Chapter -3⇒বায়ুর চাপ

উ:- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে নানা কারণে বায়ুচাপের তারতম্য হয়, সেই কারণগুলি হল নিম্নরূপ –

1) বায়ুতে উন্নতার তারতম্য : বায়ু উত্তপ্ত হলে প্রসারিত ও হালকা হয়, ফলে ওপরে উঠে যায়। অর্থাৎ, বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে বায়ুর চাপ কমে। অপরপক্ষে শীতল বায়ু সংকুচিত হয়ে ভারী হয়। এজন্য বায়ুর উয়তা কমলে বায়ুর চাপ বষ্ণতা

2)বায়ুতে জলীয় বাষ্পের তারতম্য : বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। জলীয় বাষ্প সাধারণ বায়ু অপেক্ষা হালকা বলে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে বায়ুর চাপ কমে। এই কারণে বর্ষাকালে বায়ুর চাপ কম হয়।

3)ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা : বায়ুমণ্ডলের শতকরা প্রায় 90 ভাগ উপাদানই যেহেতু ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 16 কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থান করে তাই ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন অঞ্চলে বায়ুর চাপ বেশি হয়। কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই উপরে ওঠা যায় ততই বায়ুর ঘনত্ব কমে তার চাপ কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি 274 মিটার উচ্চতায় 34 মিলিবার বায়ুর চাপ কমে যায়।

4)পৃথিবীর আবর্তন গতি : পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য কোরিওলিস বলের (কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবহির্মুখী) সৃষ্টি হয়। কেন্দ্ৰবহির্মুখী বলের (Centrifugal Force) প্রভাবে বায়ু ছিটকে বাইরের দিকে চলে যেতে চায় এবং সে-কারণে বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ বেশি বলে এখানে যেমন নিম্নচাপ পরিলক্ষিত হয় তেমনি উভয় মেরু অঞ্চলে আবর্তন বেগ কম হওয়ায় বায়ুর উচ্চচাপ পরিলক্ষিত হয়।

5)বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বা গভীরতা : পৃথিবীপৃষ্ঠের যে স্থানে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বা গভীরতা বেশি, সেখানে বায়ুর চাপ অপেক্ষাকৃত বেশি। অপরদিকে কম ঘনত্ব বা গভীরতাযুক্ত স্থানে বায়ুর চাপ কম হয়।

6) সমুদ্র ও স্থলভাগের বিন্যাস : পৃথিবীপৃষ্ঠে জলভাগ ও স্থলভাগের বিন্যাস বা বণ্টনের ওপর বায়ুর চাপ অনেকটা নির্ভর করে। সমুদ্রের ওপর দিয়ে যে বায়ু প্রবাহিত হয় সেই বায়ু সাধারণত আর্দ্র, হালকা হয় এবং আর্দ্র বায়ুর চাপ কম থাকে। অন্যদিকে, স্থলভাগের ওপর দিয়ে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তা শুষ্ক, ভারী হয়, ফলে তার চাপও অধিক হয়।

7) অভিকর্ষজ টান : অভিকর্ষজ টানের প্রভাবে চাপের তারতম্য ঘটে। পৃথিবীর যে স্থান কেন্দ্রের যত নিকটবর্তী সেই স্থানে। অভিকর্ষজ টানের প্রভাব ততই বেশি। পৃথিবী অভিগত গোলকাকৃতি হওয়ায় মেরু অঞ্চলে বায়ুচাপ বেশি এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুচাপ  কম

উঃ-বায়ু উষ্ণতা বায়ুর চাপের পারস্পরিক সম্পর্ক :  কোনো স্থানের উষ্ণতা বলতে মূলত সেই স্থানের বায়ুমণ্ডলীয় উষ্ণতাকে বোঝায়।অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের কোনো একক ক্ষেত্রফলযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট ওজন সমৃদ্ধ বায়ু যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করে, তাকেই সেই স্থানের বায়ুর চাপ (Air Pressure) বলে। সূর্য ভূপৃষ্ঠের সব জায়গায় সমানভাবে তাপ দেয় না, কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে কিরণ দেয়। ফলে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতাগত তারতম্যের সৃষ্টি হয় যার প্রভাব বায়ুর চাপের ওপর এসে পড়ে।

পৃথিবীতে আবহাওয়া ও জলবায়ুগত উপাদানরূপে বায়ুর উয়তা ও বায়ুর চাপের সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক বা বিপরীতধর্মী হয়।  যেমন- 

1) উষ্ণ বায়ুর সঙ্গে বায়ুচাপের সম্পর্ক : বায়ু উত্তপ্ত হলে  তার আয়তন বাড়ে অর্থাৎ, প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুর ঘনত্ব হ্রাস পেয়ে বায়ুর চাপ কমে যায়। সুতরাং বায়ু উত্তপ্ত হলে তার চাপ কমে যায়।   

উদাহরণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ  দেয়। তাই এখানে বায়ুর উষ্ণতা সর্বদা   বেশি থাকে এবং বায়ু হালকা ও প্রসারিত হয়ে ঊর্ধ্বগামী হয়। ফলে এখানে স্থায়ীভাবে নিরক্ষীয়  নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

2) শীতল বায়ুর সঙ্গে বায়ুচাপের সম্পর্ক : বায়ুর উষ্ণতা কমলে বায়ু সংকুচিত হয়। বায়ু যতই সংকুচিত হয় তার ঘনত্ব ততই  বাড়তে থাকে। ফলে ওই স্থানের বায়ুর চাপ বাড়ে। সুতরাং, বায়ুর উষ্ণতা কমলে বায়ুর চাপ বৃদ্ধি পায়

উদাহরনঃ মেরু অঞ্ছলে সারাবছর তির্যক সূর্যরশ্মি পতনের কারনে শীতল জলবায়ুযুক্ত উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

3)বায়ুর উচ্চতা বায়ুর চাপের সম্পর্কে জলীয় বাষ্পের প্রভাব : বায়ুর উষ্ণতা ও বায়ুর চাপের সম্পর্কে জলীয় বাষ্পের প্রভাব  রয়েছে। কারণ উন্ন বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, আবার  জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ু অপেক্ষা হালকা বলে বায়ুতে জলীয়  বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুর চাপ হ্রাস পায়। অপরদিকে শীতল  বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা কম বলে বায়ুর চাপ বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণ : বর্ষাকালে বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে  বলে বায়ুর চাপ কম থাকে

উ:- বায়ুচাপ বলয় (Air Pressure Belt) : পৃথিবীতে কয়েকটি   নির্দিষ্ট অঞ্চলের বায়ুতে প্রায় সারাবছরই স্থায়ী উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ   বলয়াকারে অবস্থান করতে দেখা যায়। পৃথিবীর এই উচ্চচাপ ও   নিম্নচাপযুক্ত বলায়ঞ্চল  বায়ুচাপ বলয় নামে পরিচিত।

সৃষ্টি : গোলাকার পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আবর্তন গতির   তারতম্য এবং লম্ব ও তির্যক সূর্যরশ্মি চাপবলয় সৃষ্টিতে সাহায্য   করেছে।

অবস্থান : পৃথিবীতে বায়ুচাপ বলয়গুলি বিভিন্ন অক্ষাংশের   পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত।

 প্রধান প্রধান চাপবলয়ের দৃষ্টান্ত : সমগ্র পৃথিবীতে   নিম্নোক্তl 7 টি বায়ুচাপ বলয় লক্ষ করা যায়, যথা- (i) নিরক্ষীয় (0°) নিম্নচাপ বলয়, (ii) কর্কটীয়ও (23½°উ:) উচ্চচাপ বলয়, (iii) মকরীয়   (23½° দ:) উচ্চচাপ বলয়, (iv) সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় (66½° উ:)   নিম্নচাপ বলয়, (v) কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় (66½°দঃ) নিম্নচাপ বলয়,   (vi) সুমেরু (90° উ:) উচ্চচাপ বলয়, (vii) কুমেরু (90°দ:) উচ্চচাপ   বলয়।

বায়ুরচাপ কক্ষ (Air Pressure Cell) : পৃথিবীতে বায়ুচাপ   বলয়গুলি বিভিন্ন অক্ষাংশ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থান করলেও,   স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে উন্নতা ও বায়ুচাপের মধ্যে যথেষ্ট   তারতম্য থাকে। ফলে, পৃথিবীর চাপ ও তাপ বলয়গুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে   বিভক্ত হয়ে অবস্থান করে। একেই বায়ুচাপ কক্ষ (Air Pressure Cell)   বলে।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় উত্তর গোলার্ধে জলভাগ   কম থাকায় এখানে সবচেয়ে বেশি বায়ুচাপ কক্ষ দেখা যায় ।

উঃ- পৃথিবীপৃষ্ঠে বায়ুচাপের তারতম্য ঘটলেও বায়ু সর্বদা সমতা রক্ষার চেষ্টা করে। তবে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে বায়ুচাপের ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

A বায়ুর উচ্চচাপজনিত প্ৰভাৱ : কোনো অঞ্চলে বাতাসের চাপ যদি 1013.25 মিলিবারের বেশি হয় তাকে উচ্চচাপ বলে। উচ্চচাপের প্রভাবগুলি হল নিম্নরূপ-

1)জলবায়ুগত প্রভাব : (i) উচ্চচাপ যে-সমস্ত অঞ্চলে দেখা যায় সেখানে বাতাসের ঘনত্ব বেশি তাই বায়ুর গতিবেগ তুলনামূলক হ্রাস পায়। (ii) উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চলে বাতাস শীতল ও ভারী হয়ে নীচে নেমে আসে বলে সেখানকার বায়ুমণ্ডলীয় বাতাস ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ কম পায়। ফলে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়াগত গোলযোগ সৃষ্টি হয় না। (iii) উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চলের বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম তাই আর্দ্রতা কম এবং শুষ্কতা সবচেয়ে বেশি হয়। (iv) মাঝে মধ্যেই তুষারপাত ঘটতে দেখা যায়। (v) মেঘমুক্ত শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়।

2)মানবজীবনে প্রভাব : (i) যে-সমস্ত অঞ্চলে বাতাসের চাপ বেশি সেখানে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়ে যায়। কারণ সেখানে জলের স্ফুটনাঙ্ক কম তাই আলাদা করে প্রেসার কুকার লাগে না। (ii) অনেক সময় উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চলের ভারী বাতাস ঠান্ডা লাগা, শ্বাসকষ্টসহ নানান সমস্যার সৃষ্টি করে।

B বায়ুর নিম্নচাপজনিত প্ৰভাৱ : কোনো অঞ্চলে বাতাস গরম হয়ে তার চাপ 930 মিলিবারের কম হলে তাকে নিম্নচাপ বলে। নিম্নচাপের প্রভাবগুলি হল নিম্নরূপ —

1)জলবায়ুগত প্রভাব: (i) নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলে বাতাসের ঘনত্ব কম তাই বায়ুর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হয়। (ii) নিম্নচাপের বাতাস হালকা হয়ে জলীয় বাষ্পসহকারে সোজা উপরে উঠে গিয়ে সেখানে ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির সৃষ্টি করে। (iii) নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের বায়ু জলীয় বাষ্পপূর্ণ তাই তা বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। (iv) গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিযুক্ত ঘূর্ণবাত দেখা যায়।

2)মানবজীবনে প্রভাব : (i) যে-সমস্ত অঞ্চলে নিম্নচাপ থাকে সেখানে ঝড়বৃষ্টি প্রভৃতি বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিঘ্নিত করে। (ii) নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের অস্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। (iii) যে-সমস্ত অঞ্চলে বাতাসে নিম্নচাপ থাকে। সেখানে রান্নার কাজে প্রেসার কুকারের ব্যবহার বোেশ, কারণ এখানে জলের স্ফুটনাঙ্ক বেশি। (iv) উচ্চ পবিত্য অঞ্চলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যাওয়া জন্য বায়ুর চাপ কম হয়। পর্বতারোহীরা এই কারণে পর্বতারোহণের সময় দ্রুত শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন গ্যাসের সিলিন্ডার সঙ্গে নিয়ে যায়। (v) উচ্চ স্থানে বায়ুর চাপ আমাদের রক্তের চাপের থেকে অনেক কম থাকে। ফলে নাক, কান, চোখ দিয়ে রক্তপাত হয়।

উঃ- ভুপৃষ্ঠের সমান্তরালে আনুভুমিকভাবে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে ।এই বায়ুপ্রবাহের কারণগুলি হল-

1)বায়ুচাপের পার্থক্য : জলের সমোচ্চশীলতা ধর্মের মতোই বায়ু সর্বদা উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

2)বায়ুর উষ্ণতার পার্থক্য : সূর্যরশ্মির প্রভাবে বায়ু উত্তপ্ত হলে প্রসারিত হয়। বায়ুর ঘনত্ব ও আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায়, ফলে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং এই নিম্নচাপ অঞ্চলটি শূন্য হয়ে যায়। নিম্নচাপ অঞ্চলের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভারী বায়ু এই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়

3)কোরিওলিস বল : পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে গতিশীল বায়ুর ওপর কোরিওলিস বল কাজ করে বায়ুপ্রবাহের বিক্ষেপ ঘটায়। এই কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় 

4)কেন্দ্রবহির্মুখী বল : পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির জন্য এক কেন্দ্রবহির্মুখী বলের সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে বায়ুর বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ু উপরের দিকে উঠে উভয় মেরুর দিকে ছিটকে যায়

5)ঘর্ষণজনিত প্রভাব : অসমতল স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন বস্তুর সঙ্গে (পাহাড়, পর্বত, অট্টালিকা, উদ্ভিদ) ঘর্ষণজনিত বাধার ফলে বায়ুর গতিবেগ কমে যায়, দিক পরিবর্তন ঘটে। তবে জলভাগে এরূপ বাধা না থাকায় বায়ু দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হয়।

উ:- সমচাপরেখা : বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (জানুয়ারি ও জুলাই) পৃথিবীর যেসব স্থানে একই পরিমাণ বায়ুর চাপ থাকে, সেইসব স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমচাপরেখা (Isobar) বা সমপ্রেষ রেখা বা বায়ুচাপরেখা বলে।

বৈশিষ্ট্য : (i) সমচাপরেখায় বায়ুচাপ গুলিকে মিলিবার (mb) এককে প্রকাশ করা হয়। পৃথিবীতে বায়ুচাপ সাধারণত 980mb - 1050 mb । (ii)সমচাপরেখায় সাধারণত বায়ুচাপের পরিমাণগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুচাপের হিসেবে দেখানো হয়। (iii)সাধারণত স্থলভাগের ওপর সমচাপ রেখাগুলি আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত হয় এবং জলভাগের ওপর প্রায় সমান্তরালে বিস্তৃত হয়। সমচাপ রেখাগুলি পরস্পরকে স্পর্শ বা অতিক্রম করে না। (iv)সমচাপ রেখাগুলি যেখানে পরস্পরের খুব কাছে চলে আসে, সেই অঞ্চলে বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি হয়। ঘনসন্নিবিষ্ট সমচাপরেখার অর্থ হল বায়ুপ্রবাহের গতিবেগের প্রাবল্য। (v)সমচাপ রেখাগুলি সাধারণত পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তারলাভ করেছে। (vi) নিরক্ষরেখা থেকে ক্রমশ উত্তরে বা দক্ষিণে সমচাপ রেখাগুলির মান বাড়তে থাকে। (vii) সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বায়ুচাপ উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগের ওপর দেখা যায়।

উ:- ব্যারোমিটারের সাহায্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস:

(1)পারদস্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ হ্রাস পেলে বোঝা যায় যে, নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে, ঝড় আসার সম্ভাবনা প্রবল। (2)ধীরে ধীরে হ্রাস পেলে বুঝতে হবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে বৃষ্টি হতে পারে। (3)পারদস্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে গেলে বুঝতে হবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেকটা কমে গেছে, বায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবল বেগে শুকনো হাওয়া বইবে। (4)পারদস্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকলে বুঝতে হবে যে আবহাওয়ার ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। অর্থাৎ, বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্বাভাবিক হচ্ছে।

উঃ- অক্ষাংশের মান যতই বুদ্ধি পাবে ততই উত্তাপের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং বায়ুর চাপের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে—এই সত্যের ব্যতিক্রম ঘটে পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে মেরুবৃত্ত প্রদেশ ও মেরুপ্রদেশের মধ্যে। পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি এবং নিরক্ষরেখার উত্তরে ও দক্ষিণে উভয় গোলার্ধে ক্রমশ কমতে থাকে। এই সত্যের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায় যে, পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ মেরুদ্বয়ের তুলনায় উভয় মেরুবৃত্ত প্রদেশে অর্থাৎ, 60°- 65° উত্তর ও দক্ষিণ বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্রান্তীয় প্রদেশের দিকে সরে যায় এবং বায়ুর পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার দরুন নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তাই দেখা যায় যে, ক্রান্তীয় অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি তির্যক সৌরকিরণ পতিত হওয়া সত্ত্বেও মেরুবৃত্ত প্রদেশে বায়ুতে নিম্নচাপ বিরাজ করে।

উ:- বায়ুপ্রবাহ : ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালভাবে কিংবা অনুভূমিকভাবে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে ৰায়ুপ্রবাহ বলা হয়।

বায়ু ও বায়ুচাপের সম্পর্ক : (1)ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে বায়ুচাপের তারতম্য ঘটালেই বায়ুপ্রবাহ ঘটে। (2)বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। কারণ, প্রখর সূর্যতাপে কোনো জায়গায় বায়ু  যখন উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় ফলে সেখানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তখন সেই নিম্নচাপ অঞ্চলটির শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পার্শ্ববর্তী  উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চলের ভারী ও ঠাণ্ডা বায়ু সেই স্থানে ছুটে আসে। (3)বায়ুচাপের তারতম্যের মধ্যে দিয়েই বায়ুর গতিবেগ ও প্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়। (4)ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে   বায়ু চাপের পার্থক্য যত বেশি হবে বায়ুপ্রবাহের বেগ ততই বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বায়ুচাপের পার্থক্য যত কম হবে বায়ুপ্রবাহের বেগ ক্রমশ হ্রাস পাবে। (5) বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমেই উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যে চাপের সমতা বজায় থাকে।

উ:- পুরী সমুদ্রপৃষ্ঠে অবস্থিত এবং দার্জিলিং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক  উঁচুতে (2300 মিটার) পর্বতশীর্ষে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে  ওঠা যায় বায়ুর চাপ তত কমে যায়। সুতরাং দার্জিলিং-এ বায়ুর চাপ কম  হওয়ার ফলে পারদস্তম্ভের দৈর্ঘ্যও কমে যায়। ফলে ব্যারোমিটারের পাঠ  কম হবে। কিন্তু পুরীতে বায়ুর চাপ বেশি হওয়ার ফলে পারদস্তম্ভের দৈর্ঘ্য  বেশি হবে। ফলে পুরীতে ব্যারোমিটারের পাঠ বেশি হবে।

উ:- নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ুতে সর্বদা নিম্নচাপ বিরাজ করার কারণ—

(1) অধিক উন্নতা : নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে  পড়ায় এখানকার বায়ু উষ্ণ ও হালকা প্রকৃতির হয়।

(2)অধিক জলীয় বাষ্প : এই অঞ্চলে জলভাগের পরিমাণ বেশি  থাকায় বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে ফলে আর্দ্র বায়ুর চাপ কম হয়।

(3)উর্ধ্বগামী বায়ু : প্রচণ্ড উন্নতায় এখানকার হালকা বাতাস  পরিচলন পদ্ধতিতে সোজা ওপরে উঠে যায়।

(4)পৃথিবীর আবর্তন গতি : নিরক্ষরেখা সংলগ্ন এই অঞ্চলে  পৃথিবীর অত্যধিক আবর্তন বেগের দরুন এখানকার বাতাস ক্রান্তীয়  অঞ্চলের দিকে ছিটকে যায়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ুতে সর্বদা  নিম্নচাপ বিরাজ করে।

উ:- অবস্থান : উভয় গোলার্ধের  80° অক্ষরেখা থেকে  মেরু  (90°) পর্যন্ত অঞ্চলে এই দুটি উচ্চচাপ বলয় অবস্থান করে। এখানে কোরিওলিস বল বেশি হলেও বায়ুর উচ্চচাপ বিরাজ করে।

 উচ্চচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণ :

1)সূর্যরশ্মির পতন কোণ : এখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ায় উন্নতা অত্যন্ত কম থাকে, এমনকি গ্রীষ্মকালেও উন্নতা হিমাঙ্কের (0°) নীচে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের শীতল ভারী অধিক ঘনত্বযুক্ত বায়ু উচ্চচাপের সৃষ্টি করে।

2) জলীয় বাষ্পের স্বল্পতা : সৌরতাপের অভাবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় শুষ্ক বায়ু ভারী হয়।

3) পৃথিবীর আবর্তন বেগ: এই অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন গতির বেগ কম থাকায় বায়ু বিক্ষিপ্ত হয় না ফলে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

 4) বায়ুর নিমজ্জন : আবর্তন গতির জন্য মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের ঊর্ধ্বগামী বিক্ষিপ্ত বায়ু এই অঞ্চলে শীতল ও ভারী হয়ে নীচে নেমে এসে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ বৃদ্ধি করে।

5) বায়ুপ্রবাহ : এই শীতল অঞ্চল থেকে মেরু বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় এই বায়ুও অত্যন্ত শীতল হয় যা বায়ুর চাপ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

উ:- পৃথিবীর আবর্তন গতির সঙ্গে বায়ুচাপের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে দু'প্রকার আবর্তনজনিত বলের সৃষ্টি হয়। যেমন (1) কেন্দ্রমুখী  (2) কেন্দ্রবহির্মুখী বল। উভয়কে একত্রে কোরিওলিস বল বলে। এই কোরিওলিস বলের কেন্দ্রবহির্মুখী বলের (Centrifugal Force) প্রভাবে বায়ু ছিটকে বাইরের দিকে চলে যেতে চায় এবং সে কারণে বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। যেমন- (i) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ বেশি (ঘণ্টায় প্রায় 1670 কিমি) বলে এখানে নিম্নচাপ পরিলক্ষিত হয়। কারণ— কেন্দ্রবহির্মুখী বল এই অঞ্চলে বেশি কাজ করে। বায়ুর বিক্ষেপের পরিমাণও বেশি হয়। পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির জন্য বায়ু উপরের দিকে উঠে বাইরের দিকে ছিটকে মেরুর দিকে চলে যায়। বায়ুর পরিমাণ কমে যায়, নিম্নচাপ বিরাজ করে। আবার (ii) উভয় মেরু অঞ্চলে আবর্তন বেগ কম হওয়ায় বায়ুর উচ্চচাপ পরিলক্ষিত হয়। কারণ— এখানে কেন্দ্রবহির্মুখী বল কম কাজ করে। পৃথিবীর ঘূর্ণন শূন্য হওয়ায় বায়ু ছিটকে উপরের দিকে বেরিয়ে যেতে পারে না।

কোরিওলিস বলের প্রভাবে পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে গতিশীল উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উ:- পৃথিবীর আবর্তন গতির সঙ্গে বায়ুচাপের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। রয়েছে। পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে দু'প্রকার আবর্তনজনিত বলের সৃষ্টি হয়। যেমন (1) কেন্দ্রমুখী  (2) কেন্দ্রবহির্মুখী বল। উভয়কে একত্রে কোরিওলিস বল বলে। এই কোরিওলিস বলের কেন্দ্রবহির্মুখী বলের (Centrifugal Force) প্রভাবে বায়ু ছিটকে বাইরের দিকে চলে যেতে চায় এবং সে কারণে বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। যেমন- (i) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ বেশি (ঘণ্টায় প্রায় 1670 কিমি) বলে এখানে নিম্নচাপ পরিলক্ষিত হয়। কারণ— কেন্দ্রবহির্মুখী বল এই অঞ্চলে বেশি কাজ করে। বায়ুর বিক্ষেপের পরিমাণও বেশি হয়। পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির জন্য বায়ু উপরের দিকে উঠে বাইরের দিকে ছিটকে মেরুর দিকে চলে যায়। বায়ুর পরিমাণ কমে যায়, নিম্নচাপ বিরাজ করে। আবার (ii) উভয় মেরু অঞ্চলে আবর্তন বেগ কম হওয়ায় বায়ুর উচ্চচাপ পরিলক্ষিত হয়। কারণ— এখানে কেন্দ্রবহির্মুখী বল কম কাজ করে। পৃথিবীর ঘূর্ণন শূন্য হওয়ায় বায়ু ছিটকে উপরের দিকে বেরিয়ে যেতে পারে না।

কোরিওলিস বলের প্রভাবে পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে গতিশীল উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উ:-বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বায়ুচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। জলীয় বাষ্প সাধারণ বায়ু অপেক্ষায় হালকা। বায়ু যত উষ্ণ হয় ততই জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ে। জলীয় বাষ্প বেশি হলে। উন্ন-আর্দ্র বায়ুতে নাইট্রোজেনের তুলনায় হালকা হাইড্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, ফলে বায়ুচাপ কমে। অর্থাৎ জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বায়ুচাপের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।

এই কারণে শীতকাল অপেক্ষা বর্ষাকালে বায়ুচাপ কম হয়। বর্ষাকালে চারিদিকে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রখর সূর্যতাপে বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প মিশতে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চাপ কমে যায়। কিন্তু শীতকালে উন্নতা কম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির অভাবে বায়ুতে জলীয় বাষ্পও খুব কম থাকে। ফলে এই শীতল শুষ্ক বায়ুর চাপ বেশি হয়।

উঃ- পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষদেশে (8,848 মি) বায়ুর উন্নতা (-9°C) এবং বায়ুর চাপ (930 মিলিবার) দুই-ই কম। কারণ-

 1) বিকিরিত তাপ : ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপের অতি সামান্য অংশই এভারেস্টের শীর্ষদেশের বায়ুস্তরে পৌঁছায়। তাই এখানকার বায়ুর উন্নতা অত্যন্ত কম।

2)পাতলা বায়ুস্তর : বায়ু শীতল হলেও এখানে চাপ কম কারণ ভূপৃষ্ঠ থেকে এত ওপরে বায়ুর উপাদানগুলির পরিমাণ খুব কম হয়। ফলে বায়ুর ঘনত্ব কম হয় অর্থাৎ বায়ুর মধ্যস্থ অণুর মধ্যের দুরত্ব অনেক বেশি হয়। তাই অণুগুলির মধ্যে সংঘর্ষ অত্যন্ত কমে যায় এবং বায়ুচাপ কম হয়।

3)স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের বিধি  : ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে 6.4°C হারে উয়তা হ্রাস পায়। এটিকে Normal Lapse Rate বলে। এই নিয়মে এভারেস্টের সর্বোচ্চ সীমায় 8,848 মিটারে উন্নতা দাঁড়ায় –9°C ।

4) ধূলিকণার পরিমাণ কম : বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ধূলিকণার পরিমাণ কম থাকায় তাপ শোষণ কম হয় ও বিকিরণের পরিমাণও কমে। তাই এভারেস্টের শীর্ষদেশে উন্নতা কম।

5) বায়ুর ঘনত্ব কম : সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়, বায়ুর ঘনত্ব তত কমতে থাকে। আবার বায়ুর ঘনত্ব হ্রাস পেলে বায়ুচাপও কমে। এই কারণে সমুদ্র সমতল থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়, বায়ুচাপও তত কমতে থাকে। এইভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর চাপ 1 সেমি পারদস্তম্ভের সমান বা 1.34 মিলিবার হারে হ্রাস পায়। এইভাবে এভারেস্টের শীর্ষদেশে বায়ুচাপ হয় 930 মিলিবার।

6) অধিক শীতলতা, হিমবাহের তুষারের উপস্থিতি : হিমালয়ের শীর্ষদেশ তুষারাবৃত ও অধিক শীতলতার জন্য এভারেস্টের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উন্নতা কম থাকে।

উঃ-বায়ুমণ্ডল গঠনকারী প্রধান উপাদানগুলি হল  - 1)গ্যাসীয় উপাদান, 2)জলীয় বাষ্প এবং 3) ধূলিকণা

1) গ্যাসীয় উপাদানের সঙ্গে বায়ুচাপের পরিবর্তন : বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে কার্বনকণার পরিমাণ বেশি থাকায় বায়ু ভারী হয়ে যায়, সেখানে বায়ুর উচ্চচাপ হয়। বায়ুতে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম গ্যাস বেশি থাকলে বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার গ্যাসীয় উপাদানের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বায়ু অধিক ঘনত্বযুক্ত হলে, বায়ুচাপ বেশি হয়। উষ্ণতা বাড়লে  গ্যাসীয় উপাদানগুলি হালকা হয়ে পড়লে বায়ুর চাপ হ্রাস পায়।

 2) জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বায়ুচাপের পরিবর্তন : কোনো স্থানের বায়ুতে জলীয় বাষ্প থাকলে, ওই বায়ু জলীয় বাষ্পহীন শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা হয়। তাই সেখানে বায়ুর চাপও কম হয়। বায়ুতে জলীয় বাষ্প মিশলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তার ফলেই আবহাওয় অশান্ত হয়ে ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ হয়।

অন্যদিকে কোনো স্থানের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিম কম হলে, বাতাস ভারী হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়।

3)ধূলিকশার সঙ্গে বায়ুচাপের পরিবর্তন : বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণাকে এরোসোল (Aerosol) বলে। নিম্নচাপ অঞ্চলে ভাসমান ধুলিকণা, লবণকণা, ছাই, ভস্ম প্রভৃতি বেশি পরিমাণে থাকায় বাতাসের উন্নতা বৃদ্ধি পায় ও জলীয় বাষ্প এই ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে শীতল অঞ্চলে (উচ্চচাপ অঞ্চলে) ধূলিকণার পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডলের উন্নতা কম থাকে কারণ ধূলিকশা দ্বারা তাপশোষণ কম হয়। ফলে সেখানে বায়ুর চাপও বেশি হয়।

উঃ- অল্টিমিটার (Altimeter) : অল্টিমিটার (Altimeter) আসলে উচ্চতা মাপক যন্ত্র বা Altitude (উচ্চতা) Meter সাধারণত বিমানচালক, পর্বতারোহী বা স্কাই ড্রাইভারদের কাছে আল্টামটার থাকে। এর সাহায্যে বায়ুচাপের মানকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের উচ্চতা জানতে পারে।

ব্যারোগ্রাফ (Barograph) : বায়ুচাপের পরিমাণ অনবরত লিপিবদ্ধ করার যন্ত্র হল ব্যারোগ্রাফ। এই যন্ত্রে বায়ুচাপের দ্রুত পরিবর্তন ধরা পড়ে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে ব্যারোগ্রাফ যন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানেও এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর সাহায্যে বিমান চালকরা দ্রুত আবহাওয়া বিশ্লেষণ করতে পারে ।

উঃ-ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহারের সুবিধাগুলি হল: (1) চাপের সঙ্গে পারদের আয়তন প্রসারণ অত্যন্ত নিয়মিত।  (2)পারদ অস্বচ্ছ এবং চকচকে হওয়ায় এর ঊর্ধ্বসীমা কাচের ভিতর  দিয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। (3)বিশুদ্ধ পারদ কাচপাত্র ভিজিয়ে দেয় না বা  কাচনলে লেগে থাকে না। (4)অন্য তরলের তুলনায় পারদকে বিশুদ্ধ  অবস্থায় পাওয়া যায়। (5)1 মিটার দৈর্ঘ্যসম্পন্ন কাচনলের মধ্যেই  প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণয় করা যায়। (6)পারদ অন্যান্য সহজলভ্য  তরলের তুলনায় কম উদ্‌বায়ী।

উ :- উচ্চচাপ অঞ্চলে শান্ত আবহাওয়া থাকার কারণ : (1)সাধারণত কোন অঞ্চলের উন্নতা কম হলে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ অঞ্চলের বায়ু শীতল হওয়ায় তা সংকুচিত অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং ভারী হয়। (2) শীতল বায়ুতে জলীয় বাষ্প খুবই কম থাকে এর ভারী হওয়ায় সহজেই ভূপৃষ্ঠের দিকে নেমে আসতে থাকে। এই বায়ু নিম্নমুখী হওয়ায় ক্রমশ উন্ন হতে থাকে। ফলে বায়ু মধ্যস্থিত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতে পারে না। তাই মেঘ, বৃষ্টি কিছুই হয় না। তা ছাড়া উচ্চচাপ অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী নিম্নচাপ অঞ্চলের মধ্যে চাপের পার্থক্য কম হওয়ায় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ কম হয়। এই কারণে উচ্চচাপ  অঞ্চলের আবহাওয়া পরিষ্কার ও শান্ত থাকে।

নিম্নচাপ অঞ্চলের আবহাওয়া অশান্ত হওয়ার কারণ : (1) পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো স্বল্প পরিসর স্থান হঠাৎ খুব উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেই স্থানের বায়ু উন্ন ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং সেখানে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। (2) এই অঞ্চলে তখন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায় যা নিম্নচাপকে আরও গভীর করে তোলে। (3) এমতাবস্থায়, চারদিক থেকে শীতল ও ভারী বায়ু তখন সেই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবল বেগে ঘূর্ণাকারে ছুটে আসে। (4) ঊর্ধ্বাকাশে বায়ু ঠান্ডা হলে, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু সেখানে শীতল হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে। যা পরবর্তীকালে বৃষ্টি হয়ে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। (5) বায়ুচাপের পার্থক্যের দরুন অনেক সময় বায়ুপ্রবাহের গতি বেড়ে যায়। এই সকল কারণেই নিম্নচাপ অঞ্চলে অশান্ত পরিবেশ লক্ষ করা যায়।

উ:- উচ্চ বায়ুমণ্ডল থেকে শীতল ভারী বায়ু ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন অঞ্চলে ক্রমাগত নেমে এলে, তাকেই বায়ুর নিমজ্জন বলে।

সাধারণত এই বায়ুর নিমজ্জন কোনো স্থানের বায়ুর চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

কারণ : যে-কোনো অঞ্চলের বাতাসেরই একটি নিজস্ব বায়ুর চাপ থাকে। এই অবস্থায় ওই অঞ্চলটিতে যদি পুনরায় শীতল ভারী বাতাস এসে নিমজ্জিত হয় তখন আপেক্ষিকভাবে সেখানকার বায়ুতে চাপ বাড়ে ও উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ : পৃথিবীর উভয় গোলার্ধের দুই ক্রান্তীয় (25° – 35°) অঞ্চলে অক্ষাংশের মধ্যে (কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়) উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ –(1) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি। তাই এখানকার উত্তপ্ত হালকা বায়ু ওপরে উঠলে আবর্তন গতির প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছিটকে যায় এবং ক্রমশ শীতল ও ভারী হয়ে এই বায়ু দুই ক্রান্তীয় অঞ্চলে নেমে আসে। (2) আবার সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী বায়ু কোরিওলিস বলের প্রভাবে বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলে পৌঁছায়। এই দুই বায়ুর নিমজ্জনের কারণে ক্রান্তীয় অঞ্চলে বায়ুর পারমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে যায়। তাই এখানে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়।

উ:- বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বায়ুর চাপের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জলীয় বাষ্প বাতাসের চেয়ে অনেক হালকা হয়। ফলে যে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি তার ওজন অপেক্ষাকৃত কম, আবার যে বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমান কম তার ওজনও অনেক বেশি ।

আপেক্ষিকভাবে যে বাতাসের ওজন কম তা হল নিম্নচাপ এবং যে বাতাসের ওজন বেশি তা হল উচ্চচাপ

পৃথিবীর যে-কোনো জায়গায় শীতকাল অপেক্ষা বর্ষাকালে বায়ুর চাপ সর্বদা কম থাকে বা নিম্নচাপ লক্ষ করা যায়।

বর্ষাকালে বায়ুর চাপ কম থাকার কারণ : (1)বর্ষাকালে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় বায়ু বেশি উষ্ণ হয়। ফলে জলভাগ থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয়। সেজন্য বায়ুর ঘনত্বও কমে যায়। (2) ওই উষ্ণ বায়ু বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, ফলে বায়ু ক্রমশ হালকা ও ঊর্ধ্বগামী হয়। এই সমস্ত কারণে বর্ষাকালে বায়ুর চাপ কম হয়।

শীতকালে বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণ : (1) সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ায় বায়ুর উষ্ণতা কম। শীতল বায়ু জলীয় বাষ্পহীন শুষ্ক প্রকৃতির হওয়ায় ওই বায়ুর ঘনত্বও বেশি হয়। তাই চাপও বেশি থাকে। (2) শীতল বায়ু ভারী হওয়ায় বায়ুর চাপ বেশি হয়। এই সমস্ত কারণে শীতকালে বর্ষাকালের তুলনায় বায়ুর চাপ বেশি হয়।

উ:- এই ঘটনার সঙ্গে জলের চাপজনিত টানের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পিচকারির মুখ জলে ডুবিয়ে এর হাতল ধরে বাইরের দিকে টানলে পিচকারির মধ্যে থাকা বায়ু বেরিয়ে গিয়ে ওই স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। অর্থাৎ ওই স্থানের বায়ুচাপ বাইরের বায়ুচাপের (উচ্চচাপ) তুলনায় কমে যায়। বাইরের উচ্চচাপযুক্ত বায়ু জলের ওপর চাপ দেওয়ায় জল বাতাসে সমতা রক্ষার জন্য পিচকারি নলাকার মুখের মধ্যে অর্থাৎ কম চাপযুক্ত অঞ্চলের মধ্যে প্রবেশ করে। এইভাবেই পিচকারির মুখে জল উঠে আসে।

উ:- স্বাভাবিক বায়ুচাপে জলের ফুটনাঙ্ক 100° C। কিন্তু বায়ুচাপ হ্রাস পেলে 100°C-এর কম উন্নতাতেও জল ফুটতে থাকে। ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় বলে বায়ুর চাপও কমে যায়। সাধারণত প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে 1 সেমি পারদস্তম্ভের সমান বায়ুচাপ কমে যায়। তাই উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুচাপ কম হয়, আর বায়ুচাপ কম হয় বলে জলের স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়। এই কারণেই প্রায় 3900 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গোমুখ তুষার গুহায় অথবা তুষারাবৃত কেদারনাথ মন্দিরে বেড়াতে গিয়ে ফুটন্ত জলে হাত দিলেও জলের উন্নতা অনেক কম হওয়ায় হাত পুড়ে যায় না।

উ:- সংজ্ঞা : কোনো অল্প পরিসর জায়গায় উন্নতা বৃদ্ধির কারণে  হঠাৎ করে বায়ুর চাপ কমে গেলে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়  এবং বাইরের দিকে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এই অবস্থায় উচ্চচাপ  অঞ্চল থেকে এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ু প্রবল গতিতে ছুটে  আসে, একে ঘূর্ণবাত বলে।

বৈশিষ্ট্য : -(1) ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও বাইরে উচ্চচাপ  বিরাজ করায় বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রমুখী হয়। (2) ঘূর্ণবাতের বায়ুপ্রবাহ  উত্তর-গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (বামদিকে) এবং দক্ষিণ  গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে (ডানদিকে) চক্রাকারে কেন্দ্রে প্রবেশ  করে। (3) ঘূর্ণবাত দু-ধরনের হয়, ক্রান্তীয় নাতিশীতোর অঞ্চলের  ঘূর্ণবাত(4) ঘূর্ণবাতের বিস্তার কম অঞ্চল জুড়ে হয়। (5) ঘূর্ণবাতের  গড় গতিবেগ প্রায় 160 – 500 কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।  (6)ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে শান্ত পরিবেশ থাকে। (7) ঘূর্ণবাত স্বল্পস্থায়ী হয়।  (8) ঘূর্ণবাতের প্রভাবে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় জীবন ও সম্পত্তির  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উ:- সংজ্ঞা : কোনো জায়গায়  উষ্ণতা হ্রাসের কারনে বায়ুচাপ  বেড়ে গেলে উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের দিকে নিম্নচাপ  বিরাজ করে। এই অবস্থায় বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে  ছুটে যায়, একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।

বৈশিষ্ট্য : (1)প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে  এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। (2)এই বায়ু  শীতল, বহির্মুখী ও নিম্নগামী হয়। (3) এই বায়ুর গতিবেগ ঘূর্ণবাতের  তুলনায় অনেকটা কম। (4) সাধারণত উচ্চ অক্ষাংশে প্রতীপ ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়। (5)প্রতীপ ঘূর্ণবাতের অবস্থানে মেঘমুক্ত, শান্ত, রোদ ঝলমলে আবহাওয়া দেখা যায়।

উঃ- সূত্র : পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে উদ্ভূত কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু   উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের    দিকে সোজাপথে প্রবাহিত   না হয়ে উত্তর গোলার্ধে   ডানদিকে   এবং দক্ষিণ   গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে   প্রবাহিত হয়, একেই বলা   হয় ফেরেলের সূত্র।

নামকরণ : 1859 সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের   আবহবিদ উইলিয়ম ফেরেল   এই সূত্রটি আবিষ্কার করেন   বলে তাঁর নামানুসারে এই   সূত্রের নামকরণ হয়েছে   ফেরেলের সূত্র।

উদাহরণ : ফেরেলের সূত্রানুসারে, আয়ন বায়ু উত্তর   গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধে   বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়।

উ:- ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় বলে   বায়ুর চাপও কমে যায়। সাধারণত প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে   সঙ্গে 1 সেমি পারদস্তম্ভের সমান বায়ুচাপ কমে যায়। আবার বায়ুর চাপ   কমলে জলের স্ফুটনাঙ্ক  কমে যায়। তাই উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুচাপ   কম থাকায় জল 100°C (জলের স্ফুটনাঙ্ক)-এর কম উন্নতাতেই ফুটতে   শুরু করে। ফলে চাল, ডাল সহজে সিদ্ধ হতে চায় না।

উ:- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর চাপ হ্রাস পায়, তাই পাহাড়ের   ওপর বায়ুর চাপ কম হয় এবং সেখানে জল 100°C অপেক্ষা কম উষ্ণতায়  ফুটতে থাকে। জলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে রান্নাসামগ্রী সহজে সিদ্ধ করা  যায় না। তাই কৃত্রিম উপায়ে প্রেসার কুকারের মাধ্যমে চাপ বৃদ্ধি করে   স্ফুটনাঙ্ক বাড়িয়ে নিলে অল্প সময়ের মধ্যে রান্না করা যায়।