Chapter-3, শিলা

শিলার প্রবেশ্যতা বলতে শিলার মধ্য দিয়ে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের প্রবেশ করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

সচ্ছিদ্রতা বলতে শিলার কণাগুলির মধ্যে যে ফাঁক থাকে, তাকে বোঝায়। বেলেপাথরের প্রবেশ্যতা বেশি বলে জলধারণ ক্ষমতা কম। আবার, কাদামাটির সচ্ছিদ্রতা বেশি।

পৃথিবী উত্তপ্ত তরল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণের ফলে ঠান্ডা এবং কঠিন হওয়ার সময় যে শিলা প্রথম গড়ে ওঠে অথবা ভূঅভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা বাইরে লাভারূপে অথবা ভূঅভ্যন্তরেই ম্যাগমারূপে সঞ্চিত হয়ে যে শিলা তৈরি হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। যেমন— গ্রানাইট। এই শিলায় কোনো স্তরভেদ না থাকায় একে অন্তরীভূত শিলাও বলে। বেশি বলে এই শিলা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।  এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

পৃথিবী উত্তপ্ত অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে শীতল এবং কঠিন হওয়ার সময় পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রথম যে শিলা তৈরি হয় তার নাম আগ্নেয় শিলা। এই শিলা গঠিত হওয়ার পর পাললিক বা রূপান্তরিত শিলা গঠিত হয়। সর্বপ্রথম সৃষ্টি হওয়ার কারণে আগ্নেয় শিলাকে আদি শিলা বা প্রাথমিক শিলা বলে।

ভূঅভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের দুর্বল ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং জমাট বাঁধে তখন তাকে নিঃসারী আগ্নেয় শিলা বলে। দ্রুত জমাট বাঁধে বলে এই শিলায় দানার আকার সূক্ষ্ম হয়। যেমন ব্যাসল্ট।

ব্যাসল্ট হল নিঃসারী আগ্নেয় শিলা। ব্যাসল্ট শিলা থেকে সৃষ্ট মাটির মধ্যে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এই মাটি কালো বর্ণের।

পাতালিক শিলার বৈশিষ্ট্যগুলি হল – ভূগর্ভের অনেক নীচে খুব ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে ও জমাট বেঁধে এই শিলা গঠিত হয়। 2 পাতালিক শিলার দানাগুলির আকৃতি বেশ বড়ো হয়। ও ভূপৃষ্ঠ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে এই জাতীয় শিলাকে অনেকসময় পাহাড়ের আকারে ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করতে দেখা যায়। উদাহরণ-গ্রানাইট শিলা।

গ্রানাইট শিলার মূল খনিজ উপাদান হল – কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার এবং অভ্র বা মাইকা। উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা ঠান্ডা হওয়ার সময় খনিজ পদার্থ হিসেবে সর্বপ্রথম হর্নব্রেন্ড ও অভ্র পৃথক হয়। গ্রানাইটে এই অভ্রের উপস্থিতির জন্য এটি চিক্‌চিক্ করে ।

গ্রানাইট শিলার সান্দ্রতা বেশি। তাই এর ম্যাগমা ভূঅভ্যন্তরে জমে গিয়ে গম্বুজাকৃতি ভূমিরূপ তৈরি করে। পরে ভূপৃষ্ঠে উন্মোচিত হলে উন্নতার প্রভাবে এই গম্বুজাকৃতি ভূমিরূপের আবহবিকার ঘটার ফলে উপরিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গোলাকার শীর্ষদেশবিশিষ্ট টর-জাতীয় ভূমিরূপ গঠন করে। মালনাদ মালভূমিতে এই ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম না থাকার কারণগুলি হল
শিলায় জীবাশ্ম না থাকার কারণগুলি হল- ভূগর্ভে উত্তপ্ত ম্যাগমা অথবা ভূপৃষ্ঠে লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে যখন আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, তখন তার মধ্যে কোনো উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ চাপা পড়লেও উত্তাপে তা নষ্ট হয়ে যায়, অর্থাৎ প্রস্তরে তার কোনো ছাপ থাকে না। পাললিক শিলার মতো আগ্নেয় শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় না। এজন্যই আগ্নেয় শিলায় কোনো উদ্ভিদ বা প্রাগী চাপা পড়ে না। ও জীবের আবির্ভাবের পূর্বে আগ্নেয় শিলার উদ্ভব হয়েছিল বলে আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম দেখা যায় না।

আগ্নেয় শিলার বহুবিধ ব্যবহারগুলি হল – ব্যাসল্ট শিলা ও গ্রানাইট শিলা দিয়ে নানা নির্মাণকার্য করা হয়। যেমন—মহাবলীপুরম, মাদুরাই প্রভৃতি স্থানের মন্দিরগুলি গ্রানাইট পাথরে তৈরি। ও রেললাইনের মধ্যে স্টোনচিপ হিসেবে, রাস্তাঘাট তৈরিতে ও ট্রামলাইনের নীচে যে শিলা ব্যবহার করা হয় তা মূলত ব্যাসল্ট শিলা।

গৃহস্থালিতে আগ্নেয় শিলা যেভাবে ব্যবহৃত হয় তা হল- বাড়ির ছাদ, মেঝের কংক্রিট সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত স্টোনচিপ ব্যাসল্ট শিলার অংশ।ব্যাসল্ট শিলা খালা ও পুজোর উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ও রান্নাঘরে রান্নার টেবিল সবুজাভ রঙের গ্রানাইট শিলা দিয়ে তৈরি করা হয়। ৫ বাটনা বাটার নোড়াটি ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে তৈরি।

ইংরেজি clastic rock" কথার বাংলা প্রতিশব্দ 'সংঘাত শিলা' (ইংরেজিতে clastic কমাটির উৎপত্তি গ্রিক 'klastos' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'broken' বা "ভগ্ন'। সাধারণত নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি ক্ষয়কারী প্রাকৃতিক শক্তির সংঘর্ষ বা সংঘাতে আদি বা প্রাচীন শিলাগুলি ক্রমশ ভগ্ন বা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নুড়ি, বালি, পলি ইত্যাদিতে পরিণত হয়। এরপর এইসব পদার্থ থেকে যে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয় সেগুলিকেই বলে সংঘাত শিলা। সাধারণভাবে বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে উৎপন্ন সব পাললিক শিলাই সংঘাত শিল্পার অন্তর্ভূক্ত। উদাহরণ—বালুকাময় পাললিক শিলা (বেলেপাথর), মৃন্ময় পাললিক শিলা (কাদাপাথর), বিমিশ্র পাললিক শিলা (কংগ্লোমারেট)।

" পৃথিবী যখন সৃষ্টি হয়েছিল অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় 460 কোটি বছর আগে পৃথিবী ছিল স্বলন্ত আগুনের পিন্ড। এরপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর বাইরের দিক ঠান্ডা হতে শুরু করে। গরম দুধের ওপর যেমন ধীরে ধীরে সর পড়ে তেমনি পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে ভূত্বক তৈরি করে। সেইজন্য পৃথিবী যখন সৃষ্টি হয়েছিল সেই সময় পৃথিবীর যাবতীয় শিলা ছিল আগ্নেয় প্রকৃতির।

রেললাইনের মাঝে যে শিলা থাকে তা ব্যাসল্ট-জাতীয় আগ্নেয় শিলা। এর কারণ, এই শিলা নানা ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন-কোয়ার্টজ, অলিভিন, লোহা প্রভৃতি দিয়ে গঠিত বলে খুব শক্ত এবং ক্ষয় প্রতিরোধকারী। তাই এই শিলার রেলগাড়ির ভার সহ্য করার ক্ষমতা থাকে। এই কারণে রেললাইনের মাঝে এই শিলা ব্যবহার করা হয়।

কোনো অঞ্চলের ভূমিরূপ কেমন হবে তা গঠনকারী শিলার ওপর নির্ভর করে। যেমন গ্রানাইট শিলায় গঠিত অঞ্চলের পাহাড়গুলির শীর্ষদেশ কিছুটা গোলাকার হয়। ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত মালভূমির উপরিতল চ্যাপটা হয়। ও চুনাপাথর এবং ডলোমাইট শিলাগঠিত অঞ্চলের ওপর দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে ভূপৃষ্ঠে নানা ধরনের গর্ত ও ভূগর্ভে অনেক গহ্বরের সৃষ্টি হয়। লাভাগঠিত আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের ভূমিরূপ শঙ্কু আকৃতিবিশিষ্ট হয়। পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত উচ্চভূমি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমভূমি বা উপত্যকায় পরিণত হয়।

দাক্ষিণাত্যের মালভূমিকে ডেকান ট্র্যাপ বলে যা নিঃসারী ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত। এই শিলার সান্দ্রতা কম হওয়ার জন্য তরল লাভা অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। ফলে এই ধরনের লাভায় সৃষ্ট ভূমিরূপের শীর্ষদেশ পর্বতের মতো উঁচু না হয়ে চ্যাপটা হয়।

বৃষ্টি, তুষারপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের ফলে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উৎপন্ন পলি, সাগর মহাসাগর বা হ্রদে স্তরে স্তরে সঙ্কিত হয় এবং পরবর্তীকালে এই পলি জমাট বেঁধে যে শিলা তৈরি হয় তাকে বলে পাললিক শিলা ( sedimentary rock) | উদাহরণ-বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাদাপাথর প্রভৃতি ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্যগুলি হল – 1 স্তরে স্তরে পলি জমে সৃষ্টি হয় বলে পাললিক শিলায় বিভিন্ন স্তর স্পষ্ট লক্ষ করা যায়। এখানে একটি স্তর আরেকটি স্তর থেকে যে তল দ্বারা আলাদা থাকে, তাকে স্তরায়ণ তল বলে। পাললিক শিলায় স্তরভেদ থাকে বলে একে স্তরীভূত শিলা বলে। ও অন্যান্য শিলার তুলনায় এই শিলার কাঠিন্য কম হওয়ায় সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।  সচ্ছিদ্ৰতা (porosity) এই শিলার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হওয়ায় একে প্রবেশ্য শিলা বলে।  একমাত্র পাললিক শিলায় জীবাশ্ম (fossil) দেখা যায়।

পাললিক শিলা যেহেতু পূর্বের কোনো শিলা থেকে তৈরি হয়, তাই এই শিলার অন্য নাম প্রাপ্ত শিলা (derived rock) | এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি

কেলাস গঠনের জন্য জলের অপুর সাথে খনিজের দৃঢ় সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন হয়। আগ্নেয় শিলার গঠনের সময় জলের অণুর সাথে খনিজের সংঘবদ্ধতার কারণে কেলাস গঠিত হয়। সেকারণে আগ্নেয় শিলা খুব শক্ত  হয়। কিন্তু পাললিক শিলা গঠনের সময় সমুদ্রের তলায় অত্যধিক চাপে পলিরাশির মধ্যস্থিত জল অপসারিত হয়ে যায়। ফলে কেলাস গঠিত হয় না।

পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে স্তরে স্তরে পলি জমা হয়ে তার মধ্যে সামুদ্রিক উদ্ভিদ বা মৃত প্রাণীর দেহ চাপা পড়ে ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। অনেক সময় পাথরের মধ্যে উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ প্রোথিত হয়ে ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয় এবং পাথরের মধ্যে তার ছাপ থেকে যায়। এইভাবে উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ পাথরে পরিণত হলে শিলাটির মধ্যে তাদের দেহাবশেষের যে ছাপ থেকে যায় তাকে জীবাশ্ম বলে।

সমুদ্র বা হ্রদের তলায় যখন পলি জমা হতে থাকে, তখন তার মধ্যে সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহও চাপা পড়ে এবং পলির সঙ্গে এগুলিও ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়। প্রস্তরে পরিণত হওয়ার সময়ে শিলাস্তরের মধ্যে ওইসব উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের ছাপ পড়ে যায়। এজন্য পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।

ভূপৃষ্ঠে লাভার শীতলীকরণ: ভূত্বকের ছোটো বড়ো বিভিন্ন ফাটল ও আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত তরল পদার্থসমূহ বা ম্যাগমা বেরিয়ে এসে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে জমা হয়। কালক্রমে এই লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়। ভূগর্ভে ম্যাগমার শীতলীকরণ: উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূগর্ভেই দীর্ঘকাল ধরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলায় পরিণত হয়।

আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্যগুলি হল- আগ্নেয় শিলা কেলাসিত অর্থাৎ স্ফটিকাকার হয়।  এই শিলার মধ্যে কোনো স্তরভেদ থাকে না বলে একে অস্তরীভূত শিলা বলে।  আগ্নেয় শিলার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন—সোনা, হিরে প্রভৃতি।

ভূবিজ্ঞানীদের মতে এক বা একাধিক খনিজের সমন্বয়ে গঠিত যেসব উপাদান দিয়ে ভূত্বক গঠিত, সেগুলিকেই সাধারণভাবে শিলা বলে। সুতরাং নুড়ি, পাথর, মাটি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সবই শিলার অন্তর্গত। এ ছাড়া শিলা গঠনকারী কয়েকটি খনিজ পদার্থ হল – কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অভ্র, অলিভিন, পাইরক্সিন প্রভৃতি।

শ্রেণিবিভাগ: উৎপত্তি অনুসারে শিলাকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় আগ্নেয় শিলা, 2 পাললিক শিলা এবং ও রূপান্তরিত শিলা।

আগ্নেয় শিলা: ভূঅভ্যন্তরের উত্তপ্ত আগ্নেয় পদার্থ, যেমন ম্যাগমা এবং ভূপৃষ্ঠে নির্গত লাভা জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয়েছে, তাকে বলে আগ্নেয় শিলা (Igneous rock)। পৃথিবী সৃষ্টির আদি পর্যায়ে গলিত আগ্নেয় পদার্থ বা ম্যাগমা ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয় এবং জমাট বেঁধে ভূত্বকের সৃষ্টি করে। পরবর্তীকালে ভূত্বকের ছোটো-বড়ো বিভিন্ন ফাটল ও আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে উত্তপ্ত তরল লাভা বেরিয়ে  এসে ভূপৃষ্ঠে জমা হয় এবং কালক্রমে তা ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে আগ্নেয় শিলায় পরিণত হয়। উদাহরণ- গ্রানাইট, ব্যাসল্ট প্রভৃতি।

2 পাললিক শিলা বৃষ্টি, তুষারপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের ফলে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উৎপন্ন পলি সাগর-মহাসাগর বা হ্রদে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় এবং পরবর্তীকালে ওই পলি জমাট বেঁধে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা ( Sedimentary rock) বলে। উদাহরণ- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাদাপাথর প্রভৃতি।

3 রূপান্তরিত শিলা: অনেক সময় ভূত্বকে প্রচন্ড চাপ ও তাপের প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট আর এক ধরনের শিলায় পরিণত হয়। পূর্বের রূপ বা অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে, এই শিলাকে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic rock) বলে। উদাহরণ- নিস, মারবেল, কোয়ার্টজ়াইট, স্লেট প্রভৃতি।

উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে আগ্নেয় শিলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা - নিঃসারী আগ্নেয় শিলা এবং উদ্ভবেধী আগ্নেয় শিলা।

নিঃসারী আগ্নেয় শিলা: ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বা ভূত্বকের ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে তরল লাভারূপে ভূপৃষ্ঠে প্রবাহিত হয় এবং বাতাসের সংস্পর্শে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি করে, তাকে বলে নিঃসারী আগ্নেয় শিলা (Extrusive igneous rock) । এই শিলার দানাগুলি খুব সূক্ষ্ম বা মিহি হয় । উদাহরণ—ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডেসাইট প্রভৃতি।

উদ্ভবেধী আগ্নেয় শিলা: অনেকসময় ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোতে না পেরে ভূগর্ভের ভিতরেই দীর্ঘকাল ধরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে কঠিন শিলায় পরিণত হয়। এই ধরনের শিলাকে উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলা (Intrusive igneous rock) বলে।

শ্রেণিবিভাগ: উদ্‌বেধী শিলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— [i] পাতালিক শিলা: যখন ম্যাগমা ভূগর্ভের অনেক নীচে বহুকাল ধরে
ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে কঠিন শিলায় পরিণত হয়, তখন তাকে পাতালিক শিলা (Plutonic rock) বলে। এদের কেলাসিত শিলাও বলা হয়। উদাহরণ-গ্রানাইট, গ্যাব্রো, পেরিডোটাইট প্রভৃতি। [ii] উপপাতালিক শিলা: ভূগর্ভের খানিকটা নীচে ভূপৃষ্ঠের প্রায় কাছাকাছি কোনো ফাটলের মধ্যে ম্যাগমা বা উত্তপ্ত গলিত আগ্নেয় পদার্থ ঠান্ডা হয়ে ও জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে বলে উপপাতালিক শিলা (Hypabyssal rocks)। এর দানাগুলি নিঃসারী শিলার মতো যেমন সূক্ষ্ম হয় না, তেমনি পাতালিক শিলার মতো অত বড়োও হয় না, অর্থাৎ মাঝারি ধরনের হয়। উদাহরণ—ডোলেরাইট, পরফাইরি প্রভৃতি।

পাললিক শিলা বৃষ্টি, তুষারপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের ফলে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উৎপন্ন পলি সাগর-মহাসাগরের তলদেশে স্তরে স্তরে সজ্জিত হয় এবং জলে অবস্থিত লবণকণার সংস্পর্শে, ভূগর্ভের তাপে ও পলিরাশির চাপে জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে পাললিক শিলা বলে। উদাহরণ—বেলেপাথর, কাদাপাথর, চুনাপাথর প্রভৃতি। পাললিক শিলার শ্রেণিবিভাগ: দু-ভাবে পাললিক শিলার শ্রেণিবিভাগ করা যায়— শিলার উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে এবং ও পলির উৎপত্তি অনুসারে | শিল্পার উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে: উৎপত্তি ও গঠনের পার্থক্য অনুসারে পাললিক শিলাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় (পর্ষদ প্রদত্ত পাঠ্যবই এর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী কেবল নিম্নলিখিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সাধারণভাবে বা যান্ত্রিক উপায়ে সৃষ্ট পাললিক শিলা : প্রাথমিক শিলা যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতির দ্বারা বাহিত হয়ে সাগর মহাসাগরের তলদেশে পলিরূপে সঞ্চিত হয় এবং ভূগর্ভের তাপে ও ওপরের পলিরাশির চাপে শিলা গঠন করে, তখন তাকে যান্ত্রিক উপায়ে ছায়া ভূগোল শিক্ষক  সৃষ্ট পাললিক শিলা বলে। এই শিলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়— [i] প্রস্তরময় পাললিক শিলা (যেমন— কংগ্লোমারেট), [ii] বালিময় পাললিক শিলা (যেমন – বেলেপাথর) এবং [iii] কাদাময় পাললিক শিলা (যেমন—কাদাপাথর) ।

পলির উৎপত্তি অনুসারে: পলির উৎপত্তি অনুসারে পাললিক শিলাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—

[i] সংঘাত শিলা: আগ্নেয় শিলা ও রূপান্তরিত শিলা প্রাকৃতিক সংঘাতের ফলে ক্রমশ ভগ্ন বা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পলিতে পরিণত হয় এবং সেই পলি সজ্জিত হয়ে যে পাললিক শিলা উৎপন্ন হয়, তার নাম সংঘাত শিলা (Clastic rock) | যেমন— বেলেপাথর, কাদাপাথর প্রভৃতি ।

[ii] অসংঘাত শিলা: কিছু কিছু পাললিক শিলা সংঘাতের মাধ্যমে উৎপন্ন না হয়ে রাসায়নিক বা জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপন্ন হয়, এদের বলে অসংঘাত শিলা। যেমন— চুনাপাথর, ডলোমাইট প্রভৃতি ।

 

[1:07 pm, 22/08/2022] Dipbendu: রূপান্তরিত শিলা কোনো কোনো সময় প্রবল ভূ-আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড চাপে বা উত্তপ্ত তরল শিলাস্রোতের সংস্পর্শে এসে অথবা রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে আগ্নেয় বা পাললিক শিলা আগের চেয়ে আরও বেশি। কঠিন ও কেলাসিত হয়ে নতুন ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট শিলায় পরিণত হয়। একে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত শিলা বলে। যেমন- গ্রানাইট (আগ্নেয়) শিলা থেকে রূপান্তরিত নিস, চুনাপাথর (পাললিক) থেকে রূপান্তরিত আরবেল, ফিলাইট (রূপান্তরিত) থেকে রূপান্তরিত সিস্ট প্রভৃতি হল এই ধরনের শিলা।

রূপান্তরিত শিলার শ্রেণিবিভাগ: রূপান্তরিত শিলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া অনুসারে, 2 রূপান্তরের ব্যাপকতা অনুসারে এবং 3 শিলার উৎস অনুসারে (পর্ষদ প্রদত্ত পাঠ্যবই-এর পাঠ্যসূচী অনুযায়ী কেবল নিম্নলিখিত দুটি শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হল)।

1 রূপান্তরের প্রক্রিয়া অনুসারে: রূপান্তরের প্রক্রিয়া অনুসারে রূপান্তরিত শিলাকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— [i] তাপের প্রভাবে: উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা বা লাভার সংস্পর্শে রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়। যেমন— গ্রানাইট থেকে নিস। [ii] চাপের প্রভাবে: ভূ-আন্দোলনের ফলে উৎপন্ন প্রবল চাপে রূপান্তরিত শিলা গঠিত হয়। যেমন- কাদাপাথর বা শেল থেকে সেট। [iii] তাপ ও চাপের মিলিত প্রভাবে: ভূগর্ভের বেশ গভীরে তাপ ও চাপের যুগ্ম প্রভাবে শিলা রূপান্তরিত হয়। যেমন— চুনাপাথর থেকে মারবেল।
[iv] রাসায়নিক বিক্রিয়ায়: ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূগর্ভস্থ জল বা গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়ার মাধ্যমেও শিলা রূপান্তরিত হয় অর্থাৎ রাসায়নিক বিক্রিয়া শিলার রূপান্তরে সাহায্য করে। যেমন— কোয়ার্টজাইট।

রূপান্তরের ব্যাপকতা অনুসারে: রূপান্তরের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুসারে রূপান্তরিত শিলাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—

[i] স্থানীয় রূপান্তর বা স্পর্শ-সংযোগ রূপান্তর: ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভার সংস্পর্শে স্থানীয়ভাবে শিলার রূপান্তর ঘটে। যেমন— গ্রানাইট থেকে নিস।

[ii] গতিশীল রূপান্তর : প্রবল ভূ-আলোড়নজনিত চাপের প্রভাবে শিলার স্থানচ্যুতি, ফেটে যাওয়া, গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটলে নতুন ধরনের রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়। যেমন—ক্যাটাক্লাস্টিক ব্রেকসিয়া, প্রভৃতি।

[iii] আঞ্চলিক রূপান্তর: প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শিলার এই জাতীয় রূপান্তর ঘটে। যেমন— কাদাপাথর পরিবর্তিত হয়ে স্লেট গঠিত হয়।

অর্থনৈতিক দিক থেকে শিলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেমন—

1 স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও গৃহস্থালিতে: নানারঙের বিচিত্র শিলা দিয়ে ভারতের বহু প্রাচীন মন্দির ও সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। পাললিক শিলা বেলেপাথর বাড়ির শিলনোড়া বা জাঁতা থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো মন্দির, মসজিদ, মূর্তি, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।

2 রাস্তাঘাট নির্মাণে: রাস্তাঘাট নির্মাণে কালো রঙের ব্যাসল্ট শিলা, নিস প্রভৃতি শিলা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
3 ভৌমজলের সয়ে: ভৌমজলের সঞ্চয় শিলার প্রবেশ্যতার ওপর নির্ভর করে। পাললিক শিলার প্রবেশ্যতা অনেক বেশি হওয়ায় এই শিলায় ভৌমজল অধিক পরিমাণে সঞ্চিত থাকে।

4 সম্পদ প্রাপ্তিতে: আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাস্তরে যেমন ধাতব খনিজ পাওয়া যায় তেমনি পাললিক শিলাস্তরে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা প্রভৃতির মতো অমূল্য জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদ
সঞ্চিত থাকে।
5 মাটির উর্বরতার: শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মাটি সৃষ্টি হয়। তাই মাটির উর্বরাশক্তি বহুলাংশে শিলার প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
6 ভূগর্ভস্থ জলের প্রকৃতি নির্ধারণে: গ্রানাইট শিলাগঠিত অঞ্চলের জল  মৃদু বা কোমল হয়। তাই এই জল সুতিবন্ত্র ও বয়ন শিল্পের নানাকাডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
7 মৃত্তিকানির্ভর শিল্পের উন্নতিতে: ফায়ার-ক্লে বা তাপসহনশীল মাঢ়ি চায়না-ক্লে বা চিনামাটি—এগুলি কাদাপাথরের প্রকারভেদ। ইস্পাত কারখানায় চুল্লি নির্মাণে ফায়ার-ক্লে ব্যবহৃত হয় এবং চিনামাটি থেকে চিনামাটির বাসন তৈরি হয়। সুতরাং, মৃত্তিকানির্ভর শিল্পের উন্নতিতে শিলার গুরুত্ব অপরিসীম।

জলভাগে স্তরে স্তরে পলি সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলা গঠনের সময়ে মৃত
সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদ পলিস্তরে চাপা পড়ে প্রবল চাপে প্রস্তরীভূত হয়ে যায় এবং
শিলার মধ্যে তার ছাপ থেকে যায়—একে জীবাণা বলে। এই জীবাশ্ম থেকে
জীবের বিবর্তন, প্রাচীন জলবায়ু এবং শিলার বয়স-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া
যায় | বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে জীবাশ্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
জীবালা-সংক্রান্ত এই পাঠকে প্যালিঅন্‌টোলজি (Palaeontology) বলে ।

বিজ্ঞানের যে শাখায় খনিজ সম্পদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়
তাকে মিনারেলজি (Mineralogy) বলে | বর্তমানে বিজ্ঞানের এই শাখাটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাগর-মহাসাগরের তলদেশে স্তরে স্তরে পলি জমার সময় স্তরগুলিতে ছোটো
ছোটো সামুদ্রিক প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদকোশ, জীবকোশ প্রভৃতি সঞ্চিত
হয়। তারপর ওপরের পলিস্তরের চাপ, তাপ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ওই
সঞ্চিত জৈব পদার্থের মধ্য থেকে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সরে গিয়ে
হাইড্রোজেন ও কার্বনের এক রাসায়নিক যৌগ সৃষ্টি হয়। একে আমরা বলি
খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম | উত্তপ্ত শিলাস্রোত বা ম্যাগমা শীতল ও কঠিন
হয়ে যখন আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, তখন তার মধ্যে প্রাণীদেহ, উদ্ভিদকোশ,
ব্যাকটেরিয়া, জীবকোশ প্রভৃতি চাপা পড়লেও প্রচণ্ড উত্তাপে তা নষ্ট হয়ে
যায়। তাই হাইড্রোজেন ও কার্বনের রাসায়নিক যৌগ সৃষ্টি হওয়ার কোনো
সুযোগই থাকে না। এজন্যই আগ্নেয় শিলায় খনিজ তেল পাওয়া যায় না।

রাসায়নিক সংযুক্তি অনুসারে আগ্নেয় শিলা চার ভাগে বিভক্ত। যথা-
(1) আধিক শিনা: এই জাতীয় শিলায় সিলিকার পরিমাণ 65%-এর বেশি। যেমন— গ্রানাইট, রায়োনাইট ইত্যাদি।
(2) ক্ষারকীয় শিলা: এই জাতীয় শিলায় ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ 45%-এর বেশি এবং সিলিকার পরিমাণ 45%-55% | যেমন ব্যাসল্ট,
গ্যাৱো ইত্যাদি।
3 মধ্যবর্তী শিলা: এতে সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় সমান | যেমন—অ্যান্ডেসাইট, ডায়োরাইট ইত্যাদি ।
(4) অতি-ক্ষারকীয় শিলা; এতে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ 55%-এর বেশি ও সিলিকার পরিমাণ 45%-এর কম থাকে। যেমন—
অবসিডিয়ান, পেরিডোটাইট ইত্যাদি।

শিলা থেকে মাটি সৃষ্টির পদ্ধতিটিকে পেডোজেনেসিস (Pedogenesis) বলে। শিলা থেকে মাটি সৃষ্টির প্রক্রিয়াগুলি হল নিম্নরূপ-
আবহবিকার: যান্ত্রিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়। সংযোজন: এই পর্যায়ে চূর্ণবিচূর্ণ শিলার সাথে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সংযোজন ঘটে। অপসারণ: এই পর্যায়ে প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তি (বৃষ্টির জল, নদীর জল, সমুদ্রতরঙ্গ ইত্যাদি)-এর দ্বারা চূর্ণবিচূর্ণ শিলার কিছুটা অপসারণ ঘটে। রেগোলিথের উৎপত্তি: অপসারণের পর শিলার যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে বলে রেগোলিথ । এই রেগোলিথই হল মৃত্তিকার মূল উপাদান। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন, যেমন— হিউমিফিকেশন, এলুভিয়েশন, ইলুভিয়েশন, খনিজকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়।