Chapter-3.1⇒ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া উদ্ভূত ভুমিরূপ

ভূমিরূপ গঠনকারী যেসব প্রক্রিয়া পৃথিবীতেই সৃষ্ট ও ক্রিয়াশীল হয়, সেগুলিকে পার্থিব প্রক্রিয়া বলে।

আকস্মিক আলোড়নের দুটি উদাহরণ হল ভূমিকম্প ও আগ্নেয়োচ্ছ্বাস।

মহীভাবক আলোড়নের প্রভাবে মালভূমি, স্তূপ পর্বত ইত্যাদি সৃষ্টি হয়।

মহীভাবক আলোড়নে অন্তর্জাত বল ভূত্বকে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর বা উল্লম্বভাবে কাজ করে।

গিরিজনি আলোড়নে অন্তর্জাত বল পৃথিবীর স্পর্শক বরাবর চালিত হওয়ায় এটিকে স্পর্শক আলোড়ন বলে।

কোনো বস্তুর ওপর বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করলে, ওই বল প্রতিরোধ করার জন্য বস্তুর ভেতর থেকে যে প্রতিক্রিয়া বলের সৃষ্টি হয়, তাকে পীড়ন বলে ।

মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কার পতন আমেরিক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে যে সুবিশাল গর্তের সৃষ্টি করেছিল তাকে মেটিওর ক্রেটার বলে।

যে ভূ-আলোড়নের ফলে মহাদেশ বা এর অংশ বিশেষের উত্থান বা অবনমন ঘটে, তাকে মহীভাবক আলোড়ন বলে ।

যে ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে ভাঁজ পড়ে গিরি বা পর্বত, বিশেষত ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে।

ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট প্রবল শক্তির জন্য অন্তর্জাত প্রক্রিয়াসমূহ সক্রিয় হয়।

মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কার পতনে ভূমিরূপের যে পরিবর্তন হয় সেটি হল মহাজাগতিক প্রক্রিয়া ।

মহীভাবক আলোড়নের প্রভাবে মহাদেশ গঠিত হয়।

গিরিজনি আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিকভাবে কাজ করে।

ভূমিরূপের ওপর নদনদীর প্রভাব বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট যেসব প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূমিরূপ প্রভাবিত বা পরিবর্তিত হয়, সেগুলিকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে।

অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হল ভূগর্ভের প্রচণ্ড উয়তা।

ভূ-অভ্যন্তরে অন্তর্জাত বলের সক্রিয়তার মূল কারণ হল তেজস্ক্রিয় পদার্থের ভাঙন।

 

ভূপৃষ্ঠে ও উপপৃষ্ঠীয় অংশে বহিস্থ যেসব শক্তিসমূহের দ্বারা ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটে, তাদেরকে বহির্জাত প্ৰক্ৰিয়া বলে।

বহির্জাত প্রক্রিয়া ভূপৃষ্ঠ বা উপপৃষ্ঠ অঞ্চলে কাজ করে।

বহির্জাত প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আবহমণ্ডল থেকে প্রাপ্ত শক্তি তথা সৌরশক্তি।

বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের জলধারণক্ষমতার হ্রাসবৃদ্ধির ফলে  সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থানপতনের পরিবর্তনকে ইউস্ট্যাটিক সঞ্চালন বলে।

পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির সাম্য অবস্থা লাভের জন্য ভূত্বকে সমস্থিতিক আলোড়ন দায়ী।

ভূত্বকের বাইরের প্রক্রিয়াসমূহের (যেমন—নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি) দ্বারা ভূমিভাগের উচ্চতার হ্রাস পাওয়ার ঘটনাকে অবরোহণ বলে ।

বহির্জাত প্ৰক্ৰিয়া

সংজ্ঞা: পৃথিবীতে ভূমিরূপ গঠনে শুধু ভূ-অভ্যন্তরের শক্তিই নয়, ভূত্বকের উপরিভাগের শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। এর মধ্যে যেসব প্রক্রিয়া সর্বদা ভূত্বকের উপরিভাগে ক্রিয়াশীল থেকে বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ গঠন করে, সেগুলিকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। যেমন—আবহবিকার, নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্র তরঙ্গ, ভৌমজল প্রভৃতির কাজের ফলে গঠিত ভূমিরূপ ।

প্রয়োজনীয় শক্তি: এই প্রক্রিয়া তার প্রয়োজনীয় শক্তি পায়— বায়ুমণ্ডল থেকে, যা প্রকৃতপক্ষে সূর্য থেকে আসে।
ভূগাঠনিক ক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমির ঢাল থেকেও এই প্রক্রি শক্তি পেয়ে থাকে।

প্রয়োজনীয় অবস্থা: যে-কোনো অঞ্চলে বহির্জাত প্রক্রিয় প্রকৃতি সেখানকার জলবায়ু ও শিলার গঠনের ওপর বহুলাং নির্ভরশীল। যেমন—

↑ জলবায়ু ও বহির্জাত প্রক্রিয়া: ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন জল অঞ্চলে বহির্জাত প্রক্রিয়া বিভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে উয়ত অধঃক্ষেপণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উয়তা ও অধঃক্ষে অক্ষাংশ ও ঋতুগত তারতম্যের ওপর নির্ভর করে।

শিলার গঠন ও বহির্জাত প্রক্রিয়া: একই জলবায়ু অঞ্চলে শিলার ভাঁজ, চ্যুতি, কাঠিন্য, শিথিলতা, প্রবেশ্যতা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে বহির্জাত প্রক্রিয়ার প্রভাব ভিন্ন হয়।
পদ্ধতিসমূহ: বহির্জাত প্রক্রিয়াসমূহ সাধারণ তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমিরূপ গঠন করে—

ক্ষয়সাধন বা অবরোহণ প্রক্রিয়া: আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় (Mass Wasting), ক্ষয়ীভবন, নগ্নীভবন, নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি ভূত্বকের বাইরের প্রক্রিয়াসমূহ ভূপৃষ্ঠের উঁচু স্থানসমূহকে ক্রমাগত ক্ষয় করে সাধারণত সমতল ভূমিতে পরিণত করে অর্থাৎ নতুন ভূমিরূপ গঠন করে। একে অবরোহণ প্রক্রিয়া (Degradation) বলে।

ও আরোহণ বা স্তূপীকরণ প্রক্রিয়া:নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ, ভৌমজল, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির সঞ্চয়কার্যের ফলে নতুন নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয় । একে আরোহণ বা স্তূপীকরণ প্রক্রিয়া (Aggradation) বলে।

জৈবিক প্রক্রিয়া: বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং প্রাণী ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের মাধ্যমে ভূমিরূপের যে পরিবর্তন ঘটায়, তাকে জৈবিক প্রক্রিয়া (Organic Process) বলে।

উদাহরণ: আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন, নগ্নীভবন, পুঞ্জিত ক্ষয়, জলপ্রবাহ বা নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রের তরঙ্গ বা স্রোত প্রভৃতি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

পীড়ন

কোনো বস্তুর ওপর বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করলে ওই বল প্রতিরোধ করার জন্য বস্তুর ভেতর থেকে যে প্রতিক্রিয়া বলের
সৃষ্টি হয়, তাকে পীড়ন বলা হয়। যে-কোনো বস্তুর একটি নির্দিষ্ট মান পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে অর্থাৎ বস্তুর একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পীড়ন সহ্য করার ক্ষমতা থাকে। বাইরের বল বস্তুর ওই পীড়ন সহ্য করার ক্ষমতা অপেক্ষা বেশি হলে বস্তুটি তখন বিকৃত হয় অথবা ভেঙে যায়। ঠিক একই কারণে ভূত্বকে শিলায় ফাটল, চ্যুতি, ভাঁজ প্রভৃতি সৃষ্টি হয়।