Chapter-3 ➤ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরি

উঃ-এই অঞ্চলের মাটি কাঁকর ও পাথর মেশানো, অনুর্বর। মাটিতে লোহার অক্সাইড মেশানো থাকে, তাই এই মাটির রং লাল।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমির পূর্ব সীমানা থেকে গঙ্গার বদ্বীপের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত সামান্য ঢেউখেলানো বিস্তৃত সমভূমি অঞ্চলকে রাঢ় অঞ্চল বলে।

উঃ-পুরোনো পলিমাটি দিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ল্যাটেরাইট জাতীয় লালমাটি দেখা যায়। এই মাটির স্তর অগভীর ও মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম।

উঃ-রাঢ় অঞ্চলের নদনদীগুলি হল− দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, দামোদর, কাঁসাই, ময়ূরাক্ষী, অজয় ইত্যাদি।

উঃ-এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক উদ্ভিদের মধ্যে শাল, পলাশ, শিমুল, বাবলা, বাঁশ, নানা ধরনের ঘাস প্রধান। এখানকার অরণ্য-অঞ্চল কেটে ফেলে চাষবাস করার জন্য ভূমিক্ষয় বেশি হয়। ভূমিক্ষয় রোধের জন্য রাজ্যের বনদপ্তর গাছ। লাগিয়েছে।

উঃ-এই মৃত্তিকায় ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি। এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি, তাই এই মাটি উর্বর।

উঃ-এই মৃত্তিকা লাভা ও ব্যাসল্ট শিলার ক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়। এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি। লোহাচূর্ণ ও পটাশসমৃদ্ধ হওয়ায় এর রং কালো ও উর্বর হয়।

উঃ-এই মাটিতে লোহার ভাগ বেশি থাকায় এই মাটির রং লাল। এই মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা কম, তাই এই মাটি অনুর্বর।

উঃ-এই মৃত্তিকাতে জোয়ারের প্রভাব থাকায় এটি লবণাক্ত প্রকৃতির। এই মাটি পলি ও জৈব পদার্থসমৃদ্ধ। সুন্দরবন অঞ্চলে এই মৃত্তিকা দেখা যায়।

উঃ-ভূমির রুক্ষতা এবং সমুদ্র থেকে দূরবর্তী হওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানকার জলবায়ু সাধারণত উষ্ণ, আর্দ্র, চরমভাবাপন্ন হয়। উচ্চতার জন্য গ্রীষ্মকালে উষ্ণতার পরিমাণ কমে এবং শীতকালে শীতের তীব্রতা বেশি হয়। এই অঞ্চলে মে মাসের উষ্ণতা 30°-44° সেলসিয়াস এবং জানুয়ারি মাসের গড় উষ্ণতা 12° সেলসিয়াস হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন মাসে বৃষ্টিপাত হয়। এই অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাত 100 সেন্টিমিটার। শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

উঃ-1) পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম-অংশে অবস্থিত এবং ঢেউখেলানো মালভূমি অঞ্চলটি সমগ্র পুরুলিয়া জেলা ও বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পশ্চিমাংশ নিয়ে গঠিত, এই অঞ্চলটিকে পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল বলে।

2) পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে শুষ্ক পাতাঝরা গাছের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। এর মধ্যে শাল, সেগুন, আমলকী, শিমুল, পলাশ, কেন্দু ও কুল প্রধান। এ ছাড়া সাবাই ঘাস, বাঁশ, সিসল জন্মায়। তুঁত গাছের চাষও করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বনগুলিতে হাতি, বন্যশূকর, খরগোশ, হরিণ ইত্যাদি বন্যপ্রাণী দেখা যায়।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমির পূর্ব সীমানা থেকে গঙ্গার বদ্বীপের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত রাঢ় অঞ্চল বিস্তৃত। এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে অনেক নদী প্রবাহিত হয়েছে, ফলে এই অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর ও এখানে চাষ আবাদ খুব ভালো হয়। রাঢ় অঞ্চলের কৃষি : কৃষিকাজে এই অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। সমতল ভূভাগ, সেচের জলের জোগান ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে বিভিন্ন শস্য প্রচুর পরিমাণে  জন্মায়, এর মধ্যে ধান, গম, আখ, ডাল, জোয়ার, আলু প্রধান।

উঃ-গঙ্গার শাখানদী দুটির মধ্যে পদ্মা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অপর শাখা ভাগীরথী দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদী হল গঙ্গা। গঙ্গানদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ নামে তুষার গুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। পূর্ব হিমালয় থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর নাম— তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা।

উঃ-ভাগীরথী ও পদ্মার মাঝে অবস্থিত ভূখণ্ড দুই নদীর পলি দ্বারা তৈরি হয়েছে। এই ভূখণ্ডকে বলে গাঙ্গেয় বদ্বীপ। গাঙ্গেয় বদ্বীপের একটি উদাহরণ হল সুন্দরবন।

উঃ-বেথুয়াডহরির বনে শাল, সেগুন, মেহগনি, কদম, রাধাচূড়া প্রভৃতি গাছ দেখা যায়। এ ছাড়া এই বনে হরিণ ও কাঠবিড়ালি দেখা যায়।

উঃ-দক্ষিণ ও উত্তর 24 পরগনা জেলার 15টি থানা নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল গঠিত।

সুন্দরী গাছের বনভূমি থাকায় এই অঞ্চলের নাম সুন্দরবন হয়েছে।

উঃ-যে-সমস্ত নদীতে সারাবছর জল থাকে, নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট, সেইসব নদীগুলিকে নিত্যবহ নদী বলে। যেমন— জলঙ্গি, চূর্ণি, গঙ্গা।

উঃ-গাঙ্গেয় বদ্বীপে অবস্থিত দুটি শিল্পাঞ্চল হল—

1) হুগলি শিল্পাঞ্চল ও 2) হলদিয়া শিল্পাঞ্চল।

1) হুগলি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্প । এ ছাড়াও অন্যান্য শিল্পও আছে।

2) হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্পগুলি হল— পেট্রোলিয়াম শোধনাগার, রাসায়নিক সার কারখানা, সাবান কারখানা, কীটনাশক ওষুধ কারখানা ইত্যাদি।

এই সমস্ত শিল্পগুলির জন্য হলদিয়া ও হুগলি শিল্পাঞ্চল বিখ্যাত।

উঃ-ভারতের বড়োলাট লর্ড কার্জন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে 1905 খ্রিস্টাব্দের 7 আগস্ট বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করেন। সারা দেশে এর প্রতিবাদে হরতাল পালিত হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ‘রাখিবন্ধন’-এর পরিকল্পনা করেন এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনা করেন। সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও ইংরেজ সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা।

উঃ-সুন্দরবন অঞ্চলের শতকরা 40 ভাগ বনভূমি। এই অঞ্চলের মাটি লবণাক্ত বলে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অরণ্যে সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া প্রভৃতি গাছ দেখা যায়।

এখানকার অধিকাংশ লোকই কৃষিজীবী। প্রধান শস্য হল ধান। বেশিরভাগ জমিতে ধান ও পাট চাষ হয়। সুন্দরবন অঞ্চলে প্রচুর তরমুজের চাষ হয়। বর্তমানে তুলো, সূর্যমুখী, চিনাবাদামের চাষ হচ্ছে।

উঃ-সমুদ্র জলতল থেকে সুন্দরবনের উচ্চতা 2-3 মিটার। বর্তমানে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জন্য মেরুপ্রদেশের বরফ গলছে, ফলে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই কয়েক বছরের মধ্যে সুন্দরবনের অবলুপ্তি ঘটবে। তা ছাড়া চোরাশিকারিরা বাঘ, হরিণ ইত্যাদি শিকার করছে, বনের কাঠ কেটে নিচ্ছে, ফলে সুন্দরবনে বাঘ ও হরিণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, বনজ উদ্ভিদের পরিমাণ কমছে। এইসব কারণে সুন্দরবনের অবলুপ্তি ঘটছে।

উঃ-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি সংরক্ষণ একান্ত প্রয়োজন। বনভূমি সংরক্ষণের ফলে, (1) মৃত্তিকাক্ষয় রোধ, (2) মরুভূমির সম্প্রসারণ রোধ, (3) জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা, (4) আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, (5) মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি প্রভৃতি করা সম্ভব।

উঃ-হিমালয় থেকে বয়ে আসা তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা প্রভৃতি নদী দ্বারা বাহিত নুড়ি, বালি দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় হিমালয় পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে যে-ঢালু ভূমি গঠন করে, তাকে তরাই অঞ্চল বলে।

উঃ-তরাই অঞ্চলের মৃত্তিকায় বালির ভাগ বেশি, ফলে মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম। তাই মাটিতে জৈব পদার্থ কম, ফলে এই মাটির উর্বরাশক্তি অনেক কম।

উঃ-দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার পার্বত্য অঞ্চলে পাথর ও কাঁকরমিশ্রিত বাদামি রঙের অনুর্বর মৃত্তিকার পাতলা স্তর দেখা যায়। ঝরাপাতা পচে এই মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়, ফলে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। এই মৃত্তিকায় অম্লত্বের পরিমাণ বেশি থাকে ।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য নানা ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। 1000 মিটার উচ্চতায় শাল, শিমুল, কদম প্রভৃতি গাছ জন্মায়। 1000-2000 মিটার উচ্চতায় বাৰ্চ, পিপুল, বাঁশ এবং আরও বেশি উচ্চতায় ওক, লরেল, রডোডেনড্রন প্রভৃতি গাছ জন্মায়।

উঃ-পর্বত :

(1)বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, 1500 মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

দার্জিলিং-এর সিঙ্গালিলা পর্বত, সান্দাকফু, কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত।

(2) পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, বালাসন প্রভৃতি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা, দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নদী জলঢাকা। এই সমস্ত নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট, ফলে সারাবছর এই নদীগুলিতে জল থাকে।

উঃ-দার্জিলিং অঞ্চলে সারাবছর শীতকাল। জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা 4° সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে গিয়ে দার্জিলিং শহরের আশেপাশে বরফ পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত হয়, বছরে গড়ে 3,400 মিলিলিটার।

উঃ-মালদহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর হল ইংলিশবাজার। এই শহরকে ‘আমের শহর' বলা হয়। এখানকার ফজলি আম বিখ্যাত।

উঃ-কলকাতা জেলার রাজধানী শহর কলকাতা। এখানে মিউজিয়াম, পাতালরেল, বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, চিড়িয়াখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন গার্ডেন, ইকো পার্ক ইত্যাদি আছে।