন স্রোতের প্রভাবে অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।

অভিসারী পাত সীমানাকে ধ্বংসাত্মক পাত সীমানা বলা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্ট্রিজ চ্যুতি নিরপেক্ষ পাত সীমানার উদাহরণ।

মহাদেশীয় ভূভাগ ও মহাসাগরীয় ভূভাগ একত্রে অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

মহাসামুদ্রিক শৈলশিরা অঞ্চলে ভূঅভ্যন্তরীণ পরিচলন স্রোতের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ লক্ষ করা যায়।

কোনো স্থানে যে অভিকর্ষজ মান হওয়া উচিত ও সমীক্ষালব্ধ যে অভিকর্ষজ মান পাওয়া যায় উভয়ের মধ্যে পার্থক্যকে অভিকর্ষজ অসঙ্গতি বলে।

পরিচলন স্রোতের প্রভাবে অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর ভূত্বকীয় পাতগুলি সর্বদা গতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

পাত সীমানা অঞ্চলে সর্বাধিক ভূত্বকীয় পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

সমুদ্রবক্ষের বিস্তৃতি তত্ত্ব এবং মহীসারণ তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে পাতসংস্থান তত্ত্ব গড়ে উঠেছে।

সমস্থিতি তত্ত্বের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ভূমিরূপের উচ্চতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় ।

সমস্থিতি তত্ত্ব অনুযায়ী ভূগর্ভে মোহো বিযুক্তিতলের গভীরতা পর্বতের নীচে সবচেয়ে বেশি।

সমস্থিতি তত্ত্ব অনুযায়ী ভূগর্ভে মোহো বিযুক্তিতলের গভীরতা সমভূমির নীচে সবচেয়ে কম।

P তরঙ্গ শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

S-তরঙ্গ আলোক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

S-তরঙ্গ তরল মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে না।

কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান প্রধান খনিজ হল লোহা ও নিকেল।

কেন্দ্রমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত যথা—বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল।

বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা 2,900-5,150 কিমি।

অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের বিচ্ছেদতল লেম্যান বিযুক্তিতল নামে পরিচিত।

বহিঃগুরুমণ্ডল CroFeSiMa নামে পরিচিত।

অন্তঃগুরুমণ্ডল NiFeSiMa নামে পরিচিত।

ভূত্বক সিয়াল ও সিমা এই দুটি ভাগে বিভক্ত।

ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মধ্যের বিযুক্তির নাম হল মোহোরোভিসিক বিযুক্তি।

 

বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডল বিচ্ছেদকারী সীমারেখাকে রেপিট্টি বিযুক্তিরেখা বা 660 কিমি বিযুক্তিরেখা বলা হয়।

অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর দিয়ে P তরঙ্গ ও S তরঙ্গ নামক ভূকম্পীয় তরঙ্গ প্রবাহিত হতে পারে।

গুরুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হল লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।

কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান হল নিকেল ও লোহা।

পৃথিবীর কঠিন শিলাগঠিত বহিরাবরণের নাম ভূত্বক।

উপদ্বীপীয় ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে গণ্ডোয়ানাল্যান্ড গঠিত হয়েছিল।

ওয়েগনার মহাদেশগুলির পশ্চিমমুখী সঞ্চরণের জন্য জোয়ারি শক্তিকেই দায়ী করেছেন।

ওয়েগনার মহাদেশগুলির নিরক্ষরেখার দিকে সঞ্চরণের জন্য বৈষম্যমূলক অভিকর্ষজ বল এবং প্লবতা শক্তিকে দায়ী করেছেন।

ভূ-অভ্যন্তরে ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকে প্লিউম বলে।

ভূগর্ভের যে অঞ্চল থেকে নির্গত তাপপ্রবাহের মাত্রা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি, সেইসব অঞ্চল হল হটস্পট।

পৃথিবীর ৪০% আগ্নেয়গিরি কোমরবন্ধনীর আকারে প্রশান্ত মহাসাগরের উভয়পার্শ্বে পাত সীমানা বরাবর অবস্থান করছে। একে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলে।

অভিসারী পাত সীমানায় যেখানে দুটি মহাদেশীয় পাত মিলিত হয় সেখানে পাতসমূহের মধ্যবর্তী অংশে এক অপ্রশস্ত সমুদ্র অবস্থান করে যাকে জিওসিনক্লাইন বলে।

ভঙ্গিল পর্বত উত্থানের পর অবশিষ্ট মহীখাতে ক্ষয়প্রাপ্ত দ্রব্য পলির আকারে সঞ্চিত হয়ে পরবর্তীকালে যে কর্দমময় বা অবিশুদ্ধ বেলেপাথর, কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়াজাতীয় অবক্ষেপ সৃষ্টি হয়, তাকে ফ্লিশ বলে।

দুটি পাতের অনুভূমিক চলনের ফলে যে অঞ্চল বরাবর ভারী পাত হালকা পাতের নীচে অনুপ্রবিষ্ট হয়, তাকে অধঃপাত অঞ্চল (Subduction Zone) বলে।

মহাসাগরীয় মহাসাগরীয় অভিসারী পাত সীমানায় বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা গড়ে ওঠে।

NiFe-স্তর নিকেল ও লোহা দিয়ে গঠিত।

SiAl স্তর-এর মূল খনিজগুলি হল সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম ।

অশ্ম কথাটির অর্থ শিলা।

সিয়াল স্তরের প্রধান শিলা হল গ্র্যানাইট।

সিমা স্তরের প্রধান শিলা হল ব্যাসল্ট।

ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণভাবে প্রতি কিমি গভীরতায় 25-30 °সে. করে উয়তা বৃদ্ধি পায়, একেই বলে ভূতাপীয় অবক্রম।

ফিলিপিনস্ দ্বীপমালা বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালার উদাহরণ।

মেলাঙ্গে কথাটির অর্থ হল সমন্বয়।

উত্তর আমেরিকা পাতের নীচে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের অধোগমনের ফলে অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ তৈরি হয়েছে।

" ভূতকের বড়ো পাতের সংখ্যা 7 টি।

নিরপেক্ষ পাত সীমানাকে চ্যুতি পাত সীমানা বলা হয় ।

ঊর্ধ্বমুখী পরিচলন স্রোতের প্রভাবে যখন দুটি পাত পরস্পরের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যায়, তখন তাকে প্রতিসারী পাত সীমানা বলে।

 

প্রতিসারী পাত সীমানা গঠনাত্মক পাত সীমানা নামেও পরিচিত।

প্রতিসারী পাত সীমানায় নতুন ভূত্বক গঠিত হয় বলে একে গঠনাত্মক পাত সীমানা বলা হয়।

বিগ ব্যাং কথার অর্থ হ'ল মহাবিস্ফোরণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল পরিমাপ করা যায় না এমন এক অকল্পনীয় ঘন বস্তুপুঞ্জের বিস্ফোরণের ফলে। যাকে এরা বিগ ব্যাং বলেন। এই মহাবিস্ফোরণ ঘটে 1,000 থেকে 2,000 কোটি - বছর আগে। মহাবিশ্বের অলক্ষ প্রান্ত থেকে এখনও আগত বি অতি দুর্বল শীতল মহাজাগতিক বিকিরণ এই তত্ত্বের এক অকাট্য প্রমাণ।
পৃথিবীর উৎপত্তিতে ইম্যানুয়েল কান্টের গ্যাসীয় তত্ত্ব 1755 খ্রিস্টাব্দে জার্মান দার্শনিক ইম্যানুয়েল কান্ট পৃথিবীসহ সৌর পরিবারের সমস্ত গ্রহ ও সূর্যের জন্ম বৃত্তান্ত সম্বন্ধে যে মতবাদ প্রকাশ করেন তা গ্যাসীয় মতবাদ (Gaseous Hypothesis) নামে পরিচিত। তাঁর ধারণা সৌরজগৎ সৃষ্টির অনেক আগে থেকে মহাকাশ অতিপ্রাকৃতভাবে সৃষ্ট (Supernaturally Created) যা শীতল ও গতিহীন পদার্থের মেঘপুঞ্জে পরিপূর্ণ ছিল। কালক্রমে পারস্পরিক অভিকর্ষজ টানে ধার কঠিন বস্তুকণাগুলি পরস্পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে পদার্থসমূহের মধ্যে তাপের সঞ্চার ও ঘূর্ণন শুরু হয়। এভাবে ধীরে ধীরে আদি শীতল ও গতিহীন পদার্থের মেঘপুঞ্জ এক বিশাল
আয়তনের আবর্তনশীল উত্তপ্ত গ্যাসীয় পুঞ্জে পরিণত হয়। কান্টের মতে, এই গ্যাসীয় পুঞ্জের উয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে আকৃতিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যার ফলে এর ঘূর্ণন বেগ আরও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং এর ঘূর্ণন বেগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই পুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চলের কেন্দ্রাতিগ বল অভিকর্ষজ বল অপেক্ষা বহু গুণ বেশি হয়। এই কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে এর মধ্যভাগ থেকে একটার পর একটা বলয়ের আকারে পদার্থসমূহ ছিটকে বেরিয়ে আসতে থাকে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রীয় পুঞ্জটি সূর্যরূপে থেকে যায়। ধরে নেওয়া হয় যে, পরবর্তীকালে বলয়ের বস্তুকণাগুলি একত্রিত হয়ে এবং আরো সঙ্কুচিত ও ঘনীভূত হয়ে এক-একটি গ্রহে পরিণত হয়েছে। নবগঠিত গ্রহগুলিতে একই প্রক্রিয়া পুনরায় ঘটায় ক্ষুদ্র সংস্করণরূপে উপগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে একটি পূরিপূর্ণ সৌরজগৎ তৈরি হয়েছে।

সমালোচনা: পৃথিবী, অন্যান্য গ্রহ ও উপগ্রহের সৃষ্টিতে কান্টের গ্যাসীয় পুণ্ড্রের ধারণা অতি আধুনিক মতবাদের অনুরূপ হলেও এই মতবাদ বহুভাবে সমালোচিত হয়েছে। এই মতবাদের দুর্বল দিকগুলি হল—

কান্ট এই মতবাদে যে অতিপ্রাকৃত প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট আদি বস্তুকণার কথা বলেছেন, তার উৎসের কোনো উল্লেখ করেননি।

প্রারম্ভিক পর্যায়ে উপস্থিত অতি শীতল ও কঠিন আদি বস্তুকণা কোন্ বলের প্রভাবে ইতস্তত ও বিক্ষিপ্তভাবে গতিপ্রাপ্ত হয়েছে, তার উল্লেখ নেই।
আদি বস্তুকণা পরস্পর পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলেই পদার্থের মধ্যে আবর্তন বেগ সৃষ্টি হতে পারে না।

এই তত্ত্ব কৌণিক ভরবেগ (Angular Momentum) সংরক্ষণের নীতিকে অস্বীকার করে। কারণ, কৌণিক গতিবেগ ও বস্তুপুঞ্জের আয়তনের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।

এই প্রক্রিয়ায় গ্রহ ও উপগ্রহগুলি সৃষ্টি হলে এদের আবর্তন অভিমুখ একই দিকে (পশ্চিম থেকে পূর্বে) হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তার ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। যেমন— বৃহস্পতি ও শনির উপগ্রহগুলি বিপরীত দিকে ঘুরছে।

ব্যাখ্যা করেন। তাঁর এই তত্ত্ব নীহারিকা মতবাদ (Nebular Hypothesis) নামে পরিচিত। ল্যাপলাসের মতে, মহাকাশে আদি বস্তুকণা সৃষ্টির সময় থেকে একটি উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড আবর্তনশীল নীহারিকারূপে অবস্থান করত। পরবর্তীকালে নীহারিকা শীতল ও সংকুচিত হতে থাকে। নীহারিকা সংকুচিত হওয়ায় এর আবর্তন বেগও বাড়তে থাকে। ঘূর্ণনবেগ এমন এক পর্যায়ে আসে যে, ঘূর্ণায়মান নীহারিকার মধ্যবর্তী অঞ্চলের কেন্দ্রাতিগ বল ও অভিকর্ষ বল সমান হয়। ঠিক এরূপ অবস্থায় নীহারিকার বাইরের অংশের বস্তুকণা দিয়ে তৈরি বলয়ের আর নিজস্ব কোনো ওজন থাকে না। পদার্থের ওই বলয় তখন নিজের জায়গায় স্থিরভাবে ভাসমান থাকে। এভাবে নীহারিকার ক্রমশ শীতলীভবন ও সংকোচনের সাথে সাথে এর বাইরের অংশের
উৎক্ষিপ্ত পদার্থ দিয়ে একটি বলয় তৈরি হয়। বলয়টি নীহারিকার কেন্দ্রীয় বস্তুপুঞ্জ থেকে দূরে চলে যায় এবং নীহারিকাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে ও 9 টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বস্তুকণাগুলি একত্রিত ও ঘনীভূত হয়ে 9 টি গ্রহে পরিণত হয়। একই প্রক্রিয়ায় গ্রহগুলি থেকে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়। নীহারিকার অবশিষ্ট কেন্দ্রীয় অংশ সূর্যরূপে অবস্থান করে।

সমালোচনা: ল্যাপলাস প্রদত্ত গ্রহের সৃষ্টি তত্ত্ব থেকে এদের একই তলে অবস্থানের একটা ধারণা পাওয়া যায়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলি প্রথম অবস্থায় গ্যাসীয়, পরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে। পদার্থের পরিবর্তন ও পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ উয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এই তত্ত্ব বহুভাবে সমালোচিত হয়েছে। যথা—

। সৌরমণ্ডলের সমস্ত জ্যোতিষ্কের মোট কৌণিক ভরবেগ প্রাথমিক নীহারিকার মধ্যে বণ্টন করলে এর ঘূর্ণন বেগ এত বেশি হতে পারে না যাতে ল্যাপলাস নির্দেশিত পথে গ্রহের সৃষ্টি হতে পারে।

ইংল্যান্ডের পদার্থ বিজ্ঞানী জে. সি ম্যাকুওয়েলের মতে নীহারিকা থেকে বিচ্ছিন্ন ও পরিত্যক্ত বলয়ের ভর এত কম হয় যে তার মধ্যে অন্তর্নিহিত মহাকর্ষ বল দ্বারা পদার্থের কেন্দ্রীভবন ঘটিয়ে গ্রহে পরিণত হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

ল্যাপলাস শুরুতেই যে উত্তপ্ত, গ্যাসীয় ঘূর্ণায়মান নীহারিকার কথা বলেছেন, তার উৎপত্তি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

1 ল্যাপলাস একটি বলয় থেকে নির্দিষ্ট 9 টি গ্রহ সৃষ্টির কথা বলেছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যায় বিভক্ত হওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখাননি।

চেম্বারলিন ও মুলটনের গ্রহাণু তত্ত্ব

চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বিখ্যাত জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টি. সি. চেম্বারলিন ও এফ. আর. মুলটন 1904 খ্রিস্টাব্দে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের জন্ম-সংক্রান্ত এক নতুন তত্ত্ব প্রদান করে যা গ্রহাণু তত্ত্ব (Planetesimal Hypothesis) নামে পরিচিত। তাঁদের মতে, আমাদের এই সৌরজগতের বাইরেও লক্ষ লক্ষ জ্বলন্ত বাষ্পীয় পিণ্ড আছে যাদের বাইরের অংশে সবসময় বিস্ফোরণ ঘটছে। চেম্বারলিন ও মুলটনের মতে গ্রহ-উপগ্রহ সৃষ্টির পূর্বে আমাদের সৌরজগৎও এইরূপ একটা জ্বলন্ত বাষ্পীয় পিণ্ড ছিল। এই জ্বলন্ত বাষ্পীয় কুণ্ডলীর বাইরের অংশে মাঝে মাঝে বিস্ফোরণ ঘটত। গ্রহ-উপগ্রহ সৃষ্টির পূর্ব মূহুর্তে মহাকাশে একটা বিশালাকৃতি শক্তিশালী নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটে। নক্ষত্রটি দ্রুত
গতিতে সূর্যের দিকে এগিয়ে এলে নক্ষত্রের প্রবল আকর্ষণে সূর্যের ওপর প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়। আগন্তুক নক্ষত্রের আকর্ষণে সূর্যের নক্ষত্রমুখী পৃষ্ঠ থেকে বাষ্পীয় পদার্থ আলাদা হয়ে যায়। এ ছাড়া, কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সূর্যের ওপর পৃষ্ঠ থেকেও অনুরূপ বাষ্পীয় পদার্থসমূহ পৃথক হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন বাষ্পীয় পদার্থগুলি আগন্তুক নক্ষত্রের সাথে মিলিত হওয়ার আগেই সেটি বহুদূরে চলে যায়। ফলে, বাষ্পপিণ্ডগুলি দ্রুতগতিতে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করতে শুরু করে। বিস্ফোরণের সময় সূর্যের দেহ থেকে কোটি কোটি কঠিন পদার্থের টুকরো বেরিয়ে আসে এবং গ্রহকণাগুলি পারস্পরিক আকর্ষণে সঙ্ঘবদ্ধ ও জমাট বেঁধে গ্রহে পরিণত হয় এবং ছোটো ছোটো কণাগুলি একত্রিত হয়ে গ্রহের চারিদিকে উপগ্রহরূপে ঘুরতে শুরু করে।

সমালোচনা

• এই তত্ত্ব সূর্য ও গ্রহগুলির মধ্যে কৌণিক ভরবেগের বণ্টন-সংক্রান্ত সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়নি। এই মতবাদে গ্রহগুলির আয়তন অনুযায়ী বিন্যাস সম্পর্কে কোনো আলোচনা করা হয়নি। জিনস ও জেফিস-এর জোয়ারি তত্ত্ব জে. জিনস 1919 খ্রিস্টাব্দে তাঁর মতবাদটি জোয়ারি তত্ত্ব (Tidal Hypothesis) নামে প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে জেফ্রিস তাঁর তত্ত্বটি সামান্য পরিবর্তন করেন। তাঁর মত অনুযায়ী, গ্রহ সৃষ্টির আগে সূর্য ছিল একটি প্রকাণ্ড গোলাকার বাষ্পপিণ্ড। মহাকাশে সূর্যের পরিক্রমণের সময় সূর্যের থেকে বহুগুণে বড়ো অন্য একটি শক্তিশালী নক্ষত্র তার নিজস্ব গতিপথে পরিক্রমণ করতে করতে সূর্যের কাছে চলে আসে। নক্ষত্রটি যতই সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে পারস্পরিক আকর্ষণে তাদের গতিবেগও দ্রুত বাড়তে থাকে। জিনস ও জেফ্রিসের মতে, ধাবমান নক্ষত্রটির প্রভাবে সূর্যের দেহের ওপর জোয়ারি শক্তির প্রভাব পড়ে। তারকাটি যত সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে জোয়ারের তীব্রতাও তত বাড়তে থাকে এবং সূর্যের উপরিভাগের বাষ্পীয় অংশ স্ফীত হতে থাকে। সূর্য ও তারকাটির মাঝে স্ফীত অংশটি উভয়ের আকর্ষণে মাকু বা পটলের মত দুমুখ সরু ও মাঝখানে মোটা আকার ধারণ করে। আগন্তুক নক্ষত্রটি দ্রুত তার গতিপথে অদৃশ্য হয়ে গেলে সূর্যের আকর্ষণে বিচ্ছিন্ন অংশটি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন বাষ্পীয় অংশটি ঘনীভূত হয়ে বিভিন্ন আকৃতির গ্রহে পরিণত হয়। একইভাবে সূর্যের আকর্ষণে গ্রহগুলির ওপর জোয়ারের সৃষ্টি হয়, ফলে অনেকগুলি উপজে সৃষ্টি হয়।

সমালোচনা

জিনস তাঁর তত্ত্বের শক্তিশালী নক্ষত্রের উৎপত্তি ও ঘন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি।

2 বিজ্ঞানী Parisky প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, জোয়ারি ত সূর্য ও গ্রহসমূহের মধ্যে প্রকৃত দূরত্ব পরিমাণ করতে

ভূকম্পীয় তরঙ্গ দ্বারা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে তথ্য লাভ

ভূমিকম্প হলে P, S ও L-এই তিনপ্রকার তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক বা P তরঙ্গ ও গৌণ বা S তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি দ্বারা ভূ-অভ্যন্তরের গঠন সম্বন্ধে ধারণা করা যায়। যেমন—

P তরঙ্গ শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই এই তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যম দিয়ে ভ্রমণ করতে পারে। P তরঙ্গের গতিবেগ পদার্থের অনড়তা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে। পদার্থের ঘনত্ব ও অনড়তা বাড়লে এর গতিবেগও বাড়ে। তাই ভূ-অভ্যন্তরে P তরঙ্গের গতিবেগের তারতম্যের দ্বারা পৃথিবীর স্তর বিন্যাস করা সম্ভব হয়েছে।

S তরঙ্গ আলোক তরঙ্গের মতো আচরণ করে তাই এই তরঙ্গ তরল পদার্থের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না ও তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে হারিয়ে যায়। এর দ্বারা তৈরি ছায়া বলয় প্রমাণ করে যে, ভূ-অভ্যন্তরের কোনো অংশ তরল অবস্থায় আছে। তাই এই দুই তরঙ্গের গতিবেগের তারতম্য ও প্রতিসরণের সাহায্যে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কে বহু তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রমণ্ডল

" সংজ্ঞা: ভূকেন্দ্র থেকে প্রায় 3,471 কিমি ব্যাসার্ধের যে অতীব ঘন তরল পদার্থের স্তর আছে, তাকে কেন্দ্রমণ্ডল (Core) বলে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে 104° কৌণিক দূরত্বে S তরঙ্গ ধরা পড়ে না। তাই অনুমান করা হয় যে, পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল তরল অবস্থায় আছে। এই স্তরটি প্রধানত নিকেল (Nickel) এবং লোহা (Ferrous) দ্বারা গঠিত বলে একে সংক্ষেপে ‘নিফে’ (NiFe) বলে।

বৈশিষ্ট্য

অবস্থান ও গভীরতা : ভূপৃষ্ঠ থেকে 2,900 কিমি গভীরতার পর থেকে ভূকেন্দ্র পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত। 2 উন্নতা: এই স্তরের উয়তা অত্যন্ত বেশি, প্রায় 6,000 °সে.

বা তারও বেশি।

3 উপাদানঃ এই স্তরটির প্রধান দুটি উপাদান হল লোহা ও নিকেল। তবে এখানে লোহা, অক্সিজেন, গন্ধক এবং নিকেল সংকর বা মিশ্র (Alloy) অবস্থায় আছে।

4 ঘনত্ব: ভূ-অভ্যন্তরের তিনটি স্তরের মধ্যে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এই স্তরের ঘনত্ব 9.1 থেকে 13.1 গ্রাম/ঘনসেমি। 5 চাপ: পৃথিবীর কেন্দ্রের চাপ সর্বাপেক্ষা বেশি, প্রায় 3,500

কিলোবার।

11.6 উপরিভাগ: কেন্দ্রমণ্ডলের সব অংশে উয়তা, চাপ, ঘনত্ব একরকম নয়। P তরঙ্গের গতিবেগের তারতম্য ও প্রতিসরণের
ভিত্তিতে ভূবিজ্ঞানীরা এই স্তরটিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন।

যথা

1 অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল: এটি কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতরের অংশ এবং এর বিস্তৃতি 5,150 - 6,371 কিমি। এই স্তরের চাপ, তাপ, ঘনত্ব বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের তুলনায় বেশি। এই স্তরের ঘনত্ব ঊর্ধ্বাংশে 12.8 গ্রাম / ঘনসেমি এবং নিম্নাংশে 13.1 গ্রাম/ঘনসেমি। বিজ্ঞানীদের মতে অত্যন্ত উত্তপ্ত হলেও অত্যধিক চাপের জন্য অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের পদার্থসমূহ কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল: অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের ওপরের স্তরটিকে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল বলে যা লেম্যান বিযুক্তিতল দ্বারা বিভক্ত। এই স্তরটি 2,900 – 5,150 কিমি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরের ঘনত্ব ঊর্ধ্বাংশে প্রায় 9.9 গ্রাম/ঘনসেমি এবং নিম্নাংশের পদার্থসমূহ (লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি) তরল অবস্থায় রয়েছে।

প্রবীর স্তরবিন্যাস

S তরঙ্গের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তে ভূবিজ্ঞানীরা পৃথিবীকে প্রধান তিনটি স্তরে [চিত্র 2.2] করেছেন। এগুলি হল – সবচেয়ে ওপরের কঠিন বা ভূত্বক, ভূত্বকের নীচে অবস্থিত গুরুমণ্ডল এবং গুরুমণ্ডলের নীচে অবস্থিত কেন্দ্রমণ্ডল।
ভূত্বক-এর বৈশিষ্ট্য

গুরুমণ্ডলের ওপরে যে কঠিন, হালকা ও পাতলা শিলাস্তরটি (শামুকের খোলার মতো) পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে ভূত্বক [চিত্র 2.2]। এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ—

অবস্থান ও গভীরতা: এটি সর্বোচ্চ স্তর। এই স্তরের গভীরতা সব জায়গায় সমান নয়। সমুদ্রের তলায় ভূত্বক প্রায় 5-10 কিমি পুরু। আর মহাদেশগুলির পার্বত্য ভূত্বক অনেক স্থানে প্রায় 60 কিমি পুরু। এজন্য গভীরতা গড়ে 30 কিমি ধরা হয়। 2 উচ্চতা: উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ঠান্ডা হয়ে এই শক্ত শিলাস্তর গঠিত হয়েছে। সেইজন্য এই স্তরের উন্নতা পৃথিবীর তিনটি স্তরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ও ঘনত্ব: তিনটি স্তরের মধ্যে এটি সবচেয়ে হালকা। এর ঘনত্ব প্রতি ঘনসেমিতে 2.70 গ্রাম থেকে 3.0 গ্রাম। অর্থাৎ নীচের দিকে 2.9-3.0 গ্রাম/ঘন সেমি এবং উপরিভাগে 2.7-2.8 গ্রাম / ঘনসেমি। এই স্তরের গড় ঘনত্ব 2.7 গ্রাম / ঘনসেমি।

উপাদানঃ এই স্তরে সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম

প্রভৃতি হালকা পদার্থ বেশি পরিমাণে থাকে। 5 শিলা: এই স্তরটি প্রধানত তিনপ্রকার শিলা দ্বারা গঠিত।

যথা- আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

উপবিভাগ: ভূত্বক গঠনকারী শিলাসমূহের ঘনত্বের পার্থক্যসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভূত্বককে প্রধানত দুটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা—

• সিয়াল: : ভূত্বকের ওপরের সবচেয়ে হালকা অংশ হল সিয়াল। এই অংশে প্রধানত সিলিকা (Silica) এবং অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) এই দুটি মৌলিক পদার্থের প্রাধান্য থাকায় একে সিয়াল (SiAl) বলে। সাধারণভাবে মহাদেশগুলি এই ‘সিয়াল’ ভূত্বকে তৈরি হয়।

সিমা বা সায়মা : ভূত্বকের নীচের অপেক্ষাকৃত ভারী অংশটি হল সিমা। এই অংশটি প্রধানত সিলিকা (Silica) এবং ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) এই দুটি মৌলিক উপাদানে গঠিত বলে একে সিমা (SiMa) বলে। সমুদ্র তলদেশের ওপরের সামান্য পলিস্তর বাদ দিয়ে বাকি এলাকা এই ‘সিমা’ ভূত্বক দ্বারা গঠিত বলে এর আর-এক নাম মহাসাগরীয় ভূত্বক (Oceanic Crust)। সিয়াল ও সিমা কনরাড বিযুক্তিতল দ্বারা বিভক্ত।

মহীসঞ্চরণের নিরিখে পর্বত সৃষ্টির ব্যাখ্যা

ওয়েগনার মহীসরণকে পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, মহীসরণের ফলে আদিম ভূখণ্ড ‘প্যানজিয়া' লরেসিয়া ও গণ্ডোয়ানাল্যান্ড নামে দুটি অংশে বিভক্ত হয়। এই দুটি অংশের মাঝখানে গঠিত অগভীর সমুদ্র 'টেথিস'-এ কোটি কোটি বছর ধরে পলি সঞ্চয় চলতে থাকে। এরপর গণ্ডোয়ানাল্যান্ড উত্তর দিকে এবং লরেসিয়া পশ্চিম দিকে ক্রমশ সরে যায়। এভাবে পার্শ্বচাপের উদ্ভব হয় ও টেথিসের পলিরাশি ভাঁজ প্রাপ্ত হয়ে আস ও হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি ঘটায়। ওয়েগনারের মতে, লরেসিয়া ভূখণ্ডের পশ্চিমমুখী গতির কারণে ওই ভূখণ্ডের পশ্চিম অংশ কুঁচকে ও বেঁকে গিয়ে রকি ও আন্দিজ পর্বতশ্রেণি গঠন করে।

মহীসঞ্চরণ তত্ত্বের দুর্বল দিকসমূহ

ওয়েগনার 1912 খ্রিস্টাব্দে প্রথম মহীস রণের কথা বললেও 1924 খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর তত্ত্বটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়, তারপর থেকেই বিশেষজ্ঞমহলে এ বিষয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। যেসব কারণে মহীসারণ তত্ত্বটি সমালোচিত হয়, সেগুলি হল—

[1] প্রয়োজনীয় বল বা শক্তির অভাব: হ্যারল্ড জেফ্রিস- সহ

অনেক ভূপদার্থবিজ্ঞানী হিসাব করে দেখিয়েছেন যে, মহাদেশীয় সারণের জন্য যে বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন তা জোয়ারি বল থেকে এক হাজার কোটি গুণ বেশি হওয়া দরকার। এ ছাড়া, বৈষম্যমূলক অভিকর্ষ বলও মহীসারণের জন্য যথেষ্ট নয়।

12 জীবাশ্ম-সংক্রান্ত যুক্তির দুর্বলতা: অস্ট্রেলিয়া, ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়াও কাশ্মীর, উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তান, উত্তর-পূর্ব ইরান এবং সাইবেরিয়ার বিভিন্ন স্থানে গ্লোসোপটেরিস উদ্ভিদ জীবাশ্মের নিদর্শন পাওয়া গেছে। কিন্তু এইসব নতুন নতুন জায়গায় এই জীবাশ্মের প্রাপ্তির কারণ বর্ণনা করতে হলে মহীসারণ তত্ত্বকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

| ত্রুটিপূর্ণ জিগ-স্-ফিট: ওয়েগনার বিচ্ছিন্ন মহাদেশ গুলির উপকূলরেখার মধ্যে যে মিল দেখিয়েছেন বিশেষত আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের জোড় যতটা নিখুঁত
বলেছেন, বাস্তবে তা কিন্তু ঠিক নয়।

4. সূচনার সময়কাল-সম্পর্কিত অস্পষ্টতা : ওয়েগনার

কার্বনিফেরাস যুগকেই প্যানজিয়ার ভাঙন এবং মহাদেশগুলির সঞ্চরণের সূচনার সময় বলে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু তার আগে কোন্ শক্তি প্যানজিয়াকে একত্রে রেখেছিল, তারও কোনো উত্তর দেননি।

5 পর্বত সৃষ্টি-সংক্রান্ত ব্যাখ্যার দুর্বলতা: উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের আন্দিজ; রকি প্রভৃতি পর্বতের উৎপত্তি সম্পর্কে ওয়েগনারের ব্যাখ্যা কেউই মেনে নেয়নি।

কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান প্রধান খনিজ হল লোহা ও নিকেল

কেন্দ্রমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত যথা—বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও

অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল।

বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা 2,900-5,150 কিমি।

 

অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের বিচ্ছেদতল লেম্যান বিযুক্তিতল নামে পরিচিত।

বহিঃগুরুমণ্ডল CroFeSiMa নামে পরিচিত।

অন্তঃগুরুমণ্ডল NiFeSiMa নামে পরিচিত।

ভূত্বক সিয়াল ও সিমা এই দুটি ভাগে বিভক্ত।

ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মধ্যের বিযুক্তির নাম হল মোহোরোভিসিক বিযুক্তি।

বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডল বিচ্ছেদকারী সীমারেখাকে রেপিট্টি বিযুক্তিরেখা বা 660 কিমি বিযুক্তিরেখা বলা হয়।

অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর দিয়ে P তরঙ্গ ও S তরঙ্গ নামক ভূকম্পীয় তরঙ্গ প্রবাহিত হতে পারে।

গুরুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হল লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম

ও ম্যাগনেশিয়াম।

কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান হল নিকেল ও লোহা।

পৃথিবীর কঠিন শিলাগঠিত বহিরাবরণের নাম ভূত্বক।

উপদ্বীপীয় ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা নিয়ে গণ্ডোয়ানাল্যান্ড গঠিত হয়েছিল।