বাঙালির কুন্ডিচর্চার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। 5
কুস্তি একটি প্রাচীন খেলা। আমাদের মহাকাব্যগুলিতে এটি মল্লক্রীড়া নামে পরিচিত। বাঙালি সমাজে এই খেলা চলে আসছে সুদূর অতীত থেকেই। তবে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্বে বাংলার বিপ্লবীদল তাদের শরীরচর্চার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নতুন করে এই খেলার অনুশীলন শুরু করেন। দেশাত্মবোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে অনুশীলন সমিতি'। সেখানে শরীরচর্চা এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে কুস্তির আখড়া তৈরি হয়। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতেও নিয়মিত কৃষ্টিচার প্রচলন ছিল। কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ও ত্রিপুরার মহারাজা এই বিষয়ে উৎসাহী ছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে। কলকাতা শহরে কুস্তিগির অম্বিকাচরণ হর নেতৃত্বে বাংলায় কুড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভারতবর্ষের নানা অঞ্চল থেকে তিনি মন্ত্রশিক্ষক এনে কৃতিশিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে কৃতিসির শরৎচন্দ্র মিত্রর নেতৃত্বে গোবরবাবু (প্রকৃত নাম যতীন্দ্রচরণ হ, ১৩.৩:১৮১২-৩.১.১৯৭২) ইংল্যান্ডে গিয়ে আমেরিকা আর ইউরোপের বহু কুস্তিগিরকে পরাজিত। করেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে গোবরবাবু আবার ইউরোপে গিয়ে ব্রিটিশ এম্পায়ার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে গোবরবাবু সানফ্রানসিকো শহরে অ্যাডল্ফ সাটেলকে পরাস্ত করে বিশ্ব লাইট হেডিওয়েট চ্যাম্পিয়ানশিপ লাভ করেন। তিনি তাঁর নিজস্ব ঘরানার প্যাঁচ-লুকানোর ধোঁকা, টিবি, গাধানেই, ঢাক, চাং কুয়া প্রভৃতিতে সিদ্ধ ছিলেন। অলিম্পিকে ভারতীয় কুস্তিদলের শিক্ষক মানিক দুই কুঠির আন্তর্জাতিক রেফারি নির্বাচিত হন। বাঙালিদের পক্ষে এই সম্মান বিশেষ উৎসাহের সূচনা করে।
বাংলার কুত্তির ইতিহাসে গোবর গুহের অবদান আলোচনা করো। 5
বাঙালির বুদ্ধির গৌরবকে গোটা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গোবর গ্রহ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য নাম। প্রকৃত নাম যতীন্দ্রচরণ গুহ। গোবর গুদের পিতামহের পিতামহ শিবচরণ এই আধুনিক বাংলাদেশের প্রথম আমড়াটি স্থাপন করেন হোগোলকুঁড়িয়ায়। বর্তমান মসজিদবাড়ি স্ট্রীটে। তাঁর পিতামহ অম্বিকাচরণ গুহ-কে বাংলাদেশে আখড়া সংস্কৃতির পথিকৃৎ বলে মনে করা হয়। পিতা রামচরণ গুহ এবং কাকা ক্ষেত্রমোহন গুহ বা খেতুবাবুও ছিলেন নামকরা কুস্তিগীর। প্রথম জীবনে তাঁদের কাছেই কৃষ্টির প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছিলেন গোবর গুহ। পরবর্তীকালে তাদেরই আখড়াতে কর্মরত বিখ্যাত কুস্তিগীর ঘোলসা চৌবে ও রহমানি পালোয়ানের কাছে তাঁর অনুশীলन হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হলে গোবর গুহের উচ্চতা হয় ছয় ফুট এক ইসি এবং ওজন হয় ২৯০ পাউন্ড।
১৯১০ সালে ১৮ বছর বয়সে ত্রিপুরার মহারাজার পালোয়ান নজরং সিং-কে হারিয়ে গোবর গুহের পেশাদার জীবন শুরু হয়। সে বছরই লন্ডনে জন বুল সোসাইটি আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানশিপে ভারতের অন্যতম প্রতিনিধি নির্বাচিত হন গোবর গুছ। ১৯৯২ সালে দ্বিতীয়বার ইউরোপ ভ্রমণের সময়ে তিনি স্কটল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ কুস্তিগীর ক্যাম্পবেলকে পরাজিত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে গোবর গ্রহ ১৯২০ সালে সান ফ্রানসিসকো তে বিশ্ব পেশাদার কৃষি প্রতিযোগিতায় তৎকালীন লাইট হেডিওয়েট বিশ্বচ্যাম্পিয়ান অ্যাড সান্টেলকে পরাজিত করেন। ১৯৪৪ সালে গোবর গুহ পেশাদার কুন্তি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
গোবর গুহ শুধু ভারতীয় কুম্ভিকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তাই নয়, ধোঁকা, টিবি, গাধানেট, ঢাক, পাট, কুরা ইত্যাদি প্যাচের সংযোজন করেন। তার তাঁর সর্বাধিক প্রচলিত প্যাঁচটি হল রদ্দা।
বিংশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে বাঙালি যুবকদের মধ্যে কুম্ভির অনুপ্রেরণা তৈরি করেছিলেন গোবর পুছ। ১৯৫২-র অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী কে ডি যাদব তাঁর আখড়াতেই কুণ্ঠিশিক্ষা করেন। সব মিলিয়ে বাংলা কৃষিরইতিহাসে গোবর গুরু এক সোনালি অধ্যায়।
বাঙালির ক্রীড়া ঐতিহ্যে ফুটবলের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল। এই পর্বের ফুটবলের সঙ্গে কোন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে আছে? বাংলার ফুটবলের কোন ঘটনা, কীভাবে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে উজ্জীবিত করেছিল? 1+1+3
উনিশ শতকের কোনো এক সকালে বিলিতি নাবিকরা পুরোনো কেল্লার মাঠে জাহাজে করে বিলেত থেকে নিয়ে আসা ফুটবল খেলতে নেমেছিল।
নাবিকদের সেই আজব খেলা দেখে চোখ ছানাবার হয়ে যায় কেয়ার বাঙালি সৈনিকদের। ক্রমে ক্রমে তারা যোগ দিল সেই খেলার, লাথি মারল ফুতবলে। প্রভাবেই বাঙালির ক্রীড়া-ঐতিহ্যে ফুটবলের সূত্রপাত হয়েছিল।
" প্রথম পর্বের বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে সর্বাধিকারীর নাম জড়িয়ে আছে। ফুটবলে প্রথম পা ছোঁয়ানো এই বাঙালি বারি ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০৫ খ্রিস্টবলের সূচনা ও অগ্রগতি ঘটান।
১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে শোভাবাজার রাজপরিবারের উদ্যোগে পড়ে নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিক ा জাবালের ক্লাব, যা প্র বাঙালি তথা ভারতীয়দের ফুটবল ক্লাব। ১৮৮ মোহনবাগান ক্লাব এবং ১৮৯২-৪ গঠিত হয় মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে আইএ শিশু প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে মোহনবাগান ক্লাব আইএএ শিল্ড জয় করে। এটি বাঙালি তথা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা। নিছক ফুটবলের জয় ছিল না এটি। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বাঙালি তথা ভারতীয়দের নৈতিক ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
ফুটবল খেলায় বাঙালির অংশগ্রহন ও সাফল্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। অথবা, বাঙালির ফুটবল চর্চার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও! 5
বাঙালি সমাজে ফুটবল বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে। ১৮৫০ সাল নাগাদ কলকাতায় বাঙালিরা ফুটবল ক্লাব স্থাপন করেন। প্রথমদিকের ভারতীয় ফুটবল দলগুলির মধ্যে শোভাবাজার ক্লাব (১৮৮৫), ওয়েলিংটন ক্লাব (১৮৮৪), টাউন ক্লাব (১৮৮৫), কুমারুলি (১৮৮৫), মোহনবাগান (১৮৮৯), এরিয়াস (১৮৮৯), মহামেডান স্পোর্টিং (১৮৯১) এবং স্পোর্টিং ইউনিয়ন (১৮৯৫) উল্লেখযোগ্য। প্রথম দিকে খালি পায়ে মেলার সময়েই বাঙালি ফুটবলাররা ইউরোপের সামরিক ও অসামরিক দলগুলির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় সফল হন। পরবর্তীতে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কলকাতা ও নফলে বহু ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে দুর্ধর্ষ ব্রিটিশ দলের বিরুদ্ধে মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে বাংলার খেলোয়াড়রা জয়লাভ করে। জিতে নেয় আই একত্র শিল্ড। এর সঙ্গেই কলকাতা পরিচিত হয় ভারতীয় ফুটবলের রাজধানী হিসেবে। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংল সন্তোষ ট্রফি প্রতিযোগিতায় ৩১ বার জয়লাভ করে, ফাইনালে পৌঁছোয় ৪৪ বার। কলকাতার মাঠে ৭০-৮০-র দশক থেকে তোলপাড় তোলে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচ। এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় 'বাঙাল-ঘটির' লড়াইয়ের এক মজার বাঙালি সংস্কৃতি। রেডিয়োতে ফুটবলের ধারাবিবরণী শুনেই তখন বাঙালি যুদ্ধক্ষেত্রে জয়পরাজয়ের অনুভূতি লাভ করত। কলকাতা ফুটবলের ইতিহাস খুঁজলে মোটামুটি তিনটি পর্বের উল্লেখ পাওয়া যায়—(১) প্রীতিম্যাচ পর্ব, (২) ট্রেডস ফুটবল কাপ পর্ব এবং (৩) অ্যাসোসিয়েশন বা সংগঠিত ফুটবলের পর্ব।
ব্যক্তিনাম হিসেবে বাঙালির ফুটবলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য নগেন্দ্রপ্রসাদ, কালীচরণ মিত্র, হরিদাস পাল, মন্মথ গাঙ্গুলি এবং নরেন্দ্রনাথ দত্ত। প্রখ্যাত বাঙালি ফুটবলার হিসেবে গোষ্ঠ পাল, চুনী গোস্বামী, পি. কে. ব্যানার্জি, তুলসীদাস বলরাম, শৈলেন মান্না প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ।
মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাস পর্যালোচনা করো। 5
ইংরেজ শাসনাধীন ভারতবর্ষে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মোহনামান (১৮৮২) প্রতী ছিলেন আর শিশু প্রতিযোগিত বিজয়ী হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে কলকাতার অফির শিশু প্রতিযোগিতা শুরু হলেও মোহনবাগান ক্লাব ১৯০ প্রথম এতে অংশগ্রহণ করে। ১৯১১-র ১০ জুলাই শিল্ডের খেলা শুরু হয়। প্রথম ম্যাচে সেট জেভিয়ার্স কলেজ দল ৩-০ হেরে যায়। গোল করেন অভিলাষ ঘোষ এবং বিজয়দাস ভাদুড়ি। ১৪ জুলাই রেঞ্জার্স ক্লাবকে মোহনবাগান ২০০ গোলে হারিয়ে দেয়। গোলপাতা ছিলেন বিজয়দাস ভাদুড়ি এবং শিবদাস ভাদুড়ি । এরপর মোহনবাগান কোয়ার্টার ফাইনালে রাইফেল ব্রিগেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয়। ২৪ জুলাই মিডলসেক্সের সঙ্গে ডালহৌসি মাঠে ১-১ ড্র করার পরবর্তী ম্যাচে ২৬ জুলাই ৩-০ গোলে মোহনবাগান জয় লাভ করে ফাইনালে চলে যায়। গোল করেন ছাবুল সরকার, শিবদাস ভাদুড়ি এবং কানু রায় । শেষ পর্যন্ত ২৯ জুলাই অত্যাচারী ইংরেজদের বিরুদ্ধে খেলার মাঠে জয়ের হল নিয়ে নেমে লাখখানেক দর্শকের সামনে খালি পায়ে দুর্ধর্ষ ফুটবল খেলে উইয়র্ক দলের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান। গোল করেন শিবদাস ভাদুড়ি এবং অভিলাষ ঘোষ। খেলার মাঠে বাঙালির সেই অবিশ্বাস্য সংগ্রামে সমগ্র জাতি যেন পরাধীনতার মানি থেকে যুক্ত হয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকামী পরাধীন জাতি তার লুপ্ত আত্মসম্মানবোধ ও মর্যাদা ফিরে পায়।।
হকিতে বাঙালির অংশগ্রহণ ও সাফল্যের রূপরেখাটি নির্দেশ উত্তর করো। 5
[8:26 pm, 01/10/2022] Anju: ভারতবর্ষে প্রথম হকি ক্লাবটি গড়ে ওঠে কলকাতায়। ১৮৮৫-৮৬ খ্রিস্টাব্দে। Roba৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম হকি প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় কলকাতাতে। মানেই ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে 'দা বোলছदিঅ্যাসোসিয়েশন গড়ে ওঠে।। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রথম জাতীয় হকি প্রতিযোগিতার আয়োজনের পারব ও কলকাতার প্রাপ্য। এই প্রতিযোগিতার পরই ছবিতে প্রথম ভারতীয়। অলিম্পিক দল নির্বাচন করা হয়।
ভারতীয় ছবিতে কলকাতার ভূমিকা অন্যতম হলেও অত্যন্ত দুঃখের কথা এখনও এখানে হকি খেলার জন্য উন্নতমানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও খেলার মাঠ গড়ে ওঠেনি। অথচ, কলকাতা কাস্টমস্ দল, পোর্ট কমিশনারের খড়গপুরের বাংলা নাগপুর রেলওয়ে দলের মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য একি দলের অস্থিত্ব পাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় হকি প্রতিযোগিতায় বাংলা জয়লাভ করে। ইতিহাস সৃষ্টি করে।
প্যাটি জনসন, লেসলি কুডিয়ান, কেশব দত্ত, বক্স সিং, যোগ ইমাম-টর-রহমানের মতো অলিম্পিয়ানরা বাংলার হকিকে গৌরবান্বিত করেছেন। ভারতে প্রথম হকি সংগঠন ১৯০৮ খ্রিস্টাनে The Bengal Hockey Association নামে গড়ে ওঠে। অবিভক্ত বাংলায় ১৯২৮ প্রথম জাতীয় আন্তরাজা হকি প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। ভারতে ছবির জন্য। আগা খান কাপ, কোন রসুল উকি (মেয়েদের বিভাগে), মহারাজা রঞ্জিৎ ি গোল্ড কাপ, লেডি রতন টাটা ট্রফি (মেয়েদের বিভাগে), ধ্যানটান ট্রফি, নেহর উকি প্রভৃতি পুরষ্কারের আয়োজন করে বস্তুত খেলাটিকে ও খেলোয়াড়দের সম্মানিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাঙালির ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিচয় লিপিবদ্ধ করো। 5
বাংলার ক্রিকেটের আদিযুগে বাঙালিরা ক্রিকেট খেলতেন শ্রুতির ওপর শার্ট আর কেডস পরে। ধুতিটা ছিল বাঙালিয়ানা আর স্বদেশিয়ানার প্রতীক। নগেন্দ্রনাথ সর্বাধিকারী যেমন বাংলার ফুটবলের জনক, ঠিক তেমনই বাঙালির ক্রিকেটের জনক সারদারঞ্জন রায়। বাংলা প্রথম রঞ্জি ট্রফি জেতে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে |
বাঙালি সমাজ এবং সংস্কৃতিতে ক্রিকেট নিয়ে চর্চা বহুদিন ধরে চললেও পরবর্তীকালে ইউরোপিয়ানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত 'কলকাতা ক্রিকেট ক্লাব'-এর চেষ্টায় এই খেলা বাংলার সমাজজীবনে জনপ্রিয় হয়ে। ওঠে। এই ক্লাবের উদ্যোগেই কলকাতায় ইডেন গার্ডেন্স' তৈরি হয়, যা ‘টেস্ট-ক্রিকেট খেলার বিখ্যাত কেন্দ্র। সারা রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাব, স্কুল, কলেজ, অফিস সর্বত্রই আজ ক্রিকেটের জয়-জয়কার। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল' সংক্ষেপে (সিএবি) আজ ক্রিকেট পরিচালনা এবং প্রসারে অগ্রণী সংস্থা।
সেরা বাঙালি ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন— এঁটে ব্যানার্জি শ্যামসুন্দর মিত্র, দুর্গাশঙ্কর মুখার্জি, অম্বর রায়, দিলীপ দোশি, গোপাল ব পঙ্কজ রায়, প্রণব রায়, উৎপল চ্যাটার্জি, সম্বরণ ব্যানার্জি প্রমুখ। তা ক্রিকেটার হিসেবে বাঙালি সমাজে আজ সৌরভ গাঙ্গুলি সবচেয়ে জনপ্রি সমস্ত দেশের সঙ্গে বাঙালিরাও টেস্ট ক্রিকেট, ওয়ানডের যুগ পেরি বর্তমানে টি-টুয়েন্টির নেশায় মশগুল। তবু এখনও ক্রিকেটের খেলায় বা বাঙালির ক্রীড়াসংস্কৃতি থাকে কেন্দ্র করে যেমন উত্তেজনা থাকে, ঠিক এই তেজনা দেখা যায়। ইনিস বল দিয়ে খেলা পাড়া ক্রিকেটে। এটা বাঙালির স সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় পর্বে বাঙালির অ্যাথলেটিক্স, ন টেনিস, টেবিল টেনিস, দাবা ও সাঁতার সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 5
বাঙালিরা সর্বতভাবেই ক্রীড়াপ্রেমী।
অ্যালেটিকস্ অ্যালেটিককে বলা হয় সব খেলার জননী। কারণ যে কোনো খেলোয়াড়কেই আগে ভালো অ্যাথলিট হতে হয়। বিশিষ্ট বাঙালি অ্যাথলিট জ্যোতিময়ী শিকদার ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে ব্যাঙ্কক এশিয়াডে মুষ্টি ইডেন্টে সোনা জেতেন। অন্যান্য বিখ্যাত বাঙালি অ্যাথলিট হিসেবে উল্লেখযোগ্য—হরিশংকর রায়, সোমা বিশ্বাস, সতী সাহা প্রমুখ।
লন টেনিস: টেনিস বা লন টেনিস কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ খেলা। তবে তার আনন্দ আজ টিভির কল্যাণে সকলের কাছেই পৌঁছোয়। বাংলায় বস্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের টেনিস খেলোয়াড় জন্মেছেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় বাঙালি লন টেনিস খেলোয়াড় জয়দীপ মুখার্জি। বর্তমানে তাঁর নামেই ডেনিস অ্যাকাডেমির নামকরণ হয়েছে।
টেবিল টেনিস: ‘ইনডোর গেমসা হিসেবে নতুন আমদানি টেবিল টেনিসের আগের নাম ছিল পিংপং। বর্তমানে এই খেলা বাংলায় বিশেষ জনপ্রিয়। বাংলার খেলোয়াড়রা জাতীয় আন্তর্জাতিক ঘরে বেশ কয়েকবার সাফল্য পেয়েছেন। বাঙালি টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে শুভজিৎ সাহা কমনওয়েলথ্ গেমস্-এ সোনা জেতেন। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে প্রথম টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন স্থাপিত হয় এই বাংলায়। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে 'ওয়ার্ল্ড টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে এর জন্য কলকাতায় 'নেতাজি 'ইনডোর স্টেডিয়াম' তৈরি হয়।
দাবা আর একটি ইনডোর গেমা দাবা। এই মুহূর্তে বাংলার দাবাড়ুরা সারা বিশ্বে বন্দিত। দিব্যেন্দু বড়ুয়া, সূর্যশেখর গাঙ্গুলি, নিয়াজ মোর্শেদ এঁদের মধ্যে অন্যতম।
সাঁতার: সাঁতারে এ রাজ্যের ছেলেমেয়েরা আধুনিক টেকনিকগুলি আয়ত করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য আনছে বারবার। (কলকাতাসহ ভারতের অনেক রাজ্যের নানা প্রান্তে 'সুইমিং পুল' তৈরি হয়েছে ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে মিহির সেন প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল। অতিক্রম করেন। পরবর্তী বছর প্রথম ভারতীয় এবং এশিয়ান মহিলা হিসেবে ওই চ্যানেল অতিক্রম করেন আরতি সাহা। বুলা চৌধুরী দু-দুবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। পরবর্তী কালে রিচা শর্মাও এই সাফল্য পান।
রামায়ণে বর্ণিত কাহিনি অনুসারে দাবা খেলার স্রষ্টা কে? এই খেলায় বাঙালির সাফল্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও । ১+ ৪
রামায়ণে বর্ণিত কাহিনি অনুসারে রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীই দাবা খেলার স্রষ্টা | বাংলায় দাবা খেলার সূচনা ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে Calcutta Chess Club গঠনের মধ্য দিয়ে। বিশ্ববিখ্যাত দাবাড়ু জন করেন পৃথিবী জুড়ে দাবার প্রসারে Calcutta Chess Club প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৪৮-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিখ্যাত দাবাড়ু মহেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে নিয়মিত খেলতেন। ১৯৩০- এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রুশ দাবাড়ু আলেখাইনের কলকাতার খেলায় অংশগ্রহণ উঠে দাবা নিয়ে বাঙালির উদ্দীপনা তৈরিতে সাহায্য করে। স্বাধীনতার পরে গড়ে ওঠে ওয়েস্ট বেঙ্গাল চেস অ্যাসোসিযোগন'। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে রাজা দাবা প্রতিযোগিতা। ১৯৬৯-তে প্রথমবারের রাজা ম্পিয়ন প্রাণকৃষ্ণ কুণ্ডু। ১৯৮২-তে বিশ্বের প্র নম্বর জিল্লুর বর্ণনয়কে হারিয়ে মাত্র যোলো বছর বয়সে আলোড়ন তোলেন বাঙালি দাবাড়ু দিবো বড়ুয়া। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে রাজা থেকে প্রথম এবং দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে গ্র্যান্ডমাস্টার এই দাবাড়ু অর্জুন পুরস্কার পান। দিব্যেন্দু বড়ুয়ার পরে দাবায় শ্রেষ্ঠ বাঙালি প্রতিভা সূর্যশেখর গাতগুলি। মাত্র ১১ বছর বয়সে একজ গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারিয়ে তিনি রেকর্ড করেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টানা ছয়বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলো বিরল কৃতিত্বের অধিকারী সূর্যশেখর মাত্র উনিশ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হন। অর্জুন পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি তিনি শীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হন। বাংলা থেঝে আরও যাঁরা গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছেন তারা হলেন—সী म (২০০২), নীলোৎপল দাস (২০০৫), দীপ সেনগুপ্ত (২০১০), সপ্তর্ষি রায়চৌধুরী (২০১৩)। দীপ সেনগুপ্ত সম্প্রতি ২০১৪-র কমনওয়েল্য দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হয়েছেন।
করাজির ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো। 5
পুরাণমতে শ্রীকৃষ্ণ গোপবালকদের সঙ্গে হানুভুত খেলতেন। এই ছাদু কবাড়ির পশ্চিমবঙ্গীয় নাম। একটি মত হল, তামিল কাই (হাত) ও পিঠি (ধরা) থেকে কবাডির উৎপত্তি। ভারতীয় উপমহাদেশে কবাডি অন্যত জনপ্রিয় খেলা। ভারত ও পাকিস্তানে কাবাডি, বাংলাদেশে হা (স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও চুকিতকিত), শ্রীলঙ্কা পুন্ডু, থাইল্যান্ডে স্পিকার এবং মালয়েশিয়ায় ছি গুড় গুড় নামে খেলাটি প্রসিদ্ধ। আবার ভারতেই দক্ষিণভারতে চিড়-গু-ডু, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের টুটু, কেরলে ওয়াক্তিকামি ইত্যাদি নামেও খেলাটি পরিচিত।
১৯৩৮ সালে কলকাতায় সর্বভারতীয়ভাবে প্রথম কবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৫-তে ইডেন গার্ডেনে মেয়েদের কবাডি প্রতিযোগিত প্রথম আয়োজন করা হয়। ১৯৫২-তে প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বভারতীয় কবাডি ফেডারেশন। ১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম কবাডি টেস্ট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তৈরি হয় এশিয়ান অ্যামেচার কবাডি ফেডারেশন। ১৯৮০ সালে কলকাতায় প্রথম এশিয়ান কবাড়ি চ্যাম্পিয়ানশিপ অনুষ্ঠিত হয়। ভারত এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ রানার্স হয়। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় সাফ গেমসে কবাডি অন্তর্ভুক্ত হয়। ভারত এতে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৯০ সালের বেজিং এশিয়ান গেমস্ থেকে করাডি এশিয়ান গেমসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে এসেছে। এখনও পর্যন্ত সাতটি এশিয়ান গেমসেই পুরুষ বিভাগে ভারত সোনা জিতেছে। মেয়েদের বিভাগেও ভারত একইরকম শ্রেষ্ঠর দেখিয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি কবাডি ওয়ার্ল্ড কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতই। ২০১৪ সাল থেকে চালু হওয়া প্রো-কবাডি লিগ শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বিপুল বাণিজ্যসাফল্যও পেয়েছে। নারায়ণচন্দ্র ঘোষ পশ্চিমবঙ্গে কবাড়ির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। ভূপতি মজুমদারের সভাপতিত্বে গড়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গ করাজি অ্যাসোসিয়েশন। ফণী ভট্টাচার্য, অচিন্তা সাহা, বিশ্বজিৎ পালিত প্রমুখ কবাডিতে বিখ্যাত বাঙালি প্রতিনিধি।।
সার্কাস ও ম্যাজিকের দুনিয়ায় বাঙালির অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 5
শীতকালে সার্কাস আর স্কুলে ম্যাজিক শো বাদ দিয়ে বোধহয় কোনো বাঙালির শৈশব কাটেনি | বাঙালির সার্কাসচর্চা আজকের নয়। ১৮৮৭-৮৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রিয়নাথ বসু করেছিলেন 'গ্রেট বেঙ্গল বা। তাঁর পুত্র অবণীপ্রকৃষ্ণ বসু তাদের পরিবারিক সমৃদ্ধির গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সেই কাজে মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত বাঙ্গালীর সার্কাস গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণে তাঁদের সার্কাসের কথাই সংকলিত আছে। "হিন্দু মেলার' প্রতিষ্ঠাতা নবগোপাল মিত্র বাঙালির সার্কাসের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালির সার্কাসচর্চায় আরও যাঁদের নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে তাঁরা হলেন কর্নেল সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস, শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মণিলাল বসু প্রমুখ।
বাংলার ম্যাজিকচর্চার প্রথম জনপ্রিয় নাম প্রতুলচন্দ্র সরকার (১৯১৩ ১৯৭১), যাকে সবাই চেনে পি. সি. সরকার নামে। তিনি পৃথিবীর ৭০-৮০টি দেশে জাদুবিদ্যার প্রদর্শনী করেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুকররূপে তিনি পরিচিত। তিনিই প্রথম মাথায় পাগড়ি পরে রাজার পোশাকে খেলা দেখাতেন। বহু প্রাচীন জাদুবিদ্যার মূল সূত্রগুলি তিনি নিজের চেষ্টায় আবিষ্কার করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দু-বার নিউইয়র্ক থেকে জাদুবিদ্যার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার 'দি ফিনিক্স অ্যাওয়ার্ড' পান। পি. সি. সরকার এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্ররা এই খেলাতে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আসেন। বাংলার বহু জায়গায় আজ বহু জাদুকর এই খেলার চর্চায় মেতে আছেন।
কলকাতায় বাঙালির প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা প্রথম স্বদেশি। সার্কাসের নাম লেখো। সার্কাসে বাঙালির অবদানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও । ১ + ৪
কলকাতায় বাঙালির প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা প্রথম স্বদেশি সার্কাসের নাম হল 'ন্যাশনাল সার্কাস' (১৮৮৩)। নবগোপাল মিত্র প্রতিষ্ঠিত এই সার্কাসটি অবশ্য বেশিদিন চলেনি।
শীতকালে সার্কাস আর স্কুলে ম্যাজিক শো বাদ দিয়ে বোধহয় কোনো বাঙালির শৈশব কাটেনি | বাঙালির সার্কাসচর্চা আজকের নয়। ১৮৮৭-৮৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রিয়নাথ বসু করেছিলেন 'গ্রেট বেঙ্গল বা। তাঁর পুত্র অবণীপ্রকৃষ্ণ বসু তাদের পরিবারিক সমৃদ্ধির গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সেই কাজে মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত বাঙ্গালীর সার্কাস গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণে তাঁদের সার্কাসের কথাই সংকলিত আছে। "হিন্দু মেলার' প্রতিষ্ঠাতা নবগোপাল মিত্র বাঙালির সার্কাসের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালির সার্কাসচর্চায় আরও যাঁদের নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে তাঁরা হলেন কর্নেল সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস, শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মণিলাল বসু প্রমুখ।
বাংলার ম্যাজিকচর্চার প্রথম জনপ্রিয় নাম প্রতুলচন্দ্র সরকার (১৯১৩ ১৯৭১), যাকে সবাই চেনে পি. সি. সরকার নামে। তিনি পৃথিবীর ৭০-৮০টি দেশে জাদুবিদ্যার প্রদর্শনী করেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুকররূপে তিনি পরিচিত। তিনিই প্রথম মাথায় পাগড়ি পরে রাজার পোশাকে খেলা দেখাতেন। বহু প্রাচীন জাদুবিদ্যার মূল সূত্রগুলি তিনি নিজের চেষ্টায় আবিষ্কার করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দু-বার নিউইয়র্ক থেকে জাদুবিদ্যার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার 'দি ফিনিক্স অ্যাওয়ার্ড' পান। পি. সি. সরকার এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্ররা এই খেলাতে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আসেন। বাংলার বহু জায়গায় আজ বহু জাদুকর এই খেলার চর্চায় মেতে আছেন।
ম্যাজিকের ইতিহাস ও বাঙালির অবদান সম্পর্কে যা জান লেখো। 5
ম্যাজিক বা জাদুবিশ্বাস হল এক আদিম অথচ বর্তমান সমাজেও সুলভ একপ্রকার লোকবিশ্বাস | আদিম মানুষ কোনো প্রাকৃতিক বা জাগতিক ঘটনার কার্যকারণ বিশ্লেষণ করতে যখনই বৈজ্ঞানিক চেতনার অপ্রতুলতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে, তখন তারা ওই কাজ বা ঘটনার কারণ বা নিয়ন্ত্রক হিসাবে এক অদৃশ্য শক্তির কথা কল্পনা করেছে। এই বিশেষ শক্তিরই নাম “মান্যা’—যাকে তারা জীবজগত্ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নৈসর্গিক ঘটনায়, এমনকি জড়বস্তুর মধ্যেও বিদ্যমান বলে মনে করত। এই ‘মান্যা'র ধারণা থেকেই পরবর্তীকালে সর্বপ্রাণবাদ, দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, টোটেম, জাদুবিশ্বাস প্রভৃতির উদ্ভব বলে গবেষকেরা মনে করে থাকেন। জাদুকে সাধারণত দু ভাগে ভাগ করা যায়— (১) অনুকরণাত্মক / অনুকৃতিমূলক জাদু এবং (২) সংযোগমূলক/সংক্রামক / সংস্পৰ্শমূলক জাদু ।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, জাদুকে এমন এক অতিপ্রাকৃত শক্তি মনে করা হয়, যার দ্বারা নিজের বা অন্যের মঙ্গলসাধন এবং শত্রুপক্ষের অমঙ্গলসাধন সম্ভব। এর নিরিখে জাদুকে আবার White Magic (হিতকারী জাদু) এবং Black Magic (অহিতকারী জানু) এই দুইভাগে ভাগ করা যায়। বৈদিক যাগযজ্ঞ, উর্বরতা বিষয়ক নানান আচার-অনুষ্ঠান, দেবতাকে পশু উৎসর্গ ইত্যাদির মধ্যে হিতকারী জাদুর প্রভাব দেখা যায় ।
আধুনিক মানুষ ও জীবনে নানাবিধ অনিশ্চয়তার থেকে রক্ষা পেতে কখনও আংটি, তাবিজ, কবচ, মাদুলি প্রভৃতি ধারণ করে এই জাদুশক্তির ওপর ভরসা রাখে। এভাবেই আদিম নানান সংস্কার-বিশ্বাসের মতো জাদুবিশ্বাসও আজকের পৃথিবীর বিজ্ঞান শাসিত সময়েও নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে।