Chapter-2 ➤ ভৌত পরিবেশ

উঃ-সার তিনপ্রকার হয়, যথা— জৈবসার, অজৈব সার বা রাসায়নিক সার ও জীবসার।

উঃ-জীবজাত উপাদান বা প্রকৃতিজাত উপাদান থেকে বিভিন্ন জীবের বিয়োজন ক্রিয়ায় যে সার তৈরি হয়, তাকে জৈবসার বলে। যেমন— গোবরসার, পচাপাতা সার, হাড়গুঁড়ো প্রভৃতি।

স্থিতিশীল প্রাকৃতিক শক্তি: শাকসবজি, ফলমূলে খোসা, পচা পাতা, বিভিন্ন প্রাণীর মলমূত্র প্রভৃতি মিলেমিশে যে-সার তৈরি হয়, তাকে কম্পোস্ট সার বলে।

উঃ-বায়ু থেকে খাবার তৈরির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড আর শ্বাসকার্য চালানোর জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে, আর জল থেকে খনিজ লবণ গ্রহণ করে।

উঃ-শাকসবজি, ধানের মতো মাছ, মাংস, ডিম তৈরিতেও মাটি পরোক্ষভাবে দরকার। মাটিতেই সব গাছপালা, ফলমূল, শস্য উৎপন্ন হয়। মাংস ও ডিম উৎপাদনকারী সব প্রাণী গাছপালা, পাতা, শস্য, ফলমূল খায়। তারা এসব খেয়ে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে, ফলে আমরা মাংস, ডিম পাই আবার পুকুর, নদীনালা, খালবিলের জলের তলায় মাটি থাকবেই অর্থাৎ, জলাশয় মাত্রই মাটির ওপর অবস্থিত, সেজন্য মাছ উৎপন্ন করতে গেলে জলের সঙ্গে মাটিও দরকার।

উঃ-মাটির সজীব জৈব উপাদান বলতে মাটির মধ্যে থাকা নানারকম ছোটো ছোটো জীব ও জীবাণুকে বোঝায়। এরা মাটির জটিল মৃত উপাদানকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং বিভিন্ন জটিল জৈববস্তুকে ভেঙে কম্পোস্ট সার তৈরিতে সাহায্য করে।

যেমন—কেঁচো, কিছু ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া।

উঃ-লাঙল বা ট্র্যাক্টর দ্বারা চষা কাদা জলযুক্ত মাটিতে বীজতলা থেকে পাঁচ-সাতটি চারা একসঙ্গে বিঘতখানেক অন্তর সারি দিয়ে জমিতে বসানো হয়। এই চারা বসানোর পদ্ধতিকেই রোপণ বা ধান রোয়া বলে ৷

উঃ-ধান চাষের জন্য চাষের আগে বীজধানকে ছোটো কাদাযুক্ত জমির মধ্যে ঘনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, একে বীজতলা বলে ৷

প্রথমে ছোটো একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্বাচন করে লাঙল দিয়ে কুপিয়ে মাটি তৈরি করা হয়। তারপর ঘন করে ধান বীজ ছড়ানো হয়।

উঃ-ধানরোয়া বা বীজবপনের সময় অনুযায়ী ধান তিন রকমের হয়— 1) আউশ, 2) আমন ও 3) বোরো।

উঃ-ধান ও শাকসবজি চাষে এক-দেড় ফুট গভীর মাটি লাগে।

পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে জমি তৈরি করা হয়, সেই জমিতে জল আটকে ধান চাষ (ধাপ চাষ) করা হয়।

উঃ-ভূমিধসের কারণগুলি হল

1) ভূমিকম্প: ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে পাহাড়ে ও অন্যসব জায়গায় ভূমিধস হয়।

2) বৃষ্টিপাত: বৃষ্টিপাতের ফলে পুকুর, নদীনালার পাড়, পাহাড়ের ঢালে মাটি আলগা হয়ে জমি ধসে পড়ে।

3) যথেচ্ছ গাছকাটা: যথেচ্ছ বৃক্ষচ্ছেদনের ফলে মাটির শিকড় মাটিকে আলগা করে দেয়, ফলে মাটি ধসে পড়ে।

4) পলিথিন বা প্লাস্টিক, নোংরা আবর্জনা ফেলা: প্লাস্টিক, পলিথিন, নোংরা আবর্জনা মাটিতে দীর্ঘদিন জমে অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। এগুলির ওপরে জমা মাটির সঙ্গে নীচের মাটির সংযোগ থাকে না, ফলে বৃষ্টিপাত বা ঝড়বৃষ্টিতে ওপরের মাটি সরে ভূমিধস বা ভূমিক্ষয় ঘটে।

জলাশয় মানচিত্রে কী কী জিনিস দেখানো হয় ? 2 উঃ- জলাশয় মানচিত্রে পুকুর (সাধারণ বা পাড়বাঁধানো), বিল, নদী, নালা, বাঁওড়, নয়ানজুলি, ভেড়ি, খাল, তাদের চারপাশে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, গাছপালা সবই দূরত্ব ও দিক- সহ দেখানো হয়।

ভূমিক্ষয় রোধ করার উপায়:

1) ব্যাপক হারে নতুন চারাগাছ লাগানো এবং যথেচ্ছহারে গাছপালা কাটা বন্ধ করা গেলে ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

2) পলিথিন, প্লাস্টিক, ওষুধের মোড়ক যেখানে-সেখানে না-ফেলা, বিশেষত পাহাড়ি অঞ্চলে ওই সব জিনিসের ব্যবহার বন্ধ করা।

3) পশুচারণ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

উঃ-জলাশয় মানচিত্রে পুকুর (সাধারণ বা পাড়বাঁধানো), বিল, নদী, নালা, বাঁওড়, নয়ানজুলি, ভেড়ি, খাল, তাদের চারপাশে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, গাছপালা সবই দূরত্ব ও দিক- সহ দেখানো হয়।

উঃ-মাটি কেটে রাস্তা বা বাঁধ তৈরি করলে রাস্তার দু-ধারে যে-সরু, লম্বাটে জলাশয় তৈরি হয়, তাকে নয়ানজুলি বলে। নয়ানজুলি থেকে মানুষ মাছ ধরে ও বিক্রি করে।

উঃ-পুকুরপাড়ের মাটি সাধারণত উর্বর, এ ছাড়া জলের কাছাকাছি হওয়া পুকুর পাড়ে গাছপালা, ঘাস, লতা, গুল্ম সহজেই জন্মায়। পুকুরপাড়ের লতা-গুল্ম ঝোপে নানান কীটপতঙ্গ, সাপ, ব্যাং ও অন্যান্য প্রাণী বাস করে। পুকুরের পাড় শানবাঁধানো বা পাকা হলে এইসব প্রাণীদের খাবার সংগ্রহে অসুবিধা হয় । জলজ কীটপতঙ্গ, শ্যাওলা, কেঁচোর বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বাসস্থানের সংকট দেখা দেয়, ফলে তারা বিপন্ন হয়, সেজন্য পুকুর বা জলাশয়ের পাড় বাঁধানো উচিত নয় ।

উঃ-যে-বিক্রিয়ার মাধ্যমে দুই বা তার বেশি পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের বা নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে ৷

এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নতুন পদার্থ থেকে আর আগের পদার্থকে ফিরে পাওয়া যায় না।

উদাহরণ: দুধে লেবুর রস দিলে দুধ কেটে ছানা হয়ে যায়। ছানা থেকে দুধ আর ফিরে পাওয়া যায় না— এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

উঃ-শহরের মধ্যে পুকুর থাকলে সেই জল যতটা নোংরা হওয়ার কথা ততটা নোংরা হয় না— কারণ, পুকুরের জলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়, এর ফলে বাতাসের অক্সিজেন জলে গুলে যায়। জলে থাকা নোংরার সঙ্গে অক্সিজেনের বিক্রিয়ায়, নোংরাগুলি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে জলে আর নোংরা থাকে না।

উঃ-কিছু জলচর প্রাণী আছে (মাছ, ছোটো-বড়ো জীব) যারা নোংরা খায়। আবার কিছু নোংরা ভেঙে অক্সিজেন তৈরি হয়। ওই অক্সিজেন এবং বাতাসের অক্সিজেন মিলে কিছু নোংরা শোধন করে, এইভাবে জলশোধন হয়।

উঃ-দুটি পদ্ধতিতে জলদূষণ প্রতিরোধ করা যায়, যথা— 1) প্রাকৃতিক পদ্ধতি ও  2) রাসায়নিক পদ্ধতি ।

উঃ-আমাদের ব্যবহারের জল কীভাবে নষ্ট হয়

1) পাড়ায় জল সরবরাহকারী জলের কল বা তার পাইপ ফেটে গেলে তার থেকে অযথা জল নষ্ট হয়।

2) জলের কল খোলা থাকলে তা থেকে জল পড়ে জল নষ্ট হয়।

3) টিউবওয়েলের জলে বাসনমাজা, কাপড়কাচা করলে এবং বোতল, বালতি প্রভৃতিতে জল ভরে পান না। করলে অথবা কাজ না-করলে জল নষ্ট হয়।

4) পুকুরে, নদীতে নোংরা আবর্জনা ফেললে, গৃহস্থালির বর্জ্য ও কলকারখানার নোংরা পড়ে জল নষ্ট হয়।

5) বৃষ্টির জলকে সঞ্জয় না করতে পারলেও বা তা ধরে না রাখতে পারলেও সেই জল অপচয় হয়।

উঃ-জলের অপচয় রোধ করার উপায়

1) বৃষ্টির জলকে ধরে রেখে ব্যবহার করলে জলের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি বিকল্প জলের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

2) পাশাপাশি কোথাও কল ভাঙা থাকলে তা সারানোর জন্য বাড়ির বড়োদের বলে তা সারানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

3) কোনো জায়গায় বা রাস্তাঘাটে কল খোলা থাকতে দেখলে তা বন্ধ করতে হবে।

4) মাটির নীচের উৎস থেকে পাওয়া পানীয় জলে বাসনমাজা, কাপড় কাচা এড়িয়ে চলতে হবে।

5) পানীয় জলের সীমিত ব্যবহার করতে হবে।

উঃ-অনেক বছর আগে সূর্যের আলো, মাটি, জল ও বাতাসের মাঝে গড়ে-ওঠা উদ্ভিদজগতের পাশে গড়ে উঠল প্রাণীজগৎ। পোকামাকড়, বিভিন্ন ধরনের পাখি, ছাগল, গোরু, ভেড়া, খরগোশ, হরিণ ইত্যাদি শাকাশী প্রাণী ঘাস, পাতা, গাছ, ফুল, ফল ইত্যাদি খেয়ে বেড়ে উঠেছে। আবার বাঘ, সিংহ, নেকড়ে ইত্যাদি মাংসাশী প্রাণী শাকাশী প্রাণীদের ভক্ষণ করে বেড়ে উঠেছে। এভাবেই উদ্ভিদজগৎ ও প্রাণীজগৎ পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে।

উঃ-সূর্যের আলো, জল, মাটি ও বাতাসের ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগৎ বেঁচে থাকে।

উঃ-প্রাণীজগতের মধ্যে গোরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাতি, হরিণ, কিছু পাখি, পোকামাকড় গাছের লতা, পাতা, ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে, এদের বলে তৃণভোজী। আবার, সাপ, ব্যাং, টিকটিকি, বাঘ, সিংহ, হায়না, তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে, এদের বলে মাংসাশী। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহ করে। মানুষ সর্বভুক, অর্থাৎ উদ্ভিদজাত ও  প্রাণীজাত সবরকম খাদ্যই গ্রহণ করে।

উঃ-উদ্ভিদের, প্রাণীর ওপর নির্ভরশীলতা

1) প্রাণীদের বর্জ্য বা রেচন পদার্থ উদ্ভিদকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

2) উদ্ভিদের খাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রাণীদের শ্বাসকার্যের ফলে উৎপন্ন হয়।

3) উদ্ভিদের পরাগমিলন, ফুল ও বীজের বিস্তারে নানান প্রাণী সাহায্য করে।

উঃ-উদ্ভিদের ওপর প্রাণীদের নির্ভরশীলতার উদাহরণ

1) প্রায় সব প্রাণীদেরই খাদ্যের প্রধান উৎস হল উদ্ভিদ, তৃণভোজী প্রাণীরা সরাসরি গাছপালা খেয়ে বেঁচে থাকে, । যেমন—গোরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি। মাংসাশী প্রাণীরা শাকাশী প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে। মানুষ গাছপালার মূল, কাণ্ড, পাতা, ফল, বীজ সবই খায়।

2) উদ্ভিদ বিভিন্ন প্রাণীদের আশ্রয়দান করে। নানান পাখি, বানর, বাদুড়, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি গাছে বসবাস করে।

3) মানুষ খাদ্য ছাড়াও, পোশাক, বাসস্থান, জ্বালানি, ওষুধ প্রভৃতির জন্য গাছপালার ওপর নির্ভর করে।

উঃ-উদ্ভিদজগৎ থেকে আমরা উপকার পাই

1) আমাদের চারপাশে অনেক সবুজ গাছপালা আছে, যা মানুষ ও অন্যান্য শাকাহারী প্রাণী, যেমন গোরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতিরা সরাসরি ভক্ষণ করে জীবনধারণ করে।

2) আমরা ফুল (গন্ধ, সৌন্দর্য), ফল (যেমন কলা, আঙুর প্রভৃতি), কাঠ (জ্বালানি), বীজ প্রভৃতি উদ্ভিদজগৎ থেকে পেয়ে থাকি।

3) উদ্ভিদ মাটির ক্ষয়রোধ করে ও উর্বরতা (অর্বুদ জাতীয় গাছ) বৃদ্ধি করে।

4) ছায়া (বট, অশ্বত্থ) প্রদান করে।

উঃ-যেসব প্রাণীর দেহে মেরুদণ্ড আছে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। উদাহরণ: মাছ, ব্যাং ইত্যাদি।

উঃ-যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। উদাহরণ: কেন্নো, শামুক, চিংড়ি ইত্যাদি।

উঃ-চিংড়ির দেহে মাছের মতো কাঁটা নেই। চিংড়ির শির- দাঁড়া বা মেরুদণ্ড নেই। এ ছাড়া এটি আঁশবিহীন ও জলের অন্যান্য পোকার মতো, তাই চিংড়ি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

উঃ- 1) রুই মাছের গা আঁশে ঢাকা, কিন্তু ট্যাংরাতে কোনো আঁশ নেই।

2) রুই মাছের দেহে কোনো কাঁটা নেই, কিন্তু ট্যাংরা মাছের গায়ে কাঁটা আছে।

3) রুইমাছের পাখনার (জোড় ও বিজোড়) সংখ্যা সাতটি, কিন্তু ট্যাংরা মাছের কাঁটা ও পাখনার সংখ্যা সব মিলিয়ে সাতটি।

4) রুই মাছের দেহাভ্যন্তরে কাঁটার সংখ্যা ট্যাংরার চেয়ে বেশি।

উঃ-লতানো গাছ বা সোজা হয়ে দাঁড়াতে অক্ষম এমন বীরুৎ গাছপালার কাণ্ড বা পাতা রূপান্তরিত হয়ে সবুজ রঙের সুতোর মতো প্যাঁচানো বা স্প্রিং-এর মতো যে-অঙ্গ পাশের কোনো কিছু অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরে ওপরে উঠতে সাহায্য করে, তাকে আকর্ষ বলে। উদাহরণ: লাউ গাছ, মটর গাছ।

উঃ-বিরুৎ জাতীয় লতানো গাছগুলির কাণ্ড খুব সরু ও নরম হয়। এতে কাঠ জাতীয় উপাদান একদমই থাকে না। সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং বেড়ে ওঠার জন্য এদের কোনো কিছু অবলম্বনের দরকার হয়। এক্ষেত্রে তাদের কিছু পাতা পরিবর্তিত হয়ে সরু প্যাঁচানো আকর্ষে পরিণত হয়। এটি এক বিশেষ ধরনের বিশেষ আচরণ।